#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৬
নিজেকে যথাসম্ভব সামলে নিয়ে উষা চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে বাইরে চলে গেল ৷ সকালের খাওয়া দাওয়া শেষে উৎসাহ আর উৎকর্ষ কাজে চলে গেল ৷ উষা জিনির সাথে লনে গিয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিল ৷ আজ ওদের কোচিং বন্ধ তাই বাড়িতেই থাকবে ৷ কিন্তু উষার একজন বান্ধবী ফোন দিয়ে কিছু জরুরি কাজে ওকে ডেকে পাঠিয়েছে ৷ফলশ্রুতিতে ও রেডি হয়ে বান্ধবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গেল ৷ জিনিকে নিজের সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু ওর নাকি মাথা ব্যা'থা করছে তাই উষা একাই গিয়েছে ৷
বান্ধবীর সাথে কাজ মিটিয়ে উষা গাড়িতে উঠে পড়ল ৷ কিছুক্ষণ যাওয়ার পরই জ্যামে আটকে গেল ৷ তা দেখে উষা বিরক্তিতে 'চ' কারান্ত শব্দ করে জানালার কাঁচ নামিয়ে বাইরে তাকাল ৷ হঠাৎ রাস্তার পাশে থাকা পার্কে চোখ যেতেই উষা স্ত'ব্ধ হয়ে গেল ৷ উৎকর্ষ ফারিহার সাথে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতেছিল ৷ তারপর একটা আইসক্রিম কিনে এনে ফারিহার হাতে দিয়ে দিল ৷ ফারিহা সামান্য হেসে আইসক্রিম টা নিয়ে খেতে লাগল ৷
উক্ত দৃশ্য দেখে উষার বুকে অ'সহনীয় ব্যা'থা শুরু হয়ে গেল ৷ শ্বাস নিতে প্রচন্ড বেগ পেতে হলো ৷ কোনোমতে অস্ফুট স্বরে বলল,,,
ড্রাইভার আঙ্কেল ৷ দ্রুত এখান থেকে চলুন ৷ আমার শরীর ভালো লাগছে না ৷
ড্রাইভার ফরিদ মিয়া পিছু ঘুরে উষার অবস্থা দেখে বিচলিত হয়ে বললেন,,, মামুনি কি হয়েছে তোমার? ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব?
না আমি বাড়ি যাব ৷
ভাগ্যক্রমে তখন জ্যাম কিছুটা কমে এসেছিল তাই ফরিদ মিয়া দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গেলেন ৷ গাড়ি থেকে কোনোমতে নেমে উষা বাড়ির ভিতরে চলে গেল ৷ ওকে এমন অবস্থায় প্রবেশ করতে দেখে উর্মিলা, মিতা আর জিনি ত্রস্ত পায়ে ওর দিকে এগিয়ে আসল ৷ মিতা ইয়াসমিন চিন্তিত স্বরে বললেন,,,
কি হয়েছে মা?
উষা ক্ষীণ কন্ঠে বলল, মনে হয় প্যানিক এ'ট্যাক হয়েছে ৷
কথাটা শোনার সাথেই উনারা উষাকে ওর রুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিল ৷ তারপর নির্দিষ্ট ওষুধ খাইয়ে দিলেন ৷ উষা এখন কিছুটা সুস্থবোধ করছে ৷ ওকে স্বাভাবিক হতে দেখে উর্মিলা আর মিতা ইয়াসমিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কিচেনে চলে গেলেন ওর জন্য কিছু রান্না করতে ৷
জিনি উষার মাথায় হাত রেখে বলল,, রোমিও আমাকে ভ'য় পাইয়ে দিয়েছিলি! হঠাৎ এ'ট্যাক হলো কিভাবে?
উষা জিনির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে ধরেও বলল না ৷ চোখ সরিয়ে নিয়ে মজা করে বলল,,,
তোকে ছাড়া বাইরে গিয়েছি তো তাই এ অবস্থা ৷
জিনি কপট রা'গ দেখিয়ে বলল,, সবসময় শুধু মজা তাই না?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
একটা ফাঁকা বেঞ্চে দুরত্ব বজায় রেখে উৎকর্ষ আর ফারিহা বসে পড়ল ৷ তারপর সামনের দিকে চোখ নিবদ্ধ করে উৎকর্ষ বলল,,,
আইসক্রিমও কিনে দিয়েছি এখন অন্তত বল কি এমন জরুরি কথা আছে তোর যার জন্য অফিস থেকে পার্কে নিয়ে আসলি আমাকে?
ফারিহা আইসক্রিমে কামড় দিয়ে উৎকর্ষের দিকে তাকিয়ে বলল,, তোকে আমি অনেকদিন থেকে ভালোবাসি উৎকর্ষ ৷ আমি তোকে বিয়ে করতে চাই ৷
উৎকর্ষ যারপরনাই শান্ত গলায় সামনে চোখ নিবদ্ধ রেখেই বলল,,, আমি অন্য একজনের ফারিহা ৷ তুই আমার কাছে বান্ধবী কম বোন ৷ তোকে কখনোই আমি ওই নজরে দেখিনি ৷
ফারিহা তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,,, আগে দেখিসনি তো কি হয়েছে? আজ থেকে বউয়ের নজরে দেখ ৷
বললাম না আমি অন্য একজনের ৷ ওই একজন ছাড়া বাকি সবাই আমার কাছে বোন সমতুল্য ৷
তুই মিথ্যা বলছিস তাই না?
আমি কেন মিথ্যা বলতে যাব ৷ আমাকে দেখে কি তোর মি'থ্যাবাদী মনে হয়?
না সেটা বলিনি ৷ আসলে তোকে কখনো কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখিনি তাই মনে হলো ৷
উৎকর্ষ নিশ্চুপ থাকল ৷ ফারিহা পুনরায় বলে উঠল,,,,
মেয়েটা কে উৎকর্ষ?
উৎকর্ষ বেঞ্চ থেকে উঠে বলল,,, আয় তোকে ড্রপ করে দিই ৷ আমার অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ আছে ৷
ফারিহা ছলছল চোখে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে উঠে পড়ল ৷ তারপর ওর গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ল ৷ উৎকর্ষ স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে গাড়ি চালাচ্ছে ৷ ফারিহা কান্নারত মুখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ ফারিহাকে ওর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে উৎকর্ষ চলে গেল ৷ ওর যাওয়ার দিকে ক্রন্দনরত ফারিহা অসহায় মুখে তাকিয়ে থেকে চোখ মুছে নিল তারপর বাড়ির ভিতরে চলে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উষা বিশ্রাম নেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে জিনিকে রুম থেকে চলে যেতে বলল ৷ জিনি দরজাটা আলতো করে লাগিয়ে দিয়ে নিচে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই উষা বালিশে মুখ চাপা দিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল ৷ এভাবে অনেকক্ষন কাঁদার পর ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল,,
উনি আমাকে ভালোবাসেন না ৷ বোন হিসেবেই আমার এতো যত্ন নিতেন ৷ আমার ধারনা ভুল প্রমাণিত হলো, আমার বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ৷ এখন আমি কি করব? আমার অনুমান কখনোই ভুল হয় না তাহলে আজ কেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ , ভালোলাগার অনুমানটা মিথ্যা হতে পারল? আমি ম'রে যাচ্ছি টমেটো সস! আমি ম'রে যাচ্ছি!
কারো পদধ্বনি কানে আসতেই উষা বিলাপ বন্ধ করে চোখমুখ মুছে মুখমন্ডল স্বাভাবিক করল ৷উৎকর্ষ ব্যস্ত ভাবে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে চিন্তিত মুখে উত্তেজিত হয়ে বলল,,,
ঠিক আছিস উষা? বড় মা বলল তোর প্যানিক এ'ট্যাক হয়েছিল?
উষা শান্ত চোখে কিছুক্ষণ উৎকর্ষের দিকে তাকিয়ে থেকে মৃদু স্বরে বলল,,, একদম ঠিক আছি এখন ৷
তোর গলা এমন শোনাচ্ছে কেন?
কিছু না ৷ অসুস্থ হওয়ায় হয়তো একটু পরিবর্তন হয়েছে ৷ আমার কন্ঠ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না ৷
উৎকর্ষ উষার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর কপালে হাত রাখতে ধরতেই উষা খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেলল ৷ তারপর স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,,
অফিস রেখে এসেছেন ৷ আমাকে নিয়ে না ভেবে কাজ করুন গিয়ে ৷
উৎকর্ষ সুক্ষ্ম নজরে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ উষা এতোক্ষন অন্যদিকে মুখ করে ছিল ৷ ও চলে যেতেই উষার চোখ দিয়ে আবারও নোনাজল গড়িয়ে পড়তে লাগল ৷ কাঁদতে কাঁদতে বলল,,,
আমি আর বে'হায়ার মতো আপনার পিছনে পড়ে থাকব না ৷ আপনি ফারিহা আপুর সাথে সুখে থাকুন ৷ আমি নিজেকে সামলে নেওয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা করব ৷
আসলেই কি সামলে নিতে পারবে? উত্তর না ৷ উষা মুখে হাত চেপে কাঁদতে লাগল ৷ চোখের পানি যেন আজ বাধ মানছে না ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহ ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে চলে গেল ৷ কিছুক্ষণের মধ্যে জিনি এক কাপ কফি হাতে ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াল ৷ উৎসাহ জিনির হাত থেকে কফি নিয়ে সেটায় চুমুক দিতে লাগল ৷ জিনি অপলক চাহনিতে উৎসাহের সদ্য গোসল করা স্নিগ্ধ মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ উৎসাহ ওর দিকে না তাকিয়েই বলল,,,
ওভাবে তাকিয়ে থেকো না বিবিজান , নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারি ৷
জিনি অপ্রস্তুত হয়ে চোখ সরিয়ে নিল ৷ তখনই উৎসাহের ফোন বেজে উঠল ৷ জিনি গিয়ে ফোনের দিকে তাকাতেই দেখল বাবলি ফোন দিয়েছে ৷ ওর নাম দেখতেই জিনির ভ্রু কুঁচকে গেল ৷
উৎসাহের হাতে ফোনটা দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,, বাবলি আপু ফোন দিয়েছে ৷
ওর এমন কন্ঠস্বর শুনে উৎসাহ কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে ফোনটা রিসিভ করে কথা বলল ৷ তারপর ফোন কেটে দিয়ে জিনির দিকে তাকিয়ে বলল,,,
কি হয়েছে বিবিজান?
জিনি বুকে দুহাত গুজে গম্ভীর গলায় বলল,, আমি সব জানি ৷ বাবলি আপু আপনাকে পছন্দ করে ৷
উৎসাহ অবাক হয়ে বলল,,, তোমাকে কে বলল?
ওহ জেনে মনে হয় ভুল করে ফেললাম ৷ ভালো কথা, আপনিও আপুকে পছন্দ করেন নাকি?
জিনাত! তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি তোমাকে ভালোবাসি আর বাবলি আমার ছোট বোন ৷
তাহলে সেদিন এতো হেসে হেসে আপুর সাথে কথা বলছিলেন কেন?
যখন থেকে জানতে পেরেছিলাম ও আমাকে ভাইয়ের নজরে দেখে না তখন থেকে আমি ওকে ইগনোর করতে শুরু করেছিলাম কিন্তু সেদিন ও আমাকে বলল ও অন্য একজনের প্রেমে পড়েছে আর দ্রুতই বাড়িতে জানাবে ৷ সেসব নিয়েই ওর সাথে কথা বলছিলাম আমি ৷
জিনি অনুতপ্ত হয়ে ওর থেকে চোখ নামিয়ে নিল ৷ উৎসাহ পুনরায় বলল,,,
বাড়িতে সবাই মেনে নিয়েছে ৷ কিছুদিনের মধ্যেই ওরা দেশে আসবে কারন বিয়েটা পৈতৃক বাড়িতেই দিতে চাচ্ছে ফুফুমনি ৷
জিনি উৎসাহকে জরিয়ে ধরে মিনমিন করে বলল,, দুঃখিত এসিপি সাহেব ৷ না জেনে ওভাবে কথা বলা উচিত হয়নি ৷
উৎসাহ জিনির মাথায় হাত রেখে শান্ত গলায় বলল,, তোমার জায়গায় আমি থাকলেও এমনটাই ভাবতাম ৷ আসলে ভালোবাসার মানুষকে একটা কলাগাছের সাথে কথা বলতে দেখলেও জে'লাস ফিল হয় ৷
জিনি ওর কথায় জোরে হেসে উঠল ৷ উৎসাহ ওর হাসির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,,,
তোমার মুখে হাসি মানানসই ৷ সবসময় হাসিখুশি থাকবে ৷ চলো এখন ঘুমিয়ে পড়ি ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উষা এখন খুব বেশি প্রয়োজন ব্যতীত উৎকর্ষের সাথে কথা বলে না কিংবা সামনে যায় না ৷ নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেছে ও ৷ এই প্রচেষ্টার ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই উষার হাস্যজ্জ্বল মুখটা হারিয়ে গেছে ৷ চোখমুখের দিকে তাকানো যায় না ওর ৷
উর্মিলা রহমান উষার রুমে এসে বললেন,,, উৎকর্ষ তোমাকে ডাকছে ৷
উষা পড়ার টেবিলে বসে ছিল ৷ একটা বই হাতে নিয়ে বলল,,,
আমার অনেক পড়াশোনা আছে মা ৷ আমি এখন যেতে পারব না ৷
একবার গিয়ে শুনে আসো ছেলেটা কি জন্য ডাকল ৷ বেশি সময় তো লাগার কথা না ৷
প্লিজ মা ডিস্টার্ব করো না ৷ অনেক পড়া বাকি আছে আমার ৷
উর্মিলা রহমান নিজের মেয়ের এমন পরিবর্তন দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ৷ ঘর মাথায় তুলে রাখা মেয়েটা হঠাৎ কেমন নিশ্চুপ হয়ে গেছে ৷ আগের মতো আর কারো সাথে হাসি-ঠাট্টাও করে না ৷
উনি হতাশার শ্বাস ফেলে উৎকর্ষের রুমে গিয়ে বললেন,,,
বাবা ওর নাকি অনেক পড়া আছে তাই আসল না ৷
ঠিক আছে বড় মা ৷ তুমি যাও ৷
উনি চলে যেতেই উৎকর্ষ কপালে হাত ঠেকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল,,,
কি হয়েছে প্রেয়সী? আমাকে ইগনোর করছিস কেন? তোর এই অবজ্ঞা আমাকে কতটা পীড়া দেয় তোর সে সম্পর্কে কোনো ধারনা আছে?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মাথা ব্যা'থা শুরু হওয়ায় উষা কিচেনে এসে চা বানাতে লাগল ৷ এমন সময় উৎকর্ষ ওর পিছনে এসে বলল,,,
আমার জন্যেও এক কাপ কফি বানা ৷
উষা একপলক উৎকর্ষের দিকে তাকিয়ে কোনোরুপ বাক-বিতন্ডা না করে কফি বানাতে লাগল ৷ উৎকর্ষ পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করার জন্য বলে উঠল,,,
দিনদিন ভালোই সংসারী হয়ে উঠছিস দেখছি!
উষা মৃদু হেসে বলল,,, সারাজীবন তো আর এখানে থাকব না ৷ শ্বশুরবাড়িতে যেতে হবে না?
কথাটা কানে যেতেই উৎকর্ষের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল ৷ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,
বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার খুব শখ তোর? বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেছিস মনে হচ্ছে!
মেয়ে হয়ে যখন জন্মেছি শ্বশুরবাড়ি তো তাহলে একদিন না একদিন যেতেই হবে আর বিয়ের বয়সও তো হয়ে গেছে ৷ ভাবছি তাড়াতাড়ি বিয়ে করে জিনির মতো আমিও স্বামীর সেবা-যত্ন করে সওয়াবের পাল্লা ভারী করব ৷
উৎকর্ষ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে গম্ভীর মুখে উষার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ উষা কফি মগে ঢেলে ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,,,
এই নিন ভাইয়া আপনার কফি ৷
উৎকর্ষের হৃৎপিন্ড থমকে গেল ভাইয়া ডাক শুনে ৷ ছোটবেলা থেকে এই 'ভাইয়া' না ডাকার জন্য উষা অনেক রাগারাগি আর মা'র খেয়েছে তবুও ভাইয়া বলে ডাকেনি কিন্তু আজ কতটা স্থির চোখে অবিচল মুখে জড়তাহীন কন্ঠে ভাইয়া বলে ডাকল!
উৎকর্ষ ক'র্কশ কন্ঠে বলল,, উষা!
কি ভাইয়া?
উৎকর্ষ হাত উচিয়ে কিছু বলতে ধরেও নিজেকে শেষমুহূর্তে সামলে নিয়ে কফি ছাড়াই লম্বা লম্বা পা ফেলে কিচেন থেকে চলে গেল ৷ ও চলে যেতেই উষার স্থির চোখদুটো নোনাজল দিয়ে ভরে গেল ৷ পানি গাল দিয়ে গড়িয়ে পড়ার আগেই সেটা মুছে ফেলল তারপর চা নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল ৷ উৎকর্ষের জন্য বানানো ধোয়া ওঠা কফির মগটা ওখানে অবহেলায় পড়ে রইল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎকর্ষ রুমে গিয়ে সজোরে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে দেয়ালে অনবরত ঘু'ষি মা'রতে লাগল ৷ হাত দিয়ে র'ক্ত ঝরতে শুরু করলেও থামল না ৷ আরো কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে উৎকর্ষ দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে মেঝেতে বসে পড়ল ৷ ডান হাতটা থেকে টপটপ করে র'ক্তের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে ৷ দেয়ালে ওর র'ক্তাক্ত হাতের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে ৷ কিন্তু এসব কোনো কিছুর প্রতিই ওর কোনো মনোযোগ নেই ৷ ও উদভ্রান্তের ন্যায় মোবাইলের গ্যালারিতে গিয়ে উষার একটা হাস্যজ্জ্বল ছবির দিকে তাকিয়ে ক্রমাগত হাঁপাচ্ছে ৷ করুন কন্ঠে বলল,,,
এতোটা ক'ষ্ট দিচ্ছিস কেন আমাকে? তোর মুখ থেকে ভাইয়া ডাকটা আমাকে ঠিক কি পরিমান য'ন্ত্রণা দিয়েছে ভাবতে পারছিস? তোর শ্বশুড়বাড়ি এটাই উষা ৷ আমি ছাড়া অন্য কারো কথা কল্পনাতেও আনার কথা ভাববি না নাহলে আমার সবচেয়ে জ'ঘন্য রুপটা তুই দেখবি! প্রেয়সী কি ভুল করেছি আমি? উষা মানে সকাল তাহলে তুই কেন আমার জীবনে অমানিশা আনতে চাচ্ছিস?আমাকে এভাবে নরক য'ন্ত্রণার সাথে পরিচয় করিয়ে দিস না প্লিজ!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
কোচিংয়ের জন্য রেডি হয়ে জিনি আর উষা ড্রয়িংরুমে চলে গেল ৷ উৎকর্ষ হাতে ব্যান্ডেজ করে নিচে এসে ঠান্ডা গলায় বলল,,,
চলো তোমাদের পৌঁছে দিয়ে আসি ৷
উষা তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,,, দরকার নেই ৷ ড্রাইভার আঙ্কেল গাড়ি বের করেছে ৷ উনার সাথেই যাব ৷
উৎকর্ষ শান্ত চোখে কিছুক্ষণ উষার দিকে তাকিয়ে থেকে উল্টো ঘুরে নিজের রুমে চলে গেল ৷ উষা এক পলক ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে জিনির সাথে গাড়িতে গিয়ে উঠে পড়ল ৷
উষাকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে জিনি ওর হাতে হাত রেখে নরম কন্ঠে বলল,,,
রোমিও কি হয়েছে? কয়দিন থেকে এমন নিশ্চুপ হয়ে গেছিস কেন?
কিছু না রে ৷
সত্যি করে বল উষা ৷ আমি জানি তুই কিছু লুকাচ্ছিস ৷
কি লুকাব? আসলে ভার্সিটিতে যদি চান্স না পাই তাহলে সবাইকে মুখ দেখাব কিভাবে সেই চিন্তায় এ অবস্থা হয়েছে আমার ৷ কতগুলো পড়া বাকি আছে ভাবতে পাচ্ছিস? আমার তো ভাবলেই মাথা ঘুরতে শুরু করে দেয়!
এটা ছাড়া আর কিছু নেই তো?
উষা জানালার দিকে মুখ করে বলল,, নাহ ৷
জিনি ভ্রু কুঁচকে উষার দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে বলল,,,
ভার্সিটির চিন্তা তো আমারও হচ্ছে ৷ তাই বলে কি আমি নিশ্চুপ হয়ে গেছি? নিশ্চয়ই কোনো ব্যাপার আছে যেটা তুই আমার থেকে লুকোচ্ছিস! যদি ভুল না হয়ে থাকি তাহলে উৎকর্ষ ভাইয়াকে নিয়েই কিছু হয়েছে ৷
চলবে,,,,