#পদ্মপাতা~🪷
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
#পর্বঃ- ৪৮
🚫⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
গায়ে হলুদের আসরে রাইমা আজ অপরূপা। হলুদ সুতি শাড়ি আর কপালে ফুলের টায়রা পরে ও লাজুক মুখে বসে আছে। পদ্ম আজ নিজের শারীরিক অবস্থার কথা ভুলে গিয়ে রাইমার সাথে তাল মেলাচ্ছে। ওর পরনেও একটা হলদেটে জামদানি, মাথায় জুই ফুলের মালা।
আরমান দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে পদ্মর দুরন্তপনা দেখছিল আর বারবার ঘড়ি দেখছিল। ও জানে, পদ্মর এখন বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক নয়।
“পদ্ম!... এদিকে আসো তো একবার।...”
আরমান ইশারায় ডাকল।
পদ্ম আঁচল ঠিক করতে করতে এগিয়ে এল।
“কী হলো?.?.. ভেতরে কত কাজ, রাইমা আপার হাতে মেহেদি দিচ্ছি আমি!...”
আরমান গলার স্বর নিচু করে বলল,
“মেহেদি দিচ্ছ না কি নেচে কুঁদে একাকার করছ?.?.. ওই যে স্পিকারে গান বাজছে, আমি কি তোমার পায়ের আওয়াজ পাচ্ছি না?.?.. সাবধান পদ্ম, তোমার ভেতরে যে ক্ষুদে সৈয়দ আছে সে কিন্তু এখন ঘুমানোর চেষ্টা করছে।...”
পদ্ম মুখ টিপে হাসল।
“সেও তো ভেতরে বসে হাত-পা ছুড়ে নাচছে!... বাবার মতো অত গম্ভীর হয়নি সে। আর শুনুন, আজ কিন্তু আপনাকেও হলুদ লাগাতে হবে। শাফিনরা সব রেডি করে রেখেছে।...”
আরমান চোখ বড় বড় করল। “খবরদার!... আমি সৈয়দ বাড়ির বড় ডাক্তার, আমার মুখে হলুদ মাখিয়ে ভূত বানিও না। দাদাজান দেখলে গাম্ভীর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।...”
পদ্ম ত্বরিত গতিতে নিজের হাতের আঙুলে লেগে থাকা হলুদের একটা ছোঁয়া আরমানের গালে মাখিয়ে দিল।
“এই যে!... উদ্বোধন হয়ে গেল। এখন আর দাদাজানকে ভয় পেয়ে লাভ নেই।...”
আরমান অপ্রস্তুত হয়ে গাল মুছতে গেল, কিন্তু পদ্ম খিলখিল করে হেসে ভেতরের ভিড়ে মিশে গেল। আরমান গাল চুলকাতে চুলকাতে বিড়বিড় করল,
“এই মেয়েটা দিন দিন বড্ড দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে। ধরব আজ রাতে!...”
ভেতরে তখন শিলা, শিরিন আর আশা মিলে একটা গানের সাথে গোল হয়ে নাচছে। দাদী জোহরা বেগম সোফায় বসে হাসিমুখে দেখছেন। তিনি যদিও বেশি তবল-বাজনা পছন্দ করেন না, কিন্তু আজ নাতনির খুশিতে সব মাফ।
“ওরে স্বপ্না, দেখলি?.?.. আমাদের রাইমা আজ কত হাসছে!... ওর জীবনের নীল বিষটা যেন এই হলুদের রঙে চিরতরে ধুয়ে যায়।...”
দাদী আঁচল দিয়ে চোখ মুছলেন।
সাবিনা চাচি এসে রাইমার গালে চুমু খেলেন। জেলের ভেতর থেকে সোবহান চাচা রাইমার জন্য একটা সোনার হার পাঠিয়েছেন—নিজের উকিলের মাধ্যমে। এই উপহারটা পেয়ে রাইমা ডুকরে কেঁদে উঠল।
“কাঁদিস না মা, আজ কান্নার দিন নয়।...”
পদ্ম রাইমার চোখের জল মুছে দিল।
“আজ শুধু হাসির দিন।...”
রাতের দিকে খাবার দাবার শেষে আরমান পদ্মর ঘরে ঢুকল। পদ্ম তখন ক্লান্ত হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল থেকে ফুল খুলছিল। আরমান পেছন থেকে এসে পদ্মর কাঁধে হাত রাখল।
“খুব তো লাফালাফি হলো আজ। পা ফুলেছে?.?...” আরমান গম্ভীর মুখে জিগ্যেস করল।
পদ্ম আয়নায় আরমানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“একটু ব্যথা করছে। কিন্তু আরমান, রাইমা আপার হাসিটা দেখলেন?.?.. ওর চোখের ওই তৃপ্তিটা দেখে সব ক্লান্তি চলে গেছে।...”
আরমান হাঁটু গেড়ে মেঝের ওপর বসল। ও পদ্মর পা দুটো আলতো করে একটা কুশনের ওপর রাখল এবং নিজের হাতে মাসাজ করতে শুরু করল।
“কী করছেন?.?.. ছিঃ!.. আপনি সৈয়দ বাড়ির বড় ছেলে...”
পদ্ম পা সরিয়ে নিতে চাইল।
আরমান ছাড়ল না।
“চুপ থাকো তো!... আমি এখন বড় ছেলে নই, আমি এখন শুধু তোমার ব্যক্তিগত ডাক্তার। আর শোনো, তুমি আজ আমার গালে যে হলুদ লাগিয়েছ, সেটার শোধ কিন্তু আমি তুলে নেব।...”
পদ্ম ভ্রু কুঁচকালো।
“কীভাবে?.?..”
আরমান পকেট থেকে একটা ছোট কাসুন্দির শিশি বের করল। “এই নাও!... রাতে তুমি কাঁচা আম খেতে চেয়েছিলে না?.?.. শাফিনকে দিয়ে আনিয়েছি। তবে শর্ত একটা—পুরোটা একলা খাওয়া যাবে না, আমাকেও ভাগ দিতে হবে।...”
পদ্ম হোহো করে হেসে উঠল। “আপনি বড্ড কিপটে আরমান!... নিজের বাচ্চার ভাগও আপনি ছাড়বেন না?.?..”
দুই দম্পতির এই মিষ্টি খুনসুটিতে রাতের আকাশটা যেন আরও স্নিগ্ধ হয়ে উঠল। সৈয়দ ভিলায় আজ খুশির জোয়ার, আর কাল ভোরেই বাজবে বিয়ের সানাই।
— — —
গায়ে হলুদের সেই জমকালো রাতের পর সৈয়দ ভিলায় এখন বিয়ের সকাল। চারদিকে রান্নাবান্নার ধুম, আত্মীয়-স্বজনের ভিড় আর ছোটদের হুটোপুটি। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও আরমান আর পদ্মর নিজেদের জগতটা যেন একটু আলাদা, যেখানে খুনসুটি আর ভালোবাসার কোনো কমতি নেই।
সকাল বেলা। আরমান তার ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ধবধবে সাদা শেরওয়ানির বোতাম আটকাচ্ছিল। আজ বরের বন্ধু হিসেবে তাকেও বেশ ফিটফাট থাকতে হবে। ঠিক তখনই পদ্ম ঘরে ঢুকল। ওর পরনে হালকা গোলাপি রঙের একটা ভারি কারুকাজ করা কাতান শাড়ি, মাথায় ওড়নাটা সুন্দর করে পিন করা। গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস চলায় ওর হাঁটাচলায় এখন একটা রাজকীয় ধীরস্থির ভাব এসেছে।
পদ্ম আয়নায় আরমানকে দেখে একটু মুচকি হাসল। ও ধীর পায়ে এগিয়ে এসে আরমানের
শেরওয়ানির কলারটা ঠিক করে দিতে লাগল।
“কী ব্যাপার ডাক্তার সাহেব?.?.. আজ তো আপনাকে বরের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল লাগছে! উদ্দেশ্য কী?.?.. কোনো শ্যালিকার নজর কাড়ার ধান্দা আছে নাকি?.?..”
পদ্ম দুষ্টুমি করে চোখ টিপল।
আরমান আয়নায় পদ্মর প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচাল। ও ঝট করে পদ্মর কোমর জড়িয়ে ধরল।
“নজর তো একজনের ওপর অনেক আগেই আটকে গেছে গিন্নি!... এখন তো শুধু সেই নজর রক্ষা করার লড়াই চলছে। আর শোনো, আজ কিন্তু তোমাকে বড্ড বেশি মায়াবী লাগছে। এই গোলাপি শাড়িতে তোমাকে ঠিক যেন এক টুকরো গোলাপের পাপড়ির মতো মনে হচ্ছে।...”
পদ্ম একটু লজ্জা পেয়ে আরমানের হাত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল।
“আহ!.. ছাড়ুন তো। বাইরে দাদী ডাকছেন। রাইমা আপার বোরকাটা এখনো ইস্ত্রি করা হয়নি, ওটা দেখতে হবে।...”
আরমান ছাড়ল না, বরং পদ্মর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল,
“দাদী এখন ব্যস্ত। শোনো পদ্ম, আজ কিন্তু বিয়ের প্যান্ডেলে আমার আশেপাশে থেকো। সাফওয়ানের কাজিনরা আসবে, ওরা বড্ড চঞ্চল। আমাকে আবার কেউ হাইজ্যাক না করে নিয়ে যায়!...”
পদ্ম খিলখিল করে হেসে উঠল। “ও আচ্ছা!... আপনার এত ভয়?.?.. ঠিক আছে, আমি আপনার পকেটে একটা চিরকুট লিখে রাখব— 'ইনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের হবু বাবা, দয়া করে দূরে থাকুন'।...”
আরমান শব্দ করে হেসে উঠল। ও পদ্মর কপাল ছুঁয়ে বলল, “পদ্ম, তুমি দিন দিন বড্ড পটু হয়ে যাচ্ছ কথা বলায়। দাদাজানের নাতবউ বলে কথা!.....”
নিচে তখন হইচই শুরু হয়েছে। বর পক্ষ চলে এসেছে। সাফওয়ান বরবেশে গেটে এসে দাঁড়িয়েছে। আরমান দ্রুত নিচে নামল গেট ধরার জন্য। শাফিন, শিরিন আর আশা মিলে গেট আটকে দাঁড়িয়েছে।
“দুলাভাই!... দশ হাজার টাকার নিচে কিন্তু গেট ছাড়ব না!...”
শাফিনের গলায় জেদ।
সাফওয়ান হেসে আরমানের দিকে তাকালো। আরমান গম্ভীর মুখে বলল,
“সাফওয়ান, উকিল মানুষ তুমি, একটু দরদাম করো!... আমার ভাইয়েরা কিন্তু বড্ড কড়া।...”
সাফওয়ান পকেট থেকে খাম বের করে দিল। গেট খোলার পর শুরু হলো মেহমানদারী। খাওয়ার টেবিলে আরমান আর পদ্ম পাশাপাশি বসে তদারকি করছিল। আরমান আড়ালে পদ্মর প্লেটে বারবার বড় বড় মাছের টুকরো আর কাবাব তুলে দিচ্ছিল।
“আরে আরমান!... কী করছেন?.?.. সবাই দেখছে তো!...”
পদ্ম ফিসফিস করে ধমক দিল।
আরমান নির্বিকার মুখে কাবাব চিবোতে চিবোতে বলল,
“কেউ দেখছে না। সবাই বরের দিকে তাকিয়ে। তুমি চুপচাপ খেয়ে নাও, তোমার শরীরের জন্য এটা দরকার। আর হ্যাঁ, মিষ্টিটা কিন্তু আমার ভাগ থেকেও একটু নিতে হবে।...”
পদ্ম হেসে ফেলল।
“আপনি বড্ড লোভী ডাক্তার সাহেব!...”
বিয়ের কাবিন হওয়ার সময় রাইমা যখন কবুল বলল, তখন পুরো বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হলো। দাদাজান আশরাফুল আলম চোখের জল মুছলেন। রাইমা আজ থেকে এক নতুন জীবনের পথে পা বাড়াল।
বিকেলের দিকে বিদায়ের সময় রাইমা যখন পদ্মকে জড়িয়ে ধরল, তখন পদ্ম কানে কানে বলল,
“আপা, আপনার ঘর যেন সবসময় সুখে শান্তিতে ভরে থাকে। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।...”
সবাই যখন বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরল, আরমান দেখল পদ্ম সোফায় বসে ক্লান্ত হয়ে পা দোলাচ্ছে। আরমান এগিয়ে গিয়ে পদ্মর পাশে বসল এবং ওর মাথাটা নিজের কাঁধে টেনে নিল।
“আজকের দিনটা খুব সুন্দর কাটল না পদ্ম?.?..”
আরমান নিচু স্বরে বলল।
পদ্ম চোখ বুজে শান্তিতে শ্বাস নিল।
“হ্যাঁ আরমান। আমাদের সৈয়দ বাড়িতে আজ থেকে শুধু খুশির দিন শুরু হলো।...”
আরমান পদ্মর হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, “ইনশাআল্লাহ। আর কয়েকমাস পর যখন আমাদের ছোট্ট মেহমান আসবে, তখন এই বাড়ি আরও মুখর হবে। তবে তৈরি থেকো গিন্নি, তখন কিন্তু খুনসুটি করার জন্য আমাদের একজন কম্পিটিটর বাড়বে!...
পদ্ম আরমানের কাঁধে মৃদু চিমটি কেটে বলল,
“সেটা তখন দেখা যাবে। এখন আপাতত এই বড় বাচ্চা সামলাতেই আমার জান যায়!...”
দুই দম্পতির হাসিতে সৈয়দ ভিলায় আজ এক পূর্ণিমার চাঁদ যেন ধরা দিল।
— — —
বিয়ের বাড়ির সেই ধুমধাম আর রাইমার বিদায়ের বিষাদ কাটিয়ে সৈয়দ ভিলা এখন শান্ত। মেহমানরা সব বিদায় নিয়েছেন। বড় আব্বা আর দাদাজান ড্রয়িং রুমে বসে গল্প করছেন, আর বাড়ির ছোটরা উপহারের প্যাকেট খুলতে ব্যস্ত। কিন্তু দোতলার ঘরে আরমান আর পদ্মর খুনসুটি যেন থামার নামই নেই।
বিয়ের ক্লান্তিতে পদ্ম ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। গয়নাগুলো বড্ড ভারি লাগছে আজ। আরমান তখন মাত্র বাথরুম থেকে মুখ ধুয়ে বেরিয়েছে। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে ও দেখল পদ্ম গলার নেকলেসটা খুলতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পেছনের হুকটা কিছুতেই বাগে আসছে না।
আরমান মুচকি হেসে এগিয়ে এল।
“কী হলো?.?.. আমার সাহায্য লাগবে, নাকি ওটা নিয়েই রাত পার করার ইচ্ছা?.?..”
পদ্ম আয়নায় আরমানকে দেখে একটু মুখ ঝামটা দিল। “আপনার সাহায্য লাগবে না। আমি একাই পারব। আপনি গিয়ে আপনার ওই দামি দামি ডাক্তারী জার্নাল পড়ুন গে যান!...”
আরমান কথা না বাড়িয়ে পদ্মর ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল। ও আলতো করে পদ্মর কাঁধ থেকে চুলগুলো সরিয়ে এক পাশে রাখল। ওর ঠান্ডা আঙুলের ছোঁয়ায় পদ্ম একটু কেঁপে উঠল। আরমান খুব সাবধানে নেকলেসের হুকটা খুলে দিল।
“নেকলেস তো খুলে দিলাম, কিন্তু আমার পারিশ্রমিক?.?..”
আরমান নিচু স্বরে পদ্মর কানের কাছে ফিসফিস করল।
পদ্ম আয়নায় আরমানের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকাল। “পারিশ্রমিক?.?.. কিসের পারিশ্রমিক?.?.. ডাক্তার সাহেব কি এখন হুক খোলার জন্য ফি নেবেন?.?..”
আরমান সিরিয়াস হওয়ার ভান করে বলল,
“অবশ্যই!... আমি সৈয়দ বাড়ির স্পেশালিস্ট। আমার ভিজিট বড্ড চড়া। এক বাটি পায়েস হলে মন্দ হয় না, যেটা দাদী তোমার জন্য সরিয়ে রেখেছেন।...”
পদ্ম হেসে ফেলল।
“আপনি বড্ড লোভী আরমান!.. দাদী ওটা আমাকে দিয়েছেন খাওয়ার জন্য, আর আপনি সেটা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন?.?..”
আরমান পদ্মর হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বিছানার পাশে বসল।
“আরে না!.. কেড়ে নেব কেন?.?
আমি তো চেয়েছিলাম আমরা দুজনে মিলে খাব। আমাদের ওই ছোট সৈয়দ তো মিষ্টি খুব পছন্দ করে, তাই না?.?..”
আরমান আলতো করে পদ্মর পেটের ওপর হাত রাখল। এখন ছয় মাস চলছে, পদ্মর পেটটা বেশ স্পষ্ট। হঠাৎ আরমান চমকে উঠল। ও অনুভব করল ভেতরে কিছু একটা মৃদু নড়ে উঠল।
“পদ্ম!.. ও কি এখন লাথি মারল?.?..”
আরমানের চোখেমুখে এক অসীম বিস্ময় আর আনন্দ।
পদ্ম মায়াবী চোখে আরমানের দিকে তাকাল। ওর চোখে জল চিকচিক করছে।
“হ্যাঁ আরমান। ও বোধহয় আপনার গলার আওয়াজ চিনতে পেরেছে। বাবা যখন বেশি কথা বলে, ও তখন এভাবেই জানান দেয় যে ও শুনছে।...”
আরমান নিচু হয়ে পদ্মর পেটে কান পাতল।
“হ্যালো লিটল ডক্টর!... আমি তোমার বাবা বলছি। বেশি দুষ্টুমি করো না কিন্তু, তোমার মাকে বড্ড জ্বালাচ্ছ তুমি।...”
পদ্ম আরমানের চুলে বিলি কেটে দিল।
“ওকে ডক্টর বানালে কিন্তু ও আপনার মতো এমন জেদী হবে। আমি চাই ও যেন দাদীর মতো শান্ত হয়।...”
আরমান সোজা হয়ে বসল। “শান্ত হোক বা অশান্ত, ও যেন তোমার মতো এমন একরোখা না হয়!... সারা রাত আম-কাসুন্দি খাওয়ার আবদার করলে তো আমার কপালে শনি আছে!...”
পদ্ম মুখ ভেঙচালো।
“আমি একরোখা?.?... আর আপনি যে রাতবিরাতে চুপিচুপি গিয়ে ফ্রিজ থেকে মিষ্টি চুরি করে খান, সেটা বুঝি কিছু না?.?..”
আরমান ধরা পড়ে গিয়ে অপ্রস্তুত হাসল।
“সেটা তো এনার্জির জন্য খেতে হয়। সারাদিন রুগী দেখতে হয় না?.?..”
পদ্ম আরমানকে ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে দিল।
“থাক আর বাহানা দিতে হবে না। এখন ঘুমান। কাল সকালে দাদাজান আমাদের নিয়ে নিশিন্দীপুর যাবেন সেই মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর দেখতে। দেরি হলে কিন্তু ওনার বকুনি কেউ আটকাতে পারবে না।...”
আরমান পদ্মকে বুকের কাছে টেনে নিল।
“দাদাজানের বকুনি তো সয়ে গেছে। কিন্তু তোমার এই মিষ্টি শাসনটা যেন সারাজীবন এভাবেই থাকে পদ্ম।...”
চাঁদনী রাতের আলো জানলা দিয়ে ওদের খাটের ওপর লুটোপুটি খাচ্ছে। সৈয়দ ভিলায় আজ কোনো ষড়যন্ত্র নেই, কোনো নীল বিষ নেই—আছে শুধু পরম শান্তি আর এক নতুন প্রাণের প্রতীক্ষা।
—চলবে—
ইনশাআল্লাহ