ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

৩২তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (৩১)

#মায়িশা_নুরাইন

" চলো এক জায়গা থেকে ঘুরে আসি। "

" ঘুরে আসি মানে? আপনি এখানকার কিছু চিনেন নাকি? পরে হারিয়ে-টারিয়ে গেলে? "

" দুজন তো একসাথেই থাকবো। তাছাড়া কাজের সূত্রে এখানে আমার আগেও আসা হয়েছে। এত ভাবতে হবে না তোমায়। তৈরি হও দ্রুত। "

" আচ্ছা, আসার সময় আপনাকে তো কোন ব্যাগ ক্যরি করতে দেখলাম নাহ। আপনার পোশাক আসলো কোথা থেকে?

" বাহ! কি খেয়াল রাখে আমার ওয়াইফ। স্বামীর পেশাকের খবর অব্দি জানে নাহ। কপাল আমার!

" মশকরা বাদ দেন। "

কিয়ান ফোঁস করে শ্বাস ফেলে উত্তর করে,

" আসার দিন তোমার রুমে গেলাম নাহ? তখনই আমার কাপড়ের ব্যাগটা তোমার লাগেজে রেখেছিলাম। তুমি

খেয়ালই করো নি। "

" আপনি আমার ব্যাগ ধরেছেন কেন? ওখানে আমার কত পার্সোনাল জিনিস আছে৷ "

" তুমি মানুষটাই আমার পার্সোনাল। তাই লুকানোর কি আছে! তাছাড়া আমার জানার কিছু বাকি আছে নাকি? "

নীলা রাগে কিয়ানের গায়ে ধুমধাম হাত চালিয়ে চলে যায়। কিয়ান হেসে ফেলে। নীলা তৈরি হয়ে আসতেই তারা দুজন বাহিরে ঘুরতে বেরিয়ে যায়৷ নীলার হাতব্যাগ কিয়ানের হাতে রয়েছে। নীলা দেখেছিলো কিয়ান কোন একটা কাগজ তার ব্যাগে রাখছে। জরুরি মনে না হওয়ায় সে জিজ্ঞাসা করে নি। বাহিরে এসে তারা একটা শান্ত মনোরম পরিবেশে ঘুরতে বের হয়৷ এমন পরিবেশে হাতে হাত ধরে ঘুরতে গিয়ে নীলার পুরনো স্মৃতি মনে পরে যায়। বাবার সাথে আগে সে এভাবে ঘুরতে বের হতো। সে খুব চঞ্চল থাকায় বাবা সর্বদা তার হাত ধরে রাখতেন। আর বাবার অপর হাতে নীলার জুতোজোড়া ধরা থাকতো। নীলা এক হাতে হাওয়াই মিঠাই খেতে খেতে খালি পায়ে হাটতো। মুখে লেগে থাকা হাওয়াই মিঠাই নিয়ে সে যখন বাবার দিকে তাকাতো, তখন বাবার সে কি হাসি!

আজও কিয়ানকে নিয়ে বেরিয়ে তার সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পরে। রাস্তার একপাশে সারি বাঁধা ঘাস দেখে নীলা

কিয়ানের দিকে তাকায়। নীলার চোখ জোড়া কোন এক আবদার করার জন্য ঝলমল করছে। কিয়ান ইশারায় ভ্রু উঁচিয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে নীলা বলে,

" খালি পায়ে হাটি? "

" ব্যাথা পাবে। "

" ঘাসের উপর দিয়ে হাঁটবো। প্লিজ, প্লিজ... "

কিয়ান বড় করে শ্বাস ফেলে। সম্মতি দিতেই নীলা জুতো খুলেই কিয়ানের হাত ছাড়িয়ে ঘাসের উপর দিয়ে দৌড়াতে থাকে। যেন এক বাচ্চা মেয়ে পছন্দের জিনিস পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেছে। কিয়ান মুচকি হেসে নীলার জুতাজোড়া নিজ হাতে তুলে নেয়। অপর হাতে নীলার হাত ব্যাগ নিয়ে সে এগিয়ে চলে।

সামনে শান্ত নদী বয়ে চলেছে। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ বাতাস নীলার মন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। তার পড়নে আকাশি রঙের একটা থ্রিপিস পড়া। হটাৎ কিছু একটা মনে হতেই সে ওরনার দুই প্রান্ত দুহাতে ধরে দুদিকে হাত মেলে দেয়। বাতাসে তার খোলা চুল উড়তে থাকে। পেছনে দাঁড়ানো কিয়ান নিঃশব্দে ফোন বের করে সেই দৃশ্যের ছবি তুলে নেয়।

নীলা খেয়াল করে এই জায়গাটা বেশ জনবহুল। আশেপাশে অনেকেই তার মতো শান্ত নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছে। নীলা নিজের বাচ্চামো নিয়ে নিজেই লজ্জা পেয়ে যায়৷ দ্রুত এসে কিয়ানের বাহু জড়িয়ে ধরে বলে,

" চলুন, চলে যাই। "

" কেন? ঘুরাঘুরি শেষ? "

" এখানে অনেক মানুষ। আমার লজ্জা লাগছে। "

কিয়ান বিষ্ময়ের সহিত বলে,

" লজ্জা লাগছে! অথচ সেদিন নাহ এক রেস্টুরেন্ট ভর্তি মানুষের সামনে কি কাহিনীটাই না করলে। "

" ক্ষত খুঁচিয়ে ঘা করতে যাবেন নাহ। আপনারই ক্ষতি হবে তাতে। "

" ওপস, ভয় পেয়ে গেলাম। "

নীলা চোখ সরু করে তাকায়। কিয়ান হাসতেই নীলা খেয়াল করে পেছনে একজন লোক হাওয়াই মিঠাই নিয়ে যাচ্ছে। নীলা খুশি হয়ে চিৎকার করে উঠে।

" হাওয়াই মিঠাই! আমি খাবো, এনে দিন নাহ। "

" আস্তে, সবাই দেখছে। চলো যাচ্ছি। দিন দিন বাচ্চা হচ্ছো তুমি। "

নীলার তো এতসব দেখার সময় নেই। কিয়ান নীলার হাত ধরতে গেলে নিজের দু-হাত বন্ধ দেখে নিলার ব্যাগ নিজের কাঁধে নিয়ে নেয়। তারপর সেই হাতে নীলার হাত ধরে এগিয়ে চলে। নীলাকে হাওয়াই মিঠাই কিনে দিলে নীলা খুব খুশি হয়ে যায়। তার এক হাত কিয়ানের হাতের মুঠোয় আবদ্ধ। তার মুখে মিষ্টি হাসি লেগে আছে।

চলতে চলতে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করে। পশ্চিম

আকাশজুড়ে তখনও রয়ে গেছে অস্তগামী সূর্যের লালাভ আভা। কিয়ান নীলা একাকী হাতে হাত ধরে হেটে যাচ্ছে। চলতি পথে নীলা নিজের ছোটবেলা নিয়ে কথা বলছে। কিয়ান চুপচাপ সব শুনে যাচ্ছে৷ কিছুদূর পেরিয়ে বড় রাস্তায় আসতেই কিয়ান থেমে যায়। নীলাকে জুতো পড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে চলে। নীলার ব্যাগটা তার কাঁধে থাকায় তাকে মোটেও সংকোচ পেতে দেখা যায় নাহ। নীলা কিয়ানকে এভাবে দেখে হেসে ফেলে।

" ব্যাগটা দিয়ে দিন আমায়। মানুষ দেখলে হাসবে। "

" হাসলে মন পরিষ্কার হয়। আমার জন্য ওদের উপকারই হবে। "

" আমার কাছে আপনাকে হাস্যকর লাগছে। এভাবে মেয়েদের হাতব্যাগ ছেলের কাঁধে... হাহা। "

" এভাবে নয়। বলো বউয়ের ব্যাগ স্বামীর কাঁধে রয়েছে। রোমান্টিক ব্যাপার। তোমার মতো আনরোমান্টিকরা এসব বুঝবে নাহ। "

" আমি আনরোমান্টিক? "

" তো কি? একটা চুমু দিতে বললে আগেই উল্টো ঘুরে রওনা দেও। তুমি মারামারি করতে রাজি, তবুও ভালোবাসতে রাজি নয়। "

" আজ বাসায় চলুন আগে, পরে মজা দেখাচ্ছি। "

" ভালোবাসবে বুঝি! তাহলে দ্রুত চলো। আমার তো আর তর সইছে নাহ। "

" অসভ্য, ধান্ধাবাজ। "

গাড়ি করে যাওয়ার পথে নীলা কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে কিয়ান কোন উত্তর দেয় নাহ। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের অন্ধকার নেমে আসলে রাস্তায় রংবেরঙের বাতি জ্বলে উঠে। নীলা মন ভরে বাহিরের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। নীলার হাতে একটা কোন আইসক্রিম। গাড়িতে উঠার আগে কিয়ান কিনে দিয়েছে। গাড়ি এসে একটা জায়গায় থামলে তারা নেমে আসে। নীলা আশেপাশে তাকায়। এমনিই অপরিচিত শহর, তার উপর অপরিচিত জায়গা।

" এটা কোথায় আনলেন আমায়? বেঁচে দিবেন নাকি? "

" হুম। দেখি তাকাও তো। "

হাত বাড়িয়ে নীলার ঠোঁট মুছিয়ে দিয়ে ওরনা তুলে মাথায় দিয়ে দেয়। ভালোমতো দেখে বলে,

" মাশাআল্লাহ, মিষ্টি বউ আমার৷ চলো.. "

" আরে যাবো টা কোথায়? "

কিয়ান তার হাত ধরে ভেতরে এগিয়ে যায়। ভেতরে একজন টুপি পরিহিত বৃদ্ধ লোক বসে আছেন। কিয়ান সালাম দিয়ে চেয়ারে বসে। নীলা ভ্রু কুঁচকে বলে,

" এখানে কেন এসেছি আমরা? "

কিয়ান তার উত্তর না দিয়ে হুজুরকে নিজেদের রেজিস্ট্রি দেখিয়ে জানায়,

" হুজুর, আমরা আইনি পদ্ধতিতে বিয়ে করেছি। এখন শরীয় মতে বিয়ে করতে এসেছি। "

" শরীয়মতে বিয়েতে সাক্ষী প্রয়োজন। আপনাদের সাক্ষী এসেছেন? "

" জ্বি, এখনই চলে আসবে। "

" ওনারা আসুক তবে। "

নীলা ফিসফিসিয়ে বলে,

" এসব কি শুরু করলেন? আবার কিসের বিয়ে? আর সাক্ষী?"

কিয়ানের ফোন বেজে উঠতেই কিয়ান রিসিভ করে তাদের ভেতরে আসতে বলে। নীলা পেছনে তাকিয়ে কয়েকজনকে আসতে দেখে। তাদের মাঝে নাবিহা আর জাহান আপুকে দেখে নীলা হুট করে দাঁড়িয়ে যায়। নাবিহা এসেই নীলাকে জড়িয়ে ধরে।

" নাবিহা তুই? জাহান আপু? এরা? "

" দোস্ত, তোর বিয়েতে সাক্ষী দিতে আসলাম। ইসস, কি মজা লাগছে আমার। "

" নীলা, রিল্যাক্স থাকো। আমরা সবটা জেনেশুনেই এসেছি।

বসো, আগে বিয়ের কাজটা শেষ হোক, তারপর বাকী গল্প হবে৷ "

কিয়ানের বন্ধু রিপন, আর শুভ্রও এসেছে। সাথে কিয়ানের আরও দুজন বন্ধু ছিলো। নীলার পক্ষে নাবিহা আর জাহান আপু সাক্ষী হয়, আর কিয়ানের জন্য রিপন আর শুভ্র। সবার উপস্হিতিতে শরীয় মতে কিয়ান আর নীলার বিবাহ সম্পন্ন হয়। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যায় যে নীলা কিছুই বুঝে উঠার সময়ই পায় নাহ। শুধু বুঝতে পারে, এতদিন তাদের মাঝে যেই দূরত্বটা ছিলো, তা আজ মিটে গেছে। সে এখন আইনি ও শরীয় উভয় মতেই কিয়ানের সহধর্মিণী হয়ে গেছে৷

নীলার চোখে পানি এসে জমে। সেটা সুখের নাকি দুঃখের তা বুঝা দায়। কিয়ান সবার অলক্ষ্যে তার হাত মুঠোয় ধরে রাখে।

বিয়ে শেষে ফিসফিসিয়ে জানায়,

" এতদিন মনের মাঝে যতটুকু সংকোচ ছিলো তা দূর হয়ে গেলো। এখন আর আমায় আটকায় কে! "

নীলা লজ্জায় টু শব্দটিও করতে পারে নাহ। মানুষ বিয়ের পর এত অসভ্য হয়ে যায় বুঝি। অথচ প্রথম প্রথম কি গম্ভীরতার মুখোশই না পড়ে থাকতো!

**************

" উফফ, কি মিষ্টি লাগছে তোদের। জোড়া কবুতর যেন..."

" তুই কার সাথে এসেছিস? আঙ্কেল, আন্টি জানে তো? "

" শুভ্রর সাথে এসেছি। যা ভয় দেখিয়েছে আমায়। হুট করে সকালে জানায় আমাকে নিয়ে বের হবে। আম্মুকে তোদের বাসায় আসছি বলে জানাতে বলে। বাসার সামনের মোড়ে দাঁড়াতেই কোথা থেকে একটা গাড়ি আমাকে টেনে ঢুকিয়ে নেয়। ভেতরে দেখি জাহান আপু, রিপন ভাইয়া, শুভ্রসহ ওই দুই ভাইয়াও আছে। তারপর আর কি, সোজা এখানে চলে আসলাম। চলতি পথেই জানলাম আমাদের আসার উদ্দেশ্যটা। "

" এসব ওনার পরিকল্পনা নাহ? "

" হয়তো, তবে আমি খুব খুশি দোস্ত। সেবার হুট করে তোদের রেজিস্ট্রির খবর শুনে খারাপ লেগেছিলো। আজ সব মন খারাপ ভ্যানিশ। "

নাবিহা প্রচন্ড খুশিতে নীলাকে জড়িয়ে ধরে। বান্ধবীর খুশি দেখে নীলাও হাসে।

অপরদিকে কিয়ান গিয়ে শুভ্রর সামনে দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে দিতেই শুভ্র মুচকি হেসে হাত মিলায়।

" কংগ্রাচুলেশনস স্যার। আপনাদের আগামী দিনগুলো শুভ হোক৷ "

" তার জন্য যে তোমার সাহায্য চাই। "

" ভাইয়া পুনরায় লন্ডন ফিরে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে আবারও ফেরার কথা। ভাইয়া যা করেছে, তার জন্য সে শাস্তির যোগ্য। এক্ষেত্রে আমি কোন বাধা দিবো নাহ। তবে আমার একটা অনুরোধ আছে। "

" কি অনুরোধ? "

" সে আপনার সাথে যা করেছিলো তা সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য। কারও স্বপ্ন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধ আর কিছুই হয় না। তবুও আমি বলবো এমন কোন শাস্তি দিয়েন নাহ যাতে তার পুরো জীবনটা নষ্ট হয়ে যায়৷ "

" তেমার সাথে এমন হলে তুমি কি করতে? তোমার স্বপ্নকে কেউ কেড়ে নিলে পারতে তাকে ক্ষমা করে দিতে? পারতে ভালোবাসার মানুষকে নিজেরই একসময়কার প্রিয় মানুষের কাছে হেনস্তা হতে দেখতে? ক্ষমা করা কি এতটাই সহজ শুভ্র? "

" আমার সাথে এমন হলে হয়তো আমিও ক্ষমা করতে পারতাম নাহ। তবে কি জানেন স্যার, আমার পরিবারের চেয়েও আমার কাছে ভাই-ই সবচেয়ে আপন। ছোট থেকে বাবা মায়ের ভালোবাসা তেমন বুঝিই নি। বাবা-মায়ের সম্পর্কের ঠিক নেই। তারা সেপারেশনে আছে। কিসের যুক্তিতে তারা আজও এমন নড়বড়ে সম্পর্কে আটকে আছে জানা নেই। তবে ছোট থেকে যা দেখে এসেছি, তা আমার ভাইয়ের ভালোবাসা। সে যতই খারাপ হোক, তবুও আমাকে দেখে রাখতে ভুলে নি। আমার সকল চাওয়া-পাওয়া, আবদার তাকে ঘিরেই ছিলো। আমার একমাত্র আপনজন আমার ভাই।

এটা ভাববেন নাহ আমি ওকে বাঁচাতে চাচ্ছি। ওর ভুলগুলো শাস্তির যোগ্য অপরাধ। তবুও ভাই হয়ে আমি ওর জন্য সব ভালোগুলোই চিন্তা করবো। "

কিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শুভ্রর কাঁধে হাত রেখে বলে,

" মানুষ ভুলের পর দুটো পথ খুঁজে পায়। একটা হলো নিজের ভুলকে আঁকড়ে ধরে ভুলের পথে পা বাড়ানো। অপরটি হলো ভুলের কথা স্বীকার করে বদলে যাওয়া।

শান্ত আমার কলেজ লাইফের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। কাছের মানুষের পিঠপিছে আঘাতটা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। অতীত ভুলে যাওয়া খুব কঠিন। তবুও আমি চাইবো শান্ত দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিক। "

" আমি তাই আশা করছি। দেখা যাক স্বয়ং ওপরওয়ালা তাকে কোন পথে পরিচালিত করেন। "

কিয়ান মৃদু মাথা দুলিয়ে চলে আসে। শুভ্র বাহিরে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজের জীবনে তার আক্ষেপের সীমা নেই। তবে নাবিহা তার সেই অন্ধকার রাতে এক টুকরো চাঁদের আলো নিয়ে এসেছে। শান্ত চোখ বন্ধ করে ফেলে। বিরবিরিয়ে উঠে বলে,

" পারলাম না ভাইয়া তোমার কথা শুনতে। পারলাম নাহ তোমার জেদ পূরণ করতে তোমারই দেখানো ভুলের পথে হাঁটতে গিয়ে কারও ক্ষতি করতে। জানি না তোমার কি এমন হলো যে তুমি এমন হয়ে গেলে। তবুও আমি চাইবো সব ভুলে তুমি আমার আগের সেই বড় ভাই রুপে ফিরে আসো। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি ভাইয়া। "

চলবে......

(নেক্সট পর্বকে বাসর পর্ব দিয়ে দিবো? নাকি না? নকি হ্যা? হু? কালকের মধ্যে ভালো রেসপন্স পেলে কালই আরেকটা পর্ব দিবো। লোভ লাগাই তোমাদের😆)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন