#পারমিতা_২
#পর্ব_২১
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ (সেহরিশ)
শুক্রবার সকাল নয়টা।
“ঠক ঠক”
“ঠক ঠক”
দরজায় কড়া নাড়তেই অরিয়ন নড়েচড়ে ওঠে। চোখ খুলে তাকায় সে। পাশেই শুয়ে আছে মিতা। এখনো তার ঘুম ভাঙেনি। অরিয়ন উঠে বসে। গতকাল রাতে জ্ঞান হারানোর ফলে মাঝখানে আর টেডি বিয়ার রাখা হয়নি। একটু ঝুঁকে আসে অরিয়ন, মিতার কপালে হাত রেখে তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে।
“ঠক ঠক”
“এক মিনিট অপেক্ষা করো” অরিয়নের কণ্ঠস্বর শুনতেই মিতা নড়েচড়ে ওঠে। পাশ ফিরে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।
“গুড মর্নিং, স্যার।”
“গুড মর্নিং। কী হয়েছে?”
“স্যার, আপনাকে বড় স্যার ডাকছেন।”
“বলো, আসছি।” শায়লা আর অপেক্ষা করল না। দরজা বন্ধ করে চলে গেল। অরিয়ন আবার ফিরে আসে। মিতা এখনো গভীর ঘুমে মগ্ন। নিষ্পাপ শিশুর মতো তার চেহারা। আবার গিয়ে মিতার পাশে বসে অরিয়ন। আলতো করে হাত দিয়ে মিতার গাল স্পর্শ করে।
“পরী?” নিজের হাতের উলটো পিঠ দিয়ে মিতার গাল স্পর্শ করতে করতে ডাকে অরিয়ন। মিতা নিজের মুখ অরিয়নের হাতে ঠেকিয়ে দেয়।
“পরী?”
“লাভ?” অরিয়নের বুড়ো আঙুল মিতার ঠোঁট আলতো করে স্পর্শ করে। গতকাল রাতে মিতাকে কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় দেখেছিল অরিয়ন, তখন ইচ্ছা করছিল সেই অবস্থার জন্য যে দায়ী, তার প্রাণটা কেড়ে নিতে। আর এখন? এখন ইচ্ছা করছে এই মিতাকে নিজের করে ভেঙে চুরমার করে দিতে।
অরিয়ন আলতো করে ঝুঁকে মিতার গালে চুমু খায়। একটু সরে আসতেই তার নজর পড়ে মিতার বিউটিবোনের কাছে থাকা কালো তিলের দিকে। ভালোবাসা আর স্নেহভরা অরিয়নের চোখে সঙ্গে সঙ্গে উন্মাদনা ভেসে ওঠে। আবার তাকায় মিতার দিকে। মিতার কোনো হুঁশ নেই। মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে দুনিয়া শেষ হয়ে গেলেও তার ঘুম ভাঙবে না।
সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে অরিয়নের চেয়ে আর কে ভালো জানে! তা না হলে কি সে এমনি এমনি ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে? আলতো করে নিজের মুখ মিতার গলায় ঠেকায়। ভারী আর উষ্ণ নিশ্বাসে মিতার গলা ভরে যায়। কোমল স্পর্শে মিতার তিল ছুঁয়ে যায় অরিয়নের ঠোঁট। নিজের অজান্তেই অরিয়নের হাত গিয়ে মিতার হাত বিছানায় চেপে ধরে। তিলের চারপাশ চুমু দিয়ে ভিজিয়ে দেয় সে।
মিতার গলায় শিরশিরানি অনুভূত হয়। মনে হচ্ছে, গরম বাতাস বারবার তার গলায় এসে পড়ছে। একই সঙ্গে ধারালো কিছু তার থুতনি আর গলায় খোঁচা দিচ্ছে। ঠিকমতো আরাম করে ঘুমাতে পারছে না সে। নড়াচড়ার চেষ্টা করতেই লক্ষ করে, সে নড়তে পারছে না। আবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
❝বোবায় ধরেছে❞ চোখ বন্ধ রেখে মনে মনে ভাবে মিতা। ভয়ে চোখ খোলার চেষ্টা না করে কালেমা তায়্যেবা আওড়াতে শুরু করে।
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স:)।”
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ(স:)।” হতভম্ব অরিয়ন স্থির হয়ে থাকে। ঘাড় ঘুরিয়ে মিতার দিকে তাকায়। মিতা চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। অনবরত দোয়া পড়ছে।
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।” এক ঝটকায় সরে আসে অরিয়ন। হাসি পায় তার, কিন্তু তা চেপে রাখে। অরিয়ন মিতার কাছ থেকে সরে যেতেই মিতা কালেমা পড়া বন্ধ করে। চোখ খুলেই দ্রুত উঠে বসে।
খাটের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে অরিয়ন, মুখে হাত দিয়ে। অরিয়নকে দেখতেই মিতার চেহারায় গম্ভীরতা ফুটে ওঠে। মনে হচ্ছে, মিতা রেগে যাচ্ছে।
“আপনি সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিলেন, তাই না? আমাকে একটু ধাক্কা দিতে পারেননি?”
“মানে?” ভ্রু কুঁচকে ফেলে অরিয়ন। কথা বলতে বলতে শরীরের টি-শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে অরিয়ন।
“মানে জানেন না? আমাকে বোবায় ধরেছিল। মনে হচ্ছিল দম নিতে পারছি না। একটু ধাক্কা দিলেই তো উঠে পড়তাম আমি।” অরিয়ন বিছানার পাশ থেকে সরে গিয়ে ঘরের মাঝখানে দাঁড়ায়। এক টানে খুলে ফেলে নিজের টি-শার্ট।
হঠাৎ টি-শার্ট খোলায় মিতা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। চোখ সরাতে ভুলে যায়। তার নজর পড়ে অরিয়নের ধবধবে সাদা পিঠের দিকে। পিঠে লাল আর কালো তিল ফুটে আছে। দূর থেকে সুন্দর লাগছে।
“গতকাল কী হয়েছিল?” আলমারির সামনে গিয়ে প্রশ্ন করে অরিয়ন। তার দৃষ্টি এখনো আলমারির দিকে। মিতা চোখ সরিয়ে নিচের দিকে তাকায়।
“কিছু জিজ্ঞেস করেছি” আবার প্রশ্ন করে অরিয়ন। মিতার কোনো উত্তর নেই। কী বলবে, বুঝতে পারছে না।
“আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি” নিচের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয় মিতা।
----------
“অরিয়ন তো এখনো আসেনি।”
“শায়লা তো বলল, মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে। একটু সময় তো লাগবে। ফ্রেশ হতে হবে না?”
“আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে, আনিকা। ওকে বলো, অফিসে গিয়ে আমার সঙ্গে একবার দেখা করতে।”
“আজ শুক্রবার, হাবিব।”
“তো?”
“তো মানে? ছেলে কি বিশ্রাম নেবে না? মিতা আর অরিয়নের মধ্যে সব ঠিক করতে সময়ের প্রয়োজন। তুমি তো সেই সময়ও দিচ্ছ না।”
“ওহো” জিভে কামড় দেন হাবিব চৌধুরী।
“আমার কী দোষ, বলো তো! অরিয়নের যে বিয়ে হয়েছে, সেটাই তো মনে থাকে না। অন্য সময় মিতা যেভাবে বাসায় থাকত, এখন তাই মনে হয়” আনিকা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলেন হাবিব চৌধুরী। দুজনে ড্রইংরুমে বসে চা পান করছিলেন আর অরিয়নের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
“আর ছোট নবাবজাদা কোথায়? তার পড়াশোনার কী অবস্থা? নাকি সারাদিন বন্ধু-বান্ধব নিয়েই ব্যস্ত থাকবে?”
“এই তো, পরীক্ষা দিলে মাস্টার্স শেষ হয়ে যাবে। এরপর তোমার ব্যবসায়ে যোগ দেবে বলেছে।”
“তাই যেন হয়। আর ওয়াহিদকে আজ একটা ফোন করো, বলো আজ রাতে এখানেই খাবার খেতে।” হাবিব চৌধুরী উঠে দাঁড়ান। টেবিলের ওপর রাখা ব্রিফকেস তুলে দেন আনিকা চৌধুরী।
“ঠিক আছে” হাবিব চৌধুরী আনিকা চৌধুরীকে মিষ্টি হাসি উপহার দেন। একপাশে জড়িয়ে ধরতেই লজ্জায় আনিকা চৌধুরীর মুখ লাল হয়ে যায়।
“বাড়িতে বড় বড় ছেলেরা আছে” হাবিব চৌধুরীকে সরিয়ে দিয়ে বলেন আনিকা চৌধুরী।
“রোমান্স করেছিলাম বলেই তো বড় বড় ছেলেরা আছে” কথাটা বলেই হাসেন হাবিব চৌধুরী। আনিকা চৌধুরীকে বিদায় জানিয়ে অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।
--------------------
“আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি” নিচের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয় মিতা।
ঘরের আবহাওয়া হঠাৎ গম্ভীর হয়ে ওঠে। নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘর জুড়ে। অরিয়নের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মিতা ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকায়। অরিয়ন নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। কাপড় নিতে হাত বাড়িয়েছিল, সেভাবেই হাত থেমে আছে।
“মানে, বাসতাম” আবার বলে ওঠে মিতা। কী বলছে, নিজেও জানে না। শুধু জানে, এই যন্ত্রণা সে আর বয়ে বেড়াতে পারছে না।
“মানে বাসি, না, মানে... বিয়ের আগে...” অরিয়ন হাত সরায়। কাপড় না নিয়েই মিতার দিকে ফিরে তাকায়। তার চেহারা স্থির, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। মিতার দিকে এগিয়ে আসে। মিতা বিছানার চাদর শক্ত করে দুই হাতে মুঠো করে ধরে। আফরিন বারবার সাবধান করেছিল, তবু সে বলে ফেলেছে। বলতেই হতো।
মিতার পাশে এসে দাঁড়ায় অরিয়ন। মিতা ঘাড় তুলে অরিয়নের দিকে তাকায়। অরিয়ন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মিতার দিকে। মিতার চোখে ভয়। অরিয়ন মিতার মুখোমুখি বিছানায় বসে।
“কত দিনের?” অরিয়নের কণ্ঠ শান্ত, স্বাভাবিক, কিন্তু গম্ভীর। চেহারার প্রতিক্রিয়া আগের মতোই। মিতা ভ্রু কুঁচকে ফেলে। সাধারণত মানুষের প্রশ্ন থাকে, ছেলেটা কে? কিন্তু অরিয়নের প্রশ্নে সে একটু অবাক হয়।
“প্রায় ছয় মাস” চোখ সরিয়ে নেয় মিতা। নিজের নখ খুঁটতে শুরু করে। অরিয়নের দৃষ্টি এখনো মিতার দিকে।
“তারিখ বল। কত থেকে কত তারিখ?” মিতা আবার ভ্রু কুঁচকায়।
“১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আপুর জন্মদিন পর্যন্ত।”
“১৯৩ দিন” অরিয়নের উত্তরে মিতা অবাক হয়। কত সহজে দিনক্ষণ হিসাব করে ফেলল অরিয়ন! তার চোখ শান্ত, কিন্তু সেই চাহনি মিতার মনে ভয় জাগাচ্ছে। মনে হচ্ছে, ঝড়ের আগে যে নিস্তব্ধতা ছড়ায়, সেটাই এখন অরিয়নের মধ্যে বিরাজ করছে।
অরিয়ন হাত বাড়ায়। মিতা দ্রুত হাত তুলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। সে ভেবেছিল, অরিয়ন হয়তো তাকে থা'প্পড় মা'রবে। কিন্তু অরিয়নের হাত তাকে স্পর্শ করল না। ভয়ে বন্ধ করে ফেলা চোখ খুলে তাকায় মিতা। কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে অরিয়নের দিকে ফিরে তাকায়। অরিয়নের হাত শূন্যে ভাসছে। মিতা তাকাতেই অরিয়নের হাত আলতো করে তার গাল স্পর্শ করে। মিতা একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে, পলক ফেলছে না।
“সমস্যা নেই। এসব আবেগের ভালোবাসা” মৃদু হাসে অরিয়ন। কিন্তু সেই হাসিতে কোনো প্রাণ নেই, তার চোখ ছুঁয়ে যায় না।
“কিন্তু আম...”
“হিস...” মিতার ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ করায় অরিয়ন।
“আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে, তাই না, পরী?” অরিয়ন এগিয়ে আসে। তার কণ্ঠস্বর আগের চেয়ে বেশি গম্ভীর। মিতা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়।
“বিয়ে হয়ে গেলে অতীত...” কথাটা বলেই দাঁতে দাঁত চেপে ধরে অরিয়ন। পরক্ষণেই আবার হাসি ফোটায়।
“অতীত ভুলে যেতে হয়, তাই না?” আবার প্রশ্ন করে অরিয়ন। মিতা কিছু বলে না। শুধু অরিয়নের দিকে তাকিয়ে থাকে।
“তাই না?” অরিয়নের ঠোঁট থেকে হাসি মুছে যায়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মিতার দিকে তাকায়। যেন উত্তর না হলেই গালে থাকা হাত এসে গলা ধরবে। মিতা দ্রুত মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে।
“গুড গার্ল” কথাটা বলেই আলতো করে মিতার গালে চুমু খায় অরিয়ন। অরিয়নের খোঁচা খোঁচা দাড়ি কাটার মতো বিঁধে মিতার গালে। হঠাৎ অরিয়নের এই কাজে মিতার দম আটকে আসছে।
“আপনি রাগ করেননি?” কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে প্রশ্ন করে মিতা। অরিয়ন মুখে হাসি ফোটায়।
“রাগ করার মতো কিছু কি হয়েছে? বিয়ের আগে ভালোবাসা থাকতেই পারে, তাই না?” মিতা আবার অরিয়নের কথায় মাথা নাড়ায়।
“কিন্তু সেই সম্পর্ক বিয়ের পরেও টিকে থাকলে সমস্যা। সেই ভালোবাসা ভুলে না গিয়ে নিজেকে কষ্ট দিলে সমস্যা” আফরিন ভুল বলেছিল। অরিয়ন তো মিতাকে কিছুই বলেনি, উলটো কত সুন্দর করে তাকে বোঝাচ্ছে। তবে কি আফরিন অরিয়নকে ভুল বুঝেছে?
“আমাদের মধ্যে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। সামনেও হবে, তাই না?” জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় অরিয়ন। মিতা কিছু বললো না। গভীর চিন্তায় ডুবে যায়। এসব সম্পর্কের বিষয়ে সে এখনো কিছুই ভাবেনি।
“আমাদের তো সব সময় এভাবে থাকা হবে না, তাই না? একসময় না একসময় একধাপ এগিয়ে যেতেই হবে। সংসার শুরু করতে হবে, বাচ্চা নিতে হবে। আমার বয়স তো দিন দিন কমছে না। ২৯ চলছে” অরিয়নের হাত এখন আর মিতার গালে নেই। গলায় সেই হাত, মিতাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে। মিতা একটু সরে আসে। নিজেদের মধ্যে দূরত্ব আনার চেষ্টা করে। এবারও মিতা কিছু বলে না। মাথা নিচু করে থাকলো।
“নাকি আমার পরী অন্য কিছু ভাবছে?” দ্রুত চোখ তুলে অরিয়নের দিকে তাকায় মিতা।
“আমার পরী কি আমাকে ছেড়ে দিয়ে তার এক্সকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন দেখছে?” অরিয়নের কথাগুলো অন্যদিনের তুলনায় আজ কেমন যেন লাগছে মিতার। কেমন যেন নেশার মতো একটা ভাব। মিতার দম বন্ধ হয়ে আসছে। সব অক্সিজেন কি অরিয়ন একাই টেনে নিচ্ছে? মিতার উত্তর না পেয়ে অরিয়ন তার গ'লা চে'পে ধরে, কিন্তু তাতে কোনো চাপ প্রয়োগ করে না। গলা ধরতেই মিতা দ্রুত অরিয়নের হাত ধরে। গলায় হাত জড়াতেই মিতার নিশ্বাস গভীর হয়। অরিয়ন মিতাকে গ'লা ধরেই নিজের কাছে টেনে আনে।
দুজনের গরম নিশ্বাস একে অপরের মুখে লাগছে। মিতার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। এত ভয় কেন লাগছে তার? অরিয়ন তো ভয়ের কিছুই বলেনি। মিতার ঠোঁটের সঙ্গে নিজের ঠোঁট আলতো করে স্পর্শ করে অরিয়ন। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই অরিয়ন গ'লায় চা'প দেয়। মিতা স্থির হয়ে যায়।
“তুই কিন্তু এখন আর অন্য কারও নস। সেদিন তুই আমার হয়ে গেছিস। আমি যে জা'নোয়ার, আমি জানি। আমি তোকে সবভাবে আমার করে নিয়েছি। মনে কর, সেদিন সকালে তোর শরীর ভর্তি আমার দাগ ছিল। এমন মেয়ে, যে বিয়ের আগেই অন্য পুরুষের হয়ে গেছে, তাকে কি তার এক্স ফিরিয়ে নেবে?” মিতার চোখে পানি জমেছে। সেদিনের কথা ভাবলেই তার কান্না আসে। ঠোঁট কাঁপতে শুরু করে।
“তোকে যেমন কেউ ফিরিয়ে নেবে না, তেমন আমাকেও নেবে না। আমরা একে অপরের জন্য পারফেক্ট ” কথাটা বলেই মিতার ঠোঁট নিজের ঠোঁটে নেয় অরিয়ন। কপালের সঙ্গে কপাল স্পর্শ করে। দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে অরিয়ন। মিতা থেকে সরে আসে। মিতার চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।
অরিয়নের চোখে তৃপ্তি। যা বোঝানোর, তা মিতাকে বোঝানো হয়ে গেছে।
“আমাকে কি এসব নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে? নাকি ছেলেটাকে আমি নিজে খুঁজে বের করব?”
“না, না, তেমন কিছু করতে হবে না” দ্রুত বলে ওঠে মিতা। তার চোখে সেই ছেলের জন্য অন্য চিন্তা ফুটে ওঠে।
“গুড” আর অপেক্ষা না করে অরিয়ন সরাসরি ওয়াশরুমে চলে যায়।
❝এমন মেয়ে, যে বিয়ের আগেই অন্য পুরুষের হয়ে গেছে, তাকে কি তার এক্স ফিরিয়ে নিবে?❞
❝এমন মেয়ে, যে বিয়ের আগেই অন্য পুরুষের হয়ে গেছে, তাকে কি তার এক্স ফিরিয়ে নিবে?❞ অরিয়নের কথাগুলো মিতার কানে বাজছে। ঠিকই তো বলেছে অরিয়ন। এমন মেয়েকে কে ফিরিয়ে নেবে? কোনো ভদ্রঘরের ছেলে ফিরিয়ে নেবে না। অরিয়নের করুণায় তার সঙ্গে মিতার বিয়ে হয়েছে, নইলে তার কী হতো? কে বিয়ে করত তাকে? সারাজীবন একা থাকতে হলে কী হতো মায়া চৌধুরীর? বালিশে মুখ গুঁজে দেয় মিতা। তার কষ্টের সাক্ষী হয়ে থাকে বালিশ।
চলবে...
পরবর্তী পর্ব থেকে শুধুমাত্র ফলোয়াররাই পর্ব দেখতে পারবে। তাই যারা ফলো দেন দি, দ্রুত ফলো দিয়ে ফেলুন।
নেক্সট পর্ব আগামীকাল আসবে ইনশাআল্লাহ।