ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

২য় পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকাঃ_সিনথিয়া_জাহান  (সিনু)
#পর্বঃ২
রাজীব নিজের বরাদ্দকৃত রুমটাতে গিয়ে ভাঙচুর করতে লাগল ৷ রা*গে ওর মুখ র*ক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে ৷ মাথার চুল টেনে ধরে গ*র্জন করে বলতে লাগল ,,
তোর দিন ঘনিয়ে এসেছে মুরাদ ৷ আমার উপর কতৃত্ব ফলাতে চাস? আমাকে থা*প্পড় মা*রিস? শু*য়োরের বাচ্চা তোর এমন অবস্থা করব যে তুই আমার পা ধরে আকুতি করে বলবি "আমাকে মে*রে ফেল , আর এই য*ন্ত্রণা স*হ্য করতে পারছি না আমি!"
পিছনে দাঁড়িয়ে ফাহিম রীতিমতো কাঁপতেছে ৷ একদিকে মুরাদ অন্যদিকে রাজীব ৷ মাঝখানে ফাহিম হচ্ছে বলির পাঠা ৷ ফাহিম বিরবির করে বলল,,,
কে ম'রবে জানি না কিন্তু এই দুজনের ফ্যাসাদে আমার ইহলিলা সংবরণ হতে চলেছে সেটা নিশ্চিত ৷
কিছু সময় পর ফাহিম বুকে সাহস সঞ্চয় করে বলল,,
বস ভাই আজকে তো রাজীবের সাথে দেখায়ে ফাইভ স্টার হোটেল করার কথা ৷
রাজীব রা*গত মুখেই অবাক চাহনিতে পিছু ঘুরে ফাহিমের দিকে তাকাল ৷
একটু আগে নিজের বলা লাইনটা কর্ণগোচর হতেই ফাহিম নিজের জিহ্বায় একটা থা*প্পড় মে*রে বিরবির করে বলল,, 
ধুর বা*ল ভয়ের চোটে কি ভুলভাল বাক্য গঠন করছিস? এই বাক্যের ছুতোয় না আজ রাজীব ভাইয়ের হাতে পটল তুলতে হয়!
রাজীব অত্যন্ত জোরে ধ*মক দিয়ে বলল,, আমার সাথে মশকরা করতে এসেছিস? একদম মে*রে বালি চাপা দিয়ে দিব তোকে!
ফাহিম তৎক্ষণাৎ ব্যস্ত কন্ঠে বলল,, মাফ করুন ভাই ৷ আসলে আমি নার্সারি ফেল স্টুডেন্ট তাই এখনও শুদ্ধভাবে বাক্য গঠন টা শিখে উঠতে পারিনি ৷
আমার মাথা গরম করবি না বলে দিলাম!
ভাই আমি বলতে চাচ্ছিলাম আজকে তো বসের সাথে ফাইভ স্টার হোটেলে দেখা করার কথা ৷
রাজীব গম্ভীর কন্ঠে বলল,, হ্যাঁ ৷ মনে আছে ৷ আমার সামনে থেকে দূর হ ৷
ফাহিম চলে যেতেই রাজীব বলতে লাগল,, আজকেই সুযোগ বসের কাছে প্রিয় হওয়ার আর তোর নামে বসের কানে বি*ষ ঢালার ৷
বলেই রাজীব কুৎসিত ভাবে হাসতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
দশ-বারজন লোককে পাহারায় রেখে মুরাদ , রাজীব আর ফাহিম শহরের দিকে রওয়ানা হলো ৷ সব মেয়েগুলোকে একটা ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ৷ জিনি নিজের ভাইকে বুকে জরিয়ে সব মেয়েদের দিকে নজর বুলিয়ে নিচ্ছে ৷ দেখল প্রায় সব মেয়েই ওর সমবয়সী অর্থাৎ ১৮ বছরের আশেপাশের বয়সী আর কয়েকজন ২/১ বছরের বড় হবে ৷ সবাই গুটিশুটি মেরে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে ৷ জীবন হঠাৎ বলে উঠল,,
আপু কুদা লাগচে ৷ আমি কাব ৷
জিনি অসহায়ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, খাবে বাবু ৷ কিছুক্ষণ পর তোমাকে খাওয়াব ৷
সেই তকন তেকে তো এতাই বলতেচো আপু ৷ আলো ককন কাব?
জিনি ভাইয়ের কপালে চুমু দিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল,, খাব সোনা ভাই আমার একটু অপেক্ষা করো প্লিজ ৷
একটু পর জীবন কেঁদে কেঁদে বলে উঠল,, আহহহ আপু বেথা পাই ৷
জিনি ব্যস্ত হয়ে বলল,,, কোথায় ব্যাথা পাও বাবু?
জীবন নিজের হাত পা সহ শরীরের অন্যান্য ক্ষ*তস্থানগুলো দেখিয়ে কাঁদতে লাগল ৷ জিনি অসহায়ভাবে আশেপাশে ওষধি গাছ খুঁজতে লাগল কিন্তু একটা গাছও পেল না ৷ যে কয়েকটা ছিল সব ইতোমধ্যেই জীবনের ক্ষ*তে লাগিয়ে দিয়েছে জিনি ৷ শেষে ব্যর্থ হয়ে ভাইয়ের ক্ষ*তস্থান গুলোতে ফু দিয়ে ব্যাথা কমানোর চেষ্টা করতে লাগল জিনি ৷ বাকি মেয়েগুলো ছলছল নয়নে ভাইয়ের জন্য বোনের অসহায়ত্ব দেখতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
শহরের নামিদামী ফাইভ স্টার হোটেলে এসে পৌঁছাল মুরাদরা ৷ ফাহিম হা হয়ে সবকিছু দেখতেছে ৷ এতো সুন্দর জায়গা এর আগে কখনো দেখেনি ও ৷ পেটের দায়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এসব খারাপ কাজের সাথে জরিয়ে পড়েছিল কিন্তু ওসব অবলা মেয়েদের দেখলে মাঝে মাঝে ওর বুকটা হু হু করে ওঠে ৷ কখনো কখনো মনে হয় ওদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করি কিন্তু পরমুহূর্তেই মুরাদ আর রাজীবের কথা মাথায় আসতেই ও ভয়ে মিইয়ে যায় ৷ 
রিসেপশনে গিয়ে মুরাদ শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,, কেবি স্যার কোন রুমে আছেন বলতে পারেন?
রিসেপশনের মেয়েটি মিষ্টি করে হেসে বলল,, সরি স্যার ক্লাইন্টদের বিষয়ে কোনো খবর অন্যকে দেওয়া আমাদের হোটেলের নিয়ম বিরুদ্ধ ৷
আমরা উনার পরিচিত ৷ 
এগেইন সরি স্যার ৷ এটা সম্ভব না ৷
রাজীব পাশ থেকে খেকিয়ে উঠে বলল,,, এই মেয়ে নাটক না করে তাড়াতাড়ি বল ৷
মেয়েটা কেঁপে উঠল রাজীবের ধ*মকে ৷ মুরাদ বিরক্তিতে 'চ' কারান্ত শব্দ করে হাত উচিয়ে বলল,,,
চুপ থাক রাজীব ৷ আমাকে কথা বলতে দে ৷
তারপর কন্ঠটা নরম করে মুরাদ মেয়েটিকে বলল,, আচ্ছা এক কাজ করুন ৷ কেবি স্যারকে ফোন দিয়ে আমাদের নাম বলুন তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই তাই না?
মেয়েটি স্বাভাবিক হয়ে মুখে জোরপূর্বক হাসি এনে আমতা আমতা করে বলল,, জ-জ্বি ৷
তারপর ফোনে কিছুক্ষণ কথা বলে মেয়েটি বলল,,
৪০৩ নাম্বার রুমে উনি আছেন ৷ আপনারা যেতে পারেন ৷
মুরাদ হাসিমুখে ধন্যবাদ দিয়ে রাজীব আর ফাহিম সহ নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে চলে গেল ৷ ৪০৩ নাম্বার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে দুইবার টোকা দিতেই একজন বডিগার্ড এসে দরজা খুলে দিল ৷ ভিতরে ঢুকে ওরা সোফায় বসল ৷কয়েক মিনিট পর বেডরুম থেকে অর্ধন*গ্ন অবস্থায় একজন মধ্যবয়স্ক সুশ্রী মুখের হাস্যজ্জ্বল লোক এসে ওদের উদ্দেশ্যে বলল,,
কি অবস্থা তোমাদের? কেমন চলছে সবকিছু?
মুরাদ কিছু বলার আগেই রাজীব দ্রুত বলে উঠল,,, সবকিছু আন্ডার কন্ট্রোল বস ৷ আমি সব সামলে নিয়েছি ৷
রাজীবের দিকে তাকিয়ে অলসভাবে সোফায় গা এলিয়ে হাই তুলে ফাহিম বিরবির করে বলল,,, শুরু হয়ে গেল এদের চামচামি ৷ কে কত ভালো চামচা তার প্রতিযোগিতা ৷
রাজীবের কথা বলার ভঙ্গি দেখে মুরাদ নিঃশব্দ হাসল ৷ কেবি কোমড়ে টাওয়াল পেচিয়ে ওদের পাশের সিঙ্গেল সোফায় বসে পড়ল ৷ তখনই বেডরুম থেকে খোলামেলা পোশাকের একটি অল্পবয়স্কা সুন্দরী তরুনী এসে কেবির কোলে বসে ওর ঘাড় গলায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল ৷
সেটা দেখে ফাহিম ভ্রু কুঁচকে মনে মনে বলল,, এতো সুন্দর মাইয়া হয়ে তুই এই বুইড়া বেডার সাথে পিরিত দেখাইস ক্যান? দেশে কি যুবকদের অভাব পড়েছে? পড়লে বল আমি জোগাড় করে এনে দেই তাও এটার সাথে ন*ষ্টিফ*স্টি করিস না বইন ৷
মেয়েটা ফাহিমের দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপ মা*রল ৷ তা দেখে ফাহিম হকচকিয়ে গেল ৷ অন্যমুখ হয়ে নিজের দুগালে দুইটা আলতো করে থা*প্পড় দিয়ে ও বিরবির করে বলল,,,
তওবা তওবা ৷ এই মেয়ে তো আমার মতো ভদ্র পোলাকে খারাপ খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে! আমার মান-সম্মান লুট করতে চাস পে*ত্নি! আমার শরীরে কোনো নারীর স্পর্শ আমি সইতে পারব না কারন আমি চিরকুমার সংঘের একজন নিয়মিত সদস্য ৷
কেবি মেয়েটির হাতে একটা চু*মু দিয়ে মুরাদকে জিজ্ঞাসা করল,,
কি ব্যাপার ইয়াংম্যান সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো? সব মেয়ের ব্যবস্থা করে ফেলেছ?
মুরাদ মাথা নিচু রেখে বলল,, জ্বি বস সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে ৷
রাজীব হিং*সাত্মক দৃষ্টিতে মুরাদের দিকে তাকিয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করল ৷ তারপর বহুক*ষ্টে রা*গ কন্ট্রোল করে সামনের সুন্দরী মেয়েটার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ৷
কেবি মুচকি হেসে বলল,, তুমি মাথা নিচু করে রেখেছো কেন মুরাদ? আমার লিসাকে একটু দেখো ৷ ওর সৌন্দর্যের অপমান করো না ৷
মুরাদ মাথা নিচু রেখেই বলল,, বস আমরা তাহলে আজ উঠি ৷
না খেয়ে তো তোমাদের যেতে দিব না আমি ৷ চলো ডিনার করা যাক ৷
সবাই ডায়নিং টেবিলে গিয়ে বসল ৷ সিংহাসনের মতো চেয়ার টাতে কেবি বসে পড়ল ৷ টেবিলে নানা রকম দেশী বিদেশী খাবারের সমারোহ ৷ এতো সব খাবার দেখে ফাহিমের জিভে পানি চলে আসল ৷ হোটেলের একজন কর্মচারী এসে খাবার সার্ভ করে দিল ৷ বস খাওয়ার অনুমতি দেওয়া মাত্র ফাহিম রা*ক্ষসের মতো খেতে শুরু করল ৷ একসাথে এতোগুলো খাবার মুখে পুরলো যে মুখ পর্যন্ত নাড়াতে পারছে না কথা বলা তো দূরের কথা ৷ আস্তে আস্তে সব খাবার গিলে এক গ্লাস পানি খেয়ে চাউমিনের দিকে আঙুল তাক করে ফাহিম ওর পাশে বসা মুরাদের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,,
ওই দড়ির মতো জিনিসগুলোর নাম কি ভাই?
মুরাদ স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর দিল,, চাউমিন ৷
ফাহিম ছোট্ট করে 'ওও' বলে নিজের প্লেটে অনেকগুলো চাউমিন নিয়ে গপাগপ খেতে লাগল ৷ খেতে খেতে হঠাৎ নাক দিয়েও কয়েকটা ঢুকে গেল ৷ ফলে ফাহিমের কাশতে কাশতে চোখের পানি বের হয়ে গেল ৷ মুরাদ তাড়াতাড়ি ওর দিকে একটা গ্লাস বাড়িয়ে দিল ৷ পানি খেয়ে মাথার তালুতে আলতো করে কয়েকটা চাপড় মে*রে অবস্থা স্বাভাবিক করল ফাহিম ৷ লিসা ওর মুখ আর নাকের অবস্থা দেখে চোখমুখ কুঁচকে বলল,,
ইয়াক! ছিহ! কি নোং*রা!
ফাহিম মুখ ভেংচি কেটে মনে মনে বলল,,বয়লার মুরগির আবার ঢং!
সবাই ডিনার সেরে সোফায় বসে টুকটাক গল্পগুজব করতে লাগল ৷ লিসা কামনার দৃষ্টিতে মুরাদের দিকে তাকিয়ে আছে অপলকভাবে কিন্তু মুরাদ একবারের জন্যেও ওর দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত ৷
এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল ৷ দরজা খোলার সাথেই একজন লোক হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে গান হাতে কেবির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল ৷ হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সবাই হতভম্ব হয়ে গেল ৷ লিসা দ্রুতপদে কেবির কোল থেকে উঠে দূরে সরে গেল ৷ লোকটা কেবির কাছাকাছি যেতেই মুরাদ কোমড় থেকে গান বের করে লোকটার কপাল বরাবর শুট করে দিল ৷ সাইলেন্সার লাগানো ছিল বিধায় কোনো আওয়াজ হলো না ৷ 
লিসা ভয়ে চিৎ*কার দিয়ে উঠল ৷ লোকটা কেবির দিকে হাত উচিয়ে অস্পষ্টভাবে  কিছু বলতে বলতে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল ৷
ক্ষণকাল সবকিছু মৌন থাকার পর বুক ভরে শ্বাস নিয়ে কেবি মুরাদের দিকে তাকাল ৷ মুরাদ লোকটার দিকে এখনও গান তাক করে রেখে  ক্রমাগত হাঁপাচ্ছে ৷ পাশেই রাজীব স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ আর ফাহিম ভয়ের চোটে একটা বডিগার্ডের কোলে চড়ে শক্ত করে জরিয়ে ধরে রেখেছে ৷ বডিগার্ড টা এক ঝাটকা দিয়ে ফাহিমকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিল ৷ ফলশ্রুতিতে ফাহিম মেঝেতে পড়ে গেল ৷ তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে পোশাক আশাক ঠিক করে ফাহিম বডিগার্ডটিকে ভাব নিয়ে বলল,,,
আমি একটুও ভয় পাইনি ৷ আপনি ভয়ে কাঁপতেছিলেন তাই আপনার কোলে চড়ে জরিয়ে ধরে আপনার ভয় কমানোর চেষ্টা করছিলাম আর কিছু না ৷
বডিগার্ড টা ওর দিকে অ*গ্নিদৃষ্টিতে তাকাতেই ফাহিম দ্রুতপদে ওর থেকে সরে এসে রাজীবের পাশে দাঁড়াল ৷
কেবি নিজেকে সামলে নিয়ে মুরাদকে এসে জরিয়ে ধরে আপ্লুত কন্ঠে বলে উঠল,,, তুমি ই আমার যোগ্য সহকারী ইয়াংম্যান ৷ অবশেষে একজন সৎ সহযোগী পেলাম আমি ৷ ইতোমধ্যেই তুমি আমার মন জয় করে নিয়েছিলে কিন্তু আজ থেকে তুমি আমার খাশ মানুষ ৷ যা যা চাই সব আমি তোমাকে দিব ৷ আজ থেকে আমি তোমার কাছে ঋণী ইয়াংম্যান ৷ 
তারপর মুরাদের কাধে হাত রেখে বলল,, কি চাই বলো? টাকা, গাড়ি বাড়ি নাকি সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে? কি চাই বলো?
মুরাদ মৃদু হেসে বলল,,, কিছু চাই না বস ৷ আপনার সুস্থতা আর উন্নতি ই আমার একান্ত কাম্য ৷
কেবি বহুদিন পর একটা তৃপ্তির হাসি দিল ৷ সে খাঁটি সোনা খুঁজে পেয়েছে ৷
রাজীব এসব দেখে হিং*সায় জ্ব*লে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে ৷ কিন্তু বস সামনে থাকায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না ৷ মুখে মেকি চিন্তার ছাপ ফেলে রাজীব কেবির কাছে গিয়ে উ*ত্তেজিত হয়ে বলল,,
আপনি ঠিক আছেন তো বস? আপনার কোনো ক্ষতি হয়নি তো? জানেন আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!
ফাহিম ব্যঙ্গ করে মনে মনে বলল,, নাটক! নাটকের শেষ নেই! অভিনয়ে একদম কাঁচা ভাই আপনি ৷ বেশি অভার নাটক করিয়েন না ধরা পড়ে যাবেন ৷
কেবি গম্ভীর কন্ঠে বলল,, আমি ঠিক আছি রাজীব ৷ তুমি ফাহিমকে নিয়ে নিচে যাও মুরাদের সাথে আমার কিছু কথা আছে ৷
রাজীব দাঁতে দাঁত চেপে রাগ সংবরণ করে ফাহিমকে নিয়ে ধুপধাপ পায়ে চলে গেল ৷ যেতে যেতে রা*গত স্বরে বলল,,,
ম*রার বুড়ো এতো বছর তোর গোলামী করলাম এই ব্যবহার পাওয়ার জন্য? তোকে তো আমি দেখে নেব তার আগে ওই শু*য়োরটার ব্যবস্থা করতে হবে ৷
কেবির সাথে টুকটাক কথা বলে মুরাদ রুম থেকে বেরোতে ধরতেই লিসা ওর হাত ধরে নিজের মুখের উপর স্লাইড করতে করতে বলল,,,
তোমাকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে হ্যান্ডসাম ৷ তোমাকে আমি কাছে পেতে চাই ৷
মুরাদ হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,, নট ইন্টারেস্টেড ৷
কেন আমি কি সুন্দরী না? আজ পর্যন্ত কোনো ছেলে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেখায় নি ৷ আমার রুপ দেখে সবাই হুশ হারিয়ে ফেলে ৷ তাহলে তুমি কেন আমার দিকে তাকাচ্ছ না?
কারন আমার মনে একজন আছে ৷ তাকে ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কারো কথা ভাবতে চাচ্ছি না ৷ সরি পথ ছাড়ুন আমি যাব ৷
লিসা মুখভার করে পথ ছেড়ে দিল ৷ মুরাদ সেখান থেকে দ্রুতপদে চলে গেল ৷ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে লিসা অস্ফুট স্বরে বলল,,
এই প্রথববারের মতো আমাকে কেউ এভাবে অবজ্ঞা করল! নারী পাচারের সাথে সংযুক্ত হয়েও এতোটা সৎ পুরুষ কেউ কিভাবে হতে পারে?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
দরজার বাইরে কারো পদশব্দ শুনতেই জিনি ত্রস্ত পায়ে দরজার কাছে গিয়ে আকুতি করে বলল,,
শুনছেন? এদিকে একটু আসবেন? 
জিনি স্পষ্ট শুনতে পেল পদধ্বনি টা আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে আসতেছে ৷ মুরাদ দরজা খুলে ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলল,,
কি চাই?
দয়া করে একটু খাবার দিবেন? আমার ছোট ভাইটা ক্ষুধায় ক*ষ্ট পাচ্ছে ৷ আমাকে দিতে হবে না ৷ শুধু আমার ভাইয়ের জন্য একটু খাবার দিলেই হবে ৷
মুরাদ কয়েক মূহুর্ত জিনির দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলল,,
ঠিক আছে ৷
জিনি খুশি হয়ে বলল,, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ৷
মুরাদ কয়েক মূহুর্ত ওর দিকে তাকিয়ে থেকে চলে গেল ৷ কয়েক মিনিট পর ফাহিম খাবার নিয়ে আসল তবে শুধু জীবনের জন্য না বরং সব মেয়েদের জন্যই পর্যাপ্ত খাবার নিয়ে এসেছে ও ৷ সবাই ব্যস্ত হাতে বেশ তৃপ্তি করে খেল ৷ তা দেখে ফাহিমের মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল ৷ হুশ হতেই তৎক্ষণাৎ মুখটা গম্ভীর করে মনে মনে বলল,,
মুরাদ কিংবা রাজীব ভাই যদি আমাকে একটু আগে দেখত তাহলে মেয়েগুলোর সাথে আমাকেও মেয়ে বানিয়ে পাচার করে দিত! বাবারে বাবা ভাগ্যিস দেখেনি!
জিনি নিজ হাতে জীবনকে তুলে খাওয়াল ৷ খাওয়ার ফলে জীবন এখন একটু সুস্থবোধ করতেছে তাই তৃপ্তির নিদ্রায় তলিয়ে গেল ৷ ও ঘুমিয়ে যেতেই জিনি খেয়ে নিল ৷ ওরও বড্ড খিদে পেয়েছিল ৷
আদৌও কি কেউ ওদের বাঁচাতে আসবে না চিরদিনের জন্য অন্ধকার রাজ্যে হারিয়ে যেতে হবে এই নিষ্পাপ মেয়েগুলো আর ওই দুধের শিশুকে?
চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন