ফন্ট সাইজ:
থিম:
টক ঝাল নাকি মিষ্টি

৩য় পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৩

গল্প:#টক_ঝাল_নাকি_মিষ্টি?

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

সকাল ১১ টার হালকা রোদ এসে শ্রিয়ন্তীর পড়নের রোজ ওয়াটার কালারের সাদা বাহার ড্রেসটার ওড়নায় পড়ছে।এতক্ষণে মনে হয় ওড়নাটা গরমও হয়ে গিয়েছে।কিন্তু সেদিকে শ্রিয়ন্তীর খেয়াল কোথায়?বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাতের কলমটা আনমনে চাবাচ্ছে শ্রিয়ন্তী।গত ক্লাসে স্যার যে টপিকটা বুঝালো সেটা সম্পূর্ণ তার মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে।মাথার ভিতরেই সেটা বারবার রিভাইন্ড করে বোঝার চেষ্টা করছে সে।এই মেডিকেলের পড়াশুনা সে যতটা কঠিন ভেবেছিল তার থেকেও শত গুণে কঠিন।বইগুলো দেখলেই শুধু ছ্যাকা খাওয়া গান শুনতে ইচ্ছা করে।

এমন সময় তানহা এসে শ্রিয়ন্তীকে একটা জোরে ঝাঁকি দিল,

"শ্রিয়ন্তী!আমার মান-ইজ্জত সব গেল!কিছু কর!"

শ্রিয়ন্তী কলম চাবা বাদ দিলো না,

"কি হয়েছে তোর মান-ইজ্জতের?"

"এক জুনিয়র আমার নামে অনেক বাজে-বাজে কথা বলে বেড়াচ্ছে"

"ও বললেই তুই বাজে হয়ে গেলি?"

"আরে বাবা বোঝার চেষ্টা কর।আমার অনেক অসুবিধা হচ্ছে"

শ্রিয়ন্তী এবার কলমটা মুখ থেকে বের করে তানহার দিকে ঘুরলো,

"তুই ওর কোন পাকা ধানে মই দিয়েছিস?"

"তেমন কিছু না।শুধু একটু র‍্যাগ দিয়েছিলাম"

"তানহা।তোকে কতবার আর বলবো ছেলে জুনিয়রদের র‍্যাগ দিতে যাস না।এখন মজাটা বুঝ"

তানহা কাঁদো গলায় বলে উঠল,

"প্লিজ কিছু কর না রে"

"আচ্ছা চল দেখি কোন ছেলে"

শ্রিয়ন্তী ও তানহা তিনতলা থেকে নেমে নিচে এলো।তানহা শ্রিয়ন্তীর হাত ধরে ক্যাফেটেরিয়ার দিকে এগোতে লাগলো একদম।মনে হচ্ছে তানহা সেই ছেলেটিকে আগে থেকেই লোকেট করে রেখেছে।

এরই মাঝে শ্রিয়ন্তীর ফোনে একটা মেসেজ ঢুকে।শিশির দিয়েছে,

"নাহিদ চাচুরা এসেছে।তুমি তাড়াতাড়ি আসার ট্রাই করিও"

শ্রিয়ন্তী মাথা নিচু করে ফোনের স্ক্রিন দেখছে।তাকে ঝাকিয়ে তানহা বলে উঠলো,

"শ্রিয়ন্তী!ওই যে,স্কাই ব্লু শার্ট আর ব্লাক প্যান্ট।শ্রিয়ন্তী দেখ!"

"হ্যাঁ হ্যাঁ,দাঁড়া দেখছি"

শ্রিয়ন্তী মাথা নিচু করে শিশিরের মেসেজের উত্তর লিখছে।

তানহার ফোন বেজে উঠলো।সেদিকে নজর দিয়ে বলল সে,

"শ্রিয়ন্তী!স্কাই ব্লু শার্ট আর ব্লাক প্যান্ট!আম্মু কল দিয়েছে।তুই এই ম্যাটারটা দেখ।আমি আসছি"

"হুম হুম দাঁড়া"

ম্যাসেজ লিখা হয়ে গেলে শ্রিয়ন্তী মাথা তুলে।তানহা তার পাশে নেই।নিশ্চয়ই কোথায় গিয়ে ফোনে কথা বলছে।তবে শ্রিয়ন্তী নিজের কাজে হেলাফেলা করল না।ক্যাফেটেরিয়ার দিকে ঘুরে স্কাই ব্লু শার্ট খুঁজতে লাগলো সে।পেয়েছে।গাছের নিচে একটা ছেলে স্কাই ব্লু শার্ট আর ব্লাক প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে ফোন দেখছে।এক হাত পকেটে। ফার্স্ট ইয়ার হয়ে এত ভাব?

শ্রিয়ন্তী জোর পায়ে হেঁটে গিয়ে ছেলেটির সামনে দাঁড়ায়।দূর থেকে তো বোঝা যাচ্ছিল না,কিন্তু এখন সামনে এসে শ্রিয়ন্তীর নিজেকে পিপড়া মনে হচ্ছে।তাতে কি হয়েছে?সিনিয়র হয় শ্রিয়ন্তী তার।

শ্রিয়ন্তী এবার মুখ খুলল,

"আসসালামু আলাইকুম জুনিয়র ভাই"

মাথা তুলে শ্রিয়ন্তীর দিকে দেখল ছেলেটি।বেশ বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে তাকে,

"জ্বি...আমাকে বলছেন?"

শ্রিয়ন্তী কপালে হাত দিয়ে দুরের দৃশ্য দেখার মতো করে আশেপাশে মাথা ঘুরাতে নিয়েই বলে উঠে,

"আশেপাশে তো আর কোনো জুনিয়রকে দেখছি না।তাহলে আপনাকেই মনে হয় বলছি"

ছেলেটিকে দেখে মনে হলো সে একটু অবাকই হলো,

"জুনিয়র?আমি?"

শ্রিয়ন্তীর এবার রাগ উঠে গেল যেন।এত ভাব কেন এই ছেলের?

ভ্রু উচালো শ্রিয়ন্তী,

"সিনিয়র আপুর নামে ভুলভাল বাজে কথা ছড়িয়ে খুব ভাব দেখানো হচ্ছে বুঝি।তিন মাসে এতো ভাব?"

ছেলেটির মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে শ্রিয়ন্তীর কথা তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে,

"আই থিঙ্ক সামথিং ইজ গোয়িং রং হিয়ার"

"এতো বড় সাহস!সিনিয়র আপুর সামনে ইংলিশ ঝাড়স!?ব্যাটা তোর আজকে খবর আছে।তোরে যদি পুরো ক্যাম্পাসের সামনে না নাচাইছি আমার নাম শ্রিয়ন্তী না!"

পিছন থেকে তানহার আওয়াজ ভেসে এলো,

"এই শ্রিয়ন্তী তুই কি করছিস!"

শ্রিয়ন্তী পেছনে ঘুরলো না।সামনের ছেলের দিকে কড়া নজর রেখেই বলে উঠল সে,

"তানহা তুই চুপ থাক!এটা এখন শুধু তোর ম্যাটার না,আমারও ম্যাটার।সে একজন সিনিয়র আপুকে ভাব দেখিয়েছে!"

ছেলেটির দিকে তর্যনী আঙুল তাক করল শ্রিয়ন্তী,

"সিনিয়র আপুকে কিভাবে সম্মান দেখাতে হয় আজ তুমি ভালো করে শিখবে"

তানহা এবার এসে শ্রিয়ন্তীর কাঁধ চেপে ধরে।কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল সে,

"এটা ওই ছেলে নয়!"

শ্রিয়ন্তীর আঙ্গুল ওখানেই আটকে গেল।সে আর নড়ছে না। পুরো পাথরের মূর্তি হয়ে গিয়েছে যেন।এটা ওই ছেলে না মানে!?পড়নে তো সেই কাপড়ই আছে যেগুলোর বিবরণ তানহা দিল। তার মানে সে কি এতক্ষন একজন নির্দোষকে ঝাড়ছিল?সর্বনাশ!মহাবিপদ হয়ে যাবে যদি এটা কোনো সিনিয়র হয়!আজ তো শ্রিয়ন্তী গিয়েছে! এই তানহাটা আজ শ্রিয়ন্তীর কাল এনে দিয়েছে!

অন্য একটি ছেলে হাতে দুটো কফির কাপ নিয়ে এসে সেই ছেলেটির পাশে দাঁড়ালো।নজর তার তানহা আর মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা শ্রিয়ন্তীর দিকে,

"আরে তানহা,শ্রিয়ন্তী! তোরা এখানে কি করিস?"

তানহা তার দিকে ঘুরলো।গলা কাপছে তার,

"তু-তু-তুতুল ভাইয়া আপনি?"

তুতুলের মুখে তো হাসি ফুটছে,

"হ্যাঁ,আমি।তোরা এখন দিন-রাত কই থাকিস?তোদের ফার্স্ট ইয়ার ফাইনালের পর তো তোদের আর পাওয়াই যায় না"

শ্রিয়ন্তী এখনো মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে।তুতুল একবার শ্রিয়ন্তীর দিকে তো একবার তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির দিকে দেখল।পাশের ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলে উঠল তুতুল,

"আদর্শ,তুই শ্রিয়ন্তীকে চিনিস?"

আদর্শ ভ্রু কুচকে শ্রিয়ন্তীর দিকে তাকিয়ে,

"আই ডোন্ট থিংক সো"

শ্রিয়ন্তীর এবার জ্ঞান ফিরলো যেন।এভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে কোনো লাভ নেই।ধড়ফড়িয়ে উঠল সে।মাথাটা রুকু করার মতো নিচু করল।মাথা নিচু করায় লম্বা চুলে ঢিলা করে করা বেনির আগাটা মাটি ছুঁই-ছুঁই করছে,

"আই এম ভেরি ভেরি সরি।আমি আপনাকে অন্য কেউ মনে করেছিলাম"

শ্রিয়ন্তী সোজা হয়ে দাড়াতেই ভড়কে উঠল।আদর্শ তার পাশে কঠোর দৃষ্টিতে দেখছে।শ্রিয়ন্তী একটু কাচুমাচু হয়ে গেল।এমন করে দেখার কি আছে?শ্রিয়ন্তী তো বললই যে তার ভুল হয়ে গিয়েছে।

আদর্শ এবার মুখ খুলল।ভারী কন্ঠে বলল সে,

"এরপর থেকে কাউকে র‍্যাগ দিতে গেলে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে যাইয়েন।নাহলে বড় বিপদে পড়বেন"

শ্রিয়ন্তী মাথা নাড়িয়ে বলল,

"থ্যাংক ইউ ফর ইওর এডভাইস"

আদর্শ চাপা কঠোর সুরে বলল,

"সিনিয়রদের সামনে ইংলিশ ঝাড়ছেন!"

শুকনো ঢোক গিলল শ্রিয়ন্তী,

"আপনার পরামর্শের জন্য অনেক ধন্যবাদ "

শ্রিয়ন্তী তুতুলের দিকে নজর দেয়,

"ভাইয়া আপনার সাথে পরে কথা হবে"

শ্রিয়ন্তী আর তানহা আর এক মিনিটও দাড়ালো না।কেটে পড়ল সেখান থেকে। তুতুলের মাথায় কিছুই ঢুকছে না।সে আদর্শের দিকে ঘুরল,

"শ্রিয়ন্তী কি কিছু বলেছে তোকে?"

আদর্শের নজর শ্রিয়ন্তীর যাওয়ার পানে,

"হ্যাঁ,কোন জানি জুনিয়র মনে করে ঝাড়ছিল"

"মাইন্ড করিস না।মেয়েটা অনেক ভালো।আমি যখন ইন্টার্ন করি তখন এরা ফার্স্ট ইয়ারে ছিল।অনেক সম্মান করে আমাকে"

"হ্যাঁ,দেখাই তো গেল"

"ওসব বাদ দে।আমার ভার্সিটি তোর কেমন লাগলো?"

আদর্শ মুখে হালকা হাসি নিয়ে তুতুলের দিকে ঘুরে,

"হুম,আমার এক্সপেক্টেশনের চেয়ে অনেক বেশি ভালো"

"আজকে তোর সাথে দেখা হয়ে ভালোই হয়েছে।তোকে আমার ভার্সিটিটাও দেখানো হয়ে গেল আর পাশ করে বের হওয়ার পর আমারও একটু আসা হয়ে গেল।বাই দ্যা ওয়ে,তুই আজকে আমেরিকা থেকে ব্যাক করে আজকেই কেন অফিস জয়েন হতে গিয়েছিলি ?"

"ওই একটু অফিসের মুখ দেখতে।ভালোই তো হয়েছে।নাহলে তোর সাথে কেমন করে দেখা হতো?"

হাসলো তুতুল।এর মাঝেই দূর থেকে মাইকে শ্রিয়ন্তীর আওয়াজ ভেসে এলো,

"হ্যালো হ্যালো এভরিওয়ান,প্লিজ অ্যাটেনশন।এই যে আমার পাশে একটা ছেলেকে দেখতে পাচ্ছেন।সে অনেক বড় গুনের অধিকারী। সে আমার বান্ধবীর নামে অনেক সুন্দর-সুন্দর কথা ছড়িয়েছে।যাহা একদম সত্য নহে।এটা যেন আপনারা সবাই জানতে পারেন তাই এই ছোট্ট আয়োজনটি"

শ্রিয়ন্তীর পাশে একটা ছেলে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে।মাইকে ধীর আওয়াজ আসছে,

"আপু ছেড়ে দিন।আর এমন হবে না "

শ্রিয়ন্তী মাইকটা মুখের কাছে নিয়ে বলল,

"ছেড়ে তো দিতাম।কিন্তু তোমার কারণে আজ আমি এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি।ওটার শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে"

স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা হেসে উঠল।তানহাকে জ্বালাতন করা ছেলেটাকে অবশেষে হাতে পেয়েছে শ্রিয়ন্তী।হাতে পেয়েই যেন তার বারো অবস্থা করছে।আর সেটা দূর থেকে দেখেই আদর্শ মুচকি হেসে উঠলো।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

শ্রিয়ন্তী হাতের ঘড়ির দিকে দেখছে।আটটা বাজে।এমনিতে তো ল্যাব শেষ হয় সাতটায়।তারউপর এই জ্যাম।নাহিদ চাচুরা তো মনে হয় দুপুরের আগেই এসে গিয়েছে।যেদিনই শ্রিয়ন্তী একটু তাড়াতাড়ি বাসা ফিরতে চায় তার দেরি হবেই।বাসায় নতুন সদস্য আসছে অথচ সে-ই নেই তাদের ওয়েলকাম জানানোর জন্য।হঠাৎ মাথায় এক বুদ্ধি এলো শ্রিয়ন্তীর।দেরি যেহেতু করেই ফেলেছে তাহলে তার উচিৎ হবে তাদের জন্য কিছু নিয়ে যাওয়া।গাড়ির ড্রাইভারকে শ্রিয়ন্তীর এক পছন্দের রেস্টুরেন্ট হয়ে বাসা যেতে বললো।সেখানে ইয়া বড় বড় রসগোল্লা পাওয়া যায়।বাসার সবার অনেক পছন্দ।

মিষ্টির বক্স হাতে নিয়ে শ্রিয়ন্তী বাসায় ঢুকতেই দেখল বাসার সবাই ড্রইং রুমে বসে গল্প করছে।সেখানে তিনটি নতুন চেহারা।শ্রিয়ন্তী মুখে বড় হাসি নিয়ে তাদের সালাম দিল।অতঃপর বলে উঠল,

"আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত আমার দেরি করে আসার জন্য।তাই আপনাদের জন্য কিছু নিয়ে এসেছি।প্লিজ একসেপ্ট দিস অ্যাজ মাই এপোলজি"

নাহিদ সাহেব হেসে বললেন,

"আরে না মামনি কোনো সমস্যা নেই।এই বয়সে পড়াশোনার কেমন চাপ হয় সেটা আমরাও বুঝি।এদিকে এসো তো একটু।তোমার চাচীর পাশে বসো।সোনামণিটার মুখটা একটু ভালো করে দেখে নেই"

এক সার্ভেন্টের হাতে মিষ্টির বক্সটা দিয়ে শ্রিয়ন্তী গিয়ে নাহিদ সাহেবের বউ তয়া বেগমের পাশে বসে।তয়া বেগমের পাশেই বসে রয়েছে নাফিসা।নাহিদ সাহেবের মেয়ে।শ্রিয়ন্তী কাছে আসতেই তাকে সালাম দিল নাফিসা।শ্রিয়ন্তী সালাম নিয়ে তার গালটা একটু টেনে দিল।

তয়া বেগম শ্রিয়ন্তীর মাথায় হাত বুলিয়ে তার পাশে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছেন।নয়ন সাহেবের দিকে ঘুরে বললেন,

"মেয়েকে যে সুন্দর বানিয়েছো।কয়েকদিন পরে কিন্তু ঝামেলায় পড়তে হবে"

তয়া বেগমের কথায় সবাই হেসে উঠলো।

নয়ন সাহেব বললেন,

"সেই ঝামেলায় আমি কেন পড়ব?তার ভাইয়েরা আছে না?আগে থেকে তো একটা আছেই,আর এখন তো একটা বড় ভাইও এসেছে।তাদের উপরেই সব দায়িত্ব এখন"

তয়া বেগম এখনো মুগ্ধ দৃষ্টিতে শ্রিয়ন্তীর দিকে দেখছেন,

"মা তুমি সারাদিন বাইরে ছিলে।অনেক ক্লান্ত মনে হয়।যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও"

নাহিদ সাহেব তয়া বেগমকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"তো তোমার ছেলেটা কোথায়?শ্রিয়ন্তীর সাথে একটু দেখা করবে না?"

তয়া বেগম বললেন,

"তোমার ছেলে নিজের কাজ থেকে ফ্রি হলে না?সারাদিন ব্যস্ত যাচ্ছে আজকে ওর।আমাদের সাথে দেশে এসেছে সকালে,আর বাসায় আসছে এখন।কাপড়টাও চেঞ্জ করতে পারেনি।শ্রিয়ন্তী,তুমি গিয়ে ফ্রেশ হও।ওর সাথে পরে দেখা করিও"

শ্রিয়ন্তী সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নিয়েই হামি তুলতে লাগলো।অনেক ক্লান্ত লাগছে তার।গোসলটা করলেই শরীরটা ভালো লাগবে।

রুমের দরজা খোলাই ছিল।শ্রিয়ন্তী রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে দরজার পাশে থাকা সোফায় হাতের ব্যাগটা হেলাফেলায় রেখে দেয়।অতঃপর হাত দুটো উপরে তুলে গা চাড়াতে লাগলো সে।এমন সময় তার পেছন থেকে এক ছেলের কন্ঠস্বর শুনতে পায়।শ্রিয়ন্তীর হাত দুটো উপরেই আটকে গেল যেন।পেছনে ঘুরে আতকে উঠল শ্রিয়ন্তী।একটা ছেলে উল্টো দিক হয়ে ফোনে কথা বলছে।পড়নে তার স্কাই ব্লু শার্ট আর ব্লাক প্যান্ট।শ্রিয়ন্তীর বুকটা ধুক করে উঠলো যেন।সে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বাহিরে এলো।

কে ছিল সেটা?শ্রিয়ন্তীর রুমে কি করছে?সেটা কি নাহিদ চাচুর ছেলে?চোখ-মুখ খিচে নিল শ্রিয়ন্তী।আজ মনে হয় শ্রিয়ন্তীর এই স্কাই ব্লু শার্ট আর ব্লাক প্যান্টে কুফাই লেগেছে।

বড়-বড় দুটো শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করল শ্রিয়ন্তী।কিছুক্ষণ পর হয়তো বের হয়ে যাবে ছেলেটা।সে একটু তো অপেক্ষা করতেই পারে।দুই তিনবার দরজার সামনে পায়চারি করল সে।হাতের ঘড়িতে দেখল।এখনো এক মিনিটও হয়নি!উফ,আর পারছে না। তার গোসল করাটা এই মুহূর্তে ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।শ্রিয়ন্তী আবার রুমে ঢুকলো।ছেলেটা উল্টো দিক হয়েই দাঁড়িয়ে আছে। শ্রিয়ন্তী তাকে শোনানোর জন্য একটা বড় নকল কাশি দেয়।কারো উপস্থিতি বুঝতে পেরে পেছনে ঘুরলো ছেলেটি।আগন্তুক পেছনে ঘুরতেই শ্রিয়ন্তী বিষম খেল এক।আসলেই কাশি শুরু হলো তার।

"ওকে,আই উইল কল ইউ লেটার"

আদর্শ কল কেটে দিয়ে শ্রিয়ন্তীর পাশে অবাক হয়ে দেখতে লাগলো,

"তুমি এখানে কি করো?"

শ্রিয়ন্তী তার বরম তালুতে হাত ঘষতে নিয়েই কাশি থামিয়ে বলল,

"এটা মনে হয় আমার লাইন!আপনি এখানে কি করছেন?"

"আমার বাসায় আমি থাকবো না তো কে থাকবে?"

"এটাও মনে হয় আমার লাইন! "

আদর্শ থুতনিতে হাত দিয়ে শ্রিয়ন্তীকে কয়েক সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করলো,

"ওয়েট, তুমি নয়ন আঙ্কেলের মেয়ে?"

শ্রিয়ন্তীর আর বুঝতে দেরি হলো না তার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে নাহিদ সাহেবের ছেলে।আদর্শের দিক থেকে অন্যদিকে নজর ঘুরালো শ্রিয়ন্তী,

"জ্বি"

শ্রিয়ন্তী আবার আদর্শের পাশে মাথা ঘুরালো,

"আপনি একটু আমার রুম থেকে বের হবেন?আমি একটু ফ্রেশ হতাম"

ভড়কালো আদর্শ,

"হ-হ্যাঁ অবশ্যই"

আদর্শ শ্রিয়ন্তীর পাশ কেটে যেতেই শ্রিয়ন্তীর মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে এলো,

"কারো রুমে পারমিশন ছাড়া ঢোকা যায় না জানা নেই আপনার?"

এবার আদর্শের চোয়ার শক্ত হয়ে এলো,

"নিজের রুমের দরজা হা করে খুলে রেখে মানুষকে দোষ দেয়া বন্ধ করো"

সারাদিন ভার্সিটিতে থেকে শ্রিয়ন্তীর মাথার মগজ এমনিতেই পদ্মা নদীতে ভেসে গিয়েছে।এখন আবার এই ছেলের পাল্লায় পড়েছে সে।গরম মাথায় কি না কি বলে ফেলবে আজ নিজেই জানে না শ্রিয়ন্তী।

আদর্শের দিকে ঘুরে চাপা কন্ঠে বলল,

"আমার রুমের দরজা আমি খোলা রাখি নাকি খুলে নিয়ে গিয়ে রান্নাঘরে রাখি সেটা আমার ম্যাটার।আপনি কেন আমার রুমে ঢুকবেন?"

মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ালো আদর্শ,

"বাইরে অনেক শোরগোল হচ্ছিল।আমার অনেক জরুরি কল ছিল দেখে রুমে ঢুকে কথা বলছিলাম"

"তাই বলে আপনি যে কারো রুমে ঢুকে যাবেন? "

আদর্শ ভ্রু কুচকালো,

"তুতুল তোমার মাঝে যে ভালোর কি দেখেছে আমি সেটাই বুঝছি না"

আদর্শ আর কিছু না বলে জোর পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

শ্রিয়ন্তী রুমের দরজাটা ধাম করে লাগিয়ে দিল।রাগের মাথায় হনহনিয়ে ওয়াশরুমে এসে ঢুকলো সে।নিজেকে যে ওই ছেলে কি মনে করে?সকাল থেকে শুধু ভাবই দেখিয়ে যাচ্ছে।

শাওয়ারের পানি মাথায় পড়ার সেকেন্ড দুয়েক পর মনে হয় শ্রিয়ন্তীর মগজটা পদ্মা নদী থেকে নৌকায় করে ফেরত এলো।সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। মেঝেতে বসে পড়ল সে।শিট!শিট!শিট! সে এটা কি করলো! নিচে বড় চাচু আর চাচীর সাথে এত ভালো ব্যবহার করে এসে উপরে তাদের ছেলের সাথে নাক ডুবিয়ে ঝগড়া করছিল সে!?এতো ইমম্যাচিউর সে কবে থেকে হলো!?সকালে তো ইজ্জতটা একটু খেয়েছিল।কিন্তু এখন ওই ইজ্জতটা উল্টে-পাল্টে ভাজি করে খেলো শ্রিয়ন্তী।প্রথম দেখাতেই বড় ভাইয়ের সাথে এমন বেয়াদবি কেউ মেনে নেবে না।শ্রিয়ন্তী তো নিজেই মেনে নিতে পারছে না!এই রাগের যে সে কি করবে!

সিঁড়িতে নামতে নিয়েই শ্রিয়ন্তী দেখলো আদর্শ সোফায় বসে আছে। ভাগ্যিস উল্টো দিক হয়ে বসে আছে।নাহলে শ্রিয়ন্তী অর্ধেক সিঁড়ি হতেই আবার ফেরত চলে যেত।কিছুক্ষণ আগের সেই স্কাই ব্লু শার্ট আর ব্লাক প্যান্ট পড়নে নেই।গেঞ্জি-ট্রাউজার পড়েছে আদর্শ।

শ্রিয়ন্তীকে দেখে আয়শা বেগম ডাইনিং থেকেই বলে উঠলেন,

"শ্রিয়ন্তী,তোর আদর্শ ভাইয়ার সাথে দেখা করেছিস?ভাইয়ার সাথে একটু কথাও বল আর টি-টেবিলে তোর জন্য রসগোল্লা রাখা আছে ওটাও খেয়ে নিস"

নাক-মুখ কুচকালো শ্রিয়ন্তী।আয়শা বেগমকে এখন কে বলবে যে শ্রিয়ন্তী আদর্শের সাথে ঝগড়া করে পরিচয় পর্বের শুরুতেই শেষ করে দিয়েছে।

শ্রিয়ন্তী আর কোনো উপায় না পেয়ে কাপা পায়ে সোফার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।আদর্শ ফোনের স্ক্রোল করছে।তিন সিটের সোফার এক কর্নারে বসেছে সে। শ্রিয়ন্তী ঐ সোফারই আরেক কর্নারে বসলো।গলা পরিষ্কার করলো সে,

"আ-আসসালামালাইকুম ভাইয়া"

আদর্শ মাথা তুলে তার পাশে এক নজর দেখলো।আবারো ফোনে মন দিল সে।গম্ভীর কন্ঠেই বলে উঠল,

"ওয়ালাইকুম আসসালাম"

আবারো ভারী নিরবতার চাদর পড়ল যেন।শ্রিয়ন্তী কি বলবে বুঝতে পারছে না।তারপরও মুখ খুলল সে।কাঁদো গলায় বলে উঠে,

"ভাইয়া আই এম ভেরি ভেরি সরি "

আদর্শ ফোন থেকে মাথা তুলল না।শ্রিয়ন্তীর কথার পর মুহুর্তেই বলে উঠল,

"সিনিয়রের সামনে ইংলিশ ঝাড়ছো?"

শ্রিয়ন্তী মনে মনে নিজের মাথায় দিল এক বারি,

"আমাকে ক্ষমা করবেন ভাইয়া!আসলে সারাদিন ক্লাস করে অনেক ক্লান্ত ছিলাম তো,তাই কি না কি উল্টাপাল্টা বলে ফেলেছি।আমি তওবা করছি আর এরকম হবে না"

শ্রিয়ন্তীর নজর গেল টি-টেবিলে রাখা রসগোল্লার দিকে।রসগোল্লার প্রিসটা আদর্শের দিকে এগিয়ে দিল সে,

"আপনি আমার রসগোল্লাটা খেতে পারেন।এজ এন অ্যাপোলজি"

শ্রিয়ন্তী জিহ্বার মাথায় কামড় বসালো।ধেত তেরেকি!

অ্যাপোলজির বাংলাটা যেন কি ছিল?এই মাথাটা সময়মতো একদম কাজ করে না।

আদর্শ আবার মাথা না তুলেই বলল,

"আমি মিষ্টি খাই না"

এই সেরেছে!যেটা দিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনার হা'তি'য়ার বানিয়েছিল সেটাতেই নাকি জং ধরা।

আদর্শ শ্রিয়ন্তীর পাশে ঘুরলো।চোয়াল তার শক্ত হয়ে আছে।

বিড়াল ছানার মতো চুপসে গেল শ্রিয়ন্তী।এখন আবার বকা দেয়া শুরু করবে নাকি?চোখ দেখে তো মনে হচ্ছে শ্রিয়ন্তীর চামড়া ছিলে লবণ ছিটা দিবে।

পরক্ষণেই আদর্শের চোখ ও চোয়াল স্বাভাবিক হয়ে এলো।তবে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে,

"এরপর থেকে যেন এমন আর না হয়"

কথা শেষেই উঠে গেল আদর্শ।আদর্শ উঠে যাওয়ার পরপরই শ্রিয়ন্তী সোফায় তার শরীর ছেড়ে দিল।বাপরে বাপ!এতো রাগ!যাই বলো আর তাই বলো,ছেলের ভাব অনেক বেশি।বাসায় আসতে না আসতেই বাড়ির বড় ছেলের পদবী পালন করতে নেমে পড়েছে একদম।

শ্রিয়ন্তী রসগোল্লাটার দিকে দেখল।এতো সুন্দর রসগোল্লাটাকে কে মানা করতে পারে?শ্রিয়ন্তী প্রিসটা হাতে নিয়ে মনের মাধুরীতে রসগোল্লাটা খেতে লাগলো।এর মধ্যে রান্নাঘর থেকে রুমি বেগম শ্রিয়ন্তীকে ডাক দিলেন,

"শ্রিয়ন্তী!দুধের গ্লাসটা দাদীর রুমে দিয়ে আয় তো!"

"হ্যাঁ মা যাচ্ছি! "

রসগোল্লা তাড়াতাড়ি শেষ করে দুধের গ্লাসটা নিয়ে রাবেয়া বেগমের রুমের দিকে এগুলো শ্রিয়ন্তী।

দুই বছর হলো রাবেয়া বেগম হার্ট স্টক করেছেন।যার ফলে কোমর থেকে পা পর্যন্ত একটু প্যারালাইজডের মতো হয়ে গিয়েছে।হাঁটতে পারেনা এমনটা নয়।কিন্তু ডাক্তার পায়ের উপর ভর দিতে নিষেধ করেছে।

শ্রিয়ন্তী দরজায় নক করে ভেতরে ঢুকলো।পরপরই গলাটা ফত করে শুকিয়ে গেল তার।বিছানায় রাবেয়া বেগমের সামনে বসে আদর্শ তার সাথে গল্প করছে।শ্রিয়ন্তী মাথা নিচু করে ঢুকে বিছানার পাশে টেবিলে দুধের গ্লাসটা রাখে।ওয়াল ঘড়ির দিকে দেখল সে,

"দাদি ৯ টা বেজে গিয়েছে,ঔষধ খেয়েছ?"

রাবেয়া বেগম শ্রিয়ন্তীর দিকে ঘুরলেন,

"তুই না খাইয়ে দিলে আমার ওষুধ পেটে ঢুকবে?"

"আমি যখন থাকবো না তখন কি হবে তোমার?"

"তুই আবার কই যাচ্ছিস?"

"বিয়ে বুঝি দিবে না আমায়?"

"ওটা তো হবে।আর তোর বিয়েতে আমি অনেক মজাও করব "

"তো শুনি তোমার কোন নাতি জামাই আমাকে তোমার কাছে সবসময় থাকতে দিবে? "

"সমস্যা নেই,ওরকম নাতিজামাই আমি খুজে নেব"

রাবেয়া বেগম আড় চোখে আদর্শের পাশে দেখে আবার শ্রিয়ন্তী দিকে দেখলেন,

"ধর পেয়েই গিয়েছি"

"হয়েছে হয়েছে,এখন তোমার নাতি জামাই খুঁজতে হবে না। আরো অনেক সময় আছে।এই নাও ঔষধ খাও "

রাবেয়া বেগমের আড় চোখ শ্রিয়ন্তী খেয়াল না করলেও আদর্শের চোখে ঠিকই সেটা ধরা পড়ে।হকচকিয়ে গেলেও পর মুহুর্তে লুকিয়ে মিটিমিটি হাসলো সে।

রাবেয়া বেগম আদর্শকে বললেন,

"আদর্শ,তো লেখাপড়া শেষে এখন কি করছো?"

ঠোঁট চিপে ধরে রাখা হাসি বন্ধ করে আদর্শ মাথা তুলল,

"দুই বছর হলো আমেরিকায় এক কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমি জব শুরু করেছি দাদি।কিন্তু বাবার দেশের ফেরার কারণে আমি সেই জবটা এখানে ট্রান্সফার করে নেই"

"বাহ, ভালোই তো হলো।বাড়িতে এখন ডাক্তারও আছে ইঞ্জিনিয়ারও আছে।ভালোই মানাবে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের জুটি"

রাবেয়া বেগমের কথায় আদর্শ একটু কেশে উঠলো যেন।

শ্রিয়ন্তী বলল,

"দাদি তোমার হাতের ঔষধগুলো এখনো মুখে যায়নি কেন?আর তোমার এই কয়দিনের সেবা মনে হয় বেশি হয়ে গিয়েছে।মুখ দিয়ে খই ফুটছে "

ঠোঁট বাকালেন রাবেয়া বেগম,

"আরে শ্রী তুই বুঝিস না কেন?আপনজনরা পাশে থাকলে ঔষুধের প্রয়োজনই হয় না।আপনাআপনি শরীর ভালো হয়ে যায় "

"তোমার শ্রী সব বোঝে।এখন ঔষধগুলো কি মুখে ঢুকবে!"

"হ্যাঁ বাবা, খাচ্ছি"

রাবেয়া বেগম ঔষধ খেয়ে শ্রিয়ন্তীর হাত থেকে দুধের গ্লাসটা নিলেন।আদর্শের দিকে ঘুরে বললেন তিনি,

"এ হলো আমাদের বাড়ির শ্রী দেবী।আয়শা-রুমির থেকেও আমাকে বেশি জ্বালায়"

রাবেয়া বেগম শ্রিয়ন্তীর দিকে নজর দিলেন,

"আজ আমার রুমের বাইরে যেতে ইচ্ছা করছে।যাওয়া যাবে কি?"

শ্রিয়ন্তী থুতনিতে হাত দিয়ে বলল,

"তাইতো আমি ভাবছি,তুমি এখনো বাইরে যেতে চাইছো না কেন? তুমি বসো আমি চেয়ারটা নিয়ে আসি"

শ্রিয়ন্তী হুইল চেয়ারটা নিয়ে এলো।

আদর্শ বললো,

"দাদি আমি আপনাকে চেয়ারে বসিয়ে দেই?"

নাতির কথায় রাবেয়া বেগমের মুখখানা হাসিতে প্রফুল্ল হয়ে উঠলো। আদর্শ রাবেয়া বেগমকে পাজা কোলে করে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।রাবেয়া বেগম শ্রিয়ন্তীকে বললেন,

"দেখেছিস,আমার নাতির হাতের মাসেল কত স্ট্রং!"

হালকা হাসলো আদর্শ,

"এখন থেকে আপনি প্রত্যেকদিন বাইরে বের হবেন"

শ্রিয়ন্তী কোমরে হাত দিয়ে আদর্শের উদ্দেশ্যে বলে উঠে,

"দাদিকে ইমপ্রেস করার আইডিয়াটা ভালো ছিল।কিন্তু ডাক্তারই বলেছে বেশি নড়াচড়া না করতে।না হলে ব্যথা বেশি হবে"

আদর্শ রাবেয়া বেগমের সামনে থেকে মাথা তুলে শ্রিয়ন্তীর দিকে দেখল,

"জ্বি মিস শ্রী দেবী।আপনার কথাই শীর্ষে"

ভড়কালো শ্রিয়ন্তী।নজর অন্যদিকে ঘুরালো।আদর্শের মুখে শ্রী নামটা শ্রিয়ন্তীর কাছে কেমন জানি অদ্ভুত লাগছে।

আদর্শ রাবেয়া বেগমের চেয়ার ঠেলে ড্রয়িং রুমে নিয়ে যায়। রাবেয়া বেগম মুগ্ধ হয়ে সোফায় বসা লোকগুলোকে দেখতে লাগলেন।তার এখনো মনে হচ্ছে তিনি স্বপ্ন দেখছেন।

✿এই পর্বের নৈতিক বাক্য:

সিনিয়রের সামনে ইংলিশ ঝাড়তে হয় না।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন