ফন্ট সাইজ:
থিম:
পারমিতা (সিজন ২)

১৩তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ

#পারমিতা_২

#পর্ব_১৩

#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ

ডাইনিং টেবিলে বসে আছে সকলে। শায়লাসহ বাকি কাজের লোকেরা নাস্তা পরিবেশনে ব্যস্ত। হাবিব চৌধুরীর মনোযোগ খবরের কাগজের দিকে। আনিকা চৌধুরী মন খারাপ করে বসে আছেন। মাঝে মাঝে অরিয়ন আর মিতার দিকে তাঁর চোখ ঘুরছে। মিতা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। পরনে একসেট ভারী কাজের সালোয়ার-কামিজ। মিতাকে দেখে যতটা অসন্তোষ মনে হচ্ছে, অরিয়নকে দেখে ঠিক ততটা মনে হচ্ছে না। আনিকা চৌধুরীর চোখ অরিয়নের দিকে ঘুরল। অরিয়নের পরনে সাদা পাঞ্জাবি। মোবাইলে তাকিয়ে আছে। শায়লার নাস্তা পরিবেশন শেষ হলে সে খাওয়া শুরু করবে। আবরার যেন এই পরিবারের কেউ নয়। খাবারের টেবিলে কার কী অবস্থা, তাতে তার মাথাব্যথা নেই।

শায়লার নাস্তা পরিবেশন শেষ হতেই সব কাজের লোক রান্নাঘরে চলে যায়। হাবিব চৌধুরী খবরের কাগজ রাখেন।

“আজ রিসেপশনে সকলেই আসবে। যারা বিয়েতে আসতে পারেনি, তারাও” বললেন হাবিব চৌধুরী। সকলের দৃষ্টি তাঁর দিকে।

“মিতা?” হাবিব চৌধুরীর ডাকে মিতা চোখ তুলে তাকায়।

“জি, চাচ্চু?” নিম্নস্বরে জবাব দেয় মিতা।

“যা হয়েছে, তাতে তোমার কোনো দোষ নেই” হাবিব চৌধুরীর কথায় মিতার বুকের যন্ত্রণা কমল না, বরং বেড়ে গেল। তার যদি দোষ না থাকে, তাহলে ভালোবাসার মানুষ থেকে বিচ্ছেদের এই যন্ত্রণা তাকে কেন সহ্য করতে হচ্ছে?

“যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। এখন আমাদের বর্তমান নিয়ে ভাবা উচিত” হাবিব চৌধুরীর কথাগুলো যে ফেলে দেওয়ার মতো নয়, তা সকলেই জানে। তবুও কেউ মেনে নিতে পারছে না।

“বর্তমান-বর্তমান বললেই তো হয় না, বাবা। মিতা আদৌ ভাইয়ার সাথে থাকতে চায় কি না, সেটাই বড় কথা” হুট করে বলে ওঠে আবরার। সকলের দৃষ্টি আবরারের দিকে।

“প্রথম কথা, মিতা ভাইয়ার থেকে এগারো বছরের ছোট। আজকালকার মেয়েরা নিজের থেকে এত বড় বয়সের ছেলেদের স্বামী হিসেবে পছন্দ করে না।”

“আবরার!” গম্ভীর কণ্ঠে বলেন হাবিব চৌধুরী।

“আমাকে চুপ করালেও সত্য বদলে যাবে না, বাবা। আর দ্বিতীয় কথা, আমরা সকলেই জানি মিতা ভাইয়াকে পছন্দ করে না। তাই তোমরা ওর ওপর এসব চাপিয়ে না দিয়ে ওকে বিকল্প দাও।”

“হোয়াট. ডু. ইউ. মিন?” দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে অরিয়ন। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেন আবরারকে ঝলসে দেবে।

“আই মিন টু সে, মিতা এই সম্পর্কে থাকবে কি না, সেটা পুরোপুরি তার ওপর ছেড়ে দেওয়া...” আবরার কথা শেষ করার আগেই এক ঝটকায় চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় অরিয়ন।

“গুরুত্বপূর্ণ কল করতে হবে” গম্ভীর কণ্ঠে বলেই চলে যায় অরিয়ন।

“তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? বিয়ে হয়েছে এখনো একদিনও পুরোপুরি হয়নি, আর তুই এসেছিস আবোল-তাবোল কথা বলতে!” রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন আনিকা চৌধুরী।

“আমার কথা আবোল-তাবোল মনে হবেই” বলেই নিজের খাবার খাওয়া শুরু করে আবরার। হাবিব চৌধুরী রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন আবরারের দিকে। মিতা মাথা নিচু করে রাখে।

-------------

রুমে প্রবেশ করতেই এক ধাক্কায় দরজা লাগায় অরিয়ন। বিকট শব্দে পুরো ঘর যেন ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে। রাগে তার গা জ্বলছে। ইচ্ছে করছিল আবরারের গালে দুটো জোরে চ'ড় মা'রতে, কিন্তু সকলের সামনে থাকায় নিজেকে সংযত করেছে। সে কী করেনি? মিতাকে বিয়ে করার জন্য পুরো একটা পরিকল্পনা করেছে। নিজেকে সকলের সামনে দুশ্চরিত্রের লোক বানিয়েছে। আর এখন বলছে, বিয়েতে থাকতে চায় কি না, সবটা মিতার ওপর? মিতার ওপর কিছুই নেই। সেই অধিকার অরিয়ন মিতাকে দেবে না। কখনোই দেবে না।

মিতার জন্য সব করতে পারে অরিয়ন। এমনকি জীবনও দিয়ে দেবে, কিন্তু বিচ্ছেদ? না, এটা সম্ভব নয়। এই কথাগুলো যেন তাকে প্রতি মুহূর্তে পীড়া দিচ্ছে।

দরজা খুলে মিতা প্রবেশ করে। তার হাতে গয়নার লাল বাক্স। আনিকা চৌধুরী আজ রিসেপশনে পরার জন্য মিতাকে দিয়েছেন। অরিয়ন ঘরের মধ্যে পায়চারি করছে, ক্ষণিকের জন্যও পা থামছে না। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। সিগারেট দেখে মিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই ঘরে কীভাবে সে থাকবে, তা সে জানে না। মিতাকে দেখামাত্র অরিয়ন নিজের জায়গায় স্থির হয়। মিতা তাকে না-দেখার মতো করে আলমারির দিকে এগোয়।

“মিতা!” অরিয়নের কণ্ঠ কর্কশ। মিতা ফিরে তাকায়।

“জি?”

“কোনো ডিভোর্স হবে না” মিতার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে অরিয়ন। মিতা ভ্রু কুঁচকায়, পরক্ষণেই না-শোনার মতো করে আবার আলমারির দিকে নজর ফেরায়।

“কী বলেছি, শুনতে পেয়েছিস? কোনো ডিভোর্স হবে না। এসব চিন্তা ভুলেও মাথায় আনিস না” দাঁতে দাঁত চেপে বলে অরিয়ন।

“কী জন্য হবে না?” মিতার উত্তর যেন কেরোসিনের মতো কাজ করল অরিয়নের রাগে।

“হবে না, কারণ...” কথাটা বলতে গিয়েও থেমে যায় অরিয়ন। মিতা আগ্রহ নিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করছে।

“কারণ? কারণ আপনি আমাকে খুব ভালোবাসেন?” মিতা তাচ্ছিল্যের সুরে বলে। কিন্তু এই কথাটা যে কতটা সত্য, তা সম্পর্কে মিতা বেখবর।

“কারণ, আমার চরিত্রে একবার দাগ লেগেছে। দ্বিতীয়বার আমি লাগতে দেব না। ডিভোর্স হলে মানুষ কী ভাববে?” এক নিশ্বাসে বলে ফেলে অরিয়ন। কথাগুলো শুনে মিতা বিরক্ত হয়। আবার আলমারিতে বাক্সগুলো রাখা শুরু করে।

“তুই কি শুনতে পারছিস, আমি কী বলছি?” মিতার দিকে এক কদম এগিয়ে যায় অরিয়ন। মিতা কিছু না-শোনার মতো থাকে। বিয়ে, ডিভোর্স—এসব কিছু বারবার মিতার বুকে তীরের মতো বিঁধছে। আচ্ছা, এসব যদি দুঃস্বপ্ন হতো, তাহলে কেমন হতো?

“মিতা?” চেঁচিয়ে ওঠে অরিয়ন।

“কী হয়েছে? এভাবে চেঁচাচ্ছেন কেন? আমি কালা নই, কানে শুনতে পাই” মিতাও চেঁচিয়ে ওঠে। এক নিমেষে গিয়ে মিতার বাহু শক্ত করে ধরে অরিয়ন।

“ছাড়ুন আমাকে” হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে মিতা।

“ছাড়ার জন্য হাত ধরিনি” অরিয়নের কণ্ঠ রুক্ষ। মিতা শুধু তার দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকে।

“আবরারের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দে।”

“আর না ফেললে?” দাঁতে দাঁত কিড়মিড় করে বলে মিতা।

“আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না।”

“নিলে কী করবেন? গায়ে হাত তুলবেন? মা'রবেন?”

“ছাড়ুন আমাকে” এক ধাক্কায় অরিয়নকে সরিয়ে দেয় মিতা। বাহুতে এমনভাবে ঘষতে থাকে, যেন অরিয়নের ছোঁয়ায় তার শরীরে ময়লা লেগে গেছে।

“আমাকে স্পর্শ করবেন না। আপনার স্পর্শে আমার ঘৃণা হয়। বুঝতে পেরেছেন? ঘৃণা হয়” হতবাক অরিয়ন শুধু মিতার দিকে তাকিয়ে থাকে।

“আর হ্যাঁ, ডিভোর্সের কথা। ডিভোর্স দেওয়ার হলে আমি এই বিয়েতে রাজি হতাম না। আমার হাত-পা বাঁধা, বুঝতে পেরেছেন? বাঁধা। একবার আমি আমার বোনকে হতাশ করেছি, দ্বিতীয়বার আমার মাকে করব না” রাগে মিতার শরীর কাঁপছে। মনে হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে কেঁদে ফেলবে। অরিয়নকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত হেঁটে ওয়াশরুমে চলে যায়।

মিতার এত কথার কিছুই অরিয়নের কানে যায়নি। যা গেছে, তা শুধু একটি কথা—মিতা ডিভোর্স চায় না। এই কথা শুনতেই অরিয়ন বড় করে শ্বাস ফেলে। বাকি, মিতার ঘৃণা। ঘৃণাকে ভালোবাসায় পরিণত করতে যা করতে হয়, তা সবই করবে অরিয়ন। যত দিন অপেক্ষা করতে হয়, তত দিন অপেক্ষা করবে।

-------------

রুমে বসে আছে মিতা। বাড়ি এখনো মেহমানে ভরা। মাঝে মাঝে এসে মিতাকে দেখে যাচ্ছে। পাশের কাউচে বসে আছে অরিয়ন। তার চোখ-মুখ গম্ভীর। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। সামনের টেবিলে ট্রেতে নাস্তা দিয়ে গেছে শায়লা, কিন্তু অরিয়ন তা স্পর্শ করেনি।

সিগারেটের গন্ধে মিতার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কতক্ষণ নিশ্বাস আটকে গন্ধ থেকে বাঁচার চেষ্টা করবে, তা বুঝতে পারছে না। আড়চোখে অরিয়নের দিকে তাকায়। অরিয়ন এখনো সিগারেটে ব্যস্ত। দম আটকে না রাখতে পেরে কাশতে শুরু করে মিতা।

অরিয়ন তার দিকে দৃষ্টি ফেরায়। দুজনের চোখাচোখি হয়। কিন্তু অরিয়ন সিগারেট রাখে না। মিতার চোখে চোখ রেখে ঠোঁটের মাঝে সিগারেট নিয়ে আবার টান দেয়। মিতা দাঁতে দাঁত চেপে ধরে।

-------------

ক্লাবে বসে আছে মিতা। তার পরনে আজ নীল রঙের শাড়ি, জরির লতানো কাজ করা। মাথায় মিলিয়ে নীল রঙের ওড়না। মিতাকে সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছে। আনিকা চৌধুরী দিয়েছিলেন। পাশে বসে আছে অরিয়ন। অফ-হোয়াইট রঙের স্যুট পরা আজ। তার দৃষ্টি মাঝে মাঝে মিতার দিকে ফিরছে।

আত্মীয়-স্বজনরা মাঝে মাঝে এসে মিতা আর অরিয়নকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। হাবিব চৌধুরী বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিতার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

“সব ঠিক আছে?” মিতার পাশে এসে জিজ্ঞেস করে আফরিন। আফরিনকে আসতে দেখেই অরিয়ন স্টেজ থেকে নেমে যায়। মিতা আফরিনের দিকে তাকায়, মৃদু হাসে।

“হুঁ” নিম্নস্বরে জবাব দেয়।

“সব ঠিক হয়ে যাবে। এত ভাবিস না। আর দেখ, আমাকে...” বলে মিতার থুতনি ধরে নিজের দিকে দৃষ্টি ফেরায় আফরিন।

“আমার সঙ্গে তুই কোনো অন্যায় করিসনি। আমি ভালো আছি” আলতো হেসে বলে আফরিন। মিতা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে।

আফরিনের জীবন সে নষ্ট করেনি—এই কথা শুনে মিতা একটু স্বস্তি পায়। কিন্তু সাকিব? না, ভালো লাগছে না। তার কান্না পাচ্ছে, বুক ফেটে কান্না পাচ্ছে। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা এত কষ্টের, তা জানলে কখনো কাউকে ভালোবাসত না মিতা।

“কাঁদিস না। তুই কাঁদলে মাও কাঁদে” বলে আফরিন। মিতা সরে আসে, চোখ মোছে।

“সবাই এসেছে?” প্রশ্ন করে মিতা।

“হ্যাঁ, তোর বন্ধু-বান্ধব সবাই এসেছে। আছে, হয়তো আশেপাশে কোথাও” বলে আফরিন।

“আচ্ছা” বলে মিতা চোখ বোলায়। ঠিকই, তার বন্ধু-বান্ধব সবাই এসেছে। নিজেদের মধ্যে আড্ডা আর সেলফি তুলতে ব্যস্ত।

“তোমাকে যা বলেছিলাম, তার কী হলো?”

“সব রেডি। আর বাকি রইল তোর গিফট। সব আজই বাড়িতে পাঠিয়ে দেবে মা” বলে আফরিন।

“আচ্ছা” মিতার চোখ আটকে যায় সামনে। মিতা কাকে দেখছে, তা দেখতে আফরিনও তাকায়। সামনে সাকিব দাঁড়িয়ে। মুখে মৃদু হাসি। এগিয়ে আসে মিতার দিকে।

“কেমন আছেন?” সাকিবকে দেখামাত্র জিজ্ঞেস করে আফরিন।

“ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?”

“ভালো” আফরিন মিতার পাশে বসে থাকে। মিতা সাকিবের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। অপরাধবোধ আর সাকিবের অবস্থা তাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।

“বসুন না, স্যার। দাঁড়িয়ে থাকবেন না। আর আপনার স্টুডেন্টের জন্য দোয়া করবেন” নীরবতা ভাঙতে আফরিন আবার কথা বলে।

“তা তো সব সময় করি। আসলে একটা কথা বলতে চাইছিলাম। যদিও এখন এই কথা বলা ঠিক নয়..” সাকিবের কণ্ঠে দ্বিধা। যেন কথাটা বলতে তার লজ্জা লাগছে।

“জি, স্যার, বলুন” মিতা আর আফরিন দুজনেই উঠে দাঁড়ায়।

“আসলে... আসলে...” আফরিন মিতার দিকে তাকায়।

“আসলে, টিউশনটা কি এখন থাকবে, নাকি...”

“থাকবে। আমার বিয়ের সঙ্গে টিউশন চলে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিয়ে হয়েছে, পড়াশোনা ছেড়ে দেই নি” সাকিবের কথা শেষ হওয়ার আগেই বলে ওঠে মিতা। সাকিব মাথা নিচু করে রাখে।

“কিন্তু অরি...”

“অরিয়ন ভাইয়ার এখানে কিছু বলার নেই। আপনার সঙ্গে আমি এই ব্যাপারে পরে কথা বলব” সাকিবের দিকে তাকিয়ে বলে মিতা।

“ধন্যবাদ। কৃতজ্ঞ থাকব” বলে মৃদু হাসে সাকিব। মিতাও হাসার ব্যর্থ চেষ্টা করে। সাকিব স্টেজ থেকে নেমে যায়। মিতা তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

-------------

মোহাম্মদ সাকিব আহসান। বয়স—২৪। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। পারিবারিক অবস্থা নিম্নবিত্ত। দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে সাকিব দ্বিতীয়। বড় বোনের এখনো বিয়ে হয়নি। সংসার চলছে সাকিবের ওপর নির্ভর করে। তাই মিতার বিয়ে হয়ে যাওয়ার চেয়েও টিউশন চলে যাওয়ার দুশ্চিন্তা তাকে বেশি ভাবাচ্ছে। উচ্চবিত্ত মিতার পরিবার পড়ানোর জন্য ভালো অঙ্কের অর্থ দেয়।

নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের ভালোবাসার অধিকার নেই, স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই। যা আছে, তা হলো পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য। বড় বোনের বিয়ে, নিজের ও ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ—সব চিন্তায় সাকিব বুকের যন্ত্রণার কথা যেন ভুলে গেছে।

ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাকিব একবার পিছনে ফিরে মিতার দিকে তাকায়। তার চোখ ভিজে আসছে। হাঁটা শুরু করে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে।

“স্যার, একটু দাঁড়ান” পেছন থেকে একজন ছেলে উচ্চস্বরে বলে ওঠে। সাকিব ফিরে তাকায়। ছেলেটি ক্লাবের ওয়েটার। তার হাতে বড় সাইজের দুটি টিফিন বক্স। দ্রুত সাকিবের দিকে এগিয়ে আসে।

“আপনার জন্য। মায়া চৌধুরী বারবার বলে দিয়েছেন আপনাকে দিতে” সাকিব টিফিন বক্সের দিকে তাকিয়ে থাকে। বক্সে কী আছে, তা সে ভালো করেই জানে। ওয়েটারকে পাশ কাটিয়ে মিতার দিকে তাকায়। অপরাধী মিতার চোখে যেন অনুনয়, বক্সগুলো নিতে।

সাকিবের জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তো চলে যেত, কিন্তু পরিবারকে ভালো কিছু খাওয়ানোর ইচ্ছা সে দমাতে পারল না। টিফিন বক্সগুলো হাতে নিয়ে আবার মিতার দিকে তাকায়। আলতো হেসে ক্লাব থেকে বেরিয়ে যায়।

সাকিব নজরের বাইরে যেতেই মিতার চোখ বেয়ে পানি পড়তে শুরু করে।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন