ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক চিলতে রোদ

১ম পর্ব

লেখক: Nondini_Nila
#এক_চিলতে_রোদ
#Writer_Nondini_Nila
#Part_01
~~~
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত ব্যাথায় কাতর হয়ে পরি। পেটে হাত চেপে ধরে ঠোঁট কামড়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদছি। প্রতিবার এমন ব্যাথায় আমি অসুস্থ হয়ে পরি। তাই চোখ বন্ধ করে শুয়েই আছি। তখন কেউ আমার হাত ধরে টেনে তুললো আমি চমকে শক্ত হয়ে বিছানায় বসলাম।
সামনের ব্যাক্তি আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। 
আমি তার দিকে তাকিয়ে ভয়ে গুটিয়ে গেলাম। 
সামনের মানুষটি আমার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে বলল,,,
"এই যে নবাবের বেটি, সকাল দশটা বেজে গেল আপনার এখন ও ঘুম হলো না। এখন ও বিছানায় পরে পরে ঘুমাচ্ছিস? তোর সাহস দেখে আমি চমকে উঠলাম।"
চাচি কথাটা খুব রাগান্বিত হয়ে বলল।আমি চাচির দিকে তাকিয়ে ছিলাম কথা শেষ হতেই বললাম,
"চাচি আমি অসুস্থ উঠতে পারছি না। একটু শুয়ে থাকতে দাও বিকেলে সব করবো‌।"
"কি বিকেলে? চুপচাপ উঠ না হলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।আজকে আমার ছেলে আসবে এতোদিন পর ছেলেটা বাঁড়ি আসবে। কতো কাজ তুই না করে বসে থাকার জন্য সুযোগ খুঁজছিল।
"চাচি আমি ...
"উঠ তোর কোন অজুহাত আমি শুনছিনা। তারাতাড়ি কাজে লেগে পর। কতোদিন পর আমার ছেলে আসছে বিদেশ থেকে। কতো কাজ পরে আছে। 
চাচি কথাগুলো বলতে বলতে চলে গেল। আমি চুলের মধ্যে এক হাত দিয়ে চোখের জল ফেলছি। চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম,
উঠতেই পারছি না কাজ করবো কি করে?
তারপর চোখ মেললাম চাচি কি বলল ভাইয়া আসছে? পাঁচ বছর আগে ভাইয়া বিদেশে গিয়েছিল আজ দেশে আসছে।ভাইয়ার যখন বিদেশে গিয়েছিল তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম তাই ভাইয়ার চেহারা ভুলে গেছি‌। ভাইয়ার আসায় আনন্দ হচ্ছে কিন্তু বেশিক্ষণ থাকলো না কাজের লোক বললো,,
ঊষা তাড়াতাড়ি বাসা মুছে ফেল। ম্যাডামের আদেশ।
বলেই চলে গেল।
আমি দূর্বল শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। ব্যাথা চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু দেখার মতো কেউ নেই পাশে।
পাব কোথায় কাউকে যার মা বাবা নেই সে তো এভাবেই থাকবে।চাচিরা তো তাও আমাকে বাসায় রেখেছে এই তো অনেক তাদের কথা না শুনলে আমাকে র্টচার করবে।
পেটের সাথে এখন মাথা ও ব্যাথা করছে এক হাত চুলে নিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম তারপর অনেক কষ্টে চুল বাধলাম। বাথরুমে থেকে পানি এনে বালতি করে দুতালায় চলে এলাম।চাচির রুমে থেকে মুছা শুরু করলাম উঠা বসা করতে খারাপ লাগলেইও দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলাম। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম কাজ শেষ হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল। পুরো বাসা মুছে আমি থপ করে সোফায় বসে গা এলিয়ে দিলাম।এতো খারাপ লাগছিল যেন মরে গেছি।চোখ বন্ধ করে বসে আছি।‌সারা শরীর অসার হয়ে আসছে।
তখন চাচির ককর্শ গলায় আওয়াজ করতে করতে আমার কাছে এলো তার আওয়াজ পেয়ে উঠি দাঁড়িয়ে পরলাম।
"কি হচ্ছে তুই আবার কাজ ফেলে বসে আরাম করছি? সত্যি কি রেখেছি বাড়িতে এজন্য এমন আপদ বাসায় রাখতে চাইছিলাম না আমার হার মাস শেষ করে দিল।বসে বসে শুধু অন্ন ধংস করেছ কাছের বেলায় অষ্টরম্বা।
চাচির কথা শুনে আমার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে। চাচি আমাকে এভাবে বলতে পারলো আমার তো সব কাজ‌ই করি সব সময় চাচি তার বলে তাই করি আজ শুধু পিরিয়ড এর জন্য করতে চাইছিলাম না তাও তো করছি।
"আবার ন্যাকা কান্না শুরু হয়েছে।এতো নাটক করতে পারিস তুই। কিছু বলতেই কান্না করে ভাসিয়ে দেওয়ার স্বভাব যতসব আপদ।
"চাচি আমি তো মুছে দিয়েছি।
"হুম দেখেছি একটা ঘর বাদ দিলি কেন?
আমি চাচির দিকে তাকিয়ে বললাম,, কোন ঘর তো বাদ দেয়নি।
"ইহান এর ঘর তো কিছুই করিস নি। যা ওই ঘরে গিয়ে পরিষ্কার কর।ও কিন্তু একদম নোংরা অপরিষ্কার পছন্দ করেনা।একদম ঝকঝকে চকচকে করে দিবি।"
আমি বললাম, ওই ঘরে তো সবাইকে যেতে মানা করেছিলে তাই।
"সে করেছিলাম কিন্তু এখন না গেলে পরিষ্কার করবি কি করে। দরকার ছাড়া ওই রুমে যাবি ইহান পছন্দ করেনা।"
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম।
ইহান ভাইয়ার রুমে এসে পুরো রুমে ঝারলাম। ধূলোয় ভয়ে ছিলো‌ বিশাল বড় বিছানা আলমারি থেকে চাদর, বালিশের কভার এনে বিসালাম।সব কিছু পরিষ্কার করে ফুলের টবের ফুল নিয়ে ফেলে দিলাম নষ্ট হয়ে গেছে এখন ভালো লাগছে না এখানে ফুল রাখলে ভালো লাগবে আমি কিছু একটা ভেবে বাগানে চলে এলাম বাইরে আর আমার পছন্দ মতো ফুল নিলাম তারপর টবে রাখলাম। ইহান ভাইয়ার ছোট কালের ছবি আছে দুটো একটা তার বাবা মার সাথে একদম ছোট। আরেকটা একটু বড় সেখানে চশমা পরিহিত মুখে হাসি আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি তখন চাচি রুমে আসলো।আর আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিলো।
"হয়েছে।
"জি চাচি।
"যা তাহলে। রান্নাঘরে গিয়ে বাসন মেজে ফেল।
আমি রান্না ঘরে চলে এলাম।
সারাটা দিন আর বসতে পারলাম না। একবার খাবার দিয়েছিল তাও খেতে পারিনি।সারে তিনটায় কাজ শেষ হলো বাসায় ইহান ভাইয়ের নানা বাড়ির লোক ফুফু রা সবাই এসেছে।‌ভাইয়াকে আনতে গেছে তার বোন ইমা- ইলা জমজ ওরা। চাচাকে সারাদিন দেখিনি। চাচি বলেছে কাজ শেষ। আমি রুমে এসে থপ করে বিছানায় শুয়ে পরলাম।আর পারছিনা। কিন্তু এভাবে ঘুমানো ও যাবে না তাই উঠে বাথরুমে গিয়ে কোন রকম গোসল সেরে নিলাম। তারপর ঘুমিয়ে পরলাম। চাচি বলেছে মেহমানদের সামনে যেন না যাই আমাকে রুমেই থাকতে বলেছে রাতে খাবার রুমে দিয়ে যাবে।
আমার জন্য ভালোই হয়েছে।
ঘুম ভাঙল ঠান্ডা বাতাস এ। শীত করছে খুব আমি চোখ মেললাম শীত কেন করছে আজ তো গরম ছিলো তাকিয়ে দেখি বাইরে অন্ধকার তারমানে রাত হয়ে গেছে। এতো সময় ঘুমালাম।আমি উঠতে গেলাম উঠতে পারছি না শরীর ব্যাথা গা গরম জ্বর এসেছে। 
ইহান ভাইয়া চলে এসেছে বোধ হয় এতোক্ষণ এ।পানি পিপাসা পেয়েছে গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। রুমে পানি নেই বাইরে যেতে হবে। দরজা ফাঁকা করে দেখলাম বাইরে ফাঁকা কেউ নেই সবাই কি ঘুমিয়ে পরেছে নাকি‌।
ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে এলাম ড্রিম লাইটের আলোতে আমি ড্রাইনিং টেবিলে এলাম। পানি খেয়ে নিলাম খিদে পেয়েছে খুব সারাদিন ভালো মতো খেতে পারিনি‌রাতে তো খাবার দেয়নি এখন পারছি না ফ্রিজ খুলে দেখলাম খাবার নেই শুধু মিষ্টি আছে। খিদে মধ্যে আমি দুটো মিষ্টি খেয়ে নিলাম। খালি পেটে মিষ্টি খেয়ে ভালো লাগছে না আমি পানির জন্য পেছনে ঘুরতেই কারো বুকের সাথে বাঁডি খেলাম।
সারা শরীর কেঁপে উঠলো আমার কেউ আমার সামনে দাড়িয়ে আছে যার মুখ বুঝা যাচ্ছে না আমি তার বুকের সাথে লেপ্টে আছি।
আমি ভয়ে এক পা পেছনে গেলাম একি সামনের লোকটা আমার হাত ধরে টেনে আমার কোমর জড়িয়ে ধরলো,,
আমি বিষ্ময়ে হতদম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।এটা কে আমি ভূতে ভয় পাই খুব এটা কি ভূত আমি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছি সামনের আবসা অন্ধকারে লোকটার দিকে। আমি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে ভয়ে। নিজকে আর ঠিক রাখতে পারলাম না ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে লোকটার উপর ঢলে পরলাম।
সামনের লোকটা আমার দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে আছে। সে আর কেউ না ইহান ছিলো। ও একটা দরকার এ নিচে এসেছিল বাসায় আসার পর‌ই ও সবার আক্রমনের শিকার হয়েছে।এটা খাও ওটা খাও সবাইকে পরিয়ে বিশ্রাম নিয়েছে।
নিচে এসে ওর চোখ যায় নিচে কেউ ফ্রিজ খুলছে লুকিয়ে ও ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে একটা মেয়ে আছে সন্দেহ আছে নিচে আসে মেয়েটা দুটো মিষ্টি গপাগপ খেয়ে নেই ওর সন্দেহ হয় চুর না তো তাই কাছে যায়। অদ্ভুত মেয়েটা ও কে ভয় পায় দেখে ইহান সিওর হয় যে চুর হবে কিন্তু মেয়েরাও চুরি করে ভেবে কপাল কুচকায়।
ও মেয়েটা শক্ত করে ধরে আর মেয়েটা হঠাৎ ঢলে পরে ওর উপর।তখন লাইট জ্বালিয়ে কেউ ছুটে আসে।
"ভাইজান ঊষার কি হয়েছে? 
ইহান কাজের মেয়ে লতার দিকে তাকিয়ে বলে, 
কে ঊষা?
এই যে ঊষা‌‌।
ইহান বুঝতে পারে ওর ধরে রাখা মেয়েটাই ঊষা।ও উষার দিকে তাকিয়ে বলে,
"জ্ঞান হারালো কেন? আমি তো চুর ভেবেছিলাম।
"ভাইজান ওরে এদিকে নিয়ে আসেন দয়া ক‌‌ইরা। শরীর তো আগুন এর মতো গরম জ্বর আসছে।
ইহান খেয়াল করলো সত্যি শরীর অনেক গরম। ঊষার দিকে তাকায় পূর্ন দৃষ্টিতে চোখ মুখ ফুলে আছে ক্লান্ত ভড়া এই টুকু মেয়ের এতো ক্লান্ত। ও ঊষাকে পাজকোলে তুলে নিলো লতা ঊষার রুম দেখিয়ে দেয় ইহান ঊষাকে নিয়ে ওর রুমে এসে বিছানায় শুইয়ে দেয়।
কেবল‌ই ঘুমিয়েছিল ইলিনা বেগম( ইহানের মা) তখনই তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় কাছের মেয়ে লতা এসে ডেকে তুলে। রেগে লতাকে এক ধমক দিয়ে উঠে ইলিনা।ঘুমের মধ্যে ডিস্টাব একদম পছন্দ করেনা। রেগে বলে উঠে,
ওই কি হয়েছে তুই এই সময় আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে ডাকছিস কেন?
ম্যাডাম ঊষার তো জ্বর এসেছে।ও জ্ঞান হারিয়েছে তারাতাড়ি চলেন।
জ্বর এসেছে তো আমি কি করবো? আমি কি ডাক্তার যতসব আপদ। একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না জ্ঞান হারিয়েছে মরে তো যায় নাই। এতো হাক ডাক করছিস কেন। তুই যা করার কর আমাকে একদম বিরক্ত করবি না।
বিরক্তের সাথে কথা বলেই ইলিনা ভেতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। তখন লতা বলে উঠলো,
ইহান ভাইজান ঊষার কাছে আছে তিনি আপনাকে যেতে বলেছে।
ইহান ঊষার কাছে আসে শুনেই চমকে উঠে ইলিনা। ফিরে তাকিয়ে বলে,
কি বললি তুই?
হ ম্যাডাম আমি ঠিকই ক‌ইছি।
চমকে উঠে তারাতাড়ি ঊষার রুমে আসতে লাগলো।
এদিকে ইহান লতার দেখানো রুমে এনে ঊষাকে বিছানায় শুইয়ে দিল।‌ তারপর কপালে নিজের হাতটা রাখলো নিজের কাছে সংকোচ হচ্ছিল হাত দিতে তবুও রাখলো। হাত রাখতে রাখতেই সরিয়ে নিলো এতো তাপ যে রাখা যাচ্ছে না।ও হাত সরিয়ে গভীর ভাবে তাকালো ঊষার শুকনো মুখের দিকে। 
ও খেয়াল করলো ঊষার চোখ খুলে আছে। কান্না করলে এমন হয়। ইহান কপালে ভাঁজ ফেলে ভাবছে মেয়েটা কি কেঁদেছে?
আশার পর তো একে একবার ও দেখি নি‌ তখন কোথায় ছিলো? 
ভাবতে ভাবতে উঠে পানি আনলো জ্ঞান ফেরানো দরকার। হাত দিয়ে কিছু পানি ঊষার মুখে ছিটিয়ে দিলো।ঊষা নিজের চোখে মুখে ঠান্ডা পানির স্পর্শে পেয়ে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়। আর তাকিয়ে নিজের মুখের কাছে একটা অপরিচিত ছেলেকে দেখতে পায় যে ওর দিকে ঝুঁকে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। একটা অচেনা ছেলেকে নিজের দিকে ঝুঁকে থাকতে দেখে আমি চমকে উঠি। ছেলেটা আমার দিকে ভ্রু কুটি করে তাকিয়ে আছে আমি তাকাতেই সে বলে উঠে,,
আর ইউ অলরাইট।
আমি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি।সে আমার ভয়ার্ত মুখ দেখে নিজের মুখে হাসি এনে সোজা হয়ে দাড়ালো।আমি তাকে দাঁড়াতে দেখেই ধরফরিয়ে উঠে বসলাম,, 
আর কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,,
কেএএএএ আপনি?
উনি আমার দিকে ঠোঁটে কোনে হাসি রেখে তাকিয়ে আছে।আমি ভীতু মুখ করে তাকিয়ে আছি।
ইহান ঊষার ভীতু মুখ দেখে না হেসে পারলো না মেয়েটা ওকে ভয় পেয়েছে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। 
আমি আবার বলে উঠলো,,, কে আপনি এখানে কি করছেন? 
এবার ইহান বলে উঠলো, আমার বাসায় আমি কি করছি জিজ্ঞেস করছো? ভেরি ফানি, তুমি কে সেটা বলো?
আমি উনার কথা শুনে থতমত খেয়ে গেলাম।উনার বাড়ি মানে কি সব বলছে? আমি চিন্তা করছি কে উনি উনার বাড়ি কিভাবে হলো? তখন উনি একাই বলে উঠলো,
আমি ইহান। এই বাড়ির একমাত্র ছেলে।
ওনার কথা শুনে আমার চোখ দুটো রসগোল্লার মত বড় বড় হয়ে গেল। আমি ঢোক গিলে উনার দিকে ভীতু মুখ করে তাকিয়ে আছি। উনি তাহলে ইহান ভাইয়া। একদমই চিনতে পারিনাই চিনতে পারবো কিভাবে উনার চেহারা তো আমার মনেই নাই। আগেও খুব একটা দেখা হয় নাই দুই বারের মত দেখা হয়েছিল। কারণ আমরা তো এখানে থাকতাম না আমি আব্বু আম্মু আমরা তো চিটাগাংয়ে থাকতাম। আর ইহান ভাইয়া তো আমাকে চিনে বেশি আর আগে চিনলেও এখন আমার মতো হয়তো মনে নাই।
"এবার তোমার পরিচয় দাও তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না।
আমি নিজের পরিচয় দিতে যাব তখনই চাচি এলো এক ছুটে। আর এসেই একবার আমার দিকে তো একবার ইহান ভাইয়ের দিকে তাকালো। আমি চাচীকে দেখে ভয়ে মাথা নিচু করে ফেললাম,,
ইহান নিজের মাকে দেখে বলে উঠল,
আম্মু তোমরা কি বলতো বাসায় একজন অসুস্থ তার খোঁজ না নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছো?
ইলিনা ছেলের দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে গরম চোখে ঊসার দিকে তাকালো তারপর মুখে হালকা হাসি টেনে বললো,
আমার মাথা থেকে একদম বেরিয়ে গিয়ে ছিল রে। ওর এতো শরীর খারাপ আমি তো জানতাম ই না। ও তো বিকেল ভর ঘুমিয়ে কাটিয়েছে রাতে খেতে ও এলো না কতো ডাকলাম সারাদিন এতো ধকল গেছে খেয়াল করিনি।
দাঁতে দাঁত খিচে গরম চোখে ঊষার দিকে তাকালো। চাচীর মিথ্যে কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম।
ইহান মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
হুম আমিও ওকে দেখি নি আসার পর আর।কে ও চিনলাম না তো?
ভ্রু কুঁচকে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল।
তখন পেছনে থেকে ইমা বলে উঠলো,
ভাইয়া ওকে চিনতে পারছিস নি। ও তো আমাদের বোন ঊষা। হুমায়ূন কাকার মেয়ে।
কথাটা বলতে বলতে ভেতরে এসে আমার কাছে এসে আমার কপালে হাত রাখলো। 
ইশ কি জ্বর এসেছে রে ঊষা। দাঁড়া, আমি তোর জন্য ওষুধ নিয়ে আসছি। খেয়েছিস কিছু?
আমি মাথা উঁচু করে আপুর দিকে তাকালাম আপু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, 
মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে কিছু খাচ্ছ নি‌।লতা ঊষার জন্য খাবার নিয়ে আয়।
বলে আপু চলে গেল। 
আমি মাথা উঁচু করে চাচী'র দিকে তাকালাম চাচী আমার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে। চাচীর থেকে চোখ সরিয়ে ইহান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখি ভাই আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিলাম।
তখনই ভাইয়া আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
এই তুমি হুমায়ূন কাকার সেই পিচ্চি মেয়ে। ও মাই গড আমারতো বিলিভ হচ্ছে না। এত বড় কিভাবে হয়ে গেল? তখন তো একটা হাঁফ প্যান আর ফতোয়া পড়ে আমার সামনে ঘুরঘুর করত।
ইহান ভাইয়ার কথা শুনে আমি চমকে তাকালাম। ভাইয়া আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি লজ্জায় মাথা নীচু করে ফেললাম কি বলল হাফ প্যান আর ফতুয়া পরে আমি তার সামনে ঘুরঘুর করতাম। ছি ছি কি লজ্জা?
লজ্জায় আমার কান গরম হয়ে আসছে।
ভাই আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
ইউ লজ্জা পাচ্ছ। দেখো তখন তুমি ছোট ছিলে কিন্তু এখন তো আর ছোট নাই সত্যি অনেক বড় হয়ে গেছো। এখন কোন ক্লাসে পড়ো?
আমি চমকিত হয়ে বললাম,,জি ক্লাস টেন।
আমার কথা শেষ হতেই চাচি ভাইয়ার কাঁধে হাত দিয়ে বলল,,
ইহান আব্বু যাও তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। আমরা তো আছি।ইস কত রাত হয়ে গেল ক্লান্ত শরীর নিয়ে এখনো জেগে আছো যাও আব্বু বিশ্রাম নাও।
ইহান ভাইয়া যাওয়ার আগে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
ওকে টেক কেয়ার ফর ইউ।
বলে ভাইয়া চলে গেল। আমি ভাইয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন চাচী আমার দিকে গরম চোখ করে এগিয়ে এলো। আমি ভয় পেয়ে বলে উঠলাম,,
চাচীঃ আমি ইচ্ছে করে ভাইয়ার সামনে যায়নি। আমি তো পানি খেতে গিয়েছিলাম। তখন ভাইয়া চলে এল আর আমি....
চুপ আপদ একটা। তোর কোন কথা আমি শুনতে চাইনা। তোর জন্য আমার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলো। নিজের মা-বাবাকে তো খেয়েছিস এখন আমাদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করবি।
চাচির কথা শুনে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। বিরক্ত মুখ করে চাচি গটগট করে বেরিয়ে গেল। তখন লতা খাবার নিয়ে এলো। খাবার আর আমার পেটে গেলো না। আমার ইচ্ছে নাই আর খাওয়ার। খিদে ছিল কিন্তু ওই কথা শোনার পর আর খাওয়ার ইচ্ছে জাগলো না। তখনই ইমা আপু এসে ওষুধ দিল আর খাবার খায়নি দেখে খেতে বলল।
আপুকে বললাম আমি খাবারটা খাব না।
আপু বুঝতে পেরেছে চাচী আমাকে কিছু বলেছে তাই। বুঝিয়ে-শুনিয়ে খেতে রাজি করালো। আপুর কথা ফেলতে পারলামনা । এই বাড়িতে একজন মানুষ আমাকে ভালোবাসে সেই হল আপু। তাই আপুর কথা শুনে কিছুটা খাবার খেলাম ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন শরীর হালকা জ্বর ছিল ওই ভাবেই সকাল সকাল উঠে গেলাম না হলে আবার চাচী বকাবকি করবে।ওঠে বাসা ঝাড়ু দিতে গিয়ে দেখি লতা ঝাড়ু দিয়ে দিয়েছে। নিচে লতা চা করছিল আমি রান্নাঘরে গিয়ে রান্নার কাজে হাত লাগাতে যাব তখনই লতা আমাকে ডেকে বলল,
ঊষা তুই একটু ইহান ভাইজানের কফিটা দিয়ে আয় না।
আমি বললাম, আমি কেন? তুই যা আমার কাজ আছে আবার স্কুলে যেতে হবে।
 তুই যা না একটু আমার না ভাইজানকে দেখলে লজ্জা করে।
আমি অবাক হয়ে বললাম কেন?
আর কইস না ভাইজান কি সুন্দর একদম নায়কের মত আমার না খালি লজ্জা লাগে।
আমি লতার দিকে তাকিয়ে বোকা বনে গেলাম। বাবারে কি লজ্জা ওর কথাতেই কফিটা হাতে নিলাম । ভাইয়া আসলে অনেক সুন্দর একদম নায়কের মত।
তাকালে শুধু তাকিয়ে থাকতে মন চায়।
আমারও যে লজ্জা করেনা এমন না! কালকে আরো কি সব ঘটনা ঘটলো?কিন্তু কফিটা তো দিতে হবে তাই সাহস যুগিয়ে কফি নিয়ে ভাইয়ার রুমে গেলাম।
#চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন