#পারমিতা_২
#পর্ব_০১
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ
সেনসিটিভ বিষয়❌❌❌
সাল ২০১৪।
চৌধুরী বাড়ির কর্তা হাবিব চৌধুরী ও কর্ত্রী আনিকা চৌধুরী দুজনেই আজ মহাব্যস্ত। নিজেদের ব্যবসায়ের পার্টনার থেকে শুরু করে ছেলের বন্ধু-বান্ধব, সবাইকে আজ দাওয়াত করা হয়েছে। তাই পুরো বাড়ি গোছানো থেকে শুরু করে খাবারের আয়োজন—সব কিছু নিজেরা সামলাচ্ছেন।
চৌধুরী বাড়ির ছোট ছেলে আরিয়ান আবরার চৌধুরীর আজ ১৪তম জন্মদিন। সে উপলক্ষে বাড়িতে পার্টির আয়োজন করেছেন হাবিব চৌধুরী। আত্মীয়-স্বজন যে কোনো মুহূর্তে আসা শুরু করতে পারে।
“সব কিছু চেক করা শেষ? খাবার কি চলে এসেছে?” প্রশ্ন করেন আনিকা চৌধুরী।
আনিকা চৌধুরী, বয়স ৪৩ বছর। দেখতে লম্বা-চওড়া। চুল কাঁধের একটু নিচে, কালো চুলে ব্রাউন হাইলাইট করা। মোটামুটি স্বাস্থ্যবতী। শ্যামলা গায়ের রঙ। পরনে একটি টপস ও সালোয়ার।
“জি, ম্যাডাম। শুধু শরবত রেডি করা বাকি” জবাব দেয় কাজের মেয়ে।
“দ্রুত সব কিছু রেডি করো। যে কোনো মুহূর্তে মেহমান চলে আসতে পারে” বাড়ির সাজসজ্জা দেখতে দেখতে বলেন আনিকা চৌধুরী।
“আমরা চলে এসেছি, ভাবি!” পিছন থেকে কারও মিষ্টি, কোমল, সুরেলা কণ্ঠ ভেসে আসতেই পিছনে ফিরে তাকান আনিকা চৌধুরী।
“মায়া!” আনিকা চৌধুরীর ঠোঁটে হাসি ফোটে। দ্রুত এগিয়ে যান মায়া চৌধুরীর দিকে।
মায়া চৌধুরী, ওয়াহিদ চৌধুরীর স্ত্রী। হাবিব চৌধুরী ও ওয়াহিদ চৌধুরী দুই ভাই। নিজের স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে ওয়াহিদ চৌধুরী মুরাদপুরে থাকেন। অন্যদিকে হাবিব চৌধুরী নিজের পরিবার নিয়ে খুলশীতে থাকেন।
“দাঁড়িয়ে আছো কেন, মায়া? ভেতরে আসো” মায়া চৌধুরীর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলেন আনিকা চৌধুরী।
“আসসালামু আলাইকুম, আন্টি” মায়া চৌধুরীর কাছাকাছি আসতেই সালাম দেয় একজন কিশোরী।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম, আফরিন। কেমন আছো তুমি?” আফরিনের মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন আনিকা চৌধুরী।
মেহেরিন আফরিন চৌধুরী, বয়স ১৫। এত কম বয়সেই লম্বায় ৫ ফুট ছাড়িয়ে গেছে। বাবা ওয়াহিদ চৌধুরীর মতো গায়ের রঙ শ্যামলা। হরিণীর ন্যায় চোখের জন্য মায়াবতী লাগে আফরিনকে।
“ভালো আছি, আন্টি। আপনি কেমন আছেন?”
“ভালো। মায়া, ভেতরে এসো। এভাবে পরের মতো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
“মা...” বাইরে থেকে উচ্চস্বরে মায়া চৌধুরীকে ডাক দেয় কেউ। সঙ্গে সঙ্গে পিছনে ফিরে তাকান সকলে।
ওয়াহিদ চৌধুরীর হাত ধরে হাঁটছিল তার ছোট মেয়ে পারমিতা মেহেরোজ চৌধুরী। বয়স ৭। চুল ঝুঁটি করে বাঁধা, হাতে একটি পুতুল। লাল ফ্রক পরা, গালে লাল ব্লাশ দেওয়া। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্লাশ দেওয়া হয়েছে। তার ওপর ঠোঁটের লিপস্টিক ভালোভাবে লাগানো হয়নি, কয়েক জায়গায় উঠে গেছে। মায়া চৌধুরীকে দেখা মাত্র চেঁচিয়ে ওঠে পারমিতা। ওয়াহিদ চৌধুরীর হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে যায় মায়া চৌধুরীর কাছে। পারমিতার মুখের অবস্থা দেখে একটু রাগ হন মায়া চৌধুরী। আড়চোখে আফরিনের দিকে তাকাতেই আফরিন কাচুমুখু হয়। সখ করে ছোট বোনকে সাজিয়েছে আফরিন। বাড়িতে সাজাতে না দেওয়ায় গাড়িতে বসে সাজিয়েছে পারমিতাকে।
“মা, মা, আমাকে সুন্দর লাগছে না? আপু সাজিয়ে দিয়েছে” মায়া চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে বলে পারমিতা।
“খুব সুন্দর লাগছে আমার মিতাকে” মিতাকে কোলে নেন মায়া চৌধুরী।
“মায়া, ভেতরে আসো, ওয়াহিদ ভাই, আপনিও আসুন” ওয়াহিদ চৌধুরী দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই বলেন আনিকা চৌধুরী।
সকলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। সোফায় বসতেই কাজের মেয়ে দ্রুত শরবত নিয়ে আসে সকলের জন্য।
“চা আনো,” কাজের মেয়ের উদ্দেশে বলেন আনিকা চৌধুরী।
“হাবিব ভাই কোথায়?”
“হ্যাঁ, তাই তো। ভাইয়া কোথায়?” মায়া চৌধুরীর সঙ্গে ওয়াহিদ চৌধুরীও প্রশ্ন করেন।
“গতকাল থেকে কাজে ব্যস্ত। এখন হয়তো ছাদে। ছেলে-মেয়েদের জন্য ছাদ সাজাচ্ছেন।”
“আমি তাহলে গেলাম ভাইয়ার কাছে।”
“চা খাবেন না?”
“না, ভাবি, ছাদে পাঠিয়ে দিন। ভাইয়ার সঙ্গে খাবো।”
“ঠিক আছে।” ওয়াহিদ চৌধুরী ছাদে চলে যান। মায়া চৌধুরীর পাশে বসে আছেন লাজুক আফরিন। অন্যদিকে, মিতা সোফার আশপাশে থাকা সব কিছু নেড়েচেড়ে দেখছে।
“শান্ত হয়ে বসো, মিতা” একটু কঠোর গলায় বলেন মায়া চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে সোফায় গিয়ে বসে মিতা।
“আফরিন, তুমি মিতাকে নিয়ে ওপরে চলে যাও। আবরার ও অরিয়ন ওখানেই আছে।” আনিকা চৌধুরীর কথা শুনে আফরিন মায়ের দিকে তাকায়। চোখের ইশারায় অনুমতি চায়। মায়া চৌধুরী ইশারায় যেতে বললে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায় আফরিন।
“চল, মিতা” মিতার হাত ধরে বলে আফরিন। মিতা নিজের পুতুল বুকে জড়িয়ে নেয়।
“ভাবি, কোনো কাজে সাহায্য লাগবে? লাগলে বলুন, আমি হেল্প করব” বলেন মায়া চৌধুরী।
“না, মায়া, মোটামুটি সব শেষ। কিছু বাকি নেই। নাও, চা নাও” কাজের মেয়ে চা আনতেই বলেন আনিকা চৌধুরী। দুজনেই চায়ের কাপ হাতে নেন। চুমুক দিতে দিতে নিজেদের কথায় মগ্ন হন।
**********************
মিতাকে কোলে নিয়ে দোতলায় ওঠে আফরিন।
“হাঁটতে চাস না কেন? সিঁড়ি বেয়ে ওঠা কত কষ্টের!” বড়ো বড়ো শ্বাস নিতে নিতে বলে আফরিন।
“আমি কি এতগুলো সিঁড়ি দিয়ে ওঠতে পারবো?”
“এহ, বাড়িতে তো সারাদিন লাফালাফি করিস। তখন কীভাবে পারিস?” মিতার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বলে আফরিন। মিতা সেদিকে মন দেয় না। হাতের পুতুলের চুল নিয়ে খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই বাঁ-দিকে আবরারের রুমের দিকে এগোয় আফরিন। ডানদিকে এই বাড়ির বড় ছেলের রুম।
অরিয়ন আফনান চৌধুরী। সকল কাজিনের মধ্যে বড়। আফরিন শুনেছে, আফরিন থেকে ৩ বছরের বড়। সে হিসেবে এখন তার ১৮ হওয়ার কথা। আবরার আফরিনের থেকে ২ বছরের ছোট। আবরারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আফরিনের, কিন্তু অরিয়ন, সে কেমন যেন গম্ভীর। বেশি কথা বলতে পছন্দ করে না। তাই এই বাড়িতে এলে আবরারের সঙ্গেই সময় কাটায় আফরিন।
মিতা আফরিনের হাত ছেড়ে দিয়েছে। নিজের পুতুল নিয়ে ব্যস্ত সে। আফরিন তাকে দু’কদম অতিক্রম করে এগিয়ে গেছে। আবরারের রুমের সামনে এসে দরজায় ধাক্কা দেয় আফরিন। দরজা খুলতেই থতমত খায় আফরিন। নিজের জায়গায় মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে। রুমে আবরার নেই। বরং ৮-১০ জন ছেলে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে। দরজা খুলতেই সকলের নজর আফরিনের দিকে যায়। সকলের হাসি থেমে যায়। আফরিনকে পিছনে করে চেয়ারে বসা একজন ছেলে ফিরে তাকায়। নিশ্বাস আটকে যায় আফরিনের। ক্ষণিকের জন্য মনে হয়, সব থেমে গেছে। চেয়ারে বসে আছে অরিয়ন।
অরিয়ন আফনান চৌধুরী। বয়স ১৮। লম্বায় ৫ ফুট ৯ ইনচি।। অরিয়নের চেহারায় ফুটে উঠেছে অপূর্ব মায়া, যেন প্রকৃতি নিজের হাতে গড়েছে তার রূপ। কপালে সূক্ষ্ম গাম্ভীর্য, ভ্রূ দুটি ঘন কালো, তীরের মতো সুচারু, যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। চোখ দুটি গভীর, কালো মণির মতো ঝকঝকে, যেখানে যে কেউ সহজে হারিয়ে যায়। দৃষ্টিতে মিশে আছে কৌতূহল ও আত্মবিশ্বাস। নাক খাড়া ও সুগঠিত।গায়ের রঙ ফর্সা, বাবা হাবিব চৌধুরীর রঙ পেয়েছে অরিয়ন। চুল ঘন, কালো, সামান্য এলোমেলো, যা তার চেহারায় যোগ করেছে দুরন্ত আকর্ষণ। চোখের ওপর এসে পড়েছে চুল।
ক্ষণিকের জন্য মেয়ে হয়েও আফরিন ইনসিকিওরড ফিল করে। নিজেকে কেমন অসুন্দর মনে হয়। ছেলেদের এত সুন্দর হতে হবে কেন? হঠাৎ মনে ঘুরে এই কথা।
“কী চাই?” গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করে অরিয়ন। মনে হচ্ছে, আফরিনকে এখানে দেখে সে খুশি নয়।
“আবরারকে খুঁজছিলাম” কাচুমাচু করে জবাব দেয় আফরিন।
“আমার রুমে আছে।”
“ওকে।”
“বা’ল!” কথাটা শুনতেই সকলে ভ্যাবাচেকা খায়। বিশেষ করে আফরিন, মনে হয় কেউ তাকে শক দিয়েছে। হতবাক হয়ে পিছনে তাকায়। দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মিতা। পুতুলের চোখ বার বার বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। তাই রাগে কথাটা বলেছে। আফরিন ও অরিয়ন ভ্যাবাচেকা খেয়ে মিতার দিকে তাকিয়ে আছে। এত ছোট মেয়ে এসব কী বলে, তাই ভাবছে।
“আপু, এটা চোখ বন্ধ করে না কেন?” পুতুল এগিয়ে দিয়ে ওপরে তাকাতেই লক্ষ্য করে রুম ভর্তি মানুষ। সকলে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
“সরি, ভাইয়া” অরিয়নের দিকে তাকিয়ে বলেই মিতার হাত ধরে তাড়াতাড়ি চলে যায় আফরিন।
***********************
“তুই এসব কার কাছ থেকে শিখেছিস? মার কাছে আজই বিচার দেবো আমি!” আবরারের রুমের কাছাকাছি এসে বলে আফরিন। রাগের চেয়ে বেশি লজ্জা পেয়েছে সে।
“ভুলে বেরিয়ে গেছে, আপু। সরি। মাকে বলিও না, প্লিজ। আর বলবো না” অনুনয় করে মিতা।
“আজকের পর যদি আর কোনোদিন এসব কথা মুখে শুনি, তাহলে খবর আছে, বলে দিলাম!”
“ঠিক আছে” হাসি দিয়ে বলার চেষ্টা করে মিতা।
“তুমি অনেক ভালো আপু, সবার চেয়ে ভালো!”
“হয়েছে, হয়েছে, পাম দিস না” মিতাকে নিয়ে আবরারের রুমে প্রবেশ করে আফরিন।
*******************
ডাইনিং টেবিলে সকলের জন্য নাস্তা দেওয়া হয়েছে। আবরার তার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসে নাস্তা খেয়ে গেছে। শুধু অরিয়ন ও তার বন্ধুরা বাকি। অরিয়ন বন্ধুদের নিয়ে নাস্তার টেবিলে বসে। সকলে নাস্তা খেতে ব্যস্ত।
“তোরা নাস্তা কর, আমার মার সঙ্গে একটু কথা আছে।”
“ওকে।”
“তোদের খাওয়া হলে রুমে চলে যাস” অরিয়ন আর অপেক্ষা করল না। মায়ের রুমের দিকে হাঁটা শুরু করে। টেবিলে বসা অনেকের নাস্তা শেষ।
“ওপরে যাচ্ছি আমরা। তোরা আর কতক্ষণ খাবি?” চেয়ার থেকে উঠে প্রশ্ন করে সাদা শার্ট পরা এক ছেলে।
“তোরা যা, আমার আর রিমনের শেষ হলে আমরাও আসবো” জবাব দেয় গেঞ্জি পরা ছেলেটি।
“ওকে।”
নিচতলার এদিকটা প্রায় ফাঁকা। সকলে যার যার রুমে। কেউ ছাদে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ ড্রয়িংরুমে টিভি দেখছে। রিমনের উল্টোদিকে বসেছে গেঞ্জি পরা ছেলেটি। রিমনের দৃষ্টি মোবাইলে, একদিকে নাস্তা করছে, অন্যদিকে মোবাইল টিপছে।
“এই বাবু!” কাউকে দেখে বলে ওঠে ছেলেটি। রিমন চোখ তুলে দেখে কার কথা বলছে। নজরে আসে মিতা। দৃষ্টি আবার মোবাইলে ফেরায়।
“আমি?” জিজ্ঞেস করে মিতা।
“হ্যাঁ, তুমি। এদিকে আসো।”
“কী, ভাইয়া? কিছু বলবেন?” ছেলেটির কাছে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করে মিতা। মিতার ঠোঁটে হাসি, চোখে-মুখে আনন্দ।
“তোমার পুতুলটা তো অনেক সুন্দর!”
“হ্যাঁ। আমার বাবা দিয়েছে” প্রশংসায় খুশি হয়ে যায় মিতা।
“আমার বাসায় আরও অনেক সুন্দর পুতুল আছে, ভাইয়া” বলে ওঠে মিতা।
“তাই নাকি?”
“হ্যাঁ!”
“কোন ধরনের পুতুল আছে, দেখাও তো!”
“কীভাবে দেখাবো? এখানে তো আনিনি” মন খারাপ করে বলে মিতা।
“আসো, মোবাইলে দেখাবে” বলেই নিজের উরুতে মিতাকে বসায়। মোবাইল অন করে মিতার সামনে ধরে। পুতুল দেখানোর খুশিতে মিতা আত্মহারা।
“না, এটা!” বলে ওঠে মিতা।
“ওহ” মিতা নিজেই মোবাইল নিয়ে একের পর এক পুতুল খুঁজে যাচ্ছে। গেঞ্জি পরা ছেলেটি আড়চোখে আশপাশে তাকায়। রিমন এখনো মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে। অন্যেদিকে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।ছেলেটি এক হাত মিতার পেটে, অন্য হাত তার উরুতে রাখে।
“এই যে, এটা আছে আমার!” হঠাৎ বলে ওঠে মিতা। ছেলেটি তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নেয়।
“তাই নাকি? অনেক সুন্দর তো!” মিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগ্রহ দেখায়। আবারো হাত রাখে পেটে ও উরুতে। হাতটি ধীরে ধীরে উরু থেকে ওপরের দিকে উঠছে। মিতা এসব সম্পর্কে এখনো বেখবর। সে তার নতুন ভাইয়াকে পুতুল দেখাতে ব্যস্ত।
“ভাইয়া, এটা দে… আহ!” কথা শেষ করার আগেই অরিয়ন এক টানে মিতাকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেয়। হাতে টান লাগায় ব্যথা পায় মিতা, কেঁদে ওঠে। অরিয়ান রাগে ফুঁসছে।
“যা এখান থেকে!” মিতার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে অরিয়ন। মিতা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে মায়া চৌধুরীর রুমের দিকে চলে যায়।
“অরিয়ন, কী হয়েছে? ওর সঙ্গে এমন করলি কেন?” কাচুমাচু করে বলে গেঞ্জি পরা ছেলেটি।
“তুই কী করতে চাইছিলি, তা আমি বুঝি না? আমাকে ওর মতো বাচ্চা ভেবেছিস?” বলেই ছেলেটির গেঞ্জির কলার ধরে অরিয়ন।
“অরিয়ন, কী হয়েছে? ওকে এভাবে ধরেছিস কেন?” রিমন চেয়ার ছেড়ে দ্রুত এসে অরিয়নের হাত থেকে ছেলেটিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
“ও কী করার চেষ্টা করেছে, তা তুই জানিস না?”
“কী করেছে?” অরিয়ন কিছু বলে না। দাঁতে দাঁত চেপে ছেলেটিকে ঘুষি মা'রতে থাকে।
“অরিয়ন, ভুল হয়েছে আমার। ছেড়ে দে, প্লিজ। আর কখনো করবো না।”
“তোকে বন্ধু ভেবেছিলাম!” অরিয়নের কণ্ঠে রাগ বাড়ছে।
“আর হবে না, ছেড়ে দে, প্লিজ!” বার বার অনুরোধ করে ছেলেটি।
“আমার বাসা থেকে এখুনি বের হয়ে যা। আমার চোখের সামনে আর কোনোদিন আসবি না” ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলে অরিয়ান।
মায়া চৌধুরীর হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে ডাইনিং রুমে আসে মিতা। হেঁচকি তুলে কাঁদছে। অরিয়ন নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। গেঞ্জি পরা ছেলেটি বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে।
“এই যে, এই ভাইয়া আমাকে মে'রেছে। হাত ধরে এভাবে টান দিয়েছে, মা। এখানে ব্যথা পেয়েছি” হাত দিয়ে অভিনয় করে দেখিয়ে বলে মিতা। কথা শুনতেই ফিরে তাকায় অরিয়ন।
“কী হয়েছে, অরিয়ন?” প্রশ্ন করেন মায়া চৌধুরী।অরিয়ন কিছু বলে না। মিতাকে একবার দেখে হাঁটা শুরু করে। নিমেষে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যায়।
“নিশ্চয়ই তুমি অরিয়ন ভাইয়ার সঙ্গে বেয়াদবি করেছো, তাই না? সেই জন্য ভাইয়া তোমাকে শাসন করেছে” মিতার দিকে তাকিয়ে বলেন মায়া চৌধুরী।
“না, মা, ও তো এখানে ছিলো না। আমি ওকে কিছু বলিনি। ও আমাকে বিনা কারণে মে'রেছে।”
“মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছি না তোমাকে, মিতা?”
“না, মা, তুমি…”
“চুপ করো। খেলতে যাও” বলেই মায়া চৌধুরী রুমে চলে যান। ছোট্ট মিতা হয়তো মিথ্যা বলছে ভেবে তার কথায় গুরুত্ব দেননি। অরিয়ন কেমন, তা তিনি ভালোই জানেন। বিনা কারণে সে কখনো এমন করবে না।
মিতা নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল। ছোট্ট মিতা আজ একটা কথা বুঝেছে—এই ভাইয়াকে সে একদম পছন্দ করে না। একদমই না।
চলবে…
ছোট বাচ্চাদের গুড টাচ ও ব্যড টাচ সম্পর্কে শিক্ষা দিন।