#পারমিতা_২
#পর্ব_৩২
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ(সেহরিশ)
মিতার বয়স তখন পাঁচ, যখন নিজের ঘর আর পরিবার ছেড়ে বসন্তভবনে এসেছিল সে। আপন করে নিয়েছিল ওয়াহিদ চৌধুরী ও তার পরিবারকে। এরপর কেটে গেল ১৩টা বছর। এই ১৩ বছরে তার গা'য়ে হাত তোলা তো দূরের কথা, কেউ কোনোদিন একটা ফুলের টোকাও দেয়নি। এক কথায় সে সকলের চোখের মণি। আর সেই মিতার গা'য়ে আজ হাত তুলেছে, হাত তুলেছে অরিয়ন।
অরিয়ন আফনান চৌধুরী।
চৌধুরী বংশের উত্তরাধিকারী। চৌধুরী বংশের বড় ছেলে। যাকে সকলেই চোখে হারায়, যার প্রশংসা ছড়িয়ে আছে সব জায়গাতেই, সেই অরিয়ন গা'য়ে হাত তুলেছে। তার স্ত্রীর গা'য়ে হাত তুলেছে।
ক্ষণিকের জন্য মিতা হতবাক হয়ে রইল। হাত তার গালে, প্রচণ্ড রকমের ব্যথা পেয়েছে সে। চোখে পানি ছলছল করছে, ব্যথায় নয়, রাগে। দাঁতে দাঁত কিরমির করে মিতা। পরক্ষণেই উঠে দাঁড়ায়।
“আপনি. আমার. গায়ে. হাত. তুলেছেন!” রাগে গিজগিজ করছে মিতার শরীর, প্রতিটা কথায় জোর দিল সে। তার কণ্ঠের অসন্তুষ্টি পৌঁছে যায় অরিয়নের কাছে।
অরিয়নের অগ্নিদৃষ্টি মিতার দিকে। পরক্ষণেই চোখ ফেরায় হাতের পুতুলটার দিকে। নিয়ে আসে নিজের চোখের সামনে।
“কী করছেন আপ...”
“হিস.....” রুহ কেঁপে উঠে মিতার। অরিয়নের হাত ঠোঁটের কাছে। চুপ থাকতে বোঝায় মিতাকে। এতটা ভয়ানক লাগছে কেন অরিয়নকে? গতকালই তো কত হাসিখুশি ছিল আর আজ, আজ এই অরিয়নকে দেখে মনে হচ্ছে সে প্রথম দেখছে।
অরিয়ন দু’হাত দিয়ে টেনে ধরে পুতুলটির হাত, নিমিষেই ছিন্নভিন্ন করে ফেলে পুতুলটাকে। ভিতরে থাকা তুলো বেরিয়ে আসে মুহূর্তেই। তাও থামল না অরিয়ন। হাত, পা, মাথা আলাদা করে ফেলেছে টানতে টানতে। প্রতিটা ছোবলে কী অদ্ভুত শক্তি প্রয়োগ করে অরিয়ন।
মিতা অবাক হয়ে পুতুলটির দিকে তাকিয়ে রইল। একটু আগেও সুন্দর করে থাকা পুতুলটিকে এখন চেনা যাচ্ছে না। চোখ তুলে অরিয়নের দিকে তাকায় মিতা। অরিয়নের মুখের ভঙ্গিমা ভয়াবহ, হিংস্র। যেন হাতের এই পুতুলটাকে সে ঘৃণা করে। চোখের হিংস্রতা বলে দিচ্ছে সে জ্বালিয়ে দিতে চায় এই পুতুলটাকে, রাখতে চায় না কোনো চিহ্ন।
ছিন্নভিন্ন পুতুলটা যেন অরিয়নের মনকে শান্ত করতে পারল না। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ছুড়ে মা'রে মেঝেতে। টুকরোগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তেই তাতে পা রাখে অরিয়ন। চেপে ধরে মাটিতে।
“আই হেইট ইট, হেইট ইট, আই ফা'কিং হেইট ইট” দাঁতে দাঁত চেপে আওড়ায় অরিয়ন।
মিতার ঘোর এতক্ষণে কাটে, অবাক হয় অরিয়নের কর্মকাণ্ড দেখে।
“অরিয়ন......” চেঁচিয়ে উঠে মিতা। বাঘিনীর মতো হিংস্র মিতার চাহনি। হিতাহিত জ্ঞান তার মধ্যে নেই। অরিয়ন মাথা উঁচু করে মিতার দিকে তাকায়। মিতার মুখে এই প্রথম সে নিজের নাম শুনেছে। কী অদ্ভুত শোনাল সেই ডাক, পরক্ষণেই রাগে অরিয়ন।
“আহ...অরি...য়....” মিতা কিছু বোঝার আগেই অরিয়ন গ'লা চে'পে ধরে মিতার। দরজার সাথে গিয়ে মিশে যায় মিতা। দ্রুত নিজেকে বাঁচাতে অরিয়নের হাত খামচে ধরে মিতা।
“এভাবেই নাম ধরে ডেকে মানুষ পাগল করিস বুঝি, হ্যাঁ?” অরিয়নের মুখ মিতার কাছাকাছি, ঝুঁকে এসেছে অরিয়ন। হাতের রগগুলো স্পষ্ট ভেসে উঠেছে, কতটা শক্তি দিয়ে মিতার গ'লা চে'পে ধরেছে তার প্রমাণই দিচ্ছে তা।
মিতার দম বন্ধ হয়ে আসছে। নিশ্বাস নিতে পারছে না ঠিকমতো। খাবলে ধরেছে অরিয়নের হাত, নখ ঢুকে গেছে অরিয়নের হাতে, তাতেও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই অরিয়নের।
“তুই ভেবেছিস এক্সের সাথে ঘুরবি, রেস্টুরেন্টে বসে হাসাহাসি করবি, ডিনার করে বাসায় আসবি আর তা আমি জানব না?” ভ্রু কুঁচকায় মিতা। কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না মুখ দিয়ে। হাঁ করে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে বারবার। শুধু মাথা নাড়িয়ে যাচ্ছে সে।
“আবার মিথ্যে বলিস” আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করে অরিয়ন। চোখ বড়ো বড়ো হয় মিতার, অক্সিজেন নিতে পারছে না সে। চোখের সামনে সব ঝাপসা ঝাপসা দেখতে শুরু করেছে, চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে মিতার।
অরিয়ন নিজের মুখ আরও এগিয়ে নেয়। মিতার সাথে নিজের নাক স্পর্শ করায়। ব্যঙ্গাত্মক হাসি ফুটায় ঠোঁটের কোণে, মিতা শুধু তাকিয়েই রইল। কী ভয়ানক সেই হাসি। সাইকোপ্যাথকেও যেন হার মানাবে অরিয়ন।
“অন্য কারো হবি তাই না?” নাকে নাক ঘষে অরিয়ন। তার উষ্ণ নিশ্বাস মিতার কাছে কার্বন মনোক্সাইডের মতো লাগছে, এক্ষুনি শেষ করে দেবে তাকে।
“তোর প্রেমিককে খু'ন করে, তার মাংস যদি তোকে আমি না খা'ইয়েছি, তাহলে আমার নামও অরিয়ন আফনান চৌধুরী নয়” মিতার বমি আসছে। পেটের মধ্যে যেন কিছুই থাকতে চায় না, তাও সে অসহায়ের মতো শুধু মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়।
চোখ বন্ধ হয়ে আসছে মিতার। হয়তো এটাই তার শেষ সময়। তাও অরিয়নের চোখে কোনো কোমলতা নেই। চোখ বন্ধ করে মিতা, হাত ছুটে যায় অরিয়নের হাত থেকে।
“আউচ....” উপস্থিত বুদ্ধি হিসেবে মিতা নিজেকে বাঁচাতে শেষবারের মতো চেষ্টা করে। কোনো কিছু না ভেবেই হাঁটু দিয়ে আঘাত করে অরিয়নের নিম্নাংশে। সরে যায় অরিয়ন, ঝুঁকে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে।
অরিয়ন সরে যেতেই মিতা মেঝেতে বসে পড়ে। কাশতে শুরু করে অনবরত, একই সাথে বড়ো বড়ো নিশ্বাস নেয়। হাত দিয়ে গলা ডলতে শুরু করে মিতা।
“পা....” কথা বলতে পারছে না মিতা। অরিয়ন নিজেকে সামলে নেওয়ার আগেই সে উঠে দাঁড়ায়। কোনোমতে দৌড়ে বিছানার উপর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, বেডসাইডে থাকা ফুলের টব তুলে নিয়ে তাক করে অরিয়নের দিকে।
অরিয়ন সোজা হয়ে দাঁড়ায়। রাগান্বিত দৃষ্টি হলেও ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি তার এখনো যায়নি। মিতাকে বোঝিয়ে দিচ্ছে এখান থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই।
মিতার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, মনে হচ্ছে এক্ষুনি সে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। হাতে থাকা ফুলের টব থরথর করে কাঁপছে।
“জা'নোয়ার....জা'নোয়ার” মিতার কণ্ঠে তীব্র ঘৃণা।
“সাইকোপ্যাথ এক...একটা। মা...মাথায় কী সমস্যা তোর জা'নোয়ার? ওটা আমার বয়ফ্রেন্ড না” মিতার হাত কাঁপছে এখনো, নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও মনে প্রাণে দোয়া করছে তার রুমে কারো আসার।
“স্বাভাবিক মানুষের মতো কথা বলতে পারিস না?...”
“মুখ সামলে কথা বলবি, মিতা। আমি তোর বড়” অরিয়ন গম্ভীর কণ্ঠে আওড়ায়। এক পা এগিয়ে আসে বিছানার দিকে। মিতা অন্যদিকে সরে যায়।
“বালের বড় আমার। ও আমার বয়ফ্রেন্ড না, অরিয়ন” মিতা চেঁচাল, চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার। মাথা কাজ করছে না তার, সে শুধু জানে সে রেগে আছে খুব। ইচ্ছে করছে খু'ন করে ফেলতে অরিয়নকে।
নিজের নাম শুনতেই চোখ বন্ধ করে অরিয়ন। মুখে ফুটে তৃপ্তির হাসি। কী অদ্ভুত সুন্দর শোনায় তার নামটা মিতার মুখে।
“সাইকোপ্যাথ.... আমি আপুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওটা আমার ফ্রেন্ড ছিল, সি...সিয়াম”
“আবার মিথ্যে বলছিস” অরিয়নও চেঁচিয়ে উঠে।
“আ.........” অধৈর্য মিতা রাগে চেঁচিয়ে উঠে। রাগ হচ্ছে তার, কী করবে বুঝতে পারছে না। এই সাইকো তার কথা বিশ্বাস না করলে তাকে আজ পরপারে পাঠিয়েই ছাড়বে।
“আফ...আফরিন আপুকে কল দাও” কাঁদো কাঁদো সুরে শুধোয় মিতা। নিজেকে আর সামলাতে পারছে না সে, এমন একটা পাগলের সাথে কেন তাকে জড়াতে হল।
তুমি করে সম্বোধন করায় ক্ষণিকের জন্য কোমলতা দেখা যায় অরিয়নের চেহারায়, পরক্ষণেই আবারও গম্ভীর মুখ করে।
“প্লিজ...আপুকে কল দাও। আ...আমি মিথ্যে বলছি না। প্লিজ...” অনুরোধ করে মিতা। যেভাবেই হোক আফরিনকে ফোন দিলেই এই ঝঞ্ঝাট থেকে সে মুক্তি পাবে।
অরিয়নের মধ্যে দ্বিধাবোধ কাজ করে। কল করবে নাকি তা বুঝতে পারছে না। কল করেই কী হবে? আজ বিকালে সে নিজের চোখে দেখেছে, মিতা আর একটা ছেলে রেস্টুরেন্টে পাশাপাশি বসে হাসছিল, একে অপরকে স্পর্শ করছিল। কতটা কষ্টে সে নিজেকে সামলে রেখেছিল তা শুধু অরিয়ন একাই জানে। আর এসবে এখন আফরিনকেও জড়িয়ে নিচ্ছে মিতা।
অরিয়নের চোখ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে সে আফরিনকে কল করবে না। দরজার পাশেই অরিয়ন দাঁড়িয়ে, মিতার পালানোর কোনো রাস্তাও খোলা নেই।
“প্লিজ রিয়ন” অরিয়ন কী ভুল শুনল কী না বুঝতে পারছে না। মিতা কি তাকে রিয়নই ডেকেছে নাকি অ-টা শুনতে পেল না অরিয়ন?
মিতাকে একটা অসহায়ের মতো লাগছে। ফুলের টবটা কোনো কাজেই আসবে না, তাও সে ধরে রেখেছে দু’হাত দিয়ে। ডান গালে অরিয়নের আঙুলের ছাপ বসে আছে লাল হয়ে, চোখের পানি পড়ছে অনবরত। তার উপর মিতার গলা, অরিয়নের চাপ প্রয়োগের ফলে লাল হয়ে আছে গলাটা। বুকের মধ্যে কেমন যেন করে উঠল অরিয়ন।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অরিয়ন। পরণের কোট খুলে মেঝেতে ছুড়ে মা'রে রাগে। পকেট থেকে ফোন বের করে কল দেয় আফরিনকে।
“লা...লাউডস্পিকার” অরিয়ন লাউডস্পিকারে দেয়। খুশিতে মিতার চোখ দিয়ে আরও পানি পড়তে শুরু করে। মনে হচ্ছে সে জমের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে।
একবার দু’বার কল বাজলেও আফরিন কল রিসিভ করল না। আবারও দুশ্চিন্তা দেখা দেয় মিতার চেহারায়। অরিয়ন তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।
“না, না, না, না। লাস্ট, এবারই লাস্ট। প্লিজ, প্লিজ” মিতার গলা কাঁপছে, মনে হচ্ছে অরিয়ন মে'রে ফেলার আগেই সে ম'রে যাবে।
মিতার অনুরোধ ফেলতে পারল না অরিয়ন। আবারও কল দেয়।
“হ্যালো?” কল রিসিভ হতেই মিতা বড়ো করে শ্বাস ছাড়ে যেন এতক্ষণ নিশ্বাস নেওয়া বন্ধ করে রেখেছিল সে।
“হ্যালো?” অরিয়ন মোবাইল বিছানার উপর ছুড়ে মা'রতেই তা গিয়ে বালিশের উপর গিয়ে পড়ে। মিতা মোবাইলের দিকে তাকায়। আফরিনের নামটা আফরিন নামেও সেভ করা নেই অরিয়নের মোবাইলে। ‘চাচ্চুর মেয়ে’ দেখাচ্ছে স্ক্রিনে।
“হ্যালো, অরিয়ন?”
“আ...আপু” নিজেকে সামলে কথা বলতে শুরু করে মিতা।
“মিতা? তুই অরিয়নের মোবাইল থেকে কেন কল করেছিস? কোনো সমস্যা হয়েছে?” আফরিনের কণ্ঠে মিতার জন্য দুশ্চিন্তা স্পষ্ট, একই সাথে স্নেহ ও ভালোবাসা।
“না না তেমন কিছুই হয়নি” একটু হাসার চেষ্টা করে বলে মিতা।
“সত্যি বলছিস তো?”
“আপু, টেডিটা তুমি কোথা থেকে নিয়েছ?” মিতার কণ্ঠ কাঁপল, তাকায় অরিয়নের দিকে। অরিয়ন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। অপেক্ষা করছে আফরিনের জবাবের।
“কেন? আরেকটা লাগবে নাকি?” উলটো প্রশ্ন করে আফরিন। আফরিনের কণ্ঠে দুষ্টুমি।
“বলো না” অনুরোধ করে মিতা।
“আর্চিস থেকে নিয়েছি। কেন পছন্দ হয়নি তোর? অন্য রঙের লাগবে?”
“শুনো না আপু, সিয়াম বলল ওর গার্লফ্রেন্ড নাকি তোমার থেকে কম সুন্দর”
“পাগল নাকি ও? নিজের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে এসব বলে। ওকে বল, আমি ওর থেকে বড়, আমার সাথে এরকম ফ্লার্টিং না করতে। দুষ্টটাকে কলেজ গিয়ে ধরতে হবে। তার উপর আজ তো বিল দিতেই দিল না, নেক্সট টাইম কিন্তু ওকে দিতে দিস না” পুরো কথা শেষ করতেই মিতা কল কাটে। আর কোনো কথা সে অরিয়নের মোবাইল দিয়ে বলবে না।
অরিয়নের মুখের অবয়ব দেখে কিছু বুঝতে পারছে না মিতা, তবে আগের মতো ওতো ভয়ানক লাগছে না। নিজের মুখে হাত রাখে অরিয়ন, পরক্ষণেই চুল টেনে ধরে নিজের।
নিজের উপর সে ফ্রাস্ট্রেটেড তা বুঝতে পারে মিতা। অরিয়নের চোখ বলে দিচ্ছে এতক্ষণে সে মিতাকে বিশ্বাস করেছে।
“খবরদার” অরিয়ন এক পা এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেই মিতা চেঁচিয়ে উঠে।
“আই এম স...”
“শাট আপ। তোমার সরি আমার লাগবে না”
“আর এক পা ও আগাবে না, অরিয়ন আফনান চৌধুরী। এক্ষুনি তুমি রুম থেকে বেরিয়ে যাবে” মিতার কণ্ঠ কাঁপল না। সে অরিয়নকে কতটা ঘৃণা করে তা লুকানোরও চেষ্টা করেনি।
“আমার রুম থেকে আমি বেরিয়ে যাব?” ভ্রু উঁচু করে প্রশ্ন করে অরিয়ন। মিতা অবাক হল, লোকটা যা করেছে তার জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই তার মাঝে।
“এখুনি না বের হলে, আমি বাড়ির সবাইকে একত্রিত করতে বাধ্য হব। এরপর আমিও দেখব, আমার গায়ে এসব দেখার পর কে এখানে আমাকে আটকে রাখে”
“হুমকি দিচ্ছিস তুই আমাকে?”
“হ্যাঁ, তাই দিচ্ছি। এখান থেকে বের হবে, তা না হলে আজ এই বাড়িতে সেই ঘটনা ঘটবে যা চৌধুরী বংশে এর আগে কখনো ঘটেনি” অরিয়ন ঠিকই বুঝতে পারল মিতা কিসের কথা বলছে। মিতার দিকে তাকিয়ে থাকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, পরক্ষণেই বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
মিতার হাতে থাকা টব ফেলে দিয়েই দৌড় দেয় মিতা, দৌড়ে গিয়ে দরজা লাগায়। পুরো শরীর কাঁপছে তার। মেঝেতে বসে পড়ে নিজের অজান্তেই। ভেঙে পড়ে কান্নায়।
“এ কোন জানোয়ারের সাথে জড়ালাম আমি” কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বিড়বিড়ায় মিতা।
চলবে....
লাইক কমেন্ট ঠিক থাকলে আশা করি আগামীকালও একটা পর্ব দিবো।