_________★★★_______
মলের পার্কিং এরিয়া। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। চারদিকে গাড়ির আসা-যাওয়া। সবাই শপিং ব্যাগ হাতে বের হচ্ছে। রাফাতের দুই হাত ভর্তি ব্যাগ। সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, — "দাদু... আমি শপিং করতে আসিনি... কুলি হতে এসেছি!" দাদু গম্ভীর মুখে বললেন, — "না, কুলি না।" রাফাত চোখ চকচক করে বলল, — "তাহলে?" — "ফ্রি শ্রমিক!" পুরো পরিবার হেসে উঠল। নিহাল পাশে এসে বলল, — "রাফাত ভাইয়া, একটা ব্যাগ আমি নিই?" রাফাত সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ নিজের বুকে জড়িয়ে ধরল। — "না!" — "কেন?" — "এটার মধ্যে চকলেট আছে।" — "আমি খাব না।" — "তোর মুখ দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না।" মেহু হেসে বলল, — "ওকে দিন না!" — "ভাবি, আপনি চুপ থাকেন। আপনি তো ওর থেকেও বড় চকলেট চোর।" মেহু ভ্রু কুঁচকে বলল, — "কী বললেন?" — "আমি সত্যি বলি।" — "আপনাকে বাসায় গিয়ে দেখে নিচ্ছি।" রাফাত সঙ্গে সঙ্গে দাদুর পেছনে লুকিয়ে পড়ল। — "দাদু! ভাবি হুমকি দিচ্ছে!" দাদু নাটকীয় গলায় বললেন, — "আমি বৃদ্ধ মানুষ... আমাকে ঢাল বানাস না!" সবাই আবার হেসে উঠল। হাঁটতে হাঁটতে রাফাত হঠাৎ নিহালের ক্যাপ খুলে নিয়ে দৌড় দিল। — "ধরতে পারলে ফেরত পাবি!" নিহাল চিৎকার করে দৌড় দিল। — "এইইই! মেহু, ওকে ধর!" মেহু হাততালি দিয়ে বলল, — "রাফাত ভাইয়া! আজকে আপনাকে আমি ছাড়ব না!" বলেই সেও দৌড় দিল। রাফাত পিছন ফিরে হেসে বলল, — "আগে ধরেন ভাবি!" — "আজকে ধরেই ছাড়ব!" আদিবা চিৎকার করল, — "ভাবি! ধরো!" রাফাত জিভ বের করে বলল, — "ধরতে পারলে আইসক্রিম খাওয়াব!" মেহু আরও জোরে দৌড়াতে লাগল। সে দৌড়াতে দৌড়াতে বারবার পেছনে তাকিয়ে রাফাতকে দেখছে। হাসতে হাসতে বলল, — "আজকে আপনি শেষ!" আয়ান কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। সে বিরক্ত মুখে বিড়বিড় করল, — "একদম বাচ্চা..." ঠিক তখনই... পার্কিংয়ের ভেতর দিয়ে একটা সাদা গাড়ি ধীরে ধীরে মোড় নিয়ে সামনে এগিয়ে এল। ড্রাইভার হর্ন দিল। পিপ... পিপ... কিন্তু মেহুর কানে কিছুই গেল না। সে এখনও হাসতে হাসতে রাফাতের দিকেই তাকিয়ে দৌড়াচ্ছে। আয়ানের চোখ হঠাৎ বড় হয়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য তার মাথায় আর কিছু কাজ করল না। সে জোরে চিৎকার করে উঠল— — "মেহু!!" মেহু শুধু মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। আর ঠিক তখনই... আয়ান বিদ্যুৎগতিতে দৌড়ে এল। কোনো কিছু না ভেবেই মেহুর হাত শক্ত করে ধরে নিজের দিকে হেঁচকা টান দিল। মুহূর্তের মধ্যে... মেহু এসে সোজা আয়ানের বুকের সঙ্গে লেগে গেল। আয়ানের দুই হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেহুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ঠিক সেই সময়... গাড়িটা তাদের একেবারে সামনে দিয়ে চলে গেল। চারপাশ নিস্তব্ধ। মেহুর মুখ আয়ানের বুকে। সে ভয়ে স্থির হয়ে আছে। আয়ানের বুক দ্রুত উঠানামা করছে। তার হাত দুটো এখনও মেহুকে ছাড়েনি। কয়েক সেকেন্ড... কেউ কোনো কথা বলল না। আয়ান কাঁপা গলায় বলল, — "মেহু... আর ইউ ওকে...?" মেহু ধীরে ধীরে মাথা তুলল। তার চোখে এখনও ভয়ের ছাপ। — "আমি..." আয়ান আবার বলল, — "লুক অ্যাট মি..." মেহু তাকাতেই আয়ান তাড়াতাড়ি ওর মুখ, কাঁধ, হাত একবার দেখে নিল। — "কোথাও লেগেছে...? টেল মি!" মেহু মাথা নেড়ে আস্তে বলল, — "না..." আয়ান গভীর একটা শ্বাস ফেলল। মনে হলো এতক্ষণ সে নিঃশ্বাসই নেয়নি। ঠিক তখনই... রাফাত, দাদু, আদিবা আর বাকিরা দৌড়ে এসে পৌঁছাল। রাফাতের মুখে এবার কোনো হাসি নেই। — "ভাবি! আপনি ঠিক আছেন তো?" মেহু শুধু মাথা নাড়ল। দাদু আলহামদুলিল্লাহ বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। কয়েক মুহূর্ত পরে... আয়ান বুঝতে পারল সে এখনও মেহুকে জড়িয়ে ধরে আছে। সে ধীরে ধীরে হাত ছেড়ে দিল। আবার নিজের স্বাভাবিক গম্ভীর মুখটা ফিরিয়ে আনল। তারপর একটু রাগ মেশানো গলায় বলল, — "হোয়াটস রং উইথ ইউ? সামনে না দেখে কেউ এভাবে দৌড়ায়? ডোন্ট এভার ডু দিস এগেইন!" মেহু এবারও কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু চুপচাপ আয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। এই প্রথম... সে আয়ানের চোখে রাগের চেয়ে ভয় বেশি দেখল। আর আয়ান নিজের মনেই অবাক হয়ে ভাবল— "আমি... এতটা ভয় পেলাম কেন?" "ওর কিছু হয়ে গেলে...?" প্রশ্নটা মাথায় আসতেই সে নিজেই চোখ ফিরিয়ে নিল। রাফাত দাদুর কানে খুব আস্তে বলল, — "দাদু..." দাদু মুচকি হেসে তাকালেন। — "হুম?" — "আমার মনে হয়... বরফে ছোট্ট একটা ফাটল না... আজকে পুরো চিড় ধরেছে।" দাদু ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বললেন, — "চুপ... এখনও ও নিজেও সেটা বুঝতে পারেনি।" পার্কিংয়ের পরিবেশটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য একদম নিশ্চুপ। মেহু এখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে। তার বুকটা ধড়ফড় করছে। আয়ানও কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হঠাৎ নিজের হাতটা সরিয়ে নিল। মুখটা আবার আগের মতো শক্ত হয়ে গেল। কঠিন গলায় বলল, — "হোয়াট ওয়্যার ইউ ডুইং? সামনে না দেখে কেউ এভাবে দৌড়ায়?" মেহু এবার একটু রেগেই বলল, — "আমি কি ইচ্ছে করে করেছি?" — "নো! বাট ইউ ওয়্যার কেয়ারলেস!" — "আচ্ছা! এখন সব দোষ আমার?" — "হ্যাঁ, তোমার!" — "আপনি তো আবার শুরু করলেন!" — "স্টপ আর্গুইং!" — "আমি তর্ক করছি?" — "ইয়েস!" — "আমি তো শুধু—" — "ইনাফ!" মেহুও রেগে গেল। — "আপনি সব সময় এত চিৎকার করেন কেন?" — "কারণ তুমি কথা শোনো না!" — "আমি শুনি না?" — "একদম না!" রাফাত দু'হাত কোমরে দিয়ে বলল, — "দাদু..." — "কী?" — "আমি পাঁচ সেকেন্ড আগে ভাবছিলাম রোমান্টিক সিন চলছে।" দাদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, — "আমিও।" রাফাত মাথা নেড়ে বলল, — "এরা তো পাঁচ মিনিটও প্রেম করতে পারে না!" পুরো পরিবার হেসে উঠল। মেহু রাফাতের দিকে তাকিয়ে বলল, — "আপনি চুপ করবেন?" রাফাত সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে ধরল। — "দাদু! ভাবিও এখন দোস্তের মতো ধমক দিচ্ছে!" দাদু হেসে বললেন, — "বিয়ের আগেই প্র্যাকটিস শুরু।" আদিবা মুখ চেপে হাসছে। দাদু সব বুঝেও কিছু বললেন না। শুধু মুচকি হেসে আয়ানের কাঁধে হাত রাখলেন। — "চলো, বাড়ি যাই।" সবাই গাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল। মেহু ইচ্ছে করেই আয়ানের পাশে গিয়ে হাঁটল। কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর খুব আস্তে বলল, — "এই যে..." আয়ান তাকাল না। — "হোয়াট?" মেহু হেসে ফেলল। — "আজকে আমাকে বাঁচিয়েছেন..." — "সো?" — "থ্যাংক ইউ।" আয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল। তারপর একদম শান্ত গলায় বলল, — "নেক্সট টাইম... কেয়ারফুল।" মেহু ভ্রু নাচিয়ে বলল, — "ওহ! মিস্টার ডিপ ফ্রিজের মুখে চিন্তা!" আয়ান সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেল। — "ডোন্ট স্টার্ট এগেইন।" মেহু হেসে বলল, — "শুরু তো করবই।" — "ননসেন্স!" — "ডিপ ফ্রিজ!" — "আইডিয়ট!" — "রাগী সাহেব!" — "অ্যানয়িং গার্ল!" রাফাত হাততালি দিয়ে লাফিয়ে উঠল। — "ইয়েস! আমার প্রিয় ঝগড়া ফিরে এসেছে!" দাদু আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, — "আলহামদুলিল্লাহ! আমি ভাবছিলাম এরা বদলে গেছে!" সবাই আবার হেসে উঠল। কিন্তু... গাড়িতে ওঠার আগে আয়ান একবার আড়চোখে মেহুর দিকে তাকাল। মেহু তখন আদিবার সঙ্গে হাসতে হাসতে কথা বলছে। আয়ান মনে মনে বলল— "আজকে যদি সত্যিই ওর কিছু হয়ে যেত..." "না... ওই দুষ্টু মেয়েটাকে কিছু হতে দেওয়া যাবে না।" সে দ্রুত মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের ভাবনা সরিয়ে দিল। "ফোকাস, আয়ান... এসব কী ভাবছিস?" তবু বুকের ভেতরের অস্থিরতাটা আর আগের মতো রইল না। গাড়িতে ওঠার পর... পুরো গাড়িতে অদ্ভুত নীরবতা। রাফাত বারবার আয়ান আর মেহুর দিকে তাকাচ্ছে। তারপর দাদুর দিকে। আবার আয়ানের দিকে। দাদু আস্তে করে বললেন, — "কী রে?" রাফাত ফিসফিস করে বলল, — "দাদু... আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে।" — "কীসের?" — "দোস্তের সফটওয়্যারে ভাইরাস ঢুকেছে।" দাদু চোখ কুঁচকে বললেন, — "কীসের ভাইরাস?" — "ভাবি ভাইরাস!" দাদু মুখ চেপে হাসলেন। আদিবা আর নিহাল হেসে কুঁকড়ে গেল। আয়ান কপাল কুঁচকে বলল, — "হোয়াট?" রাফাত একদম নিরীহ মুখ করে বলল, — "আমি কিছু বলিনি।" — "দাদু বলেছে।" দাদু অবাক হয়ে বললেন, — "আরে! আমি কবে বললাম?" — "আপনি মনে মনে বলেছেন।" পুরো গাড়ি আবার হাসিতে ফেটে পড়ল। মেহু এতক্ষণ চুপ ছিল। হঠাৎ জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, — "আচ্ছা..." কেউ উত্তর দিল না। — "আমার খুব আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে।" রাফাত সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলল। — "আমারও!" নিহালও বলল, — "আমারও!" দাদু বললেন, — "আমারও।" আদিবা হেসে বলল, — "আমিও আছি।" সবাই একসঙ্গে আয়ানের দিকে তাকাল। আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল, — "হোয়াই আর ইউ অল লুকিং অ্যাট মি?" রাফাত কাশির ভান করে বলল, — "কারণ বিলটা আপনি দেবেন।" — "নো।" — "কেন?" — "বিকজ আই সে সো।" মেহু ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, — "কিপটে!" আয়ান সঙ্গে সঙ্গে তাকাল। — "হোয়াট?" — "কিপটে।" — "সে ইট এগেইন।" — "কিপটে!" রাফাত বুক চাপড়ে বলল, — "ভাবি আগুনে পেট্রোল ঢালছে!" আদিবা হাসতে হাসতে বলল, — "আজকে আবার শুরু!" দাদু হঠাৎ ড্রাইভারকে বললেন, — "সামনের আইসক্রিম পার্লারে গাড়ি থামাও।" আয়ান অবাক হয়ে বলল, — "দাদু!" দাদু গম্ভীর মুখে বললেন, — "আমার আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে।" রাফাত নিচু গলায় বলল, — "দাদুর না... ভাবির।" আয়ান শুনেও কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পর... সবাই আইসক্রিম হাতে দাঁড়িয়ে। মেহু চকলেট ফ্লেভার নিয়েছে। নিহালও একই। রাফাত তিন স্কুপের একটা বিশাল কাপ নিয়ে বলল, — "এটা হলো স্টার্টার।" দাদু চোখ বড় করে বললেন, — "স্টার্টার?" — "হ্যাঁ। এরপর মেইন কোর্স খাব।" সবাই হেসে উঠল। মেহু আইসক্রিম খেতে খেতে হাঁটছে। হঠাৎ... তার হাত ফসকে আইসক্রিমটা নিচে পড়ে গেল। মেহু মুখ ছোট করে বলল, — "ইসসস..." — "আমার আইসক্রিম..." রাফাত নিজের কাপ বুকে জড়িয়ে ধরল। — "আমারটার দিকে তাকাবেন না!" মেহু চোখ রাঙাল। — "আমি কি আপনারটা খাব?" — "বিশ্বাস নাই।" আবার হাসির রোল। আয়ান এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই... সে নিজের হাতে ধরা আইসক্রিমটা মেহুর দিকে বাড়িয়ে দিল। — "টেক ইট।" সবাই একসঙ্গে চুপ। মেহুও অবাক। — "আপনি... আপনারটা আমাকে দিচ্ছেন?" আয়ান অন্যদিকে তাকিয়ে বলল, — "আই ক্যান বাই অ্যানাদার ওয়ান।" মেহু কয়েক সেকেন্ড ওর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আস্তে করে আইসক্রিমটা নিল। — "থ... থ্যাংক ইউ।" আয়ান শুধু মাথা নাড়ল। একটাও কথা বলল না। ঠিক তখনই... রাফাত দাদুর কানে ফিসফিস করে বলল, — "দাদু..." — "হুম?" — "এবার মনে হয় ভাইরাস আপডেট হয়ে গেছে।" দাদু হেসে বললেন, — "চুপ... বেশি বললে আবার আনইনস্টল করে ফেলবে!" আদিবা মুখ চেপে হাসছে। নিহাল কিছুই বুঝতে না পেরে বলল, — "কোন ভাইরাস?" রাফাত গম্ভীর মুখে বলল, — "বড় হলে বুঝবি!" মেহু আয়ানের দেওয়া আইসক্রিমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। আর আয়ান... সে ভান করল যেন কিছুই হয়নি। কিন্তু নিজের মনেই বিরক্ত হয়ে বলল— "আমি ওকে আমার আইসক্রিমটা দিলাম কেন?" "কী হচ্ছে আমার?" দূরে দাঁড়িয়ে দাদু সব দেখে শুধু মুচকি হেসে আকাশের দিকে তাকালেন। মনে মনে বললেন, "শুরু হয়ে গেছে..." ❤
________★**★★______
আইসক্রিম পার্লার থেকে বের হয়েই সবাই আবার মলের পার্কিংয়ের দিকে হাঁটছে।মেহু আইসক্রিম খেতে খেতে হাঁটছেআয়ান একবার তাকিয়েই মুখ ফিরিয়ে নিল।
— "এত আস্তে হাঁটছ কেন?"
মেহু ভ্রু নাচিয়ে বলল,
— "আপনার সমস্যা কী? আমি আস্তে হাঁটলেও সমস্যা, জোরে হাঁটলেও সমস্যা!"
আয়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
— "তোমার সবকিছুই সমস্যা।"
— "আর আপনি হচ্ছেন সমস্যার ফ্যাক্টরি!"
রাফাত হাততালি দিয়ে উঠল।
— "দাদু! শুরু হয়ে গেছে!"
দাদু হেসে বললেন,
— "আজকে মনে হয় ঝগড়ার বিশ্বকাপ হবে।"
সবাই হেসে উঠল।
এদিকে...
রাফাত চুপিচুপি আদিবার পাশে এসে হাঁটতে লাগল।
হাতে থাকা ঠান্ডা পানির বোতলটা আস্তে করে আদিবার মাথায় ছুঁইয়ে দিল।
আদিবা চমকে উঠে বলল,
— "আরে!"
রাফাত হেসে বলল,
— "মাথা গরম হয়ে গেছে মনে হলো। একটু ঠান্ডা করে দিলাম।"
আদিবা চোখ বড় বড় করে তাকাল।
— "রাফাত!"
— "জি?"
— "আজকে তোমাকে আমি ছাড়ব না!"
রাফাত দৌড় দিল।
— "ধরতে পারলে ধরো!"
আদিবা সত্যিই ওর পেছনে দৌড় দিল।
নিহাল চিৎকার করে উঠল,
— "আমি আদিবা আপুর টিমে!"
রাফাত নাটকীয়ভাবে বলল,
— "সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে!"
মেহু হেসে বলল,
— "বেশ হয়েছে!"
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "ভাবি, আপনি ওদের দলে কেন?"
— "কারণ তুমি খুব জ্বালাও!"
— "আমি? আমি তো ভদ্র ছেলে!"
আদিবা দৌড়ে এসে ওর কাঁধে হালকা একটা চাপড় দিল।
— "ভদ্র? তুমি?"
— "হ্যাঁ।"
— "মিথ্যাবাদী!"
রাফাত বুকে হাত দিয়ে বলল,
— "দাদু! দেখেন, আমাকে অপমান করছে!"
দাদু হাসতে হাসতে বললেন,
— "তুই প্রাপ্যটাই পাচ্ছিস।"
আয়ান সব দেখেও চুপ।
মেহু আবার শুরু করল।
— "এই যে মিস্টার ডিপ ফ্রিজ!"
আয়ান বিরক্ত হয়ে তাকাল।
— "আবার?"
— "হ্যাঁ, আবার।"
— "চুপ করবে?"
— "না।"
— "ননসেন্স!"
— "বরফের টুকরা!"
— "বাঁদর!"
— "হার্টলেস মানুষ!"
— "বকবক মেশিন!"
মেহু দুই হাত কোমরে দিয়ে দাঁড়াল।
— "আপনি আমাকে বকবক মেশিন বললেন?"
— "ঠিকই বলেছি।"
— "আপনি একটা হাঁটতে-চলতে ফ্রিজ!"
— "আর তুমি হাঁটতে-চলতে লাউডস্পিকার!"
পুরো পরিবার আবার হেসে উঠল।
রাফাত আবার সুযোগ নিল।
সে আদিবার সামনে এসে বলল,
— "আদিবা, একটা কথা বলব?"
আদিবা সন্দেহের চোখে তাকাল।
— "না।"
— "আরে শুনো না!"
— "না।"
— "খুব জরুরি।"
— "বলো।"
রাফাত গম্ভীর মুখে বলল,
— "তুমি হাসলে সুন্দর লাগে।"
আদিবা একটু থমকে গেল।
মেহু মুচকি হাসল।
পরের মুহূর্তেই রাফাত বলে উঠল,
— "কিন্তু রাগলে একদম মরিচ!"
আদিবা জুতো খুলে বলল,
— "রাফাত!"
রাফাত দৌড়!
— "দাদু! বাঁচান!"
দাদু দুই হাত তুলে বললেন,
— "আমি আজকে বিচারক না!"
মেহু এত জোরে হাসছিল যে চোখে পানি চলে এল।
আয়ান একবার তাকিয়ে আবার মুখ ফিরিয়ে নিল।
কিন্তু ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুখানি হাসি ফুটে উঠল।
মেহু সেটা দেখে ফেলল।
সে সামনে এসে দাঁড়াল।
— "এই যে..."
আয়ান গম্ভীর হয়ে গেল।
— "কী?"
— "আপনি হাসলেন!"
— "না।"
— "আমি দেখেছি।"
— "ভুল দেখেছ।"
— "না, একদম দেখেছি।"
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল,
— "দাদু! আবার ইতিহাস!"
দাদু বললেন,
— "আজকে দ্বিতীয়বার!"
মেহু আয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
— "একটা কথা বলি?"
— "না।"
— "আরে বলি?"
— "না।"
— "শুনবেন না?"
— "না।"
— "আপনি খুব কিউট।"
চারপাশ এক সেকেন্ডের জন্য চুপ।
আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "কী বললে?"
মেহু হেসে দৌড় দিল।
— "ডিপ ফ্রিজও কিউট হতে পারে!"
রাফাত দুই হাত তুলে লাফিয়ে উঠল।
— "ভাবি আজকে ছক্কা মেরেছে!"
আয়ান দাঁত চেপে বলল,
— "মেহু!"
— "ধরতে পারলে ধরুন!"
মেহু দৌড়ে আদিবার পাশে গিয়ে লুকাল।
আদিবা দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়াল।
— "না ভাইয়া! মেহুকে কিছু বলতে পারবে না!"
রাফাতও এসে আদিবার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
— "আমি ভাবির বডিগার্ড!"
আদিবা চোখ রাঙিয়ে বলল,
— "তুমি আবার আমার পাশে কেন?"
রাফাত মুচকি হেসে বলল,
— "তুমি যেখানে, আমি সেখানে।"
আদিবার গাল হালকা লাল হয়ে গেল।
সে মুখ ঘুরিয়ে বলল,
— "বেশি নাটক করো না!"
রাফাত আস্তে করে বিড়বিড় করল,
— "একদিন ঠিকই বলবে... আমাকে ভালোবাসো।"
আদিবা শুনেও না শোনার ভান করল।
দাদু সব দেখে মুচকি হেসে বললেন,
— "একদিকে বরফ গলছে... আরেকদিকে আগুন জ্বলছে। এই দুই জোড়া একদিন পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে!"
সবাই আবার হেসে উঠল, আর আয়ান শুধু আড়চোখে একবার মেহুর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল—
"এই দুষ্টু মেয়েটা... সত্যিই আমাকে একদিন পাগল করে দেবে..." ❤️
_______★★★________
পরদিন সকাল।
আয়ান নিজের অফিসে বসে ফাইল দেখছে কিন্তু আজ কোনো কাজেই মন বসছে না।বারবার মাথায় ভেসে উঠছে—
মেহুর হাসি...ডিপ ফ্রিজ বলে খেপানো...পার্কিংয়ে ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরা...আয়ান বিরক্ত হয়ে ফাইলটা বন্ধ করে দিল।
— "ধুর!"
ঠিক তখনই...
রাফাত কফির মগ হাতে ঢুকল।
— "কী রে দোস্ত? আজকে তোকে দেখে মনে হচ্ছে শেয়ার মার্কেট পড়ে গেছে!"
আয়ান কড়া চোখে তাকাল।
— "চুপ কর।"
— "না করলে?"
— "বের হয়ে যা।"
রাফাত চেয়ারে বসে পা তুলে বলল,
— "আমি কিন্তু সিরিয়াস কথা বলতে এসেছি।"
— "বল।"
— "ভাবির কলেজে আজকে নাকি ফ্রেশার্স প্রোগ্রামের রিহার্সাল আছে।"
আয়ান নির্বিকার।
— "তো?"
— "ভাবি নাকি আজ শাড়ি পরে নাচবে!"
আয়ানের হাত থেমে গেল।
রাফাত সেটা লক্ষ্য করে মনে মনে হাসল।
আবার বলল,
— "অনেক ছেলে নাকি আগে থেকেই সামনে সিট দখল করে বসে আছে!"
আয়ান ধীরে ধীরে ফাইলটা বন্ধ করল।
চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।
— "চল।"
রাফাত ভান করে অবাক হলো।
— "কোথায়?"
— "বের হব।"
— "কেন?"
— "এত প্রশ্ন করিস কেন?"
— "আচ্ছা আচ্ছা... চল।"
রাফাত মনে মনে বলল,
"আগুন ধরেছে...!"
______★★★____
কলেজ প্রাঙ্গণআজ পুরো কলেজটা উৎসবের সাজে সেজেছে।রঙিন বেলুন...ফুলের সাজ..স্টেজ...চারদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়।উপস্থাপক মাইকে বললেন,
— "এবার আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশনা..."
— "গ্রুপ ডান্স!"
— "পারফর্ম করবে—মেহু, তিথি, রেয়া এবং তাদের দল!"
সামনের সারি হাততালিতে গর্জে উঠল।
স্টেজের একপাশ থেকে ধীরে ধীরে মেয়েরা উঠে এল।
আর তাদের মাঝখানে...
মেহু আজ,,গাঢ় মেরুন রঙের শাড়ি...কোমর ছুঁয়ে নামা লম্বা বেণী...বেণীজুড়ে সাদা বেলি ফুল...কপালে ছোট্ট লাল টিপ...চোখে হালকা কাজল...ঠোঁটে হালকা লাল লিপস্টিক...হাতে কাঁচের চুড়ি...মুখে সেই চেনা দুষ্টু হাসি।
মনে হচ্ছিল...সে যেন সত্যিই কোনো গল্পের রাজকন্যা।
ঠিক তখনই...কলেজের গেটের বাইরে একটা কালো গাড়ি এসে থামল।গাড়ি থেকে নামল আয়ান আর রাফাত।দুজনেই ভিড়ের পেছনে দাঁড়িয়ে রইল।
রাফাত স্টেজের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ থমকে গেল।
— "ইয়া আল্লাহ..."
তারপর আস্তে করে আয়ানের কানে বলল,
— "দোস্ত..."
কোনো উত্তর নেই।
— "দোস্ত..."
আয়ান একদৃষ্টিতে স্টেজের দিকে তাকিয়ে আছে।রাফাত মুচকি হেসে বলল,
— "পলক ফেল।"
আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
— "চুপ থাক।"
রাফাত হেসে ফেলল।
— "আমি তো শুধু বললাম... পাঁচ মিনিট ধরে একইভাবে তাকিয়ে আছিস।"
আয়ান কিছু বলল না।
তার চোখ শুধু মেহুর ওপর ,,,সে মনে মনে বলল,
— এই দুষ্টু মেয়েটার দিকে তাকালেই আমার Heartbeat বেড়ে যায়,,কতো কিউট লাগছে শাড়ি পড়ে,,মেয়েটাকে দেখতে দেখতে না জানি আমি কবে পাগল হয়ে যায়,,,,,
আয়ান নিজের মাথায় হালকা টোকা দিয়ে বিড়বিড় করল— "ছি আয়ান... তুই কী ভাবছিস এসব?"সে চোখ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।— "একটা পিচ্চি, ঝগড়াটে মেয়ে... সারাদিন শুধু আমাকে জ্বালায়। ওকে নিয়ে এত ভাবার কী আছে?"দুই সেকেন্ড পর আবার চোখ চলে গেল স্টেজের দিকে।
আবার নিজের মনকেই ধমক দিল—— "না! আর তাকাবি না।"এক সেকেন্ড...দুই সেকেন্ড...তিন সেকেন্ড...আবার তাকিয়ে ফেলল— "ধুর বাল! কালো জাদু করেছে মনে
হয় মেয়েটা আমার চোখই তো সরছে না!"
মনে মনে আবার বলল—
— "না না... এটা কিছু না। শুধু... আজকে শাড়িতে একটু... মানে... ভালো লাগছে।"পরক্ষণেই নিজেকেই ধমক দিল— "শুধু শাড়ি ভালো লাগছে? নাকি শাড়ির ভেতরের মানুষটাও আয়ান নিজেই চমকে উঠল।— "আস্তাগফিরুল্লাহ! আমি এসব কী ভাবছি!"পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা রাফাত আয়ানের বিড়বিড়ানি শুনে ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছিল।
তারপর আর না পেরে ফিসফিস করে বলল—
— "দোস্ত..."
আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— "কী?"
রাফাত গম্ভীর মুখ করে বলল—
— "তুই ঠিক আছিস তো?"
— "কেন?"
— "পাঁচ মিনিট ধরে নিজের সাথেই মিটিং করছিস। বাইরে থেকে দেখলে মনে হচ্ছে মাথার ভেতর তিনজন আয়ান ঝগড়া করছে।"
আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল—
— "চুপ কর।"
রাফাত মাথা নাড়ল।
— "একজন বলছে, 'তাকাবি না।' আরেকজন বলছে, 'আরেকটু দেখি।' তৃতীয়জন বলছে, 'আহা! কী কিউট!'"
আয়ান চোখ রাঙিয়ে বলল—
— "রাফাত..."
রাফাত ভান করে ভয় পেল।
— "আচ্ছা আচ্ছা, থামলাম।"
দুই সেকেন্ড চুপ থেকে আবার বলল—
— "কিন্তু একটা কথা..."
— "এবার কী?"
— "তুই যদি আর একটু এভাবে তাকিয়ে থাকিস, ভাবি নাচ শেষ করে এসে তোকে জিজ্ঞেস করবে—'টিকিট কেটে প্রথম সারিতে বসতে পারোনি নাকি?'"
আয়ান এবার দাঁত চেপে বলল—
— "তোর জন্মটাই হয়েছে আমাকে জ্বালানোর জন্য, তাই না?"
রাফাত দাঁত বের করে হাসল।
— "একদম! আন্টি বলেছিল, 'বাবা, তোর জীবনের একটাই মিশন—আয়ানকে শান্তিতে থাকতে দিবি না।' আমি সেই দায়িত্ব খুব নিষ্ঠার সাথে পালন করছি!"
আয়ান কপালে হাত দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
—"ইয়া আল্লাহ... একটা রাফাতি যথেষ্ট ছিল। তার ওপর আবার একটা মেহু!"
______★★★__________
স্টেজে তখনও গান বাজছে।মেহুরা শেষ অংশের নাচ করছে।এদিকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিন-চারজন ছেলে একদৃষ্টিতে মেহুর দিকে তাকিয়ে আছে।একজন মুচকি হেসে বলল,— "দোস্ত, প্রোগ্রাম শেষ হলেই গিয়ে কথা বলব।"আরেকজন বলল,— "শাড়িতে তো একদম... উফ!"কথাগুলো স্পষ্টই আয়ানের কানে গেল।মুহূর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।হাতের আঙুলগুলো মুঠো হয়ে উঠল।রাফাত পাশ থেকে সেটা দেখে মনে মনে বলল,"গেলো! আগ্নেয়গিরি জাগছে!"
সে দ্রুত আয়ানের সামনে এসে দাঁড়াল।
— "দোস্ত..."
আয়ান চোখ না সরিয়েই বলল,
— "হুম?"
— "শ্বাস নে।"
— "..."
— "রাগ কন্ট্রোল কর।"
— "..."
রাফাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— "তুই যে মুখ বানিয়েছিস, মনে হচ্ছে ওদের তিনজনের কবরের জায়গাও ঠিক করে ফেলেছিস।"
ঠিক তখনই...স্টেজে শেষ পোজ দিল মেহুরা।পুরো হলরুম হাততালিতে গর্জে উঠল।মেহু হাসিমুখে দর্শকদের দিকে তাকাল।হাততালির মধ্যে মেহু আর তার দল স্টেজ থেকে নেমে গেল।তিথি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— "উফ! অবশেষে শেষ হলো!"
মেহু হেসে বলল,
— "কেমন হয়েছে বল তো?"
রেয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "একদম আগুন!"
স্টেজ থেকে নেমে হাসতে হাসতে মেহু, তিথি আর রেয়া ব্যাকস্টেজের দিকে চলে গেল।আয়ানও একদৃষ্টিতে ওর চলে যাওয়া দেখছিল।
রাফাত কনুই দিয়ে গুঁতো মেরে বলল,
— "দোস্ত, মানুষ স্টেজ দেখে... আর তুই স্টেজ থেকে কে নামছে সেটা দেখছিস!"
আয়ান শান্ত গলায় বলল,
— "চুপ থাক।"
____★★★_____
কিছুক্ষণ পরেতিথি, রেয়া আর আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে মেহুকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।ওদের সঙ্গে দুইটা ছেলেও ছিল।সবাই মিলে হাসাহাসি করছে।
তখন একটা ছেলে বলল,
— "মেহু, আজকে তোকে একদম সিনেমার নায়িকার মতো লাগছিল!"
রেয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "শুধু আজকে? ও তো রোজই সুন্দর।"
সবাই হেসে উঠল।মেহুও হেসে ফেলল।
এই হাসিটাই দূর থেকে দেখল আয়ান তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।রাফাত একবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে আবার ওদের দিকে তাকাল।
তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,
— "দোস্ত..."
— "কী?"
— "ভাবির পাশে ছেলেগুলো কিন্তু অনেক আরামে দাঁড়িয়ে আছে।"
আয়ান চুপ রাফাত আবার বলল,
— "ওই যে কালো শার্টওয়ালা ছেলেটা... দেখলি? ভাবির দিকে কীভাবে তাকিয়ে আছে?"
আয়ানের মুঠো শক্ত হয়ে গেল।
— "দেখছি।"
রাফাত মনে মনে বলল,
"আগুন তাহলে ভালো মতো ধরেছে!"
ঠিক তখনই...ছেলেটা নিজের ব্যাগ থেকে একটা লাল গোলাপ বের করল হেসে মেহুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,— "মেহু... এটা তোর জন্য।"
চারপাশে সবাই "উইইই..." বলে উঠল।
পিঠি দুষ্টু হেসে বলল,
— "নিয়ে নে না!"
তিথি বলল,
— "ছোটবেলার বন্ধু ফুল দিলে না নিলে কষ্ট পাবে।"
মেহু হেসে বলল,
— "আচ্ছা আচ্ছা..."সে ফুলটা হাতে নিল।
রাফাতের চোখ চকচক করে উঠল।
— "দোস্ত..."
আয়ান কোনো উত্তর দিল না।
— "ফুলও নিয়ে নিল!"
ব্যস...আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না আয়ান।বজ্রগতিতে হাঁটতে হাঁটতে সোজা মেহুর সামনে গিয়ে দাঁড়াল।হঠাৎ আয়ানকে দেখে সবাই চুপ।
মেহু অবাক।
— "আপনি?"
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন