ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

২১তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

২১.

ফজরের নামাজ শেষে রুশা কিছুক্ষণ নামাজের জায়নামাজেই চুপচাপ বসে থাকলো। সব ধোঁয়াশা গুলো পরিষ্কার হয়েও হচ্ছে না যেন। একটা সাধারণ জীবনে এতো কেন রহস্য থাকবে? তার রাতের স্বপ্নটা কি শুধুই স্বপ্ন নাকি কোন পুরোনো কিছুর সামান্য ঝলক দেখলো সে? রুশার চোখে এক অস্পষ্ট বিস্ময়, সে পুরোটা ধরতে পারছে না।

সামান্য বেলা বাড়তেই সে নিঃশব্দে উঠে নিজের ঘরে ফিরে এল। তার ঘরটা শান্ত, মহলের ঘুম এখনো পরিপূর্ণ ভাঙেনি। রুশা লকেটটা আরেকবার হাতে নিয়ে দেখে নিলো। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে লকেটটা রাখতেই তার নজর গেল নিজের হাতের পান্নার আংটিটার দিকে। এই লকেটটার জন্য সে-তো ভুলেই গিয়েছিলো এই আংটির সমাধানের কথা। একবার অন্তত সে দাদাসাহেব কামরায় একটু সব দেখতে চায়। কি খুঁজতে চায় তার স্পষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকলেও যদি কিছু পাওয়া যায়। রুশা সবটা জানতে চায়। রিদা চৌধুরীর বিয়ে, মৃত্যু, পরিবার সব। মোটকথা রুপমনি বেগমের ছলনাময় কথার বিস্তারিত বর্ণনা চায় রুশা।

রুশা নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে উপরতলার উওরের ঘরের দিকে এগোলো। ও-ঘরটাই তার দাদাসাহেবের। এ মহলে প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা ঘর। তবে স্বামী-স্ত্রীর আলাদা ঘরের কনসেপ্টটা রুশার কাছে অদ্ভুত লাগে। কিন্তু একাধিক বউ থাকার কারনে নিয়ম কানুন ভিন্ন হতেই পারে। রুশা কামরার বাইরে দাঁড়াতেই দেখলো ঘরের কাঠের মজবুত দরজায় একটা মস্ত তালা ঝুলছে। এই হলো এক দোষ এ বাড়িতে। প্রতিটা কক্ষে যেন খাজানা লুকানো। ঘরে ঘরে বিশাল বিশাল তালা ঝুলিয়ে রেখে দেয়। এখন এই কামরা খুলতে চাবি আনতে হবে রুপমনি বেগম কিংবা আনজুম আরা বেগমের থেকে। আর এই ঘরের চাবি আনাই যুদ্ধের সমতুল্য। আজকের ঘটনার পর রুপমনি বেগম অনায়াসে ধরে ফেলবেন যে রুশা তদন্ত চালাচ্ছে। তারমানে চাবি আনতে হলেও এমন উপায়ে আনতে হবে যাতে কাকপক্ষীও টের না পায়। রুশা ভারি তালাটার গায়ে একবার হাত বুলালো। ঠিক ওই সময়ে আরফি করিডোর দিয়ে হেঁটে এলো। রুশাকে তালাটার গায়ে স্পর্শ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করল, “প্রিন্সেস আপনি কি তালাটা ভাঙার পরিকল্পনা করছেন?”

রুশা হাল্কা চমকে উঠে আরফির দিকে ফিরে তাকাল, “আপনি এখানে কি করছেন?”

আরফি হেসে বলল, “শুনলে হাসবেন আপনি। তাই না বলা ভালো।”

রুশা আরফির কথায় মনোযোগ না দিয়ে উল্টো দিকে পা বাড়ালো। আরফি রুশার পিছে কদম ফেলে বলল, “আপনি তো খুব রসকষ বিহীন মানুষ। কোথায় একটু আমার কথায় আগ্রহ দেখাবেন! তা না উল্টো পথে হাঁটছেন।”

রুশা চলতে চলতে বলল, “বলার ইচ্ছে থাকলে, বলুন শুনছি।”

আরফি হেসে বলল, “আপনার এ মহলে ঘুম আসে না আমার। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এ দেশের সময়ের খুব অমিল। এটাই হয়তো কারন।”

রুশা হাসলো, তার মতো আরো কেউ আছে এ-মহলে এটা ভেবেই যেন আরফির কথা শুনতে সামান্য আগ্রহ পেলো। রুশা সোজা নিজের বাবার ঘরে ঢুকতেই আরফি দরজায় দাঁড়িয়ে পড়লো, রুশা ফিরে দেখলোনা। আরফি অনুমতির স্বরে বলল, “আমি কি ভেতরে আসবো?”

