#রুশ_রহস্য
#কলমে_সাদিয়া_তিন্তি
গল্পের ধরন: বন্ধুত্ব, প্রেম, রহস্য, গুপ্তধন, পারিবারিক ড্রামা।
(বিঃদ্রঃ বিনা অনুমতিতে কেউ কপি করবেন না)
পর্ব- ১২
মার্কেটের দুই তিন ঘন্টা কিভাবে যে শেষ হয়েছে সে হিসেব আমার কাছে নেই। হয়তো কারো কাছেই নেই। মার্কেটের ভিতরে গিয়ে সকলে মিলে যেন অন্য এক রাজ্যেই ছিলাম। অবশ্য আজকাল প্রতিটা দিনই সপ্নের মতো। একটা দিন অন্য দিনের থেকে একদম আলাদা, যেন সব নতুন। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, মনের সম্পর্ক এই গুলো বুঝতে আমি বছর বছর একাকিত্বে কাটিয়ে দিয়েছি। হয়তো আল্লাহ্ সব একাকিত্বের মুক্তির জন্যই আমাকে সানন্দপুর নিয়ে এসেছে। যা যা আমি কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করিনি, সে সবই ঘটছে। সারা দিনটায় সবাই মিলে এতো মজা হয়েছে যে সময়ের হিসেব ছিল না। মেঘ যেখানে থাকে সেখানে আমি এক অন্যরকম দুনিয়ায় চলে যাই। আমার ড্রেস, এক্সার্সারিজ সব মা নিজেই কিনে দেয় আর তাই আজ আমি এতো কনফিউজড ছিলাম যে কোনটা ছেড়ে কোনটা নেবো। মেঘ আর ইমরানের পছন্দ সত্যিই অসাধারণ। এই দুজন মানুষ সারা মার্কেট ঘুরিয়ে সব শপিং করিয়েছে। আজ ইমরানের সাথে অনেক কথা হলো। কেনো যেন ইমরানকে খারাপ মানুষ মনে হলো না। তবে রুবাইয়ের জন্য ইমরানের মাঝে কোথাও একটা গভীর দূবর্লতা খুজেঁ পেলাম। জানিনা, আমার ধারণা ভুল নাকি ওদের সময় ভুল ছিল।
ছোট বেলা থেকে মাকে কখনও মিথ্যে বলিনি কিন্তু এখন রোজই মিথ্যে বলছি। মিথ্যে বলার পরেও নিজের মাঝে অনুসূচনা খুঁজে পাচ্ছি না। তবে আমি নিজের ইচ্ছেতে মিথ্যে বলছি না। আমি বাধ্য হয়ে যাচ্ছি নিজের খুশির কাছে, স্বপ্নের মতো বাস্তবতার কাছে। একদিন মাকে সব বলে দেবো, যখন চলতে চলতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে আর এগোতে পারবো না ঠিক তখন। আজ না হয় আমি স্বার্থপর হলাম নিজের জন্য ….
মায়ের জন্য আজ খুব অপেক্ষায় বসে আছি। ৫ দিন দেখা হবে না তার সাথে। এতো দিন কখনো মাকে ছাড়া থাকি নি। আমার মনে এখন একটা মিশ্রিত অনুভূতি চলছে। একদিকে মায়ের থেকে দূরে থাকার একটা অমিমাংসিত অনুভূতি আর অন্যদিকে একটা উড়ন্ত জীবনের অনুভূতি।
আমার এই অনুভুতির মাঝেই মা বাসায় ফিরে বললো, "রুশা কি করছো মামণি?"
আমি মাকে দেখে মৃদু হেসে বললাম, "কিছু না মা, এমনিতে বসে ছিলাম।"
মা ব্যাগ রেখে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, "দিন কেমন গেল? সেমিনার ভালো হয়েছে?"
"হ্যাঁ মা,সব ভালো ছিল। আজ অনেক কিছু কিনেছি সবাই মিলে।"
মায়ের চোখ আজ ক্লান্ত নয়। মা আমার কথায় যেন আরো শক্তি পেল। আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "বাহ্, দেখাও আমাকে।"
আমি ও দ্রুত উঠে সব জিনিস দেখাতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। আমার সব কেনাকাটা মা খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বেশ খুশি হয়ে বললো, -
"সব অনেক ভালো হয়েছে। তোমার সব পেকিং শেষ?"
"না মা, কিভাবে পেকিং করবো বুঝতে পারছি না।"
"আমাকে বলবে তো, আমি ফ্রেশ হয়ে এসে সব পেকিং করে দিচ্ছি।"
"মা তোমার পেকিং শেষ?"
"হ্যাঁ। কাল তোমাকে কলেজের বাসে উঠিয়ে আমিও অফিসে যাবো।"
"অফিসে?"
"হুম অফিসের গাড়িতে যাবো তাই অফিস থেকে যেতে হবে।"
"মা তোমাকে খুব মনে পরবে, খুব মিস করবো আমি।"
"রুশা মন খারাপ করতে নেই। এখন বড় হয়েছো আর পড়াশোনার জন্য যাচ্ছো। আমাকে মনে পড়লে ফোন করে নিও ম্যাম কে বলে। আর তুমি শিক্ষা সফরে যাচ্ছো, সবার সাথেই থাকবে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দূরত্ব রেখে মিশবে, কাউকেই বিশ্বাস করবে না। গ্রুপ ছাড়া একা কোথাও যাবে না।"
"ঠিক আছে মা।"
"স্নিগ্ধা ম্যাডাম যাবে?"
"যেতে পারে, আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই যাবে শুনেছি।"
রাতের খাবার শেষে মা নিজে আমার সব প্যাকিং করে দিয়েছে। আমি এতো বড় হয়ে গেছি তাও এখনো জানি না কোথাও যেতে হলে কিভাবে প্যাকিং করতে হয়। কোন কোন জামা নিতে হবে, কোন কোন জিনিস প্রয়োজন হবে, সব মা খুব যন্তের সাথে আমাকে গুছিয়ে দিয়ে গেছে।
জানিনা আজ আল্লাহর কাছে কি চাওয়া উচিত। যতোটা, না চাওয়ার পরেই আল্লাহ তুমি আমাকে দিয়েছো আর দিচ্ছো, আমি এর থেকে বেশি কি চাইতে পারি। তবে আমি যদি আজ মেঘকে চাই, তাহলে কি আমার সীমানার বাইরে গিয়ে চাওয়া হবে? তবে সত্যি বলতে মেঘকে ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার।
মেঘ!! ওর উপর অনুভূতিটা কি সত্যিই ভালোলাগার! নাকি এর থেকে অনেক গভীরে চলে গেছে? যেখানেই গেছে সেটা সামলাতে আমি নিজেই অক্ষম।
চলবে..….