ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

৩৩তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

৩৩.

গাড়িটা কলেজের ভিড় ছেড়ে বেরিয়ে গেল। জানালার ওপারে সকালটা গাঢ় হলো, কিন্তু রুশার ভেতরে সব এখনো থমথমে। মুখে কোনো শব্দ নেই। সে শুধু বাইরে তাকিয়ে আছে, অথচ কিছুই দেখছে না।

মেঘ একঝলক পাশ ফিরে তাকালো। এই নীরবতা তার অচেনা নয়। রুশা যখন ভেতর থেকে ভেঙে পড়ে, তখনই সে এমন চুপচাপ হয়ে যায়। কিন্তু তবুও মেঘ কিছু বললো না। কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো শব্দ নয়। কেবল স্টিয়ারিং ধরে সামনে তাকিয়ে রইলো। সে যে রুশার পুরোনো ক্ষত আরেকবার কাঁচা করতে ছুটছে। সে আজ যেটা খোলসা করবে সেটা অবশ্য আরো অনেক আগে রুশাকে জানাতে চেয়েছিল। তবে রুশা মানুষিক ভাবে ভঙ্গুর। যদিও আজও সে মানুষিক ভাবে প্রস্তুত নয়, তবে আজ যে তাকে জানাতেই হবে। এই নারী মূর্তিটা যে একান্তই তার। এই সমগ্র মহা বিশ্বে একমাত্র তার অধিকার এই নারীর উপর। মেঘ রুশার অনুভুতির সকল গভীরতা জানে। এটা শুধু জানা নয়, তার ভালোবাসার বিশ্বাস। তাই রুশাকে সময় দেওয়াটাই আজ তার সবচেয়ে বড় কাজ।

প্রায় আধা ঘণ্টার পথ পেরিয়ে গাড়ি প্রবেশ করলো একটা পুরনো মহল্লায়। রাস্তার দু’ধারে মুদিখানা, ভাঙাচোরা ফুটপাথ‌, রুশার অতি পরিচিত সব স্থাপত্য। তাও এসব যেন রুশার মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হলো। যদিও তার চোখ জানালার বাইরের বদলে যাওয়া প্রকৃতিতে নিবদ্ধ তাও সব যেন তার চোখের অগোচরে।

হঠাৎ গাড়ি থামতেই রুশা একটু নড়েচড়ে উঠলো। চোখের পাতা ভারী করে বাইরে এদিক ওদিক তাকালো তাদের অবস্থান বুঝতে। তবে তাকাতেই যেন মুহূর্তে রুশার নিঃশ্বাসটা আটকে গেল। এটা তো… তার বাড়ি, তার ঘর।

রুশা কোন শব্দ উচ্চারণ ছাড়া গাড়ি থেকে নেমে এলো। মহল্লায় ব্যস্ততা, পাখিরা কিচিরমিচির করছে। এলাকার সব যেন একেবারেই একই আছে। বাড়িটাও একই। নিচ তলার ভাড়াটিয়া রোহানের মা বারান্দার আজও কাঁচের কৌটা ভরা ভরা আচার রোদে দিয়েছেন। শুধু অসহায়ের মতো থমকে আছে দোতলার ঘর গুলো। এই বাড়ির মানুষ গুলো সেই যে সেদিন বের হলো, আর তো বাড়ি ফিরলো না!! রুশা নিজেও ঘরে ফেরেনি।

আচ্ছা, বাড়ি থেকে একবার বের হলে কি আর বাড়ি ফেরা হয় না? রুশা যদি একবার জানতো যে সেদিন বেরিয়ে যাওয়াটাই তার শেষ বেরিয়ে আসা, তবে কি সে ওই ঘরেই আটকে থাকতো না?

রুশার এই ভাবনার মাঝেই মেঘও গাড়ি থেকে নেমে ওর দিকে এগিয়ে এলো, “একবার উপরে যাবে না?”

রুশা মাথা নাড়লো, “ওটুকু সাহসে হবে না। এ ঘর এখনো ভাড়া হয় নি? নাকি নতুন যারা আছেন তারাও থাকে না?”

“সে সব উপরে গিয়েই জেনে নিও। চলো।”

রুশা আর বাঁধ সাধল না। তারও যে একবার ফের ছুঁয়ে দেখতে মন চাইছে সেই সব হারিয়ে যাওয়া বাস্তবতা, যা থেকে পালিয়ে সে আজকের দিনে এসে পৌঁছেছে। রুশা কদম বাড়ালো। নিচ তলার পুরোনো সিঁড়ি অতিক্রম করে দোতলায় তালা বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়ালো। মেঘও তার পিছেই সেখানে পৌঁছালো। রুশা তালাটা হাতে নিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো শুধু। মেঘ নিজের পকেট থেকে একটা চাবি বের করে রুশার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “তোমার চাবি।”

রুশার সমগ্র শরীর ঠান্ডা হয়ে এলো চাবিটার দিকে তাকিয়ে। এটা সেই চাবিটা যেটা ওর মায়ের কাছে থাকতো। থানা থেকে ওর মায়ের যে সব জিনিসপত্র যা ফেরত দিয়েছিল তা তো রুশার হাত অব্দি পৌঁছায় নি। এগুলো কি তবে মেঘের কাছে? ফ্লাটটার কি তাহলে এখনো মেঘ ভাড়া পরিশোধ করে চলেছে?

রুশার ভাবনারা জবান অব্দি আসার আগেই মেঘ অবস্থা স্বাভাবিক করতে একটু মজার ছলে বলল, “দরজাটা খোলার জন্য কি শুভ সময় দেখবো? অরুপকে বলি পঞ্জিকা দেখে দিতে।”

রুশা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো। মেঘ একেবারেই সহজ স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো শুধু। রুশা আর কথা না বাড়িয়ে চাবিটা ঘুরিয়ে তালাটা খুললো। রুশা দরজাটা ঠেলতে না ঠেলতেই ভেতর থেকে ভেজা ধুলোর গন্ধ একধাক্কায় তার বুকের ভেতর ঢুকে গেল। যেন সময় থমকে আছে… কেউ কোনো কিছুকে ছুঁয়েও দেখেনি তার অনুপস্থিতিতে। ভেতরে পা দিতেই শিরদাঁড়া বেয়ে একরাশ কাঁপুনি নেমে এলো। ফ্ল্যাটটা পুরো নিস্তব্ধ। সেই পুরনো ড্রয়িংরুম যেখানে সন্ধ্যার পর তার মা চা বানিয়ে রাখতেন, সেই একই জায়গায় চায়ের কাপ রাখা আজও। শুধু সবকিছুতে মোটা ধুলোর আস্তরণ। সোফার হাতল, টিভির ওপরে ফ্যাকাশে কাপড়, দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো ক্যালেন্ডারটা সবই যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে রুশাকে দেখছে।

রুশা একেকটা ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। ডাইনিং এর ড্রয়ারে রাখা নুন, চিনি এখনো আধখোলা। রান্নাঘরটা একই রকম এলোমেলো চুলার পাশেই একটা পুরোনো হাঁড়ি, যার ঢাকাটাও পড়ে আছে পাশে।

রুশা থামতে পারছেনা নিজেকে, হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে নিচ্ছে সবকিছু। যেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে প্রমাণ করতে চাইছে এই জীবনটা সত্যি ছিল, তার অস্তিত্ব ছিলো এখানে। রুশা ধীর কদমে নিজের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো। এই ঘরটা তার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় কোণা ছিল।

দরজাটা আলতো ঠেলে ভেতরে যেতেই রুশার বুকটা যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। ঘরটা ঠিক আগের মতোই। একটুও বদলায়নি। শুধু ধুলো, অসংখ্য ধুলো মানে সময়ের স্তর জমে আছে।

সূর্যালোক পর্দার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পুরোনো টেবিলের ওপর পড়ছে। সেই টেবিল, যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে অগোছালো এক রাজ্য। সেখানে সব থেকে উঁচুতে টেবিলের ঠিক মাঝখানে ‘পরিণীতা’ বইটা। পাতা দুই তিন ভাঁজ হয়ে আছে, বুকমার্ক অর্ধেক বের হয়ে আছে। সে তো একবারও জানতো না বইটা আর শেষ করে ওঠা হবে না। জানলে কি বইটা একরাতে শেষ করে নিতো সে?

রুশা বইটার ওপর হাত রাখলো। বইটা যেন তার স্পর্শ চিনে পুরোনো কোনো ব্যথা ছুঁয়ে দিলো।

ঠোঁট কেঁপে উঠলো, কিন্তু কোনো শব্দ এল না।

রুশা যেদিন প্রথম এ শহরে এলো সেদিন কি সে জানত তার জীবন এভাবে ওলটপালট হয়ে যাবে? জানলে কি করতো? পালাতো সব সত্য বাস্তবতার থেকে? এটাই হয়তো উচিত ছিল।

রুশা ধীরে বসে পড়লো নিজের বিছানার কিনারায়। হাতে এখনো সেই পরিণীতা। আঙুলের ডগায় ধুলো লেগে গেল, কিন্তু সে সেই ধুলো মুছলো না। যেন এই ধুলোই তার হারিয়ে যাওয়া দিনের স্মৃতি, তার বাস্তবতা।

মেঘ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। কিছু বলছিল না। শুধু তাকিয়ে ছিল সেই মেয়েটার দিকে যে তার জীবনের সবচেয়ে গভীরে লুকিয়ে থাকা ব্যথার জায়গাটা আজ আবার খুলে দেখছে। অবশ্য আজ এই ক্ষতটাকে খুঁড়ে গাঢ় করতেই তো এখানে আসা।

রুশার নিশ্বাস কাঁপলো। বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে আসলো। সে ফিসফিস করে, নিজের কাছেই স্বীকার করল, “সব… একেবারে একই আছে… কিছুই বদলায়নি… শুধু মানুষগুলো নেই।”

কথাটা বলে সে আরেকবার চারদিকে তাকালো। এটা বাড়ি নয়, এটা তার জীবনের একটা সুন্দর অধ্যায়।

মেঘ ধীরে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল, “তুমি ভেঙে পড়বে জানতাম। তাও জরুরি ছিল।”

রুশা চোখ তুলে তাকালো। চোখে শুধু প্রশ্ন আর প্রশ্ন তার। তবুও রুশা চুপচাপ বসে রইল, ধুলো জমা মেঝে, পুরনো ফার্নিচার, অচেনা নির্জনতা সবটাই যেন একটা স্মৃতির ক্যানভাস। হঠাৎই মেঘ ধীর পায়ে এগিয়ে এসে রুশার পাশে দাঁড়াল। তার হাত থেকে একটা পুরনো, ঠাণ্ডা ধাতুর চাবি রুশার হাতে রেখে বলল, “এটা তোমার।”

রুশা প্রথমে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, এরপর ভ্রু কুঁচকে বলল, “এটা তো এই ফ্লাটের চাবি!”

মেঘ কণ্ঠ নরম করে বলল, “দু’- বছর আগেই তোমার নামে নেয়া হয়েছিল এটা। তোমার মা এই ফ্ল্যাটটা তোমার জন্য কিনেছিলেন।”

মেঘ কাগজের একটি প্যাকেট এগিয়ে ধরলো। তাতে এক গুচ্ছ নথিপত্র, এই ফ্ল্যাটের কাগজপত্র: রেজিস্ট্রেশন, খরিদ-বিক্রির দলিল, কর্পোরেশন ফি-র রশিদ, এমনকি পুরনো কমিশন রসিদ। মেঘ এগিয়ে দিয়ে বলল, “সব কাগজপত্র এখানে আছে।”

রুশা কাঁপা গলায় বলল, “কিন্তু … মা বলেছিলেন, আমরা ভাড়ার ফ্ল্যাটে থাকি। প্রতি মাসে উনি ভাড়াও পরিশোধ করতেন।”

মেঘ বলল, “সে সব বিস্তারিত বলতে পারছি না। বলতে পারো, বিস্তারিত জানতেই আমি থানায় গিয়েছিলাম মিস্টার মিকাইলের সাথে দেখা করতে। কিন্তু তিনি নিজেও কিছু জানেন না।”

রুশার হাত থেকে চাবি মাটিতে পড়তে বসল, গলায় ভয়, চোখে ভেতরের এক অচেনা স্বর। কিন্তু সে চুপ করে রইল।

রুশা কাগজ গুলো গভীর মনোযোগে দেখতে লাগলো। হ্যাঁ সব রেজিস্ট্রেশন আরো দু বছর আগের তারিখ। তার মায়ের স্বাক্ষর। তার নিজের স্বাক্ষর, ছবি সব এখানে। কিন্তু রুশা এসবের কিছুই জানে না। রুশার চোখ ভরে এলো। সব কিছু এতো অগোছালো কেন তার জীবনে। সে ওই জল ভত্তি চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি এসব কিভাবে পেলে? কি করে জানলে এই ফ্লাটটা আমার নামে?”

মেঘ একটু ধীরে বলল, “আমার মনে হয়েছিল এই বাসাটা তোমার ভীষণ প্রিয়। তাই এটাকে তোমার নামে রাখতে চেয়েছিলাম। তখন খোঁজ করে জানতে পারি ফ্লাটটা তো আগে থেকেই তোমার নামে।

আমি জানতাম তোমার ঠিক এই একই রিয়েকশন হবে তাই আগে কয়েকবার জানাতে চেয়েও পারি নি। কিন্তু এখন না জানালেই নয়।”

রুশা একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলল, “আমার মা সব জানতেন। তিনি ইচ্ছে করে এই শহরে এসেছেন, ফ্লাট আমার নামে নিয়েছিলেন। মানে তিনি সব পরিনতি জানতেন।”

“সম্ভবত। তবে তোমায় আরেকটা জিনিস জানানোর আছে। তোমার মা তোমার খরজের টাকা তোমার বাবার একাউন্ট থেকে কিংবা তোমার জন্য বরাদ্দ কোথাও থেকে নেন নি‌। সবটাই তিনি ব্যবহার করেছেন তার নিজের থেকে।”

রুশা শুধু নির্বাক চেয়ে রইল। তার চোখ হাজার প্রশ্ন ছুঁড়ছে। মেঘ সব প্রশ্ন বুঝে নিলো নির্দ্বিধায়। মেঘ বলল, “প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল। তোমার চাচা সানন্দাপুরের এতো বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব সে নাকি এতো বছর ধরে নিজের ভাইয়ের মেয়েকে খুঁজে ফিরতে পারলো না। তাছাড়া শেহতাজ সে তো আর ছোট মানুষ নয়। সব জায়গায় শাসন চালাতে পারে, আর একটা মানুষকে খুঁজে বের করতে পারে না! আর তোমার নাম, বাবার নাম কিছুই তো পরিবর্তন হয় নি।”

রুশার গলা কাঠ হয়ে এলো, “সেটা তো ঠিক!”

“হ্যাঁ আর এ কারণেই একটু খোঁজ নিচ্ছিলাম। তখন জানতে পারি তোমার মা এমন ভাবে গায়েব হয়েছিলেন যাকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। নিজের গবেষণা ইনস্টিটিউট তৈরি করেছিলেন, সেখান থেকেই উনি সব খরচ চালাতেন। আর তোমার নামে যতো প্রপার্টি, ব্যাংক একাউন্ট সব এখনো সেভাবে পড়ে আছে। তোমার বাবার উইল অনুসারে সেগুলো তোমার ২১ বছর বয়স পর্যন্ত গচ্ছিত ছিল। তাছাড়া তোমার মা রিস্ক নিতে চাননি যে, ধরা পড়ে যাবেন। তবে এ বাড়িটা তোমার নামে কেন করেছেন সেটা সঠিক বলতে পারছি।”

রুশা জল চোখে হাসলো, “তিনি সব জানতেন। তিনি জানতেন আজকের পরিনতি। তাই বোধহয় ইচ্ছে করেই আমার নামে এটুকু রেখে গেছেন।”

মেঘ রুশার কাঁধে হাত রেখে বলল, “আজকের কি পরিনতি? তোমার বাবা তোমার জন্য সম্রাজ্য রেখেছেন। তাছাড়া তোমার মা শশীর রহমান অত্যাধিক বুদ্ধিমতি মহিলা ছিলেন। কি ভেবে ফ্লাটটা নিয়েছিলেন জানা নেই।”

চলবে.... 💝

#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ

#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)

#সাদিয়া_তিন্তি

বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না।

{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন