#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ১০
জিনি ল'জ্জিত ভঙ্গিতে উষার সাথে কলেজ ড্রেস পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ রুম থেকে আসার পর উৎসাহের সাথে জিনির আর দেখা হয়নি ৷ উৎকর্ষ অফিসের জন্য তৈরি হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে ওদেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,,
অনুরোধ করে লাভ নেই ৷ আমি রেখে আসতে পারব না ৷ আমি আজকে অনেক ব্যস্ত ৷
উষা ওর দিকে না তাকিয়েই গম্ভীর গলায় বলল,, তো আমরা কখন বললাম রেখে আসতে?
উৎকর্ষ ভ্রু কুঁচকে উষার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,, অন্যদিন তো রেখে আসুন রেখে আসুন বলে বলে কান ঝালাপালা করে দেয় আর আজ এতো নিঃশ্চুপ কেন? বেশি খারাপ ব্যবহার করে ফেললাম নাকি?
তখনই উৎসাহ শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে ওদের সামনে এসে বলল,, যাওয়ার জন্য প্রস্তুত?
জিনি আর উষা হ্যাঁ ইশারা করল ৷ উৎসাহ জিপের চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে বাইরে চলে গেল ৷ তার পিছু পিছু ওরাও গেল ৷ জিনি জিপের পিছনের সিটে বসতে ধরতেই উষা বলল,,,
তুই কি আমার ভাইকে ড্রাইভার প্রমাণ করতে চাচ্ছিস? যা গিয়ে সামনে বস ৷
জিনি চোখ পাকিয়ে উষার দিকে তাকিয়ে উৎসাহের পাশে গিয়ে বসল ৷ হঠাৎ উষা কোনো একটা কাজে বাড়ির ভিতরে যেতেই উৎসাহ শীতল গলায় জিনিকে বলল,,
তুমি তো ভালোই গা'লি দিতে জানো!
জিনি ল'জ্জায় মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে ফেলল ৷ তা দেখে উৎসাহ নিঃশব্দ হাসল ৷ উষা একটা বই ব্যাগে রাখতে রাখতে জিপের পিছনের সিটে এসে বসল ৷ তারপর ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,,
ভাইয়া চলো এখন যাই ৷
উৎসাহ জিপ স্ট্যার্ট দিতে যাবে তখনই উৎকর্ষ দৌঁড়ে এসে উষার পাশে বসে বলল,,
যাওয়া যাক ৷
উষা ভ্রু কুঁচকে উৎকর্ষের দিকে তাকিয়ে বলল,, আপনার নিজের গাড়ি নেই?
উৎকর্ষ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে সিটে হেলান দিয়ে বলল,, অবশ্যই আছে কিন্তু আজ চালাতে ইচ্ছা করছে না ৷ তোর কোনো সমস্যা আছে?
উষা বি'রক্ত মুখে অন্যদিকে তাকাল ৷ উৎসাহ জিপ স্ট্যার্ট দিল ৷জিপের মধ্যে নিদারুন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে ৷ জিনি ওই যে মাথা নিচু করেছিল এখনও তোলেনি ৷ উৎসাহ বার বার আড়চোখে ওর দিকে তাকাচ্ছে ৷ জিনি একবার মাথা তুলে উৎসাহের দিকে তাকাতেই উৎসাহও সেই সময় ওর দিকে তাকাল ৷ ফলে দুজনেই কিছুটা ল'জ্জা পেয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিল ৷ উষা খুব মনোযোগ দিয়ে ওদের দুজনকে পর্যবেক্ষণ করতেছে আর মাঝে মাঝে মুচকি হাসছে ৷ উৎকর্ষ গম্ভীর মুখে উষার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ কথা বলা তো দূরের কথা উষা ওর দিকে একবারের জন্যেও তাকায়নি পর্যন্ত ৷ উৎকর্ষকে আড়চোখে খেয়াল করে উষা বিরবির করে বলল,,
ভালোবাসি জন্য কি আপনার সব অ'পমান চুপচাপ হজম করে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যাব? না কখনোই না ৷ আমি অতোটাও বে'হায়া না!
কিছু সময় পর উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,, তোমাদের টিউশন কেমন চলছে? বাবার ঠিক করা টিচার ভালো পড়ায় তো?
উষা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,, হ্যাঁ অনেক সুন্দর করে সবকিছু বুঝিয়ে দেয় ৷ ছেলেটা ভালোই ট্যালেন্টেড ৷
উৎকর্ষ তড়াক করে মাথা ঘুরিয়ে বলল,, ছেলে মানে?
জিনি বলে উঠল,, ইউনিভার্সিটির একটা ছেলে ৷ নাম সোহান ৷
উৎসাহ শান্ত দৃষ্টিতে জিনির দিকে তাকিয়ে বলল,, ছেলে টিউটর ঠিক করেছে এটা তো জানতাম না ৷
উষা~ জানবে কিভাবে? আমরা নিজেই তো জানতাম না ৷
উৎকর্ষ গম্ভীর গলায় জিনিকে বলল,, পিচ্চি ভাবী ছেলেটার বয়স কেমন হবে?
জিনি একটু ভেবে বলল,, ইউনিভার্সিটিতে যেহেতু পড়ে তাহলে ২৪ বা ২৫ বছর হওয়ার কথা ৷
কখন পড়াতে আসে?
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ৷ ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি পড়ায় ৷ এমনভাবে বোঝায় যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটা মাথায় সেট হয়ে যায় ৷
উষা জিনির সাথে তাল মিলিয়ে বলল,, যা বলেছিস জুলিয়েট ৷ ছেলেটা মা'রাত্মক ট্যালেন্টেড ৷
উৎকর্ষ ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে উষার দিকে তাকাল ৷ উৎসাহ স্টিয়ারিংয়ে শক্ত করে হাত চেপে ধরল কিন্তু ওর মুখভঙ্গি একদম স্বাভাবিক ৷ তারপর কেউ আর কোনো কথা বলল না ৷ কলেজের সামনে এসে উৎসাহ জিপ থামাল ৷ জিনি আর উষা বিদায় জানিয়ে হাত ধরাধরি করে কলেজের ভিতরে চলে গেল ৷
উৎকর্ষ লাফ দিয়ে উৎসাহের পাশে এসে বসল ৷ জিপ কিছুদূর যাওয়ার পর উৎসাহ আর উৎকর্ষ একযোগে বলে উঠল,,
ছেলে মানুষকে দিয়ে না পড়ানোই ভালো ৷
দুজনেই চমকে উঠল এভাবে টেলিপ্যাথি হয়ে যাওয়ার জন্য ৷ তারপর একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল ৷ উৎকর্ষ বলে উঠল,,
ভাই আমি কোনো মেয়ে টিচারের খোঁজ লাগাই কেমন?
ঠিক আছে ৷ তার আগে এই ছেলেকে বিদায় করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব ৷ এক্সচুয়েলি আজকেই বিদায় করলে ভালো হয় ৷
ওকে আমি বিকেলে অফিস থেকে এসে ওই ছেলের ব্যবস্থা করব ৷
উৎসাহ সম্মতি জানিয়ে জিপ চালানোয় মনোযোগ দিল ৷ দুজনেই চুপচাপ কোনো একটা ভাবনায় মগ্ন হয়ে আছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি আর উষা বেঞ্চে বসে বই বের করল ৷ হঠাৎ কয়েকটা মেয়ে এসে ওদের সামনে বসে বলল,,,
ওই ছেলে দুইটা তোর ভাই না?
উষা ভ্রু কুঁচকে বলল,, হ্যাঁ তো?
রিয়া নামের একটা মেয়ে বলে উঠল,, এতো হ'ট কেন রে! আমি তো ফিদা হয়ে গেছি ৷ দুজনেই ইউনিক তবে তোর সাথে যে বসেছিল তাকে আমার বেশি পছন্দ হয়েছে ৷
উষা প্রচন্ড রে'গে গেল ৷ লম্বা একটা শ্বাস ফেলে বলল,,
আর যাই করিস না কেন আমার কাজিনের দিকে নজর দিস না!
রিয়া অবাক হয়ে বলল,,কেন?
উষা মুখটা ওদের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বলল,, সুন্দর হলে কি হবে উনি খুবই ব'দমেজাজি আর প্লেবয় ৷ একবার কি হয়েছে শোন রা'গের মাথায় তার ২ মাস টিকে থাকা প্রেমিকাকে তুলে আ'ছাড় মে'রেছিল ৷ মেয়েটার কয়েকটা হাড় ভে'ঙে গেছে ৷ এখন আর ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না!
জিনি অবাক হয়ে উষার বানানো কথাগুলো শুনতেছে আর ঠোঁট চেপে হাসছে ৷ মেয়েগুলো মনে হয় খানিকটা ভ'য় পেয়ে গেল ৷ একজন আমতা আমতা করে বলল,,
এতো রা'গী!
তা আর বলছি কি ৷ এখন পর্যন্ত ১০০ টা গার্লফ্রেন্ড বদলানো শেষ বুঝলি?
মেয়েগুলোর মন কাচের মতো ঝরঝর করে ভেঙে গেল ৷ ওরা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলল ৷ উষা জিনির দিকে একবার তাকিয়ে গলা খাকারি দিয়ে মেয়েগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলল,,
তবে একটা গুড নিউজ আছে ৷ তোরা চাইলে আমার ভাইকে লাইন মা*রতে পারিস ৷ আমার ভাই অনেক ঠান্ডা মস্তিষ্কের ৷ সহজে কাউকে রা'গ দেখায় না ৷ ভুল করলে সুন্দর ভাবে ভুলটা ধরিয়ে দেয় ৷
জিনি হতভম্ভ হয়ে উষার দিকে তাকাল ৷ মেয়েগুলোর মুখ মুহূর্তেই ঝলমলিয়ে উঠল ৷ একজন বলে উঠল,,
আয়হায় এ তো দেখি পুরাই জেন্টেলম্যান ৷ এমন একটা ছেলের ই তো খোঁজে ছিলাম এতোদিন ৷ উষা আজ থেকে আমি তোর ভাবী ৷ তোর ভাইকে পটানোর দায়িত্ব এখন আমার ৷
উষা হাসি আটকে বলল,, হয়েছে হয়েছে এখন তোরা যা এখান থেকে ৷
মেয়েগুলো চলে যেতেই জিনি উষার পিঠে কিল বসিয়ে বলল,, এভাবে বললি কেন? তোর ভাই এখন বিবাহিত ৷ আর তুই কিনা বান্ধবীদের উনার প্রতি লে'লিয়ে দিচ্ছিস!
তো কি করব? ভাইয়ার বউটা তো জোর দিয়ে বলল না যে 'খবরদার উনাকে লাইন মা*রবেন না আমি উনার ওয়াইফ' ৷
জিনি রা'গী দৃষ্টিতে উষার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ স্যার চলে আসায় ও সামনে তাকাল কিন্তু ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না ৷ সবকিছু কেমন অ'সহ্য লাগতেছে ৷ ভিতরে ভিতরে ভীষন রা'গ হচ্ছে ৷ উষা আড়চোখে ওর মুখভঙ্গি খেয়াল করে মুচকি হাসল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উমায়েত আর উসায়েত ফারুকী দুইদিনের জন্য শহরের বাইরে গেছেন ৷ তাই উৎকর্ষের উপর কাজের চাপটা বেড়ে গেছে ৷তবুও খুব দ্রুত কাজ কমপ্লিট করে উৎকর্ষ ৪ টার দিকে বাসায় আসল ৷ উষার রুমের সামনে যেতেই রা'গে ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ৷ সোহান কামনার দৃষ্টিতে উষার আপাদমস্তক খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতেছে ৷ উৎকর্ষ সজোরে দরজা টা ধা'ক্কা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ তিনজনই আশ্চর্য হয়ে ওর দিকে তাকাল ৷
উৎকর্ষ সোহানকে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর গলায় বলল,, কাল থেকে আর পড়াতে আসতে হবে না ৷ তুমি যেতে পারো ৷
সোহান ভয় পেয়ে মনে মনে বলল,, উনি কি সব দেখে ফেলেছেন? দেখলে তো আমি আজ শেষ!
উৎকর্ষ ধ'মকে উঠে বলল,, কি হলো শুনতে পাও নি?
সোহান ওর ধমকে কেঁপে উঠল ৷ তারপর দ্রুত ওকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল ৷ উষা মৃদু চিৎ'কার করে বলল,,
আজব তো ছেলেটাকে এভাবে অ'পমান করলেন কেন?
উৎকর্ষ রা'গে ফুসতে ফুসতে বলল,, তুই চুপ থাক ৷ একটাও কথা বলবি না ৷
বলেই উৎকর্ষ গটগট পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ উষা আর জিনি স্ত'ম্ভিত হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে ৷
সোহান গেইটের কাছে যেতেই উৎকর্ষ পিছন থেকে বলল,,
দাঁড়া ৷
সোহান এমন গম্ভীর স্বর শুনে ভ'ড়কে গেল ৷ উৎকর্ষ লম্বা লম্বা পা ফেলে সোহানের কাছে গিয়ে ওর গালে অত্যন্ত জোরে একটা থা'প্পড় মা'রল ৷ থা'প্পড়ের তাল সামলাতে না পেরে সোহান ধপ করে নিচে পড়ে গেল ৷ উৎকর্ষ ওর কলার ধরে টেনে তুলে রা'গে গজগজ করতে করতে বলল,,,
ওর দিকে ওভাবে তাকানোর সাহস হলো কি করে তোর?
মা'রের চো'টে সোহান ক্রমাগত ঢুলতেছে ৷ কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল,, মাফ করে দিন ভাই ৷ আমার ভুল হয়ে গেছে ৷
উৎকর্ষ ওর পশ্চাৎদেশে একটা লা'ত্থি মে'রে বলল,,, তোকে যেন উষার ত্রি সীমানার কাছাকাছি না দেখি ৷
সোহান কোনোমতে উঠে দ্রুত একটা রিকশায় করে চলে গেল ৷ উৎকর্ষ সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে উষার রুমে গিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,,
জলদি আমার রুমে আয় উষা ৷
উষা মুখের উপর বলল,, আমি যাব না ৷ কি করতে পারেন করুন!
উৎকর্ষের রা'গ তিরতির করে বেড়ে গেল ৷ উষার হাতটা শক্ত করে ধরে টানতে টানতে ওকে নিজের রুমে নিয়ে গেল ৷ জিনি অবাক হয়ে সবকিছু দেখে বিরবির করে বলল,,
কি হচ্ছে এসব?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উষাকে নিজের রুমে ধা'ক্কা দিয়ে উৎকর্ষ শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিল ৷ উষা হাত ডলতে ডলতে বলল,,
এমন করছেন কেন? কি করেছি আমি?
উৎকর্ষ গ'র্জন করে বলল,, জানিস না কি করেছিস? ওই ছেলে তোকে কিভাবে দেখতেছিল সে খেয়াল তোর আছে?
উষা হা হয়ে উৎকর্ষের রা'গে রক্তিম হওয়া মুখটার দিকে তাকাল ৷ ওকে চুপ থাকতে দেখে উষার দুহাত চেপে ধরে উৎকর্ষ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,
তোকে কতবার বলেছি ছেলেদের থেকে দুরে দূরে থাকবি ৷ তাও কেন ওই ছেলের এতো কাছাকাছি বসে ছিলি? নাকি তোর ছেলেটাকে পছন্দ হয়েছিল?
উষা উৎকর্ষকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলল,, কিসব বলছেন? আমি জানতাম না ছেলেটা ওমন ৷ বাবা ঠিক করেছিল জন্যেই পড়েছি আর কিছু না ৷
উৎকর্ষ নিজের চুল টেনে ধরে রা'গ কন্ট্রোল করে বলল,, আচ্ছা ঠিক আছে যা এখন ৷
উষা উৎকর্ষের দিকে সূক্ষ্ম নজরে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,,
আপনি উপরে উপরে যতই রা'গ দেখান না কেন , ইগনোর করুন না কেন , আমাকে যে তলে তলে ভালোবাসেন সেটা অস্বীকার করতে পারবেন না!
কথাটা ভেবে উষা মুচকি হাসল ৷ উৎকর্ষ ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলল,,
আ'হাম্মকের মতো হাসতেছিস কেন?
উষা হাসি বন্ধ করে উৎকর্ষকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল ৷ সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে উৎকর্ষ ফ্রেশ হতে চলে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
ড্রয়িংরুমে বসে উষা , জিনি , উৎকর্ষ আর উমা খেলা দেখতেছে ৷ কিছুক্ষণ মনোযোগ দেওয়ার পরও উমা যখন খেলার কিছুই বুঝল না তখন বিরক্ত হয়ে কিচেনে চলে গেল মা আর বড় মায়ের কাছে ৷ উৎসাহ সদর দরজা দিয়ে এসে উৎকর্ষের পাশে বসে পড়ল ৷ ভাইকে আসতে দেখেই উষা জিনিকে ইশারা করল ৷ জিনি ওর কানে কানে বলল,,
একটু পর যাই ৷ আর মাত্র ২ ওভার আছে ৷
না এখনই যা ৷ আমি তোকে বল টু বল আপডেট দিব সমস্যা নেই ৷
জিনি এবার কিচেনে চলে গেল ৷ কয়েক মিনিট পর এক কাপ কফি এনে উৎসাহের দিকে বাড়িয়ে দিল ৷ উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে ধন্যবাদ বলে কফির কাপটা নিয়ে নিল ৷ কফি খেতে খেতে উৎসাহ বলল,,
নিউজিল্যান্ডের সাথে খেলা হচ্ছে?
জিনি তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল,, নিউজিল্যান্ড না ইংল্যান্ডের সাথে উৎসাহ ভাইয়া ৷
জিনির কথাটা কানে যেতেই উৎসাহ বিষম খেয়ে মুখের ভিতরের সব কফি উৎকর্ষের গায়ে ফেলে দিল ৷ উৎকর্ষ তড়াক করে সোফা থেকে উঠে বলল,,
ভাই! কি করলি? ভাগ্যিস কালো টি-শার্ট পড়ে আছি নয়তো দাগ লেগে যেত ৷
উৎসাহ ব্যস্ত হয়ে বলল,, সরি ভাই ৷
উষা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল ৷ জিনি নিজের করা কর্মকান্ডে আ'হাম্মক হয়ে সোফার একপাশে গুটিশুটি মে*রে দাঁড়িয়ে আছে ৷ উৎকর্ষ নিজের টি-শার্ট মুছতে মুছতে বাকা হেসে উৎসাহকে বলল,,
বউয়ের থেকে ভাই ডাক শুনে কেমন লাগল ব্রো?
উৎসাহ শান্ত চোখে উৎকর্ষের দিকে তাকাল ৷ বিব্রত হয়ে জিনি নিজেই নিজেকে ব্যঙ্গ করে বলল,,
এবার ভাইয়া ডাকটা বন্ধ করতে হবে নয়তো নিজের সাথে সাথে উনাকেও ল'জ্জায় ফেলে দিব!
উষা এখনও জোরে জোরে হাসতেছে ৷ হাসতে হাসতে বলল,,
আজকের সেরা বিনোদন পেয়ে গেলাম ৷
বলে আবারও হাসতে লাগল ৷ তিনজন ই ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ৷ এমন সময় কিচেন থেকে উর্মিলা রহমান গলা উচু করে বললেন,,,
এভাবে ঘর কাঁপিয়ে হাসছো কেন উষা? হাসি বন্ধ করে ছাদ থেকে কাপড়গুলো তুলে নিয়ে আসো ৷ আজ আনতে মনেই ছিল না ৷
উষা হাসতে হাসতেই বলল,, যাচ্ছি মা ৷
ছাদে গিয়েও উষা হাসতে হাসতে কাপড় তুলতে লাগল ৷ হাসির চক্করে ও যে রাত ১০ টায় একা একা ছাদে এসেছে সেটা খেয়ালই করেনি ৷ হঠাৎ ছাদের একপাশে তাকাতেই উষা সাদা সাদা কিছু দেখল ৷ হাসি বন্ধ করে চোখ সরু করে উষা সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই ওর শিরদাড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল ৷ সাদা সাদা জিনিসটা ওর দিকে ঘুরে মুচকি হাসল তারপর হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ৷ উষা চোখ বড় বড় করে স্ট্যাচু হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকল ৷ কিছুক্ষণ পর গলার স্বর ফিরে পেতেই উষা গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে চিৎ'কার করল ৷ ওর চিৎ'কার শুনে সবাই ছুটে ছাদে চলে আসল ৷ উৎকর্ষ উত্তেজিত হয়ে বলল,,
আজকে আবার কি হলো?
উষা ছাদের ওদিকটায় আঙুল তাক করে বলল,, ওখানে কেউ ছিল ৷
উৎসাহ লম্বা লম্বা পা ফেলে সেদিকে গিয়ে আশেপাশে ভালোমতো খুঁজতে লাগল কিন্তু কিছুই পেল না ৷ তারপর শীতল গলায় বলল,,,
উৎকর্ষ চল পুরো বাড়িটা একটু খুঁজে দেখি ৷
দুভাই মিলে তন্নতন্ন করে সারা বাড়ি খুঁজল কিন্তু কিছুই পেল না ৷ শেষে সবাইকে অভয় দিয়ে ঘুমাতে পাঠাল ৷
চলবে,,,,,,