ফন্ট সাইজ:
থিম:
মনের অন্তরালে কে

১ম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া ইসলাম

#মনের_অন্তরালে_কে (সূচনা পর্ব)

কাশেম আলী, হাসান আলী ও জাবিন আলী—তিন সহোদর ভাই। রক্তের বন্ধনের মতোই অটুট তাদের ভালোবাসা। একই আঙিনায়, একই ছাদের নিচে তিন ভাইয়ের পরিবার নিয়ে এক প্রাণচঞ্চল সংসার; যেখানে হাসি, খুনসুটি আর ভালোবাসার কোনো কমতি নাই।
বড় ভাই হাসান আলীর একমাত্র ছেলে রিয়ান আলী। জন্মের সময় মাকে হারানোর নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল রিয়ানকে। তবে মায়ের অভাব যেন কখনো অনুভব করতে হয়নি। বাবার সীমাহীন স্নেহ আর চাচি আদুরির অকৃত্রিম মমতায় বড় হয়েছে সে।মেজো ভাই কাশেম আলীর একমাত্র মেয়ে সিনথিয়া ইসলাম। অপূর্ব সুন্দরী,প্রাণবন্ত, চঞ্চল আর একটু দুষ্টু স্বভাবের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সবার আদরে বড় হয়েছে ।
ছোট ভাই জাবিন আলী ও তার স্ত্রী তুলি রহমানের দুই মেয়ে—হাসি ও খুশি। হাসি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, আর খুশি এবার দশম শ্রেণিতে উঠেছে।রিয়ান আর সিনথিয়া সমবয়সী। সদ্য ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে দুজনই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। ছোটবেলা থেকে তাদের সম্পর্কটা ছিল এক অদ্ভুত বন্ধনে বাঁধা—ঝগড়া, খুনসুটি, অভিমান আর যত্নে ভরা। একে অপরকে খোঁচা না দিলে যেন দিনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
***
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন।নিজের ঘরের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে তৈরি হচ্ছিল সিনথিয়া। প্রথম দিন বলে কথা—নিজেকে একটু সুন্দর করে গুছিয়ে না নিলে কী চলে?ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল রিয়ান। কোনো কথা না বলে এসে ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল।
আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি দেখেই সিনথিয়া বিরক্ত গলায় বলল,
— এই বেয়াদব, এখানে বসে আছিস কেন? ভার্সিটি যাবি না? যা, গিয়ে রেডি হয়ে আয়।
রিয়ান হেসে বলল,
— আমি তো অনেক আগেই রেডি। তোদের মেয়েদের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।বুঝলি!!
সিনথিয়া চোখ রাঙিয়ে তার দিকে তাকাল। তারপর মুখ বাঁকিয়ে আবার নিজের চুল ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ পর দুজন একই গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দিল।গাড়ি থেকে নামতেই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশানকে দেখে সিনথিয়ার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
— আরে, তুই কখন আসলি?
— অনেকক্ষণ হলো।
দুজন গল্প করতে করতে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে গেল।ঈশান সিনথিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড।পেছন থেকে সবকিছু নীরবে দেখছিল রিয়ান। 
রিয়ান বিরক্তি হয়ে বিড়বিড় করে বলল উঠল,
–"মেয়েটা সব সময় ঈশানের সঙ্গেই থাকে!"
***
ক্লাস শেষ হতেই তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে গিয়ে বসলো। চারদিকে তখন পিনপতন নীরবতা। বইয়ের পাতায় ডুবে আছে সিনথিয়া। ঈশান ও রিয়ান—দুজনেই নিঃশব্দে সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
হঠাৎ নীরবতা ভেঙে ঈশান বলল,
— সিনথু, তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?
প্রশ্নটা শুনে বই থেকে চোখ তুলে মৃদু হেসে তাকাল সিনথিয়া।
— হুম।
ঈশান কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলে,
— "কাকে?"
সিনথিয়া ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলল,
— সেটা এখন বলা যাবে না।
কথাটা বলেই সে আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখল।
সিনথিয়ার ওই ছোট্ট উত্তরটাই যেন দুজনের মনে ভিন্ন ভিন্ন গল্প লিখে দিল। রিয়ানের বিশ্বাস, সিনথিয়া হয়তো তাকেই ভালোবাসে।অন্যদিকে,ঈশানও মনে মনে একই আশা বুকে লালন করলে।ঠিক তখনই সিনথিয়ার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে একবার তাকিয়েই সে উঠে দাঁড়াল।
— তোরা বস, আমি এক্ষুনি আসছি।
বলেই লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে গেল ।রিয়ান আর ঈশান নীরবে বসে রইল। রিদুজনেই নিজের কল্পনার জগতে হারিয়ে গেছে।আর সেই কল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এর নাম, সিনথিয়া।বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে এসে সিনথিয়া দেখল, একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে আহসান।
অবাক হয়ে সিনথিয়া বলল,
— "মিস্টার আহসান ! আপনি এখানে?"
পেছন ফিরে তাকিয়ে আহসান মৃদু হাসল।
— "আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম, ম্যাডাম।"
সিনথিয়া দুষ্টু হেসে বলল,
—" তাই নাকি? বলুন তো, কী এমন দরকার পড়লে?"
আহসান আলতো করে তার কাঁধ থেকে ব্যাগটা নিজের হাতে নিতে নিতে বলল,
— "কোনো দরকার নেই। শুধু... আপনাকে একবার দেখার ইচ্ছে হলো।"
সিনথিয়া ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
— "কী ব্যাপার, স্যার? আমাকে ভালোবাসেন নাকি?"
আহসান কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ হয়ে তার চোখের দিকে চেয়ে রইল। তারপর শান্ত কণ্ঠে বলল,
— "ম্যাডাম, আপনি আমার মনের অন্তরালের সেই অনুভূতি... যাকে কথায় প্রকাশ করা অসম্ভব।"
কথাটা শুনে সিনথিয়া তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতর এক অচেনা অনুভূতির ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
আহসান ধীরে তার হাত ধরে বলল,
— চলুন, ম্যাডাম।
সিনথিয়া কোনো উত্তর দিল না। শুধু নীরবে তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট পেরিয়ে বাইরে চলে যায়।
চলবে...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন