ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

২০তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

২০.

রুশা নিজেও রুবাইয়ের পাশে বসে পড়লো। দুজনেই নিস্তব্ধ। কোন নির্দিষ্ট সংলাপ নেই, আর না অন্যরকম কোন কথোপকথন। দুজনেই যেন জর্জরিত হয়ে গেছে হাজারটা প্রশ্নের ভাজে। রুশা সোফার সাইডের টেবিলটা থেকে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে তাদের বন্ধুদের গ্রুপে একটা কল লাগালো। সাথে সাথেই সকলে যুক্ত হলো। এই ফোন কলটার অপেক্ষায় যেন তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। রুশা সকলকে সমগ্র ঘটনা খুলে বলল। সবটা শুনে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষ, সামান্য সময়ের জন্য যেন থমকে গেল। এই নিরবতা ভেঙ্গে ইমরান বলে উঠলো, “ঘটনায় খটকা তো আছে। রিদা চৌধুরী এখন কবর থেকে উঠে এসে তো আর বলতে পারবেন না যে, তার সঙ্গে রুপমনি বেগমের কেমন সম্পর্ক ছিল। তাই বোধহয় রূপমণি বেগম দোষ লুকাচ্ছেন।”

প্রীয়তা খুব স্বাভাবিক স্বরে বলল, “হয়তো উনি এখন ভালো সাজার চেষ্টা করছে রুশার কাছে। হতেই পারে…!”

অরুপ মাথা নেড়ে না বোধক বুঝিয়ে বলল, “রুপমণি বেগমের রুশার সামনে ভালো সাজার কি প্রয়োজন? ঘটনা তো একেবারেই পরিষ্কার। তাছাড়া উনি যেটা করেছেন সেটা তো সকলেই জানেন, আজ নতুন করে উনি কথা বদলাচ্ছেন কেন!”

মেঘ একটু ভেবে বলল, “সেসব যাই হোক। আমার কেন জানি মনে হয় যা কিছু রটে তার কিছু তো ঘটে। রূপমণি বেগম সম্পন্ন সত্য বলছেন কিনা জানিনা। তবে হামজা আঙ্কেলকে যে উনি সহ্য করতে পারতেন না এটার স্বচক্ষু প্রমাণ যারা ছিলেন তাদের থেকে অনায়াসে জানা যাবে সত্যটা।”

ইমরান মেঘকে সায় দিয়ে বলে উঠলো, “তোর কথায় লজিক আছে। তুই মামাকে জিজ্ঞেস কর না! মামাই তো হামজা আঙ্কেলের একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলেন। আর একজন বন্ধু যতটা সত্য জানবে, বাইরের কোন মানুষ ততটাও তো জানবে না।”

মেঘ মাথা নেড়ে বলল, “দেখি কতোটা কি জানা যায়।”

রুবাই সকলের এই কথার মাঝেই বলে উঠলো, “আর রিদা চৌধুরীর মৃত্যুটা?”

ইমরান টানটান গলায় বলল, “সেটা তো তুমি ভালো বলতে পারবে রুবাই। তোমার দাদি আম্মার কথায় আমার সন্দেহ হচ্ছে। তাছাড়া কি যেন বললে তুমি স্বাধীনতা নিয়ে?”

প্রীয়তা বলল, “এ মহলে যারা স্বাধীন হয়ে জন্মেছে তারাই মহল ছেড়েছে।”

অরুপ মাথা চুলকে বলল, “তোরা কোথা থেকে কি মেলাচ্ছিস ভাই!! উনি শুধু বলেছে যারা স্বাধীন হয়ে জন্মেছে, তারা মহল ছেড়েছে। হয়তো এটা রুশার বাবার কথা বলছে। রুশার বাবাই তো ছিলেন সব থেকে স্বাধীনচেতা। পারিবারিক ব্যবসা, জমিদারি অভিজাত্য তোয়াক্কা না করে, নিজের গবেষণা, পড়াশোনা, শিক্ষকতা এসব কে বেছে নিয়েছিলেন। আমার তো মনে হয় না ওই রুপমহলে ওনার থেকে বেশি স্বাধীনচেতা আর কেউ ছিলেন!!”

অরূপের কথা একেবারেই কেউ অবজ্ঞা করতে পারল না। সত্যিই তো রূপমহলের সব থেকে বেশি স্বাধীনচেতা ব্যক্তি ছিলেন রুশার বাবা। উপস্থিত সকলেই নানান রকম প্রশ্নের ভিড়ে নিজেদেরকে ব্যস্ত করে নিলো। তবে রুশা শুধু সকলের কথা শুনেই যাচ্ছিলো। তার মস্তিষ্কে আবার কাটাকুটি খেলা শুরু হয়ে গেছে। সে কারো কথার কোন প্রতিউত্তর না করে রুবাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “এ বাড়িতে তো রিদা চৌধুরী বেশি সময় থাকেন নি, তাই না?”

রুবাই মাথা নেড়ে বলল, “না। উনি তো চন্দ্রমহলে থাকতেন।”

“উনার জিনিসপত্র ব্যবহার্য সবকিছু তাহলে চন্দ্রমহলে?”

রুবাই বলল, “হ্যাঁ। এখানেও সামান্য কিছু আছে দাদা সাহেবের ঘরে।”

মেঘ রুশার দিকে প্রশ্ন ছুড়লো, “তুমি কি করতে চাইছো?”

রুশা খুব শান্ত ভাবে বলল, “আমি সবটা জানতে চাইছি। একেবারে সবটা।”

মেঘ বলল, “কাল তবে তুমি সরাসরি নিজে আমার বাবার কাছ থেকে জেনে নিও। বাবা কাল তোমাকে বাড়িতে আনার আয়োজন করছেন। তুমি তো একবারও আমাদের বাড়িতে আসো নি। বাবা একটা সুযোগ খুঁজছিলেন তোমাকে এ বাড়িতে নিয়ে আসার।”

রুবাই লাফিয়ে উঠে বলল, “একা কি রুশা যাবে, আমাকে ইনভাইট করবে না? আমিও কখনো তোমাদের বাসায় যায়নি।”

মেঘ হেসে উঠলো, “রুবাই…তোমাকে কি আলাদা করে বলতে হবে? এক অর্থে এটা তোমার মামা শ্বশুর বাড়ি। তাছাড়া বাবা রুপমহলের সবাইকেই রাতে ডিনারের জন্য ইনভাইট করতে চাইছিলেন। রুশাকে সকালবেলায়ই নিয়ে আসবে বলছিলেন। তার তো ইচ্ছে রুশা এবাড়িতে কয়েকদিন থেকে যাক। ”

মামা শ্বশুর বাড়ির কথা শুনে রুবাই একটু লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো। এরপর বলল, “প্লিজ মেঘ আমাকেও রেখে দিও রুশার সাথে। এই রুপমহলের চক্কর কাটতে কাটতে আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছি। কত্তোদিন যে কোথাও বেড়াতে যাই না তার হিসেব নেই।”

মেঘ হাসলো। রুশার বাবা এই রূপমহলের সব থেকে স্বাধীনচেতা ব্যক্তি হলেও, রুবাই তারই উত্তরসূরী। এই মহলের ইট পাথরের দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ এক পাখি। মেঘের খুব করে মনে হয়, রুবাই যদি কোন একদিন ছাড়া পায়, তবে আর কোনদিন এই মহলের দিকে ফিরেও তাকাবে না। তবে তার শুধু একমাত্র ভয় রুশাকে নিয়ে, এই মেয়েটা এই মহলের মরীচিকায় হারিয়ে না যায়! কিছু সময় নীরবতা চলল। তেমন কেউ কোন কথা বলল না। মেঘ প্রীয়তাকে উদ্দেশ্য করে বলল, “প্রীয়তা, তবে কি তোমাকেও আলাদা করে ইনভাইট করতে হবে? নাকি এমনিই চলে আসতে পারবে?”

প্রীয়তা একপ্রকার খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলল, “আমারও ইনভাইটেশন!!!”

মেঘ হেসে বলল, “সবাই একসঙ্গে বসে জমিয়ে আড্ডা দেয়া যাবে। বাবা এসব প্ল্যানিং করছে আমি আগে জানতাম না, তাহলে তোমাদেরকে আজকে কলেজে থাকতেই বলতাম।”

ইমরান মাথা চুলকে বলল, “এই মামার এক বাজে স্বভাব। সবকিছু একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে প্ল্যানিং করবে। বৃহস্পতিবার রাত্রে বসে শুক্রবারের প্ল্যানিং করছেন তিনি!! আমি নিশ্চিত, কামলা হিসেবে আমাদেরই খাটাবে।”

সকলে হেসে উঠলো। শাফিন আহমেদ স্বভাবসুলভ সবসময় প্রাণবন্ত, চনমনে, আর অবিশ্বাস্যভাবে স্বতঃস্ফূর্ত। হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যেন তার নিত্য অভ্যাস। কখনো হঠাৎ ঘুরতে যাওয়া, কখনো হঠাৎ কাউকে চমকে দেওয়া এই রকম উদ্দীপনা যেন তার জীবনেরই অংশ। তার বয়স পঁয়তাল্লিশ-পঞ্চাশের কাছাকাছি হলেও, তাকে দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। মাঝে মাঝেই থ্রিকোয়ার্টার প্যান্ট আর লাল রঙা টিশার্ট পড়ে ঘুরে বেড়ানোও তার সখের অংশ। তার আচরণে ষোল বছরের তারুণ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সব সময়। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এই মানুষটাই ব্যবসার জগতে এক বিশাল সাম্রাজ্যের মালিক।

সকলের কথা আর আগালো না। রুশা অবশ্য কথায় তেমন আগ্রহ পেলো না। তার মস্তিষ্ক ব্যস্ত নানা বিষয়ে ভাবতে। রুবাই নিজেও যেন মুক্তি চাইছে, রুপমহলের থেকে কয়েক দিনের জন্য, ছুটি চাইছে সে। কল কাটতেই রুবাই নিজের কক্ষে এগোলো।

রাতটা গভীরের দিকে। রূপমহলের চারপাশে নেমে এসেছে একধরনের নরম নিস্তব্ধতা। এই নিস্তব্ধতা কাটিয়েই রুশার কাছে শাফিন আহমেদের কল এলো। তিনি রুশাকে জানান, তিনি সকালে এসে রুশাকে নিয়ে নিয়ে যাবেন। রুশা যেন তৈরি হয়ে থাকে। তিনি চান রুশা যেন কয়েকদিন তার মামা বাড়িতেই কাটায়। রুশা এসব আবদারে কোন অসম্মতি জানালো না, আবার স্পষ্ট সম্মতিও নয়।

বাইরে তখন রাত আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। হলঘরের আলো নিভে গেছে, কেবল করিডরের একপাশে ছোট্ট একটি ল্যাম্প জ্বলছে। রূপমহলের দেয়াল যেন দিনের সব গুঞ্জন গিলে নিয়ে নিঃশব্দ দাঁড়িয়ে আছে।

রুশা ধীরে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। সে সোজা এগিয়ে গেল তার বাবার কক্ষের দিকে। এই ঘরটাই রূপমহলের অন্য সব কক্ষের চেয়ে আলাদা, তার একান্তই ব্যক্তিগত। তবে আজ সকালের ঘটনার পর তাকে সতর্ক হতে হবে। সে মন স্থির করলো ভেতরে ঢুকেই দরজাটা ভালো করে বন্ধ করে নেবে। তবে দরজার হাতলটা ঘুরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই থমকে দাঁড়ালো রুশা। ঘরটা আধো আলোয় ঢেকে আছে, কিন্তু একটা অবয়ক স্পষ্টই দৃশ্যমান। মাথার পাশে ঝুলন্ত ল্যাম্পের আলোয় শেহতাজের মুখটা এক অদ্ভুত ঠান্ডা নিরবতায় ভেসে উঠেছে। টেবিলের সাথের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে সে, হাতে ধরা রুপালি কলমটা ঘুরিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। চোখদুটো স্থির, মুখে একটুখানি রহস্যময় হাসি।

রুশা দরজায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ থমকে রইলো। চোখে বিস্ময়, বুকের ভেতর এক অজানা শঙ্কা। ঘড়িতে সময় সাড়ে বারো পার করেছে। এই মধ্যরাতে কোনভাবে এই মানুষটার মুখোমুখি হতে চায় না রুশা। সে সাথে সাথেই দরজার হাতলটা টেনে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলো। ঠিক তখনই শেহতাজের শান্ত কণ্ঠ ভেসে এলো, “নীলিমা…যাস না।”

রুশা থেমে গেল। কিন্তু কক্ষের ভেতরে এক কদমও বাড়ালো না। শেহতাজ একই ভঙ্গিতে গভীর চোখদুটো রুশার দিকেই স্থির রেখে বসে রইল। রুশা কিছু বলার আগেই শেহতাজ বলল, “আমি চলে যাচ্ছি। তুই থাক তোর বাবার ঘরে।”

রুশা শেহতাজের এই শান্ত রুপটা ঠিক চিনলো না। শেহতাজ উঠে ঘরের সব গুলো আলো জ্বালিয়ে দিতেই চকচকে হয়ে উঠল সব। শেহতাজ কয়েক কদম এগিয়ে রুশার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুই কি আমাকে ভয় পাস?”

রুশা শুধু মাথা নেড়ে না বোঝালো। শেহতাজ একটা বাকা হাসি দিয়ে নিজের পকেট থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করে বলল, “বাড়িতে আসার সময় সবার জন্যই কিছু না কিছু নিয়ে এসেছিলাম। তোর ভাগেরটা তোকে দিয়ে ওঠা হয়নি। এটা তোর।”

রুশা খুব ধীরে বলল, “এসবের কোন প্রয়োজন নেই।”

শেহতাজ রুশার হাতে বাক্সটা দিয়ে বলল, “কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা অপ্রয়োজন সেটা আমি বুঝলেই চলবে। আর হ্যাঁ, যে ঘরেই ঘুমাবি দরজাটা লক করে ঘুমাবি। এটা আর দ্বিতীয়বার বলবো না।” এটুকু বলেই শেহতাজ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। রুশা বোকার মত ওই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। সে ঠিক বুঝে উঠলো না ঘটনা চক্র। এই মানুষটা এতো অমীমাংসিত কেন? দিনে যতোবার দেখা হয় কিংবা এখন অব্দি রুশা তাকে দেখেছে, প্রতিবারই তার অবাধ্য নজর রুশাকে অস্বস্তি দিয়েছে। তবে এই মধ্যরাতে রুশার দিকে মানুষটা একবারও সেই অস্বস্তির নজর রাখলো না। উল্টো নিজেই নিজের এক অন্য রুপ রেখে গেল। এটা কি আসল রুপ নাকি নাটক? রুশা নিজ হাতে দরজাটা লাগিয়ে দিলো। এ মহলের মানুষগুলোকে রুশা ঠিক বুঝতে পারছে না। রুপমহল নামটা হয়তো এই মহলের জন্য যথার্থ। প্রত্যেকটা মানুষের রুপই মুখোশের। এই মহলের মানুষের কোনটা আসল রূপ আর কোনটা নকল, এই সামান্য বিষয়টুকু যেন আলাদা করতে গিয়ে খেই হারাচ্ছে রুশা। সে ধীর কদমে এগিয়ে গিয়ে তার বাবার চেয়ারে বসলো। তার হাতের ছোট্ট বাক্সটাকে টেবিলের উপরে রেখে কিছু সময় নিজেকে আস্বস্ত করে বাক্সটা খুলল। ছোট একটা স্নো গ্লোবের পেনডেন্ট। জিনিসটা অত্যাধিক আকর্ষণীয়। রুপালি চেইনের সাথে একেবারেই ছোট্ট একটা গোল স্বচ্ছ কাঁচের লকেট, সেই লকেটের মাঝে সাদা সাদা তুষার আর ভেতরে একেবারেই নিখুঁত আকৃতিতে গড়া ছোট একটা মেয়ে বসে আছে। এ ধরনের সো পিচ অনেকবার রুশা দেখেছে তবে এই একই থিমে এতো ছোট নিখুঁত লকেট হতে পারে ব্যপারটা একেবারেই অন্যরকম। লকেটের ভেতরের মেয়েটাকে দেখে রুশার মনে হলো মেয়েটা বোধহয় সে নিজেই। ঘন্টার পর ঘন্টা এই লকেটের দিকে তাকিয়ে এটাকে নানান রকম বর্ননা করা যায়। রুশা লকেটটা আবার ওই বাক্সে রেখে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হেলে পড়লো। জীবনের সবথেকে কঠিন বিষয় বোধ হয় সেটাই, যখন মন এবং মস্তিষ্ক দুটো আলাদা শব্দে একটা মানুষকে বর্ণনা করে। রুশার কাছে শেহতাজকে প্রথম দিন থেকেই একটা অমীমাংসিত চরিত্র মনে হয়েছে। সত্যি বলতে চরিত্রটা অমীমাংসিত হলেও সেটা ভালোর দিকে নয় বরং খারাপের দিকে। তবে আজকের এই সামান্যতর ঘটনায়, রুশার শেহতাজকে একদমই খারাপ মনে হয়নি। রুশা চেয়ার থেকে উঠে তার বাবার ঘরের দেয়ালে লাগানো প্রত্যেকটা ছবির দিকে আবার ফিরে তাকালো। কেন তার মস্তিষ্কে কোন কিছু নেই? কেন একটা মানুষের চেহারা ও তার মনে পড়ে না? সামান্য কিছু অংশ যদি মনে পড়তো তবে তার মনের এই দু'বিদা হয়তো দূর হয়ে যেত। রুশা আর কিছু ভাবতে পারলো না। চুপচাপ খাটের দিকে গিয়ে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়লো। ক্লান্ত শরীরটা খাটে এলিয়ে পড়তেই, নিস্তব্ধ রাতটা ধীরে ধীরে গলে গিয়ে তাকে নিয়ে গেল অন্য এক জগতে।

স্বপ্নে রুশা নিজেকে দেখতে পেল এক বিশাল সবুজ প্রান্তরে। চারদিক আলোয় ভরা, আলোটা কোমল। রোদ নয়, যেন ভোরের আগের প্রথম আলো। সেখানে একটা ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বয়স তিন-চার বছর হবে। লাল রঙের ফ্রক, দুটো ঝুটি করা, পায়ে ছোট সাদা জুতো। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছেলে, বয়সে বারো কিংবা তেরো। ছেলেটার হাতে ধরা একটা ছোট স্নো গ্লোব সো পিস। গ্লোবের ভেতরে এক ক্ষুদ্র মেয়ে বসে আছে তুষারের মাঝে, একদম সেই লকেটের মতোই, যেটা শেহতাজ ওকে দিয়েছে। গ্লোব সো পিসটা দেখে বাচ্চা মেয়েটা খুশিতে দু’হাত তুলে লাফিয়ে উঠল। তার মিষ্টি বাচ্চামো কন্ঠে বলল, "এটা কি স্নো হোয়াইট?"

ছেলেটা হেসে বলল, "না। এটা নীলিমা। আমার ছোট্ট রাজকুমারী।"

ছোট মেয়েটা খিলখিল করে হেসে উঠলো। দৃশ্যটা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে গেল।

রুশা চমকে জেগে উঠলো। ঘরজুড়ে হালকা নীলচে আলো চকচক করছে, বাইরে থেকে ভেসে আসছে ফজরের আজান। রুশা বিছানার কিনারায় ঠায় বসে রইলো। ছোট্ট মেয়েটার মুখটা একেবারেই তার ছোটবেলার মতো। রুশা একপ্রকার তাড়াহুড়ো করে উঠে টেবিলের উপরে রাখা লকেটটা আবার হাতে নিয়ে ভালো করে দেখলো। তার মনের ভেতর প্রশ্নটা বারবার তাকে চেপে ধরছে। মেয়েটা সে!!

কিন্তু ছেলেটা কে? শেহতাজ? সে কি তার সব থেকে গোছানো শৈশবটা, ঠিক এভাবে ভুলে গেছে? রুশা আর ভাবতে পারলো না।

চলবে.... 💝

#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ

#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)

#সাদিয়া_তিন্তি

বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না।

{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

____

বলেন দেখি শেহতাজ নিয়ে। এই ব্যাটাকে কি মনে হয়? নাকি আপনারাও আমার আর রুশার মতো কনফিউজড?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন