ফন্ট সাইজ:
থিম:
পারমিতা (সিজন ২)

৭ম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ

#পারমিতা_২

#পর্ব_৭

#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ

“বেব, আমি যা করেছি, সব তোমাকে ভেবে করেছি। আমি নেশাগ্রস্ত ছিলাম, কিছুই খেয়াল করিনি” অরিয়নের কথায় আফরিন অবাক হয়। কারণটা তার কাছে অজানা। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরিয়নের দিকে। পরক্ষণেই তার দৃষ্টি চলে যায় অরিয়নের হাতের দিকে, যেখানে সে আফরিনকে স্পর্শ করেছে। ভ্রু কুঁচকে যায় আফরিনের। আবার ফিরে তাকায় অরিয়নের দিকে। ব্যথিত অরিয়ন সরে আসে।

“হায় খোদা!” কথাটা বলেই নিজের কপালে হাত রাখেন আনিকা চৌধুরী। মিতাকে দেখেই তিনি বলে ওঠেন।

সকলের দৃষ্টি মিতার দিকে। এলোমেলো চুল, ফোলা ঠোঁট, গলায় কামড়ের চিহ্নগুলো স্পষ্ট। চোখে তার পানি, যা থামার নাম নিচ্ছে না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মিতা, অপরাধবোধ আর লজ্জায় যেন সে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সকলে কি তাকে সবকিছুর জন্য দোষারোপ করবে? সকলে কি বুঝতে পারবে মিতা নির্দোষ?

মায়া চৌধুরী বড় বড় চোখে মিতার দিকে তাকিয়ে আছেন। হতবাক তিনি। মিতাকে দেখে হতবাক। মিতার এই অবস্থা দেখে যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। পিছন থেকে মানুষের কানাকানির শব্দ শুনতে পাচ্ছেন তিনি। আড়চোখে অরিয়নের দিকে একবার তাকান। অরিয়ন মন খারাপ করে মায়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আছে। পাশেই আফরিন, যেন এসব কিছু বিশ্বাস করতে পারছে না। মিতার দিকে ফিরে তাকায় সে। দাঁতে দাঁত চেপে মায়া চৌধুরী দ্রুত হেঁটে মিতার সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

কারও উপস্থিতি টের পেয়ে ধীরে ধীরে মাথা তুলে মিতা। ঝাপসা চেহারাটা স্পষ্ট হয়। মায়া চৌধুরীকে দেখতেই তার বুক ফেটে কান্না আসতে থাকে। পিছনে আফরিনের দিকে একবার তাকায়। আফরিন যেন পাথরের মতো স্থির। মিতার হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ হয়।

“আমি ই...” মিতা কথা শেষ করতে পারে নি। মায়া চৌধুরী তাকে জড়িয়ে ধরেন। নিজের ওড়না দিয়ে মিতাকে ঢেকে দেন। মিতার বাঁধ ভেঙে যায়। হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে সে।

“আমি... আমি কিছু করিনি, মা। কী হয়েছে... আমি জানি না” কাঁদতে কাঁদতে বলে মিতা। কান্নার জন্য কথাগুলো ঠিকভাবে বলতেও পারছে না, কথা আটকে যাচ্ছে।

“কেঁদো না। যা হয়েছে, তাতে তোমার কোনো দোষ নেই। তুমি কেন কাঁদছ?” মিতার পিঠে হাত বুলিয়ে বলেন মায়া চৌধুরী। তার কণ্ঠে হতাশার পাশাপাশি মেয়ের প্রতি মায়া ফুটে ওঠেছে। মায়া চৌধুরীর কথা শুনে অরিয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে, যেন এতক্ষণ নিশ্বাস বন্ধ করে রেখেছিল। মায়া চৌধুরী কেমন, তা অরিয়ন ভালো করেই জানে। আজকের ঘটনার জন্য মিতা বা অরিয়নকে দোষারোপ করার কোনো উপায় নেই। অরিয়ন সেই পথ খোলা রাখেনি।

“আমি বারবার বলেছিলাম, এই পার্টিতে ম'দ রাখার দরকার নেই। কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনোনি” চেঁচিয়ে বলেন মায়া চৌধুরী। সকলে দ্রুত রুমে প্রবেশ করে। আনিকা চৌধুরী নিশ্চুপ। হাবিব চৌধুরী ও ওয়াহিদ চৌধুরীর মুখ গোমড়া ও মলিন। মায়া চৌধুরী বারণ করার পরেও মদের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, শুধুমাত্র ব্যবসায়িক পার্টনারদের জন্য।

“কী হয়ে গেল এসব! ইয়া খোদা, অরিয়ন...” দাঁতে দাঁত চেপে বলেন আনিকা চৌধুরী। অরিয়নের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তিনি।

“অরিয়ন না হয় পার্টনারদের সঙ্গে একটু-আধটু খেয়েছে, কিন্তু মিতা? মিতা কীভাবে খেল? এসব তো ওদের জন্য নিষেধ” গম্ভীর কণ্ঠে বলেন হাবিব চৌধুরী। মিতা ও অরিয়নকে এভাবে দেখতে পারছেন না তিনি। দুই সপ্তাহ পর অরিয়ন ও আফরিনের বিয়ে, আর আজ? আজ এটা কী হয়ে গেল!

“তুমি এসব খেয়েছ?” প্রশ্ন করেন মায়া চৌধুরী। মিতা মাথা নেড়ে না বলে।

“তাহলে? আর অরিয়ন, তোমার কাছ থেকে বিয়ের আগে এমন কিছু আশা করিনি আমরা। আফরিন আর মিতার মধ্যে পার্থক্য করতে পারোনি তুমি? কী ঘটে গেছে, একটু বুঝতে পারছ?” মায়া চৌধুরীর কণ্ঠে ক্ষোভ।

“আমার মেয়েটা ছোট, কী থেকে কী হয়ে গেল, আপা!” কাঁদতে কাঁদতে বলেন মায়া চৌধুরী।

“আসলে আন্টি, আমি কখন যে বেশি খেয়ে ফেলেছি, বুঝতে পারিনি। আমি এসেছিলাম আফরিনকে গুড নাইট বলতে, কিন্তু...” অরিয়ন একটু থামে। একসঙ্গে সব বললে সকলে বিশ্বাস নাও করতে পারে। সকলে বুঝতে পারে, অরিয়নের কথা আটকে যাচ্ছে। সকলেই অরিয়নের মধ্যে অনুশোচনা দেখতে পায়।

“কিন্তু এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। হয়তো মিতাও ভুলে খেয়ে ফেলেছে” ধীরে ধীরে রুমে প্রবেশ করে অরিয়ন। সকলের দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকায়, বুঝতে চায় তার কথা বিশ্বাস করা হচ্ছে কি না।

“মায়া!” ডাক দেন আনিকা চৌধুরী। মায়া চৌধুরী ফিরে তাকান।

“এখন?” প্রশ্ন করেন আনিকা চৌধুরী। কী করবেন, কেউ বুঝতে পারছেন না।

“দুই সপ্তাহ পরেই আফরিন আর অরিয়নের বিয়ে। এর মধ্যে এসব কী!” আনিকা চৌধুরী কথাটা বলতে গিয়ে থামেন। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে থাকা মানুষদের দিকে তাকান। সকলের চোখ মিতার দিকে। ফিসফিস করে কথা বলছে সবাই। আনিকা চৌধুরীর রাগ বাড়তে থাকে। দুই কদমে অরিয়নের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

“ঠাস...” আনিকা চৌধুরী অরিয়নের গালে থা'প্পড় বসিয়ে দেন।

“তুমি নেশা না করলে আজ এসব কিছুই হতো না। মেয়েটা ছোট, অরিয়ন। ভুলে না হয় নেশা করে ফেলেছে। কিন্তু তুমি? তুমি নিজের হবু স্ত্রী আর তার বোনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারলে না? কেমন পুরুষ তুমি?” এক নিশ্বাসে বলে ফেলেন আনিকা চৌধুরী। অরিয়ন মন খারাপ করে মাথা নিচু করে। যেন এসব কিছুতে সে লজ্জিত।

“আই এম সো সরি। আমি আমার কাজের জন্য খুব লজ্জিত” মাথা নিচু করে বলে অরিয়ন।

“পরেরটা পরে বোঝা যাবে। আগে মিতাকে এখান থেকে সরানো উচিত। আর সব মেহমানদের এবার বিদায় দিলে ভালো হয়” বলেন মায়া চৌধুরী।

-------------

হাবিব চৌধুরীর রুমে সকলে বসে আছেন। মেহমানদের একটু আগেই বিদায় দেওয়া হয়েছে। মিতা এখানে নেই, সে নিজের রুমে। শায়লাকে মিতার সঙ্গে রাখা হয়েছে। আনিকা চৌধুরী ও মায়া চৌধুরী দুজনেই হতাশ হয়ে বসে আছেন। মায়া চৌধুরী কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন। আনিকা চৌধুরী তাকে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। হাবিব চৌধুরী ও ওয়াহিদ চৌধুরী চুপচাপ বসে আছেন। একপাশে দাঁড়িয়ে আছে অরিয়ন। সকলের মুখের ভাব দেখে সে অপেক্ষা করছে সেই কথাটা শোনার জন্য। সকলে তার দিকে তাকাতেই তার মুখ মলিন হয়ে যায়। আফরিন ড্রেসিং টেবিলের সামনের টুলে বসে আছে।

“এখন কী করা উচিত?” নিস্তব্ধতা ভাঙেন ওয়াহিদ চৌধুরী।

“জানি না। এসব কিছু ভালো লাগছে না আমার। সবাই জেনে গেছে আজ যা ঘটেছে” বিরক্ত হয়ে বলেন হাবিব চৌধুরী।

“আফরিনের সঙ্গে অরিয়নের বিয়ে? দুই সপ্তাহ পর তাদের বিয়ে, সেটার কী হবে?” বলেন আনিকা চৌধুরী। তার কণ্ঠে ব্যাকুলতা।

“আমি কিছু বলতে চাই” সকলের দিকে এগিয়ে আসে অরিয়ন। তার চোখে-মুখে অপরাধবোধ।

“মিতার সঙ্গে যা হয়েছে, তার জন্য আমি খুব লজ্জিত। আমি হুশে ছিলাম না। আফরিনকে জিজ্ঞেস করুন, আমাদের মধ্যে এরকম কখনোই হয়নি” এক নিশ্বাসে বলে ফেলে অরিয়ন। আফরিনের সঙ্গে তার কিছুই নেই, তা সকলকে জানানোর উপায় খুঁজছিল সে। আফরিন অরিয়নের দিকে তাকিয়ে আছে।

“তবুও আমি যে ভুল করেছি, তার শাস্তি আমি নিজেকে দিতে চাই” মন খারাপ করে বলে অরিয়ন। সকলে আগ্রহ নিয়ে তার দিকে তাকায়। আফরিন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।

“আমি নিজের মতো এমন মানুষের সঙ্গে আফরিনকে জড়াতে চাই না” মাথা উঁচু করে সকলের দিকে তাকায় অরিয়ন। সকলে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে, তার কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।

“আমি মিতাকে বিয়ে করতে চাই” বলে অরিয়ন।

“অসম্ভব!” কেউ কিছু বলার আগেই মায়া চৌধুরী উঠে দাঁড়ান।

“এটা কোন ধরনের কথা, অরিয়ন?” গম্ভীর কণ্ঠে বলেন হাবিব চৌধুরী। বাকিরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অরিয়নের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে।

“সকলের কাছে জানাজানি হয়ে গেছে গতকাল যা...” অরিয়ন একটু থামে।

“গতকাল আমার আর মিতার মধ্যে যা হয়েছে, এর মধ্যে আমার আর আফরিনের বিয়েটা কি স্বাভাবিক? দুই বোন কখনো কি নিজেদের সঙ্গে চোখ মেলাতে পারবে? দুই বোনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ আমি হতে চাই না” মনমরা কণ্ঠে বলে অরিয়ন।

আফরিনের চোখ অরিয়ন থেকে সরছে না। অবাক দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে আছে। তাদের মধ্যে এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ০%, কারণটা আফরিন ভালো করেই জানে। তবুও সে নিজেকে সবটা বিশ্বাস করাতে পারছে না।

“মিতার সঙ্গে যা হয়েছে, তা জানার পর নিশ্চয়ই কোনো ভালো ঘরের ছেলে ওকে বিয়ে করবে না, তাই নয় কি?” আবার বলে অরিয়ন।

“এখন আপনারাই বলুন, আপনারা কী চান? যদি বিয়ে না দিতে চান, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার এই মুখ নিয়ে আমি আফরিনকে বিয়ে করতে পারব না। এটাই আমার সিদ্ধান্ত” কথাটা বলেই অরিয়ন আবার নিজের জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। যতক্ষণ না সকলে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ তার শান্তি নেই।

“না, না, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ওরা দুজন বোন, এটা কীভাবে সম্ভব?” বলেন মায়া চৌধুরী।

“তার ওপর মিতার বয়স সবে মাত্র আঠারো। ওহ গড, অরিয়নের চেয়ে এগারো বছরের ছোট!” আনিকা চৌধুরীর কথা শুনে অরিয়ন দাঁতে দাঁত চেপে ধরে। রাগ হচ্ছে তার। সবাইকে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, ভালোবাসার কাছে বয়সের পার্থক্য কিছুই না। অরিয়নের চেয়ে মিতাকে আর কেউ ভালো রাখতে পারবে না। কিন্তু অরিয়ন নিজের জায়গায় চুপ করে থাকে।

“কিন্তু গেস্টরা সব জেনে গেছে। এতক্ষণে বাইরেও জানাজানি হয়ে গেছে। এই অবস্থায় শুধু আমাদের কথা ভাবলেই হবে না, মিতার কথাও ভাবতে হবে” চিন্তিত কণ্ঠে বলেন হাবিব চৌধুরী।

“মিতাকে কি অন্য কোনো ভালো পরিবারে বিয়ে দেওয়া যাবে?” সকলকে প্রশ্ন করেন তিনি।

“কিন্তু আফরিন?” ভ্রু কুঁচকে বলেন ওয়াহিদ চৌধুরী। মায়া চৌধুরী অবাক হয়ে সকলের কথা শুনছেন। ইচ্ছে করছে এই বিষয় বাদ দিয়ে চলে যেতে। সকলের দৃষ্টি আফরিনের দিকে। আফরিন মৃদু হাসার চেষ্টা করে। অরিয়ন আড়চোখে তার দিকে তাকায়।

“মিতার জন্য যা ভালো, সেটাই করুন। আমার এসবে কোনো সমস্যা নেই,” আফরিনের কথা শুনে অরিয়নের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফোটে। মায়া চৌধুরী হতাশ হয়ে বিছানায় বসে পড়েন।

“আমাদের এখন মিতার কথা ভাবা উচিত। ও এখনো ছোট। এই বয়সে ওর জীবন এভাবে নষ্ট করতে পারি না। মানুষ ওকে আর অরিয়নকে নিয়ে আজেবাজে কথা রটাবে। মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবে না দুজনের কেউই” শান্ত কণ্ঠে বলেন হাবিব চৌধুরী। তার কণ্ঠে মিতা ও সকলের জন্য চিন্তা।

“আমারও মনে হচ্ছে, ভাইয়া ঠিকই বলছেন। অরিয়ন আর মিতার বিয়ে দিয়েই এসব বন্ধ করা যাবে” নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন ওয়াহিদ চৌধুরী। আনিকা চৌধুরী ও মায়া চৌধুরীকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা এই বিয়েতে রাজি নন।

“না, আমার মেয়ে এখনো ছোট, ওয়াহিদ” কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন মায়া চৌধুরী।

“পাগলামি করো না, মায়া। এর চেয়ে ছোট মেয়েদেরও বিয়ে হয়” মায়া চৌধুরীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেন ওয়াহিদ চৌধুরী।

“হয়, তবে নিজের হবু দুলাভাইয়ের সঙ্গে নয়। আমার মিতা এমনিতেই ওকে পছন্দ করে ন...” কথাটা বলতে গিয়ে থেমে যান তিনি। অরিয়ন হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগে।

“ও এখনো ছোট। একটু বড় হলেই এসব ঠিক হয়ে যাবে। আর এখন তুমি যদি এসব ভাবো, তাহলে নিজের চোখে মিতার চরিত্র নিয়ে কথা উঠতে দেখতে পারবে?”

“ওয়াহিদ!” নিম্নস্বরে বলেন মায়া চৌধুরী। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।

“আর আফরিন? ওর কী হবে?” আড়চোখে আফরিনের দিকে তাকিয়ে বলেন মায়া চৌধুরী।

“মা...” নিজের জায়গা থেকে উঠে মায়া চৌধুরীর দিকে এগিয়ে যায় আফরিন। তার দৃষ্টি স্বাভাবিক।

“আমাকে নিয়ে ভেবো না। আমার আর অরিয়নের মধ্যে এমন কিছুই ছিল না, যার জন্য মিতাকে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। আমি ঠিক আছি” মায়া চৌধুরীর কাঁধে হাত রেখে বলে আফরিন। মায়া চৌধুরী কেঁদে যান।

“তাহলে সেটাই। অরিয়ন আর মিতার বিয়ে হবে। এটাই ফাইনাল” ওয়াহিদ চৌধুরী হাবিব চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলেন।

“দিন-তারিখ যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করতে হবে” সায় দেন হাবিব চৌধুরী।

“ঠকঠক...” দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। শায়লা রুমে প্রবেশ করে।

“মিতা আপনাকে খুঁজছে, ম্যাডাম” মায়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে শায়লা। মায়া চৌধুরী আর অপেক্ষা করেন না। দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যান। একে একে সকলে মিতার রুমে চলে যায়।

অরিয়ন এখনো নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আফরিন ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে যায়। মুখোমুখি দাঁড়ায় দুজনে। অরিয়নের মুখ মলিন। আফরিন ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

“আই এম সো সরি, আফরিন” মন খারাপ করে বলে অরিয়ন।

❝মিথ্যে, অভিনয়❞ আফরিনের মন বলে ওঠে।

“তোমার কি আমাকে বোকা মনে হয়?” আফরিনের কথায় অবাক হয় অরিয়ন। ভ্রু কুঁচকে তাকায়। পরক্ষণেই বাঁকা হাসি দেয়। হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে বিছানায় বসে।

“নোপ” হেসে উত্তর দেয় অরিয়ন।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন