ফন্ট সাইজ:
থিম:
আবরণ

১২তম পর্ব

লেখক: সাহারা জান্নাত মুমু

#আবরণ

#সাহারা_জান্নাত_মুমু

#পর্ব_১২

সকালের আলো ধীরে ধীরে পুরো ঘর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা নরম রোদটা বিছানার এক কোণে গিয়ে থেমেছে। ফারিবা সাদা সিলিং এর দিকে তাকেয়ে আছে, আর ভাবছে এই বেরঙিন সিলিং টার মতো তার জীবনটাও বড্ডো বেরঙিন।

সারারাত ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেনি সে। একবার এপাশ, একবার ওপাশ করতে করতেই রাত কেটে গেছে। চোখ বন্ধ করলেই বারবার গতকালের ছোট ছোট ঘটনাগুলো মাথার ভেতর ঘুরে বেড়িয়েছে।

তন্ময়ের সেই স্বাভাবিক যত্ন। বাইক দেখে হঠাৎ পুরোনো স্মৃতি মনে পরা। আর আদিলের সেই অদ্ভুত দৃষ্টি। আদিলের সেই দৃষ্টির কথা চিন্তা করতেই ফারিবার বুক কেঁপে ওঠে। সে বুঝতে পারে না লোকটা আসলে তার থেকে কি চায়?

আর এই সবকিছু মিলিয়ে তার মাথার ভেতরটা যেনো আরও বেশি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

ফারিবা ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসলো। মাথাটা এখনো ভারী লাগছে। হয়তো জ্বর পুরোপুরি যায়নি। তবে কালকের থেকে অনেকটা সুস্থ অনুভব করছে নিজেকে।

ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে তার মা-এর কণ্ঠ ভেসে এলো,

“ফারিবা, ঘুম ভাঙছে মা?”

ফারিবা নিজেকে স্বাভাবিক করে উত্তর দিল,

“জ্বি, মা আমি উঠেছি।”

কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে নিজের ঘর থেকে বের হতেই রান্নাঘর থেকে গরম চায়ের গন্ধ ভেসে এলো।

তার মা নাস্তা তৈরি করছে। ফারিবাকে দেখেই কপাল কুঁচকে বলল,

“তোর চেহারা এমন শুকনা লাগছে কেন? শরীর এখনো খারাপ? একদিনে মেয়েটার চেহারার কি হালটাই না হয়েছে।”

ফারিবা ছোট করে হাসল।

“না মা , আমি এখন একদম ঠিক আছি।”

“ঠিক আছি বললেই তো হবে না। গতকালও জ্বর নিয়ে অফিস করলি। মানুষ এত জেদ করলে বুঝি চলে?”

ফারিবা কিছু বলল না। চুপচাপ চেয়ার টেনে বসে পড়ল।

ঠিক তখনই তার বাবা পত্রিকা ভাঁজ করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

“আজ অফিসে না গেলেই তো পারিস মা।”

“না আব্বু, আজ অনেক কাজ আছে যেতেই হবে।”

তার বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, এরপর খবরের কাগজ টা ভাজ করে পাশে রাখলেন, তারপর কায়দা করে চায়ের কাপে একটা চুমুক বসিয়ে বলল,

“কাজ কখনো শেষ হবে না মা, কিন্তু মানুষ তো ক্লান্ত হয়, তাই মাঝে মধ্যে বিস্রাম ও নিতে হয়।”

কথাটা শুনে ফারিবা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

কেন জানি আজকাল সবাই তাকে একই কথা বলছে। একটু বিস্রাম করতে, নিজের যত্ন নিতে। কিন্তু সে যেনো বহু আগেই নিজেকে গুরুত্ব দেওয়া ভুলে গেছে।

নাস্তা শেষ করে ধীরে নিজের ঘরে ফিরে এলো ফারিবা। আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর কালো বোরকাটা হাতে নিল।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হিজাব ঠিক করতে করতে হঠাৎ তার চোখ আবার থেমে গেল নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে। আসলেই খুব ক্লান্ত লাগছে তাকে।

আবার চোখের নিচে হালকা কালিও পড়েছে। তবুও বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে সে। নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সে। ফারিবা ধীরে চোখ সরিয়ে নিল। এরপর ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ঘর থেকে বাহিরে বেড়িয়ে এলো।

মা বাবার থেকে বিদায় নিয়ে, বাড়ি থেকে বের হতেই সকালের শহরটা আজ অদ্ভুত শান্ত লাগছে তার কাছে। রাস্তার পাশে হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলছে।

রিক্সায় বসে চারপাশের প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে রইল ফারিবা।

হঠাৎ করেই তার মনে পড়ে গেল এই রাস্তা ধরে সে আর ফরদিন কত ঘুরে বেড়িয়েছে। কত সুন্দর মুহূর্ত কত সুন্দর ছিল তাদের সেই দিন গুলো আজ যেনো সব কিছুই স্মৃতির পাতায় পাতায় রয়ে গেছে।

ফারিবার মনে পরে সেই দিন গুলো সে কতই না চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে ছিল, নিজের করা দুষ্টামি আর অবহেরার জন্য ফালদিনের কাছে কতই না বকা খেয়েছে।

আজো তো সে নিজেকে অবহেলা করে ফারদিন কি পারেনা এখন তার ফারিবাকে বকতে পারেনা বলতে,

“কন্যা তুমি চাইলে আমাকে দুটো চর মারো তবুও নিজের অবহেলা কোরো না, এই তুমি টা যে আমার বড্ডো প্রিয়।”

ফারদিন কি এখন দেখে না, এখন বুঝি ফারিবা তার প্রিয় নেই। ফারিবার চোখ থেকে মোটা মোটা নোনা জল গড়িয়ে পরতে থাকে। সে জানে তার ফারদিন চাইলেও কখনে ফিরে আসতে পারবে না, তবুও যেনো তার মন মানতেই চায় না। তার মন বুঝতেই চায় না ফারদিন নেই আর আসবে না।

ফারিবা চোখ মুছে দীর্ঘশ্বাস টেনে নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয়। ইদানিং তন্ময় এর ব্যবহার গুলো তাকে ফারদিনের কথা বেশি মনে করিয়ে দেয়। ছেলেটাও অনেকটা তন্ময় এর মতোই তো ছিল, সে চাইলেও তন্ময় কে অবহেলা করতে পারে না। তবে সে যা চায় সেটা ফারিবার পক্ষে সম্ভব নয়। সে তার মনে আর কাওকে জায়গা দিতে পারবে না আর সে চায় না ছেলেটা কষ্ট পাক।

হঠাৎ করেই তার মাথায় আবার আদিলের চিন্তা ভেসে উঠল, তার চোখে ভাসতে শুরু করলো আদিলের সেই শান্ত চোখদুটো।

আর অদ্ভুতভাবে তার বুকের ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল।

কেন জানি আজ তার মনে হচ্ছে আজকের দিনটা তার জন্য কষ্টের হবে।

এমন চিন্তা হঠাৎ করে কেনোই তার মাথায় এলো সেটাই সে বুঝতে পারলো না।

অন্যদিকে...

বাড়ির নিচতলার সেই অন্ধকার ঘরটায় আবার তালা ঝুলতে দেখা যায়। রহিমা বেগম কিছুক্ষন সেই ঘরটার দিকে তাকিয়ে থাকে আর দীর্ঘশ্বাস টেকে দু’ফোটা চোখের জল ফেলে, তার আদিলের জন্য অনেক চিন্তা হয়। সে কি করবে এই ছেলেটাকে নিয়ে সে বুঝতে পারে না। উপরওয়ালা কাছে হাত তুলে সে সবসময় তার ছেলেটার সুখ কামনা করে।

ছেলেটা ছোট থেকে সুখের চাইতে কষ্টই বেশি পেয়েছে সবার থেকে। সেই কষ্ট গুলো তার ছেলেটাকে কি থেকে কি বানিয়ে দিয়েছে তার সবকিছুর সাক্ষী সে নিজেই। কাল রাতেও সে আদিল কে ওই তালাবদ্ধ ঘরটাতে যেতে দেখেছে। সে শুনেছে তার ছেলের প্রতিটা হাহাকার। সে সাক্ষী ছিল তার আদিল বাবার প্রতিটা অস্রু কনার। সে শুধু একটা জিনিস চায় তার ছেলেটা ভালো থাকুক বাঁচার মতো বাঁচুক, এইভাবে তিলে তিলে যেনো শেষ না হয়ে যায়।

চোখের জল মুছে সে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে যায় আদিল কে দেখতে।

আদিল এখনো নিজের স্টাডি রুমে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে। ঘর টাতে এখনো আলো জ্বলেনি, কিন্তু বাহিরে দিনের আলোতে পুরো ঘর আলোকিত হয়ে আছে। তবুও যেনো এই আলো আদিলের মনের অন্ধকার দুর করতে পারছে না। পুরো ঘরজুড়ে ভারী নীরবতা।

দেয়ালের একপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ভাঙা ফোনের টুকরো। মেঝেতে পড়ে থাকা সিগারেটের ছাই, যেনো রাতের ভয়ংকর রাগের সাক্ষী হয়ে আছে এগুলো।

ঘরের মাঝখানে বসে আছে আদিল।

তার চোখদুটো এখনো রক্তিম বর্ণ ধারন করে আছে। দেখে বুঝাই যাচ্ছে সারারাত এক মুহূর্তও ঘুমায়নি। তার হাতে রক্ত জমে নিলচে হয়ে আছে। কাল রাত রাগের বসে এলোপাথারি দেয়ালে ঘুসি দেয়ার ফলে হয়েছে।

আদিল এবার বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো, কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,

“এইসব তো কিছুই না, আমি চাইলে এর থেকেও ভয়ংকর রূপ ধারন করতে পারি তোমার জন্য, পৃথিবীটা আমার বিরুদ্ধে গেলেও আমি তোমাকে কারো হতে দিব না। কাউকে তোমার কাছে আসতেও দিব না, কারণ তুমি শুধু আমার ভালোবাসা নও, তুমি আমার পাগলামি, আমার নেশা, আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ। তোমাকে হারানোর ভাবনাটাই আমাকে উন্মাদ করে দেয়। আমি সহ্য করতে পারি না কাউকে তোমার পাশে। আমি নিজের মাঝে তোমাকে আগলে রাখবো, কখনোই কাউকে নিয়ে যেতে দিব না আমার ফারিবা, তুমি শুধু আমার, শুধুই আমার”

কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠে এক চাহিদা অনুভব হলো, শুধু মাত্র একজনকে যেই কোনো কিছুর বিনিময়ে নিজের করে পাওয়ার চাহিদা।

হঠাৎ দরজার বাইরে শব্দ হতেই আদিল একদম স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতোক্ষন তার ভেতরে যে হিংসে বা চাহিদা ছিল তার চোহারায় এখন সেইসবের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই। এক মুহূর্তে যেন নিজের সব অনুভূতি আড়াল করে ফেলল।

রহিমা বেগম দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে দ্বিধাভরা গলায় বলল,

“আদিল বাবা তুমি ভেতরে আছো?”

আদিল একবার চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলে নিল। তারপর শান্ত স্বরে বলল,

“হ্যা মামোনি।”

“অফিসে যাবে না আজকে বাবা?”

কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে আদিল দরজার দিকে তাকাল।

তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,

“যেতে তো হবেই মামোনি কিছু জিনিস নিজের নজরে রাখাতে হবে না হলে সব কাজ বিগড়ে যাবে।”

রহিমা বেগমের চিন্তা হলো, সে আদিলের এমন শান্ত স্বভাবের কথা গুলো শুনলে অনেক ভয় পায়, তখন তার চিন্তা কয়েকশো গুন বেরে যায়। তার শুধু একটাই চাওয়া ছেলেটার যেনো কোনো প্রকার ক্ষতি না হয়।

বেশকিছুক্ষন পর ফারিবা অফিসে পৌঁছে যায়, রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে অফিসের ভেতরে পা রাখতেই তার ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠলো।

ফারিবার বুক ধক করে উঠল। সে ভয়ে কাঁপা হাতে ব্যাগ থেকে দ্রুত ফোনটা বের করল। কিন্তু স্ক্রিনে তাকাতেই একটু থেমে গেল। আননোন নাম্বার ঠিকই কিন্তু এটা তো সেই নাম্বার নয়। তার ভেতর আবার ভয় ঢুকে গেলো আবার নতুন কোনো নাম্বার থেকে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে নাতো।

তার হাত আবারও কাঁপতে শুরু করে। ফোন রিসিভ করবে কি করবে না ভাবতে ভাবতে কল কেটে গেলো। সে যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো। কিন্তু না একটুপর আবার ফোন ভাইব্রেট করতে শুরু করে, সে খুব সাহস নিয়ে ফোনটা রিসিভ করে কানে দিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলে,

“হ্যালো, কে... কে বলছেন?”

ওপাশ থেকে এক পুরুষালি কণ্ঠে ভেসে এলো,

“গুড মর্নিং মিস সিরিয়াস।”

ফারিবার কাছে কন্ঠটা পরিচিত বলে মনে হল, সে বুঝার চেষ্টা করলো কে এই ব্যক্তি তবে ভালো করেই বুঝতে পেরেছে এই ব্যক্তি সে নয়, যে বারবার কল করে। ফারিবা আবারও জিজ্ঞেস করে,

“গুড মর্নিং আপনার কাছে রাখুন, আগে বলুন কে আপনি।”

“কি ব্যাপার আপনি দেখি আমার কন্ঠ চিনেন না, আমি তন্ময় মিস. সিরিয়াস।”

তন্ময় নামটা শুনতেই ফারিবার সব ভয় দূর হয়ে গেলো অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

“সকাল সকাল কিসব শুরু করেছেন বলুন তো? এভাবে কেউ কাওকে ভয় দেখায়।”

“সে কি আমি ভয় কেনো দেখাতে যাব, আমি তো শুধু চেক করলাম আপনি ঠিক আছেন কি না, ঠিক মতো অফিসে আসছেন কিনা।”

“আমি ছোট বাচ্চা নই তন্ময় সাহেব, আমি নিজের খেয়াল রাখতে জানি।”

“হ্যা সে তো দেখতেই পেয়েছি। তবে আপনি কাল অসুস্থ ছিলেন তাই আপনার একটু খোঁজ নিলাম এই আর কি। অসুস্থ মানুষের তো একটু খোঁজ নেওয়াই যায় তাই না।”

ফারিবা কিছু বলল না চুপ করে রইলো। তন্ময় আবার বলল, “আজকে কিন্তু আপনাকে দেখতে একটু স্বাভাবিক লাগছে মিস. সিরিয়াস।”

ফারিবা আশে পাশে তাকিয়ে দেখতে শুরু করে,

“দেখলেন কিভাবে?”

“সেটা আপনাকে জানতে হবে না ম্যাডাম, তবে সত্যিই আজকে আপনাকে কালকের থেকে সুস্থ মনে হচ্ছে।”

ফারিবা আর কিছু বললো না ফোন কেটে ব্যাগের ভেতর রেখে দিল। এরপর অফিসের ভেতবে চলে গেলো।

আর এইসব কিছু কালো গাড়ির ভেতর বসে থাকা আদিল দেখতে পেলো, সব কিছু নিঃশব্দে দেখে নিল। গাড়ির কাঁচের আড়ালে বসে থেকে স্থির দৃষ্টিতে একবার ফারিবাকে দেখে নিলো আর একবার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা তন্ময় কে।

তার চোখে কোনো রাগ নেই। কোনো অভিব্যক্তিও নেই। শুধু অদ্ভুত শান্ত একটা দৃষ্টি।

ড্রাইভিং সিটে বসা লোকটা ধীরে বলল,

“স্যার, অফিসে পৌঁছে গিয়েছি?”

আদিল কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ধীরে দৃষ্টি সরাল।

তারপর নিচু গলায় শুধু বলল,

“আমি দেখতে পেয়েছি।”

আদিল কিছুক্ষন চুপ করে বসে রইলো তারপর ড্রাইভার কে গাড়ি নিয়ে গ্যারেজে পার্ক করতে বলে দরজা ঠেলে বের হয়ে নিজের কোটের বোতাম লাগিয়ে নেয়। এরপর ধীরে অফিস বিল্ডিং এর ভেতর প্রবেশ করে।

অফিসে ঢুকতেই আবার সেই পরিচিত ব্যস্ত পরিবেশটা চোখে পড়ল ফারিবার।

কেউ ডেস্কে বসে কাজ করছে, কেউ কফির কাপ হাতে গল্প করছে, আবার কেউ ফাইল নিয়ে এক ডেস্ক থেকে আরেক ডেস্কে ছুটে বেড়াচ্ছে।

আজকে ফারিবার কাছে অফিসের পরিবেশ ভারি মনে হলো না। ফারিবা ধীরে নিজের ডেস্কে এসে বসল। ব্যাগটা পাশে রেখে ল্যাপটপ অন করতেই পাশের কলিগ মেয়েটা তাকিয়ে বলল,

“আজকে আপনাকে কালকের চেয়ে একটু ভালো লাগছে।”

ফারিবা ছোট করে হেসে বলল,

“হয়তো।”

ঠিক তখনই তন্ময়ও অফিসে ঢুকল।

ভেতরে এসেই সবার আগে তার চোখ গেল ফারিবার দিকে।

মেয়েটাকে আজ একটু স্বাভাবিক লাগছে দেখে অজান্তেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। কারণ সে এই কাজে ব্যাস্ত ফারিবাকে দেখেই অবভ্যস্ত। তার কাছে এই ফারিবাকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়।

সে আরো কিছুক্ষন ফারিবাকে দেখে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে। ফারিবার আজকে পুরোপুরি নজর কাজের দিকে কালকে অনেক টা কাজ পিছিয়ে গেছে, অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে আজ যেইভাবেই হোক কাজ গুলো শেষ করতেই হবে। বেশকিছুক্ষন করে আদিল অফিসের ভেতর প্রবেশ করে, তাকে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে গুডমর্নিং জানায়। সে হাতের ইশারায় সবাইকে বসতে বলে।

একবার আর চোখে ফারিবার দিকে তাকায়, তার চাহনিতে কোনো রাগ নেই সে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, এরপর নিজের কেবিনের দিকে চলে যায়। কেবিনের ভেতর এসে দেখে মেহজাবিন এসি অন করে সব গুছিয়ে রাখছে। আদিল মেহজাবিন কে দেখে মুচকি হাসে এরপর বলে,

“তোকে না বলেছি এইসব তোর করতে হবে না।”

মেহজাবিন একবার আদিলের দিকে তাকায় এরপর নিজের কাজে মনোযোগ দিয়ে বলে,

“তুমি না না ধুর খালি ভুলে যাই যে আমি অফিসে, হ্যা যা বলতে চাচ্ছিলাম। আপনি বললেই বা আমি কেনো শুনবো।”

আদিল মেহজাবিন এর কান্ড দেখে না হেসে পারে না, এই নিষ্ঠুর দুনিয়া তে সবাই আদিল কে রাগালে বা কষ্ট দিলেও, একমাত্র তার মামোনি আর মেহজাবিন তার জীবন টা আনন্দ দিয়ে ভরে রাখে। সে আর কিছু বলে না টেবিল থেকে একটা ফাইল নিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে দেখতে থাকে।

মেহজাবিন নিজের কাজ শেষ করে আদিল এর জন্য এক মগ ব্লাক কফি নিয়ে আসে। সে জানে আদিলের অফিসে আসার সাথে সাথেই এক মগ কফি চাই মানে চাই। কফির মগ টা টেবিলের উপর রেখে বলে,

“নিন স্যার আপনার ব্লাক কফি উইথআউট সুগার, একদম পারফেক্ট। সাবাস মেহু সাবাস খুব ভালো কাজ করেছিস।”

নিজেই নিজের পিঠে হাত দিয়ে সাবাসি দিতে থাকে, আর ওর কান্ড দেখে কফির মগ হাতে নিয়ে আদিল হাসতে থাকে। আদিল এক চুমুক দিয়ে মেহজাবিন কে বলে,

“মেহু পনেরো মিনিটের মধ্যে প্রজেক্ট মেনেজমেন্ট টিমের সবাইকে মিটিং রুমে উপস্থিত থাকতে বলবি। কালকের ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইন্টদের প্রজেক্টের কাজ আমি সবার মধ্যে ভাগ করে দিব।”

“ঠিক আছে স্যার আমি সবাইকে বলছি মিটিং রুমে উপস্থিত থাকতে।”

মেহজাবিন কেবিন থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই আলিদ কফি মগের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবে সাথে ঠোঁটের কোনো সেই অদৃশ্য রেখা ফুটে ওঠে। যেই রেখা দেখলে বুঝা যায় না তার মনে এখন কি চলছে। তবে আজ আন্দাজ করা যায় তার মাথায় কিছু চলছে যার ফলে কিছু মানুষ কে ভারি খেসারত দিতে হবে।

চলবে.....

[ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, আর গল্প টা কেমন লাগলো সুন্দর মতামত দিবেন]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন