ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

৩৪তম পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (৩৩)

#মায়িশা_নুরাইন

ভার্সিটি আসার পর থেকে নীলা কিয়ানের পিছু পিছু ঘুরছে।

আজ তাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ট্যুরে যাবে। স্টুডেন্টরা সবাই বাসে উঠে বসে আছে। অথচ নীলা কিয়ানের পিছু ঘুরছে। কিয়ান একটা প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে অফিসরুমে আসলে নীলাও সেখানে হাজির হয়।

" সমস্যা কি তোমার? পিছু পিছু ঘুরছো কেন? তোমায় ভার্সিটিতে আমার থেকে দূরত্ব রাখতে বলি নি? "

" আমি আমার শ্বাশুড়ি মায়ের কথা শুনছি। তিনি বলেছেন সবসময় আপনার সাথে সাথে থাকতে। "

" আসছে আমার শ্বাশুড়ি ভক্ত বউটা। জামাইয়ের কথা না শুনে শ্বাশুড়ির কথা মানছে। "

" জামাই বড় ফ্যাক্ট না। জামাইকে সামলানো আমার এই বা হাতের ব্যাপার। শ্বাশুড়ি টা ঝামেলার আছে। "

" জামাই সামলানো এতই সহজ? কিভাবে সামলাও দেখি তো!"

কিয়ান ধীর পায়ে নীলার দিকে আগাতে থাকলে নীলা ঘাবড়ে যায়। সে পিছাতে পিছাতে দেয়ালের সাথে আটকে গেলে তার আর উপায় থাকে নাহ। কিয়ান তার দুপাশে দেয়ালে হাত ঠেকিয়ে তাকে আটকে নেয়। শয়তানি হাসি হেসে বলে,

" কি হলো বউ? চুপ কেন? তোমার বা হাতের খেলটা দেখাও দেখি। "

" স-সরুন তো। আমাকে বাসে গিয়ে বসতে হবে। পরে নয়তো জায়গা পাবো নাহ। "

" যদি না সরি? "

নীল কিয়ানের বুকে হাত রেখে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করে। মৃদু রাগ দেখিয়ে বলে,

" দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছেন। এখনই কামড়ে দিবো কিন্তু। "

" তুমি দিন দিন আরও কিউট হয়ে যাচ্ছো। আগে আমায় আদর করতে দাও। "

কিয়ান নীলার ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দিতেই নীলা বরফের মতো জমে যায়। কিয়ানের শার্টে থাকা তার হাতটা শক্ত করে চেপে বসে। কিয়ান তা অনুভব করে মুচকি হাসে, তবে নীলাকে ছাড়ে নাহ। একসময় নীলা তাকে ছাড়ানোর জন্য ধাক্কা দিতে থাকলেও কাজ হয় না। ফলস্বরুপ সে কিয়ানের ঠোঁটে কামড় দিয়ে বসে। মৃদু ব্যাথায় কিয়ান তাকে ছেড়ে দিয়ে কপালে কপাল ঠেকায়। নীলার শ্বাস ঘন হয়ে পরেছে। কিয়ান হেসে ফেলে।

" এই তোমার সামলানোর নমুনা? এভাবে সামলাতে চাইলে আমি কোঅপারেট করে রাজি। "

নীলার কন্ঠ নরম হয়ে আসে। মৃদু স্বরে বলে উঠে,

" আপনি একটুও ভালো না। প্রফেসররা কেউ চলে আসলে কি করবেন? "

" বলবো আমার প্রিয় ছাত্রীকে একটু পার্সোনালি শিক্ষা দিচ্ছিলাম। "

" ছাত্রী না বলে বউ বলে পরিচয় দিলে কি হয়? এখনও আগের মতোই করছেন। ভার্সিটি থেকে আরও আগেই নামিয়ে দিচ্ছেন। ক্লাসে এমন ভাব করছেন যেন আমাকে চিনেনই নাহ। শুধু শুধু বকেন। আবার একাকী বাড়ি যেতেও দেন নাহ। আপনার জন্য আমাকে রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়। তারপর আপনি এসে আমাকে নিয়ে যান। আর কতদিন এমন চলবে?"

" খুব ডেস্পারেট হয়ে পরেছো আমাদের সম্পর্কটার কথা প্রকাশ করতে। "

" তো কি চাচ্ছেন আপনি? ভার্সিটিতে আপনার পপুলারিটি জানেন নাহ? জানেন নাহ আপনার জন্য ভার্সিটির কত মেয়েরা পাগল। নাকি আপনিও এসব এঞ্জয় করেন? বাড়িতে বউ থাকা স্বত্বেও বাহিরের মেয়েদের লুচ্চামি ভালো লাগে, তাই না? "

" আমার তো শুধু তোমাকেই ভালো লাগে। আজকাল তো তোমায় ছাড়া আর কিছু চোখেই পরে না, কানেও ঢুকে না। "

" ফালতু কথা রেখে বলেন, সবাইকে কবে জানাবেন সব? "

কিয়ান পিছিয়ে যায়। শার্ট টেনে টুনে ঠিক করতে করতে বলে,

" সময় হোক, তারপর দেখা যাবে। "

" আপনার দেখাদেখি আপনার কাছেই রাখুন। এবার আমি কি করি সেটা দেখতে থাকুন। বাহিরের মেয়েদের লুচ্চামি উপভোগ করা ছুটাচ্ছি আমি। যাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ। "

নীলা গটগট পায়ে হেঁটে চলে যায়। কিয়ান পিছু ডাকলেও শুনে না। এত তো মহা মুশকিল হলো! নিজের মনে আজাইরা কারণ দাঁড় করিয়ে একাই রেগে বোম! আজব মেয়ে...

ভার্সিটি গেইট থেকে বাস ছাড়তেই বাসের ভেতর সবার মাঝে হইহুল্লুর শুরু হয়ে যায়। নীলা কিছুক্ষণ মন মরা হয়ে বসে থাকলেও তা বেশীক্ষণ স্হায়ী হয় না। গানের তালে বাকিদের সাথে সে নিজেও আনন্দে মেতে উঠে৷ শুরুতে নাচানাচি করতে থাকলে কোন খারাপ লাগা ফীল হয় নি। তবে ক্লান্ত হয়ে পরায় সীটে এসে বসতেই পেটের ভেতর কেমন করতে থাকে। যেন ভেতর থেকে সব বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। নীলা বাসে তেমন যাতায়াত করে না। আজ অনেকদিন পরে বাসে উঠে আবারও খারাপ লাগা শুরু হয়। হয়তো কোন টক কিছু খেলে ভালো লাগতো। মনে পরে সকালে কিয়ান কিছু শুকনো খাবার কিনে দিয়ে গিয়েছিলো। ব্যাগ হাতিয়ে সেখানে কয়েকটা আচারের প্যাকেট খুঁজে পায়। দ্রুত একটা আচার নিয়ে সে খাওয়া শুরু করে। এতে ধীরে ধীরে বমি ভাবটা প্রশম হয়।

দূর্ভাগ্যবশত কিয়ান তাদের বাসে পরে নি। তাই নীলা আর কিয়ানের আর সাক্ষাৎ হয় নি। তাদের গন্তব্যে পৌছতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তাই নীলা চোখ বুজে নেয়। নাবিহা এসে নীলাকে বিশ্রাম নিতে দেখে আর ডাকে না। নীলার ঘুম এসে যাচ্ছিলো, তখনই কিয়ানের ফোন আসে। রিসিভ করবে না, করবে না ভেবেও রিসিভ করে ফেলে। ওপাশ থেকে কিয়ান জানায়, তাদের পৌছতে দশমিনিটের মতো লাগবে। সে ঠিক আছে কিনা! বাসে খারাপ লাগছে নাকি জানতে চায়। নীলা উত্তর করে না। শুধু কিয়ানের চিন্তিত কন্ঠই শুনে যায়। ওপাশের বাসের তীব্র গানের আওয়াজে তাদের আর কথা বলা সম্ভব হয় না।

গন্তব্যে পৌছে কিয়ান নীলার খোঁজ করতে থাকে। নীলা দূর থেকে লুকিয়ে কিয়ানের এদিক ওদিক তাকে খোঁজার দৃশ্যটা উপভোগ করতে থাকে। এমন সময় তার দৃষ্টি রোধ করে একদম মেয়েরা। তারা কিয়ানের সামনে জড়ো হয়ে গদগদ হয়ে বলে,

" কিয়ান স্যার! ও মাই গড! ইউ আর লুকিং সো হট স্যার। "

ছাত্রীর থেকে পাওয়া এমন প্রশংসা শুনে কিয়ান অপ্রস্তুত হয়ে পরে। ছাত্রীর মুখে এমন ভাষা শুনার জন্য সে প্রস্তুত ছিলো নাহ। নীলা এসে সবাইকে ঠেলেঠুলে ভিড়ের মাঝে ঢুকে কিয়ানের পাশে দাঁড়ায়।

" এই সমস্যা কি তোদের? দেখছিস না স্যার লজ্জা পাচ্ছে।

এভাবে প্রশংসা করে কেউ? "

" তো কিভাবে প্রশংসা করে তুই শিখিয়ে দে। "

" এইভাবে বলতে হয়। শেখ আমার থেকে। "

নীলা ব্যাগ থেকে একটা কাগজ দলাই মলাই করে ফুল শেপের বানায়। তারপর তা সবার সামনেই কিয়ানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

" হেই হ্যান্ডসাম ম্যান, উইল ইউ বি মাই হাসবেন্ড? একসেপ্ট না করলে শীঘ্রই টাক হয়ে যাবেন। "

শেষ কথাটা ফিসফিসিয়ে বলে উঠে। কিয়ান স্হির চিত্তে নীলার দিকে তাকিয়ে থাকে। নীলা মুখে শয়তানি হাসি রেখে তাকিয়ে আছে। কারণ আজও সকালে কিয়ান তাকে ভার্সিটি গেইটের কিছুটা সামনে নামিয়ে দিয়েছে। বলেছে এখনই তাদের বিয়ের কথা সবার সামনে প্রকাশ না করতে। তার উপর অফিসরুমের ব্যাপারটা সে এখনও ভুলে নি। কিয়ান বুঝতে পারে নীলার মতলবটা। বাকি স্টুডেন্ট যারা উপস্হিত ছিলো তারা তো অবাক হয়ে নীলার সাহসের পরিমাপ করতে ব্যস্ত। সবাইকে আরও অবাক করে দিয়ে কিয়ান নীলার হাত থেকে কাগজটি নিয়ে নেয়।

" তোমাদের সবার অবগতির জন্য জানিয়ে দিচ্ছি, আমরা ইতিমধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। বিষয়টা এখনও সবাইকে জানানো হয় নি। তাই আশা করবো এসব নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা ছড়াবে নাহ। তাছাড়া তোমরা তো জানোই তোমাদের বান্ধবী একজন তাড়ছেড়া পাগল মেয়ে৷ ওর এসব বিহেভিয়ারকে পাত্তা দিও না কেউ। "

নীলা ভাব নিয়ে সবার দিকে তাকিয়ে ছিলো। এতদিন কিয়ানকে নিয়ে যাদের যত ভালোলাগা ছিলো, সব আজ ভ্যানিশ হবে৷ তবে কিয়ান যখনই তাকে তাড়ছেড়া পাগল মেয়ে বলে, সে রেগে যায়৷ উচ্চস্বরে বলে উঠে,

" কিইই! আমাকে পাগল বলা? আপনি পাগল, আপনার বউ পাগল। "

" ইয়েস, আই নো! "

কিয়ান ভিড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে যেতেই সবাই মিলে নীলাকে চেপে ধরে। নাবিহা সবার মাঝে ঢুকে নিজের মতো

করে কাহিনী বানাতে শুরু করে। সে বলতে থাকে নীলা আর কিয়ানের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছে। দুজনের বাবা বন্ধু হিসেবে একে অপরের সাথে পরিচয়। সেখান থেকেই বিয়েতে সম্পর্ক গড়ায় ইত্যাদি, ইত্যাদি। তাদের মধ্যে একজন মেয়ে আলতা বলে উঠে,

" কি রে নীলা, তুই তো দেখি গভীর জলের মাছ। কায়দা করে প্রফেসরের সাথে বিয়ে করে ফেলেছিস। "

নীলা মুখ বাকিয়ে বলে,

" গভীর জলের মাছ বলেই বড় দান শিকার করেছি। তোদের মতো অল্প পানির মাছ নই যে যার তার জালে আটকে পরবো। "

" তুই কি বলতে চাচ্ছিস নীলা? "

" যেটা তুই বুঝেছিস তাই বলেছি। "

" তুই আমায় অপমান করছিস এখন। "

" মান অপমান বোধ আছে তোর আলতা? "

তার দিকে এগিয়ে কিছুটা ফিসফিসিয়ে বলে,

" সেদিন না পার্কে এক বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে গিয়ে আরেকটার কাছে ধরা খেলি। লজ্জা নেই নাহ? আবার আমার স্বামীকে হট ফট বলতে আসিস। নির্লজ্জ, বেহায়া কোথাকার! "

আলতা রেগে তেড়ে যেতে নিলে নীলাও প্রস্তুত হয়ে পরে আজ মেয়েটাকে শিক্ষা দিতে। তবে অন্যান্য মেয়েরা তাদের আটকে নেয়।

" নীলা ছাড় তো। ঘুরতে এসেছি আমরা, একটু উপভোগ কর। ঝামেলা করিস নাহ। তোর জামাই তোরই থাকবে। কেউ কেড়ে নিতে পারবে নাহ। "

" কেড়ে নিবে কি রে, ভাবনাটা মাথায় আনলেই মাথা ফাটিয়ে দিবো। বজ্জাত মেয়েদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয় আমার জানা আছে। "

নাবিহা টেনে নীলাকে নিয়ে দূরে চলে আসে। ততক্ষণে অন্য একজন শিক্ষক এসে পরিস্হিতি সামলানের চেষ্টা করছে। নাবিহা নীলাকে প্রশ্ন করে তার এভাবে ক্ষেপে যাওয়ার কারণ। নীলা রেগে বলে,

" রাগবো না আমি? সেদিন বাবার কাছে ঘুরতে গেলাম না আমরা। ওনি ফোনটা রেখে ওয়াসরুমে গিয়েছিলেন। নোটিফিকেশনে কিছু মেসেজ দেখতে পাই। একটা নাম্বার থেকে ব্যাক্তিগত শত্রুর মেসেজ ছিলো। যদিও সেটা ব্যপার না। ওনিই সামলে নিবে। আমার তে রাগ হয় এর পরের নাম্বারটা দেখে। সেখান থেকে কিছু আপত্তিকর মেসেজ আসতে দেখি আমি। সেদিনই ওনার ফোন নিয়ে চেক দিতেই দেখি ওনার ব্লকলিস্টে কয়েকটা আইডি পরে আছে। আর সেই মেসেজগুলো এই বজ্জাত, নির্লজ্জ মেয়ের ছিলো। কিসব মেসেজ যে পাঠিয়েছে! মেয়ে নামের কলঙ্ক এই আলকাতরা। "

" বলিস কি! আগে ভাবতাম শুধু ডেটিংয়েই ব্যস্ত এই মেয়ে৷ এখন এতদূর চলে এসেছে? "

" তা আর বলতে? আজ আবার সরাসরি আমার জামাইয়ের সাথে ফ্লার্টিং করতে এসেছে। মুখে আলকাতরা মাখিয়ে দিতে মনে চাচ্ছে। "

" বি কুল নীলা। এটা বল, এভাবে যে ডিপার্টমেন্টের সবাইকে জানিয়ে দিলি তোদের বিয়ের কথা। তোর শাশুড়িই যে জানে না এখনও। পরে ঝামেলা হবে নাহ? "

" পরেরটা পরে দেখা যাবে। আগে জামাইকে শাঁকচুন্নির হাত থেকে বাঁচিয়ে নিই। "

নাবিহা হেসে ফেলে। দুজনে মিলে আশেপাশে ঘুরতে বের হয়। তারা এক পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে এসেছে৷ আর তো একবছর পরে ভার্সিটি থেকে চলে আসতে হবে। এ কয়দিন আনন্দ করে কিছু স্মৃতি রেখে দেওয়া উচিত। নীলা, নাবিহা বাকিদের সাথে আনন্দ করতে ব্যস্ত থাকলেও আলতা তখনও রাগে ফুঁসছে। সে যতই ভুল করুক, তার ভুলগুলো এভাবে সবার সামনে প্রকাশ হওয়ায় সে মোটেও খুশি নয়। তখনই তার কাছে একটি ছেলে আসে। তার বর্তমান বয়ফ্রেন্ড ছেলেটি। ছেলেটি আলতাকে নিয়ে সবার আড়ালে আসে। আলতার মন খারাপ দেখে কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বানিয়ে বানিয়ে নীলার নামে কতগুলো কথা বলে। এসে ছেলেটি রেগে যায়। নীলাকে ভালোভাবে লক্ষ্য করে রাখে।

************

কিয়ান বাকি শিক্ষক দের সাথে বসে ছিলো। স্টুডেন্টদের সাথে তাদের থাকার দরকার নেই। তারা যথেষ্ট বড় হয়েছে। নিজেদের ভালো নিজেরাই বুঝতে পারে। এদিকে তার আর নীলার বিয়ের কথা বাকি শিক্ষকদের কান পর্যন্ত চলে এসেছে। তারা এখন বসে কিয়ানের সাথে মজা করছে।

" কি স্যার, লুকিয়ে লুকিয়ে ছাত্রীকে বিয়ে করে নিলেন? দাওয়াতও দিলেন না আমাদের। দুটো রোস্টই নাহয় বেশী খেতাম। এতেই ভয় পেয়ে গেলেন? "

কিয়ান হেসে ফেলে। নিজেও রসিকতা করে বলে,

" ঠিক বলেছেন স্যার৷ দুটো রোস্ট কম পরবে বলেই দাওয়াত করি নি। "

" হাহা! আমি সবসময় ঠিকটাই বলি দেখলেন? "

কিয়ান পরক্ষনেই জানায়,

" পরবর্তীতে বিয়ের ব্যাপারটা বড় করে অনুষ্ঠান করবো। তখন সবাইকে অবশ্যই দাওয়াত করবো। "

" আমার জন্য ভুড়িভুজের আয়োজন করতে হবে তবে। ছাত্রী কিন্তু আমারও। "

" আপনাদেরই ছাত্রী। আমার তো ইতিমধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়ে গেছে। "

সবাই মিলে খোশগল্পে মগ্ন ছিলো। হটাৎ একটি মেয়ে সেখানে দৌড়ে আসে। তাকে দেখে শিক্ষকরা চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করলে মেয়েটি জানায়,

" স্যার, নীলা..... নীলা পাহাড় থেকে পরে গেছে। আমরা একসাথেই ছিলাম। হটাৎ.. হটাৎ কিভাবে যেন... "

কিয়ানের যেন পায়ের নিচ থেকে মাটির সরে যায়। তার আর কিছু শোনার মতো অবস্হা নেই। সে পাগলের মতো দৌড়ে যেতে থাকে। তার এই দৌড়ানোতেও যেন শক্তি খুঁজে পাচ্ছে নাহ। শরীর অবশ হয়ে আসছে৷ নীলা....নীলা পরে গেছে। তার নীলা পাহাড় থেকে পরে গেছে! যেই ট্যুরে এসে সে সুন্দর স্মৃতি করতে চেয়েছিলো, সেই ট্যুরই তার থেকে তার প্রিয়তমাকে কেড়ে নিলো!

কিয়ানের সাথে অন্য শিক্ষকরাও দৌড়ে আসে। এতক্ষণ পাগলপ্রায় কিয়ান এখানে এসে সামনের দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারই সামনে সুস্হ সবল নীলা একটি ছেলের কলার চেপে ধরে ক্রমাগত শাসাচ্ছে।

" জানোয়ার, তোর সাহস হয় কিভাবে আমাকে ছোঁয়ার? চিনিস আমায়? এখানেই মে'রে পুতে দিবো। মেয়েমানুষ দেখলেই হাত চুলকায় না? এই নাবিহা, ধর তো এটাকে। এটার হাত ভাঙবো আমি আজ। কত বড় সাহস, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার চেষ্টা করে! "

নাবিহা আর আরও কয়েকটি মেয়ে মিলে ছেলেটিকে ধরে রাখলে নীলা আশেপাশে পাথর বা শক্ত জাতীয় কিছু খুঁজতে থাকে। এমন সময় সে আচমকা ধাক্কায় নড়ে যায়। কারও বাহুবন্ধনে নিজেকে আবদ্ধ বুঝতে পেরে চমকায়।

" স-স্যার...ছাড়ুন আমায়। কি করছেন এসব? "

কিয়ন নীলার দিকে ভালোভাবে তাকায়। হাতের কাছে জামায় মাটি লেগে আছে। মুখের একপাশ আর চুলেও কিছু অংশে মাটি লেগে আছে। কিয়ান নীলার গালের মাটি হাত দিয়ে মুছে দিয়ে ভাঙা গলায় বলে,

" ত-তুমি ঠিক আছো? ব্যাথা পেয়েছো কোথাও? "

" আমি ঠিক আছি স্যার। তবে ওই ছেলেটা আর ঠিক থাকবে নাহ। একটু দাঁড়ান আপনি। "

কিয়ানকে সরিয়ে নীলা ছেলেটির দিকে পুনরায় আগায়। মুহুর্তের মধ্যেই চুল টেনে ধরে বলে,

" বল কেন করেছিস এসব? নাম পরিচয় বল। এখনই তোর নামে মামলা করবো। ভেবেছিলি সহজ-সরল মেয়ে আমি, কিছুই না করে সয়ে যাবো। জানোয়ার একটা.."

কিয়ান এগিয়ে এসে পুনরায় নীলাকে ছাড়িয়ে নেয়। এসবের কারণ জিজ্ঞাসা করলে সবাই মিলে কাহিনী জানায়। মূলত তারা সবাই মিলে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছিলো। হটাৎ তাদের ভিড়ের মাঝে ছেলেটি ঢুকে নীলাকে ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দেয়। পাহাড়ের কিনাড়া থেকে একটু দূরে থাকায় সে বেঁচে যায়৷ তৎক্ষনাৎ সবাই মিলে ছেলেটিকে পাকড়াও করে।

সকল শিক্ষকরা মেয়েদের হাত থেকে ছেলেটিকে ছাড়িয়ে নিয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে ছেলেটি অকপটে জানায়,

" এই মেয়ে আমার আলতাকে সবার সামনে মিথ্যে অপমান করেছে। বলেছে আলতার আরও রিলেশন আছে, সে নাকি বাজে মেয়ে। আলতা আমায় সব জানিয়েছে। তাই আমি প্রতিশোধ নিতে এসব করেছি। "

নীলা আবারও তেড়ে যায়। শিক্ষকের সামনে ছেলেটার গালে একটা থাপ্পড় লাগায়। কড়া স্বরে জানায়,

" অন্যের ক্ষতি করার আগে নিজের চারপাশ দেখে নিবি। যার হয়ে ওকালতি করতে এসেছিলি, তার খবর নে আগে। পরে কারও সত্যি মিথ্যা যাচাই করিস। "

কিয়ান দ্রুত নীলাকে সরিয়ে আনে। শিক্ষকরা জানায় তারা সবটা সামলে নিবে। আপাতত নীলাকে সামলাতে হবে। চারপাশে মানুষ জড়ো হয়ে পরেছে। নীলাকে নিয়ে কিয়ান এক নিরিবিলি স্হানে আসে। নীলা তখনও বিরবিরিয়ে যাচ্ছে,

" জানোয়ারটা, আমায় মারতে এসেছে। আমার সম্পূর্ণ জীবনটাই বাকি পরে আছে। বিয়েটা করে সারতে পারলাম নাহ। এখনও সংসার করা বাকি। আর এসেছি কোন শালীর কথা শুনে আমাকে টপকে দিতে। শা'লা জা'নোয়ার, তোর আলতাকে আলকাতরা বানিয়ে তোকে খাইয়ে দিবো। "

" নীলা, নীলা শান্ত হও। আমার বউপাখি, একটু থামো। আমি আছি তো, আর কিছুই হবে নাহ। একটু শান্ত হও। "

কিয়ানকে ছাড়িয়ে নীলা চেঁচিয়ে উঠে।

" আপনি থেকে কি করেছেন? আরেকটু হলে আমার লা'শটাও দেখতে পেতেন নাহ। এখন ভালোবাসা দেখাতে এসেছেন? আমি ম'রতে বসেছিলাম। আপনি বুঝতে পারছেন? "

কিয়ান নীলাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নেয়। ভাঙা কন্ঠে বারবার বলতে থাকে,

" আ'ম সরি বউ। আ'ম সো সরি। আমি সত্যিই কিছুই করতে পারি নি। আমায় ক্ষমা করো নীলা। "

নীলা ফুঁপিয়ে উঠে। তার চোখের সামনে ভেসে উঠে পূর্বের দৃশ্যটা। একটুর জন্য সে নিচে পরতে পরতেও বেঁচে গিয়েছে। কি একটা মুহুর্ত ছিলো সেটা! ভাবতেই তো গা শিউরে উঠছে৷ কিয়ানের বুকে সে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। কিয়ান যথাসম্ভব তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। নাবিহারা এসেছিলো নীলার খবর নিতে। এসে দুজনকে এমন অবস্হায় দেখে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পরে। তাই কোন ডিস্টার্ব না করে দ্রুত স্হান ত্যাগ করে। এখন একমাত্র কিয়ান স্যারই পারবে নীলাকে সামলাতে।

চলবে........

(ভালো রেসপন্স না পেলে খেলা(গল্প) ঘুরাতে আমার এক সেকেন্ডও সময় লাগবে নাহ। মাইন্ড ইট😑🔪🔪)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন