ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

৩২তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

৩২.

চারপাশের নিস্তব্ধতা যেন একটু হলেও শান্ত করল তাকে। সে তার বাবার চেয়ারটায় এগিয়ে গিয়ে বসলো। চেয়ারে শরীরটা এলিয়ে দিয়ে পড়ে রইলো লম্বা সময়। চোখের কোণে জমে থাকা জল শুকিয়ে এলো, কিন্তু বুকের ভেতরের চাপ এখনও ভারী হয়ে দম বন্ধ করছে তার। ঠিক তখনই রুশার হালকা খসখস শব্দ অনুভব হলো। মনে হলো ঘরের বারান্দায় যেন কেউ হাঁটছে, পায়ের আওয়াজ ঠিক স্পষ্ট নয়। রুশা চেয়ার ঠেলে মুহূর্তেই থমকে দাঁড়ালো। তার শরীরটা একেবারে সজাগ হয়ে উঠল।

ঘরটা সম্পূর্ণ অন্ধকার, চাইলেই দেয়াল ঘড়ির থেকে সময় দেখার উপায় নেই। তবে শেষ রাত চলছে রুশা নিশ্চিত। বারান্দার দিকে এগিয়ে গেল রুশা। দরজার কাচ ঠেলে বাইরে তাকাতেই নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল কিছুক্ষণের জন্য। পুরো বারান্দা ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ঘেরা। আর সেই ধোঁয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে শেহতাজ। এক হাতে সিগারেট, অন্য হাতে রেলিং ধরে অনায়াস ভঙ্গিতে ধোঁয়া ছাড়ছে। আচমকা এভাবে দেখলে যে কেউ তাকে কোন অশরীরী ভেবে উল্টো পথে দৌড়বে। তবে রুশা এই লোকের এমন আজগুবি স্বভাবের সাথে এখন পরিচিত। রুশা কোন শব্দ ব্যায় না করে কদম পেছালো। এটা অবশ্য তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যেখানে শেহতাজ আছে, সেখান থেকে দৌড়ে যাওয়াই তার একমাত্র কাজ। শেহতাজ একবারও রুশার মুখের দিকে তাকালো না। রুশার উপস্থিতি বুঝতে যেন তার মুখে তাকানোর প্রয়োজনই নেই। শেহতাজ পরিষ্কার গলায় বলল, “কান্না শেষ?”

রুশা থেমে গেল। তার বুকটা একটু কেপে উঠলো। কিন্তু মুখে কোনো শব্দ আসলো না। এই লোকটা এতো অমিমাংসিত কেন? তার কি এই লোকটাকে নিয়েও অনুসন্ধান করা উচিত?

শেহতাজ সিগারেটটা শেষ টান দিয়ে ফ্লোরে চেপে নিভিয়ে ফেলল। ধোঁয়া তার মুখের সামনে ভেসে রইলো কোন এক নাটকিয় উপায়ে। সে আবারো স্পষ্ট আওয়াজে বলল, “এ ঘরে আমি ছাড়া কেউ আসে না। বাইরের দরজায় ছিটকিনি যদি না থাকে, তবে বুঝে নিবি ভেতরে আমি আছি।”

রুশা অবাক চোখে কথাটা গিললো। তার গলাটা শুকনো। সে ধীর কণ্ঠে বলল, “আমি… পরের থেকে লক্ষ্য রাখবো।”

শেহতাজ হালকা হাসল, তাচ্ছিল্যের মতো, “তোকে লক্ষ্য রাখতে বলিনি। তুই আমাকে এড়াতে চাস, তাই এড়ানোর পথটাই শিখিয়ে দিলাম।”

রুশা মাথা নিচু করলো। তার পক্ষে শেহতাজের দিকে তাকানোও কঠিন হয়ে গেল। বরাবরই কঠিন হয়। শেহতাজ এমন এক চরিত্র, সে যে স্থানেই থাকে সমস্ত আকর্ষণ নিজের দিকে আকর্ষিত করে নিয়ে নেয়। শেহতাজ সোজা রুশার পাশ কাটিয়ে বেলকনি থেকে ঘরে ঢুকে গেল। একে একে সব লাইট জ্বালিয়ে অন্ধকারের অস্তিত্বই মিটিয়ে দিলো। তারপর কিছু না বলে দরজার দিকে এগোল। বেরিয়ে যাওয়ার আগে সে একবারও পেছন ফিরে তাকালো না। রুশাও ফিরে দেখলো না। ও জানে শেহতাজ ফিরে না দেখেই চলে যাবে। আর আজ এ ঘর মুখো আর হবে না।

রুশা বারান্দার অন্ধকার-আলো মিশ্র জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইলো বোকার মতো। সমগ্র ঘরে আলো জ্বলে আছে, কিন্তু তার ভেতরটা আরও অন্ধকার হয়ে গেছে। তার মতে মেঘকে বোঝা, মেঘের রহস্য ভেদ করা অনেক কঠিন। কিন্তু শেহতাজ? অদ্ভুতভাবে লোকটাকে বুঝে ফেলা সহজ… খুবই সহজ। তার কথা কম, কিন্তু স্পষ্ট। তার রাগ, তার উপস্থিতি, তার অসহ্য প্রভাব, সবই খোলা। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, শেহতাজ নিজেও বুঝে ফেলছে যে রুশা তাকে এড়িয়ে চলছে। আর সেটাকেই সে সহজ করছে।

রুশার ভাবনারা লাগাম ছাড়লো। তার ভেতরের চাপ আর মাথার ঘুরপাক খাওয়া ভাবনা থেকে নিজেকে সরাতে, রুশা আবারো চেয়ারের কাছে গেল। টেবিলে এখনো রাখা রয়েছে “রুপনগরের ইতিহাস” বইটা, রুশা এটাকে হাতে তুলে নিল। এই বইটা সে এবাড়িতে আসার পর প্রথম দিন থেকেই পড়ছে। এবং তার নিজের অজান্তেই অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলেছে সে। তবে বইটা যেন কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না। কচ্ছপের গতিতে আগাচ্ছে। এমনটা কখনোই হয় না। এর থেকে ভারি ভারি বই একরাতে পড়ে উঠার অভ্যাস রুশার আছে। সে আর কাঁদতে চায় না। তার মস্তিষ্ককে অন্য দিকে নেয়া প্রয়োজন। হয়তো এই বইটাই তার আজকের সমাধান…

রুশা চেয়ারের উপর পা তুলে ভালো করে আরামে বসে বইটা কোলের উপর নিয়ে পড়তে শুরু করলো।‌ পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে সে একটা গভীর শ্বাস টানলো। লেখাগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতেই তার মাথার ভার কিছুটা কমে গেল।

রুপনগরের পুরোনো স্থাপত্যের রহস্য, রাজবাড়ির গোপন কুঠুরি, পূর্বপুরুষদের বংশবৃত্তান্ত… সব কিছুই তাকে সাময়িক হলেও অন্য জগতে নিয়ে গেলো। এটা অবশ্য তার নিজেকে বুঝ দেয়ার মাধ্যম। তবে মাধ্যমটাই যেন এবার রুশাকে অন্যভাবে পাকড়াও করলো। রুপনগরের ইতিহাসে শেখদের নাম কোথায়? এতো মস্ত জমিদারি তাও এদের অস্তিত্ব নেই? চৌধুরীদের ইতিহাস প্রতি পাতায় পাতায়। রুপনগরে এক চেটিয়া অধিপত্য ছিল চৌধুরীদের। এই একটা প্রশ্ন যেন ওকে আরো নাড়িয়ে তুলল। সব ভাবনা বাদ দিয়ে শুধু বইয়ে মনোনিবেশ করলো। পাতায় পাতায় একেবারে শেষ সীমানায় এসে খুঁজে পেলো শেখদের কথা। চৌধুরীরা ছিলেন বনিক সমাজের লোক। যাদের জমিদারি চলতো হীরের ব্যবসার মাধ্যমে। শেখ ইব্রাহিম ছিলেন জমিদার আবেদ চৌধুরীর খাস লোক। হীরের ব্যবসা পরিচালনার মুখপাত্র। আবেদ চৌধুরী নিসন্তান ছিলেন। তিনি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ায় সমগ্র জমিদারি হস্তান্তর হয় তারই জুয়ারি ভাই আসাদ চৌধুরীর কাছে। যিনি জুয়ায় হারান অর্ধ জমিদারি। ঠিক এই সময় মাথা চেড়ে ওঠে দখলদার। যাদের মাঝে সব থেকে শক্তিধর প্রতিনিধি ছিলেন শেখ ইব্রাহিম। যিনি প্রধানত জয় করেন রুপনগরের অধ্যাংশ। এবং পরবর্তীতে তার পুত্র ইসরাফিল শেখ একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন রুপনগরের বড় একাংশে। তবে রুপনগরের পাহাড়ি এলাকা বাদে সমভূমির অধিপত্য জোর করে ছিনিয়ে রাখেন চৌধুরী বাড়ির ছোট ছেলে রেদোয়ান চৌধুরী। যার প্রতাপ এবং যুদ্ধবিদ্যা, তিক্ষ্ণ বুদ্ধির সাথে পেরে ওঠেনি ইসরাইল শেখ নিজেও। সমানে সমানে টক্কর হওয়ায় তেমন কোন এক পাক্ষিক অধিপত্য যায় না কারো কাছেই। এটুকুই বর্ননা করা এই বইয়ে। এরপর এর ইতিহাস কোথায়?

ইসরাফিল শেখ মানে রুশার দাদা। তিনি দখল করে নেন চৌধুরীদের সর্বস্ব। আর তাদের মাটিতেই শাসন পাতেন। কাহিনী শেষ। আর পৃষ্ঠা নেই। এখানে ১৯৫০ সাল অব্দি ইতিহাস লেখা। তার মানে রিদা চৌধুরীর বিয়ে কিংবা এর পরের কাহিনী? তবে তো এই বইয়ের দ্বিতীয় খন্ড থাকার কথা!! এখানে তো কাহিনী শেষ হতে পারে না। রুশা মাথাটা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো। তার শরীরেও তবে এই বিশ্বাসঘাতকদের রক্ত বইছে। কোথায় সমগ্র অংশ! রিদা চৌধুরী তবে এই রুপনগরের আসল জমিদার কন্যা। তবে কার কন্যা?? রেদোয়ান চৌধুরী নাকি আবেদ চৌধুরী?

রুশার হিসেব যেন মিলেও আর মিলছে না। সে একবার নিজের মধ্যাঙ্গুলে চকচক করা পান্নার আংটিটা দেখে নিলো। এটা রিদা চৌধুরীর অস্তিত্ব। রুশা আর ভাবনা না বাড়িয়ে উঠে গিয়ে সমগ্র আলমারি তন্য তন্য করে খুঁজলো।

নেই… কোথাও আর কোন রুপনগর সংক্রান্ত বই নেই। সে চেয়ার টেনে আলমারির উপর থেকে শুরু করে একেবারে তলানি অব্দি সব খুঁজলো কোথাও কিছু নেই। হাজার কোটি নানান নামের বই পড়ে আছে। তবে রুপনগর সংক্রান্ত কিছু নেই। রুশা চোখ বন্ধ করে টেনে নেয়া চেয়ারটায় বসে একটা ছোট্ট শ্বাস টেনে নিলো। এটা অবশ্য তার নিজের উত্তেজনাকে ধাতস্থ করার চেষ্টা।

বাইরের লালিমা রাত পেরিয়ে ভোর ছুঁয়ে নিয়েছে তাও অনেকক্ষণ, ফজরের আজান কানে যেতেই রুশা একবার চোখ বন্ধ করে নিজেকে বুঝিয়ে নিলো। সব কিছু এতো বেশি ছড়ানো যে, একটা একটা করে সব গোছাতে হবে। সে এ কক্ষ থেকে বেরিয়ে সোজা নামাজ কক্ষে প্রবেশ করলো। একেবারে আজানের সময় এ কক্ষে কম মানুষই থাকে। আজানের মিনিট দশের মাঝে সকলে আসতে শুরু করে। এ বাড়িতে এই নামাজ কক্ষ শুধু মাত্র অন্দরমহলের নারী সদস্যদের জন্য। পুরুষ সদস্যদের জন্য মহলের সাথে মসজিদ রয়েছে। আগে শুধু মহল বাসির জন্য হলেও এটা এখন উন্মুক্ত সকলের জন্য। রুশা ওযু করে নামাজ শেষ করে নিজের কক্ষে গেলো। তার যে করেই হোক বাকি ইতিহাস জানতে হবে। রিদা চৌধুরীর সত্য জানতে হবে, চন্দ্রমহল অব্দি পৌঁছাতে হবে। কিছু না মিলুক, তাও মনের শান্তি যে সে অনুসন্ধানের সর্বোচ্চটা করেছে। কিন্তু সে জানবে কি করে রুপনগরের ইতিহাসের দ্বিতীয় খন্ড আছে কিনা?

রুশার নজরে এলো টেবিলের কোনায় চার্জে পড়ে থাকা তার ফোনটা। সে এগিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিলো… এই ফোনটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ অসাধ্য সাধন করে ফেলছে আর সে এখনো বসে বসে ভাবছে কি করা যায়। রুশা গুগলের সার্চ বক্সে লিখলো, রুপনগরের ইতিহাস। অনেক গুলো ডকুমেন্টের সাথে তার বাবার ঘরে রাখা বইটার প্রচ্ছদ দৃশ্যমান হলো। রুশা এবার আবারো গুগলে সার্চ করলো, রুপনগরের ইতিহাস দ্বিতীয় খন্ড। কিন্তু ফলাফল আসতে সময় লাগলো না।

চোখ বড় হয়ে গেল রুশার। “বাংলায় একটুকরো রুপনগর – (প্রকাশ: ১৯৮০)” মানে দ্বিতীয় খন্ড অন্য নামে বেরিয়েছে। সরাসরি চোখে পড়লো লিঙ্কটা। রুশা দ্রুত খুলে দেখলো। বইটির প্রকাশনা আর কোনোদিন নতুন করে হয়নি। স্টক আউট। দেশের বড় বড় অনলাইন বুকস্টোর সহ কোন জায়গাতেই নেই। পুরনো বইয়ের মার্কেটেও নেই।

রুশা একের পর এক সাইট খুললো, কই? কোথাও তো একটা থাকবে! কিন্তু নেই।

রুশা ফোনটা টেবিলে রাখলো। কিন্তু রাখার মুহূর্তেই মাথায় বজ্রপাতের মতো একটা নাম ভেসে উঠলো, প্রীতম ভাই…প্রীয়তার বড় ভাই। এমন অদ্ভুত, বিরল, অথেন্টিক বই সংগ্রহ করাই তো তার নেশা। তার ঘরটাই তো মিনি-লাইব্রেরি।

গতবার তার বাবার বইয়ের রেফারেন্সের বই গুলো খুঁজতে গিয়ে প্রীয়তাই তো একটা ইতিহাসের ইউনিক বই খুঁজে এনেছিল ওর ভাইয়ের সংগ্রহ থেকে।

রুশার মুখে সামান্য আশার আলো ফিরে এলো। তার বুকের ধড়ফড় কমে এলো একটু। সে তৎক্ষণাৎ প্রীয়তাকে ফোন করতে গেলো… তবে আঙুল নাম্বার চাপতে চাপতে থেমে গেল। দৃষ্টি গেল দেয়াল ঘড়ির দিকে। ভোর সাড়ে পাঁচটা। এই সময়ে ফোন করা একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়। রুশা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।

আজ সকালটা যেন খুব দ্রুত নেমে এলো। রুশা সিদ্ধান্ত নিলো, আজ সবকিছুই সে সময়ের উপর ছেড়ে দেবে। যা চলছে চলুক। কোন সমাধান চাইবে না সে। সে আরো একবার অপেক্ষা করতে চায় মেঘের নিজের তৈরি রহস্য নিজ থেকে ভাঙার।

নাস্তা শেষে প্রতিদিনের মতোই রুশা আর রুবাই কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো। রুবাই আজ অস্বাভাবিক চুপ। রুশার দিকেও তাকাচ্ছে বারবার, যেন কিছু বুঝতে পারছে… আবার যেন কিছুই বুঝতে পারছে না। রুশার মুখ চোখের ভার তাকেও ছুঁয়ে নিচ্ছে।

গাড়ি কলেজের মূল গেটের সামনে থামলো। ড্রাইভার এখানেই তাদের নামিয়ে যায়। বর্তমান তারা দেহরক্ষী নামক অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছে শেহতাজের জন্য। তবে ড্রাইভার সাহেব তাদের নামিয়ে দিয়ে যায় এবং নিয়ে যায়। গাড়ি থেকে নামতেই তাদের নজর কাড়লো মেইন গেইটের ঠিক পাশে নিজের গাড়ির গায়ে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকা মেঘ। চোখে-মুখে এক অদ্ভুত স্থিরতা। যেন বহুক্ষণ ধরে একটাই নাম, একটাই মুখের জন্য অপেক্ষা করছিল।

রুবাই নিঃশ্বাস ফেলে ফিসফিস করে বলল, “এই তবে মুখ ভার করে রাখার ঘটনা!”

রুশা কিছু বলার আগেই মেঘের দৃষ্টি সরাসরি এসে আটকে গেলো রুশার চোখে। রুবাই এগিয়ে চলল মেঘের দিকে, রুশা ধীর কদমে পিছে এগোলো।

রুবাই কিছু বলতে যাবে। ঠিক তখনই মেঘ একেবারে সোজা রুশার দিকে তাকিয়ে বলল, “আজ কি ক্লাস করা খুব জরুরি?”

রুশা হতবুদ্ধির মতো তাকিয়ে রইলো। বলার মতো শব্দ খুঁজে পেলো না। রুবাই পাশে দাঁড়িয়ে হেসে ফেলল, “জরুরি হোক আর যার জন্যই হোক… রুশার জন্য আজ মোটেও জরুরি না। আমি সামলে নেবো।”

রুবাইয়ের কথায় মেঘের ঠোঁটে একপাশে দুষ্টু হাসি ঝিলিক দিলো। ঠিক তখনই রুবাইদের গাড়িটা নিয়ে চলে গেল।

রুবাই হালকা ধাক্কা দিয়ে রুশাকে মেঘের গাড়ির দিকে এগিয়ে দিলো, “যা… মেঘের সাথে একটু বাতাস খেয়ে আয়। এদিক নিয়ে ভাবিস না।”

মেঘ কোনো কথা না বলে গাড়ির দরজা খুলে ধরলো। তার চোখে সেই চিরচেনা গভীরতা… যে চোখে শুধু একরাশ মায়া দৃশ্যমান হলো। মেঘ ধীর স্বরে বলল, “চলুন মহারানী। আজ আপনার মনের কালো মেঘ ভেঙে আসি।”

রুশা নীরব। কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তবে সেই নীরবতা মেঘ খুব বোঝে। খুব ভালোভাবেই বোঝে। রুশা কোন শব্দ ব্যায় না করে ধীরে পা বাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।

চলবে.... 💝

#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ

#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)

#সাদিয়া_তিন্তি

বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না।

{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন