ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

২য় পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

২.

রুবাই রুশার হাত ধরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল। পুরোনো সিঁড়ি, ধাপে ধাপে পিতলের রেলিং। রুবাই হাঁটতে হাঁটতেই বলল, "রুশা, জানিস দাদিআম্মা তোকে কেন এতো সহজে গ্রহণ করেছেন?"

রুশা মাথা নেড়ে না বোঝায়। রুবাই বলল, "দাদিআম্মা মনে করেন ছোটকাকা আর ছোটকাকির মৃত্যুর পিছে তিনি দায়ি। দাদাআব্বুর শেষ কথা এটা ছিল যে, তার মা মরা ছেলেটাকে যেন দেখে রাখেন দাদিআম্মা। কিন্তু তিনি কখনোই সৎ ছেলেকে আপন করে নিতে পারেননি। তবে তাদের মৃত্যুটাও তিনি মেনে নিতে পারেননি। তখন থেকেই তিনি তাদের মেয়ে মানে তুই, বলতেই দূর্বল। তোকে বারবার খোঁজার চেষ্টা করতে অনেক কিছু করেছেন তিনি।"

রুশা একটা ছোট শ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলো, "তুই এতো সব জানলি কিভাবে?"

রুবাই হেসে বলল, "মা বলেছেন।”

করিডোর পেরিয়ে শেষ প্রান্তে এসে রুবাই থামল। একজন কাজের লোক ভারী কাঠের দরজাটা খুলে দিল। কক্ষের পরিপাট্য দেখে রুশা দরজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই আবারো স্তব্ধ হয়ে গেল। কক্ষটা বিশাল বড়। রুশার মনে হল এটা প্রায় ছোট একটা ফ্ল্যাটের সমান। এখানেও উঁচু ছাদে ঝুলছে কাচের তৈরি পুরোনো ঝাড়বাতি। জানালা জুড়ে ঝোলানো হালকা নীল রঙের গায়ে সোনালি নকশায় গাঁথা মোটা রেশমি পর্দা। মেঝেতে বিছানো নরম কার্পেট। ঘরের মাঝখানে বিশাল একটা খাট, খাঁটি সেগুন কাঠের বোধহয়, তাতে পুরোনো ধাঁচের কারুকার্য খোদাই করা। বিছানায় চাদর-কম্বল সবই সাদা রঙের, তার গায়ে সোনালি সূচিকর্ম। খাটের একপাশে ড্রেসিং টেবিল, বড় আয়নার চারপাশে খচিত ফুলের নকশা। টেবিলের ওপরে সযত্নে রাখা রয়েছে ব্রাশ, চিরুনিসহ প্রয়োজনীয় নানা কিছু, সাথে কাচের বোতলে নানা সুগন্ধি। রুশা সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। জানালার কোনায় কাঁচের জারে রাখা সাদা সাদা কোন এক ফুল। রুবাই বিছানায় বসে চুপটি করে শুধু দেখতে থাকলো রুশাকে। রুশা ফুল গুলোকে আলতো ছুঁতেই রুবাই বলল, “এটা কুর্চি ফুল। পিছের পাহাড়েই হয়। প্রচন্ড সুগন্ধ। এ ঘরটা অনেকদিন বন্ধ ছিল, রুম ফ্রেশনার যদি কাজ না করে তাই এই ফুলের ব্যবস্থা।”

রুশার মনের আকাশের ভার না কমলেও, ফুলের শুদ্ধতা সে খুব অনায়াসে গ্রহণ করলো। রুবাই রুশাকে আবার বলল, “আলমারিটাও খুলে দেখ একটু।”

রুশা কিছু না ভেবে, কয়েক কদম এগিয়ে একপাশে রাখা বিশাল আলমারিটা টেনে খুলল, খুলতেই তার চোখ ধাঁধিয়ে উঠলো। নানা রঙ-বেরঙের পোশাক সারি সারি সাজানো। পাশেই আলাদা তাক ভরা অলংকারের বাক্স, জুতার তাক, ব্যাগ‌। মেয়েদের যা যা প্রয়োজন, তার সবই এখানে আগে থেকে রাখা হয়েছে। রুবাই মুচকি হেসে বলল, “দেখলি তো, সব প্রস্তুত। দাদিআম্মা নিজের হাতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন ছোট বিবির ঘরে কোনো কিছুর অভাব না থাকে।”

রুশা নির্বাক চোখে তাকিয়ে রইল শুধু। তার অনুভূতি সে নিজেই ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সব হারা মানুষের মন কি আদৌতেও গলে এসব ভারি আড়ম্বরে?

এই এতো গোছালো আলমারিটাও বেশি সময় রুশাকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হল। সে আলমারিটা বন্ধ করে রুবাইয়ের পাশে গিয়ে বসে পড়লো। রুশা ক্লান্ত নয়, তবে তার অনুভূতি সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। বিষাদ যেন ঘর বাঁধবে বলে চেপে ধরেই রেখেছে তাকে। সে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো। বেশ কিছু সময় পর রুবাইয়ের দিকে তাকিয়ে ধীরে জিজ্ঞেস করল, “আমাকে সবাই ছোট বিবি কেন বলছে? ছোট রাজকুমারীই বা কেন?”

রুশার প্রশ্নটা রুবাইয়ের খুব হাস্যকর লাগলো। সে খিলখিল করে হেসে উঠে বলল, “আরে গাধী, তুই আসলেই তো ছোট রাজকুমারী। তোর থেকে আমি মাসখানেকের বড়। ধর সর্বোচ্চ নয়-দশ মাস হবে। তাই সবাই আমাকে বড় বিবি বলে ডাকে, আর তুই এই বাড়ির সবচেয়ে ছোট মেয়ে, তাই তুই ছোট বিবি। এ বাড়িতে নাম ধরে ডাকার চল নেই, সবাই এভাবেই ডাকে। মুরুব্বিরাই শুধু নাম ধরে ডাকে আর কি। শুরুতে আমিও মানতে পারতাম না। মনে হতো কি সব বাড়াবাড়ি। দুনিয়া এগিয়ে গেছে চাঁদে আর এনারা সেই জমিদারি পরম্পরায়। কিন্তু এখন এসব স্বাভাবিক লাগে। তোরও অভ্যাস হয়ে যাবে।”

রুশা কপাল কুঁচকে ধীরে বলল, “আরেকটা কথা, সবাই আমার বাবাকে শাহ্জিন বলছিল। এটা কি তার ডাকনাম?”

রুবাই মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ, সেটা-ই আমি জানি। আমি তো বরাবরই শাহ্জিন নামেই চিনতাম ছোটকাকাকে।”

রুশা আর কোন প্রশ্ন করলো না। সে যেন তার ভাগ্যের পরিহাসে থমকে আছে। নিজের জন্মের কুড়ি বছর পর নিজের বাবা মাকে চিনছে। তাদের নাম জানছে। এর থেকে জঘন্য দূর্ভাগ্য কি আর কিছু হতে পারে?

বাইরের বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকক্ষন। সারাদিন ঝুম বৃষ্টির পর বিকেলের আলোও বেশ ভিজে উঠছে রুপমহলের বারান্দায়। রুশা খাট থেকে নেমে জানালাটা খুলে দিতেই আরেকবার ধাক্কা খেলো যেন। যতোদূর চোখ যায় সবটাই সারি সারি পাহাড়ের মিলনমেলা। পাহাড় প্রেমী রুশা অনুভূতিহীন তাকিয়ে রইল। এ জানালায় অপলক তাকিয়ে যেন যুগান্তর পারি দেয়া যায়। সানন্দাপুর এতো সুন্দর কেন?

রুবাই শুধু চেয়ে দেখছে রুশার এই নতুন পরিবেশে পরিচিত হয়ে ওঠার চেষ্টাটা। প্রিয় বান্ধবী থেকে নিজের আপন চাচাতো বোন হয়ে হয়ে ওঠার জার্নিটা খুব ছোট হলেও রুবাইয়ের রুশার প্রতি দূর্বলতা শত গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। রুবাই শান্ত কিন্তু গত কয়েকদিনের ঘটনা চক্র তাকে যে আঘাত করেনি এমনটা নয়। মাত্র একটা রাতের একটা রহস্যের উন্মোচনে, বদলে গেছে অনেক কিছু। সম্পর্কের নাম, পরিচয় এমন কি অস্তিত্বও। রুবাইয়ের ভাবনায় চির ধরিয়ে জোরে তার ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো প্রীয়তার নাম। রুবাই নিজের মাথায় হাত দিয়ে বলল, “প্রীয়তা কল করছে! এই ঝাই ঝামেলার মাঝে এই বেচারির কথা তো আমি ভুলেই বসে ছিলাম!”

রুশা এবার জানালা ছেড়ে ফিরে তাকিয়ে বলল, “আগে ওর ফোনটা তো রিসিভ কর।”

রুবাই কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রাগান্বিত কণ্ঠে প্রীয়তা বলল, “বেইমান মহিলা। তোকে কতবার ফোন করছি গতকাল থেকে। রুশার ফোনেও পাচ্ছি না। তোরা বাসায় না?”

রুবাই হেসে বলল, “প্রীয় টেনশন করিস না। আমি রুশা দুজনেই ভালো আছি। রুশা এখন সুস্থ। আমার সামনেই গট গট করে হেঁটে বেড়াচ্ছে।”

প্রীয়তা একটু চেঁচিয়ে বলল, “হয়েছে আর তামাশা করিও না। তুমি কেমন আছো সেটা জানার জন্য ফোন করিনি। আমি তোমার বাড়ির বাইরের গেটে দাঁড়ানো। দারোয়ান ঢুকতে দিচ্ছে না। তাড়াতাড়ি এসে নিয়ে যাও আমাকে।”

রুবাই অবাক হয়ে বলল, “তুই আমাদের বাড়ির গেটে? এড্রেস কোথায় পেলি?”

প্রীয়তা বিরক্ত হয়ে বলল, “তোর এখনি জানতে হবে এগুলো? তাড়াতাড়ি এসে নিয়ে যা আমাকে।”

রুবাই হেসে বিছানা ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লো, “আরে রাগিস না। আমি আসছি তোকে নিতে। দুই মিনিট দে।”

রুবাই ফোন কেটে অধির আনন্দে বলল, “প্রীয়তা এসেছে! গেটে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওকে নিয়ে আসি। তুই ফ্রেশ হয়ে নে, ঠিক আছে।”

এই বলে রুবাই খুশিতে লাফিয়ে উঠে হাওয়ার বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। রুশা একা পড়ে রইলো এই বিশাল কক্ষে। রুবাই দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। সদর দরজার ফটক পর্যন্ত পৌঁছাতেই ভেসে এলো প্রীয়তার কণ্ঠস্বর, “এই যে বলছি, আমি তো ভেতরে যাবই! আমার বান্ধবী ভেতরে আছে, আমি কেন ঢুকতে পারব না? আপনারা কে যে আমাকে বাঁধা দেন?”

দারোয়ান দু’জন হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মুখ গম্ভীর। তাদের একজন বলল, “মাফ করবেন মেমসাহেব, বড় সাহেবের অনুমতি ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।”

প্রীয়তা আরও রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েন না! বাড়িতে যেন খাজানা লুকানো আছে আর আমি হলাম চোর, যে খাজানা নিয়ে পালিয়ে যাবো। আপনি এতো সুন্দরী চোর কখনো দেখেছেন হ্যাঁ?"

রুবাই এসব শুনে দৌড়ে পৌঁছে গেল বাইরের দরজায়। তাড়াতাড়ি করে বলল, “আরে, আরে, থাম তো প্রীয়! আর থামেন আপনারা। দু'মিনিটেই যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন।”

প্রীয়তা রুবাইকে দেখে মুখ বাঁকিয়ে বলল, “তুই এতক্ষণে এলি! আমি তো ভাবছিলাম এরা আমাকে একেবারে চোর বলে দন্ড ঘোষণা করে দিবে।”

রুবাই মৃদু হেসে দারোয়ানদের দিকে ফিরে বলল, “শোনেন, এ আমার বান্ধবী। প্রীয়তা। আজ থেকে যখনই এ বাড়িতে আসবে, আপনারা ওকে কোনো বাধা দেবেন না। স্পষ্ট বলছি, ওকে দেখলেই ভেতরে ঢুকতে দেবেন, ঠিক আছে।”

দারোয়ানরা দুজনেই মাথা নিচু করে একসাথে বলল, “জি, বড় বিবি।”

রুবাই একটা মৃদু হাসি দিয়ে প্রীয়তার দিকে ফিরে প্রীয়তার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,, “চল, ভেতরে চল। তুই ঢুকতে না পেরে এখানেই ছোটখাটো মহাযুদ্ধ শুরু করে দিলি। আমি তো বলেইছিলাম আসছি। একটু দেরি সহ্য হলো না তোর!”

প্রীয়তা মুখ ভেংচি কেটে বলল, "তোর এতো দেরি হচ্ছিল বলেই তো এতো ঝামেলা। বাড়িতে যেন গুপ্তধন লুকানো যে এতো কড়া পাহারা। আমার তো মন চাইছে তোর বাড়ির গুপ্তধন নিয়ে দৌড়ে পালাই। এতে মনে পৌশাচিক শান্তি মিলবে।"

রুবাই হেসে বলল, "নে তবে আমায় কোলে তুলে দৌড় দে।"

প্রীয়তা রুবাইয়ের কথার জবাবে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার মুখের সকল শব্দরা যেন থমকে দাঁড়ায়। রুবাইদের এই প্রাসাদ সমতুল্য মহল যেন অপ্রত্যাশিত। প্রীয়তার কদম আটকে যায়। সে মন্ত্রমুগ্ধের মত রুপমহলটাকে দেখতে থাকে। প্রীয়তার এমন বিষ্ময়কর অবস্থা দেখে রুবাই হেসে বলল, “চোখ কপালে উঠছে কেন তোর?"

প্রীয়তা একটু ঢোঁক গিলে বলল, "রুবাই তোকে তো আমি আমার মতো ফকিন্নি মনে করেছিলাম। তুই শেষ পর্যন্ত রাজকুমারী বের হলি?"

প্রীয়তার কথায় রুবাই জোরে হেসে উঠে বলল, "এটায় আমার কোন দোষ নেই। আমি তোদের আগেই বলেছিলাম, যে আমার বাবা এখানকার ছোট মোটা একটা জমিদার। এখন আর সেই আভিজাত্য কোথায় বল! এই মহলটাই আছে, আর সামান্য কিছু পরম্পরা আছে, আর কিবা আছে! তাছাড়া তোর টাসকি খাবার সময় এখনো আসেনি, ভেতরে ঢুকলে বুঝবি।”

প্রীয়তা আর কোন কথা বাড়ালো না। চুপচাপ রুবাইয়ের সাথে সদর দরজা পেরিয়ে মহলের ভেতরে পা রাখতেই চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। চারপাশে পাথরের নকশা খোদাই, মাথার ওপরে ঝাড়বাতি, প্রশস্ত মার্বেল মেঝে সব মিলিয়ে যেন সিনেমার কোনো সেট। প্রীয়তা থমকে দাঁড়াল, “ওহ মাই গড… এ যে আসলেই রাজপ্রাসাদ!”

রুবাই শুধু হাসলো। মহলের বসার ঘরে তখন শাহরিয়ার শেখ সহ আরো বেশ কয়েকজন লোক বসে ছিলেন। রুবাই সকলকে সালাম দিয়ে তার বাবাকে বলল, “আব্বু ও প্রীয়তা আমার আর রুশার বান্ধবী। দেখা করতে এসেছে। তুমি তো ওকে হাসপাতালে দেখেছো।”

শাহরিয়ার শেখ সৌজন্য হেসে বললেন, “হ্যাঁ দেখেছি তো বোধহয়। এখানে কেন, যাও বান্ধবীকে ভেতরে নিয়ে যাও, খাতিরদারি যেন কম না হয়।”

রুবাই হেসে বলল, “সে কমতি হবে হবে না আব্বু। আমি ওকে নিয়ে যাই।”

প্রীয়তা একটু এগিয়ে শাহরিয়ার শেখ সহ উপস্থিত সকলকে সালাম দিয়ে রুবাইয়ের পিছু হাটলো।

রুবাই প্রীয়তাকে সঙ্গে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই নিচের ঘরের এক কোণ থেকে গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, “থামো রুবাইয়্যাত।”

রুবাই থেমে দাঁড়ালো।রুপমনি বেগম গম্ভির এক কড়া দৃষ্টি নিয়ে ধীরে এগিয়ে এলেন। প্রীয়তাকে তিনি খুব নিখুঁত ভাবে দেখে প্রশ্ন করলেন, “এ মেয়ে কে?"

রুবাই বলল, "আমার বান্ধবী প্রীয়তা। রুশা অসুস্থ তাই দেখা করতে এসেছে।"

রুপমনি বেগম চোখ সরু করে প্রীয়তাকে আরো বার কয়েক নিরীক্ষণ করলেন। প্রীয়তা খুব সম্মানের সাথেই সালাম জানালো। রুপমনি বেগম পুরোনো ধাঁচের মানুষ। চোখে মুখে বরাবরই একটা সতর্কতা জানান দেয় তার। এ বাড়িতে রুবাই এর আগে কখনো তার কোন বান্ধবী আনে নি। তাই কৌতুহল বশতই দাঁড় করানো। ঠিক সেই সময় সিঁড়ির মাথায় এসে দাঁড়াল রুশা। রুবাইয়ের দেরি দেখে তাকে খুজতেই রুশার বেরিয়ে আসা। রুশাকে দেখা মাত্রই প্রীয়তা সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে উঠে এসে রুশাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। যেন লম্বা সময় পর খুব আকাঙ্ক্ষিত কাউকে ফিরে পাওয়া। এই উষ্ণ আলিঙ্গনটারই বোধহয় অভাব বোধ করছিল রুশা। রুবাই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে বলল, "দাঁড়া দাঁড়া আমাকে ছাড়া এসব মূহুর্ত আমি মানবো না।" রুবাই নিজেও দৌড়ে গিয়ে দুজনকেই শক্ত করে জাপটে ধরলো। রুপমনি বেগম এই দৃশ্য দেখে সামান্য মৃদু হেসে চলে গেলেন। তার সকল কঠোরতার মাঝেও যেন এক প্রখর সতর্কতা দৃশ্যমান। তিনি যেন রুশাকে তার কঠোরতা দেখাতে চান না। রূপমণি বেগমের সাথে বরাবরই দুইজন সাহায্যকারী থাকেন। এটাকে জমিদারির অভিজাত্য বলা যেতেও পারে। রূপমনি বেগম সর্বদাই নিজেদের পরম্পরা, অভিজাত্য, আদিম জমিদারির নিয়ম-নীতি এই আধুনিক জমানায়ও জোর করে আঁকড়ে রেখেছেন।

রূপমনি বেগম নিজের কক্ষে প্রবেশ করেই তার সাহায্যকারি রাহেলার দিকে তাকিয়ে বললেন, “হেঁসেলে যাও বিবি সাহেবদের ঘরে যা কিছু প্রয়োজন কিছু যেন কমতি না হয়। জানিয়ে দাও বাড়িতে মেহমান এসেছে, বিবি সাহেবকে যেন নিচে নেমে কোন কিছু চাইতে না হয়।”

রূপমনি বেগমের আদেশ মোতাবেক রাহেলা আজ্ঞা পালনকারীদের মত হেঁসেলের দিকে ছুটে গেল।

চলবে.... 💝

#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ

#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)

#সাদিয়া_তিন্তি

বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না।

{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন