ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লাডিং হার্ট

১২তম পর্ব

লেখক: স্বপ্নীল সৃজনী
#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ১২
কি অপূর্ব চাঁদ। পূর্ণ থালার মতো রাতের আকাশে রাজত্ব করছে। নিজের অপরূপ শোভা দিয়ে কি সুন্দর মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করছে। কেউ বিষাদের উপমায় উপমিত করছে; আবার কেউ ভালোবাসা প্রতীক  হিসেবে চাঁদকে স্বাক্ষী করছে। একটাই চাঁদ অথচ একেক জনের জন্য একেক রকম।
কথা গুলো ভেবেই হৃদ  মনে মনে বললো-"আজ কাল কি হচ্ছে আমার সাথে। কই আগে তো এসব নিয়ে এতো ভাবিনি। তবে এখন এমন হচ্ছে কেন?"
আকম্মিক ফোন বেজে উঠায় হৃদ সব ভাবনা পাশে ঠেলে ফোনটা কানে ধরে হৃদ বললো-" হ্যাঁ জাবিদ বলো।"
-................
-হুম ঘুঘু তাহলে দেশে ফিরছে। ওকে তুমি তোমার কাজ করতে থাকো।
-................
-হুম। ঘুঘু ধরতে হলে তো বড়সর ফাঁদ পাততেই হবে। এখন রাখছি পরে কথা হবে।
________
কথা বলা শেষ হলে প্রায় আধা ঘন্টা হৃদ ছাদের রেলিংয়ের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইল। চোখে ঘুম টাও তেমন নেই। রাত গভীর হয়ে আসছে। নিকষ কালো রাতে পূর্ণ রূপে সেজে উঠেছে দ্বীপ্তিশীলা চাঁদ। হঠাৎ  করেই বাড়ির বামপাশে বাগানের দিকে একটি কালো ছায়া দেখতে পেল হৃদ। দ্রুত ছাদ থেকে নেমে বাগানের দিকে গেল হৃদ।
........................
হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙ্গে যায রিধির। বাইরে জ্যোৎস্নায় মম করছে চারিদিকে। বাগানের দিকে চোখ পড়তেই সে দেখতে পেল বাগানের তার প্রিয় অলকন্দা ফুল ফুটেছে। ফুলটা দেখে খুশিতে মন  ভরে গেল রিধির। বেলি ফুল আর অপরাজীতার মিষ্টি ঘ্রাণে আর ঘরে থাকতে পারলো না রিধি। বাগানে যে আজ ফুলে মেলা বসেছে। তার সাথে এক দিকে লাজুক চাঁদের পাশে আকাশের বুকের মিটিমিটি তাঁরকারাজি যেন খিলখিল করে  হেসে ঝরে পরছে। সেই সাথে ঝরে পরছে তারাঝরা ফুল গাছটির মিষ্টি  স্নিগ্ধ ফুল গুলো। বাগানে এসেই সন্ধামালতি গাছ থেকে একটি ফুল ছিড়ে কানে গুজে নিল রিধি। দূর্বাফুল গুলো ছুয়ে দিতে দিতে বললো-'"
           ।।আমার রাত্রি জাগা তারাঝরা
            অপরাজিতা ঘ্রাণে মোরা
            অলকন্দা পাগল করা
            দূর্বাফুল আর নয়ন তারা।।"
     
-"এই রাত্রি বেলায় বাগান বিলাশে এতোই মগ্ন যে আমাকে দেখতেই পাচ্ছিস না।"
 হৃদের কথা শুনেই ছন্দের ইতি টানলো রাধি। হৃদের দিকে তাকিয়ে বললো-" আপনি এখানে। কখন এসেছেন?"
 
 -" এসেছি অনেকক্ষণ। কিন্তু তুই বাগান বিলাশে এতোই ব্যস্ত ছিলি আমাকে খেয়ালই করিছ নি। আমি তো দূর থেকে ভাবছিলাম তোর উপর আবার কোনো জিন ভর করলো কিনা। পরে ভেবে দেখলাম তুই তো নিজেই পেত্মি তোকে আর কিসের জিনে ধরবে। উল্টো তুই জিনের উপর ভর করলেও করতে পারিস।"
কথাটা বলেই একটা হাম দিল হৃদ।
 রিধি হৃদের দিকে তাকিয়ে বললো-" দিলেন তো মেজাজটা খারাপ করে। কি সুন্দর একটা মুডে ছিলাম। কিন্তু  আপনার  তো সহ্য হলো না। আমার ভালো তো আপনি দেখতে পারেন না কখনো। আমার মুড খারাপ করতে ঠিকই চলে এসেছেন।"    
-" আসছে মুডওয়ালা । তোর মুড ধুয়ে তুই  পানি খা যত্তসব। "
কথাটা বলে হৃদ ঘরের দিকে রউনা দিল।
 একটু পথ যেয়েই রিধি কে বললো-" চল আইসক্রীম খেয়ে আসি।"
 রিধি মনে মনে বললো-" এর আবার কি হলো। এখন তো আমার মনে হচ্ছে একে আবার জিনে ধরলো কিনা। ওহ না। পরিতে ধরছে কিনা। বলা তো যাই না দেখনে তো ভালোই। ধরতেই পারে। এতো ভালো করে কথা বলছে। নিশ্চয়ই কোনো ঘাপলা আছে।"
 
