#পারমিতা_২
#পর্ব_২০
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ(সেহরিশ)
ভুল। মানুষের মধ্যে কতটা ভুল ধারণা বিরাজ করতে পারে, তার সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না মিতার। তবে আজ তার সেই ধারণা হয়ে গেছে। তাই তো সকালে যখন আনিকা চৌধুরী কলেজ ড্রেসের কথা বলল, সে না পরেই হুড়োহুড়ো করে বেরিয়ে আসে। আর এখন কী হলো?
তপ্ত রোদের মধ্যে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সে। মিতা যদি মনের ক্ষোভ থেকে বলে, তাহলে বলা যায় একপ্রকার ঠাডা পড়া রোদ উঠেছে আজ।
সারাজীবন কত মানুষকে ক্লাসে সিভিল ড্রেস পরে আসতে দেখেছে মিতা। কোনোদিন সখ করেও সে পরেনি। আর আজ? আজ যখন বিপদ থেকে বাঁচতে পরে আসলো, তখনই হেডস্যার ক্লাস নিতে এসেছে। ফলাফল মিতাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। বাংলা স্যার আজ আসেনি। খুশিতে লাফালাফি করতে ব্যস্ত সকলে, তখনই ক্লাসে উপস্থিত হন হেডস্যার। সবার আনন্দের উপর এক বালতি পানি ছুড়ে দিয়ে শান্ত হয়নি তিনি। এক ধমক দেয় মিতাকে। পাঠিয়ে দেন মাঠের মধ্যে।
“অনিয়নের বাচ্চা” রোদের মধ্যে ঘামতে থাকা মিতা দাঁতে দাঁত চেপে বলে।
মানুষকে মানুষ ঘৃণা করতে পারে, কিন্তু সূর্য কীভাবে ঘৃণা করতে পারে তা মিতা বুঝতে পারছে না। এতোদিন বৃষ্টির জ্বালায় বাসা থেকে বের হওয়া মুশকিল ছিল। আর আজ? আজ এমন রোদ উঠেছে, যেন আর এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে সে হয় আফ্রিকান হবে, আর না হয় পোড়া রোস্ট। ঘাড় ঘুরিয়ে ক্লাসের দিকে তাকায় সে। সকলে ক্লাসের মধ্যেই রয়েছে। কোনো একটা ছেলে-মেয়েকে বাইরে দেখা যাচ্ছে না, তার মানে সবাই ক্লাসে ব্যস্ত। মাথা কাজ করছে না তার, কী করা যায় তাই ভাবছে। হঠাৎ করেই কুবুদ্ধি উদয় হয় মিতার মাথায়। মুখে ফুটে উঠে এক পৈশাচিক হাসি।
“ও মা গো...” এক চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মিতা।
ক্লাসে বসে সবাইকে পড়াচ্ছিলেন হেডস্যার। বাইরে থেকে কারো চিৎকার শুনতেই দ্রুত বেরিয়ে আসেন। বাইরে আসতেই লক্ষ্য করেন পাশের ক্লাসের টিচাররাও বেরিয়ে এসেছেন। মাঠের দিকে তাকিয়ে সকলেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। সব টিচাররা দৌড়ে মাঠে গিয়ে দাঁড়ায়। সকলের চোখে আতঙ্ক। মাটিতে শুয়ে আছে মিতা। জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে।
“এই রোদের মধ্যে ওকে এখানে দাঁড় করিয়েছে কে?” প্রশ্ন করেন এক টিচার।
“আমি” উত্তর দেন হেডস্যার। কেউ কিছু বলার আর সাহস পেল না। কয়েকজন মিলে দ্রুত মিতাকে কোলে তুলে নেয়। খিঁচ মে'রে চোখ বন্ধ করে রাখা মিতার পেট ফেটে যাচ্ছে হাসি থামিয়ে রাখার জন্য। যেই লোক এতক্ষণ তাকে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলো, এখন সেই স্যারই তাকে ধরে তার এসি রুমে নিয়ে যাচ্ছে। আনন্দ। পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছে সে। এটাকেই হয়তো কর্মফল বলে।
-------------
চৌধুরী মেনশনের সামনে গাড়ি থামে। বেরিয়ে আসে মিতা। কাঁধে ব্যাগ, হাতে জুসের বোতল। স্যাররা আজ তাকে খুব আদর করেছে। একে তো এসি রুমে বসে ছিলো, তার উপর তাকে জুস এনেও খাইয়েছে। আবার তাড়াতাড়ি ছুটিও দিয়ে দিয়েছে। মাঝেমধ্যে একটু চালাক হতে হয়, তা না হলে জীবনে টিকে থাকা খুবই মুশকিল।
সিড়ি দিয়ে দু কদম উঠতেই গতকাল রাতে অরিয়নের সাথে কী করেছে তা মনে পড়ে মিতার। থমকে দাঁড়ায় সে। গলা শুকিয়ে আসছে তার। আজ কী করবে সে? নিজের বাড়িতে চলে যাবে? পালাবে কোথায়? আজ নিশ্চিত অরিয়ন তাকে বেলকনি থেকে ফেলে দিবে। কোনো কিছু না ভেবেই দৌড়ে উপরে উঠে মিতা। সরাসরি চলে যায় আনিকা চৌধুরীর রুমের সামনে।
“ঠক ঠক” দরজায় কড়া নাড়ে।
“ঠক ঠক”
“দরজা খোলা আছে” জবাব আসে আনিকা চৌধুরীর। প্রবেশ করে মিতা। আনিকা চৌধুরী খাটে বসে টিভি দেখছিলেন। মিতাকে দেখতেই হাসি ফুটে তার মুখে।
“আন্টি, চাচ্চু কখন আসবে?” হঠাৎ করে হাবিব চৌধুরীর কথা জিজ্ঞেস করাতে আনিকা চৌধুরী অবাক হন।
“কেন?” উলটো প্রশ্ন করেন মিতাকে।
“এমনিতেই”
“বলল তো ৮ টার পর আসবে” আনিকা চৌধুরী উত্তর দিতেই মিতা দ্রুত এগিয়ে যায়। খাটের এক পাশে গিয়ে বসে। টিভিতে পাকিস্তানি সিরিয়াল দেখছেন আনিকা চৌধুরী।
“আর অরিয়ন ভাইয়া?” কাচুমাচু করে প্রশ্ন করে মিতা। আনিকা চৌধুরী মিতার দিকে তাকিয়ে রইল। যেই মিতার দুচোখের শত্রু অরিয়ন, সেই মিতা আজ অরিয়নের কথা জিজ্ঞেস করছে তা ভাবতেই পারছে না সে। মিতার দিকে একটু এগিয়ে আসে।
“ব্যাপার কী?”
“না না, তেমন কিছু না। আসলে...” থতমত খাওয়া মিতা কী উত্তর দিবে বুঝতে পারছে না।
“আসলে অরিয়ন ভাইয়াকে বই আনতে বলেছিলাম তো তাই” আনিকা চৌধুরী মিতার কথায় একটুও সন্তুষ্ট হলেন না।
“তাই নাকি?”
“হ্যাঁ তাই” একটু হাসার চেষ্টা করলো মিতা। তার মুখের এই হাসি কতটা বেমানান লাগছে তা আনিকা চৌধুরী বুঝতে পারলেও সে বুঝতে পারছে না।
“দেরি হবে। ১২/১ টা বাজতে পারে” আনিকা চৌধুরীর কথা শুনতেই হাঁফ ছাড়ে মিতা। একটু স্বস্তি পেয়েছে কিন্তু পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হয়নি। গভীর রাত হলেও আসবে।
“আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তাহলে যাই” কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ায় মিতা। মিতার হাতের কবজি ধরে বাধা দেন আনিকা চৌধুরী। ফিরে তাকায় মিতা।
“সবটা ঠিক আছে? অরিয়ন কী বেয়াদবি করছে কোনো?” আনিকা চৌধুরীর কন্ঠে মিতার জন্য দুশ্চিন্তা। স্নেহময় চোখে তাকিয়ে আছে মিতার দিকে। ক্ষণিকের জন্য আবারও কুবুদ্ধি উদয় হলো মিতার। হ্যাঁ বলে দিলেই খেল খতম। ইচ্ছে মতো বকা খাবে অরিয়ন। কিন্তু পরক্ষণেই আনিকা চৌধুরীর চোখের দিকে তাকাতে সব বুদ্ধি ঝেড়ে ফেলে দেয়। মিতার ইতিবাচক উত্তরে তিনি কতটা কষ্ট পাবেন তা মিতা ভালোই জানে। সেদিন যখন ঐ ঘটনাটা ঘটেছিলো, তখন নিজের রাগ সামলাতে না পেরে অরিয়নকে থা'প্পড় মে'রে দিয়েছিলেন তিনি। অরিয়নের উপর কতটা হতাশ ছিলেন তা সকলেই জানেন।
“না আন্টি, তেমন কিছুই না” মিতার উত্তরে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে আনিকা চৌধুরীর মুখে।
“ঠিক আছে” মিতা আর কিছু বললো না। রুম থেকে চুপচাপ বেরিয়ে আসে।
-------------
বিকাল ৪ টা।
ড্রয়িংরুমে বসে আছে সাকিব আর মিতা। সাকিবের চোখ উচ্চতর গণিত বইয়ের দিকে। মিতার চোখ খাতার দিকে। কেউ কোনো কথা বলছে না, তবে অংকও করছে না। পাশেই টেবিলের উপর হরেক রকমের নাস্তা। আজও তা ধরেনি সাকিব, শুধু এক কাপ চা পান করেছে।
সাকিবের পরনে আজ কালো একটা হাফ হাতা শার্ট। মিতার পরনে কালোর মধ্যে সাদা শিউলি ফুলের একসেট থ্রি পিস।মিতা কিছুক্ষণ নিজের জামা আর সাকিবের শার্টের দিকে তাকিয়ে রইল। কী জন্য তাকিয়ে আছে? সে জানে না।
“কারণটা কী ছিলো পারমিতা?” থমকে যায় মিতা। অংক না পারার কারণ নয়। এটা কোন কারণ তা সে ভালো করেই জানে। চোখ ভিজে আসছে তার। শক্ত করে খাতা ধরে রাখলো সে। সাকিব নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে বার বার মিতার পরণের জামাটা আসছে।
“রাতে আমি দু চোখের পাতা এক করতে পারি না। আমি জানি তুমি ধোকা দেওয়ার মতো মেয়ে নও, তবে” চোখ তুলে মিতার দিকে তাকায় সাকিব। মিতাও চোখ খুলে সাকিবের দিকে তাকায়। মিতার অশ্রুসিক্ত নয়ন বলে দিচ্ছে, সাকিবকে দেখে তার হৃদয় কতটা ব্যথিত।
“তবে কারণটা আমি জানতে চাই। কী এমন লিখে রেখেছিলেন উনি তাই জানতে চাই” মিতার মুখ দিয়ে কথা আসছে না। কী বলবে সে? নিজের বোনের হবু স্বামীর সাথে রাত কাটিয়েছে তা? নাকি মায়ের মন রেখেছে তা? নাকি সে একজন আদর্শ সন্তান হতে চেয়েছিলো তা?
“তুমি কী আমায় সত্যি ভালোবেসে ছিলে?” এই প্রথম, এই প্রথম সাকিবের চোখ ভিজে আসে। ছলছল করছে পানিতে। কিন্তু বাঁধ ভাঙলো না। ছেলেদের চোখের বাঁধ যে সহজে ভাঙে না। মিতার চোখ দিয়ে পানি পড়তেই মাথা নিচু করে সে। চোখের পানি খাতায় পড়ছে টপটপ করে। খাতা ভিজে যাচ্ছে। সবটাই দেখলো সাকিব। তার উত্তর সে পেয়ে গেছে।
“জানো তো, গরীবদের ভালোবাসতে নেই। স্বপ্ন দেখতে নেই”
“না না, এভাবে বলবেন না প্লিজ” এবার আর চুপ থাকতে পারলো না মিতা। কাঁপা আর কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে ফেলে। তার এই পোড়া কপালের জন্য কেউ এমনটা ভাবুক তা সে চায় না।
“সত্যিটা স্বীকার করতে কোনো লজ্জা নেই” সাকিবের দৃষ্টি বইয়ের দিকে। কলম দিয়ে কিছু লিখছে তাতে।
“তাদের আছে শুধু অপেক্ষা। ভাগ্য পরিবর্তনের অপেক্ষা। দায়িত্বের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা। দিনশেষে দুবেলা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার অপেক্ষা।”
“সাকিব” করুণ কন্ঠে মিতার ডাকটা কাটার মতো গিয়ে সাকিবের বুকে বিঁধলো। উঠে দাঁড়ায় সে। মিতাও উঠে দাঁড়ায়। মিতার দিকে তাকায় এক পলক। এরপর অন্যদিকে মুখ ফেরায়।
“কাল থেকে আমি আর আসবো না। নতুন কোনো টিচার ঠিক করে নিও”
“কিন্তু আপনা...”
“আমি ভেবেছিলাম আমার দারিদ্রতার কাছে আমার আত্মসম্মান হেরে যাবে। কিন্তু সবটাই উলটো। মনে হচ্ছে এখানে আসার থেকে ভিক্ষা করে খাওয়াটা ভালো হবে” কথাটা বলে সাকিব আর অপেক্ষা করলো না। দ্রুত হাঁটা শুরু করে। মিতা খিঁচ মে'রে রইল। দু কদম যেতেই থামে সাকিব। ফিরে তাকায় মিতার দিকে। অসহায়ের মতো মিতা তাকিয়ে আছে সাকিবের দিকে।
“সব সময় ভালো থেকো” শেষবারের মতো কথাটা বলেই বেরিয়ে যায় সাকিব। কতক্ষণ এভাবে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলো মিতা তা তার জানা নেই। অবশেষে নিজের বই খাতা নিয়ে রুমে চলে যায়।
-------------
রাত ১০ টা।
গাড়িতে বসে আছে অরিয়ন। চৌধুরী মেনশনের অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছে। আজ সারাদিন শুধু অপেক্ষা করেছে কখন বাড়ি ফিরবে। আজ যে তার রাত। আর পরীকে শাস্তি দেওয়ার রাত।
চৌধুরী মেনশনের সামনে গাড়ি থামতেই দ্রুত বেরিয়ে আসে অরিয়ন। ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই পাশ থেকে আনিকা চৌধুরীর কন্ঠস্বর শুনতে পায়। চলে যায় সেদিকে। ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছিলেন আনিকা চৌধুরী, হাবিব চৌধুরী আর আবরার।
“মিতা কোথায়?” সকলের সামনে যেতেই প্রশ্ন করে অরিয়ন। সকলের সাথেই তো খাবার খাওয়ার কথা।
“খাবে না বললো” জবাব দেন আনিকা চৌধুরী।
“ওহ” অরিয়ন আর কোনো কথা বললো না। ব্রিফকেস হাতে নিয়ে উপরে চলে আসে। ফ্রেশ হয়েই খেতে যাবে নিচে। রুমের সামনে আসতেই আলতো করে দরজা ধাক্কা দেয় অরিয়ন। দরজা খুলে যায় সাথে সাথে।
অন্ধকার, রুমের মধ্যে শুধুই অন্ধকার। ধীর পায়ে রুমে প্রবেশ করে অরিয়ন। পাশে থাকা সুইচ অন করতেই থমকে দাঁড়ায়।
খাটের এক কোণায় বসে আছে মিতা। মাথা হাঁটুর মাঝে গুঁজে রেখেছে। পুরো রুম এলোমেলো। ড্রেসিং টেবিলের একটা জিনিসও সেখানে নেই। ফুলের টব ভেঙে পড়ে আছে ফ্লোরে।
“পরী” চিন্তিত অরিয়ন ব্রিফকেস ফেলে দ্রুত গিয়ে মিতার সামনে বসে পড়ে। আলতো করে মাথা তুলে তাকায় মিতা। মিতার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে, কান্না করেছে তার প্রমাণ। অরিয়নকে দেখামাত্র তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
অরিয়নের মনে হচ্ছে তার হৃদপিণ্ড থেকে র'ক্তক্ষরণ হচ্ছে। এতোটাই যন্ত্রণা অনুভব করছে সে। পরক্ষণেই নিজের দু হাত দিয়ে মিতার গাল ধরে সে।
“কী হয়েছে লাভ? কে কী বলেছে?” কোমল কন্ঠে প্রশ্ন করে অরিয়ন। মিতা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরিয়নের দিকে। পরক্ষণেই তার দৃষ্টি কঠোর হয়। অরিয়ন কিছু বুঝে উঠার আগেই তার শার্টের কলার দু হাত দিয়ে ধরে মিতা। অরিয়ন অবাক হয়ে মিতার হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে,দ্রুত চোখ তুলে মিতার দিকে তাকায়।
“আপনার...” মিতার কন্ঠ দিয়ে কথা আসছে না। হেঁচকি তুললো কয়েকবার।
“আপনার... জন্য আমা... আমার জীবন শেষ। আপনার জন্য।”
“আউচ” অরিয়নকে ধাক্কা মা'রে মিতা। ব্যালেন্স হারিয়ে বসে পড়ে অরিয়ন। হাত গিয়ে আঘাত করে ভাঙা ফুলের টবের টুকরায়। হাত কেটে গেছে সাথে সাথে। দ্রুত হাত উঠায় অরিয়ন। র'ক্ত পড়তে শুরু করেছে। মিতা নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। মিতাকে দেখে মনে হচ্ছে তার উপর কিছু ভর করেছে। নিজের মধ্যে সে নেই।
“আপনার জন্য, আপনার জন্য, আপনার জন্য।”
“আপনার জন্য অরিয়ন আফনান চৌধুরী, আপনার জন্য। আমার জীবন শেষ। বুঝতে পারছেন?” অরিয়নের দিকে চেঁচিয়ে উঠে মিতা। কাঁদছে সে। পাগলের মতো কাঁদছে। বিছানার চাদর টেনে ফেলে দেয় মাটিতে। তাও নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
“আপনি কেন এলেন আমার জীবনে হাহ? কেন এলেন? ম'রলেন না কেন আপনি? ম'রলেন না কেন?” নিজের চুল টেনে ধরে মিতা। পাগল উন্মাদের মতো করছে সে। অরিয়ন হতবাক হয়ে মিতার দিকে তাকিয়ে আছে। মিতার কথা তাকে আঘাত করছে না, মিতার অবস্থা করছে। এভাবে তো মিতাকে দেখতে চায়নি সে। দ্রুত উঠে দাঁড়ায় অরিয়ন।
“আমি আপনাকে ঘৃণা করি। বুঝতে পারছেন? আমি আপনাকে ঘৃণা করি” অরিয়নের দিকে এগিয়ে আসে মিতা। অরিয়নকে যতোই দেখতে ততোই বাস্তবতা ফুটে উঠছে তার সামনে। এই বাস্তব সে মানতে চায় না।
“আপ... আপনাকে আ....”
“পরী” জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগেই অরিয়ন ধরে ফেলে মিতাকে। নিস্তেজ হয়ে আছে মিতা। কোলে তুলে নেয় অরিয়ন। দ্রুত বিছানায় গিয়ে শুইয়ে দেয় মিতাকে। নিথর দেহের মতো শুয়ে আছে মিতা। পাশেই বসে আছে অরিয়ন। তার পরীকে আজ একটা ভাঙা পুতুলের মতো লাগছে।
“কী তোকে এতো ট্রিগার করলো?” মিতার দিকে এগিয়ে যায় অরিয়ন। বিরবির করে বলে। মিতার চোখের কোণে পানি জমে আছে। আলতো করে তাতে চুমু খায় অরিয়ন।
“আই প্রমিস, লাভ। সব কষ্ট আমি ভুলিয়ে দিবো। কারো দেওয়া কষ্ট তোকে স্পর্শ করতে পারবে না” আলতো করে কপালে চুমু খায় অরিয়ন। বিছানা থেকে নেমে সব ভাঙা জিনিসপত্র একত্র করে। পরিষ্কার করে দেয় পুরো রুম। এমন ভাবেই পরিষ্কার করে দিবে তার পরীর জীবন। নিজের কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে আবারও একবার ফিরে তাকায় ঘুমন্ত মিতার দিকে।
চলবে....
আগামীকাল ই-বুক মেলা উপলক্ষ্যে আমার ই-বুক “অচেনা তুমি” প্রকাশিত হবে। যারা অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের অপেক্ষার পালা শেষ❤️