রুশা এবার ফিরে তাকিয়ে আরফির মুখের দিকে তাকালো। আবারো সামান্য মৃদু হাসল, “আসুন।”

আরফি জোর কদমে এগিয়ে এসে বলল, “এই ঘরটায় আমার কখনো আসা হয় নি। বাইরে থেকে দেখেছি মাত্র।”

রুশা ওর বাবার চেয়ারটা টেনে বসে বলল, “এটা আমার বাবার ঘর।”

আরফি ঘরটার প্রতিটা কোনা ঘুরে ঘুরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলে লাগলো। আরফি যে একজন বাঁচাল প্রকৃতির মানুষ তা বুঝতে এ মহলের কারো বাকি নেই। কিছু মানুষ থাকে যারা সকলকে নিয়ে হৈ হৈ করে বাঁচতে পছন্দ করে। এই আরফিও ঠিক তেমন। রুশার কেন যেন এই আরফিকে নিয়ে কোন খারাপ অনুভূতি, সঙ্কা কিংবা নেগেটিভিটি কাজ করে না। যতোটা শেহতাজ কিংবা কারানকে দেখলেই অনুভব হয়। রুশা আবার টেবিলে রাখা ‘রুপনগরের ইতিহাস’ বইটা খুলে বসলো। আরফি ঘরটার কোনায় কোনায় পর্যবেক্ষণ করে এসে রুশার সামনের ফাঁকা চেয়ারটায় বসে বলল, “তুমি কি কথা বলতে পছন্দ করো না?”

রুশা বইতে চোখ রেখেই বলল, “নির্ভর করে।”

আরফি মাথা চুলকে বলল, “কথা বলতেও আবার এতো পলেসি!”

রুশা চোখ তুলে আরফির দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি কি বরাবরই এতো বেশি কথা বলেন?”

“হ্যাঁ। এটাই তো ফ্রি! তাই বকতেই থাকি।”

“এতো ভালো বাংলা কিভাবে শিখেছেন?”

“আমার বাবা লুঙ্গি পরা বাঙালি ছিলেন। তার থেকেই এতো শুদ্ধ বাংলা শেখা।”

রুশা ভ্রু কুঁচকে বলল, “লুঙ্গি পরা বাঙালি মানে?”

আরফি হেসে বলল, “খাঁটি বাঙ্গালি। যে খাঁটি বাঙালি না সে কিন্তু লুঙ্গি পড়তে জানে না। তাজকেই দেখুন না। অর্ধেক বাঙালি। লুঙ্গি দেখলে কি নাক সিটকায়! আর আমাকে দেখুন, দেখতে অস্ট্রেলিয়ান হলেও অস্ট্রেলিয়াতে লুঙ্গিপড়ার রেকর্ড আছে আমার।”

রুশা হেসে উঠলো। সে বেশ মজা পেল আরফির এমন সব উদ্ভট কথায়। আরফি হাত তালি দিয়ে বলল, “বাহ প্রিন্সেস আপনি হাসতেও পারেন?”

রুশা হাসি থামিয়ে বলল, “আপনি আমার সম্পর্কে সবটা জানেন তাই না?”

“না জানার তো কিছু নেই। আপনি যে ফিরেছেন এত বছর পর সেটাই মিরাকেলের থেকে কম কিছু নয়।”

রুশা মিরাকেল শব্দটাকে বার কয়েক নিলো। “আসলেই ঠিক বলেছেন। অদ্ভুত মিরাকেল সব। কিন্তু আপনি আমাকে চিনলেন কি করে। যেদিন আপনি মহলে এলেন তার পরেরদিন সকালেই আপনি আমাকে প্রিন্সেস বলে সম্বোধন করেছিলেন। আমার যতোদূর মনে পড়ে, আপনার সঙ্গে না আমার দেখা হয়েছিল আর না পরিচয়। তারপরও আপনি আমাকে চিনলেন কি করে?”

“আপনি বড় অদ্ভুত প্রশ্ন করেন। যার জন্য সমগ্র অনুষ্ঠান আয়োজন করা, তাকেই চিনবো না এটা কি হতে পারে?”

“বুঝলাম।”

আরফি হেসে বলল, “তোমার মেমোরি কিন্তু বড্ড শার্প। কি পরিষ্কার মনে রেখেছ এসব বিষয়!”

রুশা মাথা নেড়ে বলল, “একেবারেই বাজে মেমোরি আমার। কতো মেমোরি খুঁজেই পাচ্ছি না। সে সব বাদ দিন, আপনি আগে সিন্ধান্ত নিন আমাকে আপনি বলবেন নাকি তুমি।”

আরফি একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “আপনি বয়সে ছোট, তবে সম্মানে বড়। তাই সম্মোধন আপনি হওয়া উচিত। কিন্তু আমি অভ্যেসের দাস, তাই আপনি বলতে পারি না একটানা, তুমি বেরিয়েই আসে।”

রুশা টেবিলে খুলে রাখা বইটা বন্ধ করে বলল, “আপনি সিদ্ধান্ত নিন তবে। অপরিচিত থাকবেন নাকি পরিচিত।”

আরফি যেন মহা সংকটে পড়লো। সে এই সামান্য আপনি তুমির সমাধান করতে পারছে না যেন। রুশা তার এই দু’বিধা আরো বাড়িয়ে বলল, “আর হ্যাঁ এসব প্রিন্সেস ডাকবেন না। আমার একটা নাম আছে।”

আরফি এবার প্রশ্ন করল, “কোন নামে ডাকবো?”

রুশা বলল, “সে আপনার ইচ্ছে। তবে আমি আপনাকে আরফি ভাইয়া বলে ডাকবো। আপনার সমস্যা নেই তো?”

আরফি খুশিতে চওড়া হাসি টেনে বলল, “একদম পারফেক্ট। তাহলে আমিও সবার মতো তোমাকে নীলিমা বলে ডাকবো। এই নামটা খুব সুন্দর।”

রুশা হাসলো। আসলেই তো, নীলিমা নামটা যেন তার নতুন জন্মের সব থেকে গ্রহনযোগ্য নাম। এর আগে তো এটা শুধু খাতার পৃষ্ঠায় লেখা ছিল। না এর কোন চর্চা ছিল, আর না পরিচিতি। রুশা একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলল। সব কিছু কত্তোটা বদলে গেছে!

রুশা আর আরফির কথপোকথন আরো সামান্য কিছু সময় চলল। বেলা আরেকটু গড়ালেই মহলে উপস্থিত হলেন শাফিন আহমেদ এবং কাঁকন সুলতানা। তারা অবশ্য গতরাতেই শাহরিয়ার শেখকে জানিয়েছেন আজকের সব আয়োজন।

খাবার টেবিলে তাদের জন্য বিশাল নাস্তার আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া রুপমহলের প্রতিটা মানুষ উপস্থিত খাবার টেবিলে। শাফিন আহমেদ হাসিমুখে বলে উঠলেন, “আমি চাচ্ছি, রুশা কয়েকদিন আমাদের বাড়িতে থাকুক। এতদিন পর ওকে ফিরে পেয়েছি, কিছুটা সময় একসাথে কাটাতে চাই।”

রুপমনি বেগম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শান্ত গলায় বললেন, “নীলিমা তোমার ভাগ্নী, মামা বাড়ি যেতে চাইলে আমাদের কিছু বলার নেই।”

কিন্তু শেহতাজ হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বলল, “এখনও বাড়িতে মেহমান আছে। তার ওপর ওর পড়াশোনার ব্যস্ততা আছে। এই সময়ে কোথাও যাওয়া ঠিক হবে না।” শেহতাজের কথা গুলো শান্ত ভাবে বললেও একরকম অনুচ্চারিত কর্তৃত্ব স্পষ্ট দৃশ্যমান হলো। আর এই ব্যপারটা রুশার চোখ আড়াল হলো না। তবে শাফিন আহমেদ মৃদু হেসে বললেন, “ওসব নিয়ে চিন্তা করো না শেহতাজ। পড়াশোনার পরিবেশ ওখানেও আছে। তাছাড়া মেঘ আছে তো। ওরা তো একই কলেজে, কোন সমস্যা হবে না ।”

শাহরিয়ার শেখ শেহতাজের মুখের কপট রাগ দেখে। শান্ত গলায় রুশার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি যেতে চাও, মা?”

রুশা কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল, “হ্যাঁ, আমি যেতে চাই। রুবাইও যেতে চেয়েছিল। ও যদি আমার সাথে যায়, তাহলে আমার আরো ভালো লাগবে।”

শাহরিয়ার শেখ মাথা নেড়ে বললেন, “রুবাই যদি যেতে চায়, আমার আপত্তি নেই। নিয়ে যাও, তোমার বোনকে।”

উপস্থিত ঘটনায় শেহতাজের চোখে রাগের আগুন যেন মুহূর্তে দপ করে জ্বলে উঠলো। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুশার দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,

“তোর জবানও আছে, এটা জানতাম না।”

কথাটা এতটাই হিংস্রতায় ভরা যে মুহূর্তে রুশা জমে গেল শেহতাজের ওই দৃষ্টিতে। এটাই সেই ভয় যেটা শেহতাজকে দেখলেই রুশার মাঝে কাজ করে। রুশা কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না। কাঁকন সুলতানার চোখও এড়ালো না শেহতাজের এই প্রতিক্রিয়া। রুবাই ঘটনার গম্ভীরতাকে হাল্কা করতে জোরপূর্বক সামান্য উচ্চস্বরে হেসে উঠলো, “ভাইয়া, তুমি না, কি যে বলো সব! মানছি রুশা চুপচাপ, তা বলে কি কিছু বলতে পারে না! ওর জবান তো শোনোনি, কয়েকটা দিন যেতে দাও, বকবক করে মাথা খাবে।”

রুবাইয়ের এই কথায় শেহতাজ নজরটা রুশার থেকে সরিয়ে রুবাইয়ের দিকে ফেলল। রুবাই নিজেও জমে গেল যেন। শেহতাজ এক মুহূর্তও এখানে না বসে থেকে, উঠে চলে গেলো খাবার ঘর থেকে। কারানও শেহতাজের পিছে উঠে গেলো। কাঁকন সুলতানা পুরো ঘটনাটা বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখলেন শুধু। শাহরিয়ার শেখ নিজেও কাঁকন সুলতানার পর্যবেক্ষণ বুঝে ফেললেন। কিন্তু আরো জলঘোলা না করে চুপ রইলেন।

বেলা আরেকটু বাড়তেই শাফিন আহমেদ এবং কাঁকন সুলতানা রুবাই এবং রুশাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। শাহরিয়ার শেখ অবশ্য প্রস্তাব করেছিলেন দেহরক্ষী আকরামকে সঙ্গে নিতে। তবে শাফিন আহমেদ এসবকে অগ্রাহ্য করলেন। তার ভাষ্যে তার বাড়ি এ মহলের থেকেও সুরক্ষিত। শাহরিয়ার শেখ আর তর্কে জড়াননি। তাছাড়া তার নিজের ছেলের ব্যবহারটা ঢাকতেও আরো বেশি বিনয়ী হবার পরিচয় দেয়া।

রুপমহল থেকে প্রায় চল্লিশ মিনিটের পথ শাফিন আহমেদের বাড়ি। এটাকে অবশ্য বাড়ি নয় বাংলো বলা বেশি গ্রহণযোগ্য। সানন্দাপুরের একেবারেই প্রধান শহরের বুকে অবস্থিত শাফিন আহমেদ এবং কাঁকন সুলতানার “সুখনীড়”। এটাকে প্রচলিত মহল্লায় সুখনীড় প্যালেস হিসেবেই লোকে চেনে। বাইরের দিক থেকে দেখলে একে মহল না বলেও উপায় নেই। দুইতলা বিশাল প্রাসাদসদৃশ বাংলোটি সাদা মার্বেল পাথরে গড়া, আর চারপাশে ছায়া ফেলেছে বিশাল সব দেবদারু ও অশ্বত্থ গাছ। মূল প্রবেশপথে আছে খোদাই করা লোহার গেট, যার উপর সূক্ষ্ম নকশায় লেখা “সুখনীড়”। দু’জন প্রহরী খুব যত্নে সদর দরজা খুলে দিলেন। গাড়ি আঙিনায় ঢুকতেই, বাতাসে ভেসে এলো তাজা ফুলের গন্ধ, বিশেষ করে সাদা চাঁপা আর বেলির। বাগানের পাশেই ফোয়ারা, যেখানে জলধারার সাথে রোদ খেলে যাচ্ছিল রঙিন কাচের মতো। রুবাই নিজেও অবাক হয়ে চারপাশটা দেখতে থাকলো। গাড়ি প্রবেশের আওয়াজেই বোধহয় বাড়ির দরজা থেকে বেরিয়ে এলো মেঘ, রৌদ্দুর আর ইমরান। রুবাই অবশ্য ইমরানকে এখানে আশা করেনি। অবশ্য না আশা করারও কিছু নেই, এটা তো ইমরানেরও মামা বাড়ি।

প্যালেসের ভেতরে প্রবেশ করতেই রুশা আর রুবাই বড় বড় চোখে চারদিকটা দেখতে থাকলো। এখানের দরজাগুলো অটোমেটিক। মানুষ দেখলেই খুলে যায়, আবার কিছু জায়গায় হাত রাখতে হয়। মার্বেলের মেঝে, দেয়ালজুড়ে কাঠের কারুকাজ, আর একপাশে সিঁড়ি উঠে গেছে দ্বিতীয় তলায়।

বসার ঘরে রয়েছে বিশাল কাঁচের জানালা, সেখানে সূর্যের আলো এসে পড়ছে, এটা এক অর্থে শিশমহল বেশি বলা যায়, যেটায় ইটপাথরের থেকে কাচের পরিমাণ বেশি। এ বাড়িতেও সাহায্যকারি নেই এমন নয়, তবে রুপমহলের মতো বাড়াবাড়ি পর্যায়ের নয়। উল্টো বেশ গোছানো পোশাক পড়া। এগুলোকে ইউনিফর্ম বলা যায়।

রুবাই চার দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে বলল, “এই বাংলোটা সিনেমার মতো! এতো পরিপাটি মেইনটেইন কিভাবে করেছেন?”

রৌদ্দুর হেসে বলল, “শুধু নিচের হল ঘর দেখেই এই বলছো!! চলো‌ রুবাই আপি তোমাকে ঘুরিয়ে দেখাই।"

শাফিন আহমেদ বাঁধ সেধে বললেন, "আহা, মেয়ে গুলো মাত্র এলো। ওদের একটু বসাও ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করো তারপর ঘুরিও।"

শাফিন আহমেদের এই কথায় মেঘ রুশার দিকে একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল, "তো রুশা ম্যাডাম বলুন ভালো-মন্দ। একটু শুনি…।"

রুশা চোখ দু'টো ছোট ছোট করে তাকালো মেঘের দিকের। কাঁকন সুলতানা নিজে এগিয়ে ইশারায় একজন সাহায্যকারীকে ডাকলেন। সে ট্রে হাতে এগিয়ে আসতেই, তিনি ট্রে থেকে পায়েশের বাটিটা তুলে রুশাকে বললেন, "বাকি সব পরে হবে, তুমি বছর পর বাড়ি ফিরলে ছোট রাজকুমারী। আগে মিষ্টি মুখ করতে হয় যে।" বলেই এক চামচ পায়েস রুশার মুখে সামনে এগিয়ে ধরলেন। রুশা কোন বাধ বিচার না করেই খেয়ে নিলো। সে বরাবরই এই মহিলাকে পছন্দ করে। কেন করে তার কাছে কোন ব্যখ্যা নেই। সে শুধু জানে তার ভালো লাগে এনাকে। রুশা পায়েসটা মুখে নিয়েই বলল, "এটা বেশ মজা হয়েছে। আমি পুরোটা নেই?"

কাঁকন সুলতানা হেসে বললেন, "সবটা তোমার ছোট্ট মেয়ে। নাও।"

রুশা পায়েসের বাটিটা হাতে তুলে নিতেই কাঁকন সুলতানা রুবাইকে ডেকে বললেন, "এদিকে এসো। তোমারও মামা বাড়িতে প্রথম আসা, মিষ্টি মুখ করতে হবে তো।"

রুবাই একপ্রকার দৌড়ে এসে পায়েস মুখে নিয়ে বলল, "পায়েসটা সত্যিই একদম পারফেক্ট হয়েছে।"

কাঁকন সুলতানা শুধু হাসলেন।

চলবে.... 💝

#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ

#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)

#সাদিয়া_তিন্তি

বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না।

{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

______

পড়াশোনায় তালকানা হয়ে আছি। যারা জানেন তাদের তো বিশেষ করে বলার নেই। যারা জানেন না তাদের বলছি ১ নভেম্বর আমার সরকারি পরীক্ষা। কয়েকদিন নতুন পর্ব দেয়া একটু বন্ধ রাখবো। কাল কিংবা পরশু ঘোষনা দিয়ে দিবো ইনশাল্লাহ। সে যেদিন থেকেই বিরতি টানি, তবে পরীক্ষার পর ৩ নভেম্বর থেকে আবার নতুন পর্ব আসবে ইনশাআল্লাহ।

আপনাদের আগে থেকে জানিয়ে রাখলাম আর কি। ভালোবাসা নিয়েন 🫶

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন