ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডুবেছি তোমার মায়ায়

৩০তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান
#ডুবেছি_তোমার_মায়ায়
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান 
#পর্বঃ৩০
জিনি একটা লাল শাড়ি পড়ে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ এই শাড়িটা কিছুদিন আগেই উৎসাহ ওকে উপহার দিয়েছিল ৷ কিছুক্ষণ আয়নায় নিজেকে উল্টে পাল্টে দেখে নিল জিনি ৷ তারপর হালকা পাতলা সাজগোজ করল ৷ ওকে ভীষণ এক্সাইটেড মনে হচ্ছে ৷ খুশি উপচে উপচে পড়ছে ৷
জিনি ডান হাতটা নিজের পেটের উপর আলতো করে রেখে বলল,,,
সোনামণি মাম্মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে ৷ একটু পর তোমার বাবা চলে আসবে ৷ তোমার বাবা না দেখতে অনেক সুদর্শন ৷ কিছুক্ষণ পর যখন তোমার বাবা চলে আসবে তখন তুমি নিজেই দেখে নিও ৷
কিছু সময় চুপ থাকার পর জিনি বেলকনিতে চলে গেল ৷ বেলকনির হাতলে দু হাত রেখে উকি ঝুকি দিয়ে রাস্তায় দেখতে লাগল ৷ অস্থির হয়ে বলল,,,
এসিপি সাহেব এখনও আসছেন না কেন? আমার যে আর তর সইছে না! আপনাকে গুড নিউজ টা না দেওয়া পর্যন্ত আমি শান্তি পাচ্ছি না ৷ আমাদের কোল আলো করে খুব দ্রুতই একটা ছোট্ট ফুটফুটে সন্তান আসতে চলেছে ৷ তাড়াতাড়ি আসুন না এসিপি সাহেব!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসাহের জিপ ডিসিপির ফার্ম হাউজের গেইট পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ জিপ থেকে নেমে উৎসাহ স্বাভাবিক কদমে এগিয়ে গিয়ে কলিংবেল বাজাল ৷ নুরুল আমিন একটা ঢিলেঢালা ট্রাউজার আর নাইটি পড়ে দরজা খুলে দিয়ে মুচকি হেসে বলল,,,
কাম ইন মাই সান ৷
উৎসাহ স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ তারপর নুরুল আমিনের ইশারায় সোফায় বসে পড়ল ৷ ওকে বসিয়ে রেখে উনি কিচেনে চলে গেলেন দু কাপ কফি বানানোর জন্য ৷ কিছুক্ষণ পর কফি হাতে ড্রয়িংরুমে আসতে আসতে বললেন,,,
তোমার আন্টি অনাথ আশ্রমের বাচ্চাগুলোর সাথে আজ নাকি থাকবে তাই ফার্ম হাউজে চলে এসেছি কারন বাড়ির সবকিছু আমাকে নীলার কথা মনে করিয়ে দেয় ৷
কথাটা বলে উনি হাসলেন যাকে বলে প্রাণখোলা হাসি ৷ উৎসাহ স্থির চিত্তে কফিতে চুমুক দিল ৷ নুরুল আমিন পুনরায় বললেন,,,
তোমার ওয়াইফ কেমন আছে?
জ্বি স্যার আল্লাহর রহমতে ভালো আছে ৷
বুঝলাম ৷ ওকে যার জন্য ডাকলাম , প্রমাণগুলো এনেছো? এনে থাকলে আমাকে দাও দেখি একটু ৷
উৎসাহ কফিতে আর এক চুমুক দিয়ে মগটা টেবিলে রেখে দিয়ে শীতল গলায় বলল,,, সব প্রমাণগুলো আপনাকে দিয়ে দিই যেন আপনি সেগুলো ন'ষ্ট করে দিতে পারেন তাই তো?
নুরুল আমিন অবিচল দৃষ্টিতে উৎসাহের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ উৎসাহ আক্ষেপ নিয়ে বলল,,,
এমন কেন করলেন স্যার? খারাপ কাজ করে কি শান্তি পেয়েছেন?
নুরুল আমিন ফিচেল হেসে বললেন,, তুমি অনেক বুদ্ধিমান আর বিচক্ষণ একজন অফিসার উৎসাহ ৷ অনেক চতুরতার সহিত নিজেকে লুকিয়ে রাখার পরও তুমি ঠিকই সবকিছু বুঝে ফেললে!
স্যার নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলেও নিজের নিত্যদিনের অভ্যাসগুলো লুকানো যায় না ৷ আপনি কথায় কথায় নিজের আঙুল ফুটান যেটা ওই ভিডিওতেও অভ্যাস বশত ফুটিয়েছেন ৷ আমি নিজেকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে হয়তো ঘোস্ট মাস্টারেরও আপনার মতো আঙুল ফুটানোর অভ্যাস আছে কিন্তু রিফাতের আনা ডকুমেন্টসগুলোতে যখন ঘোস্ট মাস্টারের সাক্ষর দেখলাম তখনই সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে গেছে আমার সামনে ৷
ব্রিলিয়াল্ট বয় ৷ যাই হোক এখন আমি যা বলব তুমি ঠিক তাই করবে ৷
উৎসাহ বাকা হেসে বলল,,, আমি কখনোই অ'ন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না স্যার ৷
ভেবে দেখো উৎসাহ ,বাড়িতে তোমার সুন্দরী বউ আছে ৷ ওকে নিয়ে সারাজীবন সুখে শান্তিতে থাকো ৷ বিশ্বাস করো আমি তোমার কিংবা তোমার পরিবারের কোনো ক্ষ'তি করব না যদি তুমি কেসটা ক্লোজ করে দাও ৷
এটা সম্ভব নয় স্যার ৷ পরিবারের জন্য নিজের সততা আমি বেঁচে দিতে পারব না ৷ এটা আমার নীতি বিরুদ্ধ ৷ আপনাকে অবশ্যই জেলে যেতে হবে ৷ 
তোমার এ আশা পূরণ হবার নয় মাই সান ৷
উৎসাহ অসহায়ভাবে বলল,,, আপনি আমার আদর্শ ছিলেন স্যার! আপনার মতো একটা অমায়িক মানুষ কিভাবে এতোটা জ'ঘন্য কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারে! এসব ভুলে যান স্যার ৷ সঠিক পথে ফিরে আসুন ৷ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিবেন না প্লিজ! নিজে থেকে সেরেন্ডার করুন , আমি কথা দিচ্ছি আপনার জেলের মেয়াদ আমি কমিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আর আপনি না আসা পর্যন্ত আন্টির সর্বোচ্চ খেয়াল রাখব ৷
নুরুল আমিনের পা'শবিক মুখভঙ্গি শীতল হতে লাগল ৷ উনি শান্ত ভাবে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলেন ৷ উৎসাহ বহু আশা নিয়ে উনার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
প্লিজ স্যার ৷ আমি না আপনার ছেলের মতো? ছেলের এই রিকোয়েস্ট টা রাখবেন না?
নুরুল আমিন কয়েক মূহুর্ত উৎসাহের দিকে তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসলেন তারপর বললেন,,,
তুমি ঠিক বলেছো উৎসাহ ৷ আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি ৷ ঠিক আছে তুমি আমাকে এ'রেস্ট করো ৷
উৎসাহ প্রচন্ড খুশি হয়ে গেল ৷ নুরুল আমিন দুহাত বাড়িয়ে বললেন,, মাই সান আমাকে একটু জরিয়ে ধরবে?
উৎসাহ হাসিমুখে এসে উনাকে জরিয়ে ধরল ৷ উনি পরম যত্নে উৎসাহকে জরিয়ে ধরে বললেন,,,
আমি তোমাকে অসম্ভব রকম ভালোবাসি মাই সান ৷ কিন্তু..
উৎসাহ নিজের পেটে ধা'রালো কিছুর অস্তিত্ব টের পেতেই অবাক নয়নে উনার দিকে তাকাল ৷ নুরুল আমিন ছলছল চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললেন,,,,
কিন্তু তোমাকে ম'রতে হবে , তুমি বেঁচে থাকলে আমার এতো বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তোলা সাম্রাজ্য নিমিষেই ধ্বং'স হয়ে যাবে যা আমি কোনোভাবেই হতে দিতে পারি না!
বলেই উনি উৎসাহের পেটে ছু'ড়িটা আরো গভীরে ঢুকিয়ে দিলেন ৷ উৎসাহ ব্যা'থাতুর মুখে হতভম্ভ চোখে এখনও উনার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ নুরুল আমিন জোরে কেঁদে উঠে বললেন,,,
মাফ করে দাও আমাকে ৷ তুমি আমার জীবনে আসার পর আমি একটা ছেলে পেয়েছিলাম তাই তো তুমি আমার কাজে এতো হ'স্তক্ষেপ করার পরও আমি তোমাকে হু'মকি দিতাম কিন্তু কোনো ক্ষ'তি করতাম না ৷ কিন্তু তুমি খুব বেশি জেনে ফেলেছো বাবা তাই তোমাকে ম'রতে হবে!
উৎসাহের পেটে আরেকবার ছু'ড়ি চালিয়ে উনি ওকে সোফায় বসিয়ে দিলেন ৷ উৎসাহ পেটে হাত চেপে দুর্বল কন্ঠে বলল,,,
আপনাকে শেষ সুযোগ দিয়েছিলাম স্যার! এমনটা কেন করলেন?
বললেই এসব ছেড়ে দেওয়া যায় না ৷ অন্ধবার জগতে পা দেওয়া সহজ হলেও বের হওয়া অত্যন্ত জটিল উৎসাহ ৷ একবার অবৈধ কাজে জরিয়ে পড়লে ন্যায়- অন্যায়ের বোধ আর অবশিষ্ট থাকে না ৷
উৎসাহ কাঠ হেসে বলল,,, শাস্তি তো আপনাকে পেতেই হবে ৷ তবে তা দেখার জন্য আমি হয়তো আর বেঁচে থাকব না কিন্তু শাস্তি আপনি পাবেন ই ৷
নুরুল আমিন চোখের পানি মুছে বললেন,,, কি বলতে চাচ্ছ?
আমি ব্যাকআপ প্লান হিসেবে সমস্ত প্রমাণ এখানে আসার আগেই মিডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছি ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোর্স চলে আসবে আপনাকে এ'রেস্ট করার জন্য ৷ ভেবেছিলাম ওরা আসার আগেই আমি আপনার মন পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো কিন্তু আমি ভুল ছিলাম! আপনি আমার বিশ্বাস ভে'ঙে গু'ড়িয়ে দিয়েছেন! আপনাকে আমি পিতার মতো সম্মান করতাম, আপনি সেই সম্মানের মর্যাদা রাখলেন না!
নুরুল আমিন হু'ঙ্কার দিয়ে দুজন গার্ডকে ডেকে বললেন,,, একটা শুনশান জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওকে ওর জিপে বেধে পু'ড়িয়ে দাও ৷
কথাটার বলার সময় উনার গলা কেঁপে উঠল, উৎসাহের দিকে আরেকবার মমতার দৃষ্টিতে দেখে উনি অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন ৷ গার্ড দুটো উৎসাহের নিস্তেজ শরীরটা টেনে হিচড়ে নিয়ে গেল ৷ নুরুল আমিনের চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল ৷ তিনি পানিটুকু মুছে ব্যস্ত পায়ে উপরে চলে গেলেন ৷ উনাকে এখন যে করেই হোক পালাতে হবে ফোর্স এসে পৌঁছানোর আগেই ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
গার্ড দুটো একটি নির্জন জায়গায় উৎসাহকে ওর জিপ সহ নিয়ে আসল ৷ আশেপাশে ৪-৫ কিলোমিটার অবধি কোনো বসতির চিহ্ন পর্যন্ত নেই ৷ ফলশ্রুতিতে এদিকে কেউ আসার সম্ভাবনাও নেই ৷ উৎসাহ আধো আধো চোখে গার্ড দুটোর দিকে তাকাল ৷ ওরা একে অন্যের সাথে কিছু কথা বলতে বলতে জিপে কেরোসিন ঢালছে ৷ উৎসাহ দুর্বল কন্ঠে বলে উঠল,,,,
একটা অনুরোধ রাখবে আমার?
গার্ড দুটো চকিতে ওর দিকে তাকাল ৷ উৎসাহ আকুতি করে বলল,,, দয়া করে আমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করে দাও ৷ সত্যি বলছি আমি পালানোর চেষ্টা করব না ৷
গার্ড দুটো একে অপরের সাথে কিছুক্ষণ পরামর্শ করল ৷ তারপর ওদের মধ্য থেকে একজন উৎসাহের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,,,
কি ইচ্ছা বল ৷
আমার ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে বিবিজান নামে সেভ করা নাম্বারটা তে ফোন দিয়ে আমার কানে ধরো প্লিজ ৷
উৎসাহের কথা মতো লোকটা জিনিকে কল দিয়ে ওর কানে ফোন ধরল ৷ এক বার রিং পড়তেই জিনি ফোন রিসিভ করে উৎফুল্ল কন্ঠে বলে উঠল,,,
এসিপি সাহেব এখনও আসছেন না কেন? আমি কখন থেকে আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছি ৷
উৎসাহ ক্ষীণ কন্ঠে বলে উঠল,, বিবিজান ৷
ওর এমন কন্ঠস্বর শুনে জিনি চিন্তিত স্বরে বলল,,, আপনার গলা এমন শোনাচ্ছে কেন? আপনি ঠিক আছেন তো এসিপি সাহেব?
চুপ করে কিছুক্ষণ আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো বিবিজান ৷ আমার কথার মাঝে তুমি কথা বলবে না , আমার সম্পূর্ণ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি চুপ করে থাকবে  ঠিক আছে?
আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছেন এসিপি সাহেব!
আমি একজন সিআইডি অফিসার আর আমাদের সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় ৷ দেশের স্বার্থে আমাদের সর্বদা নিজের জীবন বলি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় ৷ 
জিনি অজানা আ'তঙ্কে জমে গিয়ে কম্পিত গলায় বলল,,, আপনি এসব বলছেন কেন এসিপি সাহেব?
বিবিজান দয়া করে আমার কথা সম্পূর্ণ হতে দাও ৷ তুমি একজন এসিপির ওয়াইফ ৷ তোমাকে এমন দুর্বল হলে চলবে না ৷ নিজেকে শক্ত করতে হবে ৷ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সদা নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে ৷ যখন তখন যেকোনো খারাপ সংবাদ তোমার কাছে যেতে পারে , হুশ হারালে চলবে না তোমার ৷ ঠান্ডা মাথায় সবকিছু সামলাতে হবে বুঝতে পেরেছো?
জিনি কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,,, কি বলছেন এসব? আর কেনই বা বলছেন? আপনি কোথায়? দ্রুত আমার কাছে আসুন ৷
উৎসাহ নরম কন্ঠে বলল,,, বিবিজান আমি মনে হয় আর তোমার কাছে যেতে পারব না ৷ সমাজ থেকে নি'কৃষ্ট সত্ত্বাদের বিদায় করানোর জন্য আমায় নিজের জীবন দিতে হবে!
জিনি আঁতকে উঠে বলল,,, নাহ এসিপি সাহেব ৷ এমন কথা বলবেন না , আমি ম'রে যাব!
উৎসাহ নিজের কান্না চেপে বলল,,,
   আমার চিত্তপটের সাম্রাজ্ঞী
   আমার আধার রাতের জোছনা
   আমার রাজ্যের রানী
   আমার প্রিয় বিবিজান
ভালোবাসি, অসম্ভব ভালোবাসি তোমাকে কিন্তু আফসোস সারাজীবন তোমার সাথে থাকতে পারলাম না,তোমার সাথে বৃদ্ধ বয়সে পদার্পণ করতে পারলাম না! পারলে মাফ করে দিও আমাকে ৷ একটা কথা, আমি মা'রা যাবার পর আমার স্মৃতিটুকু আকড়েই বাকিটা জীবন বেঁচে থেকো কেমন? আমি না একটু স্বার্থপর, আমার ব্যক্তিগত জিনিস আমি কারো সাথে শেয়ার করতে পারি না ৷ তোমার পাশে অন্য কাউকে সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ৷ চিন্তা করো না পরকালে আমাদের আবার দেখা হবে, আমাদের সুন্দর একটা সংসার হবে যেখানে কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না ৷ ভালো থেকো বিবিজান ৷ মা,ছোট মা , উষা ,উমাকে একটু সামলে নিও আর বাবা,ছোট বাবা, উৎকর্ষকে একটু সাপোর্ট দিও ৷ এবং সবচেয়ে বড় কথা আমার বিবিজানকে সামলে নিও, আমার বিবিজানের মুখ থেকে হাসি হারিয়ে যেতে দিও না ৷আমার হাতে আর বেশি সময় নেই বিবিজান , দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে ৷ ভালো থেকো  বিবিজান ৷ 
জিনি চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল,,, না না না ৷ আপনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন আপনি আমাকে কোনোদিন ছেড়ে যাবেন না ৷ আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না এসিপি সাহেব! আপনি নিজের ওয়াদা ভাঙতে পারেন না!
এটাই নিয়তি বিবিজান ৷ মেনে নাও ৷
আপনি বাবা হতে চলেছেন এসিপি সাহেব ৷ আমাদের সন্তানকে পিতৃহারা করবেন না! আপনাকে আমাদের প্রয়োজন ৷ আমাদের ছেড়ে যাবেন না ৷
গার্ডটি ফোন সরিয়ে নিয়ে বলল,,, অনেক হয়েছে তোর নাটক ৷ এখন ম'রার পালা ৷
জিনির শেষোক্ত কথাটা এখনও উৎসাহের কানে বাজছে ৷ ও অস্ফুট স্বরে বলল,,,
আ-আম- আমি বাবা হতে চলেছি? তাহলে তো আমি ম'রতে পারি না , আমাকে বাঁচতে হবে , আমাকে বাঁচতে হবে ৷
উৎসাহ নিজের হাতের বাধন ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল ৷ ওকে সিটের সাথে খুব শক্ত করে বেধে রেখেছে ওরা ৷ উৎসাহ নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ছটপট করতে লাগল ৷ গার্ড দুটো ধমকে উঠে বলল,,,,
একদম নড়বি না ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই পৃথিবী ছাড়তে চলেছিস তুই তাই বেশি ছটপট না করে চুপচাপ বসে থাক, কষ্ট কম হবে ৷
উৎসাহ ওদের দিকে করুন চোখে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বলল,,, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও প্লিজ ৷ আমাকে বাঁচতে হবে ৷ আমি আমার সন্তানকে অনাথ করতে পারি না! দয়া করে আমাকে বাঁচাও ভাই আমার ৷ 
গার্ড দুটোর কোনো হেলদোল নেই ৷ ওরা নিজের মতো জিপে কেরোসিন ঢেলে চলেছে ৷ উৎসাহ আকুতি করে বলতে লাগল,,
দয়া করো আমার উপর ৷ বিশ্বাস করো তোমাদের আমি এই মামলা থেকে দূরে রাখব, যত টাকা চাই সব দিব তবুও আমাকে বাঁচিয়ে নাও ৷ হাতজোড় করছি আমাকে বাঁচাও তোমরা ৷ আমাকে বাঁচতে হবে, আমার বিবিজানের আমাকে প্রয়োজন, আমার সন্তানের আমাকে প্রয়োজন! দয়া করো ৷
বলেই উৎসাহ কেঁদে ফেলল কিন্তু ওর এতো আহাজারি গার্ড দুটোর মনে সামান্য মায়ারও সৃষ্টি করতে পারল না আফসোস!
ওরা নিজের বসের কথা অনুযায়ী জিপে আগুন লাগিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করল!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
জিনি কাঁপা কাঁপা হাতে বারবার উৎসাহের ফোনে কল দিতে লাগল কিন্তু ফোন সুইচস্টপ ৷ জিনি কাঁদতে কাঁদতে বলল,,,
এসিপি সাহেব ফোন ধরুন ৷ আমার সাথে বেইমানী করতে পারেন না আপনি!
বারবার ব্যর্থ হওয়ায় জিনি দৌঁড়ে উৎকর্ষের দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল ৷ উৎকর্ষ সবেমাত্র একটু ঘুমানোর চেষ্টা করছিল তখনই জিনির কন্ঠ শুনে দ্রুত এসে দরজা খুলে দিয়ে বলল,,,
কি হয়েছে পিচ্চি ভাবী?
উ-উনি উনি বিপদে পড়েছেন ৷ উনাকে বাঁচান ভাইয়া ৷ আমার কাছে নিয়ে আসুন উনাকে ৷
বলেই জিনি জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করল ৷ উৎকর্ষ হতভম্ভ হয়ে বলল,,,
ভাইয়ের কি হয়েছে পিচ্চি ভাবী?
জিনির কান্নার শব্দে সকলেই দোতলায় চলে আসল ৷ জিনি কাঁদতে কাঁদতেই উনাদের সবকিছু বলল ৷ সবকিছু শোনামাত্রই উৎকর্ষ লম্বা লম্বা পা ফেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল ৷ উষা জিনিকে ধরে ওঠাল ৷ তারপর সবাই মিলে ড্রয়িংরুমে চলে গেল ৷ উর্মিলা রহমান আর মিতা ইয়াসমিন মুখে আঁচল গুজে নিঃশব্দ কাঁদছে ৷ উমায়েত আর উসায়েত ফারুকী স্থির চিত্তে সোফায় বসে আছে ৷ উষা আর উমা জিনিকে শান্ত করার চেষ্টা করতেছে ৷ উষা জিনিকে ধরে বলল,,,
কাঁদিস না জুলিয়েট ৷ দেখিস ভাইয়া সুস্থ শরীরে ফিরে আসবে ইং শা আল্লাহ ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সারারাত সবাই ড্রয়িংরুমে বসে কাটিয়েছে ৷ জিনি এখনও কেঁদেই চলেছে ৷ ভোরের দিকে রিফাত সহ উৎকর্ষ চলে আসল ৷ উৎকর্ষ এলেমেলো চোখে রিফাতের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ৷ সবাই ছুটে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল ,,
উৎসাহ কোথায়?
রিফাত মৃদু স্বরে বলল,,, স্যার আর নেই ৷
বলেই রিফাত কাঁদতে লাগল ৷ কথাটা শোনামাত্রই জিনির কান্না থেমে গেল ৷ উমায়েত ফারুকী বুকে হাত দিয়ে সোফায় ধপ করে বসে পড়লেন ৷ বাকি সবাই জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করল ৷ উৎকর্ষ এখনও অবিচল ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ৷কিন্তু জিনি কাঁদছে না, ও ফ্যাল ফ্যাল করে সবার দিকে তাকাতে লাগল ৷ তারপর মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল ৷ 
চলবে,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন