ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

২২তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

২২.

পায়েসটা শেষ করে, রুশা গুটি পায়ে এগিয়ে বসার ঘরটা আরেকটু ভালো করে দেখতে থাকলো। এরকম পরিপাটি, খোলামেলা, আলো বাতাসে ভরপুর ঘরটা যেন বড্ডো আরাম দিচ্ছে তাকে।

রোদ্দুর রুশার দিকে এগিয়ে এসে বলল, “শুধু এখানে দেখলে হবে। চলো তোমাদের সম্পূর্ণ বাড়িটা ঘুরে দেখাই!”

রুবাই পায়েসের বাটিটা ছোট টি-টেবিলে রেখে বলল, “হ্যাঁ চলো।”

কাঁকন সুলতানা মাথা নেড়ে বললেন, “না না। ওরা আগে একটু বিশ্রাম নেবে তারপর সব হবে। আগে ওদের ঘরটা দেখিয়ে দেই।”

মেঘ সাথে সাথেই বলল, “মা তুমি যেভাবে বলছো, যেন ওরা ২৪ ঘন্টা ফ্লাইট পার করে এসেছে। এইতো ৩০-৪০ মিনিটের রাস্তা। রেস্ট পরেও করতে পারবে। আর ওদের ঘরটা আমি দেখিয়ে দেবো। আগে একটু ঘরবাড়ি দেখুক, পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিক।”

ইমরান মেঘের এমন কথায় মুখ টিপে হেসে উঠে বলল, “হ্যাঁ মামনি এটুকু তো আমাদের প্রতিদিনের রাস্তা। এতে ক্লান্তির কিছু হয় না।”

উপস্থিত সকলেই ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে পড়লো। ইমরান পায়েসের শেষ চামচটুকু মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে বোকাবোকা হাসি দিয়ে বলল, “মানে ঘোরার কথা বলছিলাম, এরকম ৩০-৪০-৫০-৬০ কত কত মিনিট আমরা ঘুরে বেড়াই আর কি!”

কাঁকন সুলতানা কিছু বলতে যাবেন তার আগেই শাফিন আহমেদ বাঁধা দিয়ে বললেন, “আহা! তুমি আর বয়স্ক মুরুব্বীদের মত ঘ্যানর ঘ্যানর করোনা তো। ওদের এনজয় করতে দাও। এই টুকু তো রাস্তা, কি আর বিশ্রাম নিতে হবে!”

কাঁকন সুলতানা শুধু তীক্ষ্ণ নজরে শাফিন আহমেদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। সেসব দৃশ্যপট একেবারেই এড়িয়ে মেঘ রুশার কাছে গিয়ে অত্যাধিক ঠান্ডা এবং মৃদু স্বরে বলল, “চলুন তবে মহারানী, আপনার রাজপ্রাসাদটা দেখাই এবার।”

রুশা মেঘের কথার কোন প্রতি উত্তর না করে উপস্থিত সকলের মুখের দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে নিলো। মেঘ এতটাই নিচু স্বরে কথাটা বলেছে যে কারোই কানে যাওয়ার কথা নয়। এখানে আর কোন কথা বাড়ালো না। ইমরান পায়েসের বাটি রেখে উঠে পড়লো। সকলেই বসার ঘর ছেড়ে এগিয়ে গেল।

মেঘ, রোদ্দুর আর ইমরান তিনজন মিলে রুশা আর রুবাইকে পুরো বাড়িটা ঘুরে দেখাতে লাগল। বিশাল অট্টালিকার প্রতিটি কোণ যেন একেকটা গল্প বলছে, তবুও আশ্চর্যজনকভাবে পুরো বাড়িতে ঘর সংখ্যা মাত্র আটটা।

রুশার কাছে ব্যাপারটা বেশ নতুন লাগল। এত বড় বাড়ি, অথচ ঘর এত অল্প! রুবাই কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু হিসেব মিলিয়ে বলল, “চারজন মানুষের আটটা ঘর! তাহলে কি একেকজনের দুটো করে ঘর নাকি?”

রুবায়ের এমন নির্ভেজাল কথায় সবাই হেসে উঠল। রোদ্দুর হেসে বলল, “তুমি যা ভাবছো তেমন কিছু না। এতো গুলো ঘরও প্রয়োজন হয় না। আগে তো ঘর আরো কম ছিল। এই নিয়ে বাড়িটা কমপক্ষে চারবার ভেঙে নতুন করে বানানো হয়েছে। শেষবার দুটো ঘর যুক্ত করা হয়েছে।”

রুবাইয়ের চোখ বড় বড় হয়ে গেল, “চারবার! এতবার কেন?”

রোদ্দুর ঠোঁটে একরাশ মৃদু হাসি এনে বলল, “বাবার কাজ…, মানে, বাবার শখ। একবার ইন্টেরিয়র ডিজাইন পছন্দ হয় না, আবার মডেল চেঞ্জের ভূত চাপে। রুম বাড়ায় আবার কমায়।”

ইমরান পাশ থেকে যোগ করল, “কথায় আছে না, টাকায় কামড়ায়! মামাকেও মাঝে মাঝে টাকাতে কামড়ানি দেয়। তখন মামাও অদ্ভুত সব কাজ করে বসেন।”

সবাই আবার হেসে উঠল। বাড়িটা পুরোপুরি ঘুরে দেখা শেষ হওয়ার আগেই গেটের দিক থেকে গাড়ির হালকা শব্দ ভেসে এলো। মিনিট দুয়েক পরেই ইমরানের ফোন বেজে উঠল। সে একবার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মেঘকে বলল, “অরুপরা চলে এসেছে। ওরা আসুক আগে, তারপর বাকিটা দেখাস।"

সকলেই সম্মতি জানিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগল। মেঘদের বাড়িতে অরুপের যাতায়াত একেবারে নিয়মিত, প্রায় ঘরের ছেলের মতো। ইমরান তো গুনে গুনে তিনবার করেও এখানে না এসে থাকতে পারে না। রাফিও বেশ কয়েকবার এসেছে। কিন্তু প্রীয়তা আজ প্রথমবার এই বাড়িতে পা রাখল। গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। রুবাইদের রুপমহল দেখে ঠিক যেমন অবাক হয়েছিল তেমনই ঝটকা খেলো মেঘেদের সুখনীড় দেখে। প্রীয়তার ভাষ্যে সে সবথেকে অসহায়, নিরিহ আর দরিদ্র সীমার নিম্নে বসবাস কারি একজন ব্যক্তি এই বন্ধুমহলের। আর রাফিও প্রীয়তার একমাত্র সহচর, সে বারবার প্রীয়তার সাথে সহমতে ব্যস্ত। কিন্তু আজকে যে গাড়িটাতে করে তারা তিনজন মেঘদের বাড়িতে এসেছে এই গাড়িটা প্রীয়তার বাবার। যদিও বা সেটা সরকারি, তবে পুলিশের ডিআইজির গাড়িটা এতটাও তো ফেলনা নয়। বন্ধু মহল সকলেই প্রীয়তার এই ন্যাকা কান্না দেখে একবার পেছনে দাঁড়ানো তার বাবার গাড়িটার দিকে তাকিয়ে নিলো। এই অবস্থায় তারা কি প্রীয়তাকে শান্তনা দেবে নাকি হাসবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।

অরূপ কোন মতে নিজের হাসি লুকিয়ে, প্রীয়তার কাঁধে হাত রেখে বলল, “এইসব দেখে চিন্তা করো না, প্রীয়। আমি তোমার জন্য একদিন তাজমহল বানিয়ে দেবো।”

কথাটা একেবারেই সহজ হলেও সবাই হেসে উঠল, রোদ্দুর, মেঘ, রুবাই, ইমরান, রুশা সবাই। প্রীয়তা ন্যাকা কান্না বাদ দিয়ে একটা ভেংচি কাটলো। রুবাই ইমরানের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ইমরান হাত দুটো নাটকীয় ভঙ্গিতে তুলে বলল, “থামো থামো! আমি এক বেকার প্রেমিক, নীলা… না না, সরি সরি… রুবাই! আমার আর কিছু দেবার নেই। একটা জীর্ণশীর্ণ মানিব্যাগ তাতে খুচরা পয়সা গোজা আর তোমার একটা সাদা কালো ছবি ব্যাস।”

সবাই ইমরানের এই কান্ডে হো হো করে হেসে উঠল। আজকাল ইমরান খুব শিখে গেছে রুবাইয়ের মুখ বন্ধ করতে। তাই কেউ কিছু করলেই ইমরান আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। কারণ যে যাই করুক রুবাই সে সব কান্ডের প্রতিক্রিয়ার তীর তার দিকে এসেই ছুড়বে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সামলাতে গিয়েও পরিস্থিতি হয়তো সামান্য বিগড়ে গেল। ইমরানের কথাটা শেষ হতেই রুবাই হাত বাড়িয়ে বলে উঠলো, “দেখি তোমার মানিব্যাগটা আমার কেমন ছবি রেখেছো।”

রুবাইয়ে এই কথায় ইমরানের মুখ থেকে সমগ্র রঙ উড়ে গেল। অরূপ, মেঘ, রাফি সকলেই দাঁত চিপে নিজেদের হাসি আটকানোর চেষ্টা চালাতে লাগলো। ইমরানের মানিব্যাগে যে রুবাইয়ের কোন ছবি নেই এটা নিয়ে সকলেই অবগত। তবে এই মুহূর্তে এটা যদি রুবাই দেখে, তবে এখানেই তাদের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগেই সদর দরজা দিয়ে আমিনুল হক প্রবেশ করলেন। আমিনুল হককে এক প্রকার জোর জবরদস্তি করেই শাফিন আহমেদ আর কাঁকন সুলতানা এ বাড়িতে এনেছেন। হাজার হোক সে এবাড়ির জামাই। যা গেছে সে সব তো আর অতীতে গিয়ে ঘষে মুছে সংশোধন করা যাবে না। এবং সেটা আমিনুল হকও বুঝে গেছেন। তিনি ইমরানকে কখনোই এ বাড়ি থেকে আলাদা করেন নি। ছোটবেলা থেকে ইমরান এ বাড়িতে এসেছে, থেকেছে। তবে তিনি কখনোই এ বাড়ির সদর দরজার গন্ডি পেরোন নি। আজ দীর্ঘ ১৭ কিংবা ১৮ বছর পর তিনি আবার এই বাড়ির সদর দরজার ভেতরে প্রবেশ করলেন। তিনি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই শাফিন আহমেদ একপ্রকার বুকে জড়িয়ে নিলেন তাকে। তার প্রবেশের সাথে সাথে ইমরান আর রুবাইয়ের যুদ্ধের আগাম আগুনটাও জলের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল। মেঘ, রুশা সহ বাকি সকলেই আমিনুল হকের সাথে কুশল বিনিময় করে একটু সময় ধরে বাড়িটার প্রতিটি ঘর, প্রতিটি কোণ দেখতে লাগলো। বাড়িটির প্রতিটি ঘরই বিশাল আকৃতির। তাছাড়া বাড়ির ভেতরেই সুইমিং পুল সহ, জিমনেশিয়া, লাইব্রেরী সব ব্যবস্থা। উপর তলায় একটা বিশাল খোলা বারান্দা। এটা আড্ডা কিংবা বসে চা খাবার জন্যই বোধহয় তৈরি। সকলেই এসে বারান্দাটায় বসলো। বারান্দার ওপরে গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের ম্লান আলো পড়ছে, দূরে পাখিরা গাছের ডালে বসে গুনগুন করছে। এই বারান্দার চারপাশে নানান গাছের সমারোহ। এই বাড়িটা যে কোন সৌখিন মানুষের শখের, তা বাড়ির প্রতিটি পরোতে পরোতে দৃশ্যমান। বাড়ির এই খোলা বারান্দা তৈরির আইডিয়া অবশ্য কাঁকন সুলতানার। তিনি বৃষ্টি প্রেমি মানুষ, বৃষ্টি বিলাসের উদ্দেশ্যেই হয়তো এই খোলা বারান্দার ব্যবস্থা। আর এটাই বাড়িটাকে সব থেকে অন্যরকম করে তুলেছে। সকলেই একেবারে নিশ্চুপ বসে রইলো। বেশ কিছু সময় পর কাঁকন সুলতানা নিজে চা নাস্তা রেখে গেলেন। সকলের কথোপকথন চলতে লাগলো। এর মাঝেই অরুপ জিজ্ঞেস করলো, “রাতে কি বারবিকিউ করবি?”

প্রীয়তা চেঁচিয়ে বলে উঠলো, “না‌ না রাতে না প্লিজ। আমি থাকতে পারবো না। করলে বিকালে করো।”

রাফিও সাথে সাথে বলল, “আমিও থাকতে পারবো না। শুক্রবারের দিন তাও অনেক বাহানা দিয়ে এসেছি‌। সারাদিন থাকবো শুনে মা তো হাজার প্রশ্ন করছিল।”

ইমরান কপাল চাপড়ে বলল, “তোরাও পারিস, হবে কি হবে না তার নাই ঠিক। এরা থাকা না থাকার বিচার করতে বসেছে।”

মেঘ হেসে বলল, “তোরা চাইলে ব্যবস্থা করা যায়।”

রুবাই বললো, “আজ তো রাতে আমাদের বাড়ির সকলেরও ডিনারের দাওয়াত। আজ না করে কাল করলে হয় না?”

প্রীয়তা জিজ্ঞেস করলো, “তোরা কি এবাড়িতে থাকবি কয়েকদিন?”

রুবাই মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ। আমার তো ইচ্ছে অনেকদিন থাকবো।”

রাফি বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ মামার বাড়ি রসের হাঁড়ি। তো বন্ধুরা, এই মামার বাড়ি নিয়ে আমি একটা কবিতা আবিষ্কার করেছি তোমরা কি শুনতে চাও?”

সকল বন্ধু মহল একটু নড়েচড়ে বসলো। রাফির কবিতা মানে লাফিং গ্যাসের ডিব্বা। রুশা খুব আগ্রহ নিয়ে বলল, “এটাই তো আমি শুনতে চাইছিলাম। তোমার কবিতা ছাড়া কোন আড্ডা জমে বলো?”

রাফি খুশিতে চকচকে হয়ে উঠে বলল, “বিশ্বাস করো রুশা এই জন্যই তোমাকে আমার এত ভালো লাগে। এই পৃথিবীতে আর কেউ আমার কবিতার করুক বা না করুক, তুমি ঠিকই করো।”

অরুপ বলল, “তুই শুরু কর। আগে।”

রাফি গলা খাঁকারি দিয়ে বেশ ভাবভঙ্গি করে শুরু করলো, “মাত্র দুই লাইন ভেবেছি, ওটাই বলি…

কবিতা মামার বাড়ি

লিখেছেন: আমি রাফি

মামার বাড়ি রসের হাড়ি,

রস ফুরালে জুতোর বাড়ি।

এরপরে এখনো লিখে উঠিনি। সারাদিন চিন্তা করে করে লিখে ফেলি এরপর সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ কবিতা শোনাবো।”

সকলেই প্রতিক্রিয়া বিহীন তাকিয়ে রইল। ইমরান হেসে বলল, “তুই কবিতা শেষ কর। সন্ধ্যায় মামা-মামী কে বসিয়ে এরপর তোর কবিতাটা শোনানো যাবে।”

রাফি চেঁচিয়ে বলে উঠলো, “না না, মামণি কি ভাববে আমাকে!! মনে করবে সে জুতোর বারি দিচ্ছে।”

সকলের আড্ডা লম্বা সময় চললো। জুম্মার আজান দেবার একটু আগ মুহুর্তেই সকলে উঠলো। বাড়ি থেকে একেবারেই কাছে মসজিদ। মেঘ, ইমরান, রোদ্দুর আর রাফি একসাথে তৈরি হয়ে নামাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো। অরুপ, প্রীয়তা আর রুবাই খোলা বারান্দাতেই বসে রইলো। রুশা নিচে নামলো কাঁকন সুলতানাকে দেখতে। কাঁকন সুলতানা রান্নাঘরে,বেশ কিছু রান্না শেষ তবে যা কিছু বাকি সেটাই শেষ করতে শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে খুন্তি চালাচ্ছেন কাঁকন সুলতানা। রুশা চুপটি করে কাঁকন সুলতানের পিছে গিয়ে দাঁড়ালো। রুশার কাছে এ দৃশ্য স্বাভাবিক আর সুন্দর মনে হলো। সে তো বরাবরই এমন দেখেছে, তার মা রান্না করতো নিজ হাতে। রুপমহলের রান্না তো সাহায্যকারীরা করে। এবাড়িতেও সাহায্যকারীর কমতি নেই। তাও নিজ হাতেই কাঁকন সুলতানা রাঁধছেন। কাঁকন সুলতানা রুশাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “কিছু প্রয়োজন তোমার?”

রুশা মাথা নেড়ে না বুঝিয়ে বলল, “আপনাকে রান্না করতে দেখে খুব ভালো লাগছে।”

কাঁকন সুলতানা হেসে বললেন, “বড্ড আজব কথা বলতো তো তুমি। রান্না করতে দেখে আবার কারো ভালো খারাপ লাগে নাকি!”

রুশা মৃদু হেসে বলল, “আমি আসলে ছোটবেলা থেকে মাকে রান্না…” কথাটা সম্পন্ন করতে পারল না। তার আগেই সে নিজেই থেমে গেল। কেন থামল, তার ঠিক পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা রুশার কাছে নেই। কাঁকন সুলতানা রুশার মুখের দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললেন, “থামলে কেন? বলো? শশী আপা আগে থেকেই বেশ ভালো রান্না করতেন। রান্না তো পারতো না শিশির। কি জঘন্য রান্না করত!!”

রুশা অবাক হয়ে কাঁকন সুলতানের মুখের দিকে তাকালো। এই নারীটির মুখভঙ্গিতে কোন পক্ষপাতিত্ব নেই। কি অনায়াসে সবকিছু গ্রহণ করছেন। সব যেন অত্যাধিক স্বাভাবিক। তবে সে কেন স্বাভাবিক নয়? কাঁকন সুলতানা বাটিতে একটুকরো মাংস এগিয়ে দিয়ে বললেন, “দেখতো মজা হয়েছে কিনা। আমি কিন্তু বাবা তোমার মায়ের মত এত ভাল রান্না করতে জানি না।”

রুশা হাসলো। এটা সত্যি কারের হাসি। তার মনে হল সে দীর্ঘদিন পর তার বাড়িতে আছে। সবকিছু স্বাভাবিক। তার এই অস্বাভাবিক জীবনে হুট করে এই মানুষটা স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলছে। রুশা কাঁকন সুলতানার হাত থেকে মাংসের বাটিটা নিয়ে খেতে যাবে তার আগেই মেঘ এসে বলল, “মা, তুমি একদিনের মধ্যে তোমার ছেলেকে ভুলে গেলে? আমায় একবার ডাকলেও না মাংস টেস্ট করতে?”

কাঁকন সুলতানা আর একটুকরো মাংস মেঘের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “আমার মেয়ের খাবারের দিকে নজর দিও না। আর তুমি না মাত্র বেরোলে নামাজের জন্য? দুই মিনিটে নামাজ হয়ে গেল?”

মেঘ মাংসটা মুখের মধ্যে দিয়ে চিবুতে চিবুতে বলল, “টাকা নিতে এসেছি। আব্বুর আজকে মসজিদে টাকা দেওয়ার কথা ছিল, সে টাকা রেখেই চলে গেছে। এখনো খুতবা চলছে, তাই আব্বু বলল গিয়ে নিয়ে আয়, দু’মিনিটেরই তো রাস্তা। তাই নিতে এলাম। আর এসেই দেখছি তুমি সব ভালবাসা উজাড় করে রুশাকে দিয়ে দিচ্ছো।”

রুশা মাংসের হাড্ডিটা রেখে বলল, “তুমি তো বড্ড হিংসুটে, তোমাকে তো আমি ভালো ভেবেছিলাম।”

কাঁকন সুলতানা হেসে বলল, “একদম বাবার মত হয়েছে। ওর বাবাও বড্ড হিংসুটে।”

মেঘ বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল, “বাহ এখন সব দোষ মেঘানন্দ ঘোষ!”

কাঁকন সুলতানা আর রুশা দুজনেই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। মেঘ আর কথা না বাড়িয়ে, আবার মসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো।

দুপুরের আয়োজন পরিবারের সকলের জন্য। তাছাড়াও এই আয়োজনে আরো যুক্ত হয়েছেন কাঁকন সুলতানার ছোট ভাই কাদের খন্দকার আর তার পরিবার। এনাদের বাড়ি আর মেঘদের বাড়ির মাঝে শুধু একটা বাউন্ডারির দূরত্ব। সকলেই দুপুরের খাবার শেষ করলো বড্ডো আয়োজনে। মেঘের ছোট মামা কাদের সাহেবের জমজ এক মেয়ে, এক ছেলে। দুজনেই বেশ ছোট। প্রাইমারির গন্ডি পেরোয়নি। তবে তাদের নিজের বাড়ি থেকে এ বাড়িতেই দিন রাত পড়ে থাকা। মানুষ বোধহয় সত্যিই আদরে আটকায়।

দুপুরের খাবার শেষ করে সকলেই সিদ্ধান্ত নিলো বারবিকিউ বিকেলেই করা ভালো। কাল তো সকলের কলেজও আছে। এসব আয়োজন ছুটির দিন ছাড়া জমবে না। একটু বেলা পরতেই সেই অনুযায়ি সকলে ব্যস্ত হয়ে উঠলো। তবে বরাবরের মতোই রুশার কোন কাজ নেই বসে থাকা ছাড়া। সে উঠে কাঁকন সুলতানার কাছে গেল তার কাজে সামান্য সাহায্য করতে। তবে সাহায্যকারীরাই এখন সবটা সামলাচ্ছেন, সেখানেও রুশার কোন কাজ নেই।

চলবে.... 💝

#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ

#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)

#সাদিয়া_তিন্তি

বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না।

{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন