ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাগি বরের দুষ্টু বউ

২য় পর্ব

লেখক: মারিয়া নুসাইবা মৌ
রাগি বরের দুষ্টু বউ 
লেখিকা~মারিয়া নুসাইবা মৌ 
_________________★★______________
“হ্যালো, মিস্টার বরফ! বাসায় পৌঁছেছেন?” 😊
আয়ান বিরক্ত হয়ে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে দিল।
— “হোয়াট ইজ রং উইথ দিস গার্ল?”
ঠিক তখনই...
ঠক ঠক...
দরজা না খুলেই ভেতরে ঢুকে পড়ল একটা মেয়ে। চোখে দুষ্টু হাসি, হাতে আইসক্রিম। সে হলো—আদিবা খান, আয়ানের ছোট বোন আর রাফাতের জান।
— “ভাইয়া...”
— “কারো রুমে ঢোকার আগে নক করে ঢুকতে শেখ।”
আদিবা আইসক্রিম খেতে খেতে বলল,
— “আমি তো নক করেছিলাম, তুমি তো শুনতে পাওনি।”
— “কী চাই?”
আদিবা হঠাৎ ফোনটা তুলে নিল। স্ক্রিনে মেহুর মেসেজ দেখে তার চোখ বড় হয়ে গেল। এক ঝটকায় ফোনটা হাতে তুলে নিল।
— “ওহহহহ...!!”
আয়ান উঠে দাঁড়াল। রাগী কণ্ঠে বলল,
— “গিভ মি মাই ফোন!”
আদিবা দৌড়!
— “না! আগে বলো, ভাবি মেসেজ দিয়েছে?”
আয়ান তার পেছনে দৌড়ে বলল,
— “শি ইজ নট ইয়োর ভাবি!”
ঠিক তখনই করিডোরে এসে পড়ল রাফাত। দৃশ্যটা দেখে সে অবাক।
— “আরে! দোস্ত, তুই আমার বউয়ের... সরি, মানে তোর বোনের পেছনে কেন দৌড়াচ্ছিস?”
আদিবা রাফাতকে চোখ রাঙালো। তারপর হেসে বলল,
— “ভাইয়ার ফোনে ভাবির মেসেজ এসেছে!”
রাফাত দুই হাত তুলে চিৎকার করল,
— “আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে!”
আয়ান কপালে হাত দিল।
— “ইউ টু আর ড্রাইভিং মি ক্রেজি!”
রাফাত হাসতে হাসতে বলল,
— “ইংলিশ লেভেল আপ, ব্রিটিশ সাহেব!”
ঠিক তখনই নিচতলা থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল— “এত চিৎকার কিসের?”
সবাই একসাথে নিচে তাকাল। সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে আছেন হাজী আবদুল করিম খান, আয়ানের দাদু। সাদা পাঞ্জাবি, চোখে চশমা, মুখে দুষ্টু হাসি। এক কথায়, রাফাতের আইডল বলা যায়।
দাদু ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলেন।
— “আয়ান, দাদু ভাই, কী হয়েছে?”
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— “দাদু, দোস্ত প্রেমে পড়েছে।”
আয়ান চিৎকার করে উঠল,
— “রাফাত!”
দাদু মুচকি হেসে বললেন,
— “তাই নাকি?”
আদিবা মাথা নেড়ে বলল,
— “হ্যাঁ দাদু, ভাবি মেসেজও দিয়েছে।”
দাদু হেসে আয়ানের কাঁধে হাত রাখলেন।
— “নাতি... লজ্জা পাস কেন?”
— “দাদু... প্লিজ!”
— “আমি তো শুধু বিয়ের দাওয়াতের অপেক্ষায় আছি।”
রাফাত আর আদিবা একসাথে হাই-ফাইভ করল।
এদিকে...
মেহু নিজের রুমে বিছানায় শুয়ে আছে। তিথি ফোন করে বলল,
— “কী রে, মেসেজ দিয়েছিলি?”
মেহু দুষ্টু হেসে বলল,
— “হ্যাঁ।”
— “রিপ্লাই দিয়েছে?”
— “দিয়েছে। শুধু লিখেছে—‘হু ইজ দিস?’”
মেহু হেসে বলল,
— “মিস্টার বরফকে একটু গলাতে হবে।”
তিথি হেসে বলল,
— “সাবধানে! বেশি গলাতে গিয়ে আবার কিন্তু প্রেমে পড়ে যাস না, বান্ধবী।”
মেহু বালিশ জড়িয়ে ধরে বলল,
— “অসম্ভব! ওই রাগী মানুষটা আর প্রেম?”
রাত ১১টা। আয়ান বিছানায় শুয়ে আছে, হাতে ফোন। সে দশ মিনিট ধরে একই কাজ করছে... ফোন একবার লক করছে, আবার আনলক করছে, আবার লক করছে।
ঠিক তখনই দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল রাফাত।
সে আস্তে করে আদিবাকে ডাকল।
— “এই আদু পাখি... দেখো তোমার হিটলার ভাইয়ের অবস্থা!”
আদিবা উঁকি দিয়ে দেখে হেসে ফেলল।
— “ভাইয়া তো মনে হচ্ছে ফোনের প্রেমে পড়ে গেছে!”
রাফাত ফিসফিস করে বলল,
— “ফোনের না... ফোনের ওপাশের মানুষের।”
দুজনেই মুখ চেপে হাসতে লাগল।
হঠাৎ...
টিং!
মেহুর নতুন মেসেজ।
“মিস্টার ডিপ ফ্রিজ, ঘুমিয়ে পড়েছেন নাকি? 😒”
আয়ান রিপ্লাই দিল—
“নো।”
দুই সেকেন্ড পর...
“শুধু ‘নো’? এত কিপটা রিপ্লাই কেন?”
আয়ান টাইপ করল—
“হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট?”
মেহু সঙ্গে সঙ্গে লিখল—
“আপনি কি সব সময় এত রাগী?”
“ইয়েস।”
“ও আচ্ছা... বুঝলাম। একটু হাসুন তো, মিস্টার ডিপ ফ্রিজ?”
আয়ান ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। মুচকি হেসে তারপর লিখল—
“স্টপ কলিং মি মিস্টার ডিপ ফ্রিজ।”
মেহুর রিপ্লাই আসতে এক সেকেন্ডও লাগল না।
“ওকে... তাহলে ফ্রিজ ভাই?” 🤭
আয়ান দাঁত চেপে টাইপ করল—
“নো!”
“আচ্ছা... ফ্রিজ সাহেব?”
“নো!”
“উফ! তাহলে কী বলে ডাকব?”
আয়ান কয়েক সেকেন্ড ভেবে লিখল—
“আয়ান।”
মেহু ফোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ফেলল।
“ওকে... আয়ান। 😊”
অজান্তেই আয়ানের মুখেও হালকা হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই...
রাফাত আর আদিবা চুপিচুপি রুমে ঢুকল।
রাফাত ফিসফিস করে বলল,
— “অপারেশন ফোন শুরু!”
আদিবা হাসি চেপে মাথা নাড়ল। আয়ান মেসেজে এতটাই ব্যস্ত যে কিছুই টের পেল না।
হঠাৎ...
রাফাত দৌড়ে এসে ফোনটা কেড়ে নিল।
দৌড়াতে দৌড়াতে বলল,
— “ধরতে পারলে ধর!”
— “রাফাত!”
আয়ান লাফ দিয়ে উঠল। আদিবা হাসতে হাসতে দরজা খুলে দিল। রাফাত পুরো বাড়ি জুড়ে দৌড়াচ্ছে, আয়ান তার পেছনে দৌড়াচ্ছে, আর তার পেছনে আদিবা।
দাদু নিচে বসে খবর দেখছিলেন। হঠাৎ দেখলেন—
সামনে দিয়ে রাফাত দৌড়ে যাচ্ছে, পেছনে আয়ান, আর তার পেছনে আদিবা।
দাদু চশমা খুলে বললেন,
— “এটা বাড়ি নাকি অলিম্পিক?”
রাফাত দৌড়াতে দৌড়াতে বলল,
— “দাদু! দোস্ত প্রেমে পড়েছে, এটা আমাদের থেকে লুকাচ্ছে!”
দাদু হেসে বললেন,
— “ফোনটা আমাকে দে... আমি একটু দেখি, আমার নাতবউ কী লিখেছে।”
আয়ান থমকে গিয়ে বলল,
— “দাদু, প্লিজ!!”
সবাই হেসে উঠল।
শেষ পর্যন্ত ফোনটা ফেরত পেল আয়ান। সে হাঁপাতে হাঁপাতে সোফায় বসে পড়ল।
রাফাত গম্ভীর মুখ করে বলল,
— “দোস্ত, একটা কথা বলব?”
— “না।”
— “তাও বলবো... মেহু যদি শেষ পর্যন্ত তোকেই বিয়ে করে..."
— "তারপর?"
— "তাহলে কিন্তু আমি আর তোর পক্ষে নেই, আমি একদম সোজাসুজি ওর টিমে নাম লেখাব।"
​আদিবা সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে বলে উঠল,
— "আমিও ভাবির টিমে!"
​দাদু হাসতে হাসতে যোগ করলেন,
— "আর আমিও।"
আয়ান হতভম্ব হয়ে তিনজনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
— "সিরিয়াসলি আমার নিজের বাড়িতে আমার নিজের কোনো টিম নেই?"
​রাফাত খুব দরদের সাথে আয়ানের কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনার সুরে বলল,— "আরে দোস্ত, আছে তো..."
আয়ানের মুখে একটু আশার হাসি ফুটল। রাফাত বাকি অংশটুকু শেষ করল— "তুই একা একাই তোর নিজের টিমে আছিস!"​পুরো বাড়িটা তখন উপচে পড়া হাসিতে ফেটে পড়ল আয়ান অসহায় মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল।
— "আই নিড নিউ ফ্যামিলি"
​দাদু হেসে বললেন,
— "না রে নাতি... তোর নতুন কোনো ফ্যামিলি দরকার নেই, তোর দরকার শুধু একটা নতুন বউ!"
​দাদুর কথা শুনে খান ভিলাজুড়ে আবারও হাসির রোল পড়ে গেল।
‎______★★★★_______
পরদিন সকাল। খান ভিলা। ডাইনিং টেবিলে বসে নাস্তা করছে পুরো পরিবার। দাদু পত্রিকা পড়ছেন, আদিবা ফোনে রিল দেখছে, রাফাত আজও সকাল সকাল হাজির, আর আয়ান কফির মগ হাতে শান্তভাবে বসে আছে।
হঠাৎ...
আয়ানের মা বললেন,
— “আজ দুপুরে সবাই বাসায় থাকবে।”
আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— “হোয়াই?”
— “মেহু আর ওর পরিবার আসবে।”
কাশ! কাশ!
আয়ানের কফি গলায় আটকে গেল।
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে তার পিঠ চাপড়ে বলল,
— “দোস্ত... এত এক্সাইটেড হওয়ার কী আছে?”
আয়ান রাগী চোখে তাকাল।
— “আই অ্যাম নট এক্সাইটেড!”
রাফাত মুখ টিপে হাসল।
— “হ্যাঁ, তোর কফিটাও তাই বলছে।”
আয়ান মনে মনে বিরবির করে বলল,
— “আবার ওই বাঁদর মেয়েটার মুখোমুখি হতে হবে।”
দাদু হেসে উঠলেন।
— “রাফাত, আজ মেহু এলে আয়ানকে একটু কম খেপাস।”
রাফাত নিরীহ মুখে বলল,
— “দাদু, আমি তো খুব শান্ত ছেলে।”
আদিবা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— “মিথ্যা বললে কিন্তু গুনাহ হয়।”পুরো টেবিল হেসে উঠল,,,,
_________★★★_________
দুপুর ১টা। মেহুদের গাড়ি এসে থামল খান ভিলার সামনে। গেট দিয়ে ঢুকতেই মেহু অবাক হয়ে বলল,
— “উফ! এত বড় বাড়িতে হারিয়ে গেলে খুঁজে পেতে তিন দিন লাগবে!”
নিহাল বলল,
— “আপু, তাড়াতাড়ি ভেতরে চল, খিদে পেয়েছে। আগে বিরিয়ানি খুঁজি।”
মেহু তার মাথায় আলতো টোকা দিল।
— “তোর মাথায় শুধু খাওয়া!”
ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই আদিবা দৌড়ে এসে মেহুর হাত ধরে ফেলল।
— “তুমি মেহু?”
মেহু হেসে বলল,
— “হ্যাঁ।”
— “আমি আদিবা... আয়ান ভাইয়ার ছোট বোন।”
মেহু মিষ্টি করে হাসল।
— “তুমি তো খুব কিউট!”
আদিবা ফিসফিস করে বলল,
— “আমি কিন্তু তোমার টিমে।”
মেহু অবাক হয়ে বলল,
— “কেন?”
— “কারণ ভাইয়াকে একটু জ্বালানো খুব দরকার!”
দুজনেই হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই...
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে আয়ান। পরনে কালো টি-শার্ট, নীল জিন্স। চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা। মেহু একবার তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিল। আয়ানও শুধু একবার তাকাল। তারপর গম্ভীর মুখে বলল,
— “হ্যালো।”
মেহু মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— “এই যে... মিস্টার বরফ!”
রাফাত পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। সে এত জোরে হেসে উঠল যে হাতে থাকা জুস প্রায় পড়েই যাচ্ছিল।
আয়ান নিচু গলায় বলল,
— “ডোন্ট স্টার্ট...”
মেহু নিরীহ মুখ করে বলল,
— “আমি কী করলাম?”
দাদু হেঁটে এসে মেহুর পাশে দাঁড়ালেন।
— “মা, তুমি কি দাবা খেলতে পারো?”
মেহু হেসে বলল,
— “পারি, একটু একটু।”
দাদু খুশি হয়ে বললেন,
— “চলো, আমার সঙ্গে খেলবে।”
রাফাত নিচু গলায় আয়ানকে বলল,
— “দোস্ত... গেছিস!”
— “কেন?”
— “দাদু যার সঙ্গে দাবা খেলেন, তাকে খুব পছন্দ করেন।”
আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
— “সো?”
— “সো... এখন থেকে দাদুও ভাবির টিমে!”
মেহু আর দাদু দাবা খেলতে বসে গেল।
পাঁচ মিনিট পর...
দাদু নিজের মাথায় হাত দিয়ে বললেন,
— “আরে! আমি তো হেরে গেলাম!”
মেহু দুষ্টু হেসে বলল,
— “দাদু... আমি কিন্তু ছোটবেলা থেকেই দাবা খেলি।”
দাদু হো হো করে হেসে উঠলেন।
— “বাহ! আজ থেকে তুমি আমার অফিসিয়াল পার্টনার।”
আদিবা হাততালি দিল। রাফাতও বলল,
— “কনগ্র্যাচুলেশন, ভাবি!”
মেহু লজ্জা পেয়ে বলল,
— “আরে না না...”
আয়ান কপালে হাত রেখে বিড়বিড় করল,
— “হোয়াট আ ফ্যামিলি...”
ঠিক তখনই...
মেহু দুষ্টুমি করে বলল,
— “মিস্টার বরফ, আপনি কি দাবা খেলতে পারেন?”
আয়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
— “অবশ্যই।”
— “তাহলে একটা ম্যাচ হবে?”
আয়ানের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।
— “চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্টেড।”
রাফাত দুই হাত ঘষে বলল,
— “এই তো! এবার আসল খেলা শুরু!”
ড্রয়িংরুমের মাঝখানে দাবার বোর্ড সাজানো হলো। একপাশে আয়ান, অন্যপাশে মেহু। চারপাশে দাদু, আদিবা, রাফাত আর বাড়ির সবাই দাঁড়িয়ে। রাফাত দুই হাত কোমরে দিয়ে বলল,
— “লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান... আজকের ঐতিহাসিক ম্যাচে আপনাদের স্বাগতম!”
আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “রাফাত...”
— “জি, কমেন্টেটর রেডি!”
আদিবা হেসে ফেলল। দাদু বললেন,
— “খেলা শুরু করো।”
মেহু প্রথম চাল দিল। আয়ান শান্তভাবে পরের চাল দিল। দুজনেই একদম মনোযোগী।
হঠাৎ...
মেহু বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “এক মিনিট!”
আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
— “নাও হোয়াট?”
মেহু বলল,
— “ওহ! একটা মশা!”
আয়ান স্বাভাবিকভাবেই এক সেকেন্ডের জন্য মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। ঠিক সেই সুযোগে...
টুপ!
মেহু নিজের একটা গুটি এক ঘর এগিয়ে দিল।
সবকিছু দেখছিল আদিবা। সে মুখ চেপে হাসছে। রাফাতও দেখেছে, কিন্তু দুজনেই চুপ।
কিছুক্ষণ পর...
আয়ান বোর্ডের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “ওয়েট...”
মেহু একদম নিরীহ মুখে বলল,
— “কী হয়েছে?”
— “এই গুটিটা এখানে ছিল?”
মেহু চোখ বড় বড় করে বলল,
— “আপনি কি আমাকে চিটার বলছেন?”
রাফাত মুখ ঘুরিয়ে হাসছে। দাদুও হাসি চেপে রেখেছেন।
আয়ান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বলল,
— “আই থিংক...”
মেহু সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— “থিংক না করে খেলুন।”
আর পাঁচ মিনিট পর...
আয়ান বুঝে গেল। মেহু আসলেই চিটিং করছে। সে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি এনে বলল,
— “সো... ইউ আর চিটিং?”
মেহু গম্ভীর মুখ করে বলল,
— “এটাকে বলে স্মার্ট মুভ।”
রাফাত হাততালি দিয়ে উঠল।
— “ভাবি, আপনাকে সালাম!”
আয়ান মাথা নেড়ে বলল,
— “ইউ আর ইম্পসিবল।”
মেহু হেসে বলল,
— “ধন্যবাদ!”
ঠিক তখনই বাড়ির কাজের আন্টি ট্রেতে করে চা নিয়ে এলেন। সবাই চা নিতে ব্যস্ত। মেহু কাপ তুলতেই... তার হাত থেকে কাপটা হালকা কাত হয়ে গেল। চা পড়ে যাওয়ার আগেই আয়ান দ্রুত হাত বাড়িয়ে কাপটা ধরে ফেলল। এক ফোঁটাও পড়ল না। দুজনের চোখ আবার এক মুহূর্তের জন্য মিলল।
মেহু আস্তে করে বলল,
— “থ্যাঙ্ক ইউ...”
আয়ান ছোট্ট করে মাথা নাড়ল।
— “ইটস ওকে।”
রাফাত নিচু গলায় আদিবাকে বলল,
— “দেখেছো?”
আদিবা দুষ্টু হেসে বলল,
— “হুম... ভাইয়া প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে, আর ভাবিকে বিয়ে করবে না বলে ও কেয়ার করছে!”
দাদু সব শুনে মুচকি হেসে চায়ে চুমুক দিলেন। মনে মনে বললেন,
“ঝগড়া যত বেশি... ভালোবাসাও তত গভীর হবে।”
ঠিক তখনই...
মেহু আবার বলল,
— “মিস্টার বরফ...”
আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— “নাও হোয়াট?”
মেহু মুচকি হেসে বলল,
— “দাবায় আমি জিতেছি।”
আয়ান বোর্ডের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।
— “নো... তুমি জেতোনি।”
— “কেন?”
— “কারণ তুমি দুইবার চিটিং করেছো।”
মেহু জিভ বের করে বলল,
— “প্রমাণ আছে?”
আয়ান কিছু বলার আগেই...
রাফাত হাত তুলে বলল,
— “আমি সাক্ষী!”
আদিবা বলল,
— “আমিও!”
মেহু দুহাত কোমরে রেখে বলল,
— “তোমরা সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করছ!”
পুরো ঘর আবারও হাসিতে ভরে উঠল।
দাবা খেলা শেষ হতেই দাদু হঠাৎ বললেন,
— “আজ একটা প্রতিযোগিতা হবে!”
সবাই অবাক হয়ে দাদুর দিকে তাকাল। আদিবা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “কী প্রতিযোগিতা, দাদু?”
দাদু রহস্যময় হাসি দিয়ে বললেন,
— “মেহু আজ আমাদের জন্য একটা খাবার বানাবে।”
মেহু চোখ বড় বড় করে বলল,
— “আমি?”
— “হ্যাঁ, তুমি। দেখি আমাদের ভবিষ্যৎ আয়ানের উহুম... কেমন রান্না করে।”
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলল।
— “দাদু, আমি অফিসিয়াল টেস্টার!”
আয়ান বিড়বিড় করে বলল,
— “তোকে বিষ টেস্ট করতে দিলেও তাও খেয়ে ফেলবি।”
রাফাত গম্ভীর মুখে বলল,
— “না দোস্ত, এসব কী কথা! আমি বিষ খেলে তো মরে যাব। আর আমি মরে গেলে তোর বোনের কী হ... না, মানে বলতে চাচ্ছি, এখনো বিয়েই করলাম না, এখনই মরতে চাই না। তাই না, আদু? তবে বিয়ের পরে বউ বিষ দিলেও খেয়ে নেব!”
আদিবা কটমট করে তাকাল রাফাতের দিকে।
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
মেহু রান্নাঘরে ঢুকল। তার পেছন পেছন আদিবা। দুজনের খুনসুটি শুরু হলো। আদিবা ফিসফিস করে বলল,
— “ভাবি...”
মেহু সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— “আবার ভাবি?”
— “ঠিক আছে, মেহু আপু।”
দুজনেই হেসে ফেলল।
এদিকে ড্রয়িংরুমে... রাফাত সোফায় পা তুলে বসে আছে। সে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “দোস্ত, যদি খাবার ভালো হয়?”
— “সো?”
— “তাহলে বিয়ে করে ফেল।”
— “আর যদি খারাপ হয়?”
— “তবুও বিয়ে করে ফেল। বাইরে থেকে খাবার অর্ডার দিয়ে খাবি।”
দাদু এত জোরে হেসে উঠলেন যে চশমা খুলে ফেলতে হলো।
আধা ঘণ্টা পর... মেহু ট্রেতে করে নুডলস নিয়ে এল। সুন্দর করে সাজানো। রাফাতের চোখ চকচক করে উঠল।
— “বিসমিল্লাহ!”
বলেই এক চামচ মুখে দিল।
দুই সেকেন্ড...
তিন সেকেন্ড...
হঠাৎ সে কাশতে শুরু করল।
— “কাশ! কাশ!”
আদিবা ভয় পেয়ে বলল,
— “কী হয়েছে?”
রাফাত পানি খেয়ে বলল,
— “নুডলসে...!”
সবাই তাকিয়ে আছে।
সে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
— “এত মরিচ দিয়েছে যে আমার পূর্বপুরুষরাও এখন ঝাল অনুভব করছে!”
পুরো ঘর হেসে উঠল।
মেহু লজ্জা পেয়ে বলল,
— “আরে... ভুলে একটু বেশি হয়ে গেছে।”
রাফাত বলল,
— “একটু?”
আয়ান চুপচাপ এক চামচ খেল।
মেহু আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “কেমন?”
আয়ান একদম শান্ত মুখে বলল,
— “নট ব্যাড।”
রাফাত অবাক হয়ে বলল,
— “দোস্ত! তোর জিহ্বা আছে, না গেছে?”
আয়ান কাঁধ ঝাঁকাল।
— “খাওয়া যায়।”
মেহু অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
মনে মনে ভাবল,
“এই মানুষটা এত রাগী হলেও... কাউকে ছোট করে কথা বলে না।”
ঠিক তখনই...
আদিবা দুষ্টুমি করে বলল,
— “ভাইয়া, মেহু আপুর হাতের রান্না তো খেয়ে ফেললে!”
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,
— “তার মানে প্রতিদিন খেতে চাইছিস?”
আয়ান চোখ রাঙিয়ে বলল,
— “স্টপ ইট!”
রাফাত মুখ টিপে হেসে বলল,
— “দেখেছো? আমি কিছু বললেই ধমক দেয়!”
আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আর মেহু... সে চুপিচুপি আয়ানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ফেলল। আয়ান সেটা দেখল... কিন্তু কিছু বলল না। শুধু অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণেও ক্ষীণ একটা হাসি ফুটে উঠল...
__★★★
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। মেহুদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে গেছে। সবাই একে একে বিদায় নিচ্ছে।
দাদু মেহুর মাথায় হাত রেখে বললেন,
— “আবার আসবে কিন্তু, দাদু ভাই।”
মেহু মিষ্টি হেসে বলল,
— “অবশ্যই আসব, দাদু।”
আদিবা মুখ ফুলিয়ে বলল,
— “আপু, আগামী সপ্তাহেই আসবে কিন্তু!”
— “আচ্ছা, আসব।”
রাফাত নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
— “আর আসার আগে ভালো ভালো রান্নার রেসিপি শিখে আসবেন।”
মেহু ভ্রু তুলে বলল,
— “কেন?”
— “আপনি এসে রান্না করে দিবেন, আর আমি খেয়ে প্রশংসা করব।”
সবাই হেসে উঠল।
গেটের সামনে... আয়ান দাঁড়িয়ে আছে।
মেহু গাড়িতে ওঠার আগে তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— “বাই, মিস্টার বরফ।”
আয়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
— “বাই...”
মেহু গাড়িতে উঠে চলে গেল। আয়ানও ভেতরে ঢুকে পড়ল।
কিন্তু... কেউই খেয়াল করল না—দুজনের ফোন একই রকম কালো কভারে ছিল। বিদায়ের তাড়াহুড়োতে... মেহু নিয়ে গেছে আয়ানের ফোন আর... আয়ানের হাতে এখন মেহুর ফোন!
আধা ঘণ্টা পর...
মেহু নিজের রুমে ঢুকে ফোন আনলক করতে গিয়ে থমকে গেল। ওয়ালপেপারে নিজের ছবি নেই, বরং একটা কালো গাড়ির ছবি।
মেহু চোখ বড় বড় করে বলল,
— “আরে... এটা তো আমার ফোন না!”
ঠিক একই সময়ে...
আয়ানও ফোন আনলক করতে গিয়ে অবাক। স্ক্রিনে গোলাপি রঙের ফুলের ওয়ালপেপার।
আয়ান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। তারপর কপালে হাত দিয়ে বলল,
— “ওহ নো...”
ঠিক তখনই রাফাত রুমে ঢুকল।
— “দোস্ত, কী করছিস?”
আয়ান ফোনটা দেখিয়ে বলল,
— “রং ফোন।”
রাফাত ফোনটা হাতে নিয়ে বলল,
— “ওহহ! এটা কার ফোন? ভাবির ফোন নাকি!”
— “রাফাত... গিভ ইট ব্যাক।”
রাফাত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
— “পাসওয়ার্ড দে দেখি।”
— “আমি জানি না।”
— “আরে! এখনো জানিস না? বিয়ের পর জেনে যাবি।”
আয়ান একটা বালিশ ছুড়ে মারল।
রাফাত হেসে সেটা ধরে ফেলল।
এদিকে...
মেহুও আয়ানের ফোন হাতে নিয়ে বসে আছে। ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল—“রাফাত বানর কলিং...”
মেহু পড়েই হেসে ফেলল।
— “বানর?”
সে কল রিসিভ করল।
ওপাশ থেকে রাফাত বলল,
— “কে বলছেন?”
মেহু গলা বদলে বলল,
— “জি, আমি ভাবি বলছি।”
দুই সেকেন্ড নীরবতা...
তারপর—
— “ইয়া আল্লাহ! ভাবি, আপনি!!”
মেহু আর হাসি থামাতে পারল না।
— “রাফাত ভাই, আপনার দোস্তের ফোন আমার কাছে।”
ওপাশে রাফাত চিৎকার করে উঠল—
— “দোস্ত! শেষ! ভাবি এখন থেকেই তোর ফোন দখল করে ফেলেছে!”
আয়ান ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলল,
— “মেহু?”
— “জ্বি, মিস্টার বরফ।”
— “আই থিংক... আমাদের ফোন এক্সচেঞ্জ হয়েছে।”
— “হুম... আমারও তাই তো মনে হচ্ছে।”
— “আগামীকাল আমি এসে নিয়ে যাব।”
মেহু দুষ্টু হেসে বলল,
— “আচ্ছা... কিন্তু একটা শর্ত আছে।”
— “হোয়াট?”
— “আগামীকাল আপনাকে একবার হাসতে হবে।”
আয়ান চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
রাফাত পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল,
— “হাস দোস্ত, হাস... ফোনটা তো ফেরত পেতে হবে, না কি!”
আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
— “ওকে... দেখা যাবে।”
— “প্রমিস?”
— “...প্রমিস।”
মেহু খুশি হয়ে বলল,
— “গুড নাইট, মিস্টার বরফ।”
— “গুড নাইট...”
কল কেটে গেল।
রাফাত আয়ানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
— “দোস্ত...”
— “কী?”
— “তুই কিন্তু ‘গুড নাইট’ বলেছিস!”
আয়ান থমকে গেল। সে বুঝতেই পারেনি... প্রথমবারের মতো...মেহুর সঙ্গে কথা বলে তার একটুও বিরক্ত লাগেনি।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন