আমার ভাইকে কোথায় রেখে আসলেন? আমার ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসুন ৷ আমাদের কোথায় নিয়ে এসেছেন? এটা কোন জায়গা?
অল্পবয়স্কা কুমারী মেয়েটি আ*হাজারি করতে লাগল ৷ একটা যুবক এসে মেয়েটির চুলের মুঠি ধরে বি*শ্রী ভাবে গা*লি দিয়ে বলল,,
এই চুপ কর ৷ বেশি কথা বললে একদম মুখ ভেঙে দেব ৷
পাশ থেকে আরেকজন যুবক এসে উ*ত্তেজিত হয়ে বলল,, রাজিব ভাই ওকে ছাড়ুন ৷ এখানে একটা ঝা*মেলা হয়ে গেছে ৷
রাজিব সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর কন্ঠে ধ*মক দিয়ে বলল,, আবার কোন ঝামেলা বাধিয়েছিস?
অপর পাশের যুবকটি ইতস্তত করে বলল,, ভাই একটা মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ৷
কথাটি শোনা মাত্রই রাজিব প্র*চন্ড জোরে ফাহিমের বুকে লা*ত্থি মা*রল ৷ মা*রের ধাক্কা সামলাতে না পেরে ফাহিম ছিটকে মেঝেতে পড়ে ব্যা*থায় গো*ঙাতে লাগল ৷ রাজিব দ্রুতপদে গিয়ে ওকে ধরে উঠিয়ে দিয়ে মুখে অনবরত কয়েকটা ঘু*ষি মা*রল ৷ তারপর অত্যন্ত জোরে র*ক্তহীম করা চিৎকার দিয়ে বলল,,,
একটা মেয়ে হারিয়ে গেল কিভাবে? তোরা কোথায় থাকিস কু*ত্তার বাচ্চারা? এই খবর যদি বসের কানে যায় তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে ভেবে দেখেছিস?
রুমের ভেতরে অবস্থানরত সব মেয়ে কেঁপে উঠল রাজীবের হুংকারে ৷
ফাহিম দুর্বল কন্ঠে বলে উঠল,, ভাই আমরা সবাই ভালো ভাবেই পাহারা দিচ্ছিলাম কিন্তু মেয়েটা যে কিভাবে বেরিয়ে গেল বুঝতে পারছি না ৷
তখনই পিছন থেকে একজনের ব*জ্রকঠিন গলার স্বর ভেসে আসল ৷
একটা পুচকে মেয়ে এতো সুরক্ষার মধ্যে থেকে কিভাবে পালিয়ে যেতে পারল? এই তোদের কঠোর পাহারা?
যুবকটাকে দেখতেই রাজীবের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ৷ চেঁচিয়ে উঠে বলল,,,
এতো যে বড় বড় কথা বলিস তাহলে তুই কেন মেয়ে টাকে ধরতে পারলি না?
যুবকটি বাঁকা হেসে বলল,, কে বলেছে ধরতে পারিনি?
রাজীব আর ফাহিম দুজনেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল ৷
যুবকটি নিজের পিছন থেকে একটা মেয়েকে টেনে সামনে নিয়ে আসল ৷ তারপর গম্ভীর কন্ঠে বলল,,,
আজ আমি যদি মেয়ে টাকে পালাতে না দেখতাম তাহলে বস তোদের কি অবস্থা করতো ভাবতে পারছিস? না হয় আমি অনুরোধ করে তোদের মৃ*ত্যুর হাত থেকে বাঁচাতাম কিন্তু শা*স্তি থেকে কিভাবে বাঁচতি?
রাজীবের গা জ্ব*লে গেল ৷ এতো বছর যাবৎ ও বসের ডানহাত ছিল কিন্তু এই ছেলেটা আসার পর থেকে বসের কাছে ওর কদর কমে গেছে ৷ কয়েকদিনের মধ্যেই এই ছেলে বসের মন জয় করে ফেলেছে ৷
যুবকটি মেয়েটাকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে অন্য মেয়েগুলোর সামনে গিয়ে ছুঁড়ে ফেলে হাত উচিয়ে শাসিয়ে শাসিয়ে ক*র্কশ কন্ঠে বলে উঠল,,,
দ্বিতীয়বার কেউ পালানোর স্পর্ধা দেখালে তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে কু*কুরকে খাওয়াব!
সব মেয়েগুলো মুরাদের দিকে তাকিয়ে থরথর করে কাঁপতেছে ৷ হঠাৎ হাঁটু মুড়ে ক্রন্দনরত একটা মেয়েকে দেখে মুরাদ , রাজীব আর ফাহিম কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করল,,,
এই মেয়েটা কে? নতুন এনেছিস নাকি?
রাজীব কাটকাট গলায় জবাব দিল,, কিছুক্ষণ আগে ছয় বছরের একটা বাচ্চা সহ এই মেয়েটাকে তুলে এনেছি ৷
তারপর মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বি*শ্রীভাবে হেসে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে বলল,,
এমন সুন্দরী মেয়ে দেখলে বস খুশি হয়ে যাবে ৷ চড়া দামে এটাকে চালান করে দেওয়া যাবে আর ওই বাচ্চাকে বিক্রি করে দিলেও ভালোই ইনকাম হবে ৷
কথাটা কানে যেতেই মেয়েটি গ*র্জন করে বলল,,, আমার ভাইকে কিচ্ছু করবেন না নয়তো ভালো হবে না ৷ ওকে আমার কাছে নিয়ে আসুন এক্ষুণি ৷
রাজীব অ*গ্নিদৃষ্টিতে ফোঁসফোঁস করতে করতে ওর কাছে গিয়ে গালে খুব জোরে একটা থা*প্পড় দিল ৷ থা*প্পড়ের দরুন মেয়েটির ঠোঁট কেটে গিয়ে রক্ত ঝড়তে লাগল ৷ রাজীব ওর মুখ চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,
খুব কথা বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে? তোর দেমাগ ভাঙতে আমার এক রাতই যথেষ্ট ৷
পাশ থেকে মুরাদ ধ*মক দিয়ে বলল,, অক্ষত মেয়ে পাচার করা আমাদের কাজ ৷ সুতরাং মা*রপিট করলে বসের কাছে নালিশ করতে আমি বাধ্য হবো রাজীব ৷ আর মেয়েদের সাথে অস*ভ্যতামি করার আগে দুবার ভেবে দেখবি ৷
রাজীব রা*গে গজগজ করতে করতে সেখান থেকে চলে গেল ৷ মুরাদ এক পলক নতুন মেয়েটার দিকে তাকিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে রুম থেকে প্রস্থান করল ৷
একজন মেয়ে এসে নতুন মেয়েটির পাশে বসে কাধে হাত রেখে বলল,, কেঁদো না বোন ৷ তোমার নাম কি?
নতুন মেয়েটি মাথা তুলে কাঁদো কাঁদো স্বরে অস্ফুট স্বরে বলল,, জ-জি-জিনাত ম-মুক্তাদির জ-জিনি ৷
এরা সবাই অনেক অ*মানবিক আর নি*ষ্ঠুর ৷ দয়া মায়া বলতে কিছুই নেই ৷তাই বেশি মুখে মুখে আর কথা বলো না বোন নয়তো তোমাকে ওরা মে*রে ফেলবে ৷
কিন্তু আমার ছোট ভাইটাকে কোথায় নিয়ে গেল আপু? ও অনেক ছোট ৷ হয়তো ভয়ে আমার ছোট্ট ভাইটা কাঁদতেছে ৷
রুম্পা জিনিকে অসহায় কন্ঠে বলল,, আমি সেটা জানি না ৷ এর আগে কখনও ছোট বাচ্চাকে ওরা তুলে আনেনি ৷
জিনি হাঁটুতে মাথা লুকিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল ৷ মেয়েগুলো সবাই অসহায়ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷আর নিজেদের আসন্ন ভ*য়ানক বিপদের কথা ভেবে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে আছে ৷ রুম্পা বলে উঠল,,
চিন্তা করো না তোমরা ৷ আল্লাহ নিশ্চয়ই কাউকে না কাউকে পাঠাবে আমাদের বাঁচানোর জন্য ৷ তোমরা একদম ভেঙে পড়ো না ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আপা আমার জিনি আর জীবন কোথায়?
রাহেলা ওয়াসীমের প্রশ্নের জবাবে জুথি মুক্তাদীর বললেন,,, ভাবী আমি ওদের মলে রেখে একটু ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম ৷ কিছুক্ষণ পর এসে দেখি ওরা ওখানে নেই ৷ পুরো মল আমি হন্নে হয়ে খুঁজেছি কিন্তু ওদের কাউকে খুঁজে পাইনি ৷
কোথায় গিয়েছে মানে? আমার জিনি তো কখনো একা বাইরে যায় না আর জীবন তো ৬ বছরের বাচ্চা ৷ ওরা কোথায় যাবে? বিশ্বাস করে ওদেরকে আমি তোমার সাথে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু তুমি কিনা ওদের হারিয়ে ফেললে?
জুথি উ*ত্তেজিত হয়ে বলল,, আমি কি জানি ভাবী? তোমার মেয়ে হয়তো কোনো প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গেছে ৷
জিহান মুক্তাদীর এতোক্ষন সোফায় চুপচাপ বসে ছিলেন ৷ বোনের মুখ থেকে নিজের মেয়ের সম্পর্কে এমন কথা শুনে তিনি গলা কিছুটা উচু করে বললেন,,,
আমার মেয়ে এমন না ৷ কোনো ছেলে বন্ধু পর্যন্ত ওর নেই সেখানে বয়ফ্রেন্ড থাকা অসম্ভব বিষয় ৷
জুথি মুখ বাকিয়ে বলল,, আজ কালকার মেয়েদের ভরসা নেই ভাইজান ৷ উপরে উপরে ভদ্র সাজলেও ভিতরে ভিতরে প্রেমিকের সাথে রাত জেগে কথা বলে উল্টায় ফেলে ৷
জিহান মুক্তাদীর এবার ধ*মকে উঠে বললেন,, না জেনে কোনো কথা বলবে না জুথি ৷ আমার মেয়ের উপর আমার বিশ্বাস আছে ৷ তোমার মেয়ে ওরকম করেছে জন্য আমার মেয়েও যে এমন কাজ করবে সেটা ভাবা বন্ধ করো জুথি!
জুথি এবার অপমানে মাথা নিচু করে ফেলল ৷ পাশ থেকে রাহেলা ওয়াসীম কাঁদতে কাঁদতে বলল,,,
আমার ছেলে মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আর তোমরা তর্ক করে চলেছো!
জিহান রাহেলার পাশে গিয়ে বলল,, শান্ত হও তুমি ৷ আমি এখন ই যাচ্ছি ওদেরকে খুঁজতে আর যদি খুঁজে না পাই তাহলে পুলিশ স্টেশনে যাব ৷
তুমি ওদেরকে এনে দাও জিহান ৷ ওদের কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচব না ৷
তুমি নিজেকে সামলাও ৷ আমি ওদেরকে খোঁজার যথাসম্ভব চেষ্টা করব ৷
বলেই জিহান মুক্তাদীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন ৷ জুথি মুখে মিথ্যা চিন্তার ছাপ ফুটিয়ে ভাবীকে ধরে সোফায় বসিয়ে বলল,,,
তুমি শান্ত হও ভাবী ৷ ভাইজান ওদের নিশ্চয়ই খুঁজে নিয়ে আসবে ৷
রাহেলা ওয়াসীম কোনো জবাব না দিয়ে কেঁদেই চলেছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
শহর থেকে দূরে ঘন জঙ্গলের মাঝখানে একটা পরিত্যক্ত বাংলোর ভিতরে যে এতোটা জ*ঘন্য কাজ হতে পারে সেটা বাইরে থেকে কেউ ধারনাও করতে পারবে না ৷ বাইরে থেকে ধ্বংসস্তূপ মনে হলেও ভিতরে বহু সাবালক নাবালক মেয়েদের ধরে এনে বন্দী করে রাখা হয় দুবাই , ভারত ইত্যাদি দেশগুলোতে পাচার করে দেওয়ার জন্য ৷ এসব কাজের মূল কারিগর কে সেটার সন্ধান এখনও পুলিশরা পায়নি ৷ এতো বড় চক্রটাকে ধরার জন্য পুলিশ অনেক দিন থেকে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে কিন্তু এখনও কোনো ক্লু তাদের হাতে আসেনি ৷
মুরাদ পায়ের উপর পা তুলে চেয়ারে হেলান দিয়ে কিছু কাগজপত্র দেখতে দেখতে রাজীবের উদ্দেশ্যে বলল,,,
বাকি আস্তানাগুলোতে পরিমান মতো মেয়ে ধরে আনা হয়েছে তো?
রাজীব বিরক্ত ভরা মুখে মুরাদের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,, এক সপ্তাহ হয়নি এসেছিস তাতেই আমাকে নিজের চাকর ভাবা শুরু করেছিস কু*ত্তা? তোর অবস্থান খুব দ্রুতই তোকে দেখিয়ে দিব আমি ৷
মুরাদ কোনো জবাব না পেয়ে মাথা তুলে রাজীবের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,, কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি ৷
রাজীব দাঁতে দাঁত চেপে বলল,, তোকে কোনো জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না আমি ৷
মুরাদ ফিচেল হাসি হেসে ঘাড় মালিশ করতে করতে বলল,, তোর খুব অহংকার ৷ আমাকে অবজ্ঞা করার সাহস দেখাচ্ছিস? বসকে এখনি তোর অপকর্মগুলো বলে দিলে তোর কি হাল হবে ভাবতে পারছিস?
রাজীব কিছুটা ভয় পেল কিন্তু মুখে জোর এনে গলা উচু করে বলল,, কিসের অপকর্ম? কোন অপকর্ম?
মুরাদ আড়মোড়া ভেঙে বাকা হেসে বলল,, তুই যে কতগুলো টাকা বসের অজান্তে নিজের পকেটে ভরেছিস সব লিস্ট আমার কাছে আছে ৷ তাছাড়া নিজের প্রয়োজন মেটাতে কত মেয়েকে যে নি*র্যাতন করার পর মে*রে ফেলেছিস তাও আমার অজানা নয় ৷
রাজীব দারুন ঘা*বড়ে গেল ৷ ওর কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়তে লাগল ৷ মনে মনে বলল,,
এসব খবর এই ব*দমাশ টা কিভাবে জানতে পারল? এর থেকে সাবধান থাকতে হবে আমায় ৷
মুরাদ গলা খাকারি দিয়ে বলল,, কি রে এখনও আমায় অবজ্ঞা করে চলবি?
রাজীব নিজের রা*গ সংবরণ করে বলল,, ২ টা আস্তানাতে শুধু একজন করে মেয়ের সংকট রয়েছে ৷ বাদ বাকি আস্তানায় পরিমান মতো মেয়ে চালান করা সম্পন্ন হয়েছে ৷
দ্রুত ২ টা মেয়ের ব্যবস্থা কর ৷ আর ২ দিন পর সব মেয়েদের পাচার করে দিতে হবে ৷ বসও সেদিন উপস্থিত থাকবে ৷ কোনো ক্রুটি যেন না থাকে ৷
জ্বি ৷
বলেই মুরাদ বাংলো থেকে বেরিয়ে গেল ৷ রাজীবের রাগে শিরা উপশিরা দপদপ করতেছে ৷তখনই পাশের একটা রুম থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে লাগল ৷ এমনিতেই রাজীবের মে*জাজ খারাপ হয়ে আছে বাচ্চার কান্না যেন সেখানে ঘি ঢালল ৷ ফলশ্রুতিতে রাজীব প্রচন্ড রে*গে গিয়ে বাচ্চা টাকে খুবই নি*র্মম ভাবে মা*রতে লাগল ৷ বাচ্চাটা ব্যা*থায় গগনবিদারী চিৎ*কার করতে লাগল ৷ সেই চিৎকার পুরো বাংলোয় ছড়িয়ে পড়ল ৷ জিনি নিজের ছোট ভাইটার এমন আ*র্তনাদ শুনে দৌঁড়ে দরজায় ধা*ক্কা দিতে দিতে কেঁদে কেঁদে বলল,,
আমার ভাইটাকে মা*রবেন না প্লিজ ৷ ছোট বাচ্চা স*হ্য করতে পারবে না ৷ মা*রার ইচ্ছা হলে আমাকে মা*রুন ৷ যত ইচ্ছা মা'রুন, যা ইচ্ছা করুন কিন্তু আমার ভাইটাকে ছেড়ে দিন ৷ দয়া করুন ৷
জিনির কান্না করতে করতে হেচকি উঠে গেছে ৷ তবুও অস্ফুট স্বরে নিজের ভাইকে মা*রতে নিষেধ করে যাচ্ছে ৷
মুরাদ এতো চেঁ*চামেচি শুনে বাংলোতে প্রবেশ করল ৷ পরিস্থিতি বোঝার পর দ্রুতপদে বাচ্চার কান্না ভেসে আসা রুমটাতে গিয়ে রাজীবকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে কষে একটা থা*প্পড় মে*রে বলল,,,
প্রথমত বাচ্চাটাকে ধরে এনে ভুল করেছিস এখন আবার বাচ্চার গায়ে হাত তুলছিস! তোর বড্ড বাড় বেড়েছে রাজীব ৷ ভুলে যাস না বস নারী পাচারের সাথে জড়িত কোনো বাচ্চা ঘটিত ঘটনার সাথে অযথা উনাকে জড়াবি না ৷
রাজীব গালে হাত দিয়ে ক্ষু*ব্ধ চাহনিতে মুরাদের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মুরাদ ফাহিমকে ডেকে বলল,,
বাচ্চা টাকে দ্রুত ওর বোনের কাছে দিয়ে আয় ৷ যতদিন পর্যন্ত পাচার করা হচ্ছে না ততদিন এই বাচ্চা ওর বোনের কাছেই থাকবে ৷
রাজীব মৃদু গ*র্জন করে বলল,, মাথা ঠিক আছে তোর? আমাদের ব্যবসায় দয়ার কোনো স্থান নেই ৷
মুরাদ দ্বিগুন গ*র্জন করে বলল,, দয়া দেখাচ্ছি না বরং তোর মতো পা*ষন্ডের হাত থেকে অবুঝ বাচ্চাটাকে বাঁচাচ্ছি ৷ আমি বসের জন্য বাড়তি কোনো ঝামেলা চাচ্ছি না ৷
রাজীবের থেকে মুখ ঘুরিয়ে মুরাদ হুংকার দিয়ে বলল,, ফাহিম! কথা কানে যায় না? বাচ্চা টাকে ওর বোনের কাছে দিয়ে আয় ৷
ফাহিম হন্তদন্ত হয়ে জীবনকে কোলে নিয়ে জিনির কাছে দিয়ে আসল ৷ ভাইকে নিজের সাথে জরিয়ে জিনি ডুকরে কেঁদে উঠল ৷ কাঁদতে কাঁদতেই বলল,,,
ভাই আমার ব্যা*থা পেয়েছ?
বোনকে এতোক্ষন পর দেখে জীবন জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করল ৷ আধো আধো কন্ঠে বলল,,
আপু কুব বেথা পেয়েচি ৷ আমাকে কুব জোলে মেরেচে ৷ বেথা পাই আপু ৷
জিনি ভাইকে চুমু খেয়ে ব্যা*থা পাওয়া জায়গায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল ৷ কয়েকটা জায়গায় র*ক্তও জমে আছে ৷ তা দেখে জিনি আশেপাশে তাকিয়ে ওষধি কোনো গাছ পাওয়া যায় কিনা খুঁজতে লাগল ৷ ভাগ্যবশত পরিত্যক্ত বাংলো হওয়ায় কিছু ওষধি গাছ পেয়েই গেল জিনি ৷ দ্রুত কয়েকটা পাতা ছিঁড়ে দাঁত দিয়ে পিষে ক্ষত স্থানে দিয়ে দিতে লাগল ৷
উউউউ আপু বেথা পাই ৷
অল্প একটু স*হ্য করো ভাই ৷ কিছুক্ষণ পর আর ব্যা*থা পাবে না তুমি ৷
আপু তুমি এতোককন কুতায় চিলে? আমি কুব ভয় পেয়েচি ৷
এখানেই ছিলাম ভাই ৷
আমি আব্বু আম্মু কাচি যাব আপু ৷
জিনি কান্না আটকে বলল,, অবশ্যই যাব ভাই ৷ দ্রুতই আমরা বাড়িতে ফিরে যাব ৷
জিনি ঔষধ লাগানোর পর নিজের ভাইকে কোলে নিয়ে ওকে ঘুম পাড়াল ৷ তারপর উপরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,,,
আব্বু তুমি কোথায়? আমাদের এসে নিয়ে যাও ৷ আল্লাহ আমাদের রক্ষা করো ৷ আমাদের বাঁচানোর জন্য কাউকে পাঠাও ৷
চলবে,,,,,,,
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকাঃ_সিনথিয়া_জাহান
#সূচনা_পর্র