 -"কি হলো ভাবনার জগত থেকে এবার বাস্তব জগতে আয়।যাবি নাকি না। "
 
রিধি চোখ দুটো বাঁকা করে বললো-" কি হলো ব্যাপারটা হঠাৎ আমার প্রতি এতো সদয়।'"
 -" কোনো ব্যাপার,ট্যাপার কিচ্ছু নেই। যতই হোক একটা মাত্র বউ রাগ করলে কি মানায় নাকি তাই আইসক্রিমের অফার দিলাম। এখন ভাব কি করবি।"
 
 রিধি একটু ভেবে বললো-"ধুর রাখেন তো আপনার বউ।তবে আইসক্রীমের কথা যখন বলছেন; না তো করতে পারি না। ওকে যাব । তবে একটা কথা।"
 -" কি কথা।"
 -" আমরা  বাড়ির কোনো গাড়ি নিয়ে যাব না। আর গেইট দিয়ে যাব না।"
 -" আজব  তাহলে কোথা দিয়ে যাব।"
 
রিধি হাত দিয়ে দেখিয়ে হাসি দিয়ে বললো
 -" কোথা দিয়ে আবার প্রাচীল টপকে।"
 -হোয়াট রিধি। আর ইউ লস ইউর মাইন্ড। আমি ইউ মিন আমি রিশাদ চৌধুরী হৃদ  যাবে প্রাচীল টপকে আইসক্রীম খেতে। তাহলে গেইট কেন আছে।'"
 
 -" আচ্ছা বলুন তো কথায় কথায় আপনি রিশাদ চৌধুরী হৃদ বলে কি পান। নাকি নিজের নাম ভুলে যান। আপনার নাম যে রিশাদ চৌধুরী হৃদ আমি সেই ছোট্ট বেলা থেকেই জানি বারবার বলার দরকার নেই। "
 -" তুই বাচ্ছা পুলাপান বুঝবি না।"
 
 -" হুম আইছে বুইড়া ব্যাটা যত্তসব। রাজি হলে বলেন না চললাম।"
 -"আরে আজ আমি নিজে বলছি আইসক্রীম খাওয়ার কথা আর তুই এমন শুরু করছিস। গেইট দিয়ে চল।"
 -" আরে আপনি এক্সপেরিয়েন্স জিনিসটাই বুঝেন না। গেলে চলে না খেলে নাই। আমি ঘরে গিয়ে ঘুমাই।'"
 হৃদ মাথার চুল গুলো টেনে ধরে বললো-" ওহ আল্লাহ। কার পাল্লায় পরলাম। সবাই আমার কথা শুনতে বাধ্য হয়। আর আজ আমাকে এর কথা শুনতে হচ্ছে।'"
  রিধি তখন  স্টাইল করে দাড়িয়ে বললো-" হুম। ভুলে যাবেন না আমাদের শরীরে একই বংশের রক্ত বইছে।"
............
.............
প্রাচীল টপকে নিচে নামলো হৃদ।রিধি অনেক আগেই নেমে গেছে। অনেক দিনের অভ্যাস কিনা। তাই সময় লাগেনি। কিন্তু হৃদের খানিক সময় লাগছে। হৃদের সময় লাগছে দেখে রিধি বললো-" হলো আপনার  আসুন।দেরি হচ্ছে তো।"
হৃদ বিরক্তির স্বরে বললো-" আরে আসছি তো।"
তখনই হৃদ হালকা আর্তনাদ করে উঠলো। এগিয়ে গিয়ে দেখলো হৃদের হাতে কেটে গেছে। রিধি হাতটা ধরে বললো-" একি। হাতটা কাটলো কি করো।"
-" কি করে আবার তুই আর তোর স্টুপিড আইডিয়ার জন্য।"
-" এই নাকি আপনি কতৌ বড় অফিসার। সামান্য প্রাচীল টপকাতে পারেন না ছিঃ  ছিঃ।"
-"রাখবি তোর ফাউল কথা।"
-" ওকে রাখলাম। আপনার রুমাল টা দিন।'
-" রুমাল দিয়ে কি হবে?"
-" হাতে বেধে দিব।"
-" আমার রুমালে রক্ত লাগানো যাবে না। তোর উড়না ছিড়।"
-" একদম না। এই উড়নাটা আমার অনেক ফেভব্রেট। ছিড়লে আর ইউজ করা যাবে না।এটা আমি একদম দেব না।"
-" ওকে তোর দিতে হবে না। আমি নিয়ে নিচ্ছি।"
-" অ্যা.....। এটা কি করলেন আপনি। আপনি সবসময় আমার প্রিয় জিনিস নিয়ে টানাটানি করেন।"
-" সামান্য উড়নার জন্য এমন করতে হয়। মাসে মাসে তো টাকা নিজেই ইনকাম করিছ কই রাখিস সেগুলো কিপটুস কোথাকার''
-" এই যে একদম আজেবাজে কথা বলবেননা।আমি কিপটুস হলে আপনি কি। আস্ত একটা খবিস। যাবোই না আমি আইসক্রীম খেতে।আপনি অনেক খারাপ।'"
 হৃদ তখন রিধির হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো আর বললো-" এতো কষ্ট  করে প্রাচীল টপকালাম। যাবি না মানে। তুই যাবি সাথে জামাইও যাবে। চল।"
 
 -" হাহাহাহাহা। আপনিই তো আমার জামাই।"
 
 -" হিহিহি করে হাসি বাদ দে । চুপ চাপ চল। হাসতেও দেড়ি হয় না আবার কান্না করেও দেড়ি হয় না। ড্রামাকুইন।"
.............
..........................
প্রায় আধা ঘন্টা ধরে ফাঁকা রাস্তায় হাটছে রিধি আর হৃদ। কিন্তু কোনো জন মানবের দেখা নেই।
-" কিরে তোর আইসক্রীমের দোকান কই। কতোক্ষণ ধরে হাটছি কোনো কিছুর তো দেখা নেই।"
-"আসলে।"
-"এখন। যদি বলিস যে দোকান বন্ধ হয়ে গেছে তাহলে তোকে আমি কি করবো নিজেও জানিনা।"
-"আরে ঐ তো দোকান খোলা।"
হৃদ সামনে তাকাতেই। রিধি পিছনের দিকে দিল দৌড়। আর হাসতে হাসতে বললো-" দোকানদার দের তো আর খেয়ে কাজ নেই এখনো বসে থাকবে আপনার  জন্য। ঐ দিন আমি এগারোটাই আসছিলাম।আর আজ দুইটা বাজে। আপনার সাথে ঝগড়া করেই তো দেড়ি হলো। এখন আপনিতো তা মানবেন না। জান বাঁচানো ফরজ। আপনাকে আমার এক ফোঁটাও বিশ্বাস হয় না। আমাকে মেরে কখন আবার গুম করে দেন দোকান বন্ধের দায়ে। তা থেকে পালানোই উত্তম কাজ।"
হৃদ তখন উচ্চ স্বরে বললো-" তুই কি ভাবছিস পালালেই তুই বেঁচে যাবি। একদম না।"
...........
......................
সকাল বেলাই ঘুম থেকে উঠে অবাক রিধি। পাশেই টেবিলের উপর একটা সুন্দর উড়না আর এক বক্স আইসক্রীম রাখা। উঠেই টেবিলের কাছে গেল রিধি। সেখানে নীল রঙের একটা চিরকুট রাখা। রিধি চিরকুটটা খুলে দেখতে পেল-
        .......... আইসক্রীম আর তোর ফ্রেলব্রেট ব্যান্ডের উড়না। রিশাদ চৌধুরী হৃদ কারো ধার রাখে না। আশা করি পুসে যাবে। আর এগুলো এতো সকালে কোথা থেকে এনলাম। কিভাবে আনলাম এতো কিছু ভাবার দরকার নেই। মনে রাখিস আমি সব পারি। সো রিশাদ চৌধুরী হৃদের অবাধ্য হলে কপালে শাস্তি নেমে আসবে। স্বাধীনভাবে আকাশে উড়াউড়ি বন্ধ করে দেব একমদ।  কথা যেন মাথায় থাকে।  মাইন্ড ইট।.........
রিধি চিঠি রেখে বিরবির করে বললো-" বুঝলাম না। গিফ্ট দিল না হুমকি।"
 ধুর সে যাইহোক।আমি আগে আমার আইসক্রীম গুলো ফ্রিজে রেখে আসি বাঁকি টা পরে দেখা যাবে।
#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন