#রুশ_রহস্য
#কলমে_সাদিয়া_তিন্তি
গল্পের ধরন: বন্ধুত্ব, প্রেম, রহস্য, গুপ্তধন, পারিবারিক ড্রামা
(বিঃদ্রঃ বিনা অনুমতিতে কপি করবেন না)
পর্ব-২৪
আজকে আমাদের বাড়ি ফেরার দিন। পাঁচটি দিন ঠিক কেমন করে কেটে গেল, আমি সত্যিই হিসেব দিতে পারবো না। আমার সত্যি যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই। মনে হচ্ছে আরও কয়েকদিন থেকে যাই। সময় এত নিষ্ঠুর কেন? এ যেন এক সজাগ প্রতারণা, আস্তে আস্তে এসে সমস্তটুকু শুষে নিয়ে উধাও হয়ে যায়, আর রেখে যায় শুধু স্মৃতি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধোঁকাবাজ মনে হচ্ছে সময়। কোথা দিয়ে এলো আর গেল তা বুঝে ওঠার আগেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
নীল পাহাড়! একটা আবেগের নাম। আমি জানি না মানুষ এখানে এসে কি শিক্ষা নেয়? কি উপভোগ করে? আর কি বা পায়? তবে আমি এখানে এসে হয়তো নিজেকে পেয়ে গেছি। সত্যিই বাঁচতে শিখে গেছি আর নয়তো বাঁচতে শেখার রাস্তায়। আমার পাওয়ার তালিকায় শীর্ষে অবশ্যই মেঘ ছাড়া কেউ নেই। আজ জোর গলায় বলতে ইচ্ছে করছে , হ্যাঁ, মেঘকে ভয়ংকর ভাবে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবোনা এমনটা না। তবে ওকে ছাড়া সত্যি বাঁচতে চাই না। আমার অস্তিত্বের গভীরে ও যেন মিশে গেছে। ওর অস্তিত্বহীনতা ভাবনাতেই কষ্ট দেয়।
আজকের রাস্তাটা কেমন ক্লান্ত। বাসে জানালার পাশের সিটে বসে রাস্তা দেখতে ও যেন মন টানছে না। মন চাইছে মেঘের পাশে গিয়ে বসে ওকে বলি তুমি শুধু কথা বলতে থাকো, আমি সারা রাস্তা শুধু তোমাকে শুনতে চাই। তবে এটা হয়তো অনেক বেশি বাড়াবাড়ি হবে।
এখানে আসাটা আশীর্বাদের মতো ছিল। সংশয়, অনিশ্চয়তা, মুক্তির স্বাদ সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। কিন্তু এখন ফিরছি একরাশ ক্লান্তি আর অনিচ্ছা নিয়ে। যেন মুক্তি হারানোর ভয় চেপে বসেছে বুকের মাঝে। তবু ফিরে যাওয়ার একমাত্র সুখ মায়ের কাছে ফেরা।
সময় সে যেমনই হোক শেষ ঠিকই হয়ে যায় আর ভালো সময় সে তো আরও তারাতাড়ি চলে যায়। এখন একটা জিনিস আমার কাছে একদম পরিষ্কার। সেটা হলো, “ভালোলাগা আর চোরাবালি মাঝে অনেকটা মিল আছে, একবার যদি কাউকে ভালো লাগতে শুরু করে তাহলে নানা ভাবে ভালোলাগা শুধু বাড়তেই থাকে আর চোরাবালিতে একবার ফেসে গেলে মানুষ শুধু ডুবতেই থাকে।”
পাঁচ দিন আগে যে জায়গায় বসে ভাবছিলাম যে রুবাই আর ইমরানের জন্য কিছু করতে হবে। আজ সেখানে বসেই ওদের পাশাপাশি দেখছি। হয়তো ভালোবাসা এমনই হয়, দূরত্ব তো শুধুই সময়। সব থেকে আচমকিত বিষয় ইমরান আর রুবাই পাশাপাশি তো বসা কিন্তু ওদের মাঝে এক সমুদ্র দূরত্ব আর এটা কমানো এতো সহজ হবে না হয়তো।
প্রতিটি মানুষকে নতুন করে আবিষ্কার করেছি এই ৫দিনে। প্রীয়তা শুধু বকবক করতেই জানে না, ও জানে কিভাবে সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হয়। রুবাই না বুঝে হাজারটা কথাই শুধু বলে না, জায়গা মতো সঠিক কাজ ও করতে জানে। রাফি তো অসাধারণ একজন, কাচের মতো স্বচ্ছ মনের মানুষ। অরুপ হতে পারে একটু রোমিও কিন্তু মন থেকে পরিষ্কার। ইমরানের থেকে একটা বিষয় শিখেছি, ভালোবাসায় ভালোবাসার মানুষ সব সময় পাশে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভালোবাসা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। আর মেঘ! রুশার নিশ্বাসের সাথে চলে।
আর মেঘ?
মেঘ তো আমার নিশ্বাসের সাথে মিশে গেছে। সে তো কেবল মানুষ নয়, সে এক অনুভূতি, এক অস্তিত্ব, যার ছায়ায় আমি নতুন করে নিজেকে চিনেছি।
বাস চলতে শুরু করেছে, জানালার বাইরে দিগন্ত ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। নীল পাহাড়ের আকাশ ক্রমশ পেছনে পড়ে যাচ্ছে, আর আমি? আমি সময়ের স্রোতে ভাসছি, পুরনো জীবনে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে কাতর...
অনেক দিন পর নিজের ঘরটাকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করলাম। চেনা শয্যা, চেনা দেয়াল, চেনা বাতাস সবকিছু আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। মা, আমার ছোট্ট সাজানো ঘর, আমার দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ সবকিছু যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই কয়টি দিন আমাকে আরও গভীরভাবে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে।
আজ একটা নতুন উপলব্ধি হলো, মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ‘গ্রহণ’। মানুষ নতুন কিছু সহজে গ্রহণ করতে চায় না। যেখানে সামান্য শান্তি পায়, সেখানেই আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। কিন্তু সময়? সময় কখনও কারও জন্য থেমে থাকে না। সময় তার নিয়মে পরিস্থিতি বদলায়, আর মানুষ বাধ্য হয়ে সে পরিবর্তন মেনে নেয়। যেমন আজ সকালে পাহাড়তলী ছাড়তে মন চায়নি, মনে হচ্ছিল আর ক’দিন যদি থেকে যেতে পারতাম! কিন্তু এখন, যখন ঘরে ফিরে এসেছি, তখন আর তেমন কিছু অনুভব করছি না। মাকে পাশে পেয়ে, নিজের পুরোনো রুটিনে ফিরতে পেরে খারাপ লাগছে না। তবে হ্যাঁ, সবাইকে খুব মনে পড়ছে। এ ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর পাঁচটি দিন।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিজের খাটে এলিয়ে পড়লাম। যেন এক বিন্দু শক্তিও অবশিষ্ট নেই। চোখ দুটো ভারী হয়ে আসছে। ঠিক তখনই মা ঘরে ঢুকল, হাতে লেবুর শরবতের গ্লাস। আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল,
“ক্লান্ত, মামণি?”
আমি হাসতে চেষ্টা করলাম, উঠে বসলাম, বললাম, “নাহ্ মা, আমি ঠিক আছি।”
মা আমার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “কাল থেকে তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। তুমি কখন আসবে!”
আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না, মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, “মা, আমারও তোমাকে খুব মনে পড়ছিল।”
মা আরও গভীর মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কাল কলেজ আছে?”
“না, তিন দিন ছুটি।”
“তারপর বলো তো, কেমন মজা করলে?”
আমি মায়ের কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলাম। সমস্ত স্মৃতি একসঙ্গে এসে ভিড় করল মনের ভেতর পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে রংবদলানো আকাশ দেখা, তাঁবুর ভেতরে শুয়ে রাতের নিঃশব্দতা শোনা, মেঘের ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো। মুগ্ধ স্বরে বললাম, “অনেক মজা করেছি, মা! জানো, তাঁবুর ভেতরে ঘুমিয়েছি প্রতিদিন...”
মা মনোযোগ দিয়ে আমার সব কথা শুনছিল। হঠাৎ যেন অপ্রস্তুতভাবে প্রশ্ন করল, “আমিনুল স্যারও গিয়েছিলেন?”
আমি কিছুটা অবাক হলাম, “না তো! তুমি স্যারকে চিনো?”
মা একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল, “আমার অফিসের এক কলিগ উনার কথা বলছিলেন, উনি নাকি খুব রাগী। তাই জানতে চাইলাম।”
আমি হেসে বললাম, “না, উনি যাননি। তবে উনার ছেলে আমাদের সাথেই পড়ে ইমরান। ও গিয়েছিল।”
মা এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল, “ওহ্! সে কি তোমার বন্ধু?”
মায়ের প্রশ্ন শুনে নিজের ওপর রাগ হলো! উফ্, আমি এত বেশি কথা বলি কেন! মা তো শুধু স্যারের কথা জানতে চেয়েছিল, আমি কেন ইমরানের কথা টেনে আনলাম? এখন মা আবার পুরোনো সেই জ্ঞান দেওয়া শুরু করবে, নিশ্চয়ই বন্ধুত্ব আর সম্পর্ক নিয়ে নানান উপদেশ শুনতে হবে।
কথা এড়ানোর জন্য দ্রুত বললাম, “আমার কোনো বন্ধু নেই, মা। সফরে গিয়ে যা একটু কথা হয়েছে, এই যা।”
মা আমার কথা শুনেছে কি না, জানি না। তবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আমার মাথা কোল থেকে সরিয়ে বালিশে রেখে উঠে দাঁড়াল। নরম স্বরে বলল, “অনেক রাত হয়েছে। তুমি অনেক জার্নি করেছো, গোসল সেরে নাও, আমি খাবার দিচ্ছি।”
আমি মৃদু হাসলাম, “ঠিক আছে মা। আগে জামাগুলো বের করি।”
মা কিছু না বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল, আর আমি তাকিয়ে রইলাম জানালার বাইরে। অন্ধকার নেমেছে, বাতাসে এখনো যেন পাহাড়ের সেই শীতলতা লেগে আছে। আমার শরীর ঘরে ফিরেছে, কিন্তু মন? মন কি এখনো পাহাড়ের মেঘেদের সঙ্গে খেলছে?
আজকের দিনটা যেন কোনো ক্যালেন্ডারের পাতাতেই পড়ে না। সফরের সমস্ত ক্লান্তি দুপুরের গভীর ঘুমে যেন গলে গলে পড়েছে। সেই দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যাও ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি। এখন? সারারাত মাছি মারতে হবে! কারণ, কলেজ তো তিন দিন বন্ধ!
উফ্! তিন দিন? এত লম্বা সময়! কলেজ বন্ধ রাখার কি আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল? আল্লাহই ভালো জানেন! ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কী করব বাসায়? গরুর ঘাস কাটব নাকি? সবচেয়ে খারাপ লাগছে, মেঘের সাথেও তো দেখা হবে না...
কাল ১০ তারিখ। মানে, আমার জন্মদিন। মা কি ভুলে গেছে? যাকগে, ভুললেও কোনো সমস্যা নেই। আমার জন্মদিন তো আমার জন্যই হাস্যকর।
আমি তো অনেক ক্লান্ত আমার আরো ঘুমানো দরকার তবে আমার ঘুম আসছে না কেনো? সত্যিই এতো দিনের ঘুমের সময়টাও অনেক ভালো গেছে। আমি, প্রীয়তা আর রুবাই অনেক অনেক গল্প। আবার কবে যে কোথাও সফরে যাব একসাথে!…….
ভাবনার ভেলায় ভাসতে ভাসতেই হঠাৎ…
একটা অদ্ভুত শব্দ!
বেলকনি থেকেই এসেছে। আমি শুয়ে শুয়ে কান খাড়া করলাম। না, ভুল শুনিনি। এবার উঠে বসলাম, বেলকনির দিকে তাকাতেই দেখি…
একটা ছায়া নড়ছে!
আমার বুক কেঁপে উঠল। চোর? আল্লাহ! না কি ডাকাত! চিৎকার করব? নাকি দরজা খুলে দৌড় দেব?
গলা শুকিয়ে আসছে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। কিন্তু মাথাটা ঠিক রাখতে হবে। আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলাম না, পালালে চলবে না! প্রতিরোধ করতে হবে!
ফুলের টপটা হাতে নিলাম। রূমে ঢোকার মাএ মাথায় জোরে লাগাবো।
তবে ফুলের টপ হাতে নিতেই এর ওজনে মাথায় এলো, যদি চোর মারা যায়? ধুর! চোর মারলে কিছু হবে না। থাক আস্তেই মারতে হবে, শুধু অজ্ঞান।
নিজেকে খুব গালি দিতে মন চাইছে। কেনো যে বারান্দার দরজা খুলে ঘুমিয়েছি আল্লাহ্!
দরজার পর্দা সরতেই চোখ বন্ধ করে ফুলের টপটা সজোরে মারতে যাব…
কিন্তু ঠিক তখনই, কেউ আমার হাত ধরে ফেলল! শক্ত একটা হাত, আমার হাতের গতিকে থামিয়ে দিল।
খুব পরিচিত এক শীতল কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে বলল, “রুশা, আস্তে! আমি মেঘ!”
আমি যেন কিছুক্ষণ দমবন্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
আমি মেঘের কথা শুনে বড় বড় করে তাকিয়ে অবাকের চরম পর্যায়ে গিয়ে বললাম, "মেঘ!! এতো রাতে তুমি!! আমি খুবই সরি! তোমার লাগেনি তো? আমি চোর ভেবেছিলাম।"
মেঘ কিছু বলার আগেই, পেছন থেকে রুবাই ফিক করে হেসে উঠল, “বাহ্ ভাই বাহ্! এত সুন্দর ছেলেটাকে চোর ভেবে নিলি?”
আমি এবার দ্বিগুণ অবাক! "রুবাই! তুইও?"
রুবাই আমার এই নাজেহাল অবস্থা দেখে হেসে বললো, "জ্বি ম্যাডাম, শুধু আমি আর মেঘ নয় সবাই এসেছে।"
"এতো রাতে! কিন্তু কেনো?"
মেঘ আমার রুমের চারদিকে ভালো করে তাকিয়ে বললো, "কেনো এর উওর পরে বলছি। তুমি আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও, তুমি বারান্দার দরজা এতো রাতে খুলে কেনো রাখো? খুব সহজেই চোর ডাকাত ঢুকতে পারে।"
আমি একটু লজ্জা পেয়ে বললাম, "আমার ঘুম আসছিলো না তাই বারান্দায় ছিলাম। তারপর আর দরজা আটকাতে মনে নেই।"
মেঘ ধীর গলায় বলল, “সাবধান হওয়া উচিত তোমার!"সাবধান হওয়া উচিত তোমার।"
রুবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো, "আরে তোরা পরে এগুলো নিয়ে কথা বলিস। রাত ১ টা বেজে গেছে, রুশাকে আবার ৩টার ভেতর ফিরে আসতে হবে।"
আমি হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আমি! কিন্তু আমি কোথায় যাব?”
মেঘ মুচকি হেসে বলল, “আমাদের সঙ্গে।“
“কোথায়?”
মেঘ রহস্যময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “যাওয়ার পর জানতে পারবে!”
আমি খুব পরিষ্কার বুঝতে পারছি এখন ওদেরকে কোনো প্রশ্ন করা মানে বোকামি। মেঘ আর রুবাইয়ের চোখে এক ধরনের রহস্যময় উচ্ছ্বাস খেলা করছে, যা আমাকে আরও বিভ্রান্ত করে তুলছে।আ আমার ঘরে ড্রিম লাইটের মৃদু আলো জ্বলছে, বাইরের জোৎস্নার শুভ্র আভা জানালা পেরিয়ে রুমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রুবাইয়ের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটে পুরো দৃশ্যটা যেন কোনো সিনেমার শুরুর দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছে।
আমি এ দুজনের সামনে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছি, কিছুটা হতভম্ব হয়ে। হঠাৎ নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি বিড়ালওয়ালা টিশার্ট আর ট্রাউজার!
উফ্! বাড়িতে এর থেকে ভালো কিছু পরা যেত না?
আমাকে নিজের দিকে এভাবে তাকাতে দেখে মেঘ আর রুবাইও একবার করে তাকিয়ে হয়তো বোঝার চেষ্টা করলো আমি কি দেখেছি।
ওরা কিছু বলার আগেই তড়িঘড়ি করে আমি কৃত্রিম হাসি দিয়ে বললাম,, "আচ্ছা আমি জামাটা বদলে আসি।"
মেঘ এক মুহূর্ত আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল, “কোনো প্রয়োজন নেই। তোমাকে এভাবেই সুন্দর লাগছে।“
মেঘের কথার সাথে সাথেই রুবাই আমার দিকে ভ্রূঁ কুঁচকে তাকিয়ে বললো, "তোকে বিয়ে খাওয়াতেও নিচ্ছি না। আর বিয়ে করাতেও নিচ্ছি না যে তুই বিবি সাহেবা সেজে যাবি। তারাতাড়ি চল না হলে উঠিয়ে নিয়ে যাবো।"
আমি চোখ বড় বড় করে বললাম, "আল্লাহ্! ডাকাতের থেকে তোরা ভয়ঙ্কর।"
রুবাই হেসে বললো, "হ্যাঁ আমরা ইন্টারন্যাশনাল মাফিয়া, খুশি? চল এখন।"
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুঝলাম, এদের যুক্তির জালে আটকে লাভ নেই। বাধ্য হয়েই নিচে নামলাম, কিন্তু সেখানে এসে যা দেখলাম, তা আমাকে আরও বড় শকে ফেলে দিল! শুধু রুবাই আর প্রীয়তা নয় সবাই এসেছে!
এত রাতে! আমার জন্য!
আমি হতবাক হয়ে চারপাশে তাকালাম। মনে হলো যেন আমি এখনো ঠিক জেগে নেই, স্বপ্ন দেখছি! ক্লান্ত শরীর, বিভ্রান্ত মন কিছুই বোঝার চেষ্টা করতে চাইল না।
প্রীয়তা আমাদের দেখেই জিজ্ঞেস করলো, "তোদের এতো দেরি কেনো?"
অরুপ হাসতে হাসতে বললো, "আমি তো ভেবেছিলাম রুশার মা তোদের চোর ভেবে পেটাচ্ছে।"
প্রীয়তা চোখ সরু করে বলল, “এমন কিছু বলো, যেটা শুনে সত্যিই সবাই হাসবে!”
অরূপ ভ্রূ কুঁচকে তাকিয়ে বলল, “তোমার হাসি না পেলেই কি করব! রুশা ঠিকই হেসেছে!”
আমি সত্যিই হেসেছিলাম। কারণ, এই রাতের রহস্য আর বন্ধুদের অদ্ভুত আচরণ মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটাই এত অবাক, আনন্দময় আর অজানা উত্তেজনায় ভরা, যে আমি কিছু বুঝতে না পারলেও হাসি চাপতে পারিনি!
কিন্তু প্রশ্ন এখনো মাথায় ঘুরছে, আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
চলবে......