ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

১৮তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান  
#পর্বঃ১৮
      [গল্পের প্রয়োজনে কিছু অ'শালীন বাক্য ব্যবহার করতে হয়েছে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী]
আজ উৎসাহ তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরেছে ৷ এসেই আশেপাশে চোখ বুলিয়ে জিনিকে খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও পেল না ৷ মিতা ইয়াসমিন এক কাপ কফি এনে ওর হাতে দিয়ে বললেন,,,
আজ কাজ দ্রুত হয়ে গেছে?
জ্বি ছোট মা ৷
মিতা ইয়াসমিন আচ্ছা বলে যেতে ধরতেই উৎসাহ ইতস্তত করে বলল,,,
ছোট মা জিনি আর উষা কোথায়?
পিছু ঘুরে মিতা ইয়াসমিন বললেন,,, পাশের বাসায় গিয়েছে, তাহসিন এসেছে তাই ওর বোন এসে উষা আর জিনিকে নিয়ে গিয়েছে ৷ এতোক্ষণে তো আসার কথা ৷
উৎসাহ এক চুমুক কফি খেয়ে বলল,, ঠিক আছে ৷ আমি নিয়ে আসছি ওদের ৷
বলেই উৎসাহ তিন্নিদের বাড়িতে চলে গেল ৷ হাসিমুখে ওদের বাড়িতে গিয়ে সামনে তাকাতেই ওর মুখমন্ডল গম্ভীর হয়ে গেল ৷ জিনির থেকে খানিকটা দুরুত্বে তাহসিন বসে ওর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর জিনি মুখে হাত চেপে জোরে জোরে হাসতেছে ৷
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে উৎসাহ লম্বা লম্বা পা ফেলে ওদের সামনে এসে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল,,, বাসায় চলো ৷
ওর কন্ঠস্বর শুনে উমা, জিনি আর উষা চমকে উঠল ৷ উৎসাহ অপরিবর্তিত মুখভঙ্গিতে এখনও ওদের দিকে বিশেষ করে জিনির দিকে তাকিয়ে আছে ৷ ওরা দ্রুত উঠে পড়ল ৷ যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই তাহসিন পিছন থেকে বলল,,,
আবার বেড়াতে এসো ৷
তিনজনই হাসিমুখে পিছনে ঘুরে বলল,, অবশ্যই ৷ 
অন্যদিকে উৎসাহ ক্ষুব্ধ চাহনিতে তাহসিনের দিকে তাকাল তারপর জিনির দিকে ৷ রাস্তায় চলার সময় তিনজনই হেসে হেসে কথা বলতে লাগল ৷ উৎসাহ ওদের থেকে একটু সামনে হাঁটতেছে ৷ ওর মে'জাজ অত্যধিক খারাপ হয়ে আছে ৷ তাই কিছুটা ধ'মকের স্বরেই বলল,,,
হাসাহাসি বন্ধ করে চুপচাপ হাঁটো ৷
ওর ধ'মকে তিনজনই অবাক হয়ে চুপ করে গেল ৷ উৎসাহ কখনও ওদের সাথে ক'ড়া গলায় কথা বলেনি তাই আজকের আচরণে বেশ হ'তভম্ভ হয়ে গেল ৷ তারপর কেউ আর কোনো কথা বলল না ৷ চুপচাপ বাসায় চলে গেল ৷ 
রুমে গিয়েও উৎসাহের গম্ভীর মুখের একটুও পরিবর্তন হয়নি ৷ জিনি দু-একটা প্রশ্ন করলেও উৎসাহ খুবই ছোট করে সেগুলোর উত্তর দিয়েছে ৷ বাড়তি কোনো কথা আজ বলেনি ৷ ওর এমন আচরণে জিনি দারুন আশ্চর্য হয়ে গেল ৷ বিরবির করে বলল,,,
উনার আবার কি হলো?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সকালে খাবারের টেবিলেও উৎসাহ থতমত মুখে মাথা নিচু রেখে খেয়ে উঠে গেছে ৷ জিনি ওর সাথে বারবার কথা বলার চেষ্টা করলেও উৎসাহ সন্তর্পণে ওকে এড়িয়ে গেছে ৷ ফলে জিনির মুডটা অফ হয়ে আছে ৷এসব খুবই পর্যবেক্ষণী চোখে উষা খেয়াল করল ৷ উৎসাহ সোফায় বসে কিছু কাগজপত্র ব্যাগে ভরছিল তখন উষা ওর পাশে বসে বলল,,
কি ব্যাপার বলো তো ভাইয়া? তুমি আমার জুলিয়েট কে এভাবে ইগনোর করছো কেন?
উৎসাহ কাগজপত্র গোছাতে গোছাতেই বলল,, আমি কোথায় ইগনোর করলাম?
মিথ্যা বলে লাভ নেই আমি সব দেখেছি ৷ এখন বলো কাহিনী কি? কাল থেকে মুখ গম্ভীর করে রেখেছো কেন?
উৎসাহ এবার উষার দিকে মুখ ঘুরিয়ে ভ্রু কুঁচকে কঠিন গলায় বলল,, তোর জুলিয়েট কাল তাহসিনের সাথে বসে হিহিপিপি করতেছিল কেন? বাড়িতে যে ওর একটা স্বামী আছে সেটা কি ভুলে গিয়েছিল?
উষা সবকিছু বুঝতে পেরে মুচকি হেসে বলল,, যাওয়ার পর থেকে একবারের জন্যেও জিনি তাহসিন ভাইয়ের দিকে তাকায়নি ৷ আমাকে বারবার বাড়িতে আসার জন্য বলতেছিল ৷ কিন্তু শেষে তাহসিন ভাইয়া এমন একটা জোকস বলল যে না হেসে পারিনি ৷
উৎসাহ এখনও গম্ভীর মুখে বসে আছে দেখে উষা বলল,, ভাইয়া শোনো আমার যতদুর ধারনা জিনি তোমাকে ভালোবাসে ৷
কথাটা কানে যেতেই উৎসাহ হাস্যজ্জ্বল মুখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, সত্যি বলছিস?
আমি নিশ্চিত না তবে সম্ভাবনা আছে ৷ তুমি যদি এভাবেই ইগনোর করো তাহলে আমার জুলিয়েটের ভালোবাসা পাওয়ার কামনা ভুলে যাও ৷
উৎসাহ ব্যস্ত হয়ে বলল,, আর ইগনোর করব না ৷ আসলে ওকে অন্য ছেলের পাশে আমি একদম স'হ্য করতে পারি না ৷
ঠিক আছে বুঝেছি আমি ৷ জিনির থেকে ভালোবাসার কথা বের করা এখন আমার দায়িত্ব, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো ভাইয়া ৷
উৎসাহ উষার গাল টেনে দিয়ে বলল,, এই না হলে আমার বোন ৷ আজ তোকে অনেকগুলো ফুসকা এনে খাওয়াব বোনু ৷
উষা খুশিতে গদগদ হয়ে ভাইকে জরিয়ে ধরল ৷ উৎকর্ষ সেদিকে আসতে আসতে বলল,,,
কি ব্যাপার? কোনো গভীর ষ'ড়যন্ত্র চলতেছে নাকি এখানে? তোমাদের ভাই-বোনের বিশ্বাস নেই ৷ ভুলিয়ে ভালিয়ে আমার পিচ্চি ভাবীর বিরুদ্ধে নিশ্চয় কোনো ত'ন্ত্রম'ন্ত্র পরিকল্পনা করছো তাই না?
উষা ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, এটা আমাদের ভাই-বোনের সিক্রেট আপনাকে বলা যাবে না ৷
উৎসাহ ওদেরকে বিদায় বলে কাজে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই উৎকর্ষ আগ্রহভরা কন্ঠে বলল,,,
সত্যি করে বল তো দুজনে কি খিচুড়ি পাকাচ্ছিস?
উষা হাতের ইশারায় ওকে নিজের কাছে ডাকল ৷ উৎকর্ষ ওর দিকে কানটা বাড়িয়ে নিয়ে গেল ৷ উষা ফিসফিস করে বলল,,,
বলব না ৷
উৎকর্ষ বি'রক্তিতে 'চ' কারান্ত উচ্চারণ করে চোখমুখ কুঁচকে ওর দিকে তাকাল ৷ তা দেখে উষা হাসতে লাগল ৷ উৎকর্ষ গম্ভীর গলায় বলল,
তুই যে পে'ত্নি এটা সবাই জানে চোখে কাজল দিয়ে সেটা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই ৷ এভাবে ভু'তনি সেজে আছিস কেন? ছোট বাচ্চারা দেখলে তে ভ'য়ে কান্না শুরু করে দিবে!
উষা অ'গ্নিদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে গটগট পায়ে সেখান থেকে চলে গেল ৷ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে উৎকর্ষ মুচকি হেসে বলল,,,
প্রেয়সী তোমার ওই হরিণের ন্যায় আঁখি বড়ই ভালোবাসি!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ নিজের ক্যাবিনে টেবিলের উপর বড় একটা ম্যাপ রেখে লাল মার্কার দিয়ে কয়েকটা জায়গা চিহ্নিত করে কিছু সূত্র বের করার চেষ্টা করতেছে ৷ এই কয়েকমাস ও হন্নে হয়ে গাজাকে খুঁজেছে কিন্তু ওর কোনো অস্তিত্বই পুরো বাংলাদেশ উল্টে পাল্টে খুঁজে বের করতে পারেনি তাই এখন সম্ভাব্য দেশগুলো চিহ্নিত করে সেই দেশে যাওয়ার ফ্লাইটগুলোর প্যাসেনজারদের নাম চেক করার জন্য কয়েকজনকে পাঠিয়েছে ৷
এমন সময় রিফাত দৌঁড়ে ওর ক্যাবিনে ঢুকে বলল,,, স্যার গাজার ফোন ট্রাক করা গেছে ৷
উৎসাহ দ্রুত রিফাতের সাথে অন্যকক্ষে চলে গেল যেখানে নিরব ফোন ট্রাকিং করতেছিল ৷ সুক্ষ্ম নজরে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে উৎসাহ বলল,,,
নিশ্চয়ই  আজ দেশে ফিরেছে ৷ তারপর আফসোসের সুর তুলে বলল,,, 
বিদেশে থাকলেও ২/১ দিনের মধ্যেই তোকে ধরে ফেলতাম এখন দেশে এসে তো আমার কাজ সহজ করে দিলি ৷ ধরা পড়ার খুব শখ তাই না গাজা?
রিফাত বলল,,, স্যার কখন যাব ধরতে?
উৎসাহ কোমড়ে হাত গুজে বলল,,, আজকেই ৷ আমি আগে গিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করব তারপর তোমরা চলে আসবে ৷ গট ইট?
ইয়েস স্যার ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
নীল আকাশে নাম না জানা অসংখ্য পাখি নিজেদের পাখা মেলে নিজস্ব ভাষায় আলাপ-চারিতা করতে করতে সমুদ্রের উপর ঘুরপাক খাচ্ছে ৷ সেই সমুদ্রের পাশে গড়া একটা ঘাটিতে গাজা বর্তমানে অবস্থান করছে ৷ টেবিলের উপর পা তুলে মাথার পিছনে হাত দিয়ে চেয়ারে অলসভাবে বসে আছে ৷ তখন ওর গার্ডদের মধ্য থেকে একজন এসে বলল,,,
ভাই একজন মাল কেনার জন্য এসেছে ৷ ভিতরে আসার অনুমতি দিব কি?
গাজা অলসভাবেই বলল,, নিয়ে আয় আমার কাছে ৷
গার্ডটার সাথে কিছুক্ষণের মধ্যেই মাস্ক পরিহিত কোর্ট টাই পড়া একটা যুবক আসল ৷ গাজা চোখ বন্ধ রেখেই বলল,,, 
আমার সামনে চেয়ার টেনে বস ৷
যুবকটি চেয়ার টেনে ওর সামনে বসল ৷ গাজা স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন করল,,,
কত প্যাকেট মাল চাই?
 নিরেট কন্ঠস্বরে যুবকটি বলে উঠল,, ১০ প্যাকেট চাচ্ছি আপাতত ৷
গাজা টেবিল থেকে পা নামিয়ে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণী চোখে যুবকটিকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখল ৷ তারপর গাল চুলকে কুটিল হেসে বলল,,,,
তা কবে থেকে এসিপি উৎসাহ ইনায়েত ফারুকী ড্রা'গসে আসক্ত হয়ে পড়ল?
উৎসাহের ভ্রু সামান্য কুঞ্চিত হয়ে গেল ৷ মুখ থেকে সটানে মাস্ক খুলে হতাশার স্বরে বলল,,,
অযথা ছদ্মবেশ ধরতে এতো মেকাপ , সময় আর টাকা ন'ষ্ট করলাম! সেই তো ধরেই ফেললি ৷ যাক যতটা বোকা তোকে ভেবেছিলাম ততটা তুই নোস তবে আজকে আর আমার হাত থেকে পালাতে পারবি না ৷
গাজা অলসভাবে চেয়ারে হেলান দিয়ে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,, যা তোর ইচ্ছা পূরণ করলাম ৷ আমাকে এ'রেস্ট কর ৷
উৎসাহ ওর এমন ভাবলেশহীন অঙ্গভঙ্গি দেখে কিছুটা অবাক হলেও নিজের মুখমন্ডল অবিচল রাখল ৷ গাজা গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
নিশ্চয়ই ভাবছিস আমি পালানোর চেষ্টা কেন করছি না? অথবা আমার গার্ডদের তোকে মা'রতে কেন বলছি না তাই না?
উৎসাহ অপরিবর্তিত মুখভঙ্গিতে সন্দেহী নজরে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ গাজা পুনরায় বলে উঠল,,,
মাথায় এতো জোর দিতে হবে না ৷ আমি নিজেই বলে দিচ্ছি ৷ আচ্ছা তোর বোন আর বউ বর্তমানে কোচিং সেন্টারে আছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওদের ছুটি হবে ঠিক বলছি না?
গাজার মুখনিঃসৃত কথাটা কর্ণগোচর হতেই উৎসাহের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ৷ গ*র্জন করে বলল,,,
খবরদার আমার পরিবারের কারো ক্ষ'তি করার কথা মাথাতেও আনবি না!
গাজা কুৎসিতভাবে হেসে উঠে বলল,,,পুরো কথা শোন ৷ তোর বোন আর বউকে রিসিভ করার জন্য আমার কয়েকজন গার্ডকে পাঠিয়েছি তবে ওরা তোর বোন আর বউকে বাসায় পৌঁছে না দিয়ে দা'লালদের কাছে বিক্রি করে দিবে ৷
উৎসাহ গাজার সামনের টেবিলে জোরে লা'ত্থি মে'রে সেটা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে রা'গত স্বরে বলল,,, তোকে আমি খু'ন করে ফেলব গাজা! ওদের গায়ে যদি একটা আ'চড়ও পড়ে আই সোয়ার তুই কালকের সূর্য দেখার জন্য জীবিত থাকবি না!
রিল্যাক্স ম্যান ৷ তোর কাছে এখন দুটো অপশন আছে ৷ এক আমাকে ধরে জেলে নিয়ে যা দুই নিজের বোন আর বউকে গিয়ে বাঁচা ৷
উৎসাহ ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে গাজার দিকে তাকিয়ে রা'গে কাঁপতে লাগল ৷ গাজা গালে হাত দিয়ে কিছু একটা ভেবে বলল,,,
নিশ্চয়ই এখন ভাবতেছিস তোর ফোর্স এসে আমাকে ধরবে আর তুই তোর বোন, বউকে বাঁচাতে যাবি ঠিক না? কিন্তু দুঃখের সহিত বলতে হচ্ছে যে ওরা ১ ঘন্টার আগে এখানে পৌঁছতে সক্ষম হবে না ৷ কারন আমার এই ঘাটিতে আসার একমাত্র যে রাস্তাটা আছে সেটায় আমার ছেলেরা গাছ-গাছালি ফেলে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ৷ এই আ'গুন নেভাতেই কমপক্ষে এক বা দেড় ঘন্টা লেগে যাবে ৷ এই যাহ তাহলে তো তোর কাছে আর কোনো অপশনই থাকল না ৷ ওরা যেহেতু আসতে পারবে না তাহলে তুইও তো যেতে পারবি না তোর বোন আর বউকে বাঁচাতে! আর না আমাকে এরেস্ট করে জেলে নিয়ে যেতে পারবি কারন আধাঘন্টার মধ্যেই আমার হেলিকপ্টার চলে আসবে সেটাতে করে আমি পাখিদের মতো উড়াল দিয়ে তোর হাতের নাগালের বাইরে চলে যাব ৷
উৎসাহ এবার বিচলিত হয়ে পড়ল ৷ মনে মনে বলল,,,
না আমার উ'ত্তেজিত হওয়া যাবে না ৷ ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে ৷ কিছু একটা ভাব উৎসাহ কিছু একটা ভাব ৷
কিছুক্ষণ পর গাজা বি**শ্রিভাবে হেসে বলল,,, শুনেছিলাম তোর বউ নাকি এর আগেও পাচার হতে ধরেছিল? ভাগ্যক্রমে তুই গিয়ে বাঁচিয়ে নিয়েছিলি কিন্তু আফসোস এবার আর পারবি না ৷
উৎসাহ কঠিন দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল ৷ গাজা পুনরায় বলতে শুরু করল,,,
একটা ছেলে নাকি তোর বউয়ের বুকে দারুনভাবে মালিশ করে দিয়েছিল জন্য তুই ওর হাত দুটোই পুরো অকেজো করে ফেলেছিলি? তো এবার যখন বিভিন্ন পুরুষ তোর বউয়ের সারা শরীর মালিশ করে দিবে তখন কি করবি?
কথাটা শেষ হতে না হতেই গাজা নিজের গালে কারো শক্তপোক্ত লা*ত্থি অনুভব করে চেয়ারসহ দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ল ৷ ও চোখে অন্ধকার দেখতেছে ৷ আধো আধো করে চোখ খুলে দেখল উৎসাহ ওর দিকে ক্ষী'প্ত বাঘের ন্যায় এগিয়ে আসছে ৷ গাজার কলার ধরে ওর মুখে হিং'স্রতার সাথে এলোপাতাড়ি ঘু'ষি মা'রতে লাগল উৎসাহ ৷ আশেপাশের সব গার্ডগুলো এসে ওকে গাজার থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু উৎসাহের গায়ে মনে হচ্ছে অসীম শক্তি এসে ভর করেছে ৷ শেষে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে গার্ডগুলো ওকে শক্ত লাঠি দিয়ে মা*রতে শুরু করল ফলে উৎসাহ কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়ল ৷
গাজা নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে বলল,,, বডি তো বানিয়েছিস হেব্বি ৷ শু*য়োরের বাচ্চা এক লা*ত্থিতেই আমার দুটো দাঁত ভেঙে দিয়েছে! তোর জন্য বসের থেকেও অনেক অ'পমান শুনেছি তবুও ভেবেছিলাম তোকে কিছু করব না , ছেড়ে দিব ৷ কিন্তু না এবার তোকে মে'রে এই সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়ে তবেই আমি হেলিকপ্টারে উঠব! এর জন্য যদি বসের হাতে দু-একটা চ'ড়-থা'প্পড় খেতে হয় তবুও আমি রাজি আছি!
গার্ডগুলো অবিরামভাবে উৎসাহকে মা'রতে লাগল ৷ উৎসাহ ওদের কোনোরুপ বা'ধা না দিয়ে চুপচাপ মা'র খেতে লাগল ৷ তা দেখে গাজা পৈ'শাচিক আনন্দে মেতে উঠল ৷ নিজের আ'হত মুখশ্রীতে হাত বুলিয়ে ঝলমল দৃষ্টিতে উৎসাহের মা'রের দৃশ্য দেখতে লাগল ৷ দেখতে দেখতে বিরবির করে বলল,
বস আপনার ভাষ্যমতে বিচক্ষণ,বুদ্ধিমান এসিপি দেখুন আজ আমার মাস্টার প্লানের কাছে ধূলিসাৎ হয়ে কিভাবে অসহায় ভাবে মা'র খাচ্ছে! আহারে!
চলবে,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন