ফন্ট সাইজ:
থিম:
রুশ রহস্য (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

৭২তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া তিন্তি

৭২.

প্রীয়তা এদিকে ওদিকে একবার তাকিয়ে দেখলো। ওয়াশরুমে যাওয়া সেফ। সে গিয়ে দরজা বন্ধ করলো। তারপর খুব আস্তে বলতে শুরু করল। “আমি শুধু এই জাহান্নামের থেকে বের হতে চাই মেঘ। আমাকে নিয়ে যাও। কিছু একটা করো। শেহতাজ আমাকে ছাড়বে না।”
“প্রীয় রিলেক্স… আমাকে বিস্তারিত বল। একদম প্রথম থেকে। সবটা।”
“শেহতাজ আমাকে বিয়ে করেছে ব্ল্যাকমেইল করে…”
“কীসের ব্ল্যাকমেইল?”
“আব্বু…ওরা আব্বুকে…”
বাইরে বৃষ্টি আরও বাড়ছে। গাড়ির কাঁচ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। মেঘ একদম চুপ করে শুনছে। প্রীয়তা বলতে লাগল সে সব ঘটনার বিস্তারিত। কিভাবে শেহতাজ তার বাবা ভাইকে খু/ন করার ভয় দেখিয়েছে। সিমান্তে তার ভাইকে গায়েব করে দিলে কেউ খোঁজও পাবে না। এমন কি, অরুপকে খু/ন করার ভয়ও দেখিয়েছে। তার এবাড়িতে আসার প্রথম দিন থেকে প্রতিটা মুহূর্ত বর্ননা করলো প্রীয়তা। 
“বিয়ের রাতে শেহতাজ সরাসরি বলেছিল… আমি যদি রাজি না হতাম তাহলে ভাইয়াকে মেরে গুম করে দিত। আমি… আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম…”
“কিন্তু কেন?”
“এই কেনোর উত্তরই খুঁজে চলেছি।”
মেঘের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সে কিছু বলতে চেয়েও থামলো। জিজ্ঞেস করলো, “আর রুশা?”
প্রীয়তা খুব নিচু গলায় বলল, “ওকে নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি মেঘ…”
“মানে?”
“ওর অবস্থা খুব খারাপ। খুব। কোন চিকিৎসা কাজে লাগছে না। বাসায় নার্স আছেন। ডাক্তার দিনে দুবার করে আসেন কিন্তু ফলাফল শূন্য।”
মেঘ স্টিয়ারিং আরো শক্ত করে ধরল। “ওকে কি কি ওষুধ দেয়া হচ্ছে দেখেছিস?”
“না। তবে নার্সরা বারবার ইনজেকশন দিচ্ছে। ঘুমের ওষুধের ইনজেকশন। তাছাড়া অনেক ওষুধও আছে।”
“প্রীয় আমাকে ওষুধ গুলোর ছবি দিতে পারবি? আমি দেখতে চাই ওকে ঠিক কি ওষুধ দিচ্ছে।”
“এখন?”
“যখন সুযোগ পাবি। তবে খুব সাবধানে। নিজের বিপদ হয় এমন কিছু করবি না। ওকে যে যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে সবগুলোর ছবি তুলে আমাকে পাঠাবি। ইনজেকশন, ট্যাবলেট, স্যালাইন সব। একটা কিছু মিস করা যাবে না।”
“ওষুধে কোন গন্ডগোল আঁচ করছো?”
“আমি এখনো নিশ্চিত না। কিন্তু কিছু একটা মিলছে না।”
“মানে?”
“ইমরান যে কেমিক্যাল ব্যবহার করেছে সেটা এত ড্যামেজ করার কথা না। রুশার শরীরে অন্য কিছুর রিঅ্যাক্ট করছে। এখন শুধু প্রমাণ চাই।”
প্রীয়তার বুক ঠান্ডা হয়ে গেল।
মেঘ আবার বলল, “আর শোন। খুব সাবধানে চলবি। কাউকে বিশ্বাস করবি না। একদম কাউকে না। এমনকি এই বাড়ির নিরীহ মানুষগুলোকেও না। এই তালিকায় রুবাইও আছে।”
“আমি চেষ্টা করছি সবাইকে বিশ্বাস করাতে যে আমি সব মেনে নিয়েছি।”
“গুড।”
“আজ রান্নাঘরে গিয়েছিলাম। কাজ করতে চেয়েছিলাম। আনজুম আরা বেগম বের করে দিয়েছে। তারপর রুপমনি বেগমের কাছে গিয়েছিলাম। সেটাও ফেইল।”
অদ্ভুতভাবে মেঘের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল। সে বলল “তোকে এত সহজে কেউ বিশ্বাস করবে না।”
“তাহলে?”
“ধীরে খেল। তুই খুব তাড়াহুড়ো করছিস। আগে ওদের অভ্যাস বোঝ। বাড়িতে ঠিক এমন ভাবে মিশে যা যেন তুই ও বাড়ির সদস্য।”
“আমি পারব তো মেঘ?”
মেঘ জানালার বাইরে তাকাল। অন্ধকার শহর। বৃষ্টির রেখা। দূরের আলো। তারপর খুব শান্ত স্বরে বলল, “তুই ইতিমধ্যে পারছিস।”
এই শেষ কথা টুকুই প্রীয়তাকে অদ্ভুত এক শক্তি দিল। সে পারছে। সে পারবে। তাদের আর কথা বাড়লো না। এখন কাজের সময়। বৃষ্টির শব্দ আরও ঘন হয়ে উঠলো। মেঘ কিছু সময় থেমে রইল। উইন্ডশিল্ডে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো এসে পড়ছে আর ওয়াইপার সেগুলো মুছে দিচ্ছে। কিন্তু মেঘের মাথার ভেতরের কুয়াশা কাটছে না। সে আবার গাড়ি স্টার্ট দিল।
শহরের ভেজা রাস্তা পেরিয়ে গাড়ি এগোতে লাগল। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর সে পৌঁছালো শহরের এক পুরোনো ল্যাবরেটরির সামনে। বাইরে থেকে জায়গাটা খুব সাধারণ। কিন্তু শহরের বড় বড় হাসপাতালও মাঝে মাঝে জটিল টক্সিকোলজি টেস্টের জন্য এই ল্যাবের সাহায্য নেয়। মেঘ ভেতরে ঢুকতেই মধ্যবয়স্ক এক লোক এগিয়ে এলেন। সাদা অ্যাপ্রন পরা। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।
“মেঘ? এত রাতে?”
মেঘ সময় নষ্ট করল না। ব্যাগ থেকে ছোট কন্টেইনারটা বের করল“দরকার ছিল আংকেল। এই কেমিক্যালটা টেস্ট করতে হবে। জরুরি।”
লোকটা কন্টেইনার হাতে নিয়ে ভ্রু কুঁচকালেন। “কি হয়েছে?”
“রিপোর্টটা দরকার।”
এই মধ্যবয়স্ক লোক ক্যামিস্ট সাজিদ ওসমান। মেঘের সাথে পরিচয় তার গবেষণাগার থেকে। তিনি গবেষণাগারেও কাজ করেন। লোকটা বিভিন্ন ওষুধ টেস্ট করে থাকেন ল্যাবে। মেঘকে খুব স্নেহ করেন তিনি। মাঝে মাঝে মেঘ তার সাথে বসে গবেষণাগারে আড্ডাও জমে ওঠে। মেঘের তীক্ষ্ণ জ্ঞান তাকে বেশ উৎফুল্ল করে। তিনি দ্রুত কেমিক্যালটা নিয়ে ভেতরে চলে গেলেন। মেঘ বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত সাড়ে নয়টা ছুঁইছুঁই। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর লোকটা ফিরে এলেন হাতে প্রিন্টেড রিপোর্ট নিয়ে।
“লো-গ্রেড নিউরো সেডেটিভ। খুব হালকা পাওয়ারের। কন্ট্রোলড ডোজে এটা সাময়িক অজ্ঞান করতে পারে। এটা দিয়ে কোনো সুস্থ মানুষের নিউরাল ব্রেকডাউন কিংবা মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”
“আপনি শিওর?”
“একশো ভাগ।”
মেঘ আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। রিপোর্টটা নিয়ে সরাসরি বেরিয়ে গেল। তাকে ছুটতে হবে নতুন অনুসন্ধানে। রাতটা আরেকটু বাড়তেই মেঘ পৌঁছালো শহরের একটি নামকরা প্রাইভেট হাসপাতালের ভিআইপি ফ্লোরে। শাফিন আহমেদের দেয়া যোগাযোগ ব্যবহার করে মেঘ সরাসরি দেখা পেল সেই ডাক্তার টিমের সাথে, যারা সকালে রুশাকে পরীক্ষা করেছিলেন।
ডা. আরমান রহমান, শহরের অন্যতম সেরা নিউরোলজিস্ট। সঙ্গে টক্সিকোলজিস্ট ডা. সাবিহা আর ইন্টারনাল মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. রউফ। শাফিন আহমেদের স্পেশাল রিকোমেন্ডেশনে এই তিনজনকে একসাথেই পেল মেঘ। সামান্য সৌজন্য আলাপ সেরেই আসল ঘটনায় এলো তারা। 
মেঘ টেবিলের উপর রিপোর্টটা এগিয়ে দিয়ে বলল, “এই কেমিক্যালটা রুশার শরীরে ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর থেকে ওর শরীরে অস্বাভাবিক নিউরাল রিঅ্যাকশন শুরু হয়েছে।”
ডা. আরমান রিপোর্ট হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ পড়লেন। তারপর খুব ধীরে মাথা নাড়লেন, “না। এই কেমিক্যালের সাইড ইফেক্ট এটা না।”
ডা. সাবিহা এবার রিপোর্টটা হাতে নিয়ে বললেন, “এটা খুবই মাইল্ড সেডেটিভ। এতে সাময়িক ঘুম, দুর্বলতা, সামান্য মাথা ঘোরা হতে পারে। কিন্তু রোগীর যে অবস্থা আমরা দেখেছি সেটা অন্য কিছু।”
“অন্য কিছু মানে? কি হতে পারে? কিসের মতো?”
ডা. সাবিহা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন, “Strong toxic drug interaction.”
মেঘ নিচু গলায় বলল, “ড্রাগ!!! ড্রাগের রিয়েকশন!!”
“শুধু ড্রাগের রিয়াকশন নয়। কিছু ড্রাগ অতিমাত্রায় নেওয়ার পর যদি কোন হাই পাওয়ারের ওষুধ কিংবা অন্য এমন ওষুধ ব্যবহার করা হয় যা ওই ড্রাগের ঠিক বিপরীত উপাদানের তৈরি। তাহলে এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। মানে বোঝাতে চাইছি ঠিক দুটো বি/ষা/ক্ত উপাদান একসঙ্গে মিলে ওর শরীরে একটা তৃতীয় বি/ষা/ক্ত উপাদান তৈরি করছে।”
“ইচ্ছে করে এমন রিয়েকশন করানো সম্ভব?”
ডা. রউফ এবার বললেন, “অবশ্যই সম্ভব। ধরুন রোগীর শরীরে আগে থেকেই কোনো ড্রাগ বা কেমিক্যাল আছে। এরপর নিয়মিত এমন কিছু দেয়া হচ্ছে যা সেই ড্রাগের রিঅ্যাকশন বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
“মানে?”
“মানে Side-effect amplification.”
ডা. সাবিহা এবার ব্যাখ্যা করলেন, “অনেক ড্রাগ আছে যেগুলো ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে রক্ত থেকে মুছে যায়। সরাসরি ট্রেস পাওয়া যায় না। কিন্তু তার রিঅ্যাকশন শরীরে থেকে যায়।”
মেঘের বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগল। “আপনারা বলতে চাইছেন… কেউ ইচ্ছে করে ওর অবস্থা খারাপ করছে? কিংবা করতে পারে?”
ডা. আরমান এবার খুব সতর্ক স্বরে বললেন, “আমরা নিশ্চিত না। তবে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।”
“এর থেকে সুস্থ হবে কিভাবে রুশা?”
“ড্রাগের নামটা জানা গেলে, প্রতিষেধক বা রিভার্স থেরাপি বের করা সহজ হতো। কিন্তু সেটা তো ওর রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে না।”
মেঘ কয়েক সেকেন্ড কিছু বলল না। তার মাথার ভেতর যেন সবকিছু দ্রুত জুড়ে যেতে শুরু করেছে। সে তো এমনটাই ধারনা করেছে। তার মানে রুশাকে ইচ্ছে করে অসুস্থ বানিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এতে লাভ কি? রুশাকে আয়ত্তে রাখা? কিন্তু কেন?
এদিকে রুপমহলে প্রীয়তার অনুসন্ধান চলমান। ঘড়ির কাটায় ৯ টা বাজা মানেই রুপমহলে রাতের খাবারের সময়। সকলে একসাথে ডায়নিংএ থাকবে। এই তো সময় সকলের অঙ্গচরে সব করে ফেলার। 
প্রীয়তা তার ফোনটা কোমড়ে গুজে নিল শাড়ির ভাঁজে। হাটতে গেলেই ফোনটা বারবার গায়ে ঠেকছে। কিন্তু কিছু করার নেই তার। তার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ এত জোরে হচ্ছে যে মনে হচ্ছে করিডোরে দাঁড়ানো কেউ শুনে ফেলবে। পুরো মহল প্রায় নিস্তব্ধ। শুধু দূরে দেয়ালঘড়ির শব্দ।
রুশার কক্ষের সামনে পৌঁছে প্রীয়তা একবার চারপাশ দেখে নিল। দরজা আধখোলা। ভেতরে নরম হলুদ আলো জ্বলছে। রুশা বিছানায় ঘুমিয়ে। অচেতন। তার নিঃশ্বাস ভারী। মাথার পাশে স্যালাইন ঝুলছে। একজন নার্স চেয়ারে বসে ফোন দেখছে। প্রীয়তা খুব স্বাভাবিক মুখে ভেতরে ঢুকল। নার্স তাকাল, “কিছু লাগবে ম্যাডাম?”
প্রীয়তা ঠোঁটে ক্লান্ত হাসি এনে বলল, “রুশাকে একটু দেখে যাচ্ছিলাম। আপনি অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন…খেয়েছেন আপনি?”
“অনেক আগেই খেয়ে নিয়েছি।”
“আপনাকে দেখে তো অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে। আপনি যান, নিচে গিয়ে চা খেয়ে আসুন না।”
“না ঠিক আছে।”
প্রীয়তা ধীরে কাছে এগিয়ে গেল, “আমি আছি। পাঁচ মিনিটের জন্য যান। আপনাকে দেখেই মনে হচ্ছে আপনার চা খাওয়া দরকার। ঘুম পাচ্ছে কি আপনার?”
নার্স একটু ইতস্তত করল। ঠিক তখনই প্রীয়তা নিচু গলায় বলল, “আমি কাউকে বলব না। আপনি ভাববেন না। চা নিয়ে এসেই বসুন না হয়।”
নার্স একটু ভেবে বলল, “আমি দুই মিনিটে চা নিয়ে আসছি তাহলে।”
“জি। যান। আমি আছি।”
নার্স বের হওয়ার সাথে সাথেই প্রীয়তার মুখ বদলে গেল। সে বিদ্যুতের গতিতে কোমর থেকে ফোন বের করল। টেবিলের উপর সারি করে রাখা ওষুধ। ইনজেকশন। ক্যাপসুল। ড্রিপ। প্রতিটা একে একে ছবি তুলতে লাগল সে। তার হাত কাঁপছে। তবু ভুল করছে না।
একটা ইনজেকশনের নাম দেখে তার বুক হালকা কেঁপে উঠল। একই ওষুধ অনেকগুলো রাখা।
“এত ঘুমের ইনজেকশন কেন…” 
সব ছবি তোলা শেষ হতেই দ্রুত মেঘকে সেন্ড করল। প্রীয়তা ফোনটা অফ করতে যাবে ঠিক তখনই দরজায় কারো উপস্থিত টের পেয়ে দ্রুত হাতে ফোনটা কোমরে লুকালো। এরপর ফিরে তাকালো সে‌। ঠিক তখনই দরজার সামনে এসে দাঁড়াল শেহতাজ। কালো শার্ট পরা। চোখদুটো অদ্ভুত ঠান্ডা। মুখ প্রতিক্রিয়া শূন্য। শেহতাজের এই এক ঝলক দেখেই প্রীয়তার পা জমে গেল। সমস্ত শরীর ভয়ে কাঁপতে লাগলো। শেহতাজ ঠিক কতক্ষন আগে এখানে এসেছে সে জানে না। আদৌতে কি কি দেখেছে সেটাও অজানা। এই অশনি আশঙ্কায় প্রীয়তা আরো কাপতে লাগলো। শেহতাজ একপাশের ভ্রু তুলে শক্ত আওয়াজে প্রশ্ন করলো, “এত রাতে এখানে কি করছো, নার্স কোথায়?”
শেহতাজের এমন প্রশ্নে ধরে নেয়া যায় যে শেহতাজ কিছু দেখেনি। প্রীয়তার যতোই হাঁটু কাপুক, সে গলায় একটা দৃঢ়তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ল, “আপনি এত রাতে কি করছেন এ ঘরে?”
শেহতাজের ভ্রু কুঁচকে এলো। প্রীয়তা গলায় আরো দৃঢ়তা এনে বলল, “আমার একদম পছন্দ নয় আপনি এই যখন তখন রুশার ঘরে এসে হাজির হন। রুশা একটা অবিবাহিত সুন্দরী যুবতী মেয়ে। আর আপনি তার চাচাত ভাই। অসুস্থ বলেই কি ধুপধাপ চলে আসাতে হবে?”
শেহতাজ চোখ ছোট ছোট করে প্রীয়তার দিকে তাকিয়ে রইল শুধু। প্রীয়তা নিজেও জানে না সে কি বকছে। তবে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে যে, সে পরিস্থিতি বিগড়াচ্ছে সে খুব জানে। শেহতাজ দু কদম এগিয়ে এসে বলল, “Are you in your sense? এটা আমার বাড়ি। আমি কোথায় যাব, না যাব, সেটা কি এখন থেকে তোমার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে আমার?”
“একদম না। কিন্তু আমার একদমই পছন্দ না আপনি এরকম হুটহাট রুশার ঘরে আসেন।”
“Are you jealous?”
“Jealous my foot. পৃথিবীতে কি আর কিছু হওয়ার নেই আমার। যে আমি রুশার প্রতি জেলাস হতে যাব। আমি শুধু বলেছি আমার পছন্দ নয়।” এটুকু বলেই প্রীয়তা তড়িঘড়ি করে রুশার ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো। তবে তার অত্যাধিক তাড়াহুড়ো তার বিপদ হল। দরজা দিয়ে বের হতে গিয়ে শেহতাজের জুতোয় নিজের পা বেঁধে মুখ থুবড়ে পড়তে গেল সে। শেহতাজের একেবারে কাছে হওয়ায় শেহতাজ অনায়াসে ধরে বসলো প্রীয়তাকে। তবে শেহতাজের হাত প্রীয়তার পড়ে যাওয়া আটকাতে তার উন্মুক্ত পেটে গিয়ে পড়লো। ঠিক‌ তার আর এক ইঞ্চি নিচেই প্রীয়তা ফোনটা লুকিয়েছে। প্রীয়তা কেঁপে উঠলো। এই কম্পন কি শেহতাজের স্পর্শের নাকি ফোনটা ধরা পড়ে যাবার ভয়ের তা ঠিক বোঝা গেল না। প্রীয়তা নিজেকে সামলে নেয়ার আগেই শেহতাজ তাকে টেনে নিজের সামনে দাঁড় করালো। পেট থেকে হাত সরিয়ে প্রীয়তার কোমরে হাত দিয়ে নিজের দিকে টেনে নিল সামান্য। একেবারে আচমকা এমন কাজে প্রীয়তা ঠিক সামলানোর সুযোগ পেল না। সে একেবারে শেহতাজের মুখোমুখি। ঠিক এতটা কাছে দাঁড়িয়ে ভয়ে প্রীয়তার মুখের দৃঢ়তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। শেহতাজ এই ভয়টাই আরো বাড়াতে অন্যহাতে খুব আলতো করে প্রীয়তার মুখ থেকে চুল গুলো সরিয়ে দিল। প্রীয়তার চোখ গুলো সে কি প্রথম দেখলো? গাঢ় বাদামী চোখ ভত্তি কালো কাজল। এটা কি আসলেই সুন্দর? নাকি তার চোখে মোহ লাগছে? শেহতাজ ওই চোখে আটকেই প্রশ্ন করলো, “এবার বলো। তুমি জেলাস না। আবার এ ঘরে আসা পছন্দও না। তুমি আসলে বলতে কি চাও?”
প্রীয়তা ঢোঁক গিলে বলল, “আ…মি আসলে!”
“বলো। তুমি আসলে?”
প্রীয়তার শরীর কাঁপছে। ফোনটা সাইলেন্ট তবে ভাইব্রেশন অন করা। যে কোন মেসেজেও কেঁপে উঠবে। সে শেহতাজের ঠিক এত কাছে যে সামান্য একটু ভাইব্রেশনও শেহতাজ স্পষ্ট বুঝে ফেলবে। কক্ষের ঠান্ডা এসির মাঝেও প্রীয়তা ঘেমে ভিজে উঠলো। শেহতাজ প্রীয়তাকে আরও কাছে টেনে নিলো। একেবারে নিজের সাথে লাগিয়ে নিল। প্রীয়তা এবার কাদো কাদো আওয়াজে বলল, “করছেন কি? ছাড়ুন আমাকে। যখন তখন বেড়াল ছানার মত পাকড়ে ধরে বসেন আমাকে।”
শেহতাজ প্রীয়তার এই ভয়টাকেই যেন এনজয় করতে লাগলো। সে খুব ধীর আওয়াজে বলল, “মাই ডিয়ার বাটারফ্লাই। কথা ঘোরানোর চেষ্টা করো না। নাটক করছো আমার সাথে? ড্রামা? নাকি আমার প্রেমে পড়েছো?”
প্রীয়তা নিজেকে ছাড়ানোর বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে, নিজেকে ছাড়াতে বলল, “হ্যাঁ আমি জেলাস। আমি আপনার ওয়াইফ। লিগ্যালি এন্ড সোস্যালি। আমি একদমই সহ্য করব না আপনি সেই মেয়েটার ঘরে বারবার আসবেন যার সাথে আপনার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।”
প্রীয়তার এমন উত্তরে শেহতাজ একেবারে বাকশূন্য হয়ে পড়ল। ঠিক এই সুযোগেই প্রীয়তা শেহতাজকে এক ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে ছুটে গেল নিজের কক্ষে। তবে শেহতাজ বোকার মত ওই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো বেশ কিছুক্ষণ।
চলবে.... 💝
#রুশ_রহস্য_দ্বিতীয়_পরিচ্ছেদ 
#রুশ_রহস্য (রুশ এবং রহস্য)
#সাদিয়া_তিন্তি 
বিঃদ্রঃ অনুগ্রহ পূর্বক কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না। 
{ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর নিজেদের মন্তব্য রেখে যাবেন অবশ্যই ♥️}

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন