#ব্লাডিং_হার্ট
#স্বপ্নীল_সৃজনী
পর্ব: ৩০
এক পশলা দমকা হওয়া ছুঁয়ে দিচ্ছে রিধিকে। মন ছুঁয়ে যাচ্ছে অজানা ভালোলাগায়। মরুর বুকে বহুল কষ্টের পর হঠাৎ পানির দেখা পেলে যেমন লাগে কিংবা নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা হারিয়ে যাওয়ার পর আকম্মিক তার প্রাপ্তির যেই অনুভূতি হয়। সেই যে অনুভূতি প্রকাশ করতে পারা যায় না শুধু মনষ পটের অনুভূতি ঘরে নিরবে নিশ্চুপে তার অনুভব করা যায়। তখন হয়তো অনুভূতির পাল্লা সাময়িকের তুলনায় বেরে যায় শতগুন। ঝড়ের বেগে হন্যে হয়ে তুফান তোলে হৃদ যন্ত্রে। যা শব্দে প্রকাশ করার ক্ষমতা হয়তো পাচ্ছে না রিধি। শুধু জ্বরের ঘোরে মানব মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন একটা সিগনালই প্রেরণ করছে " সে এসেছে। সে কথা রেখেছে। হ্যাঁ, সত্যিই সে এসেছে। তার ছোঁয়া চিনতে ভুল করবে না রিধি। কখনোই না।"
অনুভূতিরা দলা পাকাতে শুরু করলো রিধির মনের গহীন ঘরে। মূল্যবান কিছুর এমন অজাচিত প্রাপ্তিতে দুকরে কেঁদে উঠলো রিধি। ঠোঁটে দাত চেঁপে কান্না থামানোর চেষ্টা করলো রিধি।
রিধির মলিন মখশৃ দেখে তোলপাড় শুরু হলো হৃদের বক্ষস্থলে। রিধির নিশ্বাসের প্রতিটি শব্দ হৃদকে এক একটা অভিযোগ প্রকাশ করছে যেন। মনের ঘরে রক্তক্ষরণ শুরু হলো হৃদের। বুকে জড়িয়ে নিল রিধি ছোট্ট মলিন জ্বরে জর্জরিত দেহখানি। হৃদের বুকে আশ্রয় পেয়ে যেন রিধির কান্নার গতি বেড়ে গেল। ছোট হাত দিয়ে খামছে ধরলো হৃদের শার্ট। হৃদের হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্পের ক্ষমতা যেন বেড়ে গেল কয়েক গুন। "এ কেমন অনুভূতি" তা যানে না হৃদ। শুধু জানে এই ছোট্ট দেহখানিতেই তার সমস্ত প্রশান্তি। রিধির শরীরের গরম তাপমাত্রা হৃদের বক্ষপিঞ্জর যেন টেনে নিতে লাগলো। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লো হৃদের প্রতি কোষ থেকে কোষান্তরে। যা হৃদের শরীরের তাপমাত্রাও বাড়িয়ে দিল ক্ষানিকের মধ্যে । ঘাম বের হতে লাগলো হৃদের কপাল বেয়ে। তবুও রিধিকে ছাড়লো না হৃদ। রিধিকে নিজের বুকে রেখেই বসে রইলো হৃদ।
কান্না করতে করতে হেচকি তুলে ফেললো রিধি। চোখের পানি, নাকে পানি মিলে একাকার হয়েছে একদম যার শেষ ঠিকানা হয়েছে হৃদের শার্ট। কান্না থামলেও হৃদকে শক্ত করে জড়িয়ে থাকলো রিধি। অতিরিক্ত কান্নার ফলে নাক দিয়ে পানি পড়া ব্যাহত রইল। যার ফলে একটু পর পর নাকে টেনে বাচ্চা দের মতো হেচকি তুলতে লাগলো রিধি। চোখ মুখ লাল হয়ে গরম হয়ে গেছে। তবুও চোখের বর্ষণ আবারও ঝরতে লাগলো নিরবে।
এবার হৃদ আর চুপ থাকতে পাড়লো না। রিধির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শান্ত স্বরে বললো-" আমি কী চলে যাবো আবার। এমন করলে চলে যাব কিন্তু "
হৃদকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রিধি।রিধির হাতের খামচি লেগে রক্ত বের হয়ে গেল হৃদের বুক থেকে। তবুও একচুল নড়লো না হৃদ। মুখে ভঙ্গিমাও চেঞ্জ করলো না। উল্টো মুচকি হাসলো হৃদ। রিধির হেচকি তোলা বাড়তে দেখে রিধির মাথায় চুমু খেল হৃদ। এলোমেলো চুল গুলো ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে দিতে দিতে হৃদ
বললো-" আর কাঁদে সোনা। এবার তো আমি এসে গেছি। আর কখনোই এমন করবো না প্রমিজ। আচ্ছা তুমিতো অবুঝ ছিলে না। এমন করলে কী হয়। এতো কাঁদলে জ্বরের সাথে এখন ঠান্ডা আর মাথা ব্যথাও যোগ হবে। "
অভিমানের পাল্লা ভাড়ি হলো রিধির। হৃদ কেন বুঝে না তা অনুপস্থিতিতে তেজি রমনীও ভেঙ্গে গুড়িয়ে যায়। প্রতিনিয়ত নিশ্বাসরা তার সাথে লুকোচুরি খেলে। মনে হয় এই বুঝি নিশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা হাড়ালো রিধি। কিন্তু হৃদ কী তা বুঝতে পারে না। হৃদের শার্ট ছেড়ে দিয়ে চোখের পানি মুছে নিজেকে হৃদের বন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিলো রিধি। হৃদকে ছাড়িয়ে বিছানায় সুয়ে পড়লো অন্যপাশে ঘুরে।
মুচকি হাসলো হৃদ। বাইরে থেকে এসে ফ্রেসও হয়নি হৃদ। রিধির অভিমান ভাঙ্গাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু এতো আরও বেড়ে গেল। না পেরে হৃদও রিধির পাশে সুয়ে পড়লো। হাত বাড়িয়ে রিধিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো হৃদ। রিধির কাঁধে উষ্ণ নিশ্বাস পড়ছে হৃদের। নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলো রিধি কিন্তু হৃদের সাথে পেড়ে উঠলো না। পরপর তিন বার রিধির কাঁধে অধর ছুঁইয়ে
হৃদ বললো-" রাতে ঔষুধ খাওয়া হয়েছে ম্যাডাম।"
জবাব দিল না রিধি। আবার হৃদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো।
-" আচ্ছা কেন মিছে মিছে নিজের এই দূর্বল শরীরটাকে কষ্ট দিচ্ছো। আরও দূর্বল হয়ে পড়বে তো নাকি।"
এবার আর চুপ করে থাকতে পারলো না রিধি। ভাঙ্গা গলায় আস্তে আস্তে বললো-" আমি কষ্ট পেলে আপনার কী? আমি দূর্বল হলে আপনার কী? কেন এসেছেন? "
-"তুমি আমার একটা মাত্র বউ। আমারই তো সব নাকি। তোমার কাছে আসতে আমার কোনো কারণ লাগে না। আমার যখন ইচ্ছে মন বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেব তোমাকে, যখন ইচ্ছে হাত বাড়িয়ে আগলে নেব বুকে। কে বাধা দেবে শুনি।"
রিধি অভিমানী গলায় কান্না আটকে বললো-" হুম। আর যখন ইচ্ছে পুড়িয়েও দেবেন।"
মুচকি হাসলো হৃদ। রিধিকে জোর করে নিজের দিকে ঘোরালো। বিশ্বজগতের কাছে যে তেজময়ী কখনো কোন বিপদকেও ভয় পায় না। সেই তেজস্বী তার সাথে কেমন অভিমান এটে বসে আসে। কেমন করে ক্ষণেক্ষণে জ্বরে মাঝেও রাগ দেখাচ্ছে, নিজের অভিযোগ জাহির করছে সন্তরপনে, অভিমান গুলো পুষে রেখে কেমন নিজেকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে তার থেকে।
রিধিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে কাপালে অধর ছোঁয়ালো হৃদ। আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেললো রিধি। মলিন মুখটাও তার আবেশে নিজেকে কেমন গুটিয়ে ফেলছে লজ্জার আভায়। চোখ বন্ধ করে আছে রিধি। তবুও সে অনুভব করতে পারছে হৃদ তাকেই অপলক দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে। এবার নিজে থেকেই হৃদের বুকে মুখ লুকানোর চেষ্টা করলো রিধি।
হৃদ রিধির কানে অধর ছোঁয়ালো। রিধি আবারও হৃদের শার্ট শক্ত করে খামচে ধরলো। এখন আর কান্না করছে না রিধি। হেচকি তোলাও বন্ধ হয়ে গেছে। তবে জ্বরের তাপ কমার নাম নেই। হৃদ রিধির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো
-" হুম। প্রয়োজনে আমিই প্রতিদিন পুড়াবো তোমাকে। সেই অধিকারও শুধু আর শুধু আমার। আর কারো নেই সেই অধিকার। এমনকি তোমার নিজেরও না মহারানী। মহারাজ তোমার উপর খুব অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তুমি বৃষ্টিতে ভিজে নিজেকে কষ্ট দিয়েছো। সেই শাস্তি তোমাকে পেতে হবে। জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে তোমার ছোট্ট দেহ খানি। সেই সাথে ঝলছে যাচ্ছে আমার সর্বাঙ্গ। নিশ্বাসের উঠানামা হচ্ছে প্রতিটি সেকেন্ড।"
হৃদের কথার জবাব দিলো না রিধি। নিজের অভিযোগ পেশ করে বললো
-" আপনি কেন আমাকে না বলে চলে গেলেন? কে আমাকে ফোন করে জানালেন না? কেন একটা ম্যাসেজ পাঠালেন না?সেদিন না হয় আপনি আমার ঘুম ভাঙ্গাতে চাননি বলে ডাকেনি। তবে কেন আমার ঘুমন্ত মুখশৃর দিকে তাকিয়ে একটা অজাচিত অগোছালো চিঠি লিখে গেলেন না। আপনি জানেন এই সাতটা দিন আমার কীভাবে কাটছে। প্রতিদিন আমি অপেক্ষায় থেকেছি। দরজার দিকে তাকিয়ে থেকেছি,ভেবেছি এই বুঝি আপনি আসবেন। সকাল - বিকাল ছাদে গিয়ে গেইটের দিকে নিসাড় চোখে তাকিয়ে থেকেছি ভেবেছি এই বুঝি আপনি আসবেন। এই বুঝি আমাকে জড়িয়ে ধরবেন। কিন্তু আপনি আসেন নি। আমি কিন্তু এতটাও অবুঝ না। আমি খুব ভালো করেই জানি আপনি চাইলেই আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন। কিন্তু আপনি ইচ্ছে করে আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। তার বেলা, তার বেলায় কী শাস্তি দেব আপনাকে।"
রিধির হাতের ভাজে হাত রাখলো হৃদ। রিধি স্তব্ধ, শান্ত। জ্বরের ঘোরে এতোক্ষণ কেঁপে কেঁপে উঠছিল রিধি। কিন্তু এখন আর কোন নড়াচড়া করছে না। বিড়ালের বাচ্ছার মতো হৃদের বক্ষপিঞ্জরে নিজের তাপমাত্রা ছড়িয়ে দিচ্ছে। হৃদ ঠোঁট কামড় প্রশান্তির নিশ্বাস ছেড়ে বলল
-" তো এখন বুঝেছো যখন তিন তিনটা মাস তুমি আমার থেকে দূরে ছিলে তখন আমার কেমন লাগছে।"
রিধি শুকনো গলায় বললো
-" আমি তো অসুস্থতার জন্য ছিলাম।'
তৎক্ষণাৎ হৃদ বললো
-" আমিও তো কেস হ্যান্ডেল করতে গেছিলাম।"
-" হুম প্রতিশোধ নিলেন।"
-" একদম না। এতো বড় কলিজা হয়নি এখনো আপনার মহারাজের। আপনার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে গেলে মহারাজই যন্ত্রণায় জর্জরিত হবে। যে যন্ত্রণা অসহনীয়।"
-" তাহলে এমন করলেন কেন?"
-" যদি বলি তোমাকে পুড়াতে।"
-" মানে।'
-" আমার কষ্টে তোমাকে পুড়াতে চেয়েছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে তোমাকে দগ্ধ করতে চেয়েছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম আমার অনুপস্থিতি তোমাকে কতটুকু যন্ত্রণা দেয়। নাকি আদোও দেয় না।"
-"হুম। তো কী বুঝলেন এখন। নিজে তো খুব ভালো ছিলেন।"
-" তোমাকে ছাড়া আমার অনুভূতি বর্ণনা যোগ্য না। শব্দ- ধ্বনি ব্যর্থ হবে সে অনুভূতি প্রকাশে তাই সে কথা এখন বাদ থাক। তুমি ঘুমাও। কালকের মধ্যে সুস্থ হতে হবে। না হলে পাশের রাস্তার পানাপুকুরে ফেলে আসবো।"
রিধি ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে হেসে বললো-" ফেলে আসতে পারবেন।"
-" আর একটা কথা বললে এখনই ফেলে আসবো। এই কয়দিন ভালো করে ঘুমাতে পারি নি তোমার যন্ত্রণায়। খালি মাথায় ঘুরঘুর করছো। এখন ঘুমাও।"
রিধি ঘুমানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু ঘুম আসছে না। কেমন অস্থির অস্থির লাগলছে।
-" আমাকে ছেড়ে ঘুমান। এতো শক্ত করে চেপে ধরছেন কেন। আমার হাড়- গোড় ভেঙ্গে যাবে শেষে। দূরে গিয়ে ঘুমার কেমন অস্থির লাগছে।"
হৃদ চোখ বন্ধ করেই বললো-" এভাবেই ঘুমাও। এটা বৃষ্টিতে ভিজার শাস্তি।এখন অস্থির লাগলেও একটু পর ভালো লাগবে জ্বর কমে যাবে।"
শেষে নিরুপায় হয়ে সে ভাবেই ঘুমালো রিধি। কারন আর কিছু করার নেই। আর বলেও কাজ হবে না।
........................
সকাল বেলা রিধির আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়েছে হৃদ। ঘুম থেকে উঠেই শাওয়ার নিয়ে টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে ঘরে এলো হৃদ। কালই শাওয়ার নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু রিধির জ্বর দেখে তার কাছ থেকে নড়ে নি। আর অভিমান তো সপ্ত আকাশ সমান ধারণ করেছিল। তবুও সবটা পুষে রাখবে। সহজে প্রকাশ করবে না।
এখন জ্বর একটু কমেছে। রিধির বাবা, মাও এসেছিলেন সকালে মেয়েকে দেখতে। কিন্তু দরজা খুলে হৃদকে দেখে রিধির মাথার কাছে বসে আসে। কখন ফিরেছে জিঙ্গেস করলে হৃদ সব বলে। তারপর অয়না চৌধুরী চলে যায় হৃদের জন্য খাবার বানাতে। আর অয়ন চৌধুরী মেয়ের কাছে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। মাথায় হাত দিয়ে বুঝলেন জ্বর এখন কমে এসেছে। তাই হৃদকে বললেন ফ্রেস হয়ে নিতে।কালকের শার্টও চেঞ্জ করেনি হৃদ। হৃদ শাওয়ার নিয়ে আসতেই অয়ন চৌধুরী চলে গেলেন। হৃদ নিজের ভেজা টাওয়াল দিয়ে রিধির চোখ; মুখ মুছিয়ে দিয়ে, হাত, গলা মুছিয়ে দিতে লাগলো।
ঠান্ডা কিছুর স্পর্শে দড়ফড় করে উঠলো রিধি।ভ্রু কুচকে বললো-" কী করছেন শীত করছে তো।"
হৃদ নিজের কাজ অব্যাহত রেখে বললো-" করুক। একটু পর ভালো লাগবে।"
রিধি কপালে ভাজ ফেলে হৃদের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে রইলো। নিজের কাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হলো গেল হৃদ। রিধি ফ্যালফ্যাল করে হৃদের যাওয়া দিকে তাকিয়ে রইলো।
মিনিট দুয়েক পর প্লেট হাতে ঘরে এলো হৃদ। প্লেট বেড সাইট টেবিলে রেখে রিধির দিকে তাকিয়ে বললো-" খাবার খেয়ে, ঔষুধ খেতে।"
রিধি বিরক্তিকর স্বরে বললো-" আমার খেতে ইচ্ছে করছে। কেমন মাথা ঘুরাচ্ছে।"
হৃদ রাগান্বিত চোখে রিধির দিকে তাকালো। রিধি ঢোক গিলে মুখে মিথ্যে হাসি ফুটিয়ে বললো-" আরে ওভাবে তাকাচ্ছেন কেন। আমি তো বলতে চেয়েছিলাম আমি ফ্রেস হইনি। আচ্ছা আমি ফ্রেস হয়ে আসছি।"
শেষের কথাটা বলেই বিছানা থেকে নেমে গেল রিধি। কিন্তু সামনের দিকে কদম ফেলার আগেই মাথা ঘুরে উঠলো তার। হৃদ গিয়ে রিধিকে ধরে ফেললো।
-" এতো তাড়াহুড়ো কিসের হ্যাঁ। আমি তো আছি নাকি।"
রিধি আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই হৃদ রিধিকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াসরুমের দিকে নিয়ে গেল। আর রিধি হতবম্ভের ন্যায় চমকিত চোখে হৃদের দিকে তাকিয়ে রইলো। হৃদ রিধিকে পিঞ্চ করে সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে
বললো-" এভাবে তাকিয়ে থেকো না। নজর লেগে যাবে তো। নজর লাগলে আবার তোমারই প্রবলেম।"
রিধি এমন কথায় লজ্জায় নুইয়ে গেল রিধি। দৃষ্টি সরিয়ে নিল অন্যদিকে । হৃদ যে এভাবে বললে ধারনাও করতে পারেনি সে। রিধিকে লজ্জা পেতে মুখের হাসি প্রগাঢ় হলো হৃদের। ওয়াশরুমে গিয়ে রিধিকে দাড় করিয়ে দিল হৃদ। রিধির হাত, মুখ ধোয়া শেষ হলে আবারও রিধি কে কোলে তুলে নিলো হৃদ। এবার আর হৃদের দিকে ভুলেও তাকালো না রিধি।
রিধিকে বিছানায় বসিয়ে নিজ হাতে যত্ন করে খাইয়ে দিল হৃদ। হৃদের লাল লাল চোখের দিকে তাকিয়ে
" না" বলার সাহস করে উঠতে পারে নি রিধি। রিধিকে খাইয়ে, নিজে খেয়ে প্লেট ধুয়ে টেবিলের উপর রেখে দিল হৃদ।
ড্রয়ার থেকে ঔষুধ বের করে খাইয়ে দিল। সাথে একটা ঘুমের ঔষুধ ও দিল। সারারাত তেমন ঘুমাতে পারেনি রিধি। এখন গভীর ঘুম দরকার রিধির। ঔষুধ খেয়ে সুতেই ঘুমের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেল রিধি। হৃদও রিধির পাশে সুয়ে পরলো। মাথায় তার বিভিন্ন চিন্তা ঘুরছে।
তবুও রিধিকে জড়িয়ে নিয়ে চোখ বন্ধ করলো। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে হৃদও হাড়িয়ে যায় গভীর ঘুমে। সময় গড়িয়ে সকাল থেকে দুপুর হলো। হৃদ উপরে আসার আগে বলে এসেছিল তাকে যেন কেউ ডিসটার্ব না করে। আর রিধিকে নিয়ে যেন চিন্তা না করে সে রিধির কাছে আছে। তাই আর কেউ তাদের ডাকেনি।
ফোনের ভাইব্রেটে ঘুম ভাঙ্গে হৃদের। বিরক্তি নিয়ে ফোনটা হাতে নেয়। এই সময় আবার কে কল করলো। ঘুমানোর আগে ফোন অফ করতে ভুলে গেছিলো হৃদ। মাঝে মাঝে এসব চিন্তা জগৎ, ডিউটি, রেসপনসিবিলিটি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার ফোন অফ করে ঘুমানো ছোট্ট একটা টেকনিক হৃদের।
ঘুমঘুম চোখে ফোন রিসিভ করে কানে ধরলো হৃদ। খটখটে মেজাজে বললো-' হ্যাঁ জাবিদ বলো।
-..............
-" ওকে। আমি আসছি। তুমি ইমিডিয়েটলি শহরে রেড এলার্ট জারি করতে বলো, আর চেক পোস্টের ব্যবস্থা করো, বিভিন্ন বাস স্টপে পুলিশ পোস্টিং এর ব্যবস্থা কর। একটা গাড়িও যেন উইট আউট চেক বাইরে যেতে না দেওয়া হয়। এয়ারপোর্ট এরিয়াতে সিকিউরিটি সিস্টেম বাড়াতে বলো। প্রয়োজনে পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা কর আমি আসছি।
#চলবে.......