#এক_চিলতে_রোদ
#Writer_Nondini_Nila
#Part_02
ইহান ভাই এর দরজার সামনে এসে কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছি ভেতরে ঢোকার সাহস পাচ্ছি না।ঠিক পাঁচ মিনিট ধরে এই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এক পা সামনে বাড়িয়ে পিছিয়ে নিচ্ছি ভয় লজ্জা দুটোই করছে। কালকে রাতের ইহান ভাইয়ার কথা মনে পড়ে আর লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি। ভাইয়ের সামনে যেতে খুব লজ্জা করছে। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো কফি তো ঠান্ডা হয়ে যাবে তখন তো খেতে পারবে না।
মনে মনে সাহস যোগাতে লাগলাম। তারপর ধীরে পায়ে দরজা হলে নিচের দিকে তাকিয়েই ভেতরে প্রবেশ করলাম।দরজা খোলে ভেতরে এক পা রাখতেই ঠাস করে কারো সাথে ধাক্কা খেলাম আর আমার হাত থেকে কফিটা একদম ফ্লোরে গড়াগড়ি খেলো পরে সাথে সামনের লোক ও চিৎকার করে উঠলো,,,,
আমি ভয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি ইহান ভাইয়ার হাতে পড়েছে কফি সে হাত ধরে চিৎকার করে উঠেছে। ভয়ে আমি দুই কদম পিছিয়ে গেলাম আর ভয়ার্ত চোখে ইহান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। ভাইয়ার হাত ঝারছে।
হাতের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাইয়া বিরক্ত মুখ করে খানিকটা রাগ নিয়ে বলল,,
what do you do?You can't see and work!
ভয় আমি থর থর করে কাঁপছি এটা কি করে ফেললাম? আমার জন্য ভাইয়ার হাত পুড়ে গেল। ছিঃ একটা কাজ আমি ঠিকমত করতে পারি না চাচী তো ঠিকই বলে দেখা যায়। হাতের লাল হয়ে গেছে । ফর্সা হাত ভাইয়ার লাল হয়ে উঠেছে গরম কফি পড়ায়। আমি কি করব ভেবে পাচ্ছি না। তাড়াতাড়ি দৌড়ে নিচে আসলাম আর ফ্রিজ থেকে বরফ বের করে আবার একছুটে ভাইয়া রুমে গেলাম। ভাইয়া বিছানায় বসে হাতে ফু দিচ্ছিল।
আমি তাড়াতাড়ি ভাইয়ের কাছে গিয়ে হাতে টেনে নিলাম আর বরফ দিতে লাগলাম।
হাতে একদম লাল হয়ে গেছে আমার দেখে কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমার কান্না চলে এল আমি কাঁদছি আর বরফ দিচ্ছি আর ফু দিচ্ছি।
ইহানের মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে সকাল বেলা উঠে কফি খাওয়ার অভ্যাস ওর। তাই নিচে কফির জন্য যাচ্ছিল। যদি কারো মনে না থাকে এজন্য। কিন্তু তখনই কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে গরম কিছু ওর হতে পরে। হাত জ্বলে ওঠে। রাগে ওর চোখ মুখ শক্ত হয়ে যায়। সামনে তাকিয়ে দেখে কেউ নাই শুধু ভাঙা কফির কাপ আর কফি পরে আছে। বিছানায় বসে হু দিচ্ছিলো তখন কেউ ছুটে এসে ওর হাত টেনে নেয় আর বরফ দিতে লাগে। ওর রেগে তার দিকে তাকায় কারন ও বুঝতে পেরেছি এই ওর হাতে কফি ফেলেছে । রেগে একটা ধমক দিতে যাবে কিন্তু তাকিয়ে আর ধমকটা দিতে পারল না। মেয়েটার কেউনা ঊষা।আর ধমক দিবে কি করে এই মেয়েতো ধমক দেওয়া লাগে নাকের জল চোখের জল এক করে কাঁদছে। ইহান ভ্রু কুঁচকে ঊষার দিকে তাকিয়ে আছে। ঊষা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে আর একদৃষ্টিতে আমার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। বরফটা খুব যত্নসহকারে হাতে দিচ্ছে আর ফু দিচ্ছে।কখনো কারো কান্না ইহানের পছন্দ নাকেউ এমন ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদলে ওর প্রচন্ড রাগ হয়। কিন্তু ঊষার কান্না মাখা মুখ দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল। ওর বিরক্ত লাগছে না। বাচ্চা মেয়েটা চোখ মুখ লাল করে কাঁদছে। দেখতে ভালই লাগছে কেন জানি না খুব ভালো লাগছে কান্নাটা কেন যেন উপভোগ করছে ইহান।
ঊষা তুই কাঁদছিস কেন ? হাতটা পুরেছে আমার কাঁদবো আমি তা না তুই কাঁদছিস?
ঊষার কান্না মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে ইহান বলল।
ইহান ভাইয়ের কথা শুনে আমি চোখভর্তি জল নিয়ে ভাইয়া দেখে অসহায় মুখ করে তাকলাম,,,
ভাইয়া আমার দিকে ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে আছে।
"আমি খুব সরি ভাইয়া আমি ইচ্ছে করে এটা করিনি। ইশ কতো খানি লাল হয়ে গেছে।
"তেমন কিছু না সামান্য লেগেছে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তোর না জ্বর! তুই এত সকালে উঠে এইসব করছিস কেন?
ভাইয়ার কথা শুনে থতমত খেয়ে গেলাম।
আমার মুখ দেখে ভাইয়া ভ্রু কুঁচকালো সেটা দেখেই আমি বললাম,
আমি তো সুস্থ হয়ে গেছি জ্বর এখন একটুও নাই। বলে হালকা হাসলাম।
ইহান ভাইয়া আমার কথাটা বিশ্বাস করছে না আমি এখনো তার হাত ধরেছিলাম ভাইয়া আমাকে নিজের পাশে বসতে বললো ইতস্তবোধ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।
ভাইয়া নিজে বিছানা থেকে উঠে ডান হাত দিয়ে আমার কপাল ছুঁয়ে দিল।হুট করে ভাইয়ার স্পর্শানুভূতির কপালে পেয়ে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম আমার সারা শরীর শিরশির করে উঠল।
আমি চমকে এক পা পিছিয়ে গেলাম।
ভাইয়ার ডান হাত পড়েছে। ভাইয়া ডান হাত বাড়িয়ে আমার হাতের বাহু ধরে টেনে আবার আগের জায়গায় আনলো। আমি বিস্মিত হয়ে ভাইয়া দেখে বড় বড় চোখ করে তাকালাম,
ভাআয়া আমার কপালে আর গালে স্পর্শ করল আবার। আমি ভাইয়ের স্পর্শ পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম হাত মুঠো করে দাঁড়িয়ে আছি।
আমাকে মিথ্যে বললি কেন? তোর শরীরে তো এখনো জ্বর আছে।
কথাটা বলে হাত সরিয়ে নিল।আমি চোখ মেলে তাকালাম ভাইয়া আমায় দিকে প্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।কি বলবো এখন ভাইয়া কে ? সে তো আর জানে না আমি এখন যদি অসুস্থতার জন্য শুয়ে থাকি আমার কপালে অনেক খারাপি আছে।
আমি তো সুস্থই একটু একটু জ্বর থাকলে কিছুই হবে না।
আমার উত্তর পেয়ে ভাইয়া চঙ্কিত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
ভাইয়া কিছু বলার আগেই চাচি হাঁকডাক করতে করতে ভাইয়ের রুমে এসে উপস্থিত।
এসেই ফ্লোরে ভাঙ্গা কাপ আর কফি পড়ে থাকতে দেখে চমকে উঠলো। সাথে আমার দিকে তাকিয়ে দেখে চিৎকার করে বলল,
অলক্ষ্মীর ,অপয়া, কালনাগিনী,কি করলি তুই এটা? আমার এত সাধের কাপটা ভেঙ্গে ফেললি? এইটা আমি কক্সবাজারে গিয়ে এনেছিলাম। আমার সবকিছু ধ্বংস করে ফেললি কুলক্ষণা। বিনা পয়সায় খাওয়াচ্ছি পড়াচ্ছি থাকতে দিচ্ছি তার মূল্য এইভাবে দিচ্ছিস। ইচ্ছে করে ভেঙেছিস তাই না বলেই চাচী আমার দিকে গমগম করে এগিয়ে এলো।
আমি ভয়ে পিছিয়ে গেলাম।ভয়ে আমার হাত পা কাপছে চাচি এসে আমার গালে থাপ্পড় মারার জন্য হাত উচু করে ধরল। ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে মাথা কাত করে ফেলেছি।
ইহান নিজের মায়ের ডাক শুনে ঊষার হাত ছেড়ে দেয় ঊসা নিজের হাত ছাড়া পেয়ে কিছুটা পিছিয়ে যায়। তখনই মা রুমে প্রবেশ করে ভাঙ্গার কাপ দেখে ঊষাকে সামনে দেখে যা ইচ্ছা তাই বলে ওঠে। নিজের মায়ের মুখে এসব কথা শুনে ও বিশ্ময় হতভম্ব হয়ে যায়। মা এসব কথা বলবে ও কল্পনাতে ভাবি নি।নিজের মায়ের এইসব কথা শুনেও স্তব্ধ হয়ে গেছে।
এইগুলো বলেই ক্ষান্ত হয় না এগিয়ে গিয়ে ঊষাকে মারার জন্য হাত তুলে। এবার নিজেকে শান্ত রাখতে পারেনা ইহান ছুটে গিয়ে মায়ের হাত ধরে ফেলে।
আর চিৎকার করে বলে ওঠে,
এসব কি হচ্ছে আম্মু তুমি ঊষাকে মারতে চাইছ কেন? ও যে অসুস্থ সেইটা কি তুমি জানো না?
ইলিনা নিজের ছেলেকে দেখে চমকে ওঠে তার খেয়ালী ছিল না এই রুমে ছেলে আছে।
কিন্তু আজকে উনি থামলেন না ওনার এত সখের কাপ টা ভেঙে ফেলেছে আর উনি ছেড়ে দেবে এটা তো হতে পারে না।ছেলেটা এখন এখানে থাকবে অযথা ছেলের সামনে এত ভালো সাজার দরকার নেই আমাদের বাসার আশ্রিতা কাজের লোক।এটা তো তুলে ধরতে হবে। আমার ছেলে বুঝতে পারবে এতদিন বিদেশে থেকে এসেছে চাচাতো বোন বলে একে ক্ষমা করবে না আমার মত এই ঊষাকে নিজের জায়গা বুঝিয়ে দেবে। ইমা টা হয়েছে সবার থেকে আলাদা বোন বোন বলে মাথা খেয়ে ফেলে।
না জানার কি আছে সব ঢং। দিনভর শুয়ে-বসে থেকেছে জ্বর চলে এসেছে।যত্তসব কামচোর একটা সারাদিন শুধু বসিয়ে বসিয়ে খাওয়া একে। বাবা-মা দুজন তো মরে বেঁচেছে আবার এই আপদ আমাদের ঘাড়ে বোঝা করে রেখে গেছে।সারাটা দিন শুধু বসে থাকবে একটা কাজ করতে গেলে এমন আকাম করবে যাতে আর কাজ না দেই।কতটা সাহস বল আমাদের খাচ্ছে আবার আমাদের জিনিস নষ্ট করছে একে মারবো না তো কি করবো?
চাচির কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।
চাচা যা বলছে তার একটা কথা ওসত্যি না।
সবগুলো কথা চাচি মিথ্যা বলছে। সারা দিনই আমাকে দিয়ে কাজ করার সব কাজ আমি করি। কিন্তু এখন কি সব বলছে।
চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে এসব আর শুনতে ভালো লাগছে না। মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। ইহান ভাই নিজের মায়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তখনি চাচী ভাইয়ের হাত দেখে বলে উঠল তার হাতে কি হয়েছে?
ভাইয়া কিছু বলার আগে চাচি বলে উঠলো,,
পুড়েছে হাত।চাচি বুঝতে বাকি রইল না আমার দিকে তাকিয়ে আরো বাজে বাজে কথা বলে ভাইয়া কে নিয়ে আদিখ্যেতা করতে লাগলো।
আমার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বলল,
আজকে তোর খাওয়া বন্ধ। আমার ছেলের হাত পুরিয়েছিস রাক্ষসী।
ইহান ভাইয়া তখন বলে উঠলো,
আম্মু প্লিজ ওকে এত বকো না এতে ওর একা দোষ নাই আমার দোষই ছিল বেশি।
তুই চুপ কর ওকে আমি চিনি ওই করেছে।
ইহান ভাই অসহায় মুখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চাচি রেগে আমার দিকে ঘুরে বললো,
খাম্বার মত দাড়িয়ে না থেকে ফ্লোর পরিষ্কার কর তাড়াতাড়ি।
আমি ধীর পায়ে এগিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লাম। ভাঙ্গা কাচের টুকরো হাত দিয়ে ওঠানোর সময় নিজের হাত কেটে ফেললাম। থামলাম না ওইভাবেই ঠোঁট কামড়ে ব্যথা সহ্য করে ফ্লোর পরিষ্কার করে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম।
বাইরে এসে আঙুল চেপে ধরে কান্না করতে লাগলাম আর কত ব্যথা আমাকে সহ্য করতে হবে আল্লাহ।কাটা হাত নিয়ে রান্না ঘরে লতাকে সাহায্য করলাম। তারপর রুমে এসে বসে আছি।হাতে রক্ত জমাট বেঁধে আছে ওই ভাবে মুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি স্কুল ড্রেস পড়ে নিলাম।
টেস্ট পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দিয়েছে।কিন্তু চাচী আমাকে বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। আজকে কলেজে যেতে হবে।
রুম থেকে বের হয়ে দেখি সবাই খাবার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে। সবাই খাওয়া দেখে খেতে হলো কিন্তু চোখ সরিয়ে নিলাম রান্নাঘরে গিয়ে ভাত আর ডাল খেতে হবে। কিন্তু আজকে সেটাও চলবে কিনা জানিনা চাচি তো আমাকে খেতে মানা করে দিয়েছে। আজকে খাবই না বলে বাসা থেকে বের হতে যাব তখন ইহান ভাইয়ের আওয়াজ কানে এলো ইহান ভাইয়া বলছে,,
ঊসা খাবার না খেয়ে কোথায় যাচ্ছিস?
আমি তার কথা শুনে দাঁড়িয়ে পরলাম। তখন চাচি রা সবাই আমার দিকে তাকালো আর চাচী ফুসে উঠে বলল,,
ওই তুই কোথায় যাচ্ছিস?
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
চাচি আছে যেতে হবে আমার পরীক্ষা দুদিন পর প্রবেশপত্র আনতে হবে।
চাচি কিছু বলতে যাবে তখন পাশ থেকে ইলা বলে উঠলো, নিজের মাকে ফিসফিস করে, মা ওকে যেতে দাও আপদ বাসা থেকে গেলে কিছুক্ষণ শান্তিতে থাকতে পারি। নয় ওর মুখ আমার দেখতে মন চায় না।
চাচি কিছু একটা ভেবে চিৎকার করে আমাকে বলল আচ্ছা যা।
চাচির এত তাড়াতাড়ি রাজি হওয়া দেখে আমি খুশি হয়ে গেলাম।
ইহান ভাই এখন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আবার জিজ্ঞেস করে উঠলো,,, না খেয়ে স্কুলে যাচ্ছিস কেন?
ওই আমার খিদে পায়নি। এখনই লেট হয়ে গেছে আমার তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
বলে তারাতারি কারো কথা না শুনে ছুটে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম।
সারা শরীর ব্যাথায় টান টান হয়ে আছে। কিন্তু এখন তার থেকেও বেশি ব্যথা পাইছি পায়ে। দুবার হোঁচট খেয়ে বুড়ো আঙ্গুল ছুলে গেছে।
ব্যাথায় পা নাড়াতে পারছি না ঠোঁট কামড়ে ধরে ব্যাথা সহ্য করছি। মাথা দপদপ করছে খিদে লেগেছে প্রচুর। সারাদিন না খাওয়া স্কুলে গিয়ে শুধু পানি খেয়েছিলাম। বাম হাতটা উঁচু করে ঘড়ির টাইম দেখে নিলাম দুটো বাজে। এত রোদ উঠেছে তার তীব্র আলোয় আমার ঘেমে একাকার। এখন বাসায় গিয়ে আগে খেয়ে নেব। চাচি এতে যতই বকাবকি করুক না কেন?
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাসা পর্যন্ত পৌছালাম। আসছে আসতে তিনটে বেজে গেছে।ভেতরে এসে সোজা নিজের রুমে চলে গেলাম কাউকে দেখলাম না। ড্রেস চেঞ্জ করে চোখে মুখে পানি দিয়ে বের হতেই দেখা লতার। ও আমার কাছে এসে দাঁড়ালো।
"সবাই কই?
লতার দিকে তাকিয়ে বললাম। তারপর বিছানায় বসে পায়ের ব্যাথা পাওয়ার স্থান দেখতে লাগলাম।
"সবাই খেয়ে গেল। রুমে আছে চল খেয়ে নেয়। সকালেও তো খেলি না। এই তোর পায়ে কি হয়েছে?
বলতে বলতে এগিয়ে এলো।
এ ম্যা এই কি করে?
আমি মাথা উঁচু করে বললাম,, হোঁচট খাইছি আসার সময়।
লতা ব্যথিত মুখে বলল,, কি করে? হেঁটে এসেছিস?
আমি ছোট করে হুম বলেই উঠে দাঁড়ালাম।
লতা দুঃখ প্রকাশ করে বলল,, ইশ কি অবস্থা? উঠছিস কেন তোর আমি এখানেই দিয়ে যাবনি।বসে থাক।
"না দরকার নাই চাচি জানতে পারলে খবর আছে চলো।
লতা আর কিছু বলল না। দুজনে খেতে বসেছে ইলিশ মাছ রান্না করেছে কিন্তু মাছ আছে একটা কে খাবো লতা আমাকে খেতে বলল কারন আমার ইলিশ অনেক পছন্দের তাই। কিন্তু লতার দিকে তাকিয়ে খেতে পারলাম না ওকে দিয়ে দিলাম। গাল নিয়ে খেতে বসেছি একটু গুচ্ছত নিয়েছি বলতে এক পিছ তখন যন্ত্রনা করছে ওফ আংগুল যে কাটা আমার ঠোট কামড়ে ধরে ব্যাথা সহ্য করছি খেতে ও লেগেছে আবার এই ব্যাথা অনেক কষ্ট করে খাচ্ছি। তখন চাচী এসে উপস্থিত।
জ্বালাপোড়া হাত নিয়ে খাচ্ছিলাম তখন চাচি এসে বলল,,
এসেই গিলতে বসেছিস? সেটাই তো পারিস খালি গিলতে।
আমি চমকে উঠলাম।
"চাচি খুব খিদে পেয়েছিল সকালে তো কিছু খাই নি তাই।
চুপ গিলে আমাকে উদ্ধার করো।বিকেলে ইহানের বন্ধুরা আসবে সব কিছু রেডি করতে হবে।
আচ্ছা করছি।
চাচি বিরক্ত মুখ করে চলে গেল।
বিকেলে রান্নাঘরে ভাইয়ার বন্ধুবান্ধবীদের জন্য হালকা খাবার রান্না করছি আমি আর লতা।
চাচি দাড়ি এ দাড়িয়ে তার তদারকি করছে। সন্ধ্যার আজান দিতে আমি রুমে চলে এলাম নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ পড়ে বাইরে আসতে চাচি আমাকে ডাকলো।
কাছে যেতেই বললো,,
যা ছাদে যা। একটু পরে নাকি ওপরে বসে আড্ডা গল্প করবে।
আমি একা।
তো কে যাবে তোর সাথে? উপরে গিয়ে মাদুর পাত। চা করে নিয়ে যা সাথে আর পপকন ভেজে নিয়ে যা।
কিন্তু চাচি একা ছাদে আমার তো ভয় লাগে অন্ধকার আমি একা।
তোকে একাই যেতে হবে লতা এখন যেতে পারবে না। ওকে আমি ইহানের রুমে পাঠিয়েছি।
বলে চাচা আমার সামনে থেকে চলে গেল।চাচির যাওয়ার দিকে আমি ভয়ে মুখ করে তাকিয়ে আছি। আমি একা ছাদে কি করে যাব আমি অন্ধকারে ভয় পায় আর ছাদে তো লাইটও নাই। থাকবে কী করে ইমা আপু তো ছাদে বসে হাওয়া খায় তারা নাকি অন্ধকারে ভালো লাগে। রান্নাঘরে এসে পপকন ভেজে।আর চা বানিয়ে ফ্লাক্সে ভরে নিলাম। সবকিছু নিয়ে হালকা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ছাদে যাচ্ছি ভয়ে আমার হাত পা কাপছে। উপরের ছাদের গেটের কাছে আসতেই আমার সারা শরীর থরথর করে কেপে উঠলো।
ছাদের দরজা খুলছ অন্ধকারে তাকাতে ভয়ে আমার হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠল। বুকের ভেতর ধরফর করছে। আমার ভূতে ভয় বরাবরই। তবুও ছাদে পা রাখলাম ঠান্ডা বাতাস এসে আমার মাথার ওড়না ফেলে দিল। শুধুই আমার মনে হচ্ছে কেউ আমার আশেপাশে আছে।আমি এগিয়ে কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে ছাদের মাঝামাঝিতে গিয়ে সবকিছু নিচে রাখলাম। এদিক-ওদিক শুধু তাকাতাকি করছি মন বলছে আমার পাশেই ভূত দাড়িয়ে আছে। এই বুঝি আমার ঘাড় মটকে দেবে।অসহায় মুখ করে চোখ ছোট ছোট করে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তখনই একটা জোরে দমকা হাওয়া এসে আমার শরীর লাগলো। আমাকে আর পায় কে ভয়ের চোটে আমি এবার চিৎকার করে পেছন দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারলাম না পায়ে ব্যথা ছিল আমি তো ভালো মতো হাঁটতে পারিনা দৌড় দিয়ে হাঁটবো কিভাবে? পায়ের অসহ্য যন্ত্রণায় ধপ নিচে পড়তে নিলাম। তখনই কেউ আমাকে জাপ্টে ধরলো। আমি তার বুকে হুমরি খেয়ে পড়লাম। ভয়ে আমার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে বুকের ভেতর হাটবিলা ধড়াস ধড়াস করছে। আমি কিছু না ভেবেই। সামনের লোকটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠলাম। একবার ভাবলাম না আমার সামনে লোকটা কে দাঁড়িয়ে আছে?
ইহানের ছোটকালে ফ্রেন্ড যাদের সাথে ইহান ছোটবেলায় স্কুলজীবন পড়েছে বেস্ট ফ্রেন্ড বলা যবলা। দীর্ঘদিন পর তাদের সাথে আবার আজ গল্পে জমে উঠেছে। নিজের রুমে সবাইকে নিয়ে চটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে ইহান।তখনই ওর ফোনটা বেজে ওঠে আর ফোনের নাম্বার এ ক্লিক করে দেখে দেশের বাইরে থেকে কল এসেছে।কল টা দেখে সবার মাঝখান থেকে উঠে বেরিয়ে আসে কিন্তু নেটওয়ার্ক প্রবলেম করছে। কিন্তু কথা বলাটা খুবই দরকার খুব স্পেশাল একজন বিধান ইহান নেটওয়ার্কের জন্য একেবারে ছাদে এসে পা রেখে। তখনই কেউ একজন ছাদের মাঝখান থেকে চিৎকার করে ছুটে এসে ওকে জাপ্টে ধরে। ইহান বিশময় হতভম্ব হয়ে যায়।অন্ধকারে তার মুখটা স্পষ্ট দেখতে পারছে না বিশেষ করে সে একদম ইহানের বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কে এমন করে জড়িয়ে ধরতে পারে আর ছাদে বসে কি করছে একা একা? কান্না কন্ঠে মেয়েটা ভূত ভূত বলছে এবার কন্ঠটা চেনা চেনা লাগছে ইহানের।
মৃদু স্বরে বলে ওঠে ঊষা।
ঊষা আগন্তকের কন্ঠ শুনে বুঝতে পারে এ আর কেউ না। তার ইহান ভাইয়া যাকে সে জড়িয়ে ধরেছে ভয়ের চোটে। নিজের ভয়ে কান্না আস্তে আস্তে কমিয়ে ইহানকে ছেড়ে দাঁড়ায়। ইহান আবছা আলোয় দেখতে পায় ঊষার কান্নামাখা ভয়ার্ত মুখ। চোখে মুখে পানি লেপ্টে আছে। ভয়ে মেয়েটা এখনো প্রফ আছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে অন্ধকারে ভয় পায়
এবার ইহান রেগে উঠলো,,
ঊষা তুই একা ছাদে কি করছিস এখন?দেখে তো মনে হচ্ছে ছাদে এসেই ভয় পেয়েছিস তাহলে একা ছাদে কেন এসেছিস যেখানে ভয় পাস?
ইহান কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে ঊষার দিকে।
আমি ভাইয়ার রাগী কন্ঠ শুনে ভয় পেয়ে গেলাম। ঠোঁট চেপে ধরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছি। পারছিনা ফুপিয়ে যাচ্ছি। এবার ভাইয়া ধমকে উঠল আমার কান্না সাথে সাথে থেমে গেল।
আমি বললাম,,আমাকে তো চাচি আসতে বলল আপনারা সব ফ্রেন্ডরা নাকি ছাদে বসে গল্প করবেন। তাই আমি আপনাদের বসার জায়গা ঠিক করার জন্য এসেছি।
ইহান ভাইয়া আমার কথা শুনে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর আমাকে বলল,,
তাহলে কাউকে নিয়ে আসতি। তুই তো ভয় একদম জ্ঞান হারানোর অবস্থা হয়েছিস।
আমি বললাম, কাকে নিয়ে আসবে সবাই তো ব্যস্ত আমার একা আসতে হলো। কি করবো আমি অন্ধকারে খুব ভয় পাই তাই আপনাকে। আমি সরি।
ভয়ে মধ্যে লজ্জায় এসে জড়ো হলো আমার মধ্যে। ছিঃ ছিঃ ভাইয়া কি রকম ভাবে জড়িয়ে ধরেছিলাম
আমাকে কি ভাবছে আল্লাহ জানে?
ভাইয়া আচমকা ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে আমার মুখে ধরলো। আচমকা চোখের উপর লাইটের আলো পরতে আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম।
ইহান ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে ফোন ঊষার মুখের দিকে ধরে আছে।উসা ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে আছে নাক মুখ লাল করে ফেলেছে চোখ ফুলে ফুলে উঠেছে। ঊষার গোলাপী ঠোট ফর্সা মুখ গোল মুখের আকৃতি ঘন কালো চোখের পাপড়ি যা কাঁপছে। ইহানের চোখ হুট করে ঊষার গলায় গিয়ে পড়ল।সেদিকে তাকে ভয়ঙ্কর রকমের শক খেলো।ঊষর মাথা থেকে ওড়না পড়ে গেছে তাই ওর নরম বুকের উপর নেই একপাশে রাখা তাই গলায় একটা ছোট্ট কালো তিল ইহানে চোখে পড়ল। ইহান তাড়াতাড়ি সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে নিল সাথে নিজের ফোনের লাইট ও।
চোখের উপর থেকে আলো সরে যেতেই ঊষা পিটপিট করে তাকালো।
ইহান ভাইয়া এখন ওর দিকে তাকিয়ে নেই অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।
অন্যদিকে তাকিয়ে থেকে ইহান ভাইয়া বলল,
"চল আমি লাইট ধরছি তুই সব ঠিক কর।
কথাটা বলে ভাইয়া ছাদের মাঝামাঝিতে চলে গেল। আমি হতভম্ব হয়ে ভাইয়ার পেছনে পেছনে আসলাম।
সবকিছুর মাঝে ইহান নিজের ফোনটা রিসিভ করতে ভুলে গেছে। আর ও সাশ থেকেও ফোন দেওয়া অফ হয়ে গেছে।
কি হলো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তাড়াতাড়ি কর আমাকে নিচে যেতে হবে!
ইহান ভাইয়ার কথা শুনে তাড়াতাড়ি আমি নিচে বসে পরলাম।থাদের কোনা থেকে ঝাড়ু এনে আগে ঝাড়ু দিয়ে নিলাম । মাদুর ভালো করে ছাদে মেললাম একটা পারছিলাম না বলে ইহান ভাইয়া আমাকে সাহায্য করল।
চল আমার সাথে নিচের চল আবার আমাদের সাথে আসিস।
কথাটা বলেই ভাই আগে আগে পা ফেলতে লাগলো আমি পেছনে আসছি।
সিড়ির নিচে গিয়ে ভাইয়া দাঁড়িয়ে লাইট ধরল। আর আমাকে ঘড়ি হাতে রেখে বলল পায়ে কি হয়েছে?
আমি চমকে মাথা তুলে ভাইয়া দিকে তাকালাম।
ভাই আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।আমি কিছু বলছি না ওই ভাবেই একদম নিচে নেমে এলাম।তখনই হুট করে ভাইয়া লাইট আমার পায়ের দিকে ধরে দেখছিল কি যেন দেখে মাথা ঝুঁকিয়ে নিল ব্রু কুঁচকে।
আমি ভাইয়াকে মাথা ঝুঁকতে দেখে তাড়াতাড়ি সিড়ির উপরে উঠে দাঁড়ালাম হকচকিয়ে।
পায়ের এ অবস্থায় কিভাবে হল তোর?
আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছিনা আমতা আমতা করে বললাম, স্কুলে থেকে আসার সময় হোচট খেয়ে ব্যথা পেয়েছে।
ভাইয়া বলল,, হোঁচট খেলি কেন তুই কি হেঁটে আসিস নাকি? গাড়িতে আসলে হোঁচট খেলে কোথায় হাঁটার জায়গা তো শুধু বাসার গেট আর স্কুলের মাঠ!
আমি মাথা নিচু করে আছি আমি যে হেঁটে এসেছি সেটা বলতে পারছি না।
ভাইয়া কিছু না বলে আমাকে নিয়ে নিচে নেমে এলো। আমি নিচে আছি সবাই ছাদে চলে গেছে। তখনই ইমা আপু এসে আমাকে জোর করে ধরে ছাদে নিয়ে এলো।আমাকে খুরিয়ে হাঁটতে দেখেই বুঝতে পেরেছে আমি হেঁটে এসেছি স্কুল থেকে তার জন্য আমাকে বকলো
সাথে এটাও বলল টাকা না থাকলে আমার থেকে নিয়ে যেতি। আমি আপুর সাথে ছাদে এসে দাড়ালাম সবাই গোল হয়ে জড়ো হয়ে বসে আছে কি যেন বলে হাসাহাসি করছে ইহান ভাইয়া তাদের মাঝখানে আছে। অবসাদে আসতেই ইহান বয় ফ্রেন্ডের মধ্যে কে যেন আপুকে দেখতে আসলো তার উত্তরে হাসতে হাসতে তাদের পাশে গিয়ে বসল। আমি ছাদের দরজায় দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছি। খুশিতে আমার চোখ দুটো ঝলমল করছে। কত ফ্রেন্ড ভাইয়া আমারও যদি এতো ফ্রেন্ড থাকতো। আমার মনে আছে যখন আমি অনেক ছোট ছিলাম তখন আমার অনেক ফ্রেন্ড ছিল যখন আমি প্লে তে পড়তাম আম্মুর সাথে স্কুলে যেতাম। কত ফ্রেন্ড ছিল আমার সবাই কত ভালোবাসতো আমাকে। আর এখন আমার একটাও ফ্রেন্ড নেই
ক্লাসের কেউ আমাকে ফ্রেন্ড বানায় না। আজ আমার বাবা-মা বেঁচে থাকলে আমি এমন হাসিখুশি থাকতাম ইমা ইলা আপুর মত এতো কাজ করতে হয়তো না। অনেক ফ্রেন্ড থাকতো তাদের সাথে ঘুরতে যেতাম ্ফুচকা খেতাম তারপর আড্ডা দিতাম আব্বু আম্মুর সাথে টেবিলে বসে আমার ফেভারিট খাবার খেতাম। আম্মু আমাকে খাইয়ে দিত আমি আমার পছন্দের ড্রেস কেনার জন্য বড় বড় শপিং মলে যেতাম। বড় বড় রেস্টুরেন্টে আব্বু-আম্মুর সাথে খেতে যেতাম মাঝে মাঝে
সব সময় আনন্দে থাকতাম হই হুল্ল করতাম।আচমকা আমার চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ আমাকে সে গ্রাস করল। পৃথিবীতে কেন বেঁচে আছি আমাকে তো কেউ ভালোবাসে না
কেউ আমার জন্য ভাবে না কেউ আমার একটু যত্ন করে না।কেউ আমার দুঃখে দুঃখ পায়না। কেউ আমার আঘাতেই চোখের জল ফেলে না। কেউ আমার আনন্দে আনন্দিত হয় না। কেউ আমাকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসে না। যার আমাকে ভালবাসতে তারাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে তাহলে এই পৃথিবীতে আমি একা কেন আছি যার কেউ নেই ভালোবাসার মতো তার এই পৃথিবীতে থাকার ও বোধহয় অধিকার নেই। এমন কেউ কি আমার জীবনে আসবে না যে আমার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। যে আমার একটু চোখের জলে পাগলামো করবে। যে তার ভালোবাসা দিয়ে আমার জীবনের সমস্ত দুঃখ ভুলিয়ে সুখের সাম্রাজ্যে তৈরি করবে।
চোখ বেয়ে বৃষ্টির মত পানি পড়ছে এমন কেউ এমন কেউ কি কখনো আসবে না আমার জীবন কখনো না।
#চলবে..........