ফন্ট সাইজ:
থিম:
পদ্মপাতা

১৩তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#পদ্মপাতা~🪷

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ১৩

🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

🪷🪷🪷

“আরে কত চাল, কতগুলো ডাল। আরে বৌমা আমাদের তো কপাল খুলে গেছে। আরে পদ্ম তুই শামসু জোমাদ্দার কে হ্যাঁ বলে আমাদের ভাগ্যটাই পাল্টে দিলি।..”

পদ্মর দাদী জোহরা ভানু ভীষণ খুশি হয়ে মা মেয়ে কে বলে উঠলেন। শামসু জোমাদ্দার লোক দিয়ে ওদের জন্য বেশ অনেক কিছু বাজার করে পাঠিয়েছে। আর তাতেই যেন জোহরা ভানু হাতির পাঁচ পা দেখে ফেলেছেন। তিনি পদ্ম ও তার মায়ের কোনো কান্না, কোনো অমনোযোগীতা এসবের কিছুই দেখেও যেন দেখতে পাচ্ছেন না।

“পদ্ম!..”

পদ্ম কে ডাকতে ডাকতে ওদের ঘরে প্রবেশ করলো রুপা ও তার মা।

“আরে রুপা তুই”

“আসসালামুয়ালাইকুম চাচী..”

“ওয়ালাইকুমুস সালাম…”

রুপা পদ্মর মা ও দাদি কে সালাম দিল।

“পদ্ম তুই ঠিক আছিস তো?!. তোদের বাড়ি পুড়ে গেছিল, শুনে ভীষণ খারাপ লেগেছে।…”

রুপা পদ্ম কে বলে উঠলো। পদ্ম রুপার কথা শুনে মন খারাপ করে ফেলল। তবে সেটা রুপা কে বুঝতে দিল না।

“তুই কি কিছু বলতে এসেছিলি ?!..”

রুপা কপালে হাত দিয়ে বলল…

“ইস্ তোকে দেখে সব ভুলে যাচ্ছিলাম। একটা খুশির খবর ছিল, আমার বিয়ে হচ্ছে। আর সামনে মেহেদী অনুষ্ঠান আছে, তোকে কিন্তু থাকতেই হবে।...”

“কি বলছিস!.. সত্যি!.. আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! এটা তো খুব ভালো খবর।…”

“কে সেই ভাগ্যবান যে সুন্দরী রুপার মন জিতে নিল?!..”

পদ্ম রুপা কে ধরে জিজ্ঞেস করল। রুপা বলল…

“তুই অনুমান করে বলতো কে সেই মানুষটি।…”

“আমি..!..”

এই বলে ঠিক তখনই পদ্মদের ঘরের একজন পুরুষ প্রবেশ করলো। পদ্ম ও তার মা তাকে দেখে ভীষণ চমকে গেল।

“আরে মাস্টার মশাই?!...”

“আসসালামুয়ালাইকুম চাচী!.. আমি ওকে পছন্দ করেছি।”

পদ্ম ওদের একসাথে দেখে ভীষণ খুশি হয়েছে। এটা তো সেই মাস্টার মশাই যার সাথে আগের বার রুপা কে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। রুপার মা এবার এগিয়ে এসে পদ্মর দু কাঁধে হাত রাখলো।

“পদ্ম মা , যা কিছু হয়েছে, সেসব শুধু তোর জন্যই সম্ভব হয়েছে।‌…”

পদ্ম ভীষণ অবাক হয়ে বলল…

“আমার জন্য?!..”

“হ্যাঁ মিস পদ্ম, আপনার জন্যই। এখান থেকে যেদিন চলে গিয়েছিলাম, সেদিন থেকেই আপনার কথা মনে পড়ছিল‌। আপনি আমাকে সেদিন কতটা সাহায্য করেছিলেন। তারপর আপনার বলা কথাগুলো মনে পড়ছিল, যে যতদিন আমাদের মতো যৌতুক নেওয়া লোকগুলো সমাজে থাকবে। ততদিন সমাজের এই জোর করে বিয়ে দেওয়ার ব্যাথি সারবে না। দেখুন সমাজ কে তো আমি পাল্টাতে পারবো না, কিন্তু নিজেকে তো চাইলে বদলাতেই পারি।….”

মাস্টার মশাই বলে থামলেন। তারপর রুপার মা কন্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন…

“আর তারপর জামাই নিজেই সমন্ব নিয়ে এসেছে আমার রুপার জন্য। এর থেকে খুশির খবর আর কি হতে পারে বল। আর জানিস ওরা কোনো যৌতুক নেবে না আর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।….”

এবার রুপা পদ্মর দিকে এগিয়ে গেল। তারপর দুজনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো। দুজনেই ছোট বেলার বান্ধবী বলে কথা।

“তুই খুব ভালো রে পদ্ম। তোর উসিলায় আল্লাহ আমার জীবনটাই বদলে দিল। আর তুই দেখিস তোর বিয়েও কোনো পড়ালেখা জানা ভালো ঘরের ছেলের সাথেই হবে।…”

রুপার শেষের কথাটা শুনে পদ্মর মুখ শুকিয়ে মলিন হয়ে গেল। ও মনে মনে ভাবলো , এবার তোকে কিভাবে বলি আমার দুর্ভাগ্যের কথা। আমার বিয়ে তো ঐ জালিম অত্যচারি শামসু জোমাদ্দারের সাথে ঠিক হয়েছে।

পদ্ম চুপ করে রুপার দিকে তাকিয়ে রইল।

“কি হয়েছে পদ্ম?!.. তুই কি খুশি হসনি?!..”

পদ্মর মন খারাপ দেখে রুপাও মন খারাপ করে বলে উঠলো। এই কথা শুনে পদ্ম জোর করে মুখে হাসি আনলো।

“আরে কেন খুশি হবো না!.. তোর এতো বড় একটা আনন্দের দিন। আর আমি খুশি হবো না ?.. আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। এভাবেই তুই সবসময় হাসিখুশি থাক।…”

এই বলে পদ্ম রুপা কে জড়িয়ে ধরলো। তবে প্রাণের সখি রুপা বুঝতেই পারলো না তার বান্ধবীর মনে তখন কি ঝড়টাই না চলছে।

এদিকে ওদের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা রেশমী বেগম ঠিকই মেয়ের মনের মধ্যে চলতে থাকা ঝড় তুফান বুঝতে পারছে। তাই তিনি মনে মনে সংকল্প করলেন, যে তিনি পদ্ম ও শহুরে ডাক্তারের জোর জবরদস্তি করে বিয়ে দিয়েই ছাড়বেন। তারপর পদ্ম উনাকে যা খুশি তাই বলুক, উনি মেয়ের সব কথা শুনে নিবেন।

— — —

এদিকে আরমান ক্লিনিকে বসে খাতায় কিছু লিখছে। আর তখনই রুমের দরজায় কেউ নক করল। আরমান না দেখেই লিখতে লিখতে তাকে ভিতরে আসার অনুমতি দিল।

এদিকে ক্লিনিকের দরজায় তখন কাদের উস্তাদ ও তার সঙ্গীরা দাঁড়িয়ে আছে। একজনের কাঁধে আবার বস্তাও দেখা যাচ্ছে। তারপর একজন অন্যজনকে চোখের ইশারায় কিছু বলল। উস্তাদ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিতেই ওরা প্রস্তুত হয়ে গেল।

উস্তাদ ও তার দুই সঙ্গী , ওরা তিনজন ক্লিনিকের ভিতরে প্রবেশ করে আরমান কে চারপাশ থেকে ঘিরে দাঁড়ালো। আরমান ওদের দিকে নজর না দিয়েই জিজ্ঞেস করল…

“কি সমস্যা বলুন..”

“সমস্যা তো এবার আপনার হবে ডাক্তার মশাই।…”

কাদের উস্তাদ দুহাত পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে আছে। আরমান এই কথা শুনে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাদের উস্তাদের দিকে তাকালো।

এই বলে কাদের উস্তাদ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা নিজের ডান হাতটা থেকে গামছা টা খুলতে লাগল। আর আরমান ঘাবড়ে গিয়ে ওদের দিকে ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছে।

কাদের উস্তাদ এতক্ষণ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হাতের গামছা খুলে একটা খাম বের করলো। যেটাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে “শুভ বিবাহ”।

কাদের উস্তাদ একটুখানি হেসে খাম টা আরমানের দিকে এগিয়ে দিল। আর এই খাম দেখে আরমানের কলিজায় পানি আসলো। নাহলে তো আর একটু হলেই ভয়ে ও উপরে চলে যাচ্ছিল। ও একটুখানি বোকা বোকা হেসে খাম টা হাতে নিল।

“আসলে কি জানেন তো আজকে এই গ্ৰামের রুপার বিয়ের মেহেদী অনুষ্ঠানের পোরগ্ৰাম আছে। আজ কেউ আর কিলিনিকে আসবে না। আজকে গ্ৰামের সবাই ওখানেই থাকবে।…”

“হ্যাঁ….”

“ওও আচ্ছা বিয়ের প্রোগ্রাম!..”

এই বলে আরমান আর চোখে উস্তাদের এক চ্যালার দিকে তাকালো। যার হাতে বস্তা রাখা আছে। আরমানের এমন দৃষ্টি খেয়াল করে সেই ছেলেটা বলল….

“ঐ পোরগ্ৰামের জন্যই এটাতে করে বাজার আনতে যাচ্ছিলাম।…”

“ওওও আচ্ছা।…”

“হ্যাঁ তাই যাওয়ার পথে আপনাকে দাওয়াত দিতে এলাম। আপনি আসবেন কিন্তু।…”

উস্তাদ আরমানের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলে উঠলো। আরমান নিজেও একটু হেসে বলল…

“আরে আব এসবের কি দরকার ছিল। আমি তো যেতে পারবো না। তবে রুপা কে আমার হয়ে শুভ কামনা জানাবেন।…”

“এই ধর উনাকে….”

কাদের উস্তাদ এই কথা বলতেই ওর দুই সঙ্গী আরমান কে দুপাশ থেকেই চেয়ার শুদ্ধ চেপে ধরলো।

“আপনাকে তো যেতেই হবে ডাক্তার মশাই। আপনি যদি না যান তাহলে ভাইয়ের পুরো পোরগ্ৰাম টাই বাতিল হয়ে যাবে। তাইনা ভাইয়ে?!..”

কাদের উস্তাদ সঙ্গীদের প্রশ্নে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল।

“আরে কি করছেন আপনারা?!.. এভাবে চাপাচাপি টানাটানি করছেন কেন?!.. ছাড়ুন আমাকে।…”

আরমান নিজেকে ওদের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে উঠলো।

“না না আমারা ছাড়বো না। আগে বলুন আপনি যাবেন।..”

“আরে ডাক্তার মশাই বলে দিন আপনি যাবেন।…”

“হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো, আমি নিশ্চয়ই যাবো। আরে এবার তো আমাকে ছেড়ে দূরে গিয়ে দাঁড়াও!..”

“আসবেন আসবেন , ছেড়ে দে। ঠিক চারটার সময় আসবেন কিন্তু। আয় তোরা চলে আয়।…”

এই বলে কাদের উস্তাদ ও তার সঙ্গীরা চলে যেতে শুরু করল। আর যেতে যেতে কাদের উস্তাদ মনে মনে বলল..

“খেলা তো সবে মাত্র শুরু হলো। এবার হবে আসল ক্লাইম্যাক্স, পদ্ম ও ডাক্তার মশাইয়ের বিয়ে!...”

— — —

সন্ধ্যা ছয়টা বাজে। কুসুমপুর গ্ৰামের রুপার সংগীত অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গ্ৰামের সবাই সেখানে আনন্দ করছে।

আরমান অনুষ্ঠানে এসে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে দেখছে। গ্ৰামের সবাইকে তো আর ও চেনে না। আর না যান জন্য এই আয়োজন সেই রুপা কে চেনে।

শামসু জোমাদ্দার একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লোকেদের সাথে কথা বলছিল। আর হঠাৎ করেই তার নজর পড়ে আরমানের দিকে। শামসু জোমাদ্দার এগিয়ে এসে আরমানের কাঁধে হাত রাখলো। আরমান একটুখানি চমকে উঠে পিছনে ফিরে তাকালো।‌

“আরে ডাক্তার মশাই যে, তা এদিকে কি মনে করে?!..”

“এই গ্ৰামের কয়েকজন গিয়ে আমাকে দাওয়াত দিয়ে এসেছে। আর এমনিতেও আমি গ্ৰামের বিয়ে কখনো দেখিনি তাই চলে এলাম। আপনার কথা সবার কাছে অনেক শুনেছি।…”

এই বলে আরমান হ্যান্ডশেক করার জন্য শামসু জোমাদ্দারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।‌

“শামসু জোমাদ্দার সবার সাথে হাত মেলায় না।….”

শামসু জোমাদ্দারের এই কথা শুনে আরমান বেশ অপমানিত বোধ করে। ও হাত টা শক্ত করে মুঠ করে সরিয়ে ফেলে। আর শামসু জোমাদ্দারের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

“কিন্তু যাকে শামসু জোমাদ্দারের পছন্দ হয়। তার সাথে হ্যান্ডশেক নয়, তাকে সোজা বুকে জড়িয়ে নেয়।…”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার এগিয়ে এসে আরমানের সাথে কোলাকুলি করলো। আরমান এটা দেখে ভ্রু কুঁচকে শামসু জোমাদ্দারের দিকে তাকিয়ে রইল।

“আপনাকে একটা কথা বলি। আমাদের গ্ৰামে একটা চমৎকার রীতিনীতি আছে। আপনি শুনলে চমকে যাবেন। আমাদের গ্ৰামে যদি বাহিরে থেকে কোনো ছেলে মানুষ আসে, তাদের আমরা ধরে ধরে গ্ৰামের মেয়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিই। এবার আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনাকেও এই গ্ৰামের জামাই বানিয়ে দিই। হ্যাঁ!..”

এই বলে শামসু জোমাদ্দার হো হো করে হেসে উঠলো। আরমান তো সত্যি সত্যিই মনে মনে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। তবে শামসু জোমাদ্দার কে সেটাই বুঝতে দিল না। ও নিজেও একটুখানি হেসে উঠলো।‌

“চলুন তবে, অনুষ্ঠানের আনন্দ নেওয়া যাক।…”

“হ্যাঁ চলুন।…”

এই বলে আরমান শামসু জোমাদ্দারের সাথে ভিতরের দিকে এগিয়ে গেল। গ্ৰামের সকল মহিলা রা সেখানে গ্ৰাম্য বিয়ের গান গাইছে। আর পদ্ম সবার মাঝখানে বসে রুপা কে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে। পদ্ম রুপার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। সেটা দেখে রুপা হেসে বলল….

“ভালো করে দেখে নে পদ্ম। আজ আমার হাতে মেহেদী লেগেছে। আর খুব তাড়াতাড়ি তোর হাতেও এমন মেহেদীর রং লাগবে।..”

“নারে রুপা আমি আমার হাতে মেহেদী লাগাতে চাইনা। যার ভাঁড়ে চাপা পড়ে আমার স্বপ্ন আর সুখ দুটোই শেষ হয়ে যাবে।…”

এই বলে পদ্ম রুপার হাতে মেহেদী দেওয়ায় মনোযোগী হয়ে গেল। আর রূপা পদ্মর এমন কথার কিছুই বুঝতে পারলো না।

“কি?.. কি বললি তুই?... আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।…”

“মানে এইটা যে সবার ভাগ্যে তোর মতো স্বপ্নের পুরুষ থাকে না।…”

পদ্ম রুপা কে বলে উঠলো। আর তখনই সেখানে শামসু জোমাদ্দারের সাথে আরমান ওদের দিকে এগিয়ে আসছে। শামসু জোমাদ্দার কে সামনে দেখে পদ্ম ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। আরমান শামসু জোমাদ্দার পাশে এসে পদ্মর এমন ঘাবড়ানো মুখ দেখতে পেলো। ও ভ্রু কুঁচকে পদ্মর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

“এইটা হচ্ছে রুপা । যার জন্য আজকের এই অনুষ্ঠান।…”

আরমান শামসু জোমাদ্দারের কথা শুনে ওর হাতের গিফট টা রুপার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল….

“এইযে এটা আপনার জন্য। আর কংগ্ৰাচুলেশনস!..”

রুপা একটুখানি হেসে গিফট টা হাতে নিল। আর তারপর হাসিমুখে বলল…

“আপনাকে ধন্যবাদ। আর এটার দরকার ছিল না।…”

“আর পিছনে ওরা হচ্ছে রুপার পরিবারের লোকজন।..”

আরমান তাদের সালাম দিল। আর তারপর শামসু জোমাদ্দার সামনে কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পদ্ম কে দেখিয়ে বলল…

“আর ও হচ্ছে আমার….”

“পদ্ম…”

শামসু জোমাদ্দার বলার আগেই আরমান এক দৃষ্টিতে পদ্মর দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো। পদ্ম আরমানের মুখে নিজের নাম শুনে চমকে উঠে আরমানের দিকে তাকালো। আর তারপর দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল। একজনের চোখে ভীষণ মুগ্ধতা আর অন্যজনের‌ চোখ কৌতুহলে ভরা।

পদ্ম তড়িঘড়ি করে নিজের চোখ ঘুরিয়ে নিল। আর তারপর ভয়ে ভয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে শামসু জোমাদ্দারের দিকে তাকালো। শামসু জোমাদ্দার পদ্ম কে তাকাতে দেখে সশব্দে হেসে উঠলো।

“পদ্ম!.. শুনেছিলাম আপনাকে নাকি খুব উতক্ত করেছিল ও?!..”

শামসু জোমাদ্দার আরমানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো। পদ্ম তখনই তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো…

“না ওটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল।…”

পদ্ম পাশ ফিরে আরমানের দিকে তাকিয়ে বলল। আরমান ওর দিকে তাকিয়ে বলল…

“হুঁ , তোমার বাড়ি ঠিক হয়ে গেছে?!.. তুমি ঠিক আছো তো?!....”

কিন্তু শামসু জোমাদ্দার পদ্ম কে কিছু বলতে না দিয়েই বলে উঠলো।

“হ্যাঁ একদম ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই পদ্মর। আর গ্ৰামবাসীরা তোমাদের সবাইকে একটা আনন্দের সংবাদ জানতে চাই। শামসু জোমাদ্দার খুব শীঘ্রই বিয়ের আসরে বসতে চলেছে।…”

শামসু জোমাদ্দারের এমন কথা শুনে চারিদিকে সবাই হইহই করে উঠলো। আর তখনই পদ্মর চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। শামসু জোমাদ্দার পদ্মর কাঁধ জড়িয়ে ধরে বলল…

“আর সেটাও আমার পছন্দের পদ্মর সাথে।…”

পদ্মর চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আর রুপার পরিবারের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা রেশমী বেগমের চোখজোড়াও ভিজে উঠলো। আরমান গম্ভীর হয়ে পদ্মর চোখের দিকে তাকালো। তারপর পদ্মও ঘাড় ঘুরিয়ে ছলছল চোখে আরমানের দিকে তাকালো। সেই দৃষ্টি দেখে আরমান অন্যদের ফিরে তাকালো।

“ওহ্, কংগ্ৰাচুলেশনস!.. বিয়ের জন্য।…”

আরমান শান্ত দৃষ্টিতে পদ্মর দিকে তাকিয়ে রইল। শামসু জোমাদ্দার পাশে থেকে বলে উঠলো…

“আরে থ্যাংক ইয়ু থ্যাংক ইয়ু ডাক্তার মশাই।…”

“এখন তো গ্ৰামের সবচেয়ে বড়লোকের সঙ্গে তোমার বিয়ে হচ্ছে। এবার জীবনের সকল সমস্যাও মিটে যাবে।…”

আরমান পদ্মর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো। আর পদ্ম চোখ তুলে আরমানের দিকে তাকালো। আর তারপর জোর করে একটুখানি হাসার চেষ্টা করলো। আর আরমান এক দৃষ্টিতে পদ্মর দিকে তাকিয়ে রইল।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন