ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

১১তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান 
#পর্বঃ১১
জিনি বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে উৎসাহের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ উৎসাহ গভীর মনোযোগে ল্যাপটপ ঘাটাঘাটি করছে ৷ আজকেও জিনি উষার রুমে থাকতে চেয়েছিল কিন্তু উৎসাহ কিসব লজিক দেখিয়ে মিতা ইয়াসমিন কে উষার সাথে থাকতে বলে জিনিকে নিজের রুমে নিয়ে এসেছে ৷
জিনি প্রথমবারের মতো উৎসাহের আপাদমস্তক খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতেছে ৷ মনে মনে বলল,,
মানতে হবে উনি অত্যন্ত সুদর্শন ৷ ফর্সা মুখশ্রী , হাস্যজ্জ্বল চেহারা আর জিম করা বডি ৷ পারফেক্ট কম্বিনেশন ৷
উৎসাহ ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকাতেই জিনি তাড়াহুড়ো করে চোখ সরিয়ে নিল ৷ উৎসাহ ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ জিনির অস্বস্তিতে ছেয়ে যাওয়া মুখখানা দেখল তারপর পুনরায় কাজ করতে শুরু করল ৷
জিনি চোখমুখ কুঁচকে বিরবির করে বলল,, ইশশ! ওভাবে তাকাতে গেলাম কেন? উনি কি ভাবলেন?
কাজ কমপ্লিট করে উৎসাহ ঘাড় মালিশ করতে করতে লাইট অফ করে দিল ৷ ঘর অন্ধকার হতেই জিনির ভয় লাগা শুরু হলো ৷ আশেপাশে চোখ বুলিয়ে ও জড়োসড়ো হয়ে বিছানার একপাশে শুয়ে পড়ল ৷ হঠাৎ জানালায় কালো অবয়বের মতো কিছু দেখতেই ধড়পড় করে উঠে বসল ৷তারপর জানালার দিকে ভালোমতো তাকিয়ে দেখল ওখানে কিছুই নেই ৷ ওকে উঠতে দেখে উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,
কোনো সমস্যা জিনাত?
জিনি চমকে উঠে বলল,, হু? 
উঠলে কেন?
ক-কিছু না ৷
বলেই জিনি শুয়ে পড়ল ৷ কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পর আবার উঠে বসল উৎসাহকে কিছু বলার জন্য কিন্তু ল'জ্জায় বলতে পারছে না ৷
জিনিকে ওমন করতে দেখে উৎসাহ উঠে লাইট জ্বালিয়ে দিল ৷ তারপর শীতল গলায় বলল,,
ভয় লাগছে? কিছু বলতে চাও আমাকে?
জিনি কিছুক্ষণ গাইগুই করে অস্ফুট স্বরে বলল,,
আমম আ-আপনি বিছানায় এসে ঘুমান ৷ মাঝখানে বালিশ দিয়ে দিব কোনো সমস্যা হবে না ৷
উৎসাহ চরম আশ্চর্য হয়ে গেল কিন্তু মুখভঙ্গি অত্যন্ত শান্ত রেখে বলল,, সিউর তো?
হু হু ৷ এতো বড় বিছানায় একা একা ঘুমাতে ভয় লাগছে ৷
উৎসাহ আলমারি থেকে বালিশ বের করে বিছানার মাঝখানে রেখে দিল ৷ তারপর লাইট অফ করে জিনির অপর পাশে শুয়ে পড়ল ৷ ওদের মাঝখানে এখন শুধু কয়েকটা বালিশ ছাড়া আর কিছু নেই ৷ উৎসাহের বুকটা অস্বাভাবিকভাবে উঠানামা করতে লাগল ৷ চেয়েও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হচ্ছে না ৷ বুকে হাত চেপে উৎসাহ চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগল ৷
অনেকক্ষন পরও যখন ঘুম ধরল না তখন উৎসাহ জিনির দিকে ফিরে ডিম লাইটের আবসা আলোয় ওর স্নিগ্ধ মুখশ্রীর দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকল ৷ এভাবে কতক্ষণ তাকিয়ে থাকল উৎসাহের তা জানা নেই ৷ ওর দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আজকেও উৎসাহ ,জিনি আর উষাকে কলেজে পৌঁছে দিয়েছে ৷ ক্লাসরুমে প্রবেশ করতেই গতকালের মেয়েটা উষাকে জরিয়ে ধরে বলল,,
হাই ননদিনী কেমন আছো? তোমার ভাইকে যত দেখছি তত মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি ৷
উষা সানজিদাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,,,
দেখতে হবে না ভাইটা কার?
সানজিদা আপ্লুত হয়ে বলল,, হায় তোর ভাইয়ের ঠোঁটটা একদম টসটসে লাল ৷ মন চায় টুপ করে চুমু দিয়ে দেই ৷
জিনি ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে সানজিদার দিকে তাকিয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করল ৷ আড়চোখে সেটা দেখে উষা মুখ লুকিয়ে হাসল ৷ তারপর গলা পরিষ্কার করে সানজিদাকে বলল,,,
এতো অধৈর্য হলে তো চলবে না সবুর কর ৷ আগে ভাইয়াকে নিজের প্রেমে ফেল তারপর নাহয় এসব ভাবিস ৷
সানজিদা মাথা চুলকে মুচকি হাসল ৷ তারপর হাত পেতে বলল,,
তোর ফোনটা একটু দে তো ৷
উষা ভ্রু কুঁচকে বলল,, কেন?
আহা দে না ৷
উষা ফোন দিতেই সানজিদা ব্যস্ত ভাবে ফোনে কি জানি করে ফেরত দিয়ে দিল ৷ তারপর উষাকে চোখ মে*রে চলে গেল ৷ জিনি গম্ভীর মুখে দূরের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসল ৷ উষাও ওর কাছে গিয়ে বসতেই জিনি রা'গত স্বরে বলল,,
তোর ভাবীর সাথে গিয়ে বস ৷ আমার কাছে এসেছিস কেন?
উষা জিনির গাল টেনে দিয়ে মুচকি হেসে বলল,, ভাবীর সাথেই তো বসেছি ৷
জিনি এবার উষার দিকে মুখ করে বলল,,ওই মেয়ের সাহস কি করে হয় উনাকে নিয়ে ওসব বলার! কতবড় সাহস উনাকে চুমু খেতে চায়!
উষা জিনিকে আলতো করে জরিয়ে ধরে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল ৷ জিনি ঝাটকা দিয়ে ওকে সরিয়ে দিয়ে থমথমে মুখে বসে থাকল ৷ উষা ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,,
যতদিন না আমার ভাইয়াকে নিয়ে অধিকারবোধ দেখাচ্ছিস ততদিন পর্যন্ত আমি এই নাটক চালিয়ে যাব ৷ আমি বড়ই ডা'য়নি রে!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি উৎসাহের রুমটা ঘুরেঘুরে দেখছে ৷ বিভিন্ন ট্রফি আর ছবি দিয়ে একপাশ ভরপুর ৷ জিনি এক এক করে সবগুলো ছবি আর ট্রফি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল ৷ সিভিল ড্রেসে মেডেল পরিহিত একটা ছবি  হাতে তুলে নিয়ে বিরবির করে বলল,,
আপনি পার্ফেক্ট একজন অফিসার উৎসাহ ভা...
জিনির কথা আটকে গেল ৷ একটু সময় পর পুনরায় বলে উঠল,,,
আপনাকে কি বলে ডাকা যায় বলুন তো? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না ৷
এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ একটা ট্রফির নিচে খোদাই করা নামে জিনির চোখ আটকে গেল ৷ উৎসাহের ছবিটা যথাস্থানে রেখে ট্রফিটার কাছে গিয়ে লেখাটায় হাত বুলিয়ে জিনি অস্ফুট স্বরে বলল. 'এসিপি উৎসাহ ইনায়েত ফারুকী'
সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হঠাৎ জিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে হাততালি দিয়ে বলল,,
পেয়ে গেছি! নাম পেয়ে গেছি!
উৎসাহের একটা ছবির দিকে তাকিয়ে জিনি মুচকি হেসে বলল,, আপনাকে আজ থেকে এসিপি সাহেব বলে ডাকব ৷ নাম পছন্দ হয়েছে?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ পায়চারি করতে করতে একটা ফাইল পর্যবেক্ষণ করতেছে ৷ এমন সময় ওর ফোনটা বেজে উঠল ৷ আননোন নাম্বার দেখে উৎসাহ তৎক্ষণাৎ রিসিভ করল যদি কোনো জরুরি কল হয় ৷ রিসিভ করে উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,
হ্যালো ৷ হু ইজ স্পিকিং?
ওপাশ থেকে একটি নারী কন্ঠ বলে উঠল,, awwwww তোমার কন্ঠস্বরটাও তোমার মতোই মিষ্টি! এতো সুন্দর হতে কে বলেছে তোমাকে জান?
উৎসাহ ভ্রু কুঁচকে শান্ত গলায় বলল,, সরি রং নাম্বার ৷
উহু কোনো রং নাম্বার না ৷ তুমি উৎসাহ তাই না?
জ্বি কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না ৷ আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেয়েছেন?
প্রিয় মানুষের নাম্বার খুঁজে বের করা কঠিন কোনো কাজ না ৷ ছাড়ো সেসব কথা, আমি তোমার হবু বউ জান ৷
শাট আপ ৷ ডোন্ট কল মি এগেইন ৷
বলেই উৎসাহ ফোন কেটে দিল ৷ সানজিদা ফোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,,
কোনো ব্যাপার না ৷ সুদর্শন ছেলেদের এতোটুকু এটিটিউড তো থাকাই উচিত ৷ তবে তোমাকে আমার চাই উৎসাহ ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহের আজকেও ফিরতে দেরি হবে তাই জিনি, উষা আর মিতা ইয়াসমিনের সাথে থাকবে ৷ সাড়ে ১০ টার মধ্যেই সবাই ঘুমিয়ে পড়ল ৷ মাঝরাতে একটা র*ক্তহীম করা চিৎকারে তিনজনই ধড়পড় করে উঠে পড়ল ৷ জিনি কম্পিত কন্ঠে বলল,,
এটা কিসের চিৎকার ছিল ছোট মা?
মিতা ইয়াসমিন বিচলিত কন্ঠে বলল,, বুঝতে পারছি না ৷ চল দেখি কিসের আওয়াজ হলো ৷
উষা আর জিনি একসাথে বলে উঠল,, নাহ ছোট মা ৷ ভ'য় লাগে আমরা যাব না ৷
বলতে আপত্তি নেই যে মিতা ইয়াসমিনও ভয় পেয়েছেন কিন্তু মেয়েদের সাহস জোগাতে তিনি বললেন,,,
ঠিক আছে উৎকর্ষকে ডাকছি ৷
উনার কথায় উষা আর জিনি সম্মতি জানিয়ে ছোট মায়ের সাথে রুমের বাইরে বের হলো ৷ গিয়ে দেখল উৎকর্ষ আর উর্মিলা রহমানও সেই চিৎকার শুনে রুম থেকে বাইরে বের হয়েছে ৷ মিতা ইয়াসমিন বললেন,,,
লাইট টা জ্বালিয়ে দাও ৷ আওয়াজ টা তো মনে হয় নিচে থেকে এসেছে ৷
 উৎকর্ষ বলল,, বিদ্যুৎ নেই মা ৷
জিনি চিন্তিত স্বরে বলল,, গত কয়েকদিন থেকেই রাতের বেলা বিদ্যুৎ থাকে না ৷
পিচ্চি ভাবী আগে বলোনি কেন সে কথা?
কথাটা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ৷
উৎকর্ষ ফোনের ফ্লাশ লাইট অন করে বলল,, তোমরা এখানে থাকো আমি মেইন সুইচটা দেখে আসছি ৷
উষা ব্যস্ত কন্ঠে বলল,, থাক যাওয়ার দরকার নেই ৷ নিচে ভয়ং'কর কিছু থাকতে পারে!
আমি তোর মতো ভীতু না ৷ কিছুই নেই ৷ কোনো পাগল কু'কর হয়তো চিৎ'কার...
উৎকর্ষের কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই একটা কুৎ'সিত হাসির আওয়াজ ভেসে আসল ৷ উৎকর্ষ ব্যতীত সবাই ভ'য়ে আ'তঙ্কে জমে গেল ৷ উর্মিলা রহমান কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,,
নিশ্চয় আমাদের বাড়িতে কোনো অ'শরীরী আসর জমিয়েছে!
উৎকর্ষ 'চ' কারান্ত শব্দ করে বলল,, বড় মা ওসব অ'শরীরী বলতে কিছু হয় না ৷ কেউ হয়তো মশকরা করছে ৷ তোমরা এখানে থাকো আমি দেখছি ৷
কারো উত্তরের প্রতীক্ষা না করে উৎকর্ষ নিচে চলে গেল ৷ ড্রয়িংরুমে আসতেই জানালার পর্দাগুলো বাতাসে শো শো শব্দ করে উড়তে লাগল ৷ উৎকর্ষ সেদিকে লাইট মেরে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,,,
কে ওখানে? সাহস থাকলে সামনে আয় কাঞ্চনার নখ পরিষ্কারকারী নওকার (চাকর)!
লাইটগুলো সব জ্বলতে নিভতে শুরু করল আর বাতাসের দাপটে সব পর্দাগুলো পতপত করে উড়তে লাগল ৷ উৎকর্ষ ব্যঙ্গ করে বলল,,
এসব ভাওতাবাজি আমাকে দেখাতে আসবি না ৷ এই উৎকর্ষ আল ফারুকী কে ভয় দেখানো এতো সহজ নয় রে ব'লদ! এখনও সময় আছে সামনে আয় ৷
হঠাৎ উৎকর্ষের পিছন দিয়ে একটা কালোছায়া দৌঁড়ে গেল ৷ তৎক্ষণাৎ ও পিছু ঘুরে লাইট মারল কিন্তু কিছুই নেই ৷ আবার ওর উল্টোদিক দিয়ে আরেকটা কালোছায়া দ্রুত সরে গেল ৷ উৎকর্ষ চতুর্দিকে লাইট মেরে খুঁজতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনিরা কাঁপতে কাঁপতে দোতলায় দাঁড়িয়ে আছে ৷ হঠাৎ উৎকর্ষের রুমের দিক থেকে কেউ মৃদু স্বরে বলতে লাগল,,,
চিনি চিনি চিনি এদিকে আসোওওও ৷ উসা উসা তুমিও আসোওওওও ৷
জিনি আর উষা চকিতে সেদিকে তাকাল ৷ ওরা থরথর করে কাঁপতেছে ৷ জিনি কম্পিত কন্ঠে বলল,,
এমন মু'র্খ ভুতের কাছে আমরা যাব না ৷ তুই কি তোতলা নাকি রে? জিনি কে চিনি আর উষা কে উসা বলিস গোয়ার গোবিন্দ! 
পুনরায় কন্ঠস্বর টা ভেসে আসল ,, জিনি এসো আমার কাছে এসো ৷ উষাকে সাথে নিয়ে এসো ৷
জিনি উষার হাত চেপে ধরে বলল,, দেখ দেখ এখন আবার সঠিক উচ্চারণ করাও শিখে গেছে ৷ কোনো লাভ নেই তাও আমরা যাব না ৷
হঠাৎ একটা কালোছায়া উৎকর্ষের রুমের দিক থেকে ধীর পায়ে আসতে লাগল ৷তা দেখে চারজনই ভ'য়ে খুব জোরে চিৎকার দিয়ে উঠল ৷ ওরা দৌঁড়ে দোতলা বেয়ে নামতে লাগল ৷ ড্রয়িংরুমে যেয়ে উষা বুকে হাত চেপে হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগল,,,
জিনি মানা করে দেওয়ার পরও বে'আক্কলের মতো আমাদেরকে নিতে আসিস কোন সাহসে আ'হাম্মক ভুত!
উৎকর্ষ লনের কাছে যেতেই দেখল দোলনায় কেউ বসে আছে ৷ সাদা জামা পড়ে চুল ছেড়ে দিয়ে কেউ হুহুহুহু শব্দ করে দোলনায় দুলতেছে ৷ উৎকর্ষ ভ্রু কুঁচকে ধীর পায়ে সেদিকে যেতে লাগল ৷ গিয়ে মেয়েটার কাধে হাত রেখে বলল,,
এই যে আপা এতোই যখন দোলার শখ তাহলে নিজের রুমে একটা দোলনা বানিয়ে নিলেই পারেন ৷ অযথা মাঝরাতে আমাদের বাড়িতে এসে দোলনায় দোলার সময় ওমন শা'কচু'ন্নির মতো হেসে আমার পরিবারের মহিলাদের হার্ট এ'ট্যাক করাতে চান কেন?
হঠাৎ উৎকর্ষের মনে হলো ওর পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে ৷ মেয়েটার কাধ থেকে হাত সরিয়ে পিছনে লাইট মেরে দেখল কেউ নেই ৷ পুনরায় সামনে তাকাতেই দেখল দোলনায় ওই মেয়েটা নেই ৷ উৎকর্ষ চ'মকে উঠে বলল,,,
এতো দ্রুত কোথায় চলে গেল? স্পাইডার ওম্যান নাকি যে এক লাফে উড়ে গেল!
ভিতর থেকে চি'ল্লানোর আওয়াজ শুনে উৎকর্ষ দ্রুতপদে ড্রয়িংরুমে চলে গেল ৷ গিয়ে দেখল চারজনই ভয়ে চোখমুখ ঢেকে হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসে আছে ৷ উৎকর্ষ ব্যস্ত কন্ঠে বলল,,
এভাবে ভ'য় পেও না তোমরা ৷ আমি দেখছি তো বিষয়টা ৷
আবারও সব বাতি অস্বাভাবিক ভাবে জ্বলতে নিভতে শুরু করল ৷সাথে ভয়ানক হাসি ভেসে আসতে লাগল ৷ হাসির তীব্র আওয়াজে সবাই কান চেপে ধরল ৷ উৎকর্ষ গ'র্জন করে বলল,,,
স্টপ দিস ননসেন্স! আমার হাতে পড়লে কিন্তু বাপের নাম ভুলিয়ে দিব কু'ত্তার বাচ্চা!
চলবে,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন