ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

২৭তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৭
সূর্যের লালিমা হারিয়ে গিয়ে রাতের জোছনা পদার্পণ করেছে ৷ উর্মিলা রহমান বারবার সদর দরজার দিকে উকি ঝুকি মারছেন ৷ উষা আর জিনি পড়াশোনা কমপ্লিট করে সবেমাত্র ড্রয়িংরুমে এসেছে ৷ এসে উর্মিলা রহমানকে এমন উদ্বিগ্ন দেখে উষা জিজ্ঞাসা করল,,  
কারো কি আসার কথা মা? এতো অস্থির হয়ে আছো কেন?
জিনিও উত্তরের আশায় উনার দিকে তাকাল ৷ উর্মিলা রহমান চিন্তিত গলায় বললেন,,,
তোমরা কোচিংয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই উৎকর্ষ বাইরে বের হয়েছে এখনও ফেরেনি ৷ তার উপর ওর হাতে ব্যান্ডেজও ছিল ৷ অনেক জেরা করার পরেও হাতে কি হয়েছে সেটা না বলেই বেরিয়ে গিয়েছে ৷
মিতা ইয়াসমিন ড্রয়িংরুমে আসতে আসতে বললেন,,, আবারও হয়তো কারো সাথে মা'রামা'রি করেছে তোমার গুণধর ছেলে ৷ এই ছেলেটাকে আমি মানুষ করতে পারলাম না ৷ উৎসাহ কতটা শান্ত-শিষ্ট অন্যদিকে এই ছেলে যে এতোটা রা'গী স্বভাবের কিভাবে হলো কে জানে!
উষা বিষন্ন মুখে মাথা নিচু করে মনে মনে বলল,,, ফারিহা আপুর সাথে কোনো ঝামেলা হয়েছে হয়তো ৷ তাই আপুর সাথে সবকিছু মিটমাট করতে গিয়েছে ৷
চোখ পানিতে ভরে উঠতেই উষা কেউ দেখার আগেই সন্তর্পণে সেটা মুছে নিল ৷ তখনই কলিংবেল বেজে উঠল ৷ উর্মিলা রহমান দ্রুত পায়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন ৷ উৎকর্ষ মলিন মুখে ভিতরে প্রবেশ করে উষার দিকে তাকাল ৷ উষা মাথা নিচু করে বসে আছে ৷ মিতা ইয়াসমিন ক'র্কশ কন্ঠে বললেন,,,
তোমার হাতে ব্যান্ডেজ কেন উৎকর্ষ? আবার কার সাথে মা'রামা'রি করেছো? তুমি কি কখনো ভালো হবে না?
উৎকর্ষ এখনও উষার দিকেই তাকিয়ে আছে ৷ দুর্বল কিন্তু দৃঢ় কন্ঠে বলল,,,
নিশ্চিন্তে থাকতে পারো মা ৷ আমি কারো সাথে মা'রপিট করিনি ৷
তাহলে হাতে ব্যা'ন্ডেজ কেন?
ভুলে পান্চিং ব্যাগ ভেবে দেয়ালে ঘু'ষি মে'রেছিলাম ৷
বলেই উৎকর্ষ লম্বা লম্বা পা ফেলে দোতলায় চলে গেল ৷ উষা এতোক্ষন আড়নয়নে বারবার উৎকর্ষের ব্যা'ন্ডেজ করা হাতটার দিকে তাকিয়ে ছিল ৷ মিতা ইয়াসমিন চেঁ'চিয়ে বললেন,,,
এই ছেলে এসব আজগুবি লজিক দেখিয়ে পার পেয়ে যাবে ভেবেছো? আজ তোমার একটা ব্যবস্থা করেই ছাড়ব! দিনদিন বে'য়াদবির মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছ!
উর্মিলা রহমান ধ'মকে উঠে বললেন,,, আহ ছোট তুই থামবি ৷ ছেলেটা যখন বলতে চাইছে না তাহলে এতো জোর করছিস কেন? দেখছিস না কতটা ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছে? আর একটাও কথা বলবি না ৷
আদর দিয়ে দিয়ে ওকে বাঁ'দর বানিয়ে ফেলো ভাবী!
রা'গ দেখিয়ে মিতা ইয়াসমিন নিজের রুমে চলে গেলেন ৷ উর্মিলা রহমান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেও উনার পিছু পিছু চলে গেলেন ৷ জিনি ভ্রু কুঁচকে উষার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
ভাইয়া আর তোর কারোই ব্যবহার আমার স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না ৷ কাহিনী কি বল তো?
উষা উঠে দাঁড়িয়ে বলল,,, আমার এই আচরণের কারন তোকে বলেছি ৷ এখন উনার আচরণের কারন কি সেটা আমি জানি না ৷ অনেক ক্লান্ত লাগছে আমি ঘুমাব ৷
বলেই উষা ধীর পায়ে দোতলায় চলে গেল ৷ জিনি উদ্বেগ নিয়ে সোফায় বসে থাকল ৷ ও চিন্তায় এতোটাই মগ্ন হয়ে ছিল যে উৎসাহ কখন ওর পাশে এসে বসেছে সেটা বুঝতেই পারেনি ৷ হঠাৎ পাশে তাকাতেই জিনি ভুত দেখার মতো চ'মকে উঠে চিৎ'কার করতে ধরতেই উৎসাহ ওর মুখ চেপে ধরে বলল,,,
চি'ল্লানি দিও না ৷ এটা আমি, কোনো ভুত না ৷
উৎসাহ হাত সরিয়ে নিতেই জিনি বুকে হাত দিয়ে বলল,,, কখন এসেছেন?
একটু আগেই ৷ কাকে নিয়ে চিন্তায় মগ্ন ছিলে যে আমার মতো একটা ছেলেকে তুমি দেখলে না? এই দাঁড়াও দাঁড়াও কোনোভাবে তুমি আমার সতীনকে নিয়ে ভাবতেছিলে না তো?
জিনি সামান্য হেসে উঠে বলল,, আপনিও না এসিপি সাহেব! ওসব কিছু না ৷
উৎসাহ জিনিকে নিজের কাছে টেনে এনে বলল,,, তাহলে কি ভাবতেছিলে?
জিনি ওকে সব বলল ৷ সব শুনে উৎসাহ ঠান্ডা গলায় বলল,, যখন নিজের রা'গ একদমই ক'ন্ট্রোল করতে পারে না তখন ও দেয়ালে ঘু'ষি মেরে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে ৷ এটা উৎকর্ষের ছোটবেলার অভ্যাস ৷ অনেকদিন থেকে বন্ধ হয়েছিল কিন্তু আজ আবার এমন করতে গেল কেন?
সেটাই তো চিন্তার বিষয় ৷
হয়েছে তোমাকে আর ভাবতে হবে না ৷ আমি ওর সাথে কথা বলে দেখব ৷
জিনি মনে মনে বলল,,, না ভেবে উপায় আছে? শুধু তো ভাইয়া না উষাও অস্বাভাবিক আচরণ করছে ৷ আপনাকে বলতেও পারছি না যদি উষার মনের কথা জেনে যান তাহলে তো বাড়িতে একটা কে'লেঙ্কারি হয়ে যাবে!
ওকে আবারও ভাবনায় ডুবতে দেখে উৎসাহ বলল,,, বললাম তো তোমাকে ভাবতে হবে না ৷ তুমি যাস্ট আমাকে একটু খাইয়ে দাও তাহলেই হবে ৷
জিনি মুচকি হেসে ওকে নিয়ে ডায়নিং টেবিলে চলে গেল তারপর উৎসাহকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে লাগল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উর্মিলা রহমান দরজায় টোকা দিয়ে কোমল কন্ঠে বললেন,,,
ছোট ,ছেলেটার উপর রা'গ করিস না ৷ ও এখন বড় হয়েছে, ভালো-মন্দ বুঝতে শিখেছে ৷
মিতা ইয়াসমিন দরজা খুলে দিয়ে আবার বিছানায় গিয়ে বসে পড়লেন ৷ উর্মিলা রহমান উনার পাশে বসে কাধে হাত রেখে বললেন,,,
মানছি ছেলেটা একটু র'গচটা স্বভাবের তাই বলে কারো সাথে মা'রপিট করবে এতোটাও অধঃপ'তনে যায়নি আমাদের ছেলে ৷ ছোটবেলায় অবুঝ ছিল তাই নাহয় একটু মা'রামা'রি করতো কিন্তু বুঝদার হওয়ার পর থেকে তো আর কোনো অভিযোগ পাইনি আমরা ৷ তাহলে কেন ওকে অবিশ্বাস করছিস?
অবিশ্বাস করছি না ভাবী ৷ আসলে ছেলেটাকে নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকি ৷ রা'গের মাথায় কখন কার সাথে কি করে বসে! 
ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে ছোট ৷ তুই শুধু শুধু চিন্তা করছিস ৷
দেখলে না ওর হাতের অবস্থা? আমি মা হয়ে এসব কিভাবে স'হ্য করতে পারি? ওর ব্যা'থা মানে যে আমার ব্যা'থা ৷ আমি রা'গ দেখাই যাতে ও দ্বিতীয়বার নিজের ক্ষ'তি করার কথা মাথাতেও না আনে ৷
উর্মিলা রহমান মিতা ইয়াসমিনকে আগলে নিয়ে বললেন,,, হয়েছে আর কাঁদিস না ৷ আমি সব বুঝেছি ৷ ছেলেটা কি শুধু তোর? ওর ক'ষ্ট তো আমিও স'হ্য করতে পারি না ৷
আরো কিছুক্ষণ মিতার সাথে সময় কাটিয়ে উর্মিলা ড্রয়িংরুমের দিকে চলে গেলেন ৷ হঠাৎ ডায়নিং টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই উনার মনটা শীতলতায় ভরে গেল ৷ জিনি উৎসাহকে খাইয়ে দিচ্ছে আর উৎসাহ গালে হাত দিয়ে মুগ্ধ নয়নে নিজের বিবিজানের দিকে তাকিয়ে খাবার খাচ্ছে ৷
এমন মধুর দৃশ্য দেখে উর্মিলা রহমান বিরবির করে বললেন,,, সারাজীবন তোমরা এভাবেই থাকো ৷ তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা আরো তীব্র হয়ে উঠুক এই দোয়া করি ৷ 
তারপর উনি হাসিমুখে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন ৷ 
উৎসাহকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে জিনি ল'জ্জায় লাল হয়ে বলল,,,
এসিপি সাহেব এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না আমার ল'জ্জা লাগে ৷
কিন্তু আমার ল'জ্জা লাগে না ৷
কারন আপনি নি'র্লজ্জ ৷
বিবিজানের থেকে নি'র্লজ্জ উপাধি পেয়েও গর্বে বুকটা ফুলে উঠল ৷
এই নি'র্লজ্জতা নিজের আসামীদের সামনে গিয়ে দেখাবেন ৷
কেন ওরা কি আমার বাচ্চার মা হবে?
জিনি ভাষা হারিয়ে ফেলল ৷ এই লোক দিনকে দিন সমস্ত ল'জ্জা হারিয়ে ফেলছে ৷ দেখা যাবে একদিন ঝেড়ে ঝুড়েও ন্যূনতম ল'জ্জাটুকু উনার মধ্যে হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না!
জিনি হাত ধুয়ে প্লেট পরিষ্কার করে সাইডে গুছিয়ে রাখল ৷ উৎসাহ ঘোরলাগা কন্ঠে বলল,,,
বিবিজান চ'রম লেভেলের রো'মান্স পেয়েছে দ্রুত বেডরুমে চলো ৷
জিনি সবেমাত্র পানি মুখে দিয়েছিল উৎসাহের কথা শ্রবণ হতেই ওর নাকে-মুখে পানি উঠে গেল ফলশ্রুতিতে কাশতে শুরু করল ৷ উৎসাহ ওর মাথায় হালকা থা'প্পড় দিতে লাগল ৷ নিজেকে সামলে নিয়ে জিনি উৎসাহের দিকে হতভম্ভ চোখে তাকিয়ে বলল,,,
অ'সভ্য লোক!
উৎসাহ জিনিকে পাজাকোলা করে তুলে নিয়ে বলল,,,
অ'সভ্যতামির এখনও কি দেখেছো? বেডরুমে চলো অ'সভ্যতামি কাকে বলে,কত প্রকার আর কি কি সব বোঝাচ্ছি!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উদিতা ফারুকীরা গতকাল এসে পৌঁছেছে ৷ বাবলির শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরাও এসেছে ৷ বিয়েটা এ বাড়িতেই অত্যন্ত ধুমধামের সহিত আয়োজন করা হবে ৷ ছেলেটার লন্ডনে নিজস্ব বিজন্যাস রয়েছে ৷ দেখতেও যথেষ্ট সুদর্শন ৷ বাবলি কিছুক্ষণ আগেই সবার সাথে নিজের হবু বর সমুদ্রের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ৷
আজ থেকে বিয়ের কার্যক্রম শুরু হবে ৷ পুরো বাড়ি চমৎকার ভাবে ডেকোরেশন করা হয়েছে ৷ ছাদটা রঙ বেরঙের ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সন্ধ্যায় মেহেন্দি অনুষ্ঠান করার জন্য ৷ জিনি পিত কালারের একটা জামা পড়েছে ৷ উৎসাহ বারবার ওকে শাড়ি পড়তে বারন করেছে অগত্যা স্বামীর আদেশ তো পালন করতেই হবে ৷ জিনি তৈরি হয়ে উষার রুমে চলে গেল ৷ উষা ব্লাউজ আর পেডিকোট পড়ে আ'হাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে আছে ৷ জিনি ওর কাছে গিয়ে বলল,,,
এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? নাকি শাড়ি না পড়েই বাইরে যাওয়ার প্লান করছিস?
উষা কঠিন চোখে জিনির দিকে তাকিয়ে বলল,, শাট আপ শা'লা ৷ বাবলি আপু পড়িয়ে দিতেছিল , সমুদ্র ভাইয়া ডেকে পাঠানোয় আমাকে ১ মিনিট অপেক্ষা করতে বলে আধঘন্টা পার করে দিল তবুও ১ মিনিট আর হলো না ৷
আচ্ছা আমি পড়িয়ে দিচ্ছি ৷
যে নিজের শাড়ি সামলাতে পারে না সে  আমাকে শাড়ি পড়িয়ে দিবে অদ্ভুত!
জিনি ভাব নিয়ে বলল,, পারব কি পারব না সেটা নিজেই দেখ ৷
বলেই জিনি উষাকে শাড়ি পড়িয়ে দিতে লাগল ৷ এটা উৎসাহের দেওয়া সেই কাঁচা হলুদ কালারের শাড়িটা ৷ শাড়ি পড়ানো শেষে উষাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে জিনি মোহিত কন্ঠে বলল,,,
সাক্ষাৎ যেন কোনো পরী দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে ৷ সত্যিই তোর সৌন্দর্যে আমার চোখ ধাধিয়ে যাচ্ছে রোমিও ৷
উষা সামান্য হেসে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগল ৷ হলুদ শাড়ি, হাতে চুড়ি, কানে ছোট ছোট দুল, মুখে কোনো প্রসাধনীর ছোয়া নেই, প্রাকৃতিক লাল লাল ঠোঁট ব্যস এটুকুই ৷
জিনি আমোদিত হয়ে বলল,,, আমিই যেভাবে টাসকি খেয়ে গেছি উৎকর্ষ ভাইয়া দেখলে না জানি উনার কি অবস্থা হয়!
উৎকর্ষের নামটা কর্ণগোচর হতেই উষার মুখ থেকে হাসি ফুরিয়ে গিয়ে মলিন রুপ ধারন করল ৷ জিনি ভ্রু কুঁচকে ওর মুখমন্ডলের পরিবর্তন দেখল ৷ ওর চাহনি দেখে উষা কাঠ হেসে বিছানায় গিয়ে বসে শুকনো গলায় বলল,,,,
উনি আমাকে দেখে না ফারিহা আপুকে দেখে মুগ্ধ হবেন ৷
জিনি অবাক হয়ে বলল,, মাথা ঠিক আছে তোর? কি সব আবোল তাবোল বলছিস?
মা আর ছোট মা ফারিহা আপুর সাথে উনার বিয়ে দিতে চাচ্ছে ৷ খুব দ্রুতই প্রস্তাব নিয়ে যাবে ৷
জিনি পুরোই হতভম্ভ হয়ে বলল,,, কিন্তু ভাইয়া তো তোকে ভালোবাসে ৷ চিন্তা করিস না উনি মা আর ছোট মাকে বলে বিয়েতে মানা করে দিবে ৷
আমিও সেটাই ভেবেছিলাম কিন্তু... তারপর উষা জিনিকে সেদিনের পার্কের কথা আর উৎকর্ষের বলা কথাগুলো বলল ৷
সব শুনে জিনি নরম কন্ঠে বলল,, ভুল বুঝছিস ভাইয়াকে ৷ অনেক সময় চোখের দেখাও ভুল হয় রে রোমিও ৷
আমিও চাই ওটা যেন ভুল হয় কিন্তু উনার বলা কথাগুলো কিভাবে ফেলে দেই? মনে আছে উনি একবার বলেছিলেন উনি উনার থেকে ২/৩ বছরের ছোট মেয়েকে বিয়ে করবেন ৷ এসবকে কি বলবি তুই?
জিনি অসহায় মুখে ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,, আসলেই তো উনার বলা এসব কথার কি ব্যাখ্যা দিব আমি?
উষা কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,,, উনি সবসময় আমাকে বোন হিসেবে ট্রিট করেছে আর আমি অন্যকিছু ভেবে বসে ছিলাম ৷
তারপর উষা জিনিকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলল,,, উনি আমাকে ভালোবাসেন না ৷ আমি উনাকে হারিয়ে ফেললাম! আমি ভিতর থেকে ম'রে গেছি রে জিনি! আমি উনাকে অন্যের হয়ে যেতে দেখতে পারব না ৷
জিনি উষার পিঠে হাত বুলিয়ে ওকে শান্ত করার চেষ্টা করল ৷ উষা এতোদিনের জমানো ক'ষ্টগুলো সব উজার করল নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডের সামনে ৷ কারো পদধ্বনি এদিকে এগিয়ে আসার শব্দ শুনতেই উষা নিজেকে সামলে নিয়ে চোখ মুছে নিল ৷ দুজনেই থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছে ৷ বাবলি রুমে ঢুকে উষাকে বলল,,,
সরি রে তোর কথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ৷ 
জিনি বলে উঠল,,, সমস্যা নেই আপু ৷ আমি পড়িয়ে দিয়েছি ৷ তুমি এখন ভাইয়াকে সময় দাও ৷
বাবলি প্রতি উত্তরে মুচকি হাসল তারপর উষার আপাদমস্তক দেখে বলল,,, তোকে অনেক সুন্দর আর বড় বড় লাগছে ৷
উষা ছোট্ট করে উত্তর দিল,,, ধন্যবাদ আপু ৷
বাবলি নিজের বিয়ে নিয়ে এতোটাই বিভোর হয়ে আছে যে উষার বি'ক্ষিপ্ত মনের অবস্থা সম্পর্কে অবগতই হলো না ৷ দু-একটা কথা বলে ও রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ ও চলে যেতেই উষা স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,
চল জিনি নিচে যাই ৷
না আমার সাথে আরেকটু সময় একলা থাক উষা ৷
উষা জোরপূর্বক হেসে বলল,,, আমি ঠিক আছি ৷ তুই টেনশন করিস না ৷
জিনি জোর দিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,, না তুই ঠিক নেই ৷
আরো কিছু সময় দুজনে একসাথে কাটানোর পর চোখমুখ স্বাভাবিক করে নিচে চলে গেল ৷ উৎকর্ষ কয়েকজনকে কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছিল ৷ হঠাৎ সিড়ির দিকে চোখ পড়তেই ও স্ত'ব্ধ হয়ে গেল ৷ চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেল ৷ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে শাড়ি পরিহিত উষার দিকে দিন দুনিয়া ভুলে তাকিয়ে থাকল ৷ সময় যেন থেমে গেছে ৷ সামনে উষা ছাড়া আর কারো অস্তিত্বই উৎকর্ষ টের পাচ্ছে না ৷ এই প্রথমবারের মতো উষা শাড়ি পড়েছে ৷
ভাই ফুলগুলো কোথায় রাখব?
একজনের বলা উক্ত কথাটা কানে যেতেই উৎকর্ষ ঘোরের মধ্যে থেকেই বলল,,,
আমার মাথায় রাখ ৷
ছেলেটা অবাক হয়ে বলল,,, কি বলছেন ভাই?
মাথায় না রাখিস তাহলে ভিক্ষা দিয়ে আয় ৷
ভাই ক্ষে'পলেন নাকি? কিসব কইতাছেন?
 উৎকর্ষ এখনও উষার দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে ৷ এবার ছেলেটার এমন কথা শুনে ও পুরোপুরি ঘোর থেকে বেরিয়ে ইতস্তত করে  বলল,,,
মাথা ঠিক ছিল না ৷ ফুলগুলো ছাদে নিয়ে যা ৷
ছেলেটা চলে গেল ৷ উৎকর্ষ সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়ানো উষার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,,,
প্রেয়সী মে'রে ফেললে আমাকে!
চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন