ফন্ট সাইজ:
থিম:
পদ্মপাতা

১১তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#পদ্মপাতা~🪷

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ১১

🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

🪷🪷🪷

পদ্ম হাতে থাকা আগুনের মশাল টা উঠোনে ছুড়ে ফেলে দিল।

“আমি চাইলে এক্ষুনি তোর বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিতে পারি। কিন্তু না আমি তেমনটা করবো না। নিজের বাড়ি আর স্বপ্ন ছাই হয়ে যাওয়ার কষ্ট টা আমি বুঝতে পারি। আর তাহলে আমার আর তোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না।..”

শামসু জোমাদ্দার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে। পদ্মর মা মেয়ে কে থামাতে চাইছেন, কিন্তু আজ যেন পদ্ম এর একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে।

“আর আমি এটাও জানি যে দেশে এখনো আইন কানুন বেঁচে আছে। আর তোর মতো জালিমের বিরুদ্ধে আমি সেটাই বেঁচে নেবো।…”

এই বলে পদ্ম যেই পিছনে ফিরলো। তখনই সেখানে হঠাৎ পুলিশের গাড়ির সাইরেন শোনা গেল। পদ্ম পুলিশ দেখে বেশ খুশি হলো, তবে পেছনে দাঁড়িয়ে শামসু জোমাদ্দার শয়তানি হাসছে।

“দারোগা সাহেব, দারোগা সাহেব এই শয়তান শামসু জোমাদ্দার কে নিয়ে যান। ও আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।..”

পদ্ম উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো। কিন্তু ওর কোন কথাই দারোগা সাহেব শুনলেন না।

“শামসু জোমাদ্দারের জমি পুড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে। আমরা আপনার মাকে গ্ৰেফতার করতে এসেছি।..”

পদ্ম ও তার মা এই কথা শুনে বেশ চমকে উঠলো। আর শামসু জোমাদ্দার‌‌‌ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে।

“আমাকে?!. আমি কি করেছি?!.. আমি তো কিছুই করিনি।..”

পদ্মর মা ঘাবড়ে গিয়ে বলে উঠলো। কিন্তু পুলিশ তার কোনো কথা শুনলো না।

“এই নিয়ে চলো এনাকে।..”

“না না নেবেন না। এমনটা করবেন না। আমার মা কিচ্ছু করেনি। আমার মাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমার বাড়ি শামসু জোমাদ্দার পুড়িয়েছে। আমার মা তো কিছু করেনি।…”

“কিন্তু আমরা খবর পেয়েছি যে আপনারা নিজেরাই বাড়ি পুড়িয়েছেন। আর তারপর শামসু জোমাদ্দারের জমিও পুড়িয়ে দিয়েছেন।..”

দারোগা সাহেব বলে উঠলেন। পদ্ম আকুতি মিনতি করে বলল…

“না না দারোগা সাহেব, আপনাকে কেউ ইচ্ছা করে ভুল খবর দিয়েছে। এটা সত্যি নয়।..”

“বাড়ি ক্ষেত, জমি সবকিছুই শামসু জোমাদ্দারের। তাহলে আগুন লাগিয়ে উনি নিজেই নিজের ক্ষতি কেন করবেন?!..”

দারোগা সাহেব পদ্ম কে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল।

“নিয়ে চলো এনাকে।..”

এই বলে দারোগা সাহেব হেঁটে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। আর মহিলা কনস্টেবল পদ্মর মাকে ধরে নিয়ে যেতে লাগল।

“না না কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমার মাকে?!.. উনি কিচ্ছু করেননি, ছেড়ে দিন উনাকে।..”

কিন্তু কেউই পদ্মর কোনো আকুতি মিনতি শুনলো না। পদ্মর মাকে পুলিশ গাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। আর তারপর ওর মায়ের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদ্ম কাঁদতে কাঁদতে বলে যাচ্ছে যে ওর মা কিছু করেনি।

“আরে কি করছেন আপনারা?!.. আমার মা কিচ্ছু করেনি। উনাকে নিয়ে যাবেন না। আমি আমি এক্ষুনি শামসু জোমাদ্দারের সাথে কথা বলে আসছি। আপনারা দয়া করে আমার মাকে নিয়ে যাবেন না।..”

এই বলে পদ্ম কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে আবার শামসু জোমাদ্দারের কাছে এসে তার পা ধরে বসে পড়লো।

“না না পদ্ম এমন করিস না পদ্ম মা।..”

পদ্মর মা মেয়ের এমন অবমাননা কিছুতেই সহ্য করতে পারলেন না। কিন্তু পদ্ম যে মাকে কিছুতেই পুলিশ কে নিয়ে যেতে দেবে না। তাতে যদি ওকে ঐ অত্যাচারী শামসু জোমাদ্দারের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হয়, ও তাতেও রাজি আছে।

“ছেড়ে দিন‌ আমার মাকে। আপনি তো জানেন আমার মা কিচ্ছু করেনি। আমার মা কোনো অন্যায় করেনি, আমার ভুলের শাস্তি আমার মাকে দেবেন না। আমি আমি আপনার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইছি। আমার সবকিছু তো ছারখার করে দিয়েছেন। এবার আমার মাকেও আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেবেন না।…”

পদ্ম শামসু জোমাদ্দারের পা ধরে কাঁদতে কাঁদতে আকুতি মিনতি করতে লাগলো। আর শামসু জোমাদ্দার‌‌‌ পদ্ম কে নিজের পা ধরতে দেখে মনে মনে ভীষণ খুশি। ও তো এটাই চাইছিল, কতবড় সাহস ওর বাড়িতে আগুন ধরাতে চায়। এজন্যই বলে মেয়ে মানুষের এতো তেজ ভালো নয়।

“আমার মাকে ছেড়ে দিন। আপনি যা বলবেন আমি সেটাই মেনে নেবো। তবুও দয়া করে আমার মাকে ছেড়ে দিন।…”

এই কথা শুনে শামসু জোমাদ্দারের খুশি যেন আর ধরে না।‌ ও শয়তানি হাসি হেসে পদ্মর পাশে ফ্লোরে বসে পড়লো। তারপর একটুখানি ঢং করে বলল…

“এই পদ্ম ওঠো ওঠো। দেখো তুমি এভাবে কান্নাকাটি করো না। তুমি তো জানো আমি তোমাকে ভালোবাসি, আর তুমি কাঁদলে আমার ভালোও লাগে না। তোমাকে আমি যে প্রপোজাল টা দিয়েছিলাম, ওটা তুমি মেনে নাও। বলে দাও যে তুমি শামসু জোমাদ্দারের ঘরণি হতে চাও।..”

এই কথা শুনে মায়ের চিন্তায় অস্থির হয়ে মাথা নিচু করে কাঁদতে থাকা পদ্ম থমকে গেল। ঘরণি?.. শামসু জোমাদ্দারের?!.. বিয়ে?!..

“শুধু এটা মেনে নাও। কি তুমি রাজি আছো তো?!..”

শামসু জোমাদ্দারের এমন বক্তব্য শুনে পদ্ম আবারো কান্নায় ভেঙে পড়লো। এছাড়া কি আর কোনো উপায় নেই ওর কাছে?!.. মাকে বাঁচাতে হলে কি নিজেকে বিসর্জন দিতে হবে?!..

“না না এটা হতে পারে না।..”

“রাজি নয়?!.. এখনো রাজি নও??. এই দারোগা নিয়ে যাও।..”

পদ্ম কাঁদতে কাঁদতে আনমনে বলে উঠলো। আর শামসু জোমাদ্দার‌‌‌ সেটা শুনে পুলিশ কে রেশমি বেগম কে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললো।

আর তারপর পুলিশের গাড়ি চলতে আরম্ভ করলো। আর পদ্ম মা মা বলে কান্নায় ভেঙে পড়লো। পদ্মর মাও মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে লাগলো। পদ্ম বিনা অপরাধে মায়ের এমন পরিনতি মেনে নিতে পারলো না। ও কাঁদতে কাঁদতে শামসু জোমাদ্দারের দিকে ফিরে বললো…

“আমি আমি রাজি আছি। আমার মাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি আছি‌।..”

শামসু জোমাদ্দার নিজের চাওয়া হাসিল করে নিয়েছে।

“কি! কি! বললে তুমি!.. আরে এই দারোগা কি করছো কি ?!. আরেহ ফ্যামিলি ম্যাটার এটা। বুঝতে পারছো না?!.. আমার শাশুড়ি মা যে।..”

পদ্ম মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগলো। আর শামসু জোমাদ্দার‌‌‌ উঠে লুঙ্গি ধরে পুলিশের গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

“আরে শাশুড়ি মা , হবু শাশুড়ি আমার। আর তার সাথে এ কিরকম ব্যবহার?!.. এই পালাও এখান থেকে তাড়াতাড়ি পালাও। যাও এখান থেকে।..”

পদ্মর মা ছাড়া পেতেই দৌড়ে মেয়ের কাছে ছুটে গেলেন।

“মা মা আমার মা।..”

মা মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। একদিকে পদ্ম মাকে বিনা অপরাধে জেলে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার কথা না বলে দিয়েছে। এবার যে ঐ অত্যাচারী শামসু জোমাদ্দার‌‌‌ কে বিয়ে করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

“এই এখানে কী নাটক হচ্ছে?!

হ্যাঁ ফ্রি তে সিনেমা দেখতে এসেছো সবাই?!.. চালাবো গুলি উড়ে যাবে খুলি। যাও এখান থেকে।..”

শামসু জোমাদ্দারের বাড়ির উঠোনে জড়ো হওয়া গ্ৰামবাসীদের উদ্দেশ্য শামসু চিৎকার করে বলে উঠলো। আর তারপর সবাই দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।‌

শামসু জোমাদ্দার এবার পদ্ম ও তার মায়ের দিকে এগিয়ে গেল। আর তখনই পদ্মর দাদী জোহরা ভানু হাসতে হাসতে শামসু জোমাদ্দারের দিকে এগিয়ে এলো।

“শামসু বাবা শামসু তুমি যে এতো দয়ালু। এতোটাই ভালো আমি আগে জানতাম না। তোমার এই ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারবোনা।..”

“আহ্ দাদি, এসব কি বলছেন আপনি। এখানে দয়ার কথা কোথা থেকে আসল?!.. আপনার নাতনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।..”

শামসু জোমাদ্দারের এই কথা শুনে পদ্মর মা চমকে উঠে ওর দিকে তাকালো। ওখানে থাকা কাদের উস্তাদও এই কথা শুনে চমকে উঠলো। রেশমি বেগম কান্না ভেজা চোখে হতবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকালেন। পদ্ম মায়ের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো।

তবে এই কথা শুনে পদ্মর দাদী জোহরা ভানু নিজেই যেন শামসু জোমাদ্দারের থেকে বেশি খুশি হয়েছে এমন অবস্থা।

“দাদি তবে তো আমি এখন থেকে আপনাদের হবু জামাই। আপনি বরং আগে আমাকে দোয়া দিন।..”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার দাদির পায়ে সালাম করলো।

“আরে বেঁচে থাকো বাবা। ভালো থাকো।..”

তারপর শামসু জোমাদ্দার পদ্মর দিকে এগিয়ে গেল।

“আরে এই তুমি হ্যাঁ বলে দিয়েছো। এখনো ওদিকে কি করছো ?!.. এদিকে এসো , দেখো কি এটা‌।..”

তারপর শামসু জোমাদ্দার স্বন্যের একটি ব্রেসলেট পদ্মর সামনে ধরে বলল…

“তুমি তো জানো যেদিন আমি তোমাকে প্রথম বার দেখেছি। সেদিন থেকে আমি এই বালা টা সাথে নিয়ে ঘুরছি যে কবে এটা তোমায় পড়াবো। হাতটা দাও দেখি..!..”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার পদ্মর হাত টেনে নিয়ে ব্রেসলেট টা পড়িয়ে দিল। পদ্ম কাঁদতে কাঁদতে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রইল।

“পদ্ম তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না। যে আমি কতটা খুশি হয়েছি তোমার রাজি হওয়াতে। আমি এখন চললাম, সারা গ্ৰামে মিষ্টি বিলাবো।..”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। আর পদ্ম কাঁদতে কাঁদতে মায়ের বুকে লুটিয়ে পড়ল। পদ্মর মা রেশমি বেগম ভেজা চোখে মেয়ের কান্না দেখে যাচ্ছেন। উনার জন্যই এইসব হয়েছে, উনাকে বাঁচাতে গিয়েই মেয়েটাকে এতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তবে পদ্মর দাদির যেন ঈদ লেগেছে। তিনি এই বিয়েটা নিয়ে ভীষণ খুশি। কারণ শামসু জোমাদ্দার তাদের আর্থিক সহায়তা করবে, তাদের আর না খেয়ে দিন কাটাতে হবে না। তবে তিনি একটুও নাতনির চিন্তা করছেন না।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন