ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বসন্ত

৪র্থ পর্ব

লেখক: দিশা মনি

#শেষ_বসন্ত

#পর্ব_৪
#লেখিকা_দিশা_মনি
সুজা ক্লাস শেষে উঠে চুপচাপ বাইরে চলে আসে। অনন্তাকে দেখে তার মন মেজাজ এমনিই চরম খারাপ। তাই সে আর এই পরিস্থিতিতে বসে থাকতে পারছিল না। ক্যাম্পাসে আসতেই সুজা খেয়াল করে তার কিছু বন্ধু বান্ধব তার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকাচ্ছে। সুজা বুঝতে পারে না সবাই কেন তাকে এভাবে ঘুরছে। 
সুজার ভাবনার মাঝেই জান্নাত আরো ২/৩ জন মেয়েকে নিয়ে এগিয়ে আসে। সুজা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জান্নাত এগিয়ে এসে তাকে বলে,
"কিরে সুজা! শুনলাম অনন্তার সাথে নাকি তোর আব্বুর বিয়ে হয়েছে। অনন্তা তো সবাইকে এটা বলে বেড়াচ্ছে। কথাটা কি সত্য নাকি মজা করছিস?"
জান্নাতের পাশে দাঁড়ানো আরেকটা মেয়ে বলে,
"আরে মজা কেন হবে..সকালে তো নাকি অনন্তাকে সুজার বাবার গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে আসতে দেখা গেছে। তার মানে ব্যাপারটা সত্যি।"
"আমাদের একবার দাওয়াতও দিলি না সুজা!"
বলেই একটা মেয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসে। সুজার ক্রোধে মাথা ফেটে যাচ্ছিল। সে রাগী স্বরে বলে,
"হয়েছে তোদের গসিপ গ্যাং এর গসিপের পার্ট শেষ? তাহলে আমি এখন যেতে পারি?"
"এত রেগে যাচ্ছিস কেন সুজা। আমরা তো শুধু.."
"শোন, আমি তোদের মতো বেকার নই যে সারাদিন বসে অন্য মানুষের পারসোনাল লাইফ নিয়ে গসিপ করব। আমার আরো অনেক কাজ আছে। সো গিভ মি স্পেস।"
এরমধ্যে ফারহানাও সেখানে চলে এসে সুজার এই অবস্থা দেখে এগিয়ে এসে বলে,
"কিরে মৌমাছির দলের মতো সুজাকে ঘিরে ধরেছিস কেন? আর জান্নাত..তোর খেয়েদেয়ে কোন কাজ নেই। একটা খবর পেয়ে সেটা সবাইকে জানাতে হবে। পেটে কিছু রাখতে পারিস না?"
জান্নাত বলল,
"তুই আমাকে দোষ দিচ্ছিস কেন? অনন্তাই তো সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে যে.."
সুজা এবার ক্ষোভে ফেটে পড়ে,
"এই নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়েকে এবার আমি উচিত শিক্ষা দেব। বাড়িতে তো আমার শান্তি কেড়েই নিয়েছে। এখন কি কলেজেও আমায় একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না?"
বলেই সুজা আবার ক্লাসরুমের দিকে পা বাড়ায়। ফারহানা তার পেছন পেছন যায়। জান্নাত বাকি মেয়েদের উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"চল..চল..আমরা গিয়ে ড্রামাটা নিজের চোখে দেখি।"
★★
অনন্তা চুপচাপ ক্লাসে বসে ছিল। সাব্বির শেখ তাকে টিফিনের জন্য বিরিয়ানি কিনে দিয়েছিল। সেই বিরিয়ানি বের করে সে খেতে যাবে এমন সময় সুজা এসে টেবিল চাপড়ে বলে,
"সমস্যাটা কি তোর?"
অনন্তা সুজার দিকে তাকিয়ে বলে,
"সুজা তুই..এসেছিস ভালো হয়েছে। এই দেখ বিরিয়ানি..তোর আব্বু কিনে দিয়েছে। চল আমরা একসাথে খাই.."
সুজা রাগে অনন্তার হাত শক্ত করে ধরে বলে,
"এসব নাটক বন্ধ করে আমার প্রশ্নের উত্তর দে। কেন করছিস এমন? আমার জীবনটা হেল কেন বানাচ্ছিস?"
অনন্তা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে,
"আমি কি করলাম সুজা? তুই কেন শুধু শুধু আমায় বলছিস।"
"শুধু শুধু? তুই ক্লাসে কি বলে বেড়িয়েছিস সবাইকে? তুই যে সুগার ড্যাডি ধরেছিস সেই কথা ক্লাসের সবাইকে না বললেই নয়?"
অনন্তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে,
"সুজা,,ছাড় লাগছে।"
"লাগুক..আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দে।"
"হ্যাঁ, বলেছি। সত্যই তো বলেছি।"
সুজা এবার অনন্তার হাত ঝটকা দিয়ে ছেড়ে দিয়ে পাশে থু থু ফেলে বলে,
"ইচ্ছা করছিল তোর মুখে এই থুথু দিতে। কিন্তু তুই আমার থুয়েরও যোগ্য না।"
"সুজা!"
"শাট আপ! তোর ঐ গাটার মাউথ দিয়ে আমার নাম একদম বের করবি না। গোল্ড ডিগার, লোভী মেয়ে কোথাকার।"
"সুজা সবাই দেখছে! সবার সামনে তুই আমায় এসব বলতে পারিস না।"
"সবার সামনে যদি তুই আমার আব্বুকে বিয়ে করেছিস এই কথা গর্ব করে বলে বেড়াতে পারিস তাহলে আমিও সবার সামনে তোর সত্যতা তুলে ধরতে পারি। আর এই যে, খুব সতী সাবিত্রী সাজার নাটক করছিস এটাও আমি বুঝতে পারছি। এই নাটক করেই তো আব্বুকে ভুলিয়েছিস তাই না?"
ফারহানা পাশ থেকে বলে,
"একদম ঠিক বলেছিস তুই সুজা! এই মেয়ে একটা আস্ত সাপ। তোর সাথে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে.. আমার বললেও লজ্জা করছে।"
"থাক, বাদ দে। একে তো আমি দেখে নেব৷ শোন, অনন্তা তুই যেই উদ্দ্যেশ্যেই আমার আব্বুকে বিয়ে করেছিস তা আমি সফল হতে দেব না। তোর আসল মুখোশ শীঘ্রই টেনে ছিড়ব। তারপর দেখবি, আমার যেই আব্বু তোকে বিয়ে করে আমাদের বাড়িতে এনেছে। সেই তোকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেবে।"
অনন্তা উঠে কান্না করতে করতে কলেজ থেকে বেরিয়ে যায়। সুজাও এরপর ভেঙে পড়ে৷ ফারহানা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
"চিন্তা করিস না সুজা। সব ঠিক হয়ে যাবে।"
"আমি অনেক চেষ্টা করছি শক্ত থাকার। কিন্তু এত মানসিক যন্ত্রণা আমি আর নিতে পারছি না ফারু।"
"আমি জানি সুজা,তুই বাইরে যতোই স্ট্রং দেখানোর চেষ্টা করিস নিজেকে..ভেতরে তুই ঠিক ততোটাই সেনসিটিভ। তবে তোকে এখন শান্ত থাকতে হবে।"
"আমি নিশ্চিত ঐ অনন্তা এখন বাড়িতে ফিরে আবার নতুন কোন ড্রামা করবে।"
"যদি তোর অসুবিধা মনে হয় তাহলে আমাদের বাড়িতে চল আজকে। আমি আম্মুকে বলছি.."
"না, ফারু। আমাকে আজ বাড়িতে ফিরতে হবে৷ ঐ অনন্তাকে আমার একটুও বিশ্বাস নেই, জানি না ও কিভাবে কখন কি করে। ওর আসল উদ্দ্যেশ্য কি তা আমায় জানতে হবে। আজ বাড়িতে ফিরলেই আমি তা জানতে পারব।"
★★
সাব্বির শেখ আজ বেশ তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে ফিরেছেন। এসেই তিনি সোফায় বসে কিছু জরুরি কাজ করছিলেন। এমন সময় অনন্তা অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়িতে প্রবেশ করল। অনন্তাকে এভাবে আসতে দেখে সাব্বির শেখ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
"অনন্তা..কি হয়েছে তোমার?"
অনন্তা নিজের চোখের জল মুছে বলে
"কিছু না।"
বলেই উপরে চলে যেতে নেয়, সাব্বির শেখ তাকে আটকে বলে,
"অনন্তা, লুক এট মি। তুমি কলেজ থেকে এভাবে কাদতে কাদতে বাড়িতে ফিরলে কেন? কি হয়েছে কলেজে?"
"কিছু হয়নি বললাম তো।"
"সুজা কিছু বলেছে?"
অনন্তা চুপ।
সাব্বির শেখ বুঝে যান সুজাই কিছু করেছে।
"আজ শুধু আসতে দাও ওকে। আমি ওকে.."
"দোহাই লাগে এমন কিছু করবেন না। একেই আমার জন্য আপনাদের মাঝে এত ঝামেলা আমি চাইনা যে.."
"তুমি এরপরও সুজার হয়ে কথা বলবে? আজ শুধু আসতে দাও ওকে। তারপর ওকে উচিৎ শিক্ষা দেব।"
এমন সময় সুজা চলে আসে৷ এসেই বলে,
"এসে গেছি আমি। নিন কি করবেন করুন।"
সুজাকে দেখেই সাব্বির শেখ ক্রোধের সাথে এগিয়ে এসে বলেন,
"কি করেছ তুমি অনন্তার সাথে? ও কেন কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরল?"
সুজা ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,
"ও যেটা ডিজার্ভ করে সেটাই করেছি। ওকে ওর স্থানটা বুঝিয়ে দিয়েছি। সামনে আরো বুঝিয়ে দেব। এনি প্রব্লেম?"
"সুজা!"
"আপনার ধমকে আর আমি ভয় পাইনা মিস্টার শেখ।"
"তোমার স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হচ্ছি। এতটা অভদ্র হয়েছ তুমি।"
"তাও ভালো এট লিস্ট লুচ্চামি করে নিজের হাটুর বয়সী কাউকে বিয়ে করি নি!"
"সুজা!"
বলেই সাব্বির শেখ সুজার গালে থাপ্পড় দিতে যান এমন সময় একটা বলিষ্ঠ হাত এসে তাকে আটকায়। সাব্বির শেখ হতবাক স্বরে বলেন,
"সোহেল!"
"তুমি আপুকে মারছ কেন আব্বু?"
ক্ষোভের সহিত বলে ১৮ বছর বয়সী সোহেল।
চলবে ইনশাআল্লাহ ✨

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন