ফন্ট সাইজ:
থিম:
পদ্মপাতা

২১তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#পদ্মপাতা~🪷

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ২১

🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

🪷🪷🪷

“তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো?!..”

“আরে নতুন ভাবি?!. এসো এসো এদিকে এসে বসো। আমরা এমনিতেই গল্প করছিলাম।…”

এই বলে শিরিন পদ্ম কে টেনে ওর পাশে বসিয়ে দিল। রাইমা যেন পদ্ম কে সহ্যই করতে পারছে না।

“আমরা যা ইচ্ছে তাই বলবো। কিন্তু তোমাকে কেন বলতে হবে?!.. দু'দিন হলো এসেছো, আর এসেই সবার উপর অধিকার দেখাচ্ছো?!..”

পদ্ম রাইমার এমন কথায় মনে মনে বেশ কষ্ট পেল। ওর সাথে তো রাইমার সাথে এই প্রথম কথা বলছে। কিন্তু এমন ভাবে বললো যেন ও মেয়েটার কোন বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে।

“এভাবে কথা বলছো কেন?!.. আর আমি তো এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম যে তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো। আর আমি কোথায় সবার উপরে অধিকার দেখালাম?!..”

পদ্ম রাইমার‌ দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে উঠলো। আর রাইমার এমন বিদ্বেষী মনোভাব দেখে শিলা ও শিরিন বেশ অবাক হয়েছে। কারণ সাধারণত রাইমা ভীষণ মিশুক প্রকৃতির মেয়ে। কিন্তু ও নতুন ভাবির সাথে এভাবে কথা বললো কেনো সেটা শিরিন না বুঝলেও শিলা বোধহয় একটু একটু বুঝতে পারছে।

আর আরিনা ভাবলো যে পদ্ম কে রাইমাও ওর মতো পছন্দ করে না। তাই ও তাল মিলিয়ে বলল…

“হ্যাঁ তাইতো। ওরা এই বাড়ির মেয়ে তুমি ওদের কে কেন জিজ্ঞেস করবে যে ওরা কি নিয়ে কথা বলছে। সবকিছু তোমাকে জানতে হবে কেন?! দেখেছো না রাইমা তোমাকে পছন্দ করছে না। যাও এখান থেকে।…”

“তুমি চুপ থাকো। তোমাকে যে খুব পছন্দ করেছি তেমনটাও ভেবো না। তুমি যাকে বিয়ে করতে এসেছো, তার উপর তোমার আগে থেকে আমার নজর ছিল। তাই তুমি তাড়াতাড়ি এখান থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে যাবে। বুঝেছো আমার কথাটা?!..”

রাইমা আরিনার দিকে আঙ্গুল তুলে কড়া গলায় বলে উঠলো। আরিনা তো রাইমার এমন কথায় ভীষণ চমকে উঠলো।‌ মানে এই মেয়েটাও আরমান কে পছন্দ করে?!..

আর পদ্ম তো মনে মনে ভাবছে কালকে দাদীর মুখে ঘর গোছানোর কথা শুনে ওর মাথায় সর্বপ্রথম যেটা এসেছিল?!. সেটাই সত্যি হলো। তবে এখন তো ও নিজেও ডাক্তার মশাই কে ভালোবাসে। আর ওদের বিয়েও হয়ে গিয়েছে। হয়তোবা ডাক্তার মশাই ওকে ভালোবাসে না, কিন্তু বাসতে কতক্ষন?!.. পদ্ম কে এই দুই রাক্ষসি থেকে নিজের স্বামী কে সাবধানে রাখতে হবে তো।‌

“আব.. শিলা আমি চাইছিলাম একটু বাড়ি টা ঘুরে দেখতে। তুমি কি একটু আমার সাথে আসবে?!..”

পদ্ম রাইমা ও আরিনার কথায় কোন ধ্যান না দিয়ে শিলা কে বলে উঠলো।

“হ্যাঁ ভাবী কেন যাবো না। চলো চলো আমাদের এখানে কাজ নেই।..”

এই বলে পদ্ম আর শিলা ওখান থেকে চলে গেল। আর আরিনা কটমট করে রাইমার দিকে তাকিয়ে রইল। কোথায় ও ভেবেছিল একে পটিয়ে আরমানের কাছাকাছি যাবে , আর এই অশিক্ষিত মেয়েটাকে এখান থেকে তাড়াতে সাহায্য চাইবে। এখন শুনছে এই মেয়েই উল্টো আরমানের উপর নজর দিয়েছে?!..

একে তো ঐ মেয়েটা ওর প্রতিদ্বন্দি ছিল , আর ওদের বিয়েও হয়ে গিয়েছে। তারমধ্যে এখন আবার এই রাইমা ?!. ঐ অশিক্ষিত মেয়েটাকে তো ও দেখে নেবে কিন্তু এই মেয়ে কে কি করবে?!.. ও নিজেই তো এই বাড়ির অতিথি, আর রাইমা এই বাড়িরই মেয়ে।

আরিনা এসব ভেবে রাইমার দিকে তাকিয়ে বলল…

“কিন্তু আরমান শুধু আমাকে পছন্দ করে। তাই তুমি ওকে ভুলে যাও।..”

“ওও আরমান ভাই তোমাকে পছন্দ করে?!.. তাহলে যে বিয়ে করে এনেছে তাকে কি করে?!..”

“ওটা তো শুনলেই ওদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাহলে তো আরমানের সাথে আমার বিয়ে হতো। আর আমি যদি আগে জানতাম যে তুমি ওকে পছন্দ করো, তাহলে তো আমি ঢাকাতেই বিয়ে সেরে ফেলতাম।…”

“তুমি তাহলে এখনো স্বপ্নের কল্পনায় আটকে আছো। আর নাহলে তুমি আরমান ভাই কে এখনো চিনতেই পারোনি।…”

রাইমার এমন কথায় আরিনার ভ্রু কুঁচকে গেল। এই মেয়েটা কি বলতে চাইছে?!.. দু'বছর ধরে ও আরমান কে চেনে।

“মানে?!.. এই তুমি কি বলতে চাইছো?!.. আমি দু'বছর ধরে ওকে চিনি।”

“আর আমি জন্ম থেকেই আরমান ভাই কে চিনি। তিনি এমন একজন মানুষ যাকে দিয়ে কখনো তার ইচ্ছের বাইরে কিচ্ছু করানো যায় না। আর সেখানে কেউ জোর করে বিয়ে করিয়ে দেবে, এটা আমি কেন এই বাড়ির কেউই বিশ্বাস করবে না। তোমার মতো দুদিনের পরিচিত কেউ ছাড়া।…”

রাইমার এমন কথায় আরিনা ভেংচি কেটে বলল…

“সেটা যাই হোক। ঐ মেয়েটাকে তো আরমানের জীবন থেকে তাড়াবোই। কিন্তু তুমি দয়া করে আমার পথে বাধা হইয়ো না। তাহলে তোমাকে যে ছেড়ে দেবো এমনটা ভেবো না। আরমান আমার জীবন, ও আমার না হলে অন্য কারো হতে দেবো না।…”

“এই তোমরা দুজনে কী শুরু করেছো বলো তো?!.. আরে ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। উনি নিশ্চয়ই চিন্তাভাবনা করেই বিয়েটা করেছেন। তোমরা একজন বিবাহিত পুরুষ কে নিয়ে এভাবে টানাটানি করছো কেন?!.. এগুলো যদি ভাইয়ার কানে যায় না, তাহলে যে কি হবে সেটা তো বুঝতেই পারছো।..”

শিলা এবার আর চুপ না থাকতে পেরে বলে উঠল। রাইমা শিলার কথায় চুপচাপ মুখ গোমড়া করে বসে রইল। আর আরিনা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল…

“কেন?!.. আরমান জানলে কি হবে?!.. আর ওতো জানেই আমি ওকে ভালোবাসি।…”

“তোমার কিছু হবে কিনা জানি না। কিন্তু রাইমা আপুর কথা ভাইয়ার কানে গেলে ওকে সোজা ধরে বিয়ে দিয়ে দেবে। একদম কোন কথা তখন আর কাজে আসবে না। ভাইয়া ওর বিয়ে দিয়েই ছাড়বেন।…”

“কি বললে ?!.? সত্যি?!.. তাহলে তো আমিই গিয়ে আরমান কে বলে দেবো। আর তারপর ওর বিয়ে দিয়ে দেবে। আর তারপর ঐ মেয়েটাকে তাড়িয়ে দিলেই আরমান আমার হয়ে যাবে। আমাদের মধ্যে আর কোনো বাধা থাকবে না।…”

আরিনা খুশি হয়ে বলে উঠলো। রাইমা এই কথা শুনে ভীষণ রেগে গেল। আর শিলা ওর কথা শুনে মিটি মিটি হাসছে।

“আমাকে যদি তোমার এই কাজেঋ জন্য বিয়ে দিয়ে দেয়?!. তাহলে তোমাকে এই বাড়ি থেকে না তাড়িয়ে আমি শশুরবাড়ি যাবো না। এটা মনে রেখো আরিনা খাতুন।…”

এই কথা বলে রাইমা ওখান থেকে উঠে চলে গেল। আরিনা নিজের নামের পাশে খাতুন শুনে তো বেশ রেগে গেল।

“এই এই কে খাতুন?!.. আমাকে দেখে কি তোমার বুড়ি মনে হয়?!?? এইসব খাতুন টাথুন বুড়ি মহিলাদের পদবী। খবরদার আমাকে এসব বলবে না।..”

“তুমি এখানে বসে বসে ভাবো কি ভাবে নতুন ভাবি কে তাড়ানো যায়। আর কিভাবে রাইমা আপুর বিয়ে দেওয়ার পরো তুমি এখানে থাকতে পারবে। আমিও যাই এখন।…”

এই বলে শিলাও হলঘর থেকে উঠে বাহিরে চলে যায়। আর আরিনা রাগে ক্ষোভে কটমট করতে করতে নিজের ঘরে চলে যায়।

— — —

এদিকে পদ্ম আর শিরিন জমিদার বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। শিরিন ওকে দেখাচ্ছে কোথায় কি আছে, আর বাড়ির মেয়েদের কখন কোথায় যাওয়ার জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে।

“এই বাড়িটা তো অনেক বড়।..”

“হ্যাঁ এখানে অনেক অনেক গুলো কামরা আছে।‌ আমি তো ছোট থেকেই এখানে বড় হয়েছি।..”

“আচ্ছা তোমরা সবাই কেমন যেন চুপচাপ ভয়ে ভয়ে থাকো। আমি খাবার টেবিলে দেখেছি, ফুফু আম্মা কে যেন সবাই একটু বেশীই ভয় পায়।…”

“হ্যাঁ ফুফু আম্মা ছোট থেকেই ভীষণ জেদি আর কড়া। দাদা মশাইয়ের পরে তিনি যা বলবেন সেটাই সবার জন্য সঠিক। কেউ তার কথা অমান্য করলে তিনি তাকে দেখে নেন। এই যে তোমাকে ফুফু আম্মা পছন্দ করছেন না?!. উনি এখন দেখবে সবসময় সুযোগ পেলেই তোমার পিছনে লেগে থাকবেন। আর যে বললে সবাই চুপচাপ থাকে?!? এটা এই বাড়ির নিয়ম, বাড়ির মেয়েদের বেশি কথাবার্তা উচ্চস্বরে হাসাহাসি এগুলো এখানে চলবে না। দাদা মশাইয়ের কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে এতে। তবে আমরা ছোট থেকেই এমন চুপচাপ থাকতে থাকতে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।…”

শিলা বলে চললো। আর পদ্ম মনোযোগী শ্রোতার মতো সবকিছু মন দিয়ে শুনে চলেছে।

“কিন্তু দাদী দেখলাম প্রচুর কথা বলেন। তিনি বোধহয় কথা বলতে খুব ভালোবাসেন। আর আমি আসতেই আমাকে কেমন আপন করে নিয়েছেন। দাদী খুব মিশুকে স্বভাবের কিন্তু তার মেয়েটা এমন হলো কিভাবে?!..”

“চুপ কর ভাবি। শুনতে পেলে তোমার আর রক্ষা নেই। আর দাদী আগে থেকেই ওমন, তবে তিনি কিন্তু দাদা মশাই কে ভীষণ ভয় পান। দাদা মশাই বাড়ি থাকলে তখন দাদী দরকার ছাড়া কথাই বলে না। আর তারপর দাদা মশাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেই দাদীর কথার ঝুড়ি শুরু হয়।…”

এই বলে শিরিন আর পদ্ম একসাথে হেসে উঠলো। দাদী মানুষ টা আসলেই বেশ মজার মানুষ।

“আচ্ছা আমি তোমার ভাইয়ের কামরার বারান্দা থেকে একটা পুকুর দেখতে পেলাম। ভীষণ সুন্দর, ওখানে কত কত পদ্ম ফুল ফুটে আছে। আমার তো দেখেই ইচ্ছে করছিল গিয়ে তুলে আনি।…”

“খবরদার একবার বলেছো আর কখনো বলো না কিন্তু। এই বাড়ির সবথেকে বড় নিষেধাজ্ঞা হলো ঐ পদ্ম পুকুরের ধারে কাছেও কেউ ঘেঁষতে পারবে না। তাহলে দাদা মশাই তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন। আমরা ছোট থেকেই এ পুকুর দেখে আসছি। আগে ওটা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে হঠাৎ একদিন দাদা মশাই এই নিয়ম জারি করেছেন। আর তারপর থেকেই ওখানে কেউ ভুলেও যায় না।‌…”

“শোন ভাবি , এটা জমিদার বাড়ি। এখানে এমন অনেক কিছুই ঘটে যা দেখেও তোমাকে না দেখার ভান করে থাকতে হবে। তাই যদি তোমার সামনে কখনো অস্বাভাবিক কিছু পড়ে তাহলে ভয় পেওনা যেন। আর সবচেয়ে বেশি যেটা মনে রাখতে হবে তা হচ্ছে কোনো কিছু নিয়ে কৌতুহল দেখানো যাবে না।…”

“তোমার এই কথাগুলোর‌ আগা গোড়া কিছুই আমি বুঝতে পারছি না শিলা। অস্বাভাবিক কিছু দেখবো মানে?!.. আর দেখেও চুপ থাকতে হবে কেন?!. আর আমার তো এমনিতেই যেকোনো বিষয়ে কৌতুহল খুব বেশি। এই যেমন পুকুরের ওপাশে যে দোতলা বাড়ি ওটা কিসের জন্য?!. আমার এটা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে।…”

“ওও আল্লাহ!.. ভাবি তোমাকে নিয়ে যে কি করবো?!.. এতো এতো প্রশ্ন এতো কৌতুহল তোমাকে বিপদে ফেলবে। আর ভাইয়াও তোমাকে ভালোবেসে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।…”

“বিপদ থেকে নাহয় আমার আল্লাহ আমাকে বাঁচাবে। তুমি আমাকে বলো ওই যে পুকুরের ওপাশে দোতলা বাড়ি, ওটা কাদের?!..”

“ওটাও আমাদের বাড়িই। আসলে গ্ৰামের বাহিরে থেকে যারা বানিজ্য করতে আসে, তারা আর তারপর আবার দাদা মশাইয়ের ব্যাবসায়িক লোকজন এলে ঐ বাড়িতে থাকে। কোনো বাহিরের কাউকে এই বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তাই তাদের জন্য এটা আলাদা করে করা হয়েছে।…”

“ওও আচ্ছা। তুমি কখনো ঐ বাড়িতে গিয়েছো?!..”

“না আমি কখনো ওখানে যাইনি।‌ আমি কেন সেজো চাচী ছাড়া বোধহয় কেউ যায়নি। তবে ছেলেদের জন্য কিন্তু ওখানে যাওয়া বাড়ন নয়। ভাইয়া রা তো প্রায় রাতেই ওখানে যায়। আর মাঝে মাঝে তো চাচু রাও রাতে ওখানেই থাকে।…”

“ভাইয়া রা মানে তোমার আরমান ভাইও যায়?!.. আর তাহলে মেয়েদের জন্য ওখানে যাওয়া নিষেধ কেন?!..”

“আরে না আরমান ভাইয়া তো এলোই এই অনেক বছর পর। আর ওখানে বাবা চাচা‌ রাও আমাদের বা মায়েদের কে যেতে কড়া গলায় নিষেধ করেছেন। তাই কেউ আর সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওদিকে পা দেয়নি।..”

“তাহলে চল একদিন তুমি আর আমি লুকিয়ে গিয়ে দেখে আসি। দেখে আসি ওখানে এমন কি লুকানো আছে , যা বাড়ির মেয়েরা, মহিলারা দেখলে সমস্যা হবে।…”

শিলা পদ্মর এমন কথা শুনে চমকে উঠে।

“এই খবরদার ভাবি এমন কথা ভুলেও চিন্তা করো না। আমিও যাবো না আর তুমিও যাওয়ার চেষ্টা করবে না। একবার ধরা পড়লে আর দেখবে না যে তুমি এই বাড়ির বউ নাকি অন্য কেউ। একবার এক কাজের মেয়ে এই কৌতূহল দেখিয়েছিল। আর তারপর থেকেই সেই মেয়েটাকে পুরো গ্ৰামে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।…”

“মানে এটা কেমন কথা?!.. একটা মেয়ে হুট করে এভাবে গায়েব হয়ে গেল কিভাবে?!.. সেই মেয়ের পরিবার খুঁজেনি?!.. আর আর দাদা মশাই তারপর চাচা রা তারা কেউই কি চেষ্টা করেননি?!..”

“করেছিল। কিন্তু মেয়েটাকে আর পাওয়া যায়নি। জানো মেয়েটা খুব সুন্দর ছিল, লতা নামের সেই মেয়েটা। আমার মতোই ছিল, বেশি বড়ো না। মেয়েটার পরিবারে ওর মা ছাড়া আর কেউ ছিল না। ঐযে রান্নাঘরে দেখলে মিনু খালা?! উনিই লতার মা। তারপর দাদা মশাই উনাকে এখানে থাকতে দিয়েছে, আর এই বাড়িতেই কাজ করেন।..”

পদ্মর তো এবার আরো কৌতুহল বেড়ে গিয়েছে। যে কি এমন আছে ঐ বাড়িতে?!.. যেটা দেখে ফেলায় একজন মেয়ে কে গায়েব করে দিয়েছে। পদ্ম নিশ্চয়ই দেখবে ওখানে কি আছে। তবে সেটা লুকিয়ে করতে হবে, গায়েব হয়ে যাওয়ার ভয় পদ্ম করে না।

“আচ্ছা সবকিছু তো দেখলে এখন চলো যাই। আমাকে পাখিদের খাবার দিতে হবে। আসলে পাখি না কবুতরের ঝাঁক।…”

“এবাড়িতে আবার কবুতরও পালে?!. কোথায়?!. দেখলাম না তো?!.. চলো তোমার সাথে আমিও যাই।…”

“না না তুমি যেতে পারবেনা। আগে দাদা মশাইয়ের থেকে অনুমতি নিতে হবে। আর কবুতরের ঝাঁক বাড়ির ছাদে আছে। তুমি তো সেখানে যাওনি।..”

“আচ্ছা তুমি যাও তাহলে। আমিও কামরায় যাচ্ছি।…”

তারপর শিরিন চলে গেল। রং পদ্ম ঐ বাড়ি নিয়ে ভাবতে ভাবতে কামরায় ঢুকে গেল।

— — —

রাতে খাওয়ার টেবিলে বাড়ির সব পুরুষেরা খাবার খেতে বসেছে। আর মহিলারা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। সারা দিন পর এই মাত্র আরমানের সাথে পদ্মর দেখা হয়েছে। তবে কথা হয়নি।

“আমাদের গ্ৰামের ভাঙাচোরা হসপিটাল টা ঠিক করা হোক। আমি এখন থেকে ওখানে রোগী দেখতে বসবো। এই দুদিন গ্ৰামের এদিকে ওদিকে ঘুরে ঘুরে দেখলাম। এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থার খুবই শোচনীয় অবস্থা। বুড়ো তোমার এদিকে খেয়াল দেওয়া উচিত ছিল না?!... তুমি না এই গ্ৰামের জমিদার?!..”

আশরাফুল আলম গম্ভীর হয়ে চুপচাপ খাবার খাচ্ছেন। পদ্ম তো আরমানের কথার টোন দেখে হতবাক। ও এবাড়ির কাউকে দাদা মশাইয়ের সাথে এভাবে কথা বলতে দেখেনি। আবার সরাসরি তাকে বুড়ো বলছে?!.. কি সাংঘাতিক ব্যাপার!..

“তোর জন্যই রেখে দিয়েছিলাম। তবে আমার মনে হয় তোর শহরে ফিরে যাওয়া উচিত। ওখানকার কাজগুলো কে দেখবে?!..”

“ওখানকার কাজগুলো আর কি?!. হসপিটালে তো ফুফু আম্মার দায়িত্বেই আছে। আর বাবাও তো ওখানেই থাকবে। বেরানো শেষ হলে ফুফু আম্মা ঢাকায় ফিরে যাবেন। আর আমি এখন থেকে এখানেই থাকবো।…”

আশরাফুল আলম চুপ করে রইলো। উনার ঘাড় ত্যাড়া নাতি যেহেতু বলেছে এখন থেকে এখানেই থাকবে, মানে সে এখানেই থাকবে।

“আচ্ছা হাসপাতালের কাজ হয়ে যাবে। আর ওখানে তো ডাক্তার আছেই। তোকে ওতো কষ্ট করতে হবে না।..”

“আমি ডাক্তার হয়েছি। বিদেশে গিয়ে এতো এতো ড্রিগ্ৰি এনেছি তো ডাক্তারি করার জন্যই। আর আমার কাজই তো মানুষের চিকিৎসা করা , এতে আবার কষ্টের কী আছে?!.. কেন আমি হসপিটালে বসলে বা এখানে থাকলে তোমার সমস্যা হবে নাকি?!..”

আরমান সেজো চাচা সামিউল সৈয়দের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো। আরমানের ওমন দৃষ্টি দেখে সামিউল সৈয়দ বেশ ঘাবড়ে গেলেন। রাতের এই ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যেও তার কপালে সুক্ষ্ম ঘামের দেখা দিল।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন