ফন্ট সাইজ:
থিম:
আবরণ

১০ম পর্ব

লেখক: সাহারা জান্নাত মুমু

#আবরণ

#সাহারা_জান্নাত_মুমু

#পর্ব_১০

অফিসে প্রবেশ করতেই কৃত্রিম ঠান্ডা হাওয়া তার পুরো শরীর শীতল করে দিল। তার কানে সেই পরিচিত কোলাহলটা ভেসে এলো।

কীবোর্ডের শব্দ, কারও হালকা হাসি, কারও ফোনে কথা বলা, সব মিলিয়ে একদম সাধারণ একটা দিন বলেই মনে হচ্ছে ফারিবার।

কিন্তু আজও সেই “সাধারণ” শব্দটার ভেতরেই কোথাও যেনো ফারিবা নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না। সে নিজের ব্যক্তিত্ব কে দিন দিন হারিয়ে ফেলছে।

ধীরে নিজের ডেস্কে এসে বসলো সে।

ব্যাগটা পাশে রেখে কিছুক্ষণ চুপচাপ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তার এখন কাজ শুরু করার কথা

তবুও যেনো তার আঙুলগুলো আজ জোর পাচ্ছে না, কীবোর্ডে টাইপ করার শক্তি পাচ্ছে না।

চুপ করে বসে রইলো অনেটা সময় জুড়ে, তার আজ কাজের প্রতি মন বসছে না, সকাল থেকে শরীরটা যেনো চলছে না, রাতে হালকা জ্বর ও হয়েছিল। মা অনেক বার করে বলেছিল যেনো সিকলিভ নিয়ে বিশ্রাম করে বাড়িতে। ফারিবা কোনো কথা শুনেনি।

এখন মনে হচ্ছে মা-এর কথা শুনলেই হয়তো ভালো হতো। আজ কাজ করার মতো শক্তি টুকু তার হচ্ছে না। মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।

তখন পাশ থেকে তন্ময় যাচ্ছিল। সে ফারিবাকে মাথায় হাত দিয়ে থাকতে দেখে পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“একি ফারিবা অপনি চুপ করে বসে আছেন, আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন নাকি।”

ফারিবা পাশে তাকিয়ে দেখে তন্ময় চিন্তিত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,

“আমি ঠিক আছি, আমার কিছু হয়নি।”

“সত্যি তো, তবে আমার কাছে আপনার শরীর টা বেশি ভালো মনে হচ্ছে না।”

“অযথা চিন্তা করবেন না, আমি ঠিক আছি।”

তন্ময় আরো কিছু বলতে যাবে তখন পাশ দিয়ে মেহজাবিন এসে খবর পাঠায় ফারিবাকে আদিল তার কেবিনে ডাকছে, আর যেই ফাইল টা রেডি করতে দাওয়া হয়েছে সেটা সাথে করে নিয়ে যেতে।

ফারিবা ফাইল টা নিয়ে ধীরে ধীরে কেবিনের দিকে যেতে থাকে, আর তন্ময় মেহজাবিন কে জিজ্ঞেস করে,

“আচ্ছা মেহজাবিন আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।”

মেহজাবিন চোখের চশমা টা ঠিক করতে করতে বলে,

“জ্বি বলুন।”

তন্ময় নিজের দুই হাত বুকের সাথে বেঁধে ভ্রু কুচকে বলে,

“আপনার বস এর কোনো মায়া দয়া নেই তাই না।”

তন্ময় এর কথা শুনে মেহজাবিন চোখ দুটো ছোট করে চেয়ে থাকে কিছুক্ষন এরপর বলে,

“আমার বস বলতে।”

“আরে মি. শেখ এর কথা বলছি।”

“এক্সকিউজ মি, তন্ময় সাহেব ফর ইওর কাইন্ড ইনফর্মেশন সে আপনারও বস হয়।"

তন্ময় মেহজাবিন এর রাগান্বিত মুখ দেখে নিঃশব্দে এক ঢোক গিলে বলে,

“ও হ্যা তাই তো মি. শেখ তো আমারও বস।”

“যাক বাবা আপনার মনে তো পরেছে, এখন কি বলতে চেয়েছেন একটু তাড়াতাড়ি বলুন আমার কাজ আছে।”

“বলছিলাম স্যার বেশ কয়দিন যাবত মিস. ফারিবা কে দিয়ে ওভাবটাইম করাচ্ছে, আবার অফিস আওয়ারে ও কাজের চাপ দিচ্ছে এইটা কি.... ”

মেহজাবিন তন্ময় কে পুরো কথা বলতে না দিয়ে,

“দেখুন তন্ময় সাহেব আদিল সাহেব কাকে কতটুকু কাজ দিবেন, সেইটা উনি বুঝবে আপনাকে এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আর আমার মনে হচ্ছে আপনি ইদানিং অনে অবসর সময় পাচ্ছেন আমি স্যার কে বলে আপনার কাজের চাপ বাড়ানের ব্যবস্থা করছি কেমন, ধন্যাবাদ।”

কথা গুলো এক নিঃশ্বাসে বলে গেলো মেহজাবিন তন্ময় কে আর কিছু বলার সুযোগ দিল না। তন্ময় অবাক হয়ে মেয়েটার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,

“কি আশ্চর্য মেয়েরে বাবা, মানতেই হবে যেমন বস তেমনি তার অ্যাসিস্ট্যান্ট।”

এদিকে ফারিবা আদিল এর কেবিনের বাহিরে গিয়ে নক করে অনুমতি নেয়। আদিল ভেতর থেকে অনুমতি দিলেই সে ভেতরে প্রবেশ করে। আজ কেবিনটার ভেতরে যেনো একটু বেশি ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে তার কাছে, হয়তো জ্বর ভাব দেখে।

ফারিবাকে এখনও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আদিল শান্ত গলায় বসতে বলল। তার অনুমতি মিলতেই জড়োসড়ো হয়ে ধীরে চেয়ার টেনে বসে পড়ল ফারিবা।

ফারিবা আদিল কে ফাইল টা এগিয়ে দেয়, এরপর তীব্র ঠান্ডা অনুভব হওয়ায় সে কুঁকড়ে বসে দুহাত নিজের শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে নিল। বিষয় টা আদিল লক্ষ্য করে এসি এর টেম্পারেচার বাড়িয়ে দেয় যেন ফারিবার ঠান্ডা কম অনুভব হয়।

আদিল ফাইলের দিকে মনোযোগ দিয়ে ফারিবাকে জিজ্ঞেস করে,

“তুমি কি আজে সিক মিস. ফারিবা।”

মেয়েটা এমন প্রশ্নে অবাক হয়ে তাকায় আদিল এর দিকে, সে দেখতে পায় আদিল মনোযোগ দিয়ে ফাইল চেক করছে, হঠাৎ করে খেয়াল করলো তার আগের মতো ঠান্ডা লাগছে না।

কারন বুঝার জন্য আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে শুরু করলো। আদিল আবারও বলল,

“তোমার ঠান্ডা লাগছিল বলে আমি টেম্পারেচার বাড়িয়ে দিয়েছি, এখন বল তুমি সিক?”

ফারিবা মাথা নারিয়ে সম্মতি দিল, আদিল ফাইলটা একটু জোরে টেবিলে রেখে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

“যখন শরীর টা বেশি খারাপ তাহলে সিকলিভ নিলেই হত।”

“না স্যার তেমন কিছু না, রাতে সামান্য জ্বর হয়েছিল মেডিসিন নেয়াতে ঠিক হয়ে গিয়েছিল এখন একটু.... ”

আদিল ফারিবাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“কান্না করেছিলে সারারাত?”

আদিল এর এমন প্রশ্ন তে ফারিবা অবাক হয়, এই লোক টা কি করে সব বুঝে যায় তার সাথে কখন কি হয়। এইসব কিছু তার মাথায় আসছ না। একটা মানুষ কিভাবে একটা মানুষের ব্যাপার না জেনেও এতকিছু বুঝে যায়।

ফারিবা এখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আদিল এর দিকে। আদিল কথা ঘুরিয়ে বলে,

“তোমার চোখ দেখে মনে হচ্ছে তুমি কেঁদেছো সারা রাত।”

ফারিবা হাত দিয়ে চোখ কচলে নেয় এরপর বলে,

“তেমন কিছু না স্যির এমনি আর কি।”

“কাকে মিস করে কেঁদেছো?”

মেয়েটা বুঝতে পারে না কি জবাব দিবে তাই চুপ করে থাকে। আর তার মনে আদিল কে নিয়ে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে।

ফারিবা কোনো উত্তর দিল না। চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। আদিলও আর জোর করল না।

ফাইলটা বন্ধ করে ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর কাঁচের জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিচের ব্যস্ত শহরটার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।

কেবিনের ভেতর অদ্ভুত নীরবতা।

ফারিবার কেন জানি অস্বস্তি হতে লাগল। এই মানুষটার সামনে এলেই তার মনে হয় লোকটা যেনো মানুষের বলা কথার থেকেও না বলা অনুভূতিগুলো বেশি বুঝে ফেলে।

হঠাৎ আদিল আবার বলল,

“মানুষ সাধারণত দুইটা কারণে এভাবে কাঁদে।”

ফারিবা ধীরে মুখ তুলে তাকাল।

আদিল এবারও জানালার বাহিরে তাকিয়েই বলল,

“হয়তো খুব আপন কাউকে হারালে, নাহয় এমন কাউকে খুব বেশি মনে পড়লে, যাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব না।”

কথাগুলো শুনে ফারিবার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

তার মনে হলো এই মানুষটা কি সত্যিই শুধু আন্দাজে কথা বলছে?

নাকি সে সত্যিই কিছু জানে?

ফারিবা নিজের অস্থিরতা লুকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“স্যার, আপনি কি সবসময় সবাইকে এইভাবে পর্যবেক্ষণ করেন?”

আদিল এবার ধীরে তার দিকে ফিরে তাকাল। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি রেখে ছোট্ট করে উত্তর দিল,

“সবাইকে না।”

কিন্তু সেই উত্তরটাই যেনো আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলে দিল ফারিবাকে।

ঠিক তখনই আদিল পাশে সেলফে রাখা একটা ছোট বক্স খুলে তার দিকে একটা মেডিসিন এগিয়ে দিল।

“ফিভারের জন্য, লাঞ্চের পর খেয়ে নিও।”

ফারিবা অবাক হয়ে বলল,

“স্যার, আমার এইসব লাগবে না”

“আমি চাই না আমার এমপ্লয়িরা অসুস্থ হয়ে কাজ করুক।”

কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই বলল আদিল।

তবুও কেন জানি তার চোখের দৃষ্টিটা স্বাভাবিক লাগল না ফারিবার কাছে। মেয়েটা ধীরে মেডিসিনটা হাতে নিল।

“থ্যাংক ইউ, স্যার।”

আদিল আবার চেয়ারে বসে ফাইল খুলল।

“আর হ্যাঁ, আজ ওভারটাইম করতে হবে না, অফিস আওয়ার শেষ হতেই বাড়ি চলে যেও।”

ফারিবা কিছু বলতে যাবে, তার আগেই আদিল নিচু গলায় বলল,

“নিজেকে সবসময় শক্ত দেখানোর চেষ্টা করো না মিস ফারিবা, কিছু ক্লান্তি লুকানো যায় না।”

ফারিবা এবার সত্যিই আর কোনো কথা খুঁজে পেল না। সে শুধু নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল।

কেবিন থেকে বের হওয়ার আগে একবার পেছনে তাকাল।

আদিল আবার ফাইল দেখছে একদম স্বাভাবিক। তবুও কেন জানি তার মনে হচ্ছে, এই মানুষটার ভেতরে এমন কিছু আছে। যেটা বাইরে থেকে কখনো বোঝা যায় না।

আর ওদিকে নিজের ডেস্কে বসেও অদ্ভুত অস্থির লাগছিল তন্ময়ের।

বারবার তার দৃষ্টি চলে যাচ্ছিল আদিলের কেবিনের দিকেই।

কেন জানি তার মনে হচ্ছিল ফারিবা আজ ঠিক নেই।

সময় যেনো আজ ইচ্ছে করেই ধীরে চলছিল। কিছুক্ষণ পর কেবিনের দরজা খুলে ফারিবা বেরিয়ে এলো।

তার হাতে ছোট একটা মেডিসিনের প্যাকেট দেখে তন্ময় খানিকটা থেমে গেল।

মেয়েটা ধীরে নিজের ডেস্কে এসে বসতেই তন্ময় আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না।

“স্যার আপনাকে মেডিসিন দিয়েছে?”

ফারিবা একটু অবাক হয়ে তাকাল।

তারপর ছোট করে বলল,

“হুম, বললেন সে চায় না তার এমপ্লয়িরা অসুস্থ হয়ে কাজ করুক।”

তন্ময়ের বুকের ভেতর কেমন যেনো অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো।

ঠিক বিরক্তি না আবার স্বস্তিও না।

তার শুধু মনে হচ্ছে আদিল যেনো একটু বেশিই খেয়াল রাখছে ফারিবার।

তন্ময় কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে হালকা হাসল।

“তা ভালোই হল অন্তত কেউ তো আপনার জেদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

ফারিবা উত্তর দিল না, শুধু মেডিসিনের প্যাকেটটার দিকে একবার তাকিয়ে আবার স্ক্রিনে চোখ নামিয়ে নিল।

কিন্তু কাজের প্রতি মন এখনো বসছে না তার। এদিকে তন্ময়ের মাথার ভেতর অদ্ভুত কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।

সে বুঝতে পারছে না ঠিক কেন তবুও আদিল আর ফারিবার মাঝের এই ছোট ছোট বিষয়গুলো তার ভেতরে কেমন অস্বস্তি তৈরি করছে।

ঠিক তখনই পাশের ডেস্ক থেকে একজন কলিগ ডাক দিয়ে বলে,

“মিস ফারিবা, এই ফাইলটা একটু চেক করবেন?”

কলিগের ডাকে ফারিবা নিজেকে সামলে কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করল।

অফিসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে আবার আগের মতোই চলতে লাগল।

কেউ কাজ করছে, কেউ হাসছে, কেউ মিটিংয়ে যাচ্ছে সবকিছু একদম স্বাভাবিক।

তবুও এই স্বাভাবিকতার মাঝেও যেনো অদৃশ্যভাবে কিছু বদলাতে শুরু করেছে।

দুপুরের কিছুক্ষণ আগে মেহজাবিন দ্রুত পায়ে আদিলের কেবিনে ঢুকল। তার হাতে কিছু ফাইল।

“স্যার, আজ বিকেলের মিটিংয়ের ডকুমেন্টগুলো রেডি।”

আদিল ল্যাপটপে চোখ রেখেই বলল,

“হুম, রেখে যা।”

মেহজাবিন ফাইলগুলো রেখে বের হতে যাবে, ঠিক তখনই আদিল আবার ডাকল,

“মেহু।”

“জ্বি?”

“ফারিবা লাঞ্চ করেছে কিনা খেয়াল রাখিস।”

মেহজাবিন ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

“স্যার… আপনি নিজে গিয়ে বললেই তো পারেন।”

আদিল এবার ধীরে চোখ তুলে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“যেটা বলেছি সেটা কর।”

কিন্তু সেই শান্ত গলার আড়ালে লুকানো কঠোরতা মেহজাবিন খুব ভালো করেই চেনে। সে আর কিছু বলল না।

তবুও কেবিন থেকে বের হতে হতে তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল আদিল কি সত্যিই শুধু কনসার্ন থেকে এসব করছে?

নাকি বিষয়টা এর থেকেও অনেক বেশি কিছু হতে পারে?

অন্যদিকে...

ফারিবা চুপচাপ ডেস্কে বসে কাজ করার চেষ্টা করছে।

হঠাৎ তার ফোনটা হালকা ভাইব্রেট করল। ফারিবা ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে সে আননোন নাম্বার।

ফারিবার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

কারণ এই নামহীন নাম্বারটা নতুন না। বেশ অনেক দিন ধরেই মাঝেমধ্যে ঠিক এমনভাবেই ফোন আসছে। সে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে কলটা রিসিভ করল।

“হ্যালো...”

ওপাশে কোনো শব্দ নেই। শুধু খুব হালকা কারও নিঃশ্বাসের শব্দ।

ফারিবার আঙুলগুলো অজান্তেই ঠান্ডা হয়ে এলো।

“কে বলছেন, কথা বলছেন না কেনো, আর কথা না বললে ফোন কেনো দিচ্ছেন?”

তবুও কোনো উত্তর নেই। কয়েক সেকেন্ড পর লাইনটা কেটে গেল।

ফারিবা কিছুক্ষণ ফোনটা কানের পাশে নিয়েই বসে রইল। তার কেন জানি হঠাৎ করছ খুব ভয় করতে লাগল।

ফারিবা কিছুক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতর অদ্ভুত অস্বস্তি কাজ করছে তার।

ঠিক তখনই আদিলের কেবিনের ভেতরে টেবিলের উপর রাখা আরেকটা ফোনের স্ক্রিন নিঃশব্দে জ্বলে উঠল।

“কল এন্ডেড"

আদিল ধীরে ফোনটা হাতে নিল।

স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে বলল,

“ভয় পেতে শুরু করেছো ভালো খুব ভালো।”

তার চোখে সেই পরিচিত শান্ত দৃষ্টি।

কিন্তু সেই শান্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কিছু একটা ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে উঠছে।

চলবে.....

[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, গল্পটা কেমন লাগলো জানাবেন, আজকে ছোট করে দাওয়ার জন্য দুঃখিত, আগামি পর্ব থেকে পুনরায় বড় করে দাওয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন