#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ১৯
গালে বরফ দিতে দিতে গাজা সামনের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ উৎসাহের কপাল আর ঠোঁট কেটে গড়গড় করে র'ক্ত বের হচ্ছে আর সারা শরীরে মা'রের দাগ রগরগা হয়ে উঠেছে ৷ হঠাৎ গাজার ফোন বেজে উঠল ৷ ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে বাকা হেসে উৎসাহের উদ্দেশ্যে বলল,,,
আমার গার্ডরা মনে হচ্ছে তোর বউ আর বোনকে ধরে ফেলেছে ৷ দাঁড়া লাউড স্পিকারে দিয়ে তোকে শোনাচ্ছি ৷
বলেই গাজা ফোন রিসিভ করে লাউড স্পিকার অন করে কুটিল হেসে বলল,,,
এসিপির বোন আর বউকে দালালের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিস?
অপর পাশ থেকে গুরুগম্ভীর গলার র'ক্তহীম করা চিৎ'কার ভেসে আসল,,, কু'ত্তার বাচ্চা দালালের কাছে তো আমি তোকে বিক্রি করব! তোর দাঁড়ি-মোছ সব ছিলে শাড়ি পড়িয়ে নি'ষিদ্ধ পল্লীতে নিয়ে গিয়ে তোকে নাগিন ডান্স করাব শু'য়োর!
গাজা হ'তভম্ভ হয়ে গেল ৷ আমতা আমতা করে বলল,,, ক-কে ত-তু-তুই? আমার গার্ডরা কোথায়?
উৎসাহ তড়াক করে উঠে বসল তারপর ঠোঁটের রক্ত মুছে হাসতে লাগল ৷ গাজা বি'চলিত চিত্তে ওর হাসির দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ ফোনের ওপাশ থেকে আওয়াজ আসল,,,
আমি উৎকর্ষ আল ফারুকী ৷ দাঁড়া আমি নিজে গিয়ে তোর সাথে পরিচিত হয়ে আসছি ৷
কান থেকে ফোন নামিয়ে গাজা অবাক কন্ঠে বলল,,, এ-এটা কিভাবে করলি তুই? কখন করলি?
উৎসাহ এখনও হেসেই চলেছে ৷ হাসতে হাসতে বলল,,,,
সত্যি দারুন প্লান করেছিলি কিন্তু আমাকে আন্ডারস্টিমেট করে বোকামি করে ফেলেছিস! মনে আছে তুই সব বলার পর আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে জোরে জোরে বলতেছিলাম 'তুই কোচিংয়ের সামনে নিজের গার্ডদের পাঠিয়েছিস আমার বোন আর বউকে ধরার জন্য, আমার ফোর্সকে রাস্তায় আটকে দিয়েছিস আর আমি এখন তোর সাথে এই ঘাটিতে আটকে আছি' ৷
তো?
তো কাহিনী হচ্ছে এসব বলার ক্ষণ মুহুর্ত আগে আমি আমার ভাইয়ের ফোনে চুপিসারে কল করেছিলাম ৷ ও ফোন রিসিভ করার পর সব শুনেছে আর বুঝেছে আমি ঠিক ওকে কি বলতে চাচ্ছি ৷
গাজা কম্পিত কন্ঠে গার্ডগুলোকে বলল,, দ-দেখছিস কি ওকে মে'রে ফেল ৷
বলার সাথেই গার্ডগুলো এসে উৎসাহকে মা*রতে ধরতেই এবার ও ফাইট ব্যাক করতে লাগল আর নিমিষেই ওদের পরাস্ত করতে সক্ষম হলো ৷ তা দেখে গাজা বেশ ঘা'বড়ে গেল ৷ উৎসাহ বাকা হেসে বলল,,,
তখন তো আমি তোকে ক্ষণিকের খুশি দেওয়ার জন্য চুপচাপ মা'র খাচ্ছিলাম কিন্তু তোর সময় শেষ এখন আমার খুশি হওয়ার পালা ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎকর্ষ গম্ভীর মুখে গাড়ি চালাচ্ছে ৷ উষা আর জিনি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পিছনের সিটে বসে আছে ৷ ওরা কোচিং থেকে বেরোনোর পরেই কয়েকজন গু'ন্ডা এসে ওদের টেনে-হিঁ'চড়ে গাড়িতে তুলতে যাচ্ছিল তখনই উৎকর্ষ এসে ওদের বাঁচিয়ে নিয়েছে আর গু'ন্ডাগুলোকে খুবই নি'ষ্ঠুরভাবে মে'রেছে ৷
কিছু সময় পর উষা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,, ওরা কে ছিল? আমাদের ধরতে এসেছিল কেন?
উৎকর্ষ গম্ভীর মুখটা শীতল করে নরম গলায় বলল,, ভ'য় পাস না ৷ দ্বিতীয়বার কেউ আর তোদের ছোঁয়ার সাহস করবে না ৷ নিশ্চিন্তে থাক ৷
জিনি হাতে উৎকর্ষের রুমাল চেপে ধরে বসে আছে ৷ তখন লড়াই করার সময় একজনের ছুঁ'ড়ির আ'ঘাতে জিনির হাত কেঁ'টে গেছে ৷ বাড়ির সামনে এসে উৎকর্ষ গাড়ি থামিয়ে বলল,,,
ভিতরে যাও তোমরা ৷ গিয়ে প্রথমে পিচ্চি ভাবীর হাতে ব্যান্ডেজ করে দিবি উষা আর হ্যাঁ আজকের হা'মলার ব্যাপারে বাড়ির কেউ যেন জানতে না পারে ৷
উষা মাথা কাত করে বলল,, আচ্ছা কিন্তু আপনি এখন কোথায় যাচ্ছেন?
উৎকর্ষ গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল,,, আমি আসছি কিছু কাজ আছে ৷
উষা আর জিনি ওর যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভিতরে চলে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
বেশির ভাগ গার্ডই ধরাশয়ী হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে ৷ এখনও গুটিকতেক গার্ডের সাথে উৎসাহ ফাইট করছে ৷ হঠাৎ গাজার ইশারায় একজন গার্ড ওর পিছন দিক দিয়ে ছু'ড়ি হাতে এগিয়ে যেতে লাগল ৷ উৎসাহের পিঠে ছুঁ'ড়ি ঢোকাতেই যাবে এমন সময় একটা বলিষ্ঠ হাত ওই গার্ডটার হাত শক্ত করে চেপে ধরল ৷গার্ডটি বলিষ্ঠ হাতের মালিকের দিকে তাকাতেই দেখল এক জোড়া র'ক্তাভ চোখ ওর দিকে তাকিয়ে রা'গে ফুঁসছে ৷ তা দেখে গার্ডটি ভ'য়ে ঢোক গিলল ৷
উৎকর্ষ গার্ডটার হাত ম'চকে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,, তুই আমার ভাইকে মা'রবি? এতো সাহস তোর?
গার্ডটি নিজের হাত উৎকর্ষের থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে আ'র্তনাদ করে বলল,,, ভুল হয়ে গেছে ৷ আমার কোনো দোষ নেই ৷ ওই গাজাই আমাকে মা'রতে বলেছিল ৷
উৎকর্ষ ওর গালে এলোপাতাড়ি চ'ড় মা'রতে মারতে বলল,, শা'লা ভো'টকা! দুই টাকার ভাড়া করা গু'ন্ডা! তোর বুকের পাটা খুব তাই না? আজ তোর অর্ধেক ওজন আমি কমিয়ে দিব শা'লা ভো'টকা!
গার্ডটি মুখে কপট রাগের আভা এনে বলল,, এএএ ভাই অনেক হয়েছে ৷ আর স'হ্য করব না ৷ এতো গা'লি আর চ'ড় তো আমার মা ও কোনোদিন আমাকে দেয়নি! ভো'টকা বলে কি আমি মানুষ না নাকি?
উৎকর্ষ ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর কন্ঠে বলল,, কি করবি?
রা'গি রা'গি মুখে কান্নার ভাব এনে গার্ডটি বলল,, আমি আমার মাকে বলে দিব আর খুব জোরে কান্না শুরু করে দিব কিন্তু!
উৎকর্ষ সর্বশেষ আরেকটা চ'ড় ওর গালে বসিয়ে দিয়ে ওকে লা'ত্থি মেরে দূরে ফেলে দিল ৷ তারপর উৎসাহের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে চোখ টিপে বলল,,,
ভাই দারুন পি'টান পি'টিয়েছিস এদের ৷ এখন গাজা কে দেখিয়ে দে আমায় ,ওকে একটু ই'য়াবা বানিয়ে দেই!
উৎসাহ সামান্য হেসে সামনের দিকে ইশারা করল ৷ এতোক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গাজা সবকিছু দেখছিল চোখ বড় বড় করে ৷ এবার উৎসাহের ইশারা দেখে ও মনে মনে ভীত কন্ঠে বলল,,,
আমি আজ শেষ!
উৎকর্ষ হাতের কব্জি রগরাতে রগরাতে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে গালে ক'ষিয়ে একটা থা'প্পড় মেরে বলল,,,
শা'লা ই'য়াবার বাচ্চা! তুই আমার পিচ্চি ভাবী আর উষাকে দালালের কাছে বিক্রি করবি? আমার ভাইকে মে'রে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবি?
গাজা অবাক হওয়ার ভান করে বলল,,না একদম না ৷ কে বলেছে এসব সত্য কথা? আমি নিতান্তই ছোট মানুষ , আমি কেন ওসব ভ'য়ঙ্কর কাজ করতে যাব?
উৎকর্ষ ওর অপর গালে আরেকটা চ'ড় মে'রে বলল,,, তোর নাম গাজা তুই গা'জার ব্যবসা না করে ড্রা'গসের ব্যবসা করিস কেন? নিজের নামের বে'ইজ্জতি করতে ল'জ্জা করে না?
আমার নাম শুনে ছোট থেকে বুড়ো সবার প্যান্ট ঢিলে হয়ে যায় আর তুই কি না আমার নাম নিয়ে মজা করছিস?
উৎকর্ষ আবার নিজের হাত তুলতেই গাজা দুহাত দিয়ে নিজের দুগাল ঢেকে ফেলল ৷তা দেখে উৎকর্ষ হাত নামিয়ে বলল,,
কেন তুই কি সবার প্যান্ট টেনে ধরিস নাকি?
গাজা গাল থেকে হাত সরিয়ে হতাশার স্বরে উৎসাহকে বলল,, এ কাকে ডেকে এনেছিস এসিপি?
হাত সরাতেই উৎকর্ষ টানা চার-পাঁচটা চ'ড় মেরে বলল,,, তোর নিজেকে রক্ষার জন্য ভাড়া করা গু'ন্ডার দরকার হয় আর আমার ভাইকে বাঁচানোর জন্য আমি একাই যথেষ্ট ৷
গাজা থা'প্পড়ের তাল সামলাতে না পেরে চেয়ারে ধপ করে বসে গেল ৷ থা'প্পড়ের চো'টে ওর চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে গেল ৷ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল,,,
আমি খেলব না তোর সাথে ৷ তুই কথায় কথায় চ'ড় মারিস , তোর চেয়ে ওই এসিপিই ভালো ৷ তুই থা'প্পড় মে'রে মে'রে মুখের মানচিত্রই বদলে দিয়েছিস , এখন মনে হচ্ছে নিজের বিয়ে করা বউ ই আমাকে চিনতে পারবে না!
তখনই আশেপাশের সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে একটা হেলিকপ্টার আসতে লাগল ৷ তা দেখে গাজার মনে মুক্তির ক্ষীণ আশা জেগে উঠল কিন্তু উৎসাহ পাইলটকে কিসব জানি বলে ফেরত পাঠিয়ে দিতেই ওর মুখ পুনরায় চুপসে গেল ৷ হেলিকপ্টার চলে যেতেই রিফাতরা চলে আসল ৷উৎসাহ ইশারা করতেই ওরা মাটিতে পড়ে থাকা সব গার্ডগুলোকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে গাড়িতে তুলল ৷ উৎসাহ ধীর পায়ে উৎকর্ষ আর গাজার দিকে এগিয়ে গেল ৷ গাজা এখনও গালে হাত দিয়ে ক'রুন মুখে চেয়ারে বসে আছে ৷ উৎকর্ষ গম্ভীর গলায় বলল,,,
ই'য়াবার ছোট ভাই গাজা দয়া করে আপনার রাজকীয় পা'ছাটা চেয়ার থেকে তুলে উঠে পড়ুন তাহলে আপনাকে এ'রেস্ট করে গাড়িতে ওঠাতে আমার ভাইয়ের সুবিধা হবে ৷
উৎসাহ সামান্য হেসে গাজাকে বলল,, চল তোকে শ্বশুড়বাড়িতে নিয়ে যাই ৷ অনেক জামাই আদর অপেক্ষা করছে ৷
গাজা তড়াক করে চেয়ার থেকে উঠে ব্যস্ত কন্ঠে বলল,, তাই কর এসিপি ৷ তোর জামাই আদর খেতে রাজি তবুও তোর এই র'গচটা, তারকাঁ'টা, আধপা'গল , থা'প্পড়ে পিএইচডি করা ভাইয়ের কাছে আমাকে একা ছাড়িস না!
ওর কথা শুনে উৎকর্ষ গর্জন করে বলল,, কি বললি ব'দের হা'ড্ডি!
গাজা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গিয়ে নিজে থেকে অন্যান্য গার্ডগুলোর সাথে গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ল ৷ এসব দেখে উৎসাহ জোরে হেসে উঠল ৷ ভাইয়ের আ'হত হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে উৎকর্ষ চিন্তিত স্বরে বলল,,,
ভাই তোকে খুব মে'রেছে তাই না?
হাসি থামিয়ে উৎসাহ নিজের থেকে কয়েক মাসের ছোট ভাইটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,,, ভুলে যাস না আমি এসিপি ৷ এতোটুকু মা'র স'হ্য করার ক্ষমতা আমার আছে ৷
যতই থাকুক না কেন চল তোকে আমি হাসপাতালে নিয়ে যাব ৷
কাজ আছে ভাই ৷ আমাকে এখন থানায় যেতে হবে ৷
আমি ওসব শুনতে চাই না ৷ রিফাতকে কাজ বুঝিয়ে দে ৷ আমি তোকে হাসপাতালে নিয়ে যাব ৷
উৎকর্ষের কাছে হার মেনে উৎসাহ ওর সাথে হাসপাতালে গিয়ে ড্রেসিং করিয়ে নিল তারপর যে যার কাজে চলে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনির হাতে আ'ঘাত দেখে উর্মিলা রহমান আর মিতা ইয়াসমিন উ'ত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন ৷ শেষে উষা উনাদের ভুজুং-ভাজুং বুঝিয়ে শান্ত করেছে ৷ বলেছে যে কোচিংয়ে একটা ধা'রালো ছুঁ'ড়িতে ভুল করে হাত লেগে কেঁ'টে গেছে ৷ উনারা জিনির হাতের র'ক্ত পরিষ্কার করে মলম লাগিয়ে ড্রেসিং করে দিয়েছে ৷
উৎসাহ আজ মোটামুটি ১১ টার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছেছে ৷ হাতের ব্যা'থা থাকায় জিনি আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে ৷ ওর কপাল আর মুখে ব্যান্ডেজ দেখে উৎকর্ষ ব্যতীত সকলে আঁ'তকে উঠে বলল,,,
এসব কিভাবে হয়েছে?
উৎসাহ স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠল,, একজন আ'সামীকে ধরতে গিয়ে ৷
সবাই শান্ত চোখে উৎসাহের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ এই চাকরিটা অনেক সম্মানের হলেও শুরুতে কেউই রাজি ছিল না ৷ কিন্তু উৎসাহের জেদের কাছে হার মেনে শেষ মুহুর্তে সবাই রাজি হয়েছিল ৷ উমায়েত ফারুকী ছেলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,,,,
দেখো উৎসাহ তুমি সিআইডি হতে চেয়েছিলে আমরা অনুমতি দিয়েছি ৷ কিন্তু এখন নিজেকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব সম্পূর্ণ তোমার ৷ আমাদের যেন তোমার জন্য সন্তানহারা হতে না হয় সেটা মাথায় রাখবে ৷
উৎসাহ নিশ্চুপ হয়ে খেতে খেতে বাবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল ৷ তারপর ডায়নিং টেবিলে পিনপতন নিরবতা ছেঁয়ে গেল ৷ কিছু সময় পর নিরবতা ভেঙে মিতা ইয়াসমিন বললেন,,,,
মেয়েটাও আজ হাত জ'খম করে আসল আর তুমিও আ'হত হয়ে বাড়ি ফিরলে বাবা?
উৎসাহ চকিতে উনার দিকে তাকিয়ে চিন্তিত স্বরে বলল,, উষার হাত জ'খম হয়েছে?
মিতা ইয়াসমিন কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই উৎকর্ষ উনার কথা টেনে নিয়ে বলল,,,, উষা না পিচ্চি ভাবী ৷
উমায়েত আর উসায়েত ফারুকী একযোগে বলে উঠলেন,,, কিভাবে আ'ঘাত পেল?
উর্মিলা রহমান মৃদু স্বরে বললেন,,,, কোচিংয়ে ভুলবশত ছুঁ'ড়ির আ'ঘাত পেয়েছে ৷ মেয়ে দুটোর যে কবে একটু সুবুদ্ধি হবে আল্লাহ মালুম ৷
উৎসাহ চোখের ইশারায় উৎকর্ষকে প্রশ্ন করল 'ওই গার্ডের কেউ করেছে?'
উৎকর্ষ চোখের পলক ফেলে হ্যাঁ বোঝাল ৷ উৎসাহের গলা দিয়ে আর এক লোকমা খাবারও নামতে চাইল না তাই ও হাত ধুয়ে উঠে পড়ল ৷ মিতা ইয়াসমিন ব্যস্ত হয়ে বললেন,,,,
আরে সম্পূর্ণ খাবার খেয়ে যাও ৷
উৎসাহ দোতলায় যেতে যেতে বলল,,, আমার পেট ভরে গেছে ছোট মা ৷
উর্মিলা রহমান কিছু একটা ইশারা করতেই মিতা ইয়াসমিন মুখে হাত চেপে মুচকি হাসলেন ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি আ'হত হাতটা একপাশে সাবধানে রেখে আটশাট হয়ে ঘুমিয়ে আছে ৷ উৎসাহ দরজা আস্তে করে ঠেলে ভিতরে ঢুকে ব্যা'থাতুর মুখে কিছুক্ষণ জিনির হাত আর ওর চুপসে যাওয়া মুখটার দিকে তাকাল ৷ তারপর ধীর পায়ে ওর সামনে গিয়ে হাঁটুমুড়ে বসে ওর সাদা ব্যান্ডেজে আবৃত হাতটা আলতো করে ধরল ৷ আস্তে করে ক্ষ'ত স্থানে হাত বুলিয়ে দিয়ে ক'ষ্টার্জিত কন্ঠে বলল,,,
খুব ব্যা'থা পেয়েছিলে তাই না বিবিজান? আমার জন্য তোমার সামনে আবার ওই অন্ধকার দুনিয়ায় যাওয়ার সম্ভাবনা চলে এসেছিল! এর জন্য পারলে আমাকে মাফ করে দিও বিবিজান ৷ তোমাকে আমি পৃথিবীর সর্বোচ্চ সুখের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই ৷ কথা দিচ্ছি এটাই তোমার শেষ ক'ষ্ট , এরপর আর কোনো ক'ষ্ট দুঃ'খকে তোমার ধারে কাছেও আসতে দিব না!
জিনির ব্যান্ডেজ করা ক্ষ'ত জায়গাটায় উৎসাহ আলতো করে একটা চুমু খেল ৷ তারপর সন্তর্পণে হাতটা সাবধানে রেখে দিল ৷ এমন সময় ওর ফোন বেজে উঠল ৷ ডিসিপি স্যার ফোন দিয়েছেন ৷ উৎসাহ রিসিভ করে সালাম দিল ৷ নুরুল আমিন সালামের জবাব দিয়ে বললেন,,,,
কনগ্রাচুলেশন মাই বয় ৷ আই হোপ খুব দ্রুত তুমি এই চক্রের মূল হোতাকেও ধরে ফেলবে ৷
উৎসাহ শান্ত গলায় বলল,,, দোয়া রাখবেন স্যার ৷
অবশ্যই ৷ ওহ হ্যাঁ তোমার আন্টি কাল তোমাকে আর তোমার বউকে লান্সের দাওয়াত দিয়েছে ৷ আমিও এখনও তোমার বউকে দেখিনি ৷ দেখার বড্ড ইচ্ছা আছে ৷
উৎসাহ মুচকি হেসে বলল,,, ঠিক আছে স্যার ৷ কাল ওকে নিয়ে আসছি ৷
আরো কিছুক্ষণ কথা বলে উৎসাহ ফোন কেটে দিল ৷ তারপর জিনির দিকে কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে থেকে ওর কপালে একটা গাঢ় চুম্মন করল তারপর ওর পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ৷
চলবে,,,,,,