ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়াবেগ

২২তম পর্ব

লেখক: রূপন্তি রাহমান

#হৃদয়াবেগ

#পর্বঃ২২

#রূপন্তি_রাহমান (ছদ্মনাম)

' যার চরিত্র নিয়ে কথাটা বললে তার পরিচয় তুমি জানো? কোনো আইডিয়া আছে সে আমার কি হয়?কারো সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করলে তার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখতে হয়। আমার বউ সে। আমার অর্ধাঙ্গী সে। যাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি।'

বিস্ময়ে মেয়েটি সহ সবার মুখ হা হয়ে গেলো। প্রেমিক যুগল ভাবলেও স্বামী স্ত্রী ভাবেনি কেউ।

'যাকে কবুল বলে আমি বিয়ে করেছি। জন্মলগ্ন থেকে সে আমার মামাতো বোন। বছর হতে চলল তাকে আমি বিয়ে করেছি। তোমার মনে প্রশ্ন জাগলে আমাদের জিজ্ঞেস করতে পারতে। তাই বলে মাঝ রাস্তায় তুমি তার চরিত্র নিয়ে কথা বলবে? তার সাথে তোমার কিসের এতো শত্রুতা? সে তো কখনো তোমার সাথে মিসবিহেভ করেনি, তাহলে? তোমাদের মতো বয়সের ছেলেমেয়েদের একটাই সমস্যা, কাউকে ভালো না লাগলে তাকে শত্রু মনে করো।তাকে পার্সোনাললি এ্যাটাক করো। কাল তোমার কথায় আমি তাকে ধমক দিয়েছি, বকেছিও। আজ পর্যন্ত আমি ধমক তো দূরের কথা চোখ রাঙানিও দেইনি কখনো। আমার জন্য তার চোখের পানি ঝরেছে। বাসায় সে হাজার পাগলামি করলেও আমি তাকে মুখের কথা অব্দি বলি না। আমি কেন আমার পরিবারের কেউ কিছু বলে না। তার পাগলামি আমার পরিতৃপ্তি, প্রশান্তি দেয়। সে ন্যূনতম অসুখবোধ করলেও আমার হৃদপিণ্ডে জ্বলন শুরু হয়। তার মনে মন খারাপ নামক মেঘেরা যেন জড়ো না হয় সেজন্য রোজ বিকেলে হাঁটতে বের হই। আমার দুইটা টিউশন অব্দি ছেড়ে দিয়েছি। আর তুমি তাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপমান করছো? এতো সাহস দিয়েছে তোমাকে? আজ তুমি ছেলে হলে বুঝতে এই তাহমিদ কি। দেখে নিতাম তোমার কতটুকু সাহস। তোমার বাবা মায়ের নাম্বার দাও।'

চমকে উঠে মেয়েটি। এতোক্ষণ যাবৎ নত মস্তকে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। বাবা মায়ের নাম্বার দেওয়ার কথা বলায় আতংক গ্রাস করলো তাকে। করজোড়ে তাহমিদ কে বলল,

'স্যার মাফ চাই। আমার বাবাকে কিছু বলবেন না।আমার বাবা এসব শুনলে আমাকে মে'রে'ই ফেলবে।ভুল হয়ে গেছে আমার।'

মেয়েটির কথা পাত্তা না দিয়ে তাহমিদ পুনশ্চ এক প্রকার চিৎকার করেই বলল,

'তোমার বাবা মায়ের নাম্বার দাও। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই এসব করার জন্য এতো কষ্ট করে টাকা ইনকাম করে তোমাকে বড় করছে কিনা।'

মেয়েটি তাহমিদ পায়ে ধরার জন্য উদ্যত হতেই দু'কদম পিছিয়ে গেলো তাহমিদ।

'শুনো, জিহ্বা মানুষের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ আবার সবচেয়ে নিকৃষ্ট সম্পদও। এই জিহ্বার কারণে মানুষ জান্নাতে যাবে আবার জাহান্নামেও যাবে। কাউকে কথার আঘাত দিও না। এই যে কথা গুলো বললে আমার কলিজায় আ'ঘা'ত করেছো। সরাসরি আমাকেও যদি কয়েকটা কথা বলতে আমার এতো খারাপ লাগতো না। যতটা না তুমি তাকে বলায় লেগেছে।'

'তাহমিদ এতো হাইপার হইয়ো না,শান্ত হও। না বুঝে বলে ফেলেছে। আশেপাশে মানুষ দেখছে।'

'না শাওন ভাই আমাকে বলতে দিন। আজ আমার কারনে আমার স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে কথা উঠেছে। আমি বর্তমান থাকা অবস্থায় কেউ একজন মাঝ রাস্তায় তার চরিত্রে কালিমা লেপন করছে। স্বামী হিসেবে আমি ব্যর্থ। আপনি নাযীফাহ'র ছেলেমানুষীর কথা শুনে এখানে ভর্তি করতে বললেন। আমি নিষেধ করেছিলাম শাওন ভাই। কারন কেউ যখন জানতে পারবে সে আমার বউ তাহলে সবাই মনে করবে আমি তাকে এক্সট্রা কেয়ার করতেছি। আপনি বললেন কি? সে তোমার বউ এটা বলার দরকার কি? এখানে এলে তুমি টিচার আর সে স্টুডেন্ট। আজ কি হলো দেখলেন? নিজের প্রতি নিজের রাগ হচ্ছে।'

তাহমিদ কে দু'হাতে জড়িয়ে ধরে এক নাগালে ফুঁপিয়ে চলেছে নাযীফাহ। একহাতে প্রেয়সী কে সযত্নে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছে তাহমিদ। অন্যহাতে দিয়ে চোখের পানি মুছে দিলো।

'সরি! আমার আরো আগে বলে দেওয়া উচিৎ ছিলো। তাহলে আর আজ এসব হতো না।'

নিস্তব্ধতায় আচ্ছাদিত হয়ে গেলো চারপাশ। মনে হচ্ছে এতোক্ষণ প্রলয় বয়ে যাওয়া পরে প্রকৃতি ঠান্ডা হয়েছে। উপস্থিত সবাই যেন নির্বাক। মেয়েটি নিঃশব্দে কাঁদছে। তাহমিদ পুনশ্চ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

'তোমরা সবাই তো একসাথে ক্লাস করো। কখনো বলতে পারবে আমি নাযীফাহ কে আলাদা ট্রিট করেছি বা তোমাদের কম বুঝিয়েছি বা তাকে বেশি বুঝিয়েছি? আমাদের সম্পর্কের কথা কখনো তোমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। কারন আমিও প্রয়োজন মনে করেনি। আমরা স্বামী স্ত্রী বাসায় কিন্তু কোচিং সেন্টারের এরিয়ায় পা দিলে সে স্টুডেন্ট আর আমি টিচার। তাছাড়া এখানে আমি পড়াতে আসি পার্সোনাল লাইফ নিয়ে আলোচনা করতে আসি না। প্রিয়জন সম্পর্কে কেউ কটু কথা বললে এটা ঠিক কতটা পীড়াদায়ক বুঝবে না। বিয়ের মাস দুয়েক পরে নাযীফাহ দুইদিন নিখোঁজ ছিলো। আমি রাত দুইটায় আমার ভাইকে নিয়ে গ্রামে রওনা দিয়েছি। পুরোটা রাস্তা শুধু দোয়া করেছি ওর যেন কিছু না হয়। সেই দুইদিন আমি কিভাবে কাটিয়েছি শুধু আমি জানি আর আল্লাহ জানে। বলতে পারো মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে সে।'

অতীতের সেই বি'ষাক্ত, তিক্ত, কণ্টকাকীর্ণ দিনগুলোর কথা মনে পড়তেই শিউরে উঠলো নাযীফাহ'র শরীর। সেই দু'টো দিন তার কাছে মনে হয়েছে সে জাহান্নামে আছে। তৃষ্ণায় এক ফোঁটা পানির জন্য কাতরেছে সে। আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো নাযীফাহ তাহমিদ কে। দিন গুলোর ভাবতেই গলা শুকিয়ে এলো তার। তাহমিদ আবারও বলতে লাগলো,

'হারিয়ে ফেলার ভয় থেকে নিজের কাছে এনে রেখেছি। নিজের বাবা মা থেকে দূরে আছে সে। তোমাকে জব্দ করা নাযীফাহ'র কয়েক সেকেন্ডের ব্যপার। শুধু আমি বলেছি বলে সে এখনো চুপ করে আছে। কারণ এখানে আমার একটা সম্মান আছে।'

চুপ করে রইলো তাহমিদ। কিছু ভালো লাগছে না তার। অসহ্য লাগছে আশপাশের পরিবেশ। মনে হচ্ছে বি'ষাক্ত হয়ে গেছে সেই পরিবেশের হাওয়া । হাওয়ায় যেন বি'ষ মিশে আছে। শাওন সাহেব তাহমিদের কাঁধে হাত রাখলেন।

'এসব নিয়ে মন খারাপ করো না তাহমিদ। তোমাদের তো পবিত্র সম্পর্ক। কেউ কিছু বললে তো আর অপবিত্র হয়ে যাবে না। নাযীফাহ কে নিয়ে বাসায় যাও। মেয়েটা অসুস্থ হয়ে যাবে।'

তাহমিদ মলিন হাসলো।

'ব্যপারটা তা না। আসলে আমি আমার স্ত্রীকে সেভাবে প্রটেক্ট করতে পারিনি। এখানেই আমার ব্যর্থতা।'

মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

'আজ পড়ার জন্য তোমাকে বকেছি বলে কি সেই রাগটা ওর উপর দেখালে? বলতে পারবে কোনটা ভুল বলেছি? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করো না বাবা মা এতো কষ্ট কার জন্য করে, কিসের জন্য করে? পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার জন্য? জীবন এতো সোজা না। সফলতা এভাবে আসে না। কাল তোমাদের দু'জনের কথোপকথনও শুনেছি। কিছু বলেছি বলো? আজ ইচ্ছে করলেই আমি তোমার বিরুদ্ধে এ্যাকশন নিতে পারতাম। কিন্তু নিবো না। নিজেকে শুধরাও।এখনো সময় আছে। এতো নেগেটিভিটি নিয়ে বাঁচা যায় না । পজিটিভলি সবকিছু ভাবতে শুরু করো জীবন সুন্দর হবে। সবার সাথে মিশার চেষ্টা করো দেখবে ভেতরের হিংসাত্মকতা কমে যাবে।'

নিজের বক্ষ থেকে নাযীফাহ কে আলগা করলো তাহমিদ। মুখোমুখি নাযীফাহ কে দাঁড় করিয়ে তার আনন নিজের হাতের আঁজলায় নিলো। নিস্তেজ হেসে, শান্ত, ধীরস্থির গলায় বলল,

'কখনো ভাবিনি নিজের অনুভূতি গুলো মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে জনসম্মুখে ব্যক্ত করতে হবে। আমি আমার হৃদয়ের সকল আবেগ আর অনুরাগ আমার আর তোর মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলাম। সেটা হয়তো আল্লাহ চায় না।'

অতঃপর নাযীফাহ'র কপাল থেকে এলোমেলো ছোট ছোট চুল গুলো সরিয়ে সেখানে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ালো।

'ভালোবাসি তোকে আমি। নিজের থেকেও বেশি। ঠিক যতটা ভালোবাসলে নিজের মৃত্যুর থেকেও বেশি প্রিয় মানুষ কে হারানোর ভয় হয় ঠিক ততটাই ভালোবাসি। ভালোবাসা এক অদৃশ্য অস্পর্শনীয় অনুভূতি যা বলে কয়ে হয় না। হুট করেই হয়ে যায়। অনুভূতিরা হঠাৎ করে কড়া নারে মনের দ্বারে।'

কয়েকটা ছেলে শিস দেয়া শুরু করলো। হাত তালিও দিলো অনেকে।নাযীফাহ চারপাশে চোখ বুলালো একবার। সবার চোখে চোখ পড়তেই লজ্জায় মুখ লুকালো তাহমিদের বুকে। ভাগ্যিস ব্যপারটা কোচিং সেন্টারের সাথে ফাঁকা জায়গাটায় ঘটেছে। যদি মেইন রোডের পাশে হতো তো কি হতো? তাহমিদ সকলকে উদ্দেশ্য করে পুনরায় বলল,

'আরো একটা ব্যপার তোমাদের এনসিউর করতে চাই। তোমরা ভাবতে পারো হয়তো আমাদের আগে প্রণয় তারপর পরিনতি। আসলে না আগে আমাদের পরিনতি ঘটেছে তারপর প্রণয়। আমরা হলাম সরকারি সনদ প্রাপ্ত হালাল প্রেমিক যুগল। তাই না নাযীফাহ?'

কথাটা কর্ণগোচর হতেই সবার অলক্ষ্যে নাযীফাহ খামচি দিলো তাহমিদের পিঠে।

'এই যে তোমাকে বলছি।'

মেয়েটি তাকালো তাহমিদের দিকে। কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখের নাজেহাল অবস্থা। ফুঁপাচ্ছে সে। এতোগুলা মানুষের সামনে আজ নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। তাহমিদ বলল,

'একজন বড় ভাই হিসেবে বলছি। কখনো কারো চরিত্র, সম্ভ্রম নিয়ে কথা বলো না। আঙুল তুলো না। নারী বলো আর পুরুষ উভয়ের কাছে তার চরিত্র সবকিছুর উর্ধ্বে। আমি ছেড়ে দিয়েছি বলেই যে অন্য কেউ ছেড়ে এমন কিন্তু নয়।'

নাযীফাহ রিনরিনে গলায় বলল,

'আমি বাসায় যাবো। এখানে আর ভালো লাগছে না।'

বেলা নামতে শুরু করেছে। পশ্চিমাকাশে দেখা যাচ্ছে গোধূলির রক্তিম আভা। পক্ষিরা নীড়ে ফিরতে শুরু করেছে। নাযীফাহ'র আঙুলের ভাঁজে আঙুল রেখে হাঁটতে শুরু করলো তাহমিদ। পিছু ডাকল জান্নাত। দাঁড়িয়ে পড়লো দু'জন। জান্নাত ওদের কাছে গিয়ে দুজনের কনিষ্ঠা আঙ্গুলে কামড় দিলো।

'নজর না লাগুক আমার দেখা বেস্ট কাপলের উপর।'

প্রতিত্তোরে হাসলো দু'জন।

____________________________________________

ওরা চলে যেতেই শাওন সাহেব মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

'তোমার নাম নূর রাইট? তুমি আজ আমার ক্লাসেও পড়া দিতে পারোনি।তাহলে আমার রাগটা কার উপর দেখালে? ওই মেয়েটার উপর? নিজের বিকৃত চিন্তাভাবনার জন্য মা বাবার শিক্ষার দিকে আঙুল তুলতে কাউকে বাধ্য করো না। কোনো বাবা মা চায় না তার সন্তান খারাপ হউক। ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে হয়। এখনো সুযোগ আছে। তাহমিদ কিন্তু তোমার শিক্ষক। শিক্ষকের মনে আ'ঘাত দিয়ে কেউ কখনো সফল হয়নি। নত স্বীকার করে মাফ চেয়ে নিও। আবার লোক দেখানো মাফ চাইতে হবে না। যদি ভেতর থেকে অনুতপ্ত হও তবে। এখন সন্ধ্যা হতে চলেছে।সবাই বাসায় যাও।'

অনবরত কেঁদে চলেছে সে। হয়তো উপলব্ধি করতে পারছে নিজের ভুল গুলো। ভিড় থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,

'প্রথম প্রথম তো তুমি আমার পিছনেও লাগতে। তোমার সমস্যা একটাই কেউ রেগুলার ক্লাসে পড়া বলতে পারলে তোমার তা সহ্য হয় না। শুধু তোমার কারনে আমি পড়া শিখলেও বলি না। আমার মাঝে কতটুকু জ্ঞান শুধু আমি জানি। এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি ক্রোধানলে রেষারেষি করতে না।'

ওর সাথে থাকা সেদিনের মেয়েটি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

'তোকে সেদিনই নিষেধ করেছিলাম, শুনিসনি। আজ তো আমাকে কিছু না বলেই নিজের রাগ ক্রোধ মিটাতে এলি। কি হলো? নিজের ফাঁদে নিজে পা দিলি। হয়তো আমার পিছনেও লাগতি। তোর সাথে চলি বলে লাগিস না। নিজের ভেতরে হিংসা নামক বস্তুটাকে আর পুষিস না। বাসায় যা এখনি মাগরিবের আযান দিবে।'

____________________________________________

'রিক্সায় যাবি নাকি হেঁটে যাবি?'

তাহমিদের প্রশ্নের কোনো জবাব দিলো না নাযীফাহ। অনুভূতিহীন হয়ে দৃষ্টি স্থির রেখে হাঁটতে লাগলো সে।

তাহমিদ পুনশ্চ প্রশ্ন করলো,

'আইসক্রিম খাবি নাকি ফুচকা খাবি?'

এবারও নিশ্চুপ, নিরোত্তর নাযীফাহ। মুখে কুলুপ এঁটেছে সে। নাযীফাহ'র নির্জীবতা দেখে বক্ষঃস্থল থেকে নির্গত হলো দীর্ঘ নিঃশ্বাস। আশপাশটা একবার চোখ বুলালো সে। মোটামুটি নীরব আর কোলাহল মুক্ত। মাঝে কয়েকটা রিক্সা যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে পড়লো সে। তাহমিদ দাঁড়িয়ে যেতেই পা থেমে গেলো নাযীফাহ'র। প্রাণহীন দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো তাহমিদের পানে। তাহমিদ এক পা এক পা করে তার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো। দু'জনের মাঝে কয়েক ইঞ্চির দূরত্ব। তাহমিদের গরম শ্বাস আছরে পড়ছে নাযীফাহ'র কায়ায়। এতোটা কাছাকাছি আসায় হৃদপিণ্ড তড়িৎ গতিতে লাফাতে শুরু করলো। কিছুক্ষন আগেও তো তাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব ছিলো না। নাযীফাহ তো একেবারে মিশে ছিলো তাহমিদের সাথে তখন তো এমন অনুভব হয়নি। তাহমিদ এই অতর্কিত কাছে আসায় নাযীফাহ'র মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। তাহমিদ যখন আরো একটু দূরত্ব ঘুচালো লজ্জায় মিইয়ে গেলো সে। অধর কোণে লাজুক হাসি। তাহমিদ তার অধর জোড়া নাযীফাহ'র গাল বরাবর নামাতেই পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে নিলো সে। অনেক্ক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর যখন তাহমিদের আবেগ মিশ্রিত কোনো ছোঁয়া পেলো না চট করে চোখ মেলে তাকালো সে। সাথে সাথে,,

#চলবে

বানান ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আজকের পর্ব যতটা আশা করছিলেন ততটা হয়তো ভালো লিখতে পারিনি।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন