ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বসন্ত

৫ম পর্ব

লেখক: দিশা মনি

#শেষ_বসন্ত

#পর্ব_৫
#লেখিকা_দিশা_মনি
সুজা সোহেলকে দেখে যেন মনে সাহস ফিরে পায়। একই সাথে তার এটা ভেবেও খারাপ লাগে যে বাবার এসব কথা জেনে তার ছোট ভাই না জানি কেমন অনুভব করে৷ সুজা নিজেও কষ্টটা অনুভব করেছে৷ তাই বুঝতে পারছে সে। সুজার ভাবনার মাঝেই সোহেল আবারো বলে,
"তোমরা চুপ করে আছ কেন?"
সাব্বির শেখ হাতটা সরিয়ে নিয়ে একটু পিছিয়ে বলেন,
"তুমি যে আসবে আগে তো জানাও নি। তোমার কোচিং এর কি অবস্থা?"
সোহেল এইবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। তাই বর্তমানে ইউনিভার্সিটি এডমিশন কোচিং করার জন্য ফার্মগেটে থাকে। সোহেল নিজের বাবার প্রশ্নের উত্তরে বলে,
"অনেক দিন থেকে তোমাদের কথা মনে পড়ছিল তাই ভাবলাম একবার এসে দেখা করে যাই। কিন্তু এসে যে এমন কিছু দেখব ভাবিনি৷ আপু কি এমন করেছে যে তুমি ওকে মারতে যাচ্ছিলে? মায়ের মৃত্যুর পর তো তুমি কখনো আমাদের গায়ে হাত তোলো নি!"
সোহেলের এই প্রশ্নে সাব্বির শেখ কিছু না বলে চুপ থাকেন। সুজা সোহেলের উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"কি বলবেন উনি? ওনার কি কিছু বলার মুখ আছে?"
সোহেল নিজের বোনের কথা শুনে অবাক হয়৷ হতবাক স্বরে বলে,
"তোমরা এমন অদ্ভুত আচরণ করছ কেন আমি বুঝতে পারছি না।"
এমন সময় তার নজর যায় অনন্তার দিকে। অনন্তার পড়নে তখনো তাদের শাড়ি। সোহেল আবারো বলে ওঠে,
"অনন্তা আপু এখানে কি করছে? আর এটা মায়ের শাড়ি না.."
"শুধু মায়ের শাড়ি না, আমাদের মায়ের সবকিছু দখল করে নিয়েছে অনন্তা।"
"মানে?"
"আব্বু অনন্তা আপুকে বিয়ে করেছে।"
নিজের বোনের মুখে এই কথা শুনে সোহেল যেন আকাশ থেকে পড়ে। তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না ব্যাপারটা৷ সে দু কদম পিছিয়ে বলে,
"কি বলছ এটা তুমি আপু..."
"একদম ঠিক বলছি "
সোহেল ছোটবেলা থেকেই অনেক বেশি রাগী স্বভাবের। শুরুতে অবাক হলেও শীঘ্রই ব্যাপারটা নিয়ে তার মাথায় রাগ চেপে বসে৷ সে সাব্বির শেখ এর সামনে গিয়ে বলে,
"এসবের মানে কি আব্বু? এই বয়সে এসে তুমি এ কি অনর্থ করলে? বিয়ে করলে তো করলে তাও এমন একজনকে যে কিনা তোমার মেয়ের বয়সী..তার বান্ধবী।"
সাব্বির শেখের যেন একটুও লজ্জা আসে না। এরপরেও তিনি বলেন,
"হ্যাঁ, করেছি। তাতে কি সমস্যা? আমি বৈধভাবেই ওকে বিয়ে করেছি। কোন পাপ-পরকীয়া করি নি। তোমাদের ভাই বোনের এত ওভার রিয়্যাক্টের কারণ তো আমি বুঝছি না। সারাজীবন যখন তোমাদের কথা ভেবে একা কাটালাম তখন তোমাদের কোন সমস্যা ছিল না, এখন যখন একটু নিজের কথা ভাবলাম তখন তোমাদের এত সমস্যা!"
"এটাকে নিজের কথা ভাবা বলে না আব্বু। এটাকে বলে নোংরামো!"
"সোহেল!"
"এজন্যই তুমি আপুর গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছিলে? কারণ আপু তোমার এই নোংরামোর প্রতিবাদ করছিল? সেম অন ইউ।"
"তোমাদের ভাই বোনের মুখে খুব চোপা হয়েছে তাই না?"
"তোমার লজ্জা করছে না এত বড় একটা অঘটন ঘটিয়ে আমাদের উপর রাগ দেখাচ্ছ।"
সাব্বির শেখ এবার এগিয়ে গিয়ে অনন্তার হাত শক্ত করে ধরে বলেন,
"আমি কোন ভুল করিনি৷ বরঞ্চ আমি নিজের জীবনের সবথেকে সেরা সিদ্ধান্তগুলোর মাঝে একটা নিয়েছি অনন্তাকে বিয়ে করে। ওকে বিয়ে না করলে তো তোমাদের ভাই বোনের এই আসল রূপ আমার সামনে আসতোই না!"
সোহেল আর কিছু বলতে যাবে তখন সুজা তাকে থামিয়ে বলে,
"থাক সোহেল। এই লোকটাকে আর কিছু বলে লাভ নেই৷ বুড়ো বয়সে ওনার ভিমরতি ধরেছে। শুনুন মিস্টার শেখ, আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এতে আমার কোন সমস্যা নেই। ইভেন, আমি ও সোহেল অনেক আগে থেকেই ভেবেছিলাম ব্যাপারটা যে আপনি যদি নিজের সুখের জন্য কোন সিদ্ধান্ত নেন সেটাকে আমরা সমর্থন করব। কিন্তু আপনি কি করলেন? আমাদের কিছু না জানিয়ে আমারই বান্ধবীকে বিয়ে করে ঘরে আনলেন। এনেছেন ভালো কথা, আমাদের একটু সময় তো দেবেন মানিয়ে নেয়ার, তা নয় দ্বিতীয় বিয়ের পর যেন আমরা আপনার শত্রু হয়ে গেছি। আমার সাথে বিগত দুদিন ধরে আপনি কিরকম ব্যবহার করেছেন একটু ভেবে দেখুন। নিজের স্ত্রীর পক্ষ নিতে গিয়ে আপনি এতটাই অন্ধ হয়ে গেছেন যে বারবার সবকিছুতে আমাকে দোষারোপ করে গেছেন। আমার দিকটা একটুও বোঝেন নি। আমার মানসিক অবস্থা কেমন একবারো জানতে চেয়েছেন?"
সাব্বির শেখ বলেন,
"তোমাকে আমি যথেষ্ট বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তুমি আমার কথা শোনো নি, আমি বুঝতে পারছি অনন্তাকে নিয়ে তোমার সমস্যাটা কোথায়। ও যে এখন এই বাড়িতে তোমার থেকে বেশি সন্মান পাবে এটা তুমি মানতে পারছ না। তবে শুনে রাখো, আমার স্ত্রীর সন্মান রক্ষায় যা করা লাগে আমি করব, আগামীকাল আমি আমার সব আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধবকে ডেকে আমাদের বৌভাত পালন করব। সবার সামনে ওকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দেব আমি।"
অনন্তা এবার এগিয়ে এসে বলে,
"কিন্তু আপনি তো বলেছিলেন একটু সময় নিয়ে.. "
"কোন সময়ের দরকার নেই। ওরা প্রতিনিয়ত তোমায় ছোট করবে সেটা আমি হতে দেব না। এবার পুরো সমাজ জানবে সত্যটা।"
সুজা বিদ্রুপ করে বলে,
"পুরো সমাজ তোমার রুচির উপর থুথু দেবে সেটাই দেখা বাকি এখন।"
এদিকে সোহেল রাগে পাগল হয়ে যাচ্ছিল
 সে বলে,
"আমি কোন বৌভাত হতে দেব না এই বাড়িতে। এসব কথা জানাজানি হলে আমি সমাজে মুখ দেখাব কি করে?"
সাব্বির শেখ দমার পাত্র নন।
"তোমাদের কোন পরামর্শ আমি চাই নি। তোমরা যা ব্যবহার করলে এখন তোমাদের আমি আর নিজের পরিবার মনে করি না। এখন শুধু অনন্তাই আমার পরিবার।"
সোহেল ক্রোধের সাথে সাব্বির শেখের দিকে তাকায়।
"আজ প্রথম আমার লজ্জা হচ্ছে নিজেকে তোমার ছেলে ভাবতে।"
"এতই যখন লজ্জা হচ্ছে তাহলে নতুন বাবা খুঁজে নাও। "
সুজা ক্রোধের সাথে বলে,
"মিস্টার শেখ! কি বলছেন ভেবে বলুন!"
"তোমাদের দুজনকে আমার একটুও সহ্য হচ্ছে না৷ যাও তো আমার চোখের সামনে থেকে।"
অনন্তা সাব্বির শেখের কাধে হাত রেখে বলে,
"রাগের মাথায় এসব বলবেন না প্লিজ। ওরা নাহয় ছোট কিন্তু আপনার তো ওদের দিকটা বোঝা উচিত।"
সাব্বির শেখ অনন্তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন৷ সুজার উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"দেখো সুজা, তোমার বয়সী অনন্তা অথচ ওর ম্যাচুরিটি টা দেখো। ওর দেখে শেখো। দুদিন থেকে তুমি মেয়েটাকে কত বাজে কথা বলছ অথচ ও তোমাদের হয়ে কথা বলছে।"
সোহেল এবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পাশ থেকে একটা ফুলদানি তুলে এনে আছড়ে ফেলে।
"সোহেল!"
"এসব গুণ্ডামি করলে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেবো।"
সোহেল ক্ষোভের সহিত বলে,
"সাহস থাকলে বের করে দেখাও। এই বাড়িতে আমারো অধিকার আছে। আপু তুই এসব আমায় জানাস নি কেন? একা এদের এসব রঙঢঙ কেন সহ্য করলি? এক্ষুনি আমি দাদি, চাচা সবাইকে ফোন করব। তারা এসে এর একটা বিহিত করবে।"
সাব্বির শেখ কিছু বলতে যাবেন তার আগেই অনন্তা বলে,
"এসব কিছু আমার জন্য হচ্ছে। আমি এই বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছি তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
বলেই অনন্তা জোরে দৌড়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সাব্বির শেখ তার পেছনে যেতে যেতে বলে,
"অনন্তা দাড়াও..আমার কথা শোনো।"
এরপর পেছনে ফিরে বলেন,
"খুশি হয়েছ তো এবার? এটাই চেয়েছিলে না?"
সুজা বলে,
"যান, যান আপনার সুগার বেবির পেছনে যান। আবার না আপনার থেকে ধনী কোন লোক পেয়ে তার গলায় ঝুলে পড়ে।"
চলবে ইনশাআল্লাহ ✨

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন