___________________________
ভোরের নরম আলো ধীরে ধীরে চারপাশ আলোকিত করছে। আজ খান বাড়িতে যেন অন্যরকম একটা আনন্দ। আর মাত্র দুই দিন পর আয়ান আর মেহুর এনগেজমেন্ট। রান্নাঘরে রিজিয়া খান আর কাজের লোকেরা নাস্তার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। ড্রয়িংরুমে দাদু বসে অতিথিদের তালিকা দেখছেন। শামসুজ্জামান খান ফোনে একের পর এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছেন। পুরো বাড়িতে উৎসবের আমেজ।
এদিকে...
রাফাত সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে চিৎকার করে উঠল,
— "গুড মর্নিং, খান ফ্যামিলি!"
দাদু চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে বললেন,
— "সকাল সকাল এত চিৎকার কেন?"
রাফাত দাঁত বের করে হাসল।
— "খুশির খবর! আর দুই দিন পর আমাদের ডিপ ফ্রিজ অফিশিয়ালি এনগেজড!"
দাদু হেসে ফেললেন।
ঠিক তখনই আয়ান নিচে নেমে এল।
রাফাত ফিসফিস করে বলল,
— "দেখেন দাদু... বর আসছে!"
আয়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
— "সকাল সকাল শুরু করিস না। নাস্তা কর, তারপর অফিসে যাব।"
রাফাত নাটকীয়ভাবে বুক চেপে ধরল।
— "ইয়া আল্লাহ! বিয়ে ঠিক হয়েছে, তবুও রোমান্সের আর দেখা নাই!"
সবাই হেসে উঠল।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্রাহাম। হাসির শব্দ শুনে সে মুচকি হাসল। তার চোখ গিয়ে থামল আয়ানের দিকে। গত রাতের প্রতিটা মুহূর্ত তার মনে পড়ে গেল। আয়ানের রাগ... চোখের অস্থিরতা... নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা... সবকিছু।
সে খুব আস্তে বলল,
— "তুই মুখে যতই না বলিস... তোর চোখ সব বলে দেয়, আয়ান।"
ঠিক তখনই রাফাত পাশে এসে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বলল,
— "কী ভাবছিস?"
আব্রাহাম মৃদু হেসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিল,
— "জানিস... সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না। কিছু ভালোবাসা নিয়তির কাছে হেরে যায়।"
রাফাতের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। সে আব্রাহামের কাঁধে হাত রাখল।
— "খুব কষ্ট হচ্ছে?"
আব্রাহাম একটু আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "হচ্ছে... কিন্তু জানিস, কষ্টটা কোথায়?"
রাফাত তাকিয়ে রইল।
আব্রাহাম ভাঙা গলায় বলল,
— "সব শেষে এমন একজনকে ভালোবেসে ফেললাম, যাকে কোনোদিন বলতেই পারব না আমি তাকে কতটা ভালোবাসি..."
আব্রাহামের গলাটা ধীরে ধীরে কেঁপে উঠল। সে মুখ ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকাল। চোখ দুটো লাল হয়ে এসেছে। ঠোঁট কাঁপছে... সে জোর করে একটা হাসি দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। চোখের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল গালে।
রাফাত অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। এটাই প্রথম... সে আব্রাহামকে এভাবে কাঁদতে দেখছে।
রাফাত ধীরে ধীরে বলল,
— "আব্রাহাম..."
কথাটা শেষ করতে পারল না।
আব্রাহাম তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে মৃদু হেসে বলল,
— "দেখলি... শেষ পর্যন্ত আমিও কেঁদে ফেললাম। আসলে... যাকে নিজের ভবিষ্যৎ ভেবে এতদিন বেঁচে ছিলাম... আজ তাকে অন্য কারও ভবিষ্যৎ হিসেবে মেনে নেওয়াটা... খুব সহজ না, রাফাত।"
তার গলা আবার ভারী হয়ে এল।
— "আয়ান মেহুকে ভালোবাসে... আমি কখনো তাদের মাঝে দাঁড়াব না।"
রাফাত আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে এগিয়ে এসে আব্রাহামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
— "আল্লাহ তোর জন্য এর চেয়েও বেটার কাউকে লিখে রেখেছেন, ইনশাআল্লাহ।"
আব্রাহাম চোখ বন্ধ করল। নিঃশব্দে আরও দু'ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
সকালের আলোয় সেই চোখের জল যেন একটা নিঃশব্দ বিদায়ের সাক্ষী হয়ে রইল। ❤️
দুজন ধীরে ধীরে বারান্দা থেকে ভেতরে ঢুকল।
আব্রাহাম যতটা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়েছে।
মুখে হালকা হাসি...
কিন্তু চোখ দুটো এখনও একটু লাল।
ডাইনিং টেবিলে তখন সবাই নাস্তা করছে।
দাদু খবরের কাগজ পড়ছেন।
রিজিয়া খান পরোটা পরিবেশন করছেন।
আদিবা জুস খাচ্ছে।
আর...
আয়ান চুপচাপ কফির মগ হাতে বসে আছে।
রাফাত চেয়ারে বসতেই দুষ্টু হেসে বলল,
— "এই ডিপ ফ্রিজ, একটু সরে বস।"
আয়ান একবার তাকিয়েই আবার কফিতে মন দিল।
— "চুপচাপ খা।"
রাফাত ভ্রু নাচিয়ে বলল,
— "আজকে তোকে খোঁচাব না।"
আয়ান সন্দেহের চোখে তাকাল।
— "এত ভালো ছেলে কবে হলি?"
রাফাত মুখ গম্ভীর করে বলল,
— "মানুষ বদলায়।"
দাদু হেসে বললেন,
— "না, তুই বদলাইসনি। "নিশ্চয়ই তোর মাথায় নতুন কোনো শয়তানি এসেছে।"
পুরো টেবিলে হাসির রোল পড়ে গেল।
রাফাত নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে বলল,
— "দাদু!"
— "আপনি আমাকে এত ভুল বোঝেন কেন?"
দাদু শান্ত গলায় বললেন,
— "কারণ তোকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি।"
আবারও সবাই হেসে উঠল।
হাসির মাঝেই...
আয়ানের চোখ একবার আব্রাহামের দিকে গেল।
সে লক্ষ্য করল...আব্রাহাম হাসছে ঠিকই।কিন্তু চোখ দুটো অস্বাভাবিক লাল।মনে হচ্ছে...একটু আগেই কেঁদেছে।
আয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল।মনে মনে বলল,
"কাঁদছিল?"
"কেন?"
"মেহুর জন্য?"
পরের মুহূর্তেই নিজের মনকে ধমক দিল।
"উফ!"
"আবার শুরু হয়ে গেল!"
"সে কাঁদুক, হাসুক... আমার কী?"
"আমি এসব নিয়ে ভাবছি কেন?"
সে বিরক্ত হয়ে কফির মগটা একটু জোরে টেবিলে রাখল।
ঠক!
শব্দে সবাই একবার তাকাল।
আয়ান স্বাভাবিক গলায় বলল,
— "আমি অফিসে যাচ্ছি।"
চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই...
আব্রাহাম হেসে বলল,
— "দাঁড়া, আমিও যাব।"
— "অনেকদিন পর অফিসটা দেখি।"
আয়ানের মুখ এক মুহূর্ত শক্ত হয়ে গেল।
কারণ...
সে জানে না কেন...
আজ আব্রাহামকে নিজের পাশে দেখলেই তার ভেতরে অদ্ভুত এক অস্বস্তি কাজ করছে।
রাফাত দুজনের দিকে তাকিয়ে মনে মনে মুচকি হাসল।
"একজন নিজের ভালোবাসা লুকিয়ে রাখছে..."
আর আরেকজন নিজের ভালোবাসা ছেড়ে দিতে শিখছে..."
"ইয়া আল্লাহ..."
"শেষটা সুন্দর করে দিয়ো..."
_______★★★______
সকাল সাড়ে নয়টা নাস্তা শেষ করে তিনজন একসঙ্গে বের হলো।আয়ান নিজের কালো গাড়ির চাবিটা ঘুরাতে ঘুরাতে সামনে এগিয়ে গেল।
রাফাত পিছন থেকে বলল,
— "আজ আমি সামনে বসব!"
আয়ান একবার তাকিয়েই বলল,
— "না।"
— "কেন?"
— "কারণ তুই সামনে বসলেই আমার মাথা খাস।"
রাফাত নাটকীয়ভাবে বুক চেপে ধরল।
— "দেখলি, আব্রাহাম?"
— "হিটলারটা সকাল সকাল আমাকে অপমান করল!"
আব্রাহাম হেসে বলল,
— "তুই চুপচাপ পিছনে বস।"
— "না!"
— "আমি সামনে বসব!"
আয়ান গাড়ির দরজা খুলে শান্ত গলায় বলল,
— "আর একবার বললে তোকে ছাদে বেঁধে নিয়ে যাব।"
রাফাত মুখ বাঁকিয়ে পিছনের সিটে বসে পড়ল।
— "ইয়া আল্লাহ... এই বাড়িতে আমার কোনো সম্মান নেই!"
আব্রাহাম হাসতে হাসতে পাশের সিটে বসল।
গাড়ি ধীরে ধীরে রওনা দিল।
★★★
সকালের ব্যস্ত শহর আয়ানের গাড়িটা ধীরে ধীরে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।ড্রাইভ করছে রাফাত।সামনের সিটে বসে আছে আয়ান।পেছনের সিটে জানালার পাশে চুপচাপ বসে আব্রাহাম।
গাড়িটা একটা সিগন্যালে এসে থামল।
ঠিক তখনই...
রাস্তার ওপাশে কলেজের গেট।কয়েকজন মেয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। তাদের মাঝখানে...মেহু হালকা আকাশি রঙের সালোয়ার-কামিজ।খোলা চুল।হাতে কয়েকটা বই।হাসতে হাসতে কী যেন বলছে।মাঝে মাঝে হাত নেড়ে কথা বলছে।
হাসলেই গালের টোলটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।পেছনে বসে থাকা আব্রাহামের চোখ হঠাৎ গিয়ে থামল ওর ওপর।সে আর চোখ ফেরাতে পারল না।মুখে অজান্তেই একটা শান্ত হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বলল,,
এক বছর পর...এত কাছ পর আবার ওকে দেখছি।
গাড়ির ভেতর সম্পূর্ণ নীরব।রাফাত রিয়ার ভিউ মিররে তাকিয়ে হঠাৎ খেয়াল করল...আব্রাহাম একদৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছে।সে কিছু না বলে মিররে আবার আয়ানের দিকে তাকাল।
আয়ানও অজান্তেই একই দিকে তাকিয়ে আছে।
কয়েক সেকেন্ড...
দুজনের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু একটাই মানুষ।
মেহু।
কিন্তু...
পরের মুহূর্তেই আয়ানের চোখ গিয়ে পড়ল আব্রাহামের ওপর।
সে দেখল...আব্রাহাম এখনও একদৃষ্টিতে মেহুর দিকেই তাকিয়ে আছে।আয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।হাতে ধরা পেনটার ওপর অজান্তেই চাপ বাড়তে লাগল।এতটাই বারতে লাগলো যে আঙুলের গিঁটগুলো সাদা হয়ে উঠল।তার দৃষ্টি এবার আর মেহুর ওপর নেই...এখন সম্পূর্ণ দৃষ্টি আব্রাহামের ওপর।
রাফাত আড়চোখে পুরো দৃশ্যটা দেখল।তার ঠোঁটের কোণে দুষ্টু একটা হাসি ফুটে উঠল।ঠিক তখনই...সিগন্যাল সবুজ হয়ে গেল।রাফাত গাড়ি চালিয়ে দিল।আব্রাহাম ধীরে ধীরে জানালা থেকে চোখ সরিয়ে নিল।মুখে এখনও সেই ছোট্ট হাসিটা লেগে আছে।রাফাত আর নিজেকে আটকাতে পারল না।
হাসি চেপে বলল,
— "কিরে আব্রাহাম...""চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেছিলি নাকি?"
আব্রাহাম একটু অপ্রস্তুত হয়ে হেসে ফেলল।
— "চুপ থাক।"
রাফাত দুষ্টু হেসে বলল,
— "আমি তো কিছুই বলিনি।" "আমি শুধু দেখলাম..." "কারও দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলি।"
আব্রাহাম মাথা নিচু করে মুচকি হাসল।কোনো উত্তর দিল না।
ঠিক তখনই...
ঠাস!
আয়ান হাতে থাকা পেনটা টেবিলের ওপর একটু জোরে রেখে দিল।গাড়ির ভেতরের পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে গেল।রাফাত আয়ানের দিকে তাকিয়ে নিরীহ মুখে বলল,
— "কী হলো?"
আয়ান জানালার বাইরে তাকিয়েই শান্ত গলায় বলল,
— "কিছু না।"
কিন্তু...
তার কণ্ঠের ঠান্ডা ভাবটাই বলে দিচ্ছিল—ভেতরে ভেতরে একটা ঝড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে,,,,,!
__________★*★★★________
আর কিছুক্ষণ পর...গাড়িটা অফিসের সামনে এসে থামল।
তিনজন একসঙ্গে নেমে ভেতরে ঢুকল।রিসেপশনে দাঁড়ানো স্টাফরা সবাই উঠে সালাম দিল।
— "গুড মর্নিং, স্যার।"
আয়ান শুধু মাথা নাড়ল।
ঠিক তখনই...
একজন স্টাফ দৌড়ে এসে বলল,
— "স্যার, দশটায় বোর্ড মিটিং।"
আয়ান সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
— "ওকে।"
সে নিজের কেবিনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। হাঁটতে হাঁটতেই আবার সেই একই দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠল...
মেহু...আর...আব্রাহামের সেই একদৃষ্টির তাকিয়ে থাকা।
আয়ান বিরক্ত হয়ে খুব আস্তে নিজেকেই বলল,
— "স্টপ ইট..." "এসব নিয়ে ভাবার কোনো মানে হয় না।" "যে আমার কেউ না..." "তাকে নিয়ে আমি কেন ভাবব?"
এসব কথাটা বললেও...তার নিজের মনই যেন উত্তর দিল—
*"সত্যিই... কেউ না?"*
আয়ান থেমে গেল।
এক সেকেন্ড...
দুই সেকেন্ড...
তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের কেবিনে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল।কিন্তু...দরজা বন্ধ হলেও...মনের ভেতরের প্রশ্নটা আর বন্ধ হলো না।
_________★★★_________
এদিকে...মেহুদের বাড়ি দুপুরের রোদ জানালা দিয়ে ড্রয়িংরুমে পড়েছে।পুরো বাড়িতে উৎসবের আমেজ।আর মাত্র দুই দিন পর গায়ে হলুদ রান্নাঘরে মেহুর মা আর খালারা বসে মিষ্টির অর্ডার, অতিথিদের তালিকা আর সাজসজ্জা নিয়ে গল্প করছেন ড্রয়িংরুমে মেহুর বাবা ফোনে একের পর এক আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন।
এদিকে...মেহু নিজের রুম থেকে দৌড়ে নিচে নেমে এল।
আজ ওর পরনে হালকা হলুদ রঙের কুর্তি।চুলগুলো উঁচু করে বাঁধা ।হাতে একটা কুশন।নিচে নেমেই সোফায় বসে থাকা ছোট কাজিন নিহালের কাঁধে কুশন দিয়ে আলতো একটা বাড়ি দিল।
— "এই! আমার চিপসটা কে খেয়েছে?"
নিহাল সঙ্গে সঙ্গে নিরীহ মুখ বানিয়ে বলল,
— "আমি না!"
পাশ থেকে নীরা হেসে বলল,
— "তোর মুখে এখনও চিপস লেগে আছে।"
নিহাল তাড়াতাড়ি মুখ মুছতে গিয়ে বুঝল সবাই ওকে বোকা বানিয়েছে।
মেহু হো হো করে হেসে উঠল।
— "ধরা খেয়ে গেলি!"
পুরো ঘরে হাসির রোল পড়ে গেল।
ঠিক তখনই...
মেহুর মা রান্নাঘর থেকে বের হয়ে বললেন,
— "মেহু!"
— "এদিকে আয় তো।"
মেহু লাফাতে লাফাতে এগিয়ে গেল।
— "জি, আম্মু?"
— "আগামীকাল পার্লারে যেতে হবে।"
মেহু সঙ্গে সঙ্গে মুখ কুঁচকে ফেলল।
— "এতক্ষণ বসে থাকতে হবে? "উফফ... বিরক্ত লাগে!"আমি যাব না,,,,,।
মা ভ্রু কুঁচকে বললেন,
— "বিয়ের আগে সবাই সাজে।"
মেহু ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
— "আমি এত সাজতে পারব না।""সিম্পল থাকলেই তো সুন্দর লাগে!"
খালা হেসে বললেন,
— "এই মেয়েটা কোনোদিন বড় হবে না।"
মেহু সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত কোমরে দিয়ে বলল,
— "আমি বড়ই তো!"
নিহাল পাশ থেকে বলল,
— "কই?" "আমার তো তোকে এখনও পাঁচ বছরের বাচ্চা মনে হয়!"
মেহু কুশন তুলে আবার ওর দিকে দৌড় দিল।
— "এই নিহাল!"
— "আজ তোকে ছাড়ব না!"
— "বাঁচাও!"
বলেই নিহাল পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে দৌড়াতে শুরু করল।
মেহুও ওর পেছনে একজন সোফার এপাশে...আরেকজন ওপাশে।পুরো বাড়ি হাসিতে ভরে গেল।
মেহুর বাবা ফোন রেখে মাথা নেড়ে হেসে বললেন,
— "এই মেয়েটা বিয়ের পরও কি এমনই থাকবে?"
মা মুচকি হেসে উত্তর দিলেন,
— "থাকুক না..."
— "ওর এই হাসিটাই তো আমাদের বাড়ির প্রাণ।"
মেহু তখনও দৌড়াচ্ছে।
হঠাৎ...
নিহালের সামনে গিয়ে দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়াল।
— "ধরেছি!"
নিহাল হাল ছেড়ে দিয়ে বলল,
— "আচ্ছা আচ্ছা..."
— "চিপস আমি-ই খেয়েছি!"
মেহু বিজয়ীর মতো দুই হাত তুলে বলল,
— "ইয়েস!"
সবাই আবার হেসে উঠল।
_______★★★_______
এদিকে...
খান গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি বোর্ড মিটিং শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে সবাই একে একে কনফারেন্স রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে আয়ান নিজের কেবিনে এসে ফাইল খুলে কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু...আজ যেন কোনো কাজেই মন বসছে না।
কলমটা হাতে নিয়ে সই করতে গিয়েও থেমে গেল।
মনে ভেসে উঠল সকালের সেই দৃশ্য...আব্রাহামের একদৃষ্টিতে মেহুর দিকে তাকিয়ে থাকা।
আয়ান বিরক্ত হয়ে কলমটা টেবিলে রেখে দিল।
— "উফ..."
— "আবার!"
ঠিক তখনই...
টক টক...
— "কাম ইন।"
দরজা খুলে রাফাত আর আব্রাহাম ভেতরে ঢুকল।
রাফাত ঢুকেই সোফায় ধপ করে বসে পড়ল।
— "বাঁচলাম!"
আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "কী হয়েছে?"
— "তিন ঘণ্টা মিটিং করে আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেছে!"
আব্রাহাম হেসে বলল,
— "তুই তো মিটিংয়ের অর্ধেক সময়ই চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেছিলি।"
রাফাত সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— "ওটাই তো সবচেয়ে কষ্টের কাজ!"
আয়ানের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
রাফাত সেটা দেখেই বলল,
— "আহা!"
— "ডিপ ফ্রিজ হাসছেও!"
আয়ান মাথা নেড়ে বলল,
— "কেন এসেছিস?"
রাফাত টেবিলের ওপর রাখা চকোলেটের বক্সটা খুলে একটা মুখে দিল।
— "এমনিই।" "বন্ধুর রুমে আসতে কি এখন অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে?"
আয়ান কিছু বলল না।
ঠিক তখনই...আব্রাহামের ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে তাকিয়ে সে বলল,
— "এক্সকিউজ মি।"
বলেই বারান্দায় গিয়ে ফোন ধরল৷ রাফাত চুপচাপ আয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর দুষ্টু হেসে বলল,
— "একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
— "কর।"
— "রাগ করবি না তো?"
— "আগে বল।"
রাফাত চেয়ার টেনে আয়ানের একদম সামনে বসল।
— "আজ সকালে..."
— "আব্রাহাম যখন মেহুর দিকে তাকিয়ে ছিল..."
— "তুই পেনটা এত জোরে চেপে ধরেছিলি কেন?"
আয়ান এক মুহূর্ত থেমে গেল।
তারপর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গলায় বলল,
— "আমি?"
— "হয়তো খেয়াল করিনি।"
রাফাত মাথা নেড়ে হেসে বলল,
— " সত্যি খেয়াল করিসনি আয়ান..."
চলবে,,,,,,,,