ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (প্রথম পরিচ্ছেদ)

২৩তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

#রুশ_রহস্য

#কলমে_সাদিয়া_তিন্তি

গল্পের ধরন: বন্ধুত্ব, প্রেম, রহস্য, গুপ্তধন, পারিবারিক ড্রামা।

(বিঃদ্রঃ বিনা অনুমতিতে কপি করবেন না)

পর্ব- ২৩

কিছু মীমাংসা, কিছু অসমাপ্ততা এভাবেই কেটে গেল সময়টা। রাত তখন দশটা পেরিয়েছে, ঘটনাগুলো কোনো রকমে গুছিয়ে নেওয়া গেছে, কিন্তু মন যেন এখনো এলোমেলো। সবাই ক্লান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেছে, আর আমি? আমি বসে আছি নিভে আসা আগুনের শেষ জ্বলন্ত কয়লার পাশে, যেখানে আলো ম্লান, তবে তাপ এখনও বেঁচে আছে। আকাশজুড়ে হাজার তারা, জোৎস্না আর আমার মতোই একাকী এক চাঁদ যেন আমার ভাবনার সঙ্গী হয়ে জেগে আছে।

আজকের ঘটনাগুলো মনে করলেই মনে হয়, যেন কোনো নাটকের একটি অধ্যায় দেখে এলাম, যেখানে প্রতিটি চরিত্র তার নিজস্ব ভূমিকায় অভিনয় করছিল, মিথ্যের আড়ালে সত্য খুঁজছিল। সত্যিই, প্রাপ্তি কি সবসময় নিজের মুখের হাসিতে সীমাবদ্ধ? নাকি অন্যের মুখের হাসিতেও লুকিয়ে থাকে? আজ ইমরান আমাকে এই কঠিন সত্যটাই বুঝিয়ে দিলো।

নারীর কান্না সমাজের চোখে স্বাভাবিক, কিন্তু পুরুষের চোখের পানি? ইমরানের কান্না ছিল ভয়ংকর। একটা গল্পের অন্তহীন ব্যথার প্রতিচ্ছবি। ওর ভালোবাসার গল্পটা কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়; বরং বলা যায়, সিনেমার থেকেও গভীর, আরও নাটকীয়। ইমরান তার নিজের গল্পের সবচেয়ে অসহায় চরিত্র। একদিকে প্রেম, অন্যদিকে কর্তব্যের শেকল।

ভাবতে অবাক লাগে, সব বাবারাই কি সন্তানের হৃদয়ের ভাষা বোঝে না? নাকি আমাদের ভাগ্যই এমন নিষ্ঠুর! তবে আমি সৌভাগ্যবান, অন্তত আমার পাশে মা আছেন। কিন্তু ইমরান? ওর পাশে কেউ নেই।

একটা পুরনো ঝগড়ার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানের জীবনটাই নষ্ট করে দিতে পারে? রুবাইয়ের ভুল বোঝাটা অমূলক ছিল না, কিন্তু এতগুলো বছর ধরে জমে থাকা রাগ আজ মনে হচ্ছে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। কিছু গল্প কখনোই শেষ হয় না, কেবল অসমাপ্ত পৃষ্ঠায় জমে থাকে এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে।

সেদিন ইমরান আর রুবাই পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু বাবার চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি। মা না থাকলেও বাবা ওকে বড় করেছেন, আর সেই বাবার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল ওর হৃদয়ে এক ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল হারানোর ভয়। ও রুবাইকে ছেড়েছে ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসাকে?

ভালোবাসা কি কখনো ফেলে আসা যায়? ইমরান চেষ্টা করেছে, নিজেকে বুঝিয়েছে, এমনকি রুবাইয়ের মনে ঘৃণা গেঁথে দিতেও চেয়েছে। কিন্তু ভালোবাসা কি মিথ্যা অভিমানের দেয়ালে বন্দি থাকে? কিছু মানুষ সত্যিই অসহায়, কিছু সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি মুছে যায় না।

আজ, এতদিন পর ওদের রাগ মিটে গেছে। তবে কখনো কখনো মনে হয়, হয়তো না মিটলেই ভালো ছিল। অমীমাংসিত থেকে গেলে হয়তো ওরা নতুন স্বপ্ন দেখতে পারত না, কিন্তু তবু সেই স্বপ্নের আড়ালে একসঙ্গে থাকার সম্ভাবনা থাকত যা এখন আর নেই।

আকাশের মেঘদের সঙ্গে ভাবনাগুলো উড়িয়ে দেওয়া যেন এক অন্যরকম ভালো লাগা। একাকিত্বের মাঝেও আছে এক অপূর্ব প্রাপ্তি, এক গোপন আনন্দ। তবে আমার নিঃসঙ্গতার মধ্যে এখন একজন বিনা অনুমতিতে বারবার প্রবেশের অধিকার পেয়ে গেছে, সে মেঘ।

আমি যখনই একা থাকি, তখনই কোথা থেকে যেন সে এসে হাজির হয়। আজও তাই হলো। রাত গভীর, আকাশ জোৎস্নায় ভাসছে, আর আমি সেই আলোর নীচে দাঁড়িয়ে চুপচাপ আকাশ দেখছিলাম। ঠিক তখনই মেঘ এসে প্রশ্ন করল,

"তোমার ভয় লাগে না? মাঝরাতে এভাবে একা আকাশ দেখো?"

তার আচমকা প্রশ্নে আজ আর একটুও ভয় লাগল না। বরং চোখ আটকে গেল ওর মুখের দিকে কী এক অদ্ভুত মায়াবী সৌন্দর্য! জোৎস্নার আলো যেন ওর চোখে নরম রুপোলি বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ছে। আমি শান্ত চোখে তাকিয়ে বললাম,

"আকাশ দেখতে কিসের ভয়! বরং বলো, তোমার ভয় লাগে না? এই গভীর রাতে ঘুরে বেড়াতে?"

মেঘ হেসে আমার পাশে বসে বলল,

"আমি তো এমন রাতেই বেশি ঘুরি। কিন্তু বলো তো, আকাশে কি এমন অপলক চেয়ে থাকো?"

আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললাম,

"ঐ যে ছোট ছোট গুঁড়ো মেঘ দেখছো? কীভাবে ওরা চাঁদকে ঢেকে ফেলবে, আবার মুহূর্তের মধ্যে চাঁদ তার আলো ছড়িয়ে দেবে‌। এই লুকোচুরি খেলা আমি দেখতে থাকি। ঠিক মায়ার মতো, কখনও কাছে টানে, কখনও হারিয়ে যায়।"

আমার কথায় মেঘ নীরব হয়ে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হেসে বলল,

"তোমার এই এত সাহিত্যের ভাষা কোথায় পাওয়া যায়?"

আমি মৃদু হাসলাম,

"জানি না!"

মেঘ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বলল,

"তোমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ছিল। আজ যা ঘটেছে, তুমি না থাকলে কিছুই সম্ভব হতো না। বিশেষ করে এতদিনের লুকোনো রহস্যটা বের করতে পারা।"

আমি হাসলাম,

"আমি তো কিছু করিনি, শুধু পথ দেখিয়েছি মাত্র। বরং তোমাদের ছাড়া সবকিছুই অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে তোমাকে ধন্যবাদ। তুমি না থাকলে সবকিছু হয়তো ভুল দিকে চলে যেত।"

মেঘ আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, কিন্তু তার চোখের গভীরে এক অদ্ভুত আবেগ খেলা করছিল। "ঠিক আছে বুঝেছি। আমার ধন্যবাদ আমি রাখলাম, তোমার ধন্যবাদ তুমি রাখো।"

আমি ওর কথায় না হেসে পারলাম না। আমি হাসি থামিয়ে মেঘকে বললাম, "ভাবতেই কি অবাক লাগে তাই না! ইমরানের বাবা নিজের ছেলের সব জানার পর ও, রুবাইয়ের থেকে আলাদা করতে ব্লাকমেইল করেছে তাও ওর মায়ের ইমোশন নিয়ে। " হতে

মেঘ বললো, "হুম আমার ও অবাক লেগেছিলো কিন্তু সত্যি জানার পর কি করা উচিত বুঝতেই পারি নি ।"

"কিন্তু ওর মাকে নিয়ে বিষয়টা বুঝলাম না।"

মেঘ আকাশের দিকে তাকিয়ে গভীর ভাবনায় ডুবে ছিল। বাতাসের ছোঁয়ায় তার চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সে যেন সেইসব অদৃশ্য অতীতের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল যেখানে ইমরানের গল্প বাস করে। মেঘ আকাশের দিকে তাকিয়েই বললো, "অনেক আগে থেকেই রুবাইয়ের বাবা আর ইমরানের বাবা খুব ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু ইমরানের মা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে কিছু একটা নিয়ে তাদের মাঝে ঝামেলার শুরু হয়। ইমরানের মা যখন চলে যায় তখন ইমরান খুব ছোট ছিল। তার বাবাও হয়তো বুঝতে পারেননি কীভাবে সামলাবেন পরিস্থিতি। তাই তিনি আবার বিয়ে করেন, ভেবেছিলেন হয়তো নতুন সম্পর্ক নতুন সূর্যোদয় এনে দেবে। কিন্তু তা হয়নি... ইমরান কখনোই নতুন মাকে মেনে নিতে পারেনি, আর তার নতুন মা-ও পারেননি ওকে আপন করে নিতে। এই জন্য ইমরান সবার থেকে দূরে থাকতে শুরু করে। ইমরান যখন ১১/১২ বছরেই ছিল তখন ও মানসিক ভাবে খুব অসুস্থ হয়ে যায়। কারো সঙ্গে কথা বলতো না, খেলতো না, স্কুল থেকে রোজ অভিযোগ আসতো ওর নামে। এভাবে অনেক দিন যাওয়ার পর আমার দাদি ইমরানকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসে। তারপর ইমরানের বাবা অনেক ঝামেলা করেই ওকে আবার নিয়ে যায়। আমার বাবা বলেছিলেন যদি আমিনুল আংকেল ইমরানের ঠিক ঠাক যত্ন না নিতে পারে তাহলে কেস করে হলেও ইমরানকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসবে। এরপর থেকেই আমিনুল আংকেল ওকে সময় দিতে থাকে। কি কারণে জানিনা, কিন্তু এর ১বছরের মাঝেই ওর বাবার ২য় স্ত্রীর সাথে তালাক হয়ে যায়। এরপর বাবা ছেলে আবার একা। এখন ওর বাবাই বা কি করবে বলো, ওর বাবার ইমরান ছাড়া কেউ নেই। আমিনুল আংকেল ইমরানকে নিয়ে একটু বেশি সেনসেটিভ। বাবারা স্বার্থপর নয় স্বার্থত্যাগি হয়।"

আমি সব মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। মেঘের শেষ লাইনটা শুনেই নিজের অজান্তে বলে উঠলাম, "সব বাবারা নয়। কিছু বাবা তো নিজের স্বার্থের জন্য তার সন্তানের শৈশব, হাসিমুখ, ভালো থাকা সব নিয়ে যায়।"

মেঘ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, "রুশা, সবার কাছে নিজের কারন থাকে। কেউই স্বার্থপর না। তবে আমরা সবাই একটা বিশেষ জায়গায় স্বার্থপর। আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। কেউ ভালো থাকার জন্য ভুল রাস্তায় চলে যায় আবার কেউ সঠিক রাস্তায়। যে ভুলের দিকে যায় তাকে আমরা স্বার্থপর বলি আর যে সঠিক রাস্তায় যায় তাকে আমরা ভালো মানুষ বলি। তারা সত্যিকারে ভুল না, তবে হয়তো ঐ সময়টা ভুল আর ঐ একটা পদক্ষেপ হয়তো ভুল। বিচার করতে গেলে নিজের মতো করে নয়, সকলের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে বিচার করতে হয়। সব গল্পের না শুরু একরকম হয় আর না শেষ।"

মেঘের কথা গুলো আমি গভীর ভাবে শুনছিলাম। মেঘের কথার শেষে মেঘ বেশ অনেকটা সময় চুপ থেকে আবার বললো, "জীবনটা খুব ছোট আর ভুল, ঘৃণা, অভিযোগ শব্দ গুলো খুব ভারী। ছোট জীবনে এগুলো নিয়ে সময় কাটানো বেমানান।"

আমি মেঘের চোখে দিকে অসহায় নজরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "তবে কি সব পাপ মাফ?"

মেঘ একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো, "কোনো পাপই মাফ হয় না। আল্লাহর হিসাবে সব তোলা থাকে। আর আমারা দৌড়াতে থাকি জীবন ভর কোনো এক ঘুমন্ত যুগের অজানা কারোর ভুলের পিছে।“

মেঘ কথা গুলোর শেষে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাঁড়িয়ে বললো, "জানো রুশা, আল্লাহ সব ভুল মাফ করে দেন কিন্তু আমরা মানুষেরাই মাফ করি না।

তারাতাড়ি ঘুমিয়ে যেও।"

মেঘের কণ্ঠ যেন কোনো পুরোনো ব্যথাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। বাতাসে একধরনের ভারী নিস্তব্ধতা নেমে এলো। আমি বুঝতে পারছিলাম, এই কথাগুলো শুধু ইমরানের জন্য নয়, আমার জন্যও ছিল।

কখনো কখনো, সত্য উপলব্ধি করতে একটা গল্পের দরকার হয়।

তারপর নিঃশব্দে একটা নিস্পাপ হাসি ছুঁড়ে চলে গেল। আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে ওর চলে যাওয়া দেখলাম। মেঘের প্রতিটি কথা যেন হৃদয়ের গহীনে এসে আঘাত করল। কত সহজে সব বুঝিয়ে দিলো! সে না আমার কষ্ট জানে, না ঘটনাগুলো; তবুও কী আশ্চর্য, একটা অনাহুত প্রশান্তি রেখে গেলো মনে।

সত্যিই তো!

আল্লাহ মাফ করে দেন, কিন্তু আমরা পারি না।

আমার ভিতরে ভয় আর প্রাপ্তির এক অদ্ভুত লড়াই চলছে। ইমরান আর রুবাইয়ের ঘটনাটা শোনার পর থেকে বুকের ভেতর একটা দুঃস্বপ্ন আটকে আছে, মেঘকে হারানোর ভয়। আজ মনে হচ্ছে, আল্লাহর কাছে চাইবার মতো কত কিছুই আছে, কিন্তু আমি শুধু মেঘকেই চাই।

আজ সব প্রার্থনা তুচ্ছ লাগছে। মনে হচ্ছে,

মেঘ না থাকলে কিছুই নেই, মেঘ থাকলেই সব!

আমার এখনো মনে আছে। ছোটবেলায় প্রতিটি মোনাজাতে বাবাকে চাইতাম। কিন্তু একদিন মা শুনে আমাকে কঠোরভাবে বকেছিল, মেরেছিলও। আমার বাবা যে একজন খুব খারাপ মানুষ, মা সেটা খুব ভালো করে আমার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। বাবার উপর রাগতো খুব হয়ে ছিলো কিন্তু ঘৃণা করতে পারিনি এক মুহূর্তের জন্য। হয়তো আমি এতটা দুর্বল ছিলাম যে, আল্লাহ আমাকে ঘৃণা করার শক্তিই দেননি। আজ মনে হচ্ছে, রাগ করাটাও অর্থহীন! বাবা হয়তো ভালোবাসায় বাধ্য ছিল। ভালোবাসা তো এমনই, যেখানে নিজের অস্তিত্ব ভুলে অন্যের জন্য বাঁচতে হয়। এখন কিসেরই বা রাগ ১৮ বছর আগের এক মৃত ব্যক্তির উপর! তবে এটা ভুলে যাওয়া অসম্ভব যে, বাবা মায়ের সাথে অন্যায় করেছে। হয়তো এই অন্যায়ের প্রধান আসামি ঐ মহিলা। আর সব ঘটনার শেষে শাস্তির খাতায় শুধু আমার নাম।

আজ কোনো অভিযোগ নেই, তবে অভিমানের কমতি নেই। মনে হচ্ছে রোজ একটু একটু বাঁচতে শিখছি, যেটাকে বেঁচে থাকা মনে করতাম ওটা তো শুধুই বেঁচে থাকার চেষ্টা ছিল আর এখন সত্যিই নিঃশ্বাস চলছে।

আমি ২ ঘন্টা যাবত এপাশ-ওপাশ করেও চোখে ঘুম কুমারকে আনতে ব্যর্থ। তাই আবার তাঁবু থেকে বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা। আমার ঘুম না আসার কারন অনেক কিছুই হতে পারে। তবে প্রধান কারন হয়তো এই সময়টাতে আটকে থাকার চিন্তা অথবা নিজের সাথে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তবে রুবাইয়ের রাত জাগার কারন কি দেবো? ভাবছিলাম হয়তোবা রাতটাকে একা পাওয়া যাবে তবে এখানে যে এক নিশাচর থাকবে তা বুঝতে পারে নি।

আমি রুবাইয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াতেই রুবাই আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "আজকের রাতটা কি অনেক লম্বা?"

আমি ওর পাশে বসে বললাম, "বুঝতে পারছি না।"

রুবাই আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "এই রাতে একা বাইরে কি করছিস?"

আমি একটু হতাশার হাসি দিয়ে বললাম, "এই প্রশ্নটা আমার করার কথা। তুই এই রাতে কি করছিস।"

রুবাই আমার কথার উত্তরে শুধু জোর করে একটু হাসলো। আমি আর ওকে কোনো প্রশ্ন করার সাহস পেলাম না। কিছু সময় চুপ থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম, "আকাশটা কতো সুন্দর!"

রুবাইও আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো, "শুধু চাঁদ, তারা আর জ্যোৎস্না আছে তাই। অমাবস্যার আকাশটা কিন্তু ভয়ংকর হয়।"

আমি মৃদু হাসলাম, "সে যাই হোক, দিন হোক বা রাত, চাঁদ তারা থাকুক বা নাই থাকুক, মেঘ কখনো আকাশকে ছেড়ে যায় না।"

রুবাই আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "হয়তো এটাই ভালোবাসা।"

আমি ওর অপলক দৃষ্টির মানে না বুঝে প্রশ্ন করলাম, "কি করতে চাইছিস তুই?"

রুবাই যেন চোখ লুকিয়ে আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো, "সত্যিই জানিনা। বুঝতে পারছি না, কি করা উচিত আর কি করা উচিত না। জানি শুধু এটাই যে ইমরান আমাকে খুব ভালোবাসে। আর এটাও জানি, নিজের সাথে লড়াই করে কেউ কখনো জিততে পারে না। সময়টা যেন গলার কাঁটার মতো আটকে আছে। না পেছনে ফিরতে পারছি, না সামনে যেতে পারছি, না থেমে থাকতে পারছি।"

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, "কিছু কিছু সময়, সময়ের সাথে লড়াই করাটাই বোকামি। সব সিদ্ধান্ত সময়ের উপরে ছেড়ে দে। সময় তোকে দেবে আর না হলে নিয়ে যাবে।"

আমার কথায় রুবাই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "তুই কি কখনো মেঘকে কিছু বলবি না?"

আমি ওর প্রশ্নে কিছু সময় চুপ থেকে বললাম, "হয়তো না!"

রুবাই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "কেনো?"

আমি শান্ত স্বরে বললাম, "আমি ওর বন্ধুত্বের কোনো সুযোগ নিতে চাই না। আর ভালোবাসা থাক না ভালোবাসায়।"

আমার উওর যেন রুবাই একদমই মেনে নিতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো, "তুই কি চাস?"

আমি লোক দেখানো হাসি হেসে বললাম, "আমি কতটা কি চাই জানি না। তবে মেঘকে হারাতে চাই না। আমি সময়ের স্রোতে চলছি। আল্লাহ্ যেখানে থামাতে চাইবেন ঠিকই থেমে যাব।"

আমার কথার উওরে রুবাইয়ের চোখে যেন হাজার কিছু বলার। তাও সব এড়িয়ে রুবাই বললো, "ঘুম পাচ্ছে। যাই আমি। তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়িস।"

আমি চুপচাপ ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, চাঁদ ঝলমলে, কিন্তু মেঘ নেই। হয়তো সে ঠিকই ফিরে আসবে। আকাশ কখনো মেঘকে হারায় না।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন