ফন্ট সাইজ:
থিম:
আবরণ

১৩তম পর্ব

লেখক: সাহারা জান্নাত মুমু

#আবরণ

#সাহারা_জান্নাত_মুমু

#পর্ব_১৩

কিছুক্ষণ পর সাবরিনা শান্তার কেবিনে ঢুকল মেহজাবিন।

হাতে কয়েকটা ফাইল, চোখে হালকা তাড়াহুড়ো।

সে সোজা গিয়ে দাঁড়াল সাবরিনা শান্তার সামনে। এক হাতে ফাইল আর অন্য হাত দিয়ে চশমা ঠিক করতে করতে বলল,

“মিস শান্তা, স্যার আজ পনেরো মিনিটের মধ্যে মিটিং ডাকছে।”

শান্তা ফাইল থেকে মাথা তুলে শুকনো ঢোক গিলে বলে,

“হঠাৎ করে মিটিং?”

মেহজাবিন গম্ভীরভাবে বলল,

“কালকের ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্টদের সাথে যে ডিল সাইন হয়েছে, সেই প্রজেক্ট নিয়ে জরুরি মিটিং। আপনি এখনি আপনার ডিপার্টমেন্টের সবাই কে নিয়ে দ্রুত মিটিং রুমে চলে আসুন।”

শান্তা সাথে সাথে উঠে দাঁড়ায়।

“ঠিক আছে, আমি সবাইকে জানাচ্ছি।”

শান্তা দ্রুত নিজের কেবিন থেকে বের হয়ে টিমের সবাইকে ডাকতে শুরু করল।

“সবাই শোনো, পনেরো মিনিটের মধ্যে মিটিং রুমে উপস্থিত হতে হবে তাড়াতাড়ি করো সবাই।”

কলিগরা একে একে সাড়া দিতে শুরু করল।

তন্ময় হালকা ভ্রু কুঁচকে বলল,

“আবার মিটিং? এই মি. শেখ কে নিয়ে আর পারা যায় না, আমার মাঝে মাঝে মনে হয় উনি মানুষ নাকি রোবট?”

একজন কলিগ হেসে বলল,

“চুপ করেন তন্ময় সাহেব, স্যারের কানে এই কথা গেলে আপনি শেষ।”

তন্ময় ফারিবার দিকে তাকাল বলে,

“এটা তো আপনার ফাস্ট টিম মিটিং তাই না।”

ফারিবা শান্ত গলায় বলল,

“হ্যাঁ।”

ফারিবার কেমন অজানা অনুভূতি হতে শুরু করে। মিটিংয়ের কথা শুনতেই ফারিবার বুকটা একটু ধক করে উঠল।

কারণ এই প্রজেক্টে আদিলের সাথে টুকটাক কাজ করে কিছুটা আনদাজ হয়েছে তার। এই প্রজেক্টে অনেক পরিশ্রম করতে হবে এটা সে ভালো করেই বুঝতে পেরেছে।

ঠিক তখনই মেহজাবিন আবার এসে দাঁড়াল।

“সবাই নোটপ্যাড কলম ল্যপটপ নিয়ে রেডি হয়ে নিন, স্যার আসার আগেই সবাই মিটিং রুমে উপস্থিত থাকবে ওকে।”

তার চোখ একবার ফারিবার দিকে গেল, তারপর একবার তন্ময়ের দিকে।

এক মুহূর্তের জন্য তার মনে একটা অজানা অস্থিরতা কাজ করল, এই অনুভূতি মেহজাবিন বুঝতে পারেনা, তার এমন কেনো লাগে।

পনেরো মিনিট হওয়ার আগেই মিটিং রুম ভরে গেলো। পুরো মিটিং রুম স্তব্ধ হয়ে আছে। ঠিক তখনি দরজা দিয়ে ঢুকল আদিল। সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে বলে,

“গুডমর্নিং স্যার”

আদিল শুধু মাথা নাড়িয়ে সামনে হাঁটতে শুরু করল।

তার নজর কারো ওপর ছিল না, কিন্তু তার উপস্থিতি যেনো পুরো মিটিং রুমটা থমকে যায়।

সে একবার শুধু ফারিবার দিকে তাকাল কিছু মুহূর্তের জন্য ।

তারপর সামনে থাকা চেয়ার টা টেনে বসে পরলো। আদিল বসার পর সবাই বসে পরে। এরপর মেহজাবিন যেই প্রেসেন্টেশন টা তৈরি করে সেইটা সবাইকে দেখায়। এক এক করে তাদের মত দেয়, কেউ পক্ষে মত দেয় আবার কেউ এটার মধ্যে সামান্য পরিবর্তন আনতে বলে।

আদিল এক এক করে সবার মতামত নিল, এরপর বিবেচনা করে সবাইকে সবার কাজ ভাগ করে দিল দুইজনের একটা টিম তৈরি করে, সবাইকে সবার টিম বুঝিয়ে দাওয়ার পর বাকি থাকে তন্ময় আর ফারিবা।

এই পর্যায় তন্ময় তো মহা খুশি সে ভেবেছে তাকে আর ফারিবাকে একটা টিম হিসেবে দেয়া হবে। কিন্তু আদিল তন্ময় এর ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে বলে,

“মি. তন্ময় আপনি কাজ করবেন মেহজাবিন এর সাথে, আর মিস. ফারিবা যেহেতু এই প্রজেক্ট নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে আমার সাথে কাজ করছে তাই, আপনি আমার আন্ডারে থাকবেন কেমন।”

ফারিবা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলেন। সবাই নিজের টিমের সাথে কাজ নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেয়, সবাই খুশি হলেও তন্ময় মোটেও খুশি হতে পারে না। তার খুব ইচ্ছে ছিল ফারিবা তার টিমে থাকবে। তা তো হলোই না এই আদিল বেটা কি না শেষে নিজের ডান হাত মেহজাবিন কে তার টিম মেম্বার বানিয়ে দিল।

তন্ময় একবার মেহজাবিন এর দিকে তাকায়। মেহজাবিন ও নিজের চোখ ছোট করে চশমা ঠিক করতে করতে তন্ময় এর দিকে তাকিয়ে থাকে। এমন ভাবে তাকিয়ে আছে তন্ময় দেখেই বুঝে গেছে এই মেয়ে মনে মনে কোনো কৌশল আটছে।

আদিল সবাইকে বেস্ট আফ লাক বলে মিটিং শেষ করে। এরপর সবাই নিজের ডেস্কের দিকে চলে যায়। ফারিবাও যাচ্ছিল তখন আদিল তাকে আটকায়।

“মিস. ফারিবা তুমি সব ফাইল আর তোমাল ল্যাপটপ নিয়ে আমার কেবিনে চলে এসো, তোমার সাথে প্রজেক্ট টা নিয়ে আলোচনা করার ছিল।”

ফারিবা সম্মতি দিয়ে নিজের ডেস্কের দিকে যায় সব কিছু নেয়ার জন্য। গিয়ে দেখে তন্ময় মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে। ফারিবা তন্ময় কে জিজ্ঞেস করে,

“আপনি মুখটা এমন পেঁচার মতো করে রেখেছেন কেনো, কি হয়েছে আপনার।

তন্ময় ফারিবার কথা শুনে নিজের মুখে হাত দিয়ে দেখতে থাকে এরপর বলে,

“কি সত্যিই আমাকে দেখতে পেঁচার মতো লাগছে, মিস. সিরিয়াস আপনার কাছে কি আয়না আছে।”

তন্ময় এর পাগলামি দেখে ফারিবা হাসে, তন্ময় মুখ বাঁকা করে বলে,

“হাসুন হাসুন মিস. সিরিয়াস বেশি করে হাসুন, এইদিকে আমি তো ফেঁসে গেলাম।”

ফারিবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই মেহজাবিন পাশে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে,

“কি তন্ময় সাহেব, কিভাবে ফেঁসে গেলেন আমাকেও একটু শুনান।”

পাশে ঘুরে তাকিয়ে দেখে তার যম এসে দাঁড়িয়ে আছে সে ফিসফিস করে বলে,

“এইরে বিপদ সংকেত নিজেই জিজ্ঞেস করছে কি বিপদ এসেছে।”

তন্ময়কে ফিসফিস করতে দেখে মেহজাবিন আবার বলে,

“ফারিবা আপু তোমাকে স্যার ডাকছে তুমি না হয় যাও, এই পেঁচা মুখো না মানে তন্ময় সাহেব কি নিয়ে ফেঁসে গেলো তা আমি দেখছি।”

ফারিবা সম্মতি দিয়ে চলে যায় আর মেহজাবিন এইবার তন্ময় কে জব্দ করতে শুরু করে,

“এই যে তন্ময় সাহেব আমি একটা কথা পরিষ্কার ভাবে বলে দিচ্ছি আমার আন্ডারে কাজ করতে হলে অবশ্যই সিরিয়াল হতে হবে। আর মোস্ট ইম্পরট্যান্ট কাজ রেখে এখানে সেখানে ঘুরে বেরানো যাবে না।”

তন্ময় মেহজাবিন এর কথা শুনে মুখ বাঁকা করে বিরক্তি রেখা টানে, এরপর মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে,

“যো হুকুম ম্যাডামজি, আপনি যা বলবেন তাই হবে।”

“ভেরি গুড এইবার কাজে লেগে যান পেঁচামুখো।”

বলেই মেহজাবিন চলে গেলো, আর তন্ময় রেগে বলে,

“কি আমি পেঁচা মুখো। আমি পেঁচামুখো হলে আপনি কাল নাগিনী।”

তন্ময় রাগে ফুসতে ফুসতে নিজের ডেস্কে চলে যায়।

এদিকে...

ফারিবা তন্ময় আর মেহজাবিন এর কান্ড দেখে হাসতে হাসতে আদিল এর কেবিনের দিকে চলে যায়। ফারিবা অনুমতি নিয়ে ভেতরে চলে আসে। এসে দেখে আদিল চোখে চশমা দিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে একটা ফাইল দেখছে। সে চোখ না উঠিয়ে ফারিবা কে চেয়ার টেনে বসতে বলে।

ফারিবা চেয়ার টেনে বসে আদিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার কাছে আজ আদিল কে একটু অন্যরকম লাগছে, এ যেনো এক অন্য আদিল। আগের মতোই শান্ত স্বভাব, চোখ দেখেও আগের মতো ভয়ংকর লাগছে না তার কাছে। কথাতে নমনিয়, আর ব্যবহার, তার ব্যাপারে বেশকিছু দিন ধরে যত্নের ছোঁয়া পাচ্ছে মেয়েটা।

সে অনেকক্ষন যাবত আদিলের দিকে তাকিয়ে আছে, হঠাৎ করে আদিল বলে,

“এইভাবে তাকিয়ে থাকলে আমার নেশায় পরে যাবেন তো মিস. ফারিবা।”

আদিলের কথা শুনে ফারিবা চমকে গিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়। আদিল চোখের চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রেখে মুচকি হাসে। এরপর ফারিবাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে শুরু করে। আর ফারিবা নিজেকে নিজে বারবার বকে যাচ্ছে সে কেনো এইভাবে আদিলের দিকে তাকিয়ে ছিল আদিল এখন কি ভাববে তাকে নিয়ে।

এরপর আদিল ফাইলগুলো এক এক করে ফারিবার সামনে এগিয়ে দিতে দিতে শান্ত গলায় বলতে শুরু করল,

“এই প্রজেক্টটা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ভেতরে ঠিক ততটাই জটিল বুঝলেন মিস. ফারিবা। ছোট একটা ভুলও পুরো কোম্পানির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে এইজন্যই আমি এই প্রজেক্ট টা নিয়ে খুব সিরিয়াস। তাই আমি চাই আপনি প্রতিটা ডিটেইল খুব মনোযোগ দিয়ে দেখবেন।”

ফারিবা মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।

“জ্বি স্যার।”

আদিল কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল,

“আর একটা কথা ছিল”

ফারিবা চোখ তুলে তাকাল।

“জ্বি?”

“আপনি সবসময় এত ভয় নিয়ে থাকেন কেন, আপনি কি আমাকে ভয় পান?”

হঠাৎ এমন প্রশ্নে ফারিবা থমকে গেল।

“আমি ভয় পাই, কোথায় না তো স্যার, আমি ভয় পাই না শুধু কথা কম বলি।”

আদিল ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,

“হুম। আপনার চোখ সবসময় ভীত থাকে আমি এই ব্যাপার টা খেয়াল করেছি। আপনাকে দেখলে মনে হয় কেউ যেনো জোর করে আপনাকে এই পৃথিবীতে আটকে রেখেছে।”

কথাটা শুনে ফারিবার বুকটা হালকা কেঁপে উঠল। কেনো না খুব কম মানুষই তার ভেতরের ক্লান্তি বুঝতে পারে।

সে ধীরে চোখ নামিয়ে বলল,

“সবাইকে সবকিছু বুঝতে নেই স্যার।”

আদিল এবার সামান্য ঝুঁকে এল সামনে। তার কণ্ঠ আগের থেকেও নিচু এবং শান্ত,

“কিন্তু আমি যে বুঝতে চাই আপনাকে মিস ফারিবা।”

ফারিবা অস্বস্তিতে পড়ে গেল। তার হৃদস্পন্দন বারবার ওঠা নামা করতে থাকে। লোকটার চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। সেই চোখে অদ্ভুত এক টান আছে, যেটা ফারিবা ভালো করে অনুভব করতে পারছে।

ঠিক তখনই দরজায় কেউ নক করে, আদিল অনুমতি দিতেই, মেহজাবিন ভেতরে ঢুকে বলল,

“স্যার, আপনার সাইন লাগবে এই ফাইলগুলোতে।”

আদিল দৃষ্টি না সরিয়েই বলল,

“রেখে যাও।”

মেহজাবিন ফাইল রেখে একবার ফারিবার দিকে তাকাল,

তারপর আবার আদিলের দিকে। সে নিজেও জানে না তার কাছে এই দুইজন কে এক সাথে কেনো এতো ভালো লাগে। ঘরের ভেতরের পরিবেশটা তার কাছে কেমন যেন অন্যরকম লাগছে আজ।

সে কিছু না বলে ধীরে বেরিয়ে গেল।

মেহজাবিন বের হতেই ফারিবা যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল, মেয়েটা বেশ অস্বস্তি তে পরে গিয়েছিল।

আদিল সেটা খেয়াল করল।

তার চোখে আবার সেই অদ্ভুত হাসিটা ফুটে উঠল।

“আমাকে কি খুব অস্বস্তিকর লাগে তোমার কাছে?”

ফারিবা দ্রুত বলল,

“না স্যার, কি বলছেন এইসব, আপনি যা ভাবছেন তেমন কিছুই না।”

“তাহলে?”

ফারিবা এবার চুপ হয়ে গেল।

কারণ সত্যি বলতে সে নিজেও জানে না কেন আদিলের সামনে এলে তার বুক এত অস্থির হয়ে ওঠে।

আদিল আর কিছু বলল না।

ধীরে ফাইলটা বন্ধ করে বলল,

“ঠিক আছে মিস ফারিবা, আজকের জন্য এইটুকু। তুমি আপাতত এগুলোর রিপোর্ট রেডি করো। সন্ধ্যার আগে আমি চেক করব।”

ফারিবা মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল।

“ঠিক আছে স্যার।”

সে দরজার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে আবার আদিলের কণ্ঠ ভেসে এলো,

“ও হ্যাঁ মিস ফারিবা আর একটা কথা।”

ফারিবা ঘুরে তাকাল, তার কাছে বারবার আজ আদিলের দৃষ্টি খুব মায়াবি লাগছে।

আদিল স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,

“নিজের যত্ন নিতে শিখো। সবাই কিন্তু দ্বিতীয়বার সুযোগ পায় না, মিস. ফারিবা।”

কথাটা শুনে ফারিবা কিছু মুহূর্ত চুপ করে রইল।

তারপর ছোট করে “জ্বি” বলে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো।

কিন্তু বের হওয়ার পরও কেন জানি তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কাঁপতে থাকল। বারবার তার হৃদস্পন্দন ওঠা নামা করছে।

আর কেবিনের ভেতরে বসে আদিল ধীরে চোখ বন্ধ করল। তার ঠোঁটের কোণে আবারও সেই রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।

“তোমার মন টা কে ঠিক এইভাবে ধীরে ধীরে নিজের করে নিব আমার ফারিবা।”

এদিকে…

ফারিবা আদিল এর কেবিন থেকে বের হতেই গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলল। কেন জানি আজ আদিলের সামনে বসে থাকতে তার ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল। আবার অদ্ভুত রকমের শান্তিও লাগছিল।

সে নিজের ডেস্কের দিকে এগিয়ে যেতেই তন্ময় চেয়ার ঘুরিয়ে তার দিকে তাকিয়ে অলস ভঙ্গিতে বলে।

“অবশেষে আপনি ফিরেছেন মিস. সিরিয়াস।”

ফারিবা ভ্রু কুঁচকে বলল,

“ আপনি এমন ভাবে বলছেন যেনো আমি কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলাম?”

তন্ময় নাটকীয় মুখ করে বলল,

“আপনি জানেন না মিস. ফারিবা, বসের কেবিনে কেউ এতক্ষণ থাকলে আমরা ধরে নেই সে আর আগের মানুষ থাকে না, মানুষ রূপি রোবট হয়ে যায়।”

তন্ময় এর কথা শুনে পাশে বসে থাকা একজন কলিগ হেসে ফেলল।

ফারিবা নিজের হাসি চেপে বলল,

“আপনার নাটক দিন দিন বেরেই যাচ্ছে তন্ময় সাহেব।”

“নাটক না মিস. সিরিয়াস নাটক না, এটা এঅটা চিরন্তন বাস্তবতা।”

তন্ময় একটু থেমে আবারও গম্ভীর মুখে বলল,

“আচ্ছা বলেন তো, উনি কি খুব বকা দিয়েছেন?”

“না বকা দিবে কেনো।”

“অসম্ভব এ হতেই পারে না, আমাদের তো যতবার ডেকেছেন ততবারই বকেছেন কি ঠিক বলছি তো আবির সাহেব।”

পাশ থেকে লোকটা সম্মতি দিয়ে মাথা নাড়ায়। ফারিবা এবার চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,

“সবসময় সবাইকে বকা দেয় না উনি, কোথায় আমাকে কিন্তু এখনো বকেনি বরং প্রশংসা করেছেন।”

তন্ময় কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর চোখ ছোট করে বলল,

“আপনি কিন্তু ধীরে ধীরে বসের পক্ষ নেওয়া শুরু করেছেন।”

“আপনি আবার শুরু করলেন, কাজ করুন মশাই কাজ করুন, মেহজাবিন যদি দেখে কাজ রেখে আড্ডার আসর বসিয়েছেন তাহলে আপনার খবরই আছে?”

তন্ময় দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করল বলল,

“আমি কিছু বলিনি।”

ফারিবা মাথা নেড়ে ল্যাপটপ অন করল। কিন্তু কাজ শুরু করার পরও বারবার আদিলের শেষ কথাটা মাথায় ঘুরতে লাগল,

“সবাই কিন্তু দ্বিতীয়বার সুযোগ পায় না।”

কথাটার মানে কি, এই কথার গভীরতা ঠিক কতটুকু সে বুঝার চেষ্টা করলো। সে কি শুধু সাধারণভাবেই বলেছে, নাকি এর পেছনেও অন্য কোনো অর্থ ছিল? ফারিবা সব চিন্তা বাদ দিয়ে কাজে মন দিল।

অন্যদিকে…

নিজের কেবিনে বসে আদিল চুপচাপ জানালার বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।

তার সামনে রাখা ফাইলটা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

মেহজাবিন কেবিনের ভেতরে ঢুকে কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে বলল,

“আদিল ভাই না মানে স্যার একটা কথা বলব?”

“বল।”

“আপনি কি সত্যিই ঠিক আছেন?”

আদিল দৃষ্টি না সরিয়েই হালকা হাসল।

“আমাকে দেখে তোর কি মনে হচ্ছে মেহু?”

মেহজাবিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

“আপনাকে আমি যতটা শান্ত দেখি, ততই যেনো আমার ভয় বেরে যায়।”

এইবার আদিল ধীরে তার দিকে তাকাল। চোখদুটো অদ্ভুত শান্ত। কিন্তু সেই শান্তির গভীরে যেন ভয়ংকর কিছু লুকিয়ে আছে।

সে নিচু গলায় বলল,

“সব ভয়ংকর জিনিস শব্দ করে আসে না রে মেহু। কিছু কিছু জিনিস সব কিছু নিঃশব্দেই সব শেষ করে দেয়।”

কথাটা শুনে মেহজাবিনের বুকটা কেঁপে উঠল।

কারণ সে খুব ভালো করেই জানে শেখ আদিল আয়মান যখন এমনভাবে কথা বলে, তখন তার মাথার ভেতর খুব ভয়ংকর কিছু চলতে থাকে।

আদিলের দৃষ্টি এখনো জানালার দিকে আছে, সে চোখ সরিয়ে ফারিবর দিকে নেয়, ফারিবা মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। সে ফারিবার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় আর মুখে ধীরে ধীরে অদ্ভুত হাসি ফুটে ওঠে...

চলবে...

[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, আর গল্প টা কেমন লাগলো জানাবেন]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন