#মন_দিয়েছে_ধরা
#পর্ব_১৯
লেখনীতে....#পুষ্পিতা_প্রিমা
বাড়ি ফেরার সাতদিনের মাথায় একটা কেসের সুষ্ঠু তদন্তের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়ায় যেতে হয়েছিল রিপকে। প্রায় সাতদিনের মাথায় বাড়ি ফিরলো রিপ। নীরা তার উপর বেজায় রেগে আছে। তাকে বলেছিল মাত্র দু'দিন থাকবে। অথচ থেকে এসেছে সাত সাতটা দিন। বজ্জাত লোক। তাকে একা একা ঘুমাতে হয়েছে এই সাতটা রাত। ফোনের ওপাশ থেকে যদি বলে নীরা ঘুমাও, নীরা ঘুমাও, ভয় নেই। তাহলে কি হয়ে গেল নাকি?
মামলা সংক্রান্ত জটিলতা তার উপর তার পাশে নেই নইলে নীরা কি কি শুনিয়ে দিত তার ঠিক নেই। অনেক ধৈর্য ধরে সাতদিন কোনোমতে পার করেছে সে। সাতদিনেই রিপের বিপুল পরিবর্তন দেখে নীরার মাথায় হাত। এত শুকিয়ে গিয়েছে কিন্তু গায়ের রঙ ফর্সা হয়ে গিয়েছে।
আসার পর থেকে মায়ের ঘরে গিয়ে সে গল্পে মজেছে বউয়ের খোঁজখবর নেই। নীরা সেজন্য আরও রেগে আছে।
মা বাবার সাথে কথা বলা শেষে যখন ঘরে এল তখন নীরার দিকে তাকিয়ে চমৎকার করে হেসে বলল,
তোমার কি অবস্থা?
খুউউউব ভালো।
তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
বলেই আবারও হাসলো রিপ। নীরা নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো। দু'দিন থাকবে বলে সাতদিন থেকে এল। অসভ্য লোক।
নীরা বেশি কথা বললো না। রিপ ড্রেসকোর্ট পাল্টে ফ্রেশ হয়ে এসে নীরাকে ঘরে দেখলো না। ব্যাগ থেকে ফাইলপত্র গুলো বের করতেই একটা ফাইল মিসিং মনে হলো তার। এসিস্ট্যান্ট সজলকে ফোন করলো সে। নীরা তার আগের দিন দই বসিয়েছিল। সেখান থেকে রিপের জন্য রেখেছে। সবাই খেয়ে বেশ প্রশংসা করেছে। এডভোকেট সাহেবও নিশ্চয়ই প্রশংসা করবে। কিন্তু ঘরে এসেই রিপকে আবারও ফোনে কথা বলতে দেখে রাগ এবার আকাশ ছুঁলো। রিপের সামনে এসে ক্ষেপা চোখে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে রিপ এক হাতে তার মুখ চেপে ধরলো। টেনে এনে একহাতে জড়িয়ে ধরে ফোনটা কোনোমতে শেষ করে নীরার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়লো
কি সমস্যা?
নীরা কটমট গলায় কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিপ ফোনটা পকেটে পুরে দু-হাতে তাকে আগলে ধরলো। তার দুর্ভেদ্য স্পর্শে নীরার রাগ পানি হয়ে এল। চাইলেও রাগ দেখাতে পারছে না।
বলো কি বলবে?
সে শক্তবাঁধনে জড়িয়ে বুকে মুখ গুঁজে বলল
আমি অনেক রেগে আছি। আপনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
আরেহ কিছু করার ছিল না। কি ঝামেলায় পড়েছি তুমি জানো? কেসটা দিনদিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ওখানে গিয়ে কোনো সমাধান হয়নি বরং উল্টো প্যাঁচে পড়ে গিয়েছি। যারা আই এভিডেন্স ছিল তারা উল্টোসুরে কথা বলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট গুলোতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ময়াচ হয়নি। খুব ঝামেলায় আছি।
ওসব ঝামেলায় জড়ানোর কি দরকার? ওসব মামলা টামলা আমার ভয় করে।
আমার করে না। কারণ আমি আমার জায়গায় সৎ। সৎ থাকলে মনে ভয় থাকার প্রশ্নই আসে না। একটা না একটা বিহিত হবেই।
নীরা ওর দিকে মুখ তুলে তাকালো। কিঞ্চিৎ ভুরু কুঁচকে বলল
আপনি এত শুকিয়েছেন কেন?
কি বলো?
হ্যা, অনেকটা শুকিয়েছেন। কেন শুকিয়েছেন তাও আমি জানি।
রিপ হাসলো।
কেন?
বউয়ের অভাবে। আশেপাশে বউ থাকলেই তো যত্ন করে খাওয়ায়। বউ না থাকলেও তো নিজ থেকে খেতে ইচ্ছে করে না তাই না?
রিপ ভেবেচিন্তে বলল
তা ঠিক বলেছ।
নীরা একগাল হাসলো। পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে রিপের গালে দীর্ঘ চুম্বন বসিয়ে বলল,,
এবার আমারটা ফেরত দিন।
রিপ ফেরত দিতে কাপর্ন্যতা করলো না। হেসে উঠে তার ডানগালে ঠোঁট চেপে ধরতেই ফোনটা বেজে উঠলো। পকেট থেকে ফোন বের করতেই রিপ বলল
সজল ফোন করেছে। ফাইলটা পেয়েছে নিশ্চয়ই।
নীরা এবার চোঁ মেরে ফোনটা নিয়ে নিল। রিসিভ করে বলল
সজল বলছো?
জ্বি ম্যাডাম। আসসালামু আলাইকুম। স্যার কি আছেন?
না তোমার স্যার নেই। তুমি যখন তখন ফোন করবে কেন? তুমি জানো না তোমার স্যার বিবাহিত। যখন তখন ফোন দেয়া বারণ।
সজল লজ্জা পেয়ে বলল
সরি ম্যাডাম। আসলো ফাইলটা..
আমি অত কথা শুনতে বসে নেই। তুমি একটা বিয়ে করো তারপর বুঝবে ঠেলা।
জ্বি ইয়ে মানে। স্যারকে বলে দেবেন ফাইলটা পেয়েছি। ওটা বলার জন্য ফোন করেছি।
এবার মাফ করলাম। এরপরের বার মাফ করব না।
জ্বি জ্বি ম্যাডাম।
ফোনটা ঠুপ করে কেটে দিল নীরা। রিপ হতাশ হয়ে বলল
এটা কি ছিল?
জোকস।
ওর সাথে এভাবে কথা বললে কেন? এখন আমার কি ওর সামনে পড়তে লজ্জা করবে না? ও তো এখন থেকে দরকারী কাজে ফোন করতেও ভয় পাবে।
ভয় পাক। কত ভালো মুডে ছিলাম। ধুরর মুডটাই নষ্ট করে দিল।
বাম গালে আঙুল ঠেকিয়ে রিপকে বলল,
এবার আর ফোন আসবে না।
রিপ বিমুখ হয়ে বলল
না, তোমার উপর রেগে আছি আমি। তুমি কাজটা ঠিক করোনি। তুমি কতটা লজ্জায় ফেলে দিয়েছ আমায় তুমি জানো?
নীরা এক ঝটকায় তাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলল
আমাকে আর নীরা নীরা বলে ডাকলে খবর আছে।
রিপ তার যাওয়া আটকে ফেলল। শক্ত করে ধরে বাম গালে ঠোঁট জোড়া চেপেচেপে বলল
আচ্ছা বাবা ঠিক আছে।
চলমান...
🙈🙈🙈