#পারমিতা_২
#পর্ব_১৪
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ
রাত ১২টা।
রিসেপশনের আয়োজন একটু আগে শেষ হয়েছে। রুমে আসতেই দ্রুত গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে নেয় মিতা। অরিয়ন এখনো রুমে আসেনি। রুমের এক কোণায় পড়ে আছে চারটি স্যুটকেস ও কিছু গিফট বক্স। মায়া চৌধুরী মিতার পরিচিত সকলের দেওয়া গিফট পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাকিদের মধ্যে যারা ভারী জিনিস দিয়েছেন, তা আলাদা করে স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। হালকা পাতলা বক্সগুলো রুমে পাঠানো হয়েছে।
মিতা দ্রুত গিয়ে স্যুটকেস খোলে। স্যুটকেস ভর্তি গিফট বক্স, যেগুলো ভিতরে প্রবেশ করানো গেছে, সবগুলো সেভাবেই পাঠিয়েছেন মায়া চৌধুরী। প্রতিটি গিফট বক্সে মিতার বন্ধু-বান্ধব অথবা মিতার বয়সী কাজিনদের দেওয়া গিফট। সবকটি বক্স এলোমেলো করে কিছু একটা খুঁজতে থাকে মিতা। নাহ, এই স্যুটকেসে নেই। আবারও হন্যে হয়ে অন্য স্যুটকেস খোঁজে। তৃতীয় নম্বর স্যুটকেস খুলতেই থমকে যায় মিতা। স্যুটকেসের এক কোণায় লাল রঙের র্যাপার দিয়ে মোড়ানো একটি ছোট লাল বক্স। উপরে ছোট করে লেখা ‘ফ্রম সাকিব স্যার’।
মিতার চোখে পানি ছলছল করছে, যেকোনো মুহূর্তে পড়তে শুরু করবে। কাঁপা কাঁপা হাতে বক্স হাতে তুলে নেয় মিতা। কী আছে এই বক্সে? তার মায়া, ভালোবাসা, সব কিছুর ছোঁয়া। যা তার হয়েও তার হলো না। সাকিব আর কখনোই তার হবে না, সেও সাকিবের হতে পারবে না।
বক্স নিয়ে বিছানায় এসে বসে মিতা। আলতো করে র্যাপার খোলে। শেষ স্মৃতি হিসেবে কী আছে, সেটাই দেখতে চায় সে। বক্স খোলে। বক্সে রাখা ছোট সাইজের একটি পুতুল, পাশেই একটি আর্টিফিশিয়াল ফুলের তোড়া। পুতুলের এক পাশে রাখা একটি কার্ড। কার্ড হাতে তুলে নেয় মিতা। এক নজরে তাকিয়ে থাকে সাকিবের সেই সুন্দর টানা হাতের লেখার দিকে।
প্রিয় পারমিতা,
আশা করি ভালো আছো। আশা, তিন অক্ষরের এই শব্দের গুরুত্ব অনেক। এই আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, এই আশা মানুষকে ভালো থাকতে শেখায়। ভালো থাকার আশাই হয়তো তোমার সাথে আমাকে জড়িয়ে দিয়েছিল।
কী বলবো জানি না, কী লিখবো তাও জানি না। কোন কথা থেকে কোন কথায় চলে এসেছি, তাও বুঝতে পারছি না। শুধু বলবো, তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ভালো ছিল। আমার এই রসহীন জীবনে তুমি আনন্দ নিয়ে এসেছিলে।
আমি জানি তুমি কেমন। আমি এটাও জানি, আমার মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মতো মেয়ে তুমি নও। তাই হুট করে যখন বিয়েটা করে নিয়েছো, সেহেতু তার পিছনে কোনো কারণ অবশ্যই থাকবে। আর সেই অজানা কারণ থেকেই বলছি, জীবনে খুব ভালো থেকো। নিজের বর্তমান জীবন আর নিজের স্বামীকে নিয়ে ভালো থাকো। কবুল বলার সাথে সাথে তোমার আর আমার মধ্যে যা ছিল, তা সেখানেই শেষ। আমার সাথে অন্যায় করেছো ভেবে কখনো নিজের প্রতি অন্যায় করো না। আমার সাথে কিছুই করোনি তুমি, আমার ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে।
চিঠিটা পড়ার সময় নিশ্চয়ই তুমি কাঁদছ! কেঁদো না। আমি সত্যি ভালো থাকার চেষ্টা করবো। তোমার মতো একজন ক্ষণিকের জন্য আমার জীবন রাঙিয়ে দিতে চেয়েছিলে, সেই জীবন আমি বেরঙিন হতে দেব না। শুধু বলবো, তোমার কথা মনে থাকবে। ভালোবাসা হিসেবে নয়, একজন ভালো বন্ধু হিসেবে। আমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে দেওয়ার জন্য। ভালো থেকো খুব।
ইতি,
সাকিব স্যার।
বি. দ্র.: জানি এই কথাটা বলা ঠিক নয়, তবে যদি সম্ভব হয় তাহলে টিউশনটা এখন বন্ধ করো না। টিউশনটা আমার খুব দরকার।
মিতার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। কোন অপরাধের শাস্তি তাকে এভাবে দেওয়া হচ্ছে, জানে না। যদি তার সাথে মিতার কিছু নাই হবে, তাহলে কেন তার প্রতি সম্মান থেকে ভালোবাসা সৃষ্টি হলো? কেন স্যার হিসেবেই রয়ে গেল না সাকিব?
হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে মিতা। চিঠিটা আবারও বক্সে ঢোকায়। তুলে নেয় পুতুলটি। সাদা রঙের পুতুলটির গায়ে গোলাপি রঙের একটি জামা পরানো। মায়াভরা দৃষ্টিতে পুতুলের দিকে তাকিয়ে থাকে মিতা।
“কী দেখছিস, দেখি তো?” হুট করেই কথাটা বলে মিতার হাত থেকে এক ঝটকায় পুতুল নিয়ে নেয় অরিয়ন। আচমকা অরিয়ন পুতুল নিয়ে নেওয়ায় মিতা যেন রিয়্যাক্ট করার সময় পেল না। কিছুক্ষণ নিজের জায়গায় স্থির হয়ে রইল। পরক্ষণেই উঠে দাঁড়ায়।
“আমার পুতুল দিন, এখনই দিন” রাগান্বিত কণ্ঠে বলে মিতা। অরিয়ন রুমে কখন এসেছে, তা খেয়াল করেনি সে' নিজের মধ্যে এতটাই বিভোর ছিল।
“কী আছে এই পুতুলটায়? অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়েছিলি” অরিয়ন উলটে-পালটে পুতুলটা দেখছে।
“আমার পুতুল দিন, দিন বলছি” অরিয়নের দিকে এগিয়ে যায় মিতা।
“নিবি? আচ্ছা, নে” এগিয়ে দেয় মিতার দিকে। মিতা হাত বাড়িয়ে পুতুল নিতে গেলেই তা সরিয়ে নেয় অরিয়ন। হাত উপরে তুলে দেয়। মিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে অরিয়নের দিকে, পরক্ষণেই রাগে চোখ গরম করে মিতা। হাত বাড়ায় পুতুল নেওয়ার জন্য, কিন্তু অরিয়নের উচ্চতার কাছে মিতা কিছুই না। মিতার হাত বড়জোর অরিয়নের মাথা পর্যন্ত এসেছে।
“কী হয়েছে, দাঁড়িয়ে আছিস কেন? নে!” দুষ্টামির ছলে পুতুল এগিয়ে দিয়ে বলে অরিয়ন। আবারও মিতা নেওয়ার চেষ্টা করলেই হাত সরিয়ে নেয়।
“আহা, পারছিস না?” আবারও বলে অরিয়ন, তার ঠোঁটের কোণে হাসি। অন্যদিকে মিতা প্রতি মুহূর্তে রেগে যাচ্ছে।
“আমার পুতুলটা দিন, তা না হলে ভালো হবে না” গম্ভীর কণ্ঠে বলে মিতা। অরিয়ন বুঝতে পারে মিতা রেগে যাচ্ছে, তাই বেশি দুষ্টামি না করে পুতুল এগিয়ে দেয় মিতার দিকে। এক ঝটকায় পুতুল নিয়ে নেয় মিতা। পুতুল হাতে নিতেই যেন মিতার মধ্যে প্রাণ ফিরে আসে। মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পুতুলের দিকে।
“সামান্য একটা পুতুলের জন্য এভাবে রেগে যাচ্ছিলি? তাও এই সস্তা একটা পুতুলের জন্য। এত পছন্দ পুতুল তোর?” মিতার দিকে তাকিয়ে বলে অরিয়ন। অরিয়নের কথা শুনতেই যেন গা জ্বলে উঠল মিতার। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় অরিয়নের দিকে।
“সস্তা আর দামি বলতে কিছু নেই। উপহার মানেই উপহার। তাতে মানুষের ভালোবাসা থাকে, মায়া-মমতা থাকে” স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি কঠোর শোনা গেল মিতার কণ্ঠ।
অরিয়ন কিছু বলল না। পুতুলটা হাতে যেতেই মিতার চেহারায় যে আনন্দ ফুটে উঠেছে, তা দেখতে ব্যস্ত সে। মিতা দ্রুত আবারও বক্সের কাছে যায়। পুতুল রেখে সরাসরি আলমারিতে নিজের ড্রয়ার খুলে তাতে পুতুল রেখে দেয়।
-------------
বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে আছে মিতা। অরিয়ন কাউচে বসে ল্যাপটপ চালাচ্ছে। রুমের মধ্যে লাইট জ্বলছে এখনো, তার আলোতে মিতার ঘুম আসে না। একে মনের মধ্যে নেই শান্তি, সাকিবের কথা না চাইতেও ভেবে ফেলছে প্রতিবার। তার উপর ঘুমানোর মতো কোনো পরিবেশও নেই। লাইটের আলো, সিগারেটের দুর্গন্ধ মিতার মাথায় যন্ত্রণা করতে শুরু করেছে। একটা মানুষ কত সিগারেট খেতে পারে, তাই বুঝতে পারছে না মিতা।
শোয়া থেকে উঠে বসে মিতা। অরিয়ন মিতার নড়াচড়া বুঝতে পেরে মিতার দিকে তাকায়। মিতার মুখে অস্বস্তি প্রকাশ পাচ্ছে। সিগারেটের গন্ধ তাকে পীড়া দিচ্ছে, তা জানে অরিয়ন, কিন্তু সে নিজেও নিরুপায়। এই সিগারেট তার মন শান্ত রাখে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়, নিজের মনোযোগ অন্যদিকে ডাইভার্ট করে।
“সেদিন কী হয়েছিল?” হুট করে প্রশ্ন করে মিতা। মিতার কথা শুনতেই বুক ধুকপুক করতে থাকে অরিয়নের। সেদিনের কথা যত এড়িয়ে যাবে, ততই সব সহজ হবে। মিতা যদি ভুলেও জানতে পারে কী হয়েছিল, তাহলে কী হবে, তা অরিয়ন জানে না। শুধু জানে, মিতার বিচ্ছেদ সে সইতে পারবে না।
“কোন দিন?” অরিয়ন মিতার কথা বুঝতে পারছে না, এমন ভাবে বলে।
“আপুর জন্মদিনের দিন”
“আমি জানি না”
“আপনি জানেন না? সেদিন আপনি ছাদে ছিলেন, আমি যখন বাটিগুলো নিচ্ছিলাম” মিতার কথা শুনতেই ঘাবড়ে যায় অরিয়ন। হাত ল্যাপটপের উপর স্থির হয়ে রইল। সবটা কী মনে পড়ে গেল মিতার? কথাটা ভাবতেই অস্বস্তি হচ্ছে অরিয়নের।
“হ্যাঁ” গম্ভীর কণ্ঠে বলে অরিয়ন।
“এরপর কী হয়েছে?” ভ্রু কুঁচকে বলে মিতা।
“এরপর তুই বাটি নিয়ে নিচে চলে গিয়েছিলি” ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলে অরিয়ন।
“আপনি আমাকে ডাক দেননি?”
“না”
“আপনি আমাকে পরী বলে ডাকেননি?”
“না”
“আপনি আমাকে একটা ব্রেসলেট পরিয়ে দেননি?”
“কী হয়েছে তোর? জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছিস নাকি?” বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় অরিয়ন। এগিয়ে আসে মিতার দিকে। মিতার পাশে বিছানায় গিয়ে বসে অরিয়ন। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে।
“সেদিন কী হয়েছিল, শুনবি?” বলে অরিয়ন। মিতা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে।
“সেদিন তুই বাটি নিয়ে নিচে চলে গিয়েছিলি। আমি নে'শাগ্রস্ত অবস্থায় আফরিনের রুমে নক করতেই দেখি দরজা খোলা” কথাটা বলে একটু এগিয়ে আসে অরিয়ন। মিতা ভ্রু কুঁচকায়, একটু সরে নিজেদের মধ্যে ব্যবধান রাখার চেষ্টা করে।
“বিছানায় অর্ধনগ্ন কেউ শুয়ে ছিল। চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় তাকে আফসারার মতো লাগছিল। সেই আফসারাকে আমি আমার করে নিতে চেয়েছিলাম। তাকে স্পর্শ করার লোভ আমি সামলাতে পারিনি। স্পর্শ করতেই সে আমাকে তার নিজের কাছে টেনে নিয়েছিল” কথাগুলো কর্কশ কণ্ঠে বলে অরিয়ন। মিতার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। ক্ষণে ক্ষণে চোখ যাচ্ছে মিতার ঠোঁটের দিকে। সেদিনের সেই চুম্বনের কথা মনে পড়লেই উন্মাদ হয়ে যায় অরিয়ন।
অরিয়নের কথা শুনতেই লজ্জায় ম'রে যেতে ইচ্ছা করে মিতার। সেদিন আফরিনের রুমে সে না থাকলে হয়তো সবটা অন্যরকম হতো। সে কেন অরিয়নকে সরিয়ে না দিয়ে নিজের কাছে টেনে নিল? কথাগুলো ভাবতেই ম'রে যেতে ইচ্ছা করে মিতার।
“পরী?” অরিয়নের ডাক শুনতেই থতমত খায় মিতা। অরিয়নের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকায়।
“তোর স্বপ্নে এই নামেই তোকে ডেকেছিলাম, তাই না?” মিতা শুধু তাকিয়েই রইল।
“শুনেছি তুই আমাকে পছন্দ করিস না, সহ্য করতে পারিস না। কারণ কী?” মিতা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। আসলেই তো, অরিয়নকে পছন্দ না করার কারণ কী? ছোটবেলার সেই ঘটনাগুলো কি আদৌ কোনো কারণ হিসেবে গণ্য হয়? না, কোনো কারণ মাথায় আসল না মিতার।
কাউকে ভালোবাসতে যেমন কারণ লাগে না, তেমনি কাউকে হয়তো ঘৃণা করতেও কারণ লাগে না। কিছু মানুষকে আমরা বিনা কারণেই অপছন্দ করে থাকি। সেই কিছু মানুষের মধ্যে হয়তো অরিয়নও পড়ে।
“ঘুমিয়ে পড়, আমি লাইট অফ করে দিচ্ছি” অরিয়ন মিতার উত্তরের অপেক্ষা করল না। লাইট অফ করেই ল্যাপটপের পাশ থেকে সিগারেটের প্যাকেট তুলে নিয়ে বেলকনিতে চলে যায়। মিতা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। পরক্ষণেই বালিশে মাথা রাখে। হঠাৎ করেই কেমন যেন লাগছে মিতার, মনে হচ্ছে আগামীতে যা হতে যাচ্ছে, তা মোটেও ভালো কিছু হবে না।
-------------
পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে মিতার। চোখ খুলেই বালিশের নিচ থেকে মোবাইল নেয়। ঘড়িতে ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট। আজ সকাল-সকাল ঘুম ভেঙে গেছে মিতার। মোবাইল রেখে উঠে বসে। খোলা চুল খোপা করার জন্য মাথায় হাত দেয়।
“আ......” বিকট শব্দে চিৎকার করে উঠে মিতা। পরক্ষণেই বুকে হাত রাখে। মিতার হার্টবিট যেন বিদ্যুৎ-গতিতে চলছে।
“কী হয়েছে, কী হয়েছে?” ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে অর্ধনগ্ন অরিয়ন।
“ওবুক” অরিয়নকে দেখামাত্র মুখে হাত রেখে অন্যদিকে তাকায় মিতা। অফিসে যাওয়ার জন্য সকাল-সকাল গোসল করছিল অরিয়ন। সবে মাত্র শরীরে শাওয়ার জেল দিয়েছে, আর তখনই মিতার চিৎকার শুনতে পায়। কোনোকিছু না ভেবেই তোয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসে অরিয়ন।
“কী হয়েছে, এভাবে চিৎকার করে উঠলি কেন?” চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে অরিয়ন। অরিয়নের চুলে আর শরীরে এখনো ফেনা জমে আছে। মিতা হাত দিয়ে কাউচ দেখায়। সেদিকে তাকাতেই হাফ ছাড়ে অরিয়ন।
“এটা এখানে কে রেখেছে? হঠাৎ করে দেখে ভয় পেয়েছি” বলে মিতা।
কাউচের উপর বিশাল সাইজের একটি টেডিবেয়ার রাখা। হালকা গোলাপি রঙের টেডিবেয়ারের সাইজ মিতার থেকেও বড়। পাশেই একটি ফুলের তোড়া। আসল ফুল। ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ করে নজরে বড় কিছু আসতেই চেঁচিয়ে উঠে মিতা, পরক্ষণেই টেডি বেয়ার লক্ষ করতেই চুপ করে।
“তোর জন্য” অরিয়ন নিম্নস্বরে কথাটা বলেই আবার ওয়াশরুমে চলে যায়। মিতা ভ্রু কুঁচকায়, টেডি বেয়ারের দিকে আবারও তাকায়। অরিয়ন কেন হুট করে টেডিবেয়ার আনতে যাবে? তাও তার জন্য? তবে কী, সাকিবের সস্তা পুতুল থেকে তার দামি পুতুল বেশি সুন্দর, সেটাই বুঝাতে চাচ্ছে? কথাটা ভাবতেই রাগ হয় মিতার। দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। বিছানা থেকে একটি চাদর নিয়ে ঢেকে দেয় টেডিবেয়ার।
❝উনার দেওয়া কিছুই চাই না আমি❞বিরবির করে বলে মিতা।
চলবে...