৭১.
মেঘের ঘুম ভাঙলো শেষ বিকেলে। তাও এক ভয়াবহ স্বপ্নে। সে স্পষ্ট দেখলো, রুশাকে কেউ একটা লোহার শিখল দিয়ে একটা কাঠের চেয়ারে বেঁধে রেখেছে। তার কোন হুঁশ নেই। মেঘ হাজার বার দরজা ধাক্কাচ্ছে, রুশার কাছে পৌঁছাতে চাইছে। তবে কেউ একজন তাকে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। এটুকু দেখতেই মেঘ ধড়ফড় করে উঠে বসল।
তার বুকের ওঠানামা প্রচণ্ড দ্রুততায় চলতে লাগল। নিঃশ্বাস ভারী। পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে। সে যেভাবে হাপাতে লাগল যে মনে হচ্ছে, কেউ তাকে কোথাও থেকে দৌড় করিয়ে এনেছে। স্বপ্নটা যেন বাস্তবতার মতই লাগতে লাগলো মেঘের মাথার ভেতর।
মেঘ দুই হাতে মুখ ঢেকে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে বসে রইল। ঠিক তখনই নিচতলা থেকে দরজা খোলার শব্দ ভেসে এলো। কাঁকন সুলতানা আর শাফিন আহমেদ ফিরেছেন। মেঘ দ্রুত বিছানা ছেড়ে নেমে এলো। চোখে মুখে এখনো ঘুম আর আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই কাঁকন সুলতানা ছেলেকে দেখে থমকে গেলেন। “কি হয়েছে বাবু? এমন লাগছে কেন?”
মেঘ উত্তর দিল না। শুধু বলল, “রুশা কেমন আছে?”
কাঁকন সুলতানা মেঘের পরিস্থিতি বুঝলেন। তিনি মেঘকে সোফায় বসিয়ে নিজেও বসে পড়লেন পাশে। এরপর একেবারে শুরু থেকে সব বলতে শুরু করলেন। রুপমহলে ঘটে যাওয়া সব, একেবারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ। মেঘ একদম চুপ করে শুনে চলল। কাঁকন সুলতানা খুব গম্ভীর ভাবে বললেন, “মেঘ… ব্যাপারটা আমার ঠিক স্বাভাবিক লাগছে না।”
“কেন?”
“ওদের সবাই বলছে ক্যামিকেলের রিঅ্যাকশন। কিন্তু আমি যতটা দেখলাম কিছু যেন মেলাতে পারলাম না। রুশার শরীরটা কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল। মেয়েটার অসুস্থতা অস্বাভাবিক লাগলো। ডাক্তাররা যতোই যা বলুক। আমার কিছু ভালো লাগছে না।”
মেঘ এবার উঠে দাঁড়াল। তার চোখদুটো অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে গেছে। এই শান্তিটা বিপজ্জনক। কারণ এই অবস্থায় তার মাথা সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে। সে ফোন বের করে সোজা ইমরানকে কল দিল। দুইবার রিং হতেই ওপাশ থেকে ক্লান্ত গলা ভেসে এলো, “হ্যালো?”
মেঘ সরাসরি বলল, “রুশাকে অজ্ঞান করতে ঠিক কি ক্যামিকেল ব্যবহার করেছিলি?”
“হঠাৎ?”
“যেটা জিজ্ঞেস করছি সেটার উত্তর দে।”
“খুব লো ডোজের একটা সেডেটিভ কেমিক্যাল। সাময়িকভাবে নার্ভ স্লো করে অজ্ঞান করার জন্য। আমি নিজেই হিসেব করে ব্যবহার করেছি। এটায় তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু কেন?”
“শিওর?”
“একশো ভাগ। ওই ডোজে সর্বোচ্চ কয়েক ঘণ্টা ঘুম হবার পর একটু দুর্বলতা থাকতে পারে।”
মেঘ আরো বেশি ভাবনায় পড়লো। সে রুশার শারীরিক অবস্থা বিস্তারিত জানালো ইমরান কে। ইমরান ঘাবড়ে উঠলো, “ওটার রিঅ্যাকশন এতটা হওয়ার কথা না। এটা না কোমার মতো কিছু, না পার্মানেন্ট নিউরাল ড্যামেজের মতো কিছু। আমি ইচ্ছা করেই খুব কম ব্যবহার করেছিলাম। আর এটার ওভার ডোজ হলে শুধু ঘুমের সময় বাড়বে। তাছাড়া তো কিছু হবার কথা না।”
“তোর কাছে স্যাম্পল আছে যেই ক্যামিক্যাল ব্যবহার করেছিলি?”
“আছে তো। সামান্য ব্যবহার হয়েছে। পুরো বোতলটাই আছে।”
“ওটা আমার লাগবে। আমি একটু পর আসছি নিতে।”
“ঠিক আছে আয়।”
মেঘ আর কিছু বলল না। ফোনটা কেটে দিল।
কাঁকন সুলতানা এবার স্পষ্ট বুঝলেন, কিছু একটা মিলছে না। তার ছেলে ব্যপারটা নিয়ে ঠিক কোন অব্দি পাগলামী করতে পারে সে সম্পর্কে তার ধারণা আছে। তিনি তাও প্রশ্ন করলেন, “কি করতে চাইছো?”
মেঘ উত্তর দিল না। সে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে সন্ধ্যা নেমে গেছে পুরোপুরি। আকাশ কালচে। দূরে কোথাও বিদ্যুৎ চমকালো। তার মাথার ভেতর এখন একটার পর একটা হিসেব ঘুরছে। যদি ইমরানের ক্যামিকেল এত শক্তিশালী না হয়। তাহলে রুশার এই অবস্থা কেন? কেন তার শরীর এভাবে ভেঙে পড়ছে? কেন ডাক্তাররা কিছু ধরতে পারছে না? কোথাও একটা ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে আছে। আর সেই সত্যটা কেউ ইচ্ছে করেই আড়াল করে রাখছে। সে চোখ বন্ধ করল। তারপর খুব নিচু গলায় বলল, “কিছু একটা ভুল হচ্ছে।”
শাফিন আহমেদ তাকালেন, “মানে?”
মেঘ এবার ঘুরে দাঁড়াল। “রুশার অসুস্থতা শুধু ওই ক্যামিকেলের জন্য না।”
কাঁকন সুলতানার বললেন, “তাহলে?”
“সত্যিটা বের করতে হবে। আব্বু আজ যে ডাক্তার টিম তুমি নিয়ে গিয়েছিলে তারা কি ট্রাস্টেবল?”
কাঁকন সুলতানা এগিয়ে বললেন, “হ্যাঁ। যে নিউরোসার্জন আজ গিয়েছিলেন তিনি আমার বান্ধবী ঊর্মিলার হাসবেন্ড। আমি চিনি তাও পরিচয় প্রকাশ করি নি।”
শাফিন আহমেদ বললেন, “এরাই শহরের বেস্ট ডাক্তার। ট্রাস্টেবল ধরে নিতে পারো।”
“আমাকে উনাদের কন্টাক্ট নম্বর দাও। যেভাবে উনাদের পাওয়া যাবে।”
শাফিন আহমেদ কোন রকম প্রশ্ন না করে। সব বিস্তারিত মেঘকে দিয়ে দিয়ে বললেন, “আমি ওদের বলে দিচ্ছি। তুমি যা চাও সব কাজ সহজ হবে।”
রুপমহলের ভেতরে রাত নামলে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। দিনের কোলাহল, মানুষের হাঁটাচলা, সাহায্যকারীদের ব্যস্ততা সব স্তব্ধ হয়ে যায়। বিশাল মহলটা তখন যেন আরও বড়, আরও ফাঁকা, আরও ভয়ংকর লাগে। করিডোরজুড়ে হলদেটে ঝাড়বাতির আলো পড়ে থাকে। দূরে কোথাও ঘড়ির টিকটিক শব্দ শোনা যায়। একা যে কোন মানুষের শরীরে ভয় ধরিয়ে দিতে এই আবহ যথেষ্ট। প্রীয়তা এই চকচকে মহলে বন্দি। তবে এই বন্দিত্ব আগের মতো আর তাকে অসহায় করছে না। এখন তার কাছে একটা অস্ত্র আছে। আজকের পাওয়া মোবাইল ফোন। তার মুক্তির চাবিকাঠি এই যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ঘরের ভেতর পায়চারি করতে করতে প্রীয়তা খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবতে লাগল। সে জানে, এই মহলে সরাসরি যুদ্ধ করে জেতা যাবে না। এখানে প্রতিটা দেয়ালের কান আছে। প্রতিটা মানুষের মুখে মুখোশ। এখানে ভুল করার সুযোগ নেই। তাকেও এই নাটকের অংশ হতে হবে। অভিনয় করতে হবে। নিজেকে বদলে ফেলতে হবে। সবার সামনে এমন একটা মানুষ হয়ে উঠতে হবে, যাকে দেখে কেউ সন্দেহই করবে না। প্রীয়তা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল, “ঠিক করে গেম সাজাতে হবে।”
সে এই মহল ছেড়ে পালাবে ঠিক আছে। তবে এই মহলের মুখোশ ছিড়ে নিয়ে যাবে। প্রীয়তা নিজের মাথার ভেতর পুরো পরিকল্পনাটা সাজাতে শুরু করল। প্রথম ধাপ, মহলের মানুষদের বিশ্বাস অর্জন। দ্বিতীয় ধাপ, রুপমহলের ভেতরের গোপন জায়গাগুলো সম্পর্কে জানা। এবং তৃতীয় ধাপ, শেহতাজের স্টাডি রুম। সব রহস্যের কেন্দ্র সম্ভবত ওই ঘরটাই।
সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রীয়তা আয়নায় নিজেকে আরো ভালো করে দেখে নিল। তার মায়ের ভাষ্যে তার এই গাঢ় বাদামী চোখে কালো কাজল খুব সুন্দর লাগে। যে কেউ নজরে আটকে যায়। সে নিজেকে যে আজ নজরে আটকাতে চাইছে। নিজের রুপ আরো বৃদ্ধি চায় সে। রুপে আটকাতে চায় বোধহয় মহলের সবাইকে। প্রীয়তা চোখে কাজল টেনে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
নিচতলার রান্নাঘরে তখন রাতের রান্নার প্রস্তুতি চলছে। বড় বড় হাঁড়িতে মাংস বসানো হয়েছে। কেউ সবজি কাটছে। কেউ মশলা বাটছে। পুরো রান্নাঘর ধোঁয়া আর গরম মসলার গন্ধে ভারী।
প্রীয়তা ভেতরে ঢুকতেই কয়েকজন সাহায্যকারী একবার তাকিয়ে আবার নিজেদের কাজে মন দিল। এই মহলে সে এখনো বহিরাগত। শেখ পরিবারের নতুন বউ হলেও কেউ তাকে আপন ভাবে না।
প্রীয়তা ঠান্ডা গলায় বলল, “আজ রাতের রান্না আমি করতে চাই। সারাদিন তো অলস বসেই থাকি। তাই এখানে এলাম আর কি!”
কথাটা শুনেই আনজুম আরা বেগম ঘুরে তাকালেন। তার চোখে বিরক্তি স্পষ্ট, “তুমি?”
“জি।”
“হঠাৎ রান্না করার শখ হলো কেন?”
প্রীয়তা মুখে খুব নরম একটা হাসি এনে বলল, “শখ নয়। আসলে মন চাইছে। আমিও তো এ বাড়ির অংশ।”
আনজুম আরা বেগম ঠান্ডা স্বরে বললেন, “এই বাড়িতে কাজ করার লোকের অভাব নেই। তুমি উপরে যাও।”
“কিন্তু আমি…”
“আমি যা বলেছি তাই হবে।”
আনজুম আরা বেগমের এমন রুক্ষ কথার বিরুদ্ধে কোন কথার সাহস পেল না প্রীয়তা। মুহূর্তেই প্রীয়তার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। এই মহলে কেউ এত সহজে তাকে জায়গা দেবে না। আরো ভাবতে হবে তাকে, তাকে বিশ্বাস ছিনিয়ে নিতে হবে। সে চুপচাপ সরে গেল। কিন্তু তার মাথা তখনো কাজ করছে। রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সে এবার রুপমনি বেগমের খোঁজে গেল। তিনি নামাজের ঘরে।
এই মহলের মাথা তিনি। তাকে নিজের দিকে আনতে পারলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে। রুপমনি বেগম তখন নামাজ শেষে তসবিহ পড়ছিলেন। প্রীয়তা খুব ভদ্রভাবেই নামাজের ঘরে গিয়ে তার পাশে বসল। রুপমনি বেগম বেজায় গম্ভীর। তিনি প্রীয়তার এভাবে বসা একেবারে পছন্দ করলেন না। পরিষ্কার বললেন, “এই মেয়ে দূরে বসো। নামাজ পড়তে এলে পড়ে চলে যাও।”
প্রীয়তার ঠোঁটের হাসিটা এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। সে একেবারে দমে গেল। তার কলিজায় এত সাহস নেই যে এমন ধমকের পর নাটক করবে। রুপমনি বেগম সহজ মানুষ নন। তিনি অনেক জীবন দেখেছেন। অনেক মুখোশ দেখেছেন। প্রীয়তার এই পরিকল্পনাও ব্যর্থ। এই মহলের মানুষগুলোকে জয় করা সহজ না। সে নিজের ঘরে ফিরে এল। দরজা বন্ধ করতেই মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। তারপর শুরু হলো পায়চারি। একবার এদিক। একবার ওদিক। পুরো ঘরটাকে যেন মানচিত্রের মতো ব্যবহার করতে লাগলো সে। শেহতাজ মানুষটাকে তার বুঝতে হবে। কারণ এই মহলে আসল ক্ষমতা তার হাতেই। আর সেই মানুষটাকেই বিশ্বাস করাতে হবে প্রীয়তা ভেঙে গেছে। সব মেনে নিয়েছে। আর কোনো বিদ্রোহ নেই। প্রীয়তা বিছানার ধারে বসে খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবতে লাগল।
শেহতাজ কী পছন্দ করে? কেমন আচরণে দুর্বল হয়? সে কী দেখতে চায়?
আজ্ঞাবহ মানুষ? ভীত মানুষ? নাকি ভাঙা মানুষ?
ঠিক যেটা শেহতাজ চায়। সেটাই দেখাবে প্রীয়তা। প্রীয়তার চোখ সরু হয়ে এলো। শক্তি দিয়ে না, অভিনয় দিয়েই এই মহল ভাঙতে হবে। প্রীয়তা ঘড়ির দিকে একবার তাকালো। সন্ধ্যা ৭:৩৫ বাজছে। শেহতাজ রাত ১০ টার আগে এ ঘরে তেমন ফেরে না। মাঝে মাঝে তো রাত ২ টোর পরে আসে। তাহলে এ সময়টা সেফ ফোনটা ব্যবহার করার জন্য। সে দ্রুত আলমারির ভেতর থেকে ফোনটা বের করল। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল সেটার দিকে। তারপর খুব সাবধানে ফোন অন করল।
ফোনের এই ছোট্ট নীল আলোটা যেন প্রীয়তার কাছে মুক্ত আকাশের রঙের মত লাগল। কয়েক সেকেন্ড সে শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। ফোন পুরোপুরি চালু হতেই সে দ্রুত সাইলেন্ট মোড অন করল। এরপর কল লিস্ট আর কন্টাক্টে ঢুকল।
মাত্র তিনটা নাম সেভ করা। মেঘ। তার বাবা পারভেজ সওদাগর। এবং বড় ভাই প্রীতম সওদাগর। প্রীয়তার বুকটা কেমন হুহু করে উঠল। মেঘ সব ভেবে রেখেছে। একদম শুরু থেকেই। তার আঙুল কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের উপর স্থির হয়ে রইল। তারপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সে মেঘের নম্বরে কল লাগালো। সবার আগে মেঘের সাথেই যোগাযোগ প্রয়োজন।
মেঘ ড্রাইভিং এ ব্যস্ত। তার মাথার ভেতর এখনো রুশার অসুস্থতার হিসেব ঘুরছে। পাশে সিটে ইমরানের দেয়া কেমিক্যালের ছোট কন্টেইনার রাখা। সে সোজা যাচ্ছিল একজন পরিচিত ল্যাব স্পেশালিস্টের কাছে। বেশ কয়েকবার রিং বাজতেই মেঘ ফোনটা পকেট থেকে বের করলো। প্রীয়তার নামটা দেখতেই মেঘের হাত স্টিয়ারিংয়ে শক্ত হয়ে উঠল। সে এক ঝটকায় গাড়িটা রাস্তার পাশে থামিয়ে দিল। বাইরে ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তার আলো ভেজা কাঁচে কাঁপছে। মেঘ দ্রুত কল রিসিভ করল।
“হ্যালো?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই। তারপর…একটা চাপা কান্নার শব্দ। মেঘ ড্রাইভিং সিটে হেলে পড়লো।
“প্রীয়তা।”
মেঘের আওয়াজ টুকু শুনেই যেন প্রীয়তার শক্ত মুখোশটা ভেঙে গেল। সে ফোনটা দুহাতে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। শব্দ না করার প্রাণপণ চেষ্টা করলো, তবু কান্না আটকাতে পারলো না।
“মে… মেঘ…”
মেঘ চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত। তার গলার স্বর আরো নিচু হয়ে এলো। “কাঁদবি না। শান্ত হ। কেউ আশেপাশে আছে?”
প্রীয়তা মাথা নেড়ে ফিসফিস করে বলল, “না… দরজা লক করা।”
“ঠিক আছে। এমন কোথাও যা যেখানের থেকে কথার শব্দ কারো কান অব্দি যাবে না। ওয়াশরুম কিংবা দরজা জানালা থেকে দূরে কোথাও।”
প্রীয়তা এদিকে ওদিকে একবার তাকিয়ে দেখলো। ওয়াশরুমে যাওয়া সেফ। সে গিয়ে দরজা বন্ধ করলো। তারপর খুব আস্তে বলতে শুরু করল। “আমি শুধু এই জাহান্নামের থেকে বের হতে চাই মেঘ। আমাকে নিয়ে যাও। কিছু একটা করো। শেহতাজ আমাকে ছাড়বে না।”
“প্রীয় রিলেক্স… আমাকে বিস্তারিত বল। একদম প্রথম থেকে। সবটা।”
“শেহতাজ আমাকে বিয়ে করেছে ব্ল্যাকমেইল করে…”
“কীসের ব্ল্যাকমেইল?”
“আব্বু…ওরা আব্বুকে…”
বাইরে বৃষ্টি আরও বাড়ছে। গাড়ির কাঁচ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। মেঘ একদম চুপ করে শুনছে।
প্রীয়তা বলতে লাগল সে সব ঘটনার বিস্তারিত।
চলবে.... 💝
#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ
#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)
#সাদিয়া_তিন্তি
বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না।
{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}