ফন্ট সাইজ:
থিম:
পদ্মপাতা

৪৯তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#পদ্মপাতা~🪷

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ৪৯

🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

নিশিন্দীপুরের সকালটা আজ অন্যরকম। যে মাটির নিচে একসময় নীল বিষের ল্যাবরেটরি ছিল, আজ সেখানে শুভ্র পাঞ্জাবি আর টুপি পরে শত শত মানুষ জমা হয়েছে। দাদাজান আশরাফুল আলম আজ নিজেই মাদ্রাসার প্রথম ইটটা স্থাপন করবেন।

আরমান পদ্মর হাত ধরে সাবধানে গাড়ি থেকে নামাল। পদ্ম এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ওর চলাফেরা বেশ ধীর। সাদা একটা সুতি আবায়া আর ওড়নায় ওকে আজ অসম্ভব শান্ত আর পবিত্র লাগছে।

“পদ্ম, সাবধানে। এখানে মাটিটা একটু উঁচু-নিচু।…”

আরমান পদ্মর কোমর জড়িয়ে ধরে পাহারাদারের মতো আগলে রাখল।

পদ্ম হেসে আরমানের দিকে তাকালো। “আরে আরমান…! আমি কি কাঁচের পুতুল নাকি?.?.. আপনি তো আমাকে হাঁটতেই দিচ্ছেন না। সবাই দেখছে তো!...”

আরমান ভ্রু নাচাল।

“দেখুক!.. আমি আমার বউ আর হবু বাচ্চার খেয়াল রাখছি, কার কী.?..? আর শোনো, দাদাজান কিন্তু আজ খুব খুশিতে আছেন। তুমি গিয়ে ওনার পাশে দাঁড়াও।…”

দাদাজান ইটের ওপর সিমেন্ট মেখে মোনাজাত শুরু করলেন। ওনার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

“ইয়া আল্লাহ!.. এই পাপিষ্ঠ জমিনকে তুমি তোমার কালামের আলোয় ধন্য করো। আমার বংশের সব গুনাহ মাফ করো।…”

পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হলো। মোনাজাত শেষে দাদাজান আরমান আর পদ্মকে কাছে ডাকলেন।

“আরমান, পদ্ম... আমি ঠিক করেছি এই মাদ্রাসার হেফজখানার নাম হবে আমাদের এই অনাগত সন্তানের নামে। ও যদি ছেলে হয় তবে ওর নাম হবে 'আমান', আর মেয়ে হলে 'আয়লা'।…”

পদ্ম আরমানকে দেখে একটু মুচকি হাসল। ওনারা আগে থেকেই মনে মনে এই নাম দুটোই ভেবেছিলেন।

দুপুরের দিকে সবাই যখন অস্থায়ী প্যান্ডেলে খাবারের জন্য বসল, তখন শুরু হলো আরমানের আসল দাদাগিরি। পদ্মর প্লেটে খাসির রেজালা আর পোলাও উপচে পড়ছে।

“আরমান!... আমি এত খেতে পারব না। আমার তো এখনই দম বন্ধ হয়ে আসছে!...”

পদ্ম ফিসফিস করে প্রতিবাদ করল।

আরমান নির্বিকার। ও একটা লেবুর টুকরো চিপে পদ্মর পাতে দিল। “চুপচাপ খেয়ে নাও। এই যে ভেতরে আমাদের ছোট ভক্ষণকারী বসে আছে, ওর খিদে পেলে কিন্তু ও লাথি মেরে আমাকে নালিশ করবে। কাল রাতে তো ও বেশ জোরেই জানান দিয়েছে ও বিরিয়ানি পছন্দ করে!...”

পদ্ম হেসে ফেলল।

“আপনি বড্ড পটু কথা বানাতে!... ও কি আপনাকে কানে কানে বলেছে ও বিরিয়ানি খাবে?.?...”

ঠিক তখন শায়ান আর সাফওয়ান (রাইমার বর) ধপ করে ওদের পাশে বসল। সাফওয়ান এখন পুরোদস্তুর ঘরোয়া জামাই। ও রাইমার জন্য আলাদা একটা বাটিতে মিষ্টি তুলে রাখছিল।

“কী রে আরমান!.. বউকে একা খাওয়াচ্ছিস?.?.. আমাদেরও একটু ভাগ দে!...”

শায়ান হাসতে হাসতে বলল।

আরমান চশমাটা ঠিক করে নিয়ে বলল,

“ভাগ পাবি, তবে আমার প্লেট থেকে নয়। তুই বরং নীলাঞ্জনার খোঁজ নে, ও তো দেখলাম দাদীর সাথে বসে ফালুদা খাচ্ছে।…”

বিকেলের দিকে ফেরার পথে আরমান গাড়ি চালাচ্ছিল আর পদ্ম পাশে বসে জানলা দিয়ে আকাশ দেখছিল। হঠাৎ পদ্মর চোখে পড়ল রাস্তার ধারে এক বুড়ি মা কিছু বুনো ফুল নিয়ে বসে আছেন।

“আরমান, গাড়িটা থামান তো একটু!..”

পদ্ম আবদার করল।

আরমান গাড়ি থামাতেই পদ্ম ওই বুড়ির কাছ থেকে একগুচ্ছ সাদা ফুল কিনল। আরমান পকেট থেকে টাকা বের করে বুড়িকে আরও কিছু বেশি দিল।

“এই নাও গিন্নি!... তোমার ফুলের শখ তো আর মিটল না।…”

আরমান একটা ফুল পদ্মর কানের কাছে গুঁজে দিতে গেল।

পদ্ম হাত সরিয়ে নিল।

“নাহ!... এটা আমার জন্য নয়। এটা আপনার জন্য।…”

আরমান অবাক হলো।

“আমার জন্য?.?.. আমি কি মেয়ে নাকি?.?...”

পদ্ম হেসে আরমানের পাঞ্জাবির পকেটে ফুলগুলো গুঁজে দিল।

“আপনি মেয়ে নন, কিন্তু আপনি এই পরিবারের সেই মালী যে মরে যাওয়া বাগানে আবার ফুল ফুটিয়েছেন। এই ফুলগুলো আপনার ওই পবিত্র মনের জন্য।….”

আরমান আবেগে আপ্লুত হয়ে পদ্মর হাতটা নিজের ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিল।

“পদ্ম, তুমি পাশে না থাকলে আমি হয়তো সেই নীল বিষেই নীল হয়ে যেতাম। আলহামদুলিল্লাহ্‌!....”

গাড়ি যখন গুলশানের বাড়িতে পৌঁছাল, তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। দাদী আলেয়া বেগম সদর দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওনার হাতে এক গ্লাস গরম জাফরান দুধ।

“ওরে আরমান!... পদ্মকে ভেতরে নিয়ে আয়। আজ সারাদিন খুব ধকল গেছে। আজ রাতে কোনো পড়ালেখা নেই, শুধু বিশ্রাম!...”

দাদীর হুকুম অমান্য করার সাহস কারো নেই।

আরমান পদ্মকে কোলে তোলার উপক্রম করতেই পদ্ম ধমক দিল। “খবরদার আরমান!... দাদাজান দেখছেন!...”

আরমান হোহো করে হেসে উঠল। সৈয়দ ভিলায় আজ কোনো ষড়যন্ত্র নেই, কোনো অন্ধকার নেই—আছে শুধু ভালোবাসার এক অবিরাম স্রোত।

— — —

সৈয়দ ভিলার অন্দরমহলে আজ যেন ঈদের আনন্দ। দাদী আলেয়া বেগম আর দুই চাচি মিলে পদ্মর জন্য 'সাত ভাজা' আর হরেক রকমের খাবারের আয়োজন করেছেন। এটা কোনো কুসংস্কার নয়, বরং বাড়ির হবু মায়ের পুষ্টি আর আনন্দের জন্য এক ঘরোয়া মেহমানদারি।

পদ্ম আজ একটা নীল রঙের জামদানি শাড়ি পরেছে। ওর গায়ের রঙে এখন এক স্বর্গীয় আভা। ও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পেটটা একটু ছুঁয়ে দেখল—ভেতরের ছোট্ট মেহমানটি আজ বড্ড চঞ্চল।

“আরমান!... দেখুন তো, ও আজ কত নড়াচড়া করছে!.. “

পদ্ম উচ্ছ্বসিত গলায় ডাকল।

আরমান মাত্রই হাসপাতাল থেকে ফিরে স্টেথোস্কোপটা টেবিল রাখছিল। ও দ্রুত এগিয়ে এসে পদ্মর পাশে বসল। ওর বড় হাতটা পদ্মর পেটের ওপর রাখতেই অনুভব করল এক মৃদু ধাক্কা।

আরমান হোহো করে হেসে উঠল।

“বাপ রে!... এতো ফুটবলার হবে মনে হচ্ছে। এখন থেকেই প্র্যাকটিস শুরু করে দিয়েছে!...”

পদ্ম মুখটা একটু বাঁকিয়ে বলল, “ফুটবলার হোক আর যাই হোক, আগে ওকে সামলান। আমার কোমর ব্যথায় জীবন যায়, আর আপনি হাসছেন?.?...”

আরমান তৎক্ষণাৎ সিরিয়াস হওয়ার ভান করল।

“আসলে ডাক্তার হিসেবে বলছি, এটা খুব ভালো সাইন। তবে হ্যাঁ, পেশেন্ট যদি বড্ড জেদী হয় তবে ডাক্তারের কিছু করার নেই। এই নিন, আপনার জন্য গরম দুধ আর কেশর এনেছি।…”

পদ্ম গ্লাসটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়েই মুখ কুঁচকালো।

“আবার সেই চিনি ছাড়া দুধ?.?.. আরমান, আমি আজ ক্ষীর খাব বলেছি না?.?...”

আরমান আঙুল উঁচিয়ে সতর্ক করল। “জেদ নয় পদ্ম!... সুগার লেভেল ঠিক রাখতে হবে। ক্ষীর পাবে, তবে রাতে দাদীর হাতেরটা। এখন এটা শেষ করো।…”

পদ্ম অনিচ্ছাসত্ত্বেও দুধটা শেষ করল। “আপনি বড্ড কড়া ডাক্তার। আচ্ছা, রাইমা আপা কি আজ আসবে?.?. সাফওয়ান ভাই ফোন করেছিলেন?.?..”

“হ্যাঁ, ওরা পথেই আছে। রাইমা প্রথম নাইওর (বাপের বাড়ি) আসছে বলে কথা!... দাদাজান তো পুরো গেট ফুল দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছেন।…”

আরমান পদ্মর চুলে বিলি কেটে দিল।

ঠিক তখন নিচে গাড়ির হর্ন শোনা গেল। সাফওয়ান আর রাইমা এসেছে। রাইমাকে দেখে চেনার উপায় নেই—ওর চোখেমুখে এখন এক সুখী গৃহবধূর তৃপ্তি। ও এসেই পদ্মকে জড়িয়ে ধরল।

“পদ্ম!.. তুই তো আরও বেশি গোলগাল হয়ে গেছিস!...”

রাইমা হেসে এক জোড়া রুপোর মল বের করল।

“এটা আমি আমার প্রথম বেতনের জমানো টাকা দিয়ে তোর অনাগত সন্তানের জন্য কিনেছি।…”

পুরো ঘরে খুশির রোল উঠল। আশা আর শাফিনরা মিলে রাইমার মালপত্র ওপরে তুলছে।

বিকালে বাগানের আমগাছের নিচে সবাই মিলে চা খেতে বসল। দাদাজান আজ খুব খোশমেজাজে। ওনার হাতে জেলের ভেতর থেকে আসা একটা চিঠি।

“শোনো সবাই, একটা বড় খবর আছে।..”

দাদাজান চশমাটা ঠিক করে নিলেন। “সোবহান (ছোট চাচা) আর আমিনের (আরমানের আব্বা) সাজা অনেকখানি মকুব হয়েছে। ওদের ভালো ব্যবহারের জন্য সরকার ওনাদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছে। হয়তো আমাদের এই নতুন নাতির মুখ ওরা বাইরে এসেই দেখতে পাবে।….”

পুরো পরিবারে এক আবেগঘন নীরবতা নেমে এল। আরমানের চোখ ভিজে এল। ওর বাবা তওবা করে ফিরবেন, এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে?.?...

পদ্ম আরমানের হাতটা শক্ত করে ধরল।

“আরমান, আল্লাহ সত্যিই বড় মেহেরবান।…”

রাতের বেলা।

সবাই যখন যে যার ঘরে চলে গেল, আরমান দেখল পদ্ম বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

“কী ভাবছ পদ্ম?.?..”

আরমান পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল।

পদ্ম আরমানের কাঁধে মাথা রাখল। “ভাবছি আমাদের এই পরিবারটার কথা। একদিন কত রক্তারক্তি, কত বিষ ছিল। আর আজ সবাই কত সুখে আছে। আরমান, আপনি কি কোনোদিন আফসোস করেন যে আপনার বাবার জন্য আপনাকে এত কষ্ট পেতে হয়েছে?.?...”

আরমান পদ্মর কপালে একটা চুমু খেয়ে বলল,

“না পদ্ম। কষ্ট না থাকলে হয়তো আমি তোমাকে খুঁজে পেতাম না। আর আমার বাবা তওবা করে ফিরছেন, এটাই তো আমাদের বংশের বড় বিজয়। এখন শুধু অপেক্ষা—কখন আমাদের ছোট্ট 'আমান' বা 'আয়লা'র কান্নায় এই বাড়ি মুখর হবে।….”

পদ্ম হেসে আরমানের বুকে মুখ লুকালো।

“সেটা যে খুব তাড়াতাড়ি হবে, ও কিন্তু লাথি মেরে আমাকে এখনই জানিয়ে দিল!...”

সৈয়দ ভিলায় আজ কোনো ষড়যন্ত্র নেই, শুধু এক অপার্থিব শান্তির ঘুম।

— — —

রাত তখন আড়াইটা। পুরো বাড়ি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ আরমান অনুভব করল কেউ একজন ওর গায়ের কাঁথাটা জোরে টেনে নিচ্ছে। ও চোখ কচলে দেখল পদ্ম বিছানায় উঠে বসে আছে, ওর গাল দুটো রাগে লাল হয়ে ফোলা।

“কী হলো পদ্ম?.?.. কোনো ব্যথা করছে.?...”

আরমান ধড়ফড় করে উঠে বসল, ওর ডাক্তারী মনটা মুহূর্তেই সজাগ।

পদ্ম মুখ ঘুরিয়ে বলল,

“আপনার ওই ক্ষুদে সৈয়দ ভেতরে বসে আবদার করছে, ও এখন আইসক্রিম খাবে। ভ্যানিলা ফ্লেভার, আর ওপরে অনেকগুলো চকলেট চিপস থাকতে হবে।…”

আরমান আকাশ থেকে পড়ল।

“পদ্ম!... এখন রাত আড়াইটা বাজে। এই মাঝরাতে আমি আইসক্রিম কোথায় পাব?.?.. আর তোমার তো হালকা ঠান্ডা লেগেছে, এখন আইসক্রিম খেলে কাল ভোরেই হাঁচি শুরু হবে।….”

পদ্ম এবার ডুকরে কেঁদে ওঠার ভান করল।

“আমি জানতাম!... আপনি শুধু আপনার ওই মোটা মোটা মেডিকেল বইগুলোকেই ভালোবাসেন। আমাদের কথা তো ভাবেনই না। থাক, আমি কালই দাদীর কাছে গিয়ে নালিশ করব যে আপনি আমাদের না খাইয়ে রাখছেন।….”

আরমান কাঁচুমাচু হয়ে গেল। ও জানে, দাদীর কানে একবার এই খবর গেলে ওনার লাঠির হাত থেকে নিস্তার নেই। ও দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে আলমারি থেকে চাবি নিল।

“আচ্ছা বাবা, হার মেনে নিলাম। কিন্তু এখন তো সব দোকান বন্ধ। থামো, দেখি ফ্রিজে রাইমার আনা কোনো আইসক্রিম বেঁচে আছে কি না।…”

আরমান চুপিচুপি রান্নাঘরে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফ্রিজের একদম কোনায় একটা ছোট কাপ আইসক্রিম পাওয়া গেল। ওটা নিয়ে ও বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরল।

“এই নাও গিন্নি…! তোমার ভ্যানিলা আইসক্রিম। তবে শর্ত একটা—মাত্র দুই চামচ খাবে, বাকিটা আমার।…”

আরমান চামচ এগিয়ে দিল।

পদ্ম আইসক্রিমটা হাতে নিয়ে এক চুমু দিল আরমানের গালে।

“আপনি পৃথিবীর সেরা স্বামী!... কিন্তু দুই চামচ কেন.?..? আমি আর আমান বা আয়লা মিলে পুরোটা খাব। আপনি বরং গিয়ে ঘুমোন।…”

আরমান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। “আরে!... আমি কষ্ট করে খুঁজে আনলাম, আর আমিই পাব না?.?.. এটা তো রীতিমতো ডাকাতি!...”

পদ্ম আইসক্রিম খেতে খেতে বলল, “

“ডাকাতি নয় ডাক্তার সাহেব, এটাকে বলে 'ট্যাক্স'। আপনি যে সারা দিন চেম্বারে রোগীদের সময় দেন, এটা তার জরিমানা।….”

আরমান হাসতে হাসতে পদ্মর পাশে বসে পড়ল।

“আচ্ছা বাবা, জরিমানা দিলাম। তবে শোনো, এই আইসক্রিম খাওয়ার পর যদি তোমার গলা বসে যায়, তবে কিন্তু আমি ইনজেকশন দিতে দ্বিধা করব না!...”

পদ্ম ভয় পাওয়ার ভান করে জিভ কাটল।

“বাপ রে!... আপনি তো বড্ড কসাই ডাক্তার। নিজের হবু বাচ্চার মাকেও ইনজেকশন দিতে চান?.?...”

পরদিন সকালে।

রোদেলা সকালের নাস্তার টেবিলে দাদাজান আশরাফুল আলম মুচকি হাসছেন। তিনি আরমানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“আরমান, আমি শুনলাম কাল রাতে নাকি সৈয়দ ভিলার রান্নাঘরে চোর ঢুকেছিল?.?.. আইসক্রিম চোর?.?..”

পুরো টেবিলে হাসির রোল উঠল। শাফিন আর আশা তো হোহো করে হাসতে শুরু করল। আরমান লজ্জায় মাথা নিচু করে পরোটা ছিঁড়তে লাগল।

পদ্ম দাদীর দিকে তাকিয়ে বলল,

“দাদী, চোর নয়—আসলে আরমান সাহেব তো আমাকে পাহারা দিচ্ছিলেন। উনি খুব দায়িত্বশীল!....”

দাদী আলেয়া বেগম পদ্মর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

“হ্যাঁ রে মা, আমি তো জানি আমার আরমানটা কত ভালো। তবে আরমান, সাবধানে থেকো—পদ্মকে যেন বেশি ঠান্ডা না লাগে।…”

ঠিক তখন ফোনের ওপার থেকে একটা খবর এল। শায়ান ফোন করেছে। ও জানালো, আরমানের বাবা সৈয়দ আমিন আর ছোট চাচা সোবহান আজ বিকেলেই প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন। ওনারা সোজা গুলশানের বাড়িতেই আসছেন।

পুরো বাড়িতে এক আবেগঘন নিস্তব্ধতা নেমে এল। আরমান আর পদ্ম একে অপরের দিকে তাকালো। বিষের সেই কালিমাময় দিনগুলো শেষ হয়ে এখন ক্ষমার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

পদ্ম আরমানের হাতটা ধরল। “আরমান, আজ আমাদের সব চাওয়া পূর্ণ হতে চলেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌!...”

